শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / ফ্যান ক্লাব

বিভাগ: ফ্যান ক্লাব

Feed Subscription

নিরিবিলি গাছগাছালির মোহনীয় প্রকৃতি

এক সময়ে বাঘ, নীল গাইসহ বিভিন্ন বন্য জীবজন্তুর অবাধ বিচরণের অভয়ারণ্য ছিল সিংড়া ফরেস্ট। সুন্দর নিরিবিলি গাছগাছালির মোহনীয় প্রকৃতির নয়নাভিরাম সিংড়া ফরেস্ট। যা দর্শনার্থী, পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে।

 

দিনাজপুর জেলা শহর থেকে সড়ক পথে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে বীরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে অবস্থিত। বীরগঞ্জ শহর থেকে সিংড়া ফরেস্ট দুরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার।

 

দিনাজপুর জেলা সদর থেকে বীরগঞ্জ হয়ে সড়ক পথে এখানে আসা যায়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ চিত্রবিনোদন বা পিকনিক করার জন্য এখানে আসে। ভ্রমণ পিপাসুদের থাকার জন্য রয়েছে ১টি ছোট পরিসরে রেস্ট হাউজ। রয়েছে দু’টি পিকনিক স্পট। বিভিন্ন স্থান থেকে বহু মানুষ পিকনিক করার জন্য বিশেষ করে শীত মৌসুমে বেশি জনসমাগম ঘটে।

 

এ বনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে একেবেঁকে চলা নর্ত নদী। নদীর দু’পাড় দিয়ে যাবার সময় দেখতে পাবেন দু’পাশে বিভিন্ন প্রজাতির বাহারী গাছ।

 

শাল বনের ভিতরের আগর ও বাঁশ-বেত বাগানও সকলের কাছে দর্শনীয়ও বটে। বনের গভীরে যেতে চোখে পড়বে প্রাচীন পত্রঝরা সিংড়ার বনাঞ্চল শালবন। তবে শাল ছাড়াও জামরুল, তরুল, শিলকড়াই, শিমুল, মিনজিরি, সেগুন, গামার, আকাশমণি, ঘোড়ানিম, সোনালু, গুটিজাম, হরতকি, বয়রা, আমলকি. এবং বিভিন্ন ধরনের নাম না জানা উদ্ভিদ ও লতাগুল্ম গাছ রয়েছে এ বনে। এ ছাড়া খরগোশ, শেয়াল, সাপ, বেজি এবং শকুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও পতঙ্গ দেখতে পাওয়া যাবে এই বনে।

 

প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ-পানি ও পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলেই সিংড়া ফরেস্ট হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় এক পর্যটন কেন্দ্র।

 

ব্যস্ততম শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে নিরিবিলি পরিবেশে মায়াবী হাতছানির এক অনুপম দৃশ্য মহিমান্বিত দিনাজপুরের সিংড়া ফরেস্ট।

 

দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল সরকার জানান, গত ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর বীরগঞ্জের ভোগনগর ইউপির ৮৫৫.৫০ একর ভূমির উপর অবস্থিত এই বনের ৭৫৫.৫০ একর জমি জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষনা করেছে বনবিভাগ। সিংড়া মৌজার নামানুসারে বনটির নামকরণ হয়েছে সিংড়া ফরেস্ট।

 

১৮৮৫ সালে বনটি অধিভুক্ত করা হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে বনবিভাগের অধীনে গেজেট প্রকাশ হয়। এই গহীন অরণ্য ধীরে ধীরে লোকালয়ে পরিণত হতে থাকে। গাছ চুরিসহ সংরক্ষণের অভাবে গাছগাছালি কমে যায়। এর পরেই নতুন করে বন বিভাগ সিংড়া শাল বনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

 

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল জানান, সরকার সিংড়া ফরেস্টকে আরও গহীন অরণ্যে পরিণত করতে গত জুন থেকে ৯০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়। এরই মধ্যে ৩০ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া এই বনের চারপাশে আদিবাসীদের নিয়ে ৯টি বনরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

এই বনের মনোরম প্রাকৃতিক দেখতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রতি দিন গড়ে ১৮০-২০০ জন। রাবার ড্যামের মাধ্যেমে বারোমাস নর্ত নদীকে সজীব রাখা, একটি টাওয়ার স্থাপন, শিশু পার্ক তৈরি, দর্শনার্থীর বসার চেয়ার তৈরি ও সুন্দর একটি ফটক নির্মাণসহ কিছু সংস্কারমূলক কাজ শুরু হলেই এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লে রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি বনের অধিবাসীদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং সিংড়া শালবন ফিরে পাবে তার অতীত ইতিহাস।

 

আরডিআরএস এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বলি অথবা বন রক্ষাই বলি এর জন্য বনের চারপাশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর সক্রিয় ভূমিকার বিকল্প নেই। পাশাপাশি প্রয়োজন বনবিভাগের বন্ধুসুলভ আচরণ।

 

সিংড়া শাল বনের হারানো জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার জন্য বন থেকে শালের ডালপাতা সংগ্রহকারী ও সকল জনসাধারণের মধ্যে গণসচেতনতা বাড়ানোসহ বন নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষে বিকল্প আয়ের অংশ হিসাবে আরডিআরএস বাংলাদেশ ৮ লক্ষ টাকার ঘূর্ণয়ামান তহবিল অনুদান হিসাবে দিয়েছে।

রূপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায়

বর্ষায় জাফলংয়ের রূপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্বদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলং এর অবস্থান। জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা উভয় মৌসুমেই যাতায়াত করা যায়। তবে একেক ঋতুতে জাফলংয়ের সৌন্দর্য্য একেক রকম। ধূলি ধূসরিত পরিবেশ হয়ে উঠে স্বচ্ছ। খাসিয়া পাহাড়ের সবুজাভ চূড়ায় শুভ্র মেঘেদের মেঘেদের বিচরণ এবং যখন-তখন অঝোরধারায় বৃষ্টিতে পাহাড়ি পথ হয়ে ওঠে বিপদসংকুল। শিহরণ জাগে মনে। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার ফুট উপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণাধারার দৃশ্য যে কারোরই নয়ন জুড়ায়। পিয়াইন নদীর স্ফটিক জলে নৌ-ভ্রমনের আনন্দই আলাদা। প্রাচীনকালে জাফলং খাসিয়া জৈন্তা-রাজার অধীন নির্জন বনভূমি ছিল। ১৯৫৪ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর এই রাজ্যের অবসান ঘটে। তারপরও বেশ কয়েক বছর জাফলংয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পতিত ছিল। ব্যবসায়ীরা পাথরের সন্ধানে নৌপথে জাফলং আসতে শুরু করেন। পাথর ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকায় এখানে নতুন জনবসতি গড়ে উঠে। আশির দশকে সিলেটের সাথে জাফলং এর সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জাফলংয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্যের কথা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীরাও ভিড় করতে থাকেন জাফলংয়ে। জাফলং এখন দেশের সেরা পর্যটন স্পট। জাফলংয়ে খাওয়ার হোটেল থাকলেও থাকার ভালো হোটেল নেই। জাফলংয়ে সিলেট শহর থেকেই যাতায়াত করা সহজ।

রাঙ্গামাটি সড়কের মিনিষ্টেরিসার্স গার্ডেন পার্ক

শফিউল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ রাঙ্গামাটি সড়কের পার্শ্বে মনাইর টেক এলাকায় বিনোদন প্রত্যাশী লোকজনের বিনোদনের জন্য নির্মান করা হয়েছে কৃষœ প্রীয়সী মিনিষ্টেরিসার্স গার্ডেন পার্ক । নব নির্মিত কৃষœ প্রীয়সী মিনিষ্টেরিসার্স গার্ডেন পার্কে রয়েছে গোলাপ, জবা, জুই, পলাশ, ষ্টার, সহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ । রাঙ্গামাটি সড়কের পার্শ্বে মনাইর টেক এলাকায় বিনোদন প্রত্যাশী লোকজনের বিনোদনের জন্য নির্মান করা কৃষœ প্রীয়সী মিনিষ্টেরিসার্স গার্ডেন পার্কে আরো রয়েছে বানর, কবুতর, লাভবার্ড,টিয়া, ময়না, পেরু, তার্কি, খরগোষ, বিদেশী ইদুর সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখী । রাউজান উপজেলার সীমানা পেরিয়ে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার মনাইর টেক এলাকায় রাঙ্গামাটি সড়কের পার্শ্বে এক একর আয়তন বিশিষ্ট পাহাড়ে কৃষœ প্রীয়সী মিনিষ্টেরিসার্স গার্ডেন পার্কে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের সৌরভ ও পাখীর কিচিমিচি শব্দে বিনোদন প্রত্যাশী লোকজনের মন কাড়ে এই পার্কে যেতে । প্রতিদিন পার্কে শত শত বিনোদন প্রত্যাশী লোকজন বিনোদনের জন্য ছুটে যায় । পার্কে প্রতিজন দশটাকা করে ফি নেয় । পার্কের মালিক বাসু পালিত বাসু জানান সেই নিজের টাকা দিয়ে শখের ভসিভুত হয়ে এই পার্ক নির্মান করেছেন । তার পার্ক নির্মান করতে খরচ হয়েছে দশলাখ টাকা । পার্কে রেষ্টুরেন্ট ও মিনি কমিউনিটি সেন্টার নির্মানের কাজ চলছে ।

মেঘ আর পাহাড়ের সবুজ …

মে‌ঘে‌দের খেলা। আপনার ম‌নে হ‌বে মে‌ঘে মে‌ঘে ভাস‌ছেন। বল‌ছি ভুটা‌নের রাজধানী থিম্পু থে‌কে পর্যটন শহর পুনাখা যাওয়ার প‌থের কথা। ১২ জুলাই আমরা সারাদিন সেখা‌নে ছিলাম।

গা‌ড়ি ভাড়া ক‌রে কিংবা বা‌সে যেভা‌বে ইচ্ছে যেতে পার‌বেন। পুরোটা পথ আপনি মেঘ আর পাহাড়ের সবুজ গা‌ছে‌দের সা‌রি মুগ্ধ হ‌য়ে দেখ‌বেন। বি‌শেষ ক‌রে দোচুলায় আপনার গা‌ড়ি যখন যাত্রা‌বির‌তি দে‌বে বৌদ্ধ মঠসহ আশপাশের প‌রি‌বেশ আপনাকে মুগ্ধ কর‌বে। আকাশ প‌রিস্কার থাক‌লে উঁচু এই স্থান থে‌কে হিমাল‌য়ের নানা রেঞ্জ দেখ‌তে পা‌বেন।

‌থিম্পু থে‌কে পুনাখা যেতে আপনার ঘন্টা তি‌নেক লাগ‌বে। প‌থে পিনচুনাসহ বি‌ভিন্ন এলাকায় চো‌খে পড়‌বে পাহা‌ড়ি সব ঝর্না। প‌থে হঠাৎ হঠাৎ দেখ‌বেন ভুটা‌নিরা শসা, ভুট্টাসহ অনেক কিছু বিক্রি কর‌ছে। পা‌বেন ফ্রেশ আপেলও। আর ‌তিন ঘন্টার যাত্রা পথ পুরোটাই চো‌খের শা‌ন্তি।

পুনাখার দু‌টি নদী, নদীর উপর দীর্ঘ ঝুলন্ত ব্রিজ যেটা আমার ফেসবুকের কাভার পিকচার, নদীর পা‌ড়ের বিখ্যাত জং সব‌কিছু আপনাকে মুগ্ধ কর‌বে। কাল যা‌বো পারো। জানা‌বো সেখানকার কথা। ত‌বে আমার ম‌নে হয় আপনার যারা প্রকৃ‌তি দেখার জন্য ঘুর‌তে চান, চো‌খের শান্তি ম‌নের শা‌ন্তি চান তারা ভুটান ঘুরতে পা‌রেন। আমি নি‌শ্চিত আপনি নতুন জীবন পা‌বেন।

যেখানে প্রত্যেক বাড়িতে রয়েছে এরোপ্লেন!

বাড়ির পাশেই গ্যারেজ, ভাবছেন সেই গ্যারেজে নিশ্চয়ই সুন্দর একখানা গাড়ি আছে। কিন্তু না সেখানে গাড়ি নেই, রয়েছে এরোপ্লেন!

 

তবে ভাববার কারণ নেই। ভাবছেন এটি হয়তো গল্প, কিন্তু আসলে তা নয়, পৃথিবীর বুকে এমন শহরও রয়েছে যেখানে বাড়িতে বাড়িতে গ্যারেজ নয়, রয়েছে এরোপ্লেন রাখার হ্যাঙ্গার, সেখানেই শোভা পাচ্ছে ব্যক্তিগত প্লেন!

 

আমেরিকার ফ্লোরিডার স্প্রুস ক্রিক শহর। যেখানে অধিকাংশ বাড়িতে রয়েছে অন্তত একটি করে এরোপ্লেন। ৫০০০ জনের মতো বাসিন্দা থাকেন এই শহরটিতে। এখানে রয়েছে ১৩০০-র মতো বাড়ি। ৭০০টির মতো এরোপ্লেন রয়েছে এই শহরে। এই শহরটিতে রয়েছে ৪০০০ ফুট লম্বা ও ৫০০ ফুট চওড়া একটি রানওয়ে, যেখানে দৌঁড় দিয়ে আকাশে উড়ে যেতে পারে বাসিন্দাদের এরোপ্লেনগুলো। সেইসঙ্গে এই শহরে রয়েছে বেশ কিছু এয়ারক্লাব, এরোপ্লেন ভাড়া দেয়ার সংস্থা, ফ্লাইট ট্রেনিং শেখানোর বন্দোবস্ত ও ২৪ ঘণ্টার কড়া সিকিউরিটি ব্যবস্থাও।

 

 

অনেক নামীদামি লোক বিভিন্ন সময় বসবাস করেছেন স্প্রুস ক্রিকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন হলিউড অভিনেতা জন ট্র্যাভোল্টা। তবে তার বোয়িং ৭০৭-এর ইঞ্জিনের গর্জন এতোটাই বেশি ছিল যে, প্রতিবেশীদের অভিযোগের ধাক্কায় তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয় শেষ পর্যন্ত!

 

স্প্রুস ক্রিকের বাড়িতে বাড়িতে দেখা যাবে বিচিত্র সব এরোপ্লেন। বোয়িং তো রয়েছেই, পাশাপাশি কেসনাস, পাইপার্স, পি-৫১ মাস্টাং, ফরাসি ফগ ম্যাজিস্টার বা রাশিয়ান মিগ-১৫ এর মতো প্লেনও দেখা যাবে বাড়িগুলির লাগোয়া হ্যাঙ্গারগুলোতে।

 

প্রশ্ন আসতে পারে পারে, কীভাবে একটি এলাকার প্রায় প্রত্যেকটি বাসিন্দা এরোপ্লেনের মালিক হতে পারেন? তাহলে কী এটিই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী শহর? আসলে, যারা ব্যক্তিগত প্লেনে যাতায়াত করার মতো বিত্তের অধিকারী, কেবল তারাই নানা সুযোগ সুবিধার কথা বিবেচনা করে থাকতে আসেন এই ছোট্ট শহর স্প্রুস ক্রিকে। আবার তাদের মধ্যে অধিকাংশই পেশাদার পাইলট।

 

এ ছাড়াও রয়েছেন চিকিৎসক, আইনজীবী বা জমি কেনাবেচার ব্যবসায়ীও। প্রত্যেক রবিবার স্থানীয় বাসিন্দারা স্থানীয় রানওয়েটির কাছে যার যার প্লেন নিয়ে সমবেত হন। তারপর ছোট ছোট দল বেঁধে উড়ে যান নিকটবর্তী এয়ারপোর্টটিতে প্রাতঃরাশ সারতে! এই জনপ্রিয় ঐতিহ্যটি এখানকার বাসিন্দাদের কাছে ‘স্যাটারডে মর্নিং গ্যাগেল’নামেও পরিচিত। তাহলে আর কী! আপনার যদি অঢেল অর্থ-কড়ি থাকে, তাহলে আপনিও চলে যেতে পারেন স্প্রুস ক্রিক শহরটিতে। সেখানে গিয়ে বিমান চালানো শিখে নিতে পারেন। আর নিজের স্বাধীন মতো চালাতেও পারেন!

সৌন্দর্যের বিস্ময় রূপসী ঝর্ণা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিস্ময় রূপসী ঝর্ণা। মিরসরাইয়ে প্রতিদিন এই ঝর্ণা দেখতে ঢল নামছে পর্যটকদের। সোশ্যাল মিডিয়াতে ঝর্ণার ছবি দেখে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে প্রতিনিয়ত। উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বড়কমলহ এলাকার আঁঁকাবাঁকা গ্রামীণ সবুজ শ্যামল মেঠো পথ পার হয়ে পাহাড়ের পাদদেশে গেলেই দেখা মেলবে এই ঝর্ণার।

রূপসী ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার পথে দৃষ্টিনন্দন ছড়া, পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি, তিনটি ভিন্ন ভিন্ন অপরূপ ঝর্ণা রূপসীর সৌন্দর্য্যকে অন্য ঝর্ণা থেকে আলাদা করেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ঝর্ণার মায়াবি রূপ দেখে স্থানীয় লোকজন এই ঝর্ণার নাম দিয়েছে রূপসী ঝর্ণা। রূপসী ঝর্ণার তিনটি ধাপ রয়েছে। বড় কমলদহ ঝর্ণা, ছাগলকান্দা ও পাথরভাঙ্গা ঝর্ণা। প্রথম ধাপটা বড় একটি ঝর্ণার মতো। অনেকটা খাড়া তবে ঢালু। বর্ষায় পুরো ঝর্ণা বেয়ে পানি পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে শুধু দক্ষিণ দিকটায়। ভেতরের রূপ আরো বেশি সুন্দর। উপরে উঠলে খোলা একটা জায়গা। তারপর একটা বড় পাথর। এই পাথরের মাঝ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে। দশ ফুটের খাড়া পাথরটি বেয়ে উঠতে পারলেই এবার অন্যরকম এক সৌন্দর্য। বিশাল ছড়া, তবে বেশ আঁঁকাবাঁকা। ঠিক বয়ে চলা কোন নদীর মতো।

ওয়াহেদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ বলেন, পরিকল্পিত কিছু উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেশি বিদেশি পর্যটকদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে এই ঝর্ণা।

রূপসী ঝর্ণায় যাওয়া যাবে যেভাবে

বাস যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের বড়দারোগাহাট বাজারে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে বাজারের উত্তর পাশের ব্রিকফিল্ড সড়ক দিয়ে পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত পথ। এরপর পায়ে হেঁটে ঝর্ণাস্থলে যাওয়া যাবে। অথবা যে কোন বাস থেকে ব্রিকফিল্ড সড়কের মাথায় নেমে আধা কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটেও যাওয়া যায়।

কাট্টলী বিলে…

লংগদু উপজেলার কাট্টলী বিলে প্রচুর পরিমাণে মিঠাপানির মাছ পাওয়া যায়। এখানে সবকিছুর দাম একেবার সস্তা। কমলা যেখানে চট্টগ্রাম শহরে ডজন প্রতি গুনতে হয় ১৫০-১৬০ টাকা সেখানে এখানে পাওয়া যায় মাত্র ৫০ টাকায়।

 

কাট্টলী বিলে শীতকালে আগমন ঘটে অতিথি পাখির। ঝাঁকে ঝাঁকে এ পাখি এসে বসে। কাট্টলী বিল তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে বিলজুড়ে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে এ বিলটি। পানকৌড়ি আর নানা জাতের পাখির ঝাঁক বিলের চারপাশে। যারা আসেন তারা মূলত শীতের পাখি দেখতেই কাট্টলি বিলেই আসেন। মাছের প্রাচুর্যের কারণে কাট্টলি বিল পাখিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এখন। ছোট সরালি, টিকি হাঁস, বড় সরালি, মাথা মোটা টিটি, গাঙচিল, গাঙ কবুতর, চ্যাগা, চখাচখিসহ নানান প্রজাতির পাখির ঝাঁকে মুখরিত থাকে এ বিল।

 

 

কাট্টলী বাজার ছেড়ে যেতে হয় খাগড়াছড়ি বাজার, যেখানে বাঙালিদের হাট বসে প্রতিনিয়ত। গরু ছাগল থেকে শুরু করে শাক সবজিসহ প্রায় সব রকমের জিনিসপত্র পাওয়া যায় খুব অল্প মূল্যে। সেখানকার বাসিন্দাদের নৌকাই একমাত্র বাহন। ডিঙ্গি নৌকা, জিরি নৌকা, সাম্পান এমনকি বড় ধরনের ইঞ্জিন বোটও রয়েছে। এ এলাকার জনজীবন পাহাড়ের চূড়াকেন্দ্রিক। বর্ষায় লেকের পানি বেড়ে গেলে প্রতিটি পাহাড়ের চূড়া দূর থেকে মনে হয় একেক একটি দ্বীপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

 

লংগদুর দর্শনীয় স্থানসমূহ
বনশ্রী রেস্ট হাউজ মাইনীমুখ
মাইনীমুখ বাজার মসজিদ
তিনটিলা বন বিহার
ডুলুছড়ি জেতবন বিহার
বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স
কাট্টলী বিল
কাট্টলী বাজার
গরুসটাং পাহাড়
থলছাপ পাহাড়
কাকপাড়ীয়া প্রাকৃতিক বনভূমি
পাবলাখালী অভয়ারণ্য ও পাবলাখালী গেইম অভয়ারণ্য
যমচুগ বন বিহার
বনস্মৃতি রেস্ট-হাউস পাবলাখালী।

পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে চলছে ঝর্ণা

ওপারে খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়, এপারে নদী। পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে চলছে ঝর্ণা, আর নদীর বুকে স্তরে স্তরে সাজানো নানা রঙের নুড়ি পাথর। দূর থেকে তাকালে মনে হবে আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়। পাহাড়ের গায়ে নরম তোলার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘরাশি। প্রকৃতির এই অপরুপ সৌন্দর্য আর কোথায় পাবেন, জাফলং ছাড়া?

এখানেই শেষ নয় সমতল চা বাগান, খাসিয়া পল্লী, কী নেই সিলেটের জাফলংয়ে। সিলেটের জাফলংকে তাই বলা হয়ে থাকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি। প্রকৃতি কন্যা নামেও রয়েছে আলাদা পরিচিতি। প্রকৃতি যেনো নিজ হাতে সাজিয়েছে ভারতের সীমান্তঘেঁষা দেশের উত্তরপূর্ব অঞ্চলের এই জনপদকে। জাফলংয়ের সৌন্দর্য্য দেখতে তাই প্রতিবছরই প্রচুর সংখ্যক পর্যটক ভিড় করেন এখানে।

ঋতুবৈচিত্র্যের সাথে জাফলংও তার রূপ বদলায়। সৌন্দর্য্যে আসে বৈচিত্র্যতা। বর্ষায় গেলে এখানে দেখা যাবে ওপারের পাহাড় থেকে নেমে আসা অগনিত ঝর্ণা। সবুজের বুকে নেমে আসা ঝর্ণাধারায় সূর্যের আলোর ঝিলিক ও পাহাড়ে ভেসে বেড়ানো মেঘমালা মন্ত্রমূগ্ধ করে রাখে পর্যটকদের। আবার শীতে অন্য রূপে হাজির হয় জাফলং।

চারদিকে তখন সবুজের সমারোহ, পাহাড় চূড়ায় গহীন অরণ্য। ফলে শীত এবং বর্ষা সব সময়েই বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত স্থান হতে পারে জাফলং। জাফলংয়ের বুক চিড়ে বয়ে গেছে দুই নদী। ধলাই ও পিয়াইন। এই নদী দুইটি অনন্যতা এনে দিয়েছে জাফলংকে। ধলাই ও পিয়াইনের স্বচ্ছ জলে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় নানা জাতের ছোট মাছ। দুই নদীর পানির নিচ থেকে ডুব দিয়ে হাজার হাজার শ্রমিকের পাথর উত্তোলনের দৃশ্যও মুগ্ধ করে পর্যটকদের।

স্বচ্ছ নীল জলরাশির টেকনাফ

 

বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণে পুরোটা জুড়ে আছে বঙ্গোপসাগর। কিছু বছর আগেও বাংলাদেশে সমুদ্র সৈকত হিসেবে কক্সবাজার বা পতেঙ্গা এর বাইরে তেমন কোন নাম উচ্চারিত হতো না। কিন্তু বর্তমানে ভ্রমণপিয়াসী মানুষেরা নিজেদের চিত্তবিনোদনের জন্য অজানা অদেখা জায়গাগুলোও বেছে নিচ্ছেন।

টেকনাফ: টেকনাফ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের একটি উপজেলা। নাফ নদীর নামানুসারে এ অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে। টেকনাফের স্বচ্ছ নীল জলরাশি পর্যটকদের সহজে আকৃষ্ট করে। এছাড়াও টেকনাফে আছে নে-টং বা দেবতার পাহাড়, মাথিনের কূপ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সৈন্যদের তৈরি করা বাংকার, কেনাকাটার জন্য বার্মিজ মার্কেট ইত্যাদি।

বর্ষায় বগাপাড়ার …

আকাশছোঁয়া পাহাড়ের উপর যে নীল ছোঁয়া পানির সমুদ্র রয়েছে, সেই জায়গাটির নাম বগালেক। বগালেকের চারপাশ ঘিরে রয়েছে দুরন্ত সবুজ পাহাড়ের দেয়াল। সূর্য এখানে অনেক দেরি করে ওঠে, তাই এখানকার মানুষ অনেক আরামপ্রিয়। বগালেকের পানি এতই স্বচ্ছ যে এর নিচের অনেকটু দেখা যায়। বগাপাড়ার মানুষজন এই লেকের পানি খাবার পানি হিসেবে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করে। এই লেক ঘিরে গড়ে উঠেছে অনেক আজব কথা, যেগুলোর মধ্যে ড্রাগন রাজার গল্পটা সর্বাধিক প্রচলিত।

মেঘের পেখম থেকে ঝরে পড়ে বৃষ্টি। বগালেকের স্বচ্ছ জলে সবুজের ছায়া, ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে ভরে উঠছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ২শ’ ফুট উপরের এই প্রাকৃতিক লেক। জনশ্রুতি আছে প্রাচীন কোনো আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে এই লেকের সৃষ্টি।

বর্ষায় বগালেক মেলে ধরে তার আসল সৌর্ন্দয্য।

বগালেক-1চট্টগ্রাম থেকে এরকম ঝড়োবৃষ্টি মাথায় নিয়ে রওনা হই বগালেকের উদ্দেশ্যে। সকালের বাস দুই ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছায় পাহাড়িশহর বান্দরবানেআসল সৌর্ন্দয্য।

সকালের নাস্তা সেরেই আবার যাত্রা শুরু রুমা স্টেশনের দিকে। সেখানে পৌঁছতেই বৃষ্টি প্রথমবারের মতো ভিজিয়ে দিল সবাইকে। রুমা’র বাস ছাড়বে সকাল ১০টায়। অপেক্ষার সময়টা বয়ে গেল চোখের পলকে। একসময় ঝড়ের গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে আমাদের বাস।

বান্দরবান থেকে রুমা পযর্ন্ত পুরো পথটায় পাহাড়ে মোড়ানো। উঁচু পাহাড়ের পথ ধরে বৃষ্টির মধ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বাস। বৃষ্টিকে ষোলআনা উপভোগ করতে বাসের ছাদই শ্রেষ্ঠ। তবে বৃষ্টিতে বাসের ছাদ থেকে ঝাপসা দূরের জগত। কারণ সবুজ পাহাড়গুলো ততক্ষণে নিজেকে ঢেকেছে বৃষ্টির চাদরে।

পাহাড়গুলো স্পষ্ট দেখা যায় না। বৃষ্টিতে আমাদের প্রায় জবুথবু অবস্থা। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে কখনও নিচু গাছের মৃদু আঘাত! বৃষ্টির বৈতরণি পারি দিয়ে কিছুটা সময়ের জন্য বিরতি। ভেজাদিনে গরম চা খুবই আনন্দদায়ক! ওয়াই জংশন মুরং দোকানে গরম চায়ে চুমক দিতে দিতেই বাস ছাড়ার সময় হয়ে গেল।

বৃষ্টিস্নাত সবুজের পথ পেরিয়ে বাস চলেছে রুমা’র পথে। হালকা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আড্ডা হয় এক মুরং বন্ধুর সঙ্গে। দুপুরের নাগাদ পৌঁছায় রুমা স্টেশন। সেখানে নেমেই চোখে পড়ে স্রোতস্বিনী সাঙ্গু নদী। উজানে বয়ে আসা বৃষ্টির পানি- পাহাড়ি ঢল!

তাই রুমাবাজার যেতে হবে নৌকায়। তীব্র গতির স্রোত ঠেলে ইঞ্জিনচালিত দেশি নৌকা রুমাবাজারের দিকে যাত্রা শুরু করল। দলে যারা সাঁতার জানত না, তারা একটু ভয় পেয়েই গেল! তবে পথটা বেশিক্ষণের নয়, জলের পথ শেষ হতেই তাদের চোখে মুখে ভূবন জয়ের হাসি!

রুমাবাজারে অভ্যার্থনা জানালেন রুমার গাইড শাহজাহান। দুপুরের খাওয়া শেষ করেই বগালেকের পথে যাত্রা। ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ– তাই রুমা থেকে বগালেক পযর্ন্ত পায়ে হেঁটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। রুমাবাজার আর্মি ক্যাম্পে পরিচয় লিপিবদ্ধ করেই রওনা যাত্রা শুরু।

রুমা থেকে বগালেকের পায়ে হাঁটা পথের দূরত্ব প্রায় ১৭ কিলোমিটার। বৃষ্টির কারণে পথ বেশ পিচ্ছিল। কাঁধে ব্যাকপ্যাক, হাতে ট্র্যাকিং স্টিক নিয়ে হেঁটে চলেছে নয়জনের দল। উপরে থাকাতে মনে হল যেন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামবে! ভাবতে না ভাবতেই চোখের সামনে দেখছি দূরের পাহাড়গুলো কেমন করে বৃষ্টিতে ঢেকে যাচ্ছে। কানে আসছিল বৃষ্টির শোঁ শোঁ শব্দ, বৃষ্টি ক্রমাগত এগিয়ে আসছে আমাদের দিকে।

একসময় বৃষ্টি আমাদেরকেও ছুঁয়ে ফেলল। তখন প্রায় বিকেল। সন্ধ্যার আগেই বগালেক পৌঁছাতে হবে। তাই বৃষ্টির মধ্যেই হাঁটার গতি বাড়িয়ে দেওয়া হল। ঝুপঝুপ বৃষ্টিতে পিচ্ছিল রাস্তা মাড়িয়ে হাঁটতে হচ্ছে।

বিকেল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা। যাত্রাপথে হালকা বিরতি। এর মধ্যে বৃষ্টি কিছুটা কমে এসেছে। মেঘহীন আকাশ, বেশ ঝকঝকে। তবে ঘনিয়ে আসছে সন্ধ্যা। মেঘমুক্ত আকাশের হঠাৎ চাঁদের উঁকিঝুঁকি। সেই আলোতে হাঁটতে হাঁটতে বগালেকের পথে।

বৃষ্টির গন্ধ, পাহাড়ি পথে জোছনার স্নান সবমিলিয়ে অদ্ভুত শিহরণ! একধরনের থ্রিলিং নিয়ে কৃত্রিম আলোর সাহায্য ছাড়াই শেষমেষ পৌঁছলাম বগালেক। লেকের ঠাণ্ডা জলে মুখ ভিজিয়ে সিয়াম দি’র কটেজে জলপান। এখানেই আমাদের রাতযাপন। কটেজে নিজেদের ব্যাকপ্যাক রেখেই লেকের জলে লম্বা গোসলের প্রস্তুতি! ঝাঁকে ঝাঁকে তারার দল বগালেকের আকাশে।

ক্লান্ত অভিযাত্রীর দল নিজেদের ভিজিয়ে নিল বগালেকের শান্ত শীতল জলে। চারপাশের দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন পাহাড়ের সারি। বাতাসের শব্দ বয়ে আসছে কাছের পাহাড় থেকে।

রাতের বগালেক যেন এক মায়াবী রাজ্য। পাহাড়ের ঝিঝিপোকার শব্দ, কাছে-দূরের মেঘ, সবুজ বন আর বারোশ ফুট উপরে বিশাল জলের আঁধার সব মিলিয়ে যেন অন্য এক পৃথিবী। এত উঁচু পাহাড়ের বুকে এই প্রাকৃতিক লেক না দেখলে যেন মনে হয় এক জীবন বৃথা!

রাতের খাবারে ভাতের সঙ্গে ঝাল ব্যাঞ্জন, অতুলনীয় স্বাদের রসনা তৃপ্ত মন।

ঝিরিঝিরি ঠাণ্ডা বাতাসে চাঁদের আলোয় জমে ওঠে আমাদের রাতে আড্ডা। সহস্র নক্ষত্রে ঢাকা বগালেকের রাতের আকাশ। সবুজ পাহাড়ে আটকে আছে বিশাল চাঁদ। জোছনায় নরম আলোয় ডুবে যাই ঘুমের দেশে।

ভোরে ঘুম জড়নো চোখ মেলে তাকাতেই দেখি চাঁদের পাহাড়গুলো ঢেকে আছে তুলোট মেঘের সারিতে। কটেজের দোতলা কাঠের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখছি। মনে হচ্ছে মেঘের জনপদে আমি এর আদিম বাসিন্দা। এমন অনুভূতি কেবল বগালেকই দিতে পারে!

যেভাবে যাবেন

প্রথমে যেতে হবে বান্দরবান। সেখান থেকে প্রতি ঘণ্টায় রুমার বাস ছাড়ে। যেতে হবে রুমাবাজার। রুমা থেকে গাইড নিয়ে চাঁদের গাড়িতে অথবা পায়ে হেঁটে বগালেক যাওয়া যায়। রাতে থাকার জন্য কটেজ আছে।

পার্শ্ববর্তী দৃশ্যাবলী

সাইকতপাড়া
বাংলাদেশের সবচেয়ে উচুঁতে অবস্থিত গ্রামের নাম সাইকতপাড়া। এটি বান্দরবান জেলার রুমা থানায় অবস্থিত। সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ২৬০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত একটি বম পাড়া। পাড়াটি বেশ ছিমছাম ও গোছানো। এমনিতে পাহাড়ীদের মধ্যে বমরা বেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। এত উচ্চতায়ও বেশ বড় একটি খেলার মাঠ আছে। সারাক্ষণই বেশ জোরে ঠান্ডা বাতাস বইছে। এখান থেকে কেওক্রাডং পাহাড় চূড়া দেখা যায়। ১৯৬১ সালে এখানে পাড়াটি স্থাপিত হয়। তলাংচাতপাড়া থেকে প্রথমে ছয়টি পরিবার এখানে এসে বসবাস শুরু করে। বর্তমানে গ্রামটিতে ৩৫টি পরিবারে প্রায় দুইশত জন লোক বাস করছে। এখানে পানি একটি বড় সমস্যা। পাড়ার এক পাশে পাহাড়ের ফাটল দিয়ে পানি বেরিয়ে একটি প্রবাহ বয়ে চলছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ একেবারে কমে যায়। পাড়ায় বেশ কিছু কমলা ও কফি গাছ আছে। মজার ব্যাপার হল পাড়ার বাসিন্দারা জানে না যে, তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত গ্রামে বাস করে। এ নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথাও নেই।

এখানে আসতে চাইলে প্রথমে যেতে হবে বগালেকে। সেখান হতে প্রায় ২ ঘন্টা হেটে পৌছতে হবে দার্জিলিং পাড়ায়। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাড়া। এটিও বমদের একটি লোকালয়। এটি সমুদ্র সমতল হতে ২৫০০ ফিট উপরে অবস্থিত। এখান থেকে কেওকারাডং খুব কাছেই। মাত্র ২৫ মিনিট ট্রাকিং করলেই পৌছানো যায় কেওকারাডং। দার্জিলিংপাড়া হতে প্রায় ২ ঘন্টা হাটা পথ পাড়ি দিয়ে শেষে পৌছতে হবে সাইকতপাড়া।

কেওক্রাডং
তাজিংডং চিহ্নিত হবার আগ পর্য়ন্ত এটি ছিল দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা প্রায় ৪,৩৩২ ফুট। এটিও রুমা উপজেলায় অবস্থিত। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সৌজন্যে রুমা সদর থেকে কেওক্রাডং এর নিকটবর্তী বগালেক পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মিত হয়েছে। ফলে গাড়িতে চড়ে সহজেই বগালেক গিয়ে তারপর পায়ে হেটে এ পাহাড়ে যাওয়া যায়। দূর্গম পাহাড়ী দৃশ্য সৌন্দর্য্য পিপাসুদের মন কাড়বেই।

ঋজুক জলপ্রপাত
প্রাকৃতিক পাহাড়ী পানির অবিরাম এ ধারাটি জেলা সদর হতে ৬৬ কিঃমিঃ দক্ষিণ-পূর্বে রুমা উপজেলায় অবস্থিত। নদী পথে রুমা হতে থানচি যাওয়ার পতে সাঙ্গু নদীর পাড়ে ৩০০ ফুট উচু থেকে সারা বছরই এ জলপ্রপাতটির রিমঝিম শব্দে পানি পড়ে। রুমা হতে ইঞ্জিনচালিত দেশী নৌকায় সহজেই এ স্থানে যাওয়া যায়। মার্মা ভাষায় এক রী স্বং স্বং বলা হয়। রুমা বাজার থেকে নৌকা ভাড়া করে যাওয়া যায়। নৌকা ভাড়া ৫০০ টাকা।

Scroll To Top