Freedom 251 নিয়ে হইচই

প্রকাশ:| বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:১৮ অপরাহ্ণ

একটি ভালো মানের ৮ গিগাবাইট মেমরি কার্ডের মূল্য কত হতে পারে? সঠিক দাম আমারও এখন জানা নেই কিন্তু অবশ্যই তা ২৫১ রুপির চাইতে বেশি হবে। তাহলে ইন্ডিয়ার সম্প্রতি যে Freedom 251 প্রজেক্টটি নিয়ে এতটা হইচই পরে গিয়েছে চারদিকে সেটা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে? আসলেই কি এরকম স্পেসিফিকেশনের একটি স্মার্টফোন মাত্র ২৫১ রুপিতে তৈরি করা সম্ভব?! নিশ্চিত করে বলতে পারছিনা তবে চলুন ফ্রিডম ২৫১ প্রজেক্টটি সম্পর্কে কিছু ফ্যাক্ট জেনে নেয়া যাক।
Freedom 251

প্রথমেই চলুন জেনে নেই প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে। প্রতিষ্ঠানটি ডিভাইসটির বা প্রজেক্টটির বিজ্ঞাপনের পেছনে বেশ অর্থ ব্যায় করছে এবং খেয়াল করলে দেখবেন এমনভাবে বিজ্ঞাপন করা হচ্ছে যে অনেকেই ধরে নিতে বাধ্য হয়েছেন যে এই প্রজেক্টটির সাথে ভারতের সরকার জড়িত। কিন্তু মূলত ভারতের সরকারের সাথে এই ফ্রিডম ২৫১-এর কোন সম্পর্কই নেই। মজার ব্যাপার হচ্ছে ইন্টারনেটে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটটির ডোমেইন রেজিস্টার করা হয়েছে মাত্র ৩ মাস পূর্বে এবং এখন পর্যন্ত রিঙ্গিং বেলস নামের এই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানটির ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কেও কিছু জানা যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে এতটা কম মূল্যে এই ডিভাইসটি তৈরি করছে সে সম্পর্কেও কোথাও প্রতিষ্ঠানটি কোন কিছু উল্লেখ করেনি। পাশাপাশি, এই ডিভাইসটি ঠিক কোন জায়গায় উৎপাদিত হচ্ছে বা হবে এই তথ্যটিও কারও জানা নেই।

আপনারা ইউটিউব ঘাটলে বেশ কিছু হ্যান্ডস-অন রিভিউ দেখতে পাবেন এই ফ্রিডম ২৫১ ডিভাইসটির যা করা হয়েছিল ডিভাইসটির প্রদর্শনীর দিন। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে প্রদর্শনীর দিন যে স্মার্টফোনগুলো সেখানে প্রদর্শন করা হয়েছিল সেগুলো হুবহু মিলে যায় অ্যাডকম মোবাইলের সাথে! নিচে অ্যাডকমের মোবাইলের একটি ছবি যুক্ত করে দিয়েছি আমি।

আপনি ভাবতে পারেন আমার কেন অ্যাডকম মোবাইল বলেই মনে হচ্ছে ডিভাইসটিকে! ঠিক আছে, আপনি নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন! যদি নিজেদের স্মার্টফোনই হয়ে থাকে তবে ফ্রন্ট ক্যামেরার নিচে সাদা কালারের রঙ দিয়ে কেনইবা নিচের টেক্সট বা লোগো যাই ছিলো তা মুছে ফেলা হয়েছে? ভেবে দেখুন?!

সন্দেহ করলে কিন্তু আরও অনেক বিষয়েই সন্দেহ করা যায়! যদি একটি ডিভাইস প্রস্তুত থেকেই থাকে তবে কেন সেই ডিভাইস ডেলিভার করতে চার চারটি মাস অপেক্ষা করতে হবে একটি প্রতিষ্ঠানকে? জেনে অবাক হবেন, অর্ডার চালু করার পর থেকে সাইটটিতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬লাখ হিট পড়তে শুরু করেছিল, আর তার মধ্যে যদি সেকেন্ডে ৬০টি করে অর্ডারও কাউন্ট করা হয় তাহলে ঘন্টায় কত দাঁড়াচ্ছে?

এমন আগেও অনেক প্রতিষ্ঠান করেছে যে লোভনীয় সব প্রস্তাবের পর বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো উধাও হয়ে গিয়েছে। এখন আপনিই ভাবুন যে এই প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু পেমেন্ট মেথড হিসেবে নিজেদের সাইটে তৈরি করা নিজস্ব পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অর্ডার গ্রহণ করছে তথা টাকা নিচ্ছে আপনার কাছে কি গ্যারান্টি আছে যে আপনি শেষ পর্যন্ত ডিভাইসটি হাতে পাবেন?

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন যে ২৫১ রুপিইতো, বাংলাদেশে কনভার্ট করলে প্রায় ৫০০ টাকার কাছাকাছি হবে! এমনকি আমি নিজেই দু’দিন আগে একটি ফেইসবুক গ্রুপে অর্ডার কালেক্ট করতে দেখেছি এবং সেই গ্রুপটিতে সব খরচ মিলিয়ে ৫৪৮ বা ৫৮৪ (সঠিক খেয়াল নেই) ধরা হয়েছে! এখন, এই টাকা একটি ডিভাইসের পেছনে খরচ করা যেতে পারেই বলে অনেকে মনে করতে পারেন! হ্যাঁ, অবশ্যই। আপনার যদি ৫০০ টাকায় একটি এমন লটারি কেনার ইচ্ছে যাগে যেখানে আপনি জিতবেন না হারবেন সে সম্পর্কে আপনি নিজেই নিশ্চিত নন তবে অবশ্যই আপনি অর্ডার প্লেস করতে পারেন। তবে আমার এই পোস্টটি তাদের জন্যেই মূলত লেখা যারা কম মূল্যের ডিভাইস দেখে একসাথে অনেকগুলো ইউনিট অর্ডার করার কথা ভাবছেন। আমার মতে ভুলেও এটা করা উচিৎ হবেনা। হ্যাঁ, আপনি একটি ডিভাইসের অর্ডার করতে পারেন যদি আপনি সত্যিই ডিভাইসটি ব্যবহার করে দেখতে চান তবে এর বেশি অর্ডার করলে আপাতত আমার মনে হচ্ছে আপনি ঠকে যেতেও পারেন।