শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / আমাদের চট্টগ্রাম / যানজট থেকে মুক্তি উপায়: একটি প্রস্তাবনা
যানজট থেকে মুক্তি উপায়: একটি প্রস্তাবনা

যানজট থেকে মুক্তি উপায়: একটি প্রস্তাবনা

তসলিম খাঁ

যানজট থেকে মুক্তি উপায় শিরোনাম দেখে হয়তবা অনেকে লেখাটা একবার হলেও পড়তেই চাইবেন এটা আমি মনে করি। কারণ যানজটের সাথে পরিচয় মানুষের দীর্ঘদিনের। হায়রে যানজট তোমার দিন কখন যে শেষ হবে! ক্যান্সরের মত মানুষের আপন আত্বার সাথে মিশে তুমি শেষ করে দিচ্ছ সব কিছু। কি গৃহিনী, কি অফিস কর্তা, কি সাধারণ মানুষ, কি সরকারী আমলা সবখানেই যানজট নামক শব্দটা অনির্বাসী সুর প্রতিধ্বনি হয়ে মূহুর্তেতেই উচ্চারিত হয় ক্ষণে ক্ষণে। যানজটে পড়া একজনের কথা এরকম- “আরে বাবা যে যানজটে পড়েছি, যদি ওখান হতে পায়ে হেঁটে না যেতাম আজ কি দশায় না হত”।

উন্নত বিশ্বের ট্রাফিক ব্যবস্থা দিকে আমরা যদি থাকায় তাহলে আমাদের দেশ বহু পিছিয়ে। দেশে যানজট এখন নিত্য দিনের ব্যপার। যানজটে পড়ে দৈনন্দিন জীবনে আমাদের কত যে সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যানজট থেকে উত্তরণের পথ তেমন করে আমরা কোন দিনও খুঁজে পায়নি। যদিওবা দেশে বিভিন্ন সময় নানা ভাবে পরিবহন গুলো নিরবিছিন্ন ভাবে চলাচলের জন্য যতেষ্ট কাজ হয়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থায়, কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ না হলেও যানজট গুলো তো তেমন করে কমে আনা গেল না।
আমার এই ক্ষুদ্র জ্ঞানে দেশে যানজট থেকে মুক্তি উপায় হিসেবে এই প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় একবার ভেবে দেখার জন্য বলব।

আমি লেখা লেখি করি সাহিত্য নিয়ে তবে আমার মাথায় শুধু ঘুরপাক খায় কেন যানজট! আমরা সমস্যা নিয়ে তার গভীর থেকে গভীরে চিন্তা কিংবা অবলোকন করি না। যদিওবা দেশে ট্রাফিক আইন রয়েছে। আমরা শুধুমাত্র ট্রাফিক ব্যবস্থাকে দোষারপ করে চলছি। সড়ক যদি পূর্ণ ব্যবস্থা না থাকে থাহলে তো কোন দিনও শুধুমাত্র ট্রাফিক ব্যবস্থা দিয়ে কাজ হবে না। কোন গাড়ী কোন দিক হতে কোন দিকে যাবে, ডানে বামে নির্ধারন করে দিতে হবে সড়ক নির্মানে দ্বায়িত্বরত কতৃপক্ষ কিংবা মন্ত্রনালয়। সে আপাসের চিন্তা হতে আমি উন্নত বিশ্বের ট্রাফিক ব্যবস্থার সাথে মিল রেখে “যানজট থেকে মুক্তির উপায়: একটি প্রস্তাবনা” হিসেবে একটি চিত্র তৈরী করি, যা শুধুমাত্র আমার ব্যক্তিগত। হয়ত দেশে এই চিত্রের মত যাদি যানবাহন গুলো চলাচল করে, তাহলে মনে হয় ভাল হতে পারে। তাই আমি বলব, এই চিত্র ফলোআপ করে কিংবা আরো কিছু সংযোজন করেও যদি ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালিত হয় আমার ধারণা সঠিক। সংবাদপত্রে এই লেখা প্রকাশ হলে আমাকে সড়কে চলতে দেখে হয়তবা পরিচিতরা বিশেষজ্ঞ ভাববার প্রয়োজন নেই। খুব বিরক্ত হয়ে আমি যানজট নিয়ে নিজে সময় করে দেশ ও দশের স্বার্থে গবে+ষনা করে দেখলাম এই পদ্ধতিতেই যানজট দুর হওয়ার সম্ভবনা বেশী।

দৃশ্যপট: চট্টগ্রাম নগরীর খুবই ব্যস্ততম মুরাদপুর মোড়ের সব টিনের বেঁড়া খুলে নিয়েছে নির্মানাধীন আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার নির্মান কতৃপক্ষ নিচের কাজ প্রায় শেষ সে কারণে। এতদিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে সব পরিবহন গুলো ভালভাবেই চলেছে দেখলাম। মোড় মাঝ দিয়ে শুধুমাত্র মানুষজন পায়ে হেটে চলাফেরা করেছে সে ব্যবস্থা করে দিয়েছিল ফ্লাইওভার নির্মান কতৃপক্ষ। তখন সব পরিবহণ গুলো চিত্রে দেয়া নমুনা অনুযায়ী চলে আসছিল। সম্প্রতি মুরাদপুর মোড় খুলে দিলে এখানে যানজট তিব্র আকার ধারণ করছে। কৈ এতদিন তো তেমন করে প্রকট আকারে যানজট ছিল না। যদিও বা কিছু কিছু পরিবহন থেমে থেমে চলছিল যাত্রী নেয়ার জন্য কিন্তু সে গুলোকে ট্রাফিক-সার্জেন তাড়া করে ছিল। যখন টিনের বেঁড়া খুলে দিল তখনই চিরাচরিত যানজটের দস্যি ভর করে ভয়াবহ রূপ নেয়। তখন তো ট্রাফিক-সার্জেনদের এত ব্যতিব্যস্ত হতে দেখা যায়নি আর এখন চিত্রটা উল্টো হচ্ছে। পরিবহণ গুলো সামলাতে তাঁদের রীতিমত হিমসীম খেতে হচ্ছে।

যানজটের কারণ ঐ স্থানে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, এক দিক হতে আসা পরিবহণ গুলোকে ছাড়লে অন্য দিক হতে আসা পরিবহণ গুলোর দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এভাবে আরেক দিক হতে আসা পরিবহণ গুলো ছাড়লে অন্য দিক হতে আসা পরিবহণ গুলোর লাইন পড়ে যায়।
লাইন পড়–ক পরিবহন নির্ধারিত সময়ে তো লাইন খুলে দিবে তবু অধর্য্য কেন কিছু কিছু পরিবহন ছুটে চলে দ্রুত গতিতে ঠিক ঐ সময়ে অন্য লাইনের পরিবহন সব যাওয়া শেষ হয়নি এলোমেলো হয়ে যায় মোড়ে তখনই শুরু হয়ে যায় যানজট। এক্ষেত্রে যদি ট্রাফিকের দ্বায়িত্ব নড়বড়ে হয় তাহলেও তো একটা কথা থেকে যায়। সিঙ্গনাল পড়লে বামে যে পরিবহন গুলো যাবে সে গুলোকে যেতে দেওয়া যায় কিনা এসময় সেটাও ভেবে দেখা য়ায়। তারা তো সোজা যাবে না বামে যাবে বলেছে। যদি তা না করে অন্য সিঙ্গনালের গাড়ী যেতে বাঁধা সৃষ্টির করে তাহলে সে পরিবহকে ট্রাফিক আইনে যা করণীয় সে ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

যাই হউক, আর কথা না বাড়িয়ে তাহলে একটি যানজট মুক্ত স্থানের চিত্র দিয়ে নিচে আমার ধারণাপত্রটি করলাম।

দৃশ্যপট : মুরাদপুর
১. ২নং গেইট-ফরেষ্ট গেইট হয়ে আসা পরিবহন গুলো মুরাদপুর মোড় হয়ে সোজা বহর্দ্দারহাটের দিকে যে গুলো যাবে চলে যাবে। বাকি পরিবহণ গুলো ১ নং রেল গেইট উদ্যেশ্যে চলবে চলে যাবে। সে সব পরিবহন ফরেষ্ট গেইট হতে বামে বামে হয়ে চলবে।

২. ১নং গেইট হতে আসা সব গুলো পরিবহণ মুরাদপুর এসেই বামে মোড় নেবে। যে সব পরিবহন বহর্দ্দারহাট যাবে চলে যাবে। বাকি পরিবহন মুরাদপুর হয়ে পাচঁলাইশ যাবে সে গুলো ফ্লাইওভারের ৯০-৯১ নং পিলার হয়ে ডানে মোড় নিয়ে আবার মুরাদপুরের দিকে এসে বামে হয়ে পাঁচলাইশের দিকে চলে যাবে।
তবে বহর্দ্দারহাট হতে আসা পরিবহণ যে গুলো সোজা ২নং গেইট যাবে তাদের সরাসরি যাবার সুযোগ করে দিবে অন্য পরিবহন গুলো।

৩. পাঁচলাইশ-মির্জারপুল হতে আসা পরিবহণ গুলো মুরাদপুর মোড় এসে বামে যাবে, যে গুলো ২ নং গেইটের দিকে যাবে চলে যাবে। বাকি পরিবহন গুলো মুরাদপুর হয়ে যে গুলো ১ নং গেইট কিংবা বহর্দ্দারহাট যাবে সে গুলো ফ্লাইওভারের ৮৫-৮৬ নং পিলার হয়ে ডানে মোড় নিয়ে ১ন গেইট কিংবা বহর্দ্দারহাটের দিকে যাবে চলে যাবে।
তবে ২নং গেইট-ফরেষ্ট গেইট হয়ে আসা পরিবহণ যে গুলো সোজা বহর্দ্দারহাট যাবে তাদের সরাসরি যাবার সুযোগ দিবে অন্য পরিবহন গুলো।

এখানে উল্যেখ থাকে যে, মোড়ের চার কর্ণারে বামে ও ডানে ভালভাবে শৃংখলার সাথে চলার জন্য রেলিং এর ব্যবস্থা রাখা যায়।
পথচারী কারণে কোন ভাবেই সড়কে পরিবহণ চলতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না তার জন্য মোড়ের চারটি সড়কেই জেব্রা ক্রচিং ব্যবস্থা করে দেয়া যায়। ট্রাফিক আইন মেনে পথচারীর প্রয়োজনে তাঁরা জেব্রা ক্রচিং দিয়ে চলবেন। এতে দুর্ঘটনা হাতেও রেহায় পাওয়া যাবে। জেব্রা ক্রচিং দিয়ে পথচারী পার হতে পরিবহন চালক ব্রাক কষবেন নিজ দাঁয়িত্বে। প্রয়োজনে পরিবহণ ও পথচারীদেও জন্য লাল সবুজের সিগনাল বাতির ব্যবস্থাও করা গেলে ভাল হয়। কোনাকুনি দুই সড়কের বাতি সবুজ থাকলে অন্য দুই কোনার সড়কের বাতি লাল জলবে। সেই সুযোগে পথচারী সড়ক পার হবেন।

সব শেষে এখন কথা হচ্ছে, মুরাদপুর মোড়ে মানুষ চলাচল করার ব্যবস্থা রেখে ট্রাফিক ব্যবস্থা করা হয় সেটায় সময়উপযোগী চিন্তার। আর যদি আমার এই ধারণা পত্রের কিছুটা হলেও কাজে আসে তা হলে আমার ধারণার শ্রম সার্থক হবে। বাহবা নয়, সমাজ সেবাই আমায় মূল লক্ষ্য এবং সে চিন্তার আপাসের হতে আমি কাজ করার মধ্য দিয়ে স্বস্থি বোধ করি। আমার এই ধারণা হয়তবা সমগ্র দেশেও কাজে আসতে পারে। এতে ট্রাফিক ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে অন্তত আমার মনে হচ্ছে।

লেখক: তসলিম খাঁ, কলামিষ্ট, সাহিত্য সম্পাদক, মাসিক ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। ১১.০৭.২০১৭ ইংরেজী

আপনার মতামত দিন

Scroll To Top