শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / ফ্যান ক্লাব

বিভাগ: ফ্যান ক্লাব

Feed Subscription

গোলাপ গ্রামে …

গোলাপ গ্রামে … দেখে আসি লালের রাজ্য। পুষ্প্রপ্রেমীদের সবচেয়ে প্রিয় ফুল গোলাপ। সৌন্দর্যের প্রতীক এ গোলাপকে ফুলের রানী বলা হয়। আর সেই লাল টকটকে গোলাপ চাষ করছেন তুরাগ নদের কোলে সাভারের বিরুলিয়া গ্রামের কৃষকরা। দেখে মনে হবে যেন এক লাল গোলাপের রাজ্য। গোলাপ চাষের কারণে গ্রামগুলো ‘গোলাপ গ্রাম’ নামে পরিচিত। কৃষি কাজের বদলে এ ফুল চাষকে পেশা হিসেবে নিয়ে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন সাভারের অনেক কৃষক। প্রায় দুই শতাধিক চাষি বাণিজ্যিকভাবে এ ফুলের চাষ করে আসছেন।

বিরুলিয়া ইউনিয়নের গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯০ সালে ঢাকার কয়েকজন যুবক অন্যের জমি লিজ নিয়ে এখানে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম গোলাপ চাষ শুরু করেন। ফলন ভালো আর ওই যুবকদের সফলতা দেখে স্থানীয়রাও ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ চাষ শুরু করেন। খুব কম সময়ের মধ্যে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে গ্রামটিতে।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে  গোলপের চাষ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বিরুলিয়ার মোস্তাপাড়া, সামাইর ও শ্যামপুর এলাকায়। প্রায় দুই শতাধিক চাষি বাণিজ্যিকভাবে এ ফুলের চাষ করে আসছে। ফলন আর চাহিদা ভালো হওয়ায় দিনে দিনে বাড়ছে চাষির সংখ্যা।

এলাকার কয়েকজন চাষি জানান, প্রতিদিন বিকালে গোলাপ সংগ্রহ করেন তারা। এরপর সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রির উদ্দেশ্যে গোলাপ নিয়ে যান তারা। সেখানে স্থানীয় ও ঢাকা থেকে আসা ক্রেতারা গোলাপ কিনে নেন। রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। তারপর এখানকার উৎপাদিত গোলাপ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার বিভিন্ন জনপ্রিয় ফুলের দোকানে। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপ চাষ করে থাকেন চাষিরা। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতটি হলো টকটকে লাল মিরান্ডা। তবে অন্যান্য জাতের গোলাপও রয়েছে। গ্রামগুলোর চাষিদের আয়ের উৎস এই গোলাপ। গোলাপ ছাড়াও গ্রামগুলোতে অন্যান্য ফুলের চাষ হয়ে থাকে। তবে সেটা তুলনায় সামান্যই। এক থেকে দেড় মাস ব্যতীত প্রায় সারা বছরই ফুল তোলা যায়। বাকি সময়ে গাছের আগা ছেঁটে দেন তারা। ফলে নতুন সাজে গাছ বেড়ে উঠে ফুল ধরতে এক থেকে দেড় মাস সময় নেয়। তবে গোলাপ চাষে তেমন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না তাদের।

গোলাপ চাষি মনির হোসেন জানান, গোলাপ চাষ একটি নিশ্চিত লাভের ব্যবসা। এতে খুব কম ঝুঁকি থাকে কারণ একবার চারা রোপণ করলে ২৫ বছর নিশ্চিন্তে ফলন পাওয়া যায়। একদিন বাজারে গোলাপের দাম কম পেলেও পরে তা পুষিয়ে নেয়া যায়, যা অন্য কোনো সবজি চাষে এমন সুবিধা পায় না কৃষকরা। এছাড়াও বিক্রিরও কোনো ঝামেলা নেই। বাড়ির কাছে সৃষ্ট ফুলের বাজারগুলোতে পাইকাররা এসে ফুল কিনে নিয়ে যায়। মোঃ আবুল হোসেন নামের এক চাষি বলেন, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে গোলাপ চাষ করছি। লাভজনক হওয়ায় এ পেশায় এসেছি। প্রতিদিন বিরুলিয়ার বাজারগুলোতে প্রায় আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয়। যদি সরকার ফুল রফতানিতে আরও ভূমিকা রাখত তবে এর চেয়ে বেশি গোলাপ বিক্রি হতো বাজারগুলোতে।

বান্দরবানে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবাসিক হোটেলগুলোতে ৪০% ছাড় ঘোষণা

বান্দরবান প্রতিনিধি॥
বিশ্ব পর্যটন দিবস’কে সামনে রেখে বান্দরবানের আবাসিক হোটেল-রিসোর্টগুলোতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪০% ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সম্মেলনকক্ষে পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিকের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ডিএম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমীন আক্তার, বান্দরবান আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম’সহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট, গেষ্টহাউজের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বান্দরবান আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ বলেন, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। পর্যটন দিবসকে সামনে রেখে বান্দরবানের সবগুলো আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট, মোটেল, গেষ্টহাউজে প্রতিটি রুম ভাড়ায় ৪০% পর্যন্ত ছাড় দেয়া হবে। আগামী ১৮ সেপেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ছাড় কার্যকর থাকবে। পর্যটকদের ভ্রমনের স্বার্থে এ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক দিলী কুমার বণিক বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। পুরনো দর্শণীয় স্থানগুলোর সৌন্দর্য বর্ধন’সহ আরো নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপদ এবং আরামদায়ক ভ্রমন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আবাসিক হোটেল মালিকরা পর্যটন দিবস’কে কেন্দ্র দশদিনের জন্য ৪০% ছাড় ঘোষণা পর্যটকদের জন্য বাড়তি প্রাপ্তি। এ ধরণের উদ্যোগ পর্যটকদের আরো বেশি আকৃষ্ট করবে।

আগামী অক্টোবরে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায় না

অসংখ্য কোরালের দেশ সেন্টমার্টিন যাওয়া যায় না সারা বছর। সেন্টমার্টিন মানেই সমুদ্রের নীল জলরাশি। দিগন্তে সেই নীল মেশে আকাশের নীলের সাথে। দূরে যেখানে আকাশ আর সমুদ্রের এই আলিঙ্গন সেখান থেকে ভেসে আসে মাছ ধরা জেলে নৌকারা। তাই বন্ধের সময়টা যেন হাহাকার চলে সমুদ্রপ্রেমীদের মাঝে! সুখবর হলো হাহাকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে!…

প্রতি বছর মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমুদ্র উত্তাল থাকায় বন্ধ থাকে সমুদ্রে জাহাজ যাত্রা। এসময় শুধু মাছ ধরা নৌকা আর ট্রলার চলাচল করে। সমুদ্রের ঢেউ কয়েক ফুট উপর পর্যন্ত উঠে। সে এক ভয়ঙ্গর ব্যাপার। রোমাঞ্চপ্রিয় অনেকেই এসময় সেন্ট মার্টিন যান বটে, তবে নিরাপত্তার কথা ভেবে পর্যটকদের যেতে নিষেধ করা হয় সাধারণত। স্থানীয়রাও কাজ ছাড়া সমুদ্র পাড়ি দেন না এসময়।

আবার যে নীল জলরাশির জন্য আপনি পাড়ি দেবেন এতটা পথ তা এই সময়টায় সে নীল রঙ এর দেখা পাওয়া যায় না বলতে গেলে। তাই অক্টোবর থেকে এপ্রিলের সময়টাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আবহাওয়ার অবস্থা অনুযায়ী সময় কিছুটা হেরফের হয় অবশ্য।

অক্টোবর চলে এসেছে। আর সাথে সাথে ঘোষণা এসেছে কেয়ারী সিন্দবাদের। আগামী অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে আবার সমুদ্রে ভাসবে জাহাজটি। কেয়ারীর মাধ্যমে শুধু সমুদ্রের ওপারে না আপনি ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন বেড়িয়ে আবার ঢাকা ফেরার প্যাকেজ নিতে পারবেন।

যে কোনো তথ্যের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন এই নম্বরে:

ঢাকা অফিস – ০১৮১৭১৪৮৭৩৫, ০১৮১৭০৪৮৫৯৭, ০১৮৪১০৯৪১৭৯

কক্সবাজার অফিস – ০১৮১৭২১০৪২১-৫

টেকনাফ অফিস – ০১৮১৯৩৭৯০৮৩

চট্টগ্রাম অফিস – ০১৮১১৪৮০৩৩৯।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গর্জনের দেশে

প্রকৃতির সান্নিধ্য ঘুরে আসতে পারেন প্রাকৃতিক রহস্যেঘেরা সুন্দরবন। উপভোগ করে আসতে পারেন বানরের চিৎকার-চেঁচামেচি, হরেক পাখির দল, ময়ূরের কেকা ধ্বনি, অপরূপ চিত্রল হরিণের দল, বন মোরগের ডাক, কুমির, হরিয়াল, গাছের সঙ্গে পেঁচিয়ে থাকা অজগর, মৌমাছির গুঞ্জন ও বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন।

 

এছাড়াও সেখানে রয়েছে ৩শ’ ৩০ প্রজাতির গাছ, ২শ’ ৭০ প্রজাতির পাখি, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪২ প্রজাতির বন্য প্রাণী ও ৩২ প্রজাতির চিংড়িসহ ২শ’ ১০ প্রজাতির মাছ।

 

সুন্দরবনের এসব নয়নকারা দৃশ্যের কারণেই বর্তমানে পর্যটকরা আকৃষ্ট হচ্ছে সেখানে যেতে। আগের তুলনায় বর্তমানে সুন্দরবনে পর্যটকদের সংখ্যাও বেড়ে গেছে বহুগুণে।এখন আর টেলিভিশনের পর্দায় নয় চাইলে বাস্তবেই ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন থেকে। কিন্তু অনেকে মনে করে সুন্দরবন ঘুরতে যাওয়া বেশ বিপদজনক। কিন্তু এখন আপনি চাইলেই নিরাপদে ঘুরে আসতে পারেন সুন্দরবন। এক্ষেত্রে আপনি কোনো ট্যুর কোম্পানি অথবা অভিজ্ঞ ট্যুর গাইডের সাহায্য নিতে পারেন।

 

সুন্দরবনে রয়েছে বেশ কিছু মনোমুগ্ধকর জায়গা। এর মধ্যে রয়েছে হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, শরণখোলা, ছালকাটা, টাইগার পয়েন্ট টাওয়ার, টাইগার পয়েন্ট সি বিচ, জামতলা সি বিচ, সাত নদীর মুখ, কালীরচর উল্লেখযোগ্য।

 

হিরনপয়েন্ট যার প্রকৃত নাম নীলকমল। এখানে রয়েছে বন বিভাগের সুন্দর অফিস, মিঠাপানির পুকুর ও পুকুরপাড়ের পাশেই ওয়াচ টাওয়ার। বনবিভাগের অফিসটি ঘুরে ফিরে দেখার জন্য বেশ ভালো। এছাড়া ঘুরে দেখতে পারেন সুন্দরবনের ভেতরটি। যেখানে দেখতে পাবেন ম্যানগ্রোভের সারি। এ সময় আপনার সঙ্গে অবশ্যই ট্যুর গাইড বা গাদাবন্দুকধারী বনরক্ষী নিয়ে যেতে হবে। এ পথ কাদামাটিযুক্ত পিচ্ছিল, তাই সবাইকে দল বেঁধে চলতে হবে। তা না হলে পথ হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এছাড়া ট্যুর গাইড বা বনরক্ষীরা পথ চলতে চলতে পাতা ছিড়ে ফেলে রেখে যায় যাতে পথ হারিয়ে না যায়। এসব ট্যুর গাইড বা বনরক্ষীদের কাছ থেকে সুন্দরবনের ভেতরের জগত সম্পর্কে নানা বিস্মকর তথ্য পেতে পারেন।

 

 

সুন্দরবনে যাবেন আর বাঘ দেখবেন না তা কি করে হয়। সুন্দরবনের মূল আকর্ষণ হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কিন্তু সুন্দরবনে গিয়ে বাঘ দেখেন আর নাই দেখেন বাঘের পায়ের ছাপ অবশ্যই দেখবেন। এ পায়ের ছাপ দেখে মনে হবে যেন বাঘ এই কিছুক্ষণ আগেই এ পথ পাড়ি দিয়েছে। এ সদ্য ছেড়ে যাওয়া বাঘের পায়ের ছাপের ছবিও তুলে আনতে পারেন। তবে সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়ে বাঘের দেখা না পেলেও আফসোস করার কিছুই নেই কারণ আপনার মনের আর হাতের ক্যামেরার মেমোরি কার্ড কিন্তু বোঝাই হয়ে যাবে বিশেষ মুহূর্তগুলোর ছবিতে।

 

এছাড়াও ঘুরে আসতে পারেন দুবলার চরে। বঙ্গোপসাগরের এ দ্বীপটি পরিচিত শুটকিপিল্লি হিসেবে। প্রতি বছরই বিভিন্ন স্থান থেকে জেলেরা মাছ ধরার মৌসুমে এ দ্বীপে অস্থায়ী ঘরবাড়ি তৈরি করে সাগর থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে এবং তা থেকে শুটকি বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে।

 

তবে সুন্দরবন ভ্রমণকালে আপনাকে যেসব জিনিস অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে তা হলো, বিশুদ্ধ পানির বোতল, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ফাস্ট এইড বক্স, এক জোড়া কেডস, ক্যামেরা, রেডিও।

 

যেভাবে যাবেন : সুন্দরবন যেতে হলে ঢাকা থেকে সরাসরি চেয়ার কোচে মংলা বন্দরের পর্যটন ঘাটে পৌঁছে যেতে পারেন।সেখান থেকে চেয়ার কোচ বা ট্রেনে খুলনা গিয়ে কোন আবাসিক হোটেলে রাত কাটাতে পারেন। পর দিন খুলনা জেলখানাঘাট থেকে লঞ্চে চলে যেতে পারেন সুন্দরবনে।সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে প্রবেশ চাইলে খুলনা কিংবা মংলা থেকে নৌপথে যেতে হবে।মংলার কাছাকাছিই ঢাইনমারীতে রয়েছে বনবিভাগের কার্যালয়। সেখানেই সুন্দরবনে প্রবেশের আনুষ্ঠানিকতা বা বিধিমালা শেষ করতে হবে।সাধারণ পর্যটকদের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা, বিদেশি পর্যটকদের জন্য ৭শ’ টাকা।এছাড়া লঞ্চ ভারা ২৫শ’টাকা কিন্তু ছোট লঞ্চের জন্য প্রবেশ ফি কিছুটা কম।পর্যটকদের সাঙ্গে ভিডিও বা ক্যামেরা থাকলে অতিরিক্ত ১শ’ টাকা দিতে হবে বন বিভাগকে। তবে এসব ঝামেলাপূর্ণ কাজ পর্যটকদের করতে হয় না। ট্যুরিজমলিমিটেডের লোকজনই আনুষঙ্গিকতা সেরে নেবে।

শিমের রাজ্য সীতাকুণ্ড

শিশির ভেজা শিমের ক্ষেত। লকলকে শিমের ডগায়, সাদা-লাল ফুলের পাপড়িতে চিকচিক করছে শিশির বিন্দু। ক্ষেতে শিম। জমির আলে শিম। খালের পাড়ে শিম। বাদ যায়নি বেড়িবাঁধ আর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুপাশও। বলা যায় শিমের রাজ্য সীতাকুণ্ড

পূর্বে পাহাড় থেকে পশ্চিমে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে যে দিকে দু’চোখ যায় সে দিকেই শিমের দেখা মেলে। প্রতিবারের মতো এবারো শিমেরবাম্পার ফলনে চাষীদের মুখে হাসি।

চট্টগ্রামে শিম চাষের জন্য পরিচিত সীতাকুন্ড উপজেলা। প্রতি শীত মৌসুমে এ অঞ্চল থেকে প্রায় শত কোটি টাকার শিম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রপ্তানী হয়ে থাকে। ফলে খেটে খাওয়া অসংখ্য কৃষক আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। অন্যদিকে শিম রপ্তানীর পাশাপাশি শিমের বীচির চাহিদাও কোনো অংশে কম নয়। ফলে সীতাকু-ের শিম প্রতিবারের মত এবারও দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে।

সাগরের বেড়িবাঁধ, জমির আইল, মহাসড়কের রাস্তার উভয় পাশে ও পাহাড়ি এলাকাসহ বিলের পর বিল জুড়ে পুরো উপজেলায় শিম চাষ হয়েছে। শুধু তাই নয় ট্রেনে করে চলাচল করার সময় রেল লাইনের উভয় পাশেও সু-স্বাদু সবজি শিমের ক্ষেত দেখতে পাওয়া যায়। মোট কথা এ অঞ্চলে যে দিকে দুই চোখ যায় সেদিকে যেন সবুজে সবুজে ভরা সারি সারি শিমক্ষেত লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু শুরুতে অকাল বৃষ্টির কারণে শিমের ফুল ঝড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কিছুটা কম হলেও তবে পতিত জমিরগুলো এবছর চাষের আওতায় এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সীতাকুন্ড অঞ্চলে পুঁটি, ছুরি, কার্তিকোটা, ল্যাইটা, বাটাসহ ৫ প্রজাতির শিমের আবাদ হয়ে থাকে। তবে বিভিন্ন জাতের শিমের আবাদ হলেও ছুরি জাতের শিমের চাহিদা অন্যান্য শিমের তুলনায় অনেকটা বেশি। তাই এ শিমের চাহিদা রয়েছে দেশ জুড়ে। দামও একটু বেশি। কারণ হিসেবে জানা য়ায়, অন্যান্য শিম থেকে ছুঁরি শিম একটু সু-স্বাদু। ফলে এ অঞ্চলে আগত পাইকাররা বিভিন্ন হাঁট থেকে এবং কৃষকদের ক্ষেত থেকে বর্তমানে ছুঁরি শিম কেজি ২৪ থেকে ২৬ টাকা করে ক্রয় করছেন। এছাড়া কার্তিকোটা শিম ২০টাকা কেজি হিসেবে পাইকারী দরে ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন শহর গুলোতে ট্রাক যোগে নিয়ে যান।

উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল এলাকার বাসিন্দা আব্দুল অজিত মাস্টারের ছেলে কৃষক নূর নবী জানান, প্রতি বছরের মত এ বছরও শীত মৌসুমে ১ একর জমিতে ভাদ্র মাসের শেষে শিমের চাষ করেছেন। বাঁশের কঞ্চি, শ্রমিক মুজুরিসহ শেষ পর্যন্ত তার খরচ পড়বে প্রায় ১ লক্ষ টাকা। বাজার দর ভাল হলে ২ লক্ষ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে ধারণা করছেন। তিনি বলেন, প্রতি মৌসুমে এ অঞ্চলের শিমের বীচি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটি ইউরোপের দেশ গুলোতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ ব্লকে দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিপাস কান্তি চৌধুরী বলেন, কৃষক নূর নবীর মত এ অঞ্চলে প্রায় ১শ’ জনেরও বেশি কৃষক মৌসুমে ছুঁড়ি শিমসহ বিভিন্ন জাতের শিম চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ঘন কুয়াশায় শিমের কিছুটা ক্ষতি হলেও উৎপাদন কিন্তু বেশি হয়েছে এবার।

একই ইউনিয়নের পূর্ব লানানগর এলাকার বাসিন্দা কৃষক মো. গোলামনবী জানান, অন্যান্য বছরের মত এবছরেও ৭৫ শতক জমিতে শিম চাষ করেন। এতে বিভিন্ন বাবদ তার শেষ পর্যন্ত খরচ পড়বে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, শিমের বাজার দর ভাল হলে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে ধারণা করছেন। তিনি বলেন, প্রতি মৌসুমে এ অঞ্চল থেকে শিম ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। এছাড়া শিমের বীচিও ঢাকা কাওরান বাজার হয়ে বিদেশের ইউরোপের দেশগুলোতে যাচ্ছে বলে আগত পাইকারা জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসার সুশান্ত সাহা বলেন, গত বছর ২৫শ’ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫শ’ কৃষক বিভিন্ন জাতের শিমের চাষ করে ছিলেন। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে ২৮শ’ হেক্টর জমিতে ১৮হাজার ৭শ’জন কৃষক শিম চাষ করেছেন। তিনি বলেন, পতিত জমিরগুলো এবছর চাষের আওতায় আসার কারণে শিমের উৎপাদন ও জমির পরিমাণ আগের চেয়ে দুটোই বেড়েছে। ফলে শিমের শেষ সময় পর্যন্ত এবছর ৬০ হাজার টনেরও বেশি শিম উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য ১শ’ কোটি টাকার মত।

 

দেশের সবচেয়ে বড় ডেগে ৭০ মণ রান্না করা যাবে

যে দেখে সেই বলে জীবনে প্রথম দেখলাম এতো বড় ডেগ। রান্না করার পাত্র বা ডেগ যে এতো বিশাল আকৃতির হতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ডেগ তৈরি হয়েছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায়। যাতে রান্না করা যাবে ৭০ মণ খাবার।
উপজেলার জাবরা ইমাম বাড়ি দরবার শরীফের পীর সাহেব হযরত মাওলানা খাজা আবুল কালাম আজাদ চিশতী আধ্যাত্মিক ধ্যান করার সময় এ রকম একটি ডেগ তৈরির নির্দেশনা পান। পরে ভারতের খাজা মাজার শরীফের খাদেমের নিদের্শ ক্রমে এই ডেগ তৈরি করা হয়।
জাবরা ইমাম বাড়ি দরবার শরীফের ওরশ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ডেগ। ডেগটির উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট । এর মুখের চারপাশের আয়তন ৬ ফিট ২ ইঞ্চি। আর মাঝামাঝি চারপাশের আয়তন ৭ ফিট।
ওরশ কমিটির সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান ছিদ্দিক জানান, ডেগটা তৈরি করা হয়েছে শুধু মাত্র ওরশের সময় তবারক রান্না করতে।
জাবরা ইমাম বাড়ি দরবার শরীফের পীর সাহেব হযরত মাওলানা খাজা আবুল কালাম আজাদ চিশতী জানান, আধ্যাত্মিক ধ্যান করার সময় তিনি এ রকম একটি বড় ডেগ তৈরির নির্দেশনা পান।

ইতিহাস আর বাস্তবতার আধার রেলওয়ে জাদুঘর

এক সময়ের অবহেলিত চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে জাদুঘর এলাকায় ফিরছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। ডিসি হিল কিংবা সিআরবির আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন এক সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে। প্রীতিলতার স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক এই জায়গাটিতে রয়েছে দারুণ পর্যটন সম্ভাবনা।

 

এখানে নেই কোন যান্ত্রিক কোলাহল, নেই যানবাহনের কালো ধোঁয়া কিংবা শব্দদূষণ। সুবিস্তৃত সমতলের সাথে পাহাড়ি মনোরম পরিবেশ। আছে গাছগাছালি আর পাখিদের মনমাতানো কলরব। এখানে রয়েছে দেশের একমাত্র রেলওয়ে জাদুঘর। সেখানেই এবার প্রায় চার একর জায়গা নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নান্দনিক এই অবকাশযাপন কেন্দ্র। যেখানে রেলওয়ে জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সাথে থাকবে শহীদ মিনার, মুক্তমঞ্চ, গ্যালারি, শিশুদের বিনোদনকেন্দ্রসহ অবসর উপভোগের দারুণ সব আয়োজন। ইতিমধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে।

 

নগরীর ৬০ লক্ষাধিক মানুষের অবসর-বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল ডিসি হিল এবং সিআরবি’র শিরীষতলা। এবার বড় পরিসরে তৃতীয় কোন উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র হতে যাচ্ছে পাহাড়তলির রেলওয়ে জাদুঘর এলাকা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা ও অর্থায়নে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

 

 

জানা যায়, পাহাড়তলীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্মৃতি বিজড়িত এই জায়গাটিকে সংরক্ষণের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আফসারুল আমীন ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হোসেন হিরণের প্রচেষ্টায় পাহাড়তলি এলাকায় এই কার্যক্রমের শুরু হয়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শহুরে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে এখানে বড় পরিসরে একটি বিনোদনকেন্দ্র তৈরির দাবি তাদের দীর্ঘদিনের।

 

তাছাড়া অযত্ন-অবহেলায় প্রীতিলতার ঐতিহাসিক সব স্মৃতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। যে কারণে এ নিয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছে। আর এবার শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে তাদের স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে বলে এলাকাবাসীও দারুণ খুশি।

 

এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর মো. হোসেন হিরণ বলেন, বন্দর নগরীর ৬০ লাখ মানুষের জন্য উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ডিসি হিল কিংবা সিআরবি যথেষ্ট ছিল না। তাছাড়া নগরীর পশ্চিমাঞ্চলের মানুষেরা অতদূরে গিয়ে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাও দূরুহ। আর এতবড় শহরের মানুষের পক্ষে বিভিন্ন দিবস ও উৎসবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল প্রদান করা কিংবা অনুষ্ঠান আয়োজন করা ছিল খুবই কষ্টকর। কেননা জায়গাটা খুব সংকীর্ণ ও আঁটসাঁট। তাই আমাদের মাননীয় সাংসদের তত্ত্বাবধানে শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে পাহাড়াতলী ওয়ার্ডকে নান্দনিকভাবে সাজানোর কাজে হাত দিয়েছি।

 

তিনি বলেন,রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রাস্তার দু’পাশে বাউন্ডারি নির্মাণসহ পুরনো রাস্তার সংস্কার করে দিবে। আর সিটি কর্পোরেশনের যাবতীয় সৌন্দর্য্যবর্ধনের কাজের পাশাপাশি পুরো জায়গাটিকে বিনোদনের উপযোগী করে তুলতে আর্থিক সহায়তা করবে। অন্যদিকে রেলওয়ে জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে আরেকটু ঢেলে সাজানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কাছে পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে।

নৈসর্গিক বৈচিত্র্যের বান্দরবান

পাহাড়িকন্যা বান্দরবান প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা । যার মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে আছে সে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন। বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত। এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্তর্গত। চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান জেলার দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার। বান্দরবান জেলার আয়তন ৪৪৭৯ বর্গ কিলোমিটার। মারমা রাজা বোমাংগ্রী উ চ প্রু বান্দরবান সার্কেলের, বোমাং রাজা। এই অঞ্চলের অন্য দুইটি জেলা হল রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি। বান্দরবান জেলা এর নৈসর্গিক বৈচিত্র্যের জন্য বাংলাদেশের একটি গুরূত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

লোককথা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে বানররা একে অপরের হাত ধরে, লম্বা শিকল বানিয়ে নদী পারাপার করতো। বানরের বাঁধ থেকে বান্দরবান শব্দের উৎপত্তি। চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশন ১৯০০ দ্বারা এই অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে আরাকান রাজ্যের অংশ থেকে তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আওতায় আসে।এই অঞ্চলের রাজা, তথা সার্কেল চিফ এখনো কর (নামমাত্র) আদায় করেন। প্রতিবছর ঘটা করে ৩ দিন ব্যাপী বোমাং রাজ পুণ্যাহ এর মাধ্যমে এই কর বা খাজনা আদায় করা হয়।

কি কি দেখবেন

নীলগিরি: বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৪৭ কিমি দক্ষিণ পূর্বদিকে লামা উপজেলার অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ ফুট উপরে বাংলাদেশের নতুন পর্যটন কেন্দ্র নীলগিরির অবস্থান। যাকে বাংলাদেশের দার্জিলিং হিসেবে অবহিত করা যায়। যেখানে পাহাড় আর মেঘের মিতালি চলে দিনরাত। আপনিও ঘুরে আসতে পারেন ওই মেঘের দেশে। তবে যারা মেঘ ভালোবাসেন তারা জুন-জুলাইতে অর্থাৎ বর্ষাকালে ভ্রমণে গেলে বেশি মজা পাবেন। কারণ মেঘ তখন মেঘের আনাগোনা বেশি।

নীলগিরি যেতে হলে আগে থেকে ল্যান্ডক্রুজার জিপ ভাড়া করতে হবে। সময় লাগবে আসা-যাওয়ায় সাড়ে চার ঘণ্টা। ভাড়া সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্ধারিত আসা-যাওয়া-ছোট জিপ- ৫ সিট ২৩০০ টাকা এবং বড় জিপ-৮ সিট- ২৮০০ টাকা। কিন্তু এখানে ড্রাইভাররা আপনার কাছে আরো অনেক বেশি চাইতে পারে যা।

স্বর্ণমন্দির: বর্তমানে স্বর্ণমন্দির উপাসনালয়টি বান্দরবান জেলার একটি অন্যতম পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এই ‘বৌদ্ধ ধাতু জাদী’ কে স্বর্ণমন্দির নামকরণ করা হয়। এটি বৌদ্ধ ধর্মাম্বলীদের একটি উল্লেখযোগ্য উপাসনালয়। যা বান্দরবান শহর থেকে ৪ কিমি উত্তরে বালাঘাট নামক এলাকায় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত।

এটির নির্মাণশৈলী মিয়ানমার, চীন ও থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ টেম্পলগুলোর আদলে তৈরি করা হয়। বান্দরবান ভ্রমণে আপনিও এই জাদী বা স্বর্ণমন্দিরটি একবার স্বচক্ষে দেখে আসতে পারেন।

মেঘলা: নাম মেঘলা হলেও মেঘের সাথে মেঘলা পর্যটন স্পটের কোন সর্ম্পক নেই। বান্দরবান জেলা শহরে প্রবেশের ৭ কিমি আগে মেঘলা পর্যটন এলাকাটি অবস্থিত। এটি সুন্দর কিছু উঁচু নিচু পাহাড়বেষ্টিত একটি লেককে ঘিরে গড়ে উঠে। ঘন সবুজ গাছ আর লেকের স্বচ্ছ পানি পর্যটককে প্রকৃতির কাছাকাছি টেনে নেয় প্রতিনিয়ত। পানিতে যেমন রয়েছে হাঁসের প্যাডেল বোট, তেমনি ডাঙ্গায় রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা। আর আকাশে ঝুলে আছে রোপওয়ে কার। এখানে সবুজ প্রকৃতি, লেকের স্বচ্ছ পানি আর পাহাড়ের চূড়ায় চড়ে দেখতে পাবেন ঢেউ খেলানো পাহাড়ি বান্দরবানের নয়নাভিরাম দৃশ্য। মেঘলা পর্যটন স্পটের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের বান্দরবান পর্যটন হোটেলটি।

শৈলপ্রপাত: শৈলপ্রপাত বান্দরবান শহর হতে ৭ কিমি দক্ষিণ পূর্বে চিম্বুক বা নীলগিরি যাওয়ার পথে দেখা যাবে।

নীলাচল: নীলাচল বান্দরবান শহর হতে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে ১৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত একটি পর্বত শীর্ষ। যেখান থেকে নীলআকাশ যেন তার নীল আঁচল বিছিয়ে দিয়েছে ভূমির সবুজ জমিনে। যে দিকে দুচোখ যায় অবারিত সবুজ ও নীল আকাশের হাতছানি। মুগ্ধতায় ভরে উঠে মন প্রাণ।

মিলনছড়ি: মিলনছড়ি বান্দরবান শহর হতে ৩ কিমি দক্ষিণ পূর্বে শৈলপ্রপাত বা চিম্বুক যাওয়ার পথে পড়ে। এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি আছে। পাহাড়ের অতি উচ্চতায় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে পূর্ব প্রান্তে অবারিত সবুজের খেলা এবং সবুজ প্রকৃতির বুক ছিড়ে সর্পিল গতিতে বয়ে সাঙ্গু নামক মোহনীয় নদীটি।

চিম্বুক: চিম্বুক বান্দরবনের অনেক পুরনো পর্যটন স্পট। বান্দরবান শহর হতে ২১ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে মিলনছড়ি এবং শৈল প্রপাত ফেলে চিম্বুক যেতে হয়। এখানে পাহাড়ের চূড়ায় রেস্টুরেন্ট এবং একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারদিকের সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য্য অবগাহন এখানে প্রকৃতিপ্রেমীদের টেনে আনে।

সাঙ্গু নদী: পূর্বের অতিউচ্চ পর্বত শীর্ষ থেকে সাঙ্গু নদী নেমে এসে বান্দরবান শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশে গেছে। বান্দরবান শহরের পূর্বে পাশে পাহাড়ি ঢালে বয়ে চলা সাঙ্গু নদী দেখতে দারুণ দৃষ্টিনন্দন।

কিভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে বান্দরবান যেতে আপনি ২/৩ টি রুট ব্যবহার করতে পারেন। ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে প্রথমে চট্টগ্রাম তারপর চট্টগ্রাম থেকে সোজা বান্দরবান।

চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান: বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে পূরবী এবং পূর্বাণী নামক দুটি ডাইরেক্ট নন এসি বাস আছে ৩০ মিনিট পর পর বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি-৭০ টাকা।

ঢাকা থেকে বান্দরবান গেলে: ঢাকা থেকে বান্দরবান পযর্ন্ত ডাইরেক্ট একটি গাড়ি চলে এস.আলম (নন এসি)। ভাড়া জনপ্রতি-৩৫০ টাকা। ছাড়ে এসআলমের কমলাপুর রেল স্টেশনের বিপরীত কাউন্টার থেকে।

খাবার: বান্দরবান শহরে খাবার হোটলের মান তেমন ভাল নয়। তবে যে হোটেলে আপনি থাকবেন সে গুলোতে রেস্টুরেন্ট আছে। এছাড়া আরো দুটি মোটামুটি মানের ভাল হোটেল হচ্ছে জেলা সদর বিল্ডিং এর কাছে ‘ফিয়েস্তা’ হোটেল এবং বান্দরবান বাজারের কাছে ‘তাজিংডং’ হোটেল। বান্দরবানে সব হোটেলে খাবারের মানের চেয়ে দামটা বেশি। রান্নায় মসল্লা ব্যবহার এবং হলুদের আধিক্য বেশি।

কোথায় থাকবেন:

বান্দরবান থাকার জন‍্য হোটেল বুকিং করতে পারেন জোভাগো ডটকম থেকে।

যা যা মেনে চলবেন:

১)  ভালো, মজবুত ব্যকপ্যাক নেবেন। হাতব্যাগ/ লাগেজ এসব চলবে না।

২) পুরো ট্যুরে নিজের ব্যাগ নিজের কাধে রাখতে হবে। পাহাড়ে ওঠার সময় মেকাপবক্স/ পারফিউম ইত্যাদি ফেলে দিতে হবে ওজন কমাতে। অতএব, কাপড় মাত্র ২ সেট নেবেন। অন্যান্য জিনিস যাই নেবেন ভেবে নেবেন। অযথা ব্যাগ ভারী করলে পরে কাঁদতে হবে।

৩)  ভালো, মজবুত স্যান্ডেল নিবেন। মাটিতে ভালো গ্রিপ করে, পিছলে যায় না এমন স্যান্ডেল নেয়া থেকে বিরত থাকুন।

৪)  সঙ্গে সবসময় আধা/এক লিটার পানি, সামান্য কিছু হাল্কা খাবার রাখবেন।

৫)  কলার পটাশিয়াম পেশির জন্য উপকারী। পাহাড়ে উঠলে পেশির উপর অনেক চাপ পরে। অতএব, বান্দরবন গেলে কলা খাবেন।

৬)  বেশি স্যালাইন খেলে রক্তচাপ বাড়ে, ঘাম বাড়ে ফলে আরও বেশি পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়। অতএব, সারাদিন চলার পথে বেশি স্যালাইন খাবেন না। পানি খাবেন। অনেক তৃষ্ণা পেলেও একবারে বেশি পানি খাবেন না। হটাৎ পেট ভারী হয়ে গেলে হাঁটতে পারবেন না।

৭)  মশা প্রতিরোধের জন্য অবশ্যই ওডোমস লোশন নেবেন।

৮)  হাঁটার সময় ফুটবলারদের মত আংলেট, নি-ক্যাপ পড়বেন।

৯)  টর্চ নেবেন। কম কম জ্বালাবেন। চার্জ শেষ হলে চার্জ দেয়া ঝামেলা।

১০)  প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন। অবশ্যই, অবশ্যই। যত দেরিতে রওনা হবেন, রোদে তত বেশি কষ্ট হবে। অলস কেউ থাকলে তাঁকে কক্সবাজার পাঠিয়ে দিন। বান্দরবন তার জন্য না।

১১)  জোঁকের জন্য সবার সঙ্গে সামান্য লবণ রাখবেন। জোঁক লাগলেই অযথা চেঁচামেচি না করে আপনার পাশের জনকে লবণ দিতে বলুন। জোঁক মরে যাবে।

১২)  দল ১০ জনের হলে ৫ জনের ২ টা দলে হাঁটবেন। কেউ যেন দল ছাড়া না হয়ে যায়।

১৩)  ক্যাপ পড়বেন সবাই।

১৪)  ছাতা/ রেইনকোট নেবেন।

১৫)  ব্যাকপ্যাক কাভার নিবেন সবাই। বা সকল জিনিস বড় পলিথিনে ভরে তারপর ব্যাকপ্যাকে ভরবেন।

১৬)  জ্বর, পেই কিলার, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিক, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ইত্যাদি নেবেন।

আপনার ভ্রমণ হোক আনন্দময়।

রেযুখাল তীরে নির্জন দ্বীপে

রাস্তার ওপর থেকে তাকালে গাছপালার আড়ালে চোখে পড়ে ছোট-বড় অনেক কুটির। বড় রাস্তার ঢাল বেয়ে নিচে নামতেই কানে আসে কলরব। দুই পাশের জলাধারে ঝিকমিক করে ভরদুপুরের রোদ্দুর। রাস্তার ওপর থেকে তাকালে গাছপালার আড়ালে চোখে পড়ে ছোট-বড় অনেক কুটির। বড় রাস্তার ঢাল বেয়ে নিচে নামতেই কানে আসে কলরব। দুই পাশের জলাধারে ঝিকমিক করে ভরদুপুরের রোদ্দুর।

জলপরীরা কোথায় থাকে? জলে যে থাকে; এ ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। হয়তো আস্তানা বানায় সুনীল সাগরের কোন নির্জন দ্বীপে। এমন দ্বীপে কে কে যেতে চান?

হিমছড়ি আর ইনানী সমুদ্র সৈকতের মাঝামাঝিতে রেযুখাল নদীর তীরে প্রকৃতির এক অপূর্ব লীলাভূমি জেলে পল্লী প্যাচার দ্বীপ। এখানে অবস্থিত মারমেইড ইকো রিসোর্টে রয়েছে থ্রি স্টার হোটেলের সুবিধা।

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে মারমেইড ইকো রিসোর্ট। রাস্তার ওপর থেকে তাকালে গাছপালার আড়ালে চোখে পড়ে ছোট-বড় অনেক কুটির। বড় রাস্তার ঢাল বেয়ে নিচে নামতেই কানে আসে কলরব। দুই পাশের জলাধারে ঝিকমিক করে ভরদুপুরের রোদ্দুর। গোটা তিরিশেক ভিলা আর বাংলোর নামেরও একই হাল। কিন্তু ঘরগুলো সত্যিই মন ভালো করে দেওয়ার মতো। বাইরে স্রেফ কুটিরের মতো দেখালেও ভেতরে মোটামুটি আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা মজুদ। স্নানঘরটায় ঢুকলে মুহূর্তেই মন ভালো হয়ে যায়। প্লাস্টিকের বোতলে ভর্তি বাজারি শ্যাম্পুর বদলে কাচের পাত্রে ভেষজ উপায়ে বানানো শ্যাম্পু। সেটা আবার সবুজ গাছের পাতা দিয়ে কায়দা করে ঢাকা। দুই পাশে দুটো কাঠগোলাপ ফুল গুঁজে দেওয়া। সাবান, শ্যাম্পু রাখা হয়েছে নারকেলের লম্বা একটা খোলের মধ্যে।

মারমেইড ইকো রিসোর্টে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন সব জিনিসপত্র যথাসম্ভব কম ব্যবহার করা হয়েছে। পেঁচার দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ বহাল রেখেই সব বাংলো তৈরি করা হয়েছে। ইয়োগা সেন্টার, স্পা, নৌকা ভ্রমণ, সম্মেলন কক্ষ, প্রেক্ষাগৃহ সব কিছুরই এখন ব্যবস্থা আছে এই পরিবেশবান্ধব অবকাশ যাপন কেন্দ্রে। মারমেইড রিসোর্টের মূল নকশা করেছেন স্থপতি জিয়াউদ্দিন খান।

নাগরিক কোলাহল নেই। হাঁকডাক নেই। দুপুরের রোদ মরে এলে কুটিরের সামনের বাঁশের বেঞ্চে গা এলিয়ে দিয়ে বসতে ভারি আরাম। এ সময়টা নৌকা ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ার জন্যও অতি উত্তম। বাংলোর সারি আর নারকেল গাছ পেরিয়ে হেঁটে গেলে রেজু খালের পাড়। দেখবেন, নীলচে রং ধরতে শুরু করেছে সবে সাগরের শাখা রেজু খালের পানিতে। পাশ দিয়ে ভেসে যাবে বাহারি সাম্পান। দূরে আদিগন্ত বিছিয়ে থাকা সমুদ্র। নৌকা থামবে ওপারের কোনো এক অজানা চরে। বালুকাবেলায় পা রাখতেই হুটোপুটি করে ছুটে পালাবে লাল কাঁকড়ার দল। দখিনা বাতাসের দোলায় মাথা নেড়ে যেন অভিবাদন জানাবে ঝাউবন। তারপর ইচ্ছেমতো নির্জন সাগরতীরে ছুটোছুটি। কোন ফাঁকে বেলা পেরিয়ে যাবে! ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও ক্ষতি নেই।

যত তাড়াই থাকুক, বোট ক্লাবের পাটাতনে পেতে রাখা ঢাউস কেদারায় একবার বসে যেতে ভুলবেন না যেন। আকাশে পূর্ণচন্দ্র। সামনে সাগরের জল। আশ্চর্য মৌনতায় ডুবে আছে সমস্ত চরাচর। মন চাইলে গা এলিয়ে বসে থাকুন গভীর রাত অবধি। একদম কাকপক্ষীটিও জ্বালাতন করতে আসবে না আপনাকে।

যাওয়া ও থাকা খরচ

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চেপে যেতে পারেন পেঁচার দ্বীপে। ভাড়া ২০০ টাকার মতো।

এ রিসোর্টে কটেজ আছে ৩০টি। এখানকার কটেজে বিভিন্ন ক্যাটাগরির রুম রয়েছে। প্রথম ক্যাটাগরির কটেজের রুম ভাড়া ২ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা আর দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ৮ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা। থ্রি স্টার হোটেলের যাবতীয় সুবিধা আছে এ রিসোর্টটিতে। এখানে দুপুর ও রাতের খাবার সি ফুড, ইউরোপীয়, ক্যারিবীয় ও দেশি ডিশ পাবেন।

নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থান

ইনানী বীচ

হিমছড়ি

ডুলাহাজরা সাফারী পার্ক

যোগাযোগ

মারমেইড রিসোর্ট, প্যাচার দ্বীপ, কক্সবাজার। মোবাইল : ০১৮৪১-৪৬৪৬৪

কুয়ালালামপুর, পুত্রাজায়া ও বালি

এ টি এম মোসলেহ উদ্দিন (জাবেদ): ভ্রমণ আমার কাছে খুবই প্রিয়| সময়, সুযোগ পেলেই কোথাও না কোথাও ভ্রমনে বের হয়ে যাই| তেমনি গত জুলাই মাসে ছয়জন কলিগ মিলে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম আগস্ট মাসের ১০ তারিখ থেকে ১৫ তারিখ এই সময়টাতে বালি ঘুরে আসা যায়| বালিতে (ইন্দোনেশিয়ায়) বাংলাদেশীদের জন্য বিনামূল্যে ৩০ দিনের জন্য অন্এরাইভাল ভিসা দেয়া হয়| তখন আমাদের মধ্যে একজন প্রস্তাব দিলো, যেহেতু মালিন্দো এয়ারে যাব তাই মালয়েশিয়ার ভিসা নিলে ২ দিন মালয়েশিয়া ঘুরে দেখা যাবে, আর বাকি ৩ দিন বালিতে কাটাব| একসাথে দুই দেশ দেখা, প্রস্তাবটা সবার কাছে ভালোই মনে হলো| সেই মোতাবেক আমরা জুলাই মাসে এয়ার টিকেট কাটলাম ও মালয়েশিয়ার ভিসা সংগ্রহ করলাম| অনলাইনের কুয়ালালামপুর ও বালিতে হোটেল বুকিং করে ফেললাম| সেই সাথে মালয়েশিয়া ও বালি ঘুরে আসা পরিচিত একজনের কাছ থেকে দুই জায়গার দুইজন ড্রাইভারের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে, ড্রাইভারের সাথে কথা বলে গাড়িও বুকিং করলাম|

 

১০ আগস্ট দিবাগত রাত ১২:৫০এ (১১ আগস্ট)  মালিন্দো এয়ারে ঢাকা থেকে রওনা দিলাম| স্থানীয় সময় ভোর আনুমানিক ভোর সাড়ে ছয়টার সময় কুয়ালাম্পুর পৌঁছালাম| ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এয়ারপোর্টের টেক্সিপার্কিং এ গিয়ে দেখি ড্রাইভার বড় একটি মাইক্রোবাস (টয়োটা গ্রান্ড কেবিন) নিয়ে দাড়িয়ে আছে| এখানে বলে রাখি, যেহেতু আমাদের হাতে সময় কম ছিলো তাই আমরা এয়ারপোর্ট থেকেই ঘুরাঘুরি শুরু করা ও এই ২দিন কুয়ালালামপুর ও পুত্রাজায়া ঘুরার পরিকল্পনা নিয়েছি|

 

পরিকল্পনা মোতাবেক আমরা যাত্রা শুরু করলাম বাতুকেভ নামক একটি জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পটের দিকে| স্থানীয় সময় সকাল ৮:৩০ এ আমরা সেখানে পৌঁছিয়েই, একটা সাউথ ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে ব্রেকফাস্ট সেরে জায়গাটা দেখতে বের হলাম| বাতুকেভে রয়েছে একটা বিশাল শিবমূর্তি, তার পিছনে একটা সুউচ্চ সিঁড়ি রয়েছে পাহাড়ে উঠার জন্য, যা বেয়ে উপরে উঠে দেখি অপরূপ সুন্দর বিশাল পাহাড়ি গুহা| এর ভিতরে রয়েছে রংবেরঙের কৃত্তিম লাইটিং, যা গুহার সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করেছে| এরপর আমরা রওনা দিলাম টেম্পলারপার্ক ওয়াটার ফল দেখার জন্য| সুন্দর পাহাড়ি ও বড় একটা ঝরনা দেখে আমরা বিমোহিত| অনেক গুলো বানর ও পাখির দেখা মিললো সেখানে| ওই দিন ছিল শুক্রবার, তাই ঝর্ণা দেখে ফেরার পথে নিকটবর্তী একটি আবাসিক এলাকার মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করলাম|

নামাজ শেষে আমরা রওনা দিলাম ইস্তানা নিগার বা রাজার বাড়ি দেখার উদ্দেশ্যে| পথিমধ্যে আমাদের ড্রাইভার মোবারক সাহেব ফুয়েল নেয়ার জন্য একটা পেট্রলপাম্পে গাড়ি থামালো| পেট্রলপাম্পের পাশের একটা রেস্টুরেন্টে আমরা দুপুরের খাওয়া সেরে নিলাম| ইস্তানা নিগার পাহাড়ের উপর অবস্থিত অপরূপ সুন্দর মালোয়েশিয়ার রাজার বাড়ি| সেখান থেকে টুইন টাওয়ার, কুয়ালাম্পুর টাওয়ার সহ কুয়ালাম্পুর শহর  দেখা যায়| ইস্তানা নিগারার সৌন্দর্য দেখে আমরা রওনা দিলাম কুয়ালাম্পুরের বিখ্যাত চকোলেট মলের উদ্দেশ্যে| চকোলেট মলে গিয়ে ফ্রি চকোলেটের স্বাদ চেখে নিলাম এবং অনেকগুলো চকোলেট কিনলাম| সেখানে আশপাশে আরো কয়েকটা দোকান ঘুরে দেখলাম|

 

তারপর আমরা মালয়েশিয়ার জাতীয় মসজিদ দেখে রওনা দিলাম ন্যাশনাল মনুমেন্ট দেখার জন্য| ন্যাশনাল মনুমেন্ট মালয়েশিয়ার স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ| খুব সুন্দর জায়গা এটি| তারপর আমরা রওনা দিলাম দিনের আলোর মধ্যে টুইন টাওয়ার দেখার উদ্দেশ্যে| সন্ধ্যার কিছু আগে ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে টুইন টাওয়ারের পাদদেশে পৌছালাম| বিমোহিত হলাম এর সৌন্দর্যে| ঠিক সন্ধ্যায় আমরা পৌঁছলাম আমাদের হোটেলে| আনুষ্ঠানিকতা শেষে রুমে গিয়ে আরো অভিভূত হলাম আমাদের রুমের জানালা দিয়ে দেখা রাতের রঙ্গিন টুইন টাওয়ার ও কুয়ালালামপুর টাওয়ার দেখে| রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বের হলাম শপিং এর উদ্দেশ্যে| টাইম স্কয়ার, বুকিত বিনতাং এ শপিং, খাওয়া দাওয়া ও রাতের বেলা আরেকবার টুইন টাওয়ার দেখে শেষে হোটেলে ফিরলাম রাত ১ টার দিকে|

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট করে হোটেল থেকে চেক আউট করলাম| তার আগেই ড্রাইভার মোবারক গাড়ি নিয়ে হাজির| পরিকল্পনা মোতাবেক রওনা দিলাম চায়না টাউন মার্কেটের উদ্দেশ্যে| চায়না টাউন মার্কেটের সামনে সুন্দর একটা লাল রঙের মন্দির| মন্দিরের ভেতরটা দেখা শেষ করে, প্রবেশ করলাম মার্কেটে| সবাই যার যার প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ করে রওনা দিলাম পুত্রজায়ার উদ্দেশ্যে|মালয়েশিয়ার সুরম্য, সুউচ্চ ভবন, সুন্দর রাস্তা ও পরিকল্পিত শহর দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম পুত্রজায়ায়|

 

শুরুতেই চোখে পড়লো একটা সুন্দর ঝুলন্ত ব্রিজ| চমৎকার সুন্দর, গুছানো একটা শহর পুত্রাজায়া| যার সৌন্দর্যে বিমোহিত হলাম সবাই| বড়ো বড়ো বিভিন্ন সরকারি ভবন, আন্তর্জাতিক সম্মেলন হল, অনিন্দ্য সুন্দর পুত্রাজায়া মসজিদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দেখে ও স্বচ্ছ পানির একটা নদীতে রিভার ক্রুজে চড়ে মনটা চনমনে হয়ে উঠলো| পুত্রজায়ার শপিং মলে ঘুরাঘুরি, কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়া শেষে রওনা দিলাম এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে| ওইদিন বিকেলে আমাদের বালির ফ্লাইট| পুত্রাজায়া থেকে ৩৫ মিনিটে পৌঁছে গেলাম এয়ারপোর্টে| এয়ারপোর্টে ইমিগ্রশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাতিক এয়ারের একটি ফ্লাইটে করে রওনা দিলাম বালির উদ্দেশ্যে|

 

কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্ট থেকে বিমানে উঠার কিছুক্ষন পর নিচে দেখা যায় জাভা সাগর| বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনস্থান হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের নাম ঘোষণা করেছে বিশ্বের বৃহত্তম ভ্রমণ সাইট ট্রিপ অ্যাডভাইজার। বালি ইন্দোনেশিয়ার একটি দ্বীপ এলাকা ও প্রদেশ। বালি ও তার আশেপাশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপমালা নুসা পেনিদা, নুসা লেমবনগান ও নুসা সেনিনগান নিয়ে প্রদেশ গঠিত হয়েছে। এর রাজধানী দেনপাসার দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। পর্যটন শহর বালি দ্বীপের মানুষ পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আন্তরিক।  তিন ঘন্টার জার্নি শেষে আমরা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় পৌঁছালাম দেনপাসার এয়ারপোর্টে| ছোট্ট একটি বিমানবন্দর কিন্তু টুরিস্টদের জন্য রয়েছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। ইমিগ্রেশন, কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে অপেক্ষমান গাড়িতে করে চলে এলাম হোটেলে| হোটেলে ফ্রেশ হয়ে বের হলাম রাতের খাবার খাওয়ার জন্য| একটা রেস্টুরেন্টে রাতের খাওয়া শেষ করে হাল্কা একটু ঘুরে চলে এলাম হোটেলে|

 

বালিতে প্রথমদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে হোটেলের কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট সারতে সারতেই ড্রাইভার মি. গেদে বুধিয়ানা গাড়ি নিয়ে হাজির| গাড়িতে উঠে আমরা পরিকল্পনা মোতাবেক উবুড় মনকেই ফরেস্ট দেখতে ছুটে চললাম| ইন্দোনেশিয়া মুসলিম অধ্যুষিত হলেও, একমাত্র বালি দ্বীপের ৮০ ভাগ মানুষ হিন্দু। তাই বালিতে ঘুরার সময় অনেক মন্দির দেখা যায়। রাস্তার দু’ধারে বড় বড় আর্ট গ্যালারিতে আঁকা ছবি, কাঠ ও পাথরের ভাস্কর্যের সম্ভার, অসংখ্য বুটিক হোটেল, ইউরোপীয় খানার রেস্তোরাঁ দেখতে দেখতে আমরা পৌঁছে গেলাম মাঙ্কি ফরেস্ট। হাজার হাজার বানর আর ঘন বৃক্ষরাজির মনভুলানো বনাঞ্চল দেখলাম।তার পর ধীরে ধীরে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চললো রাইচ টেরেসের (পাহাড়ে খাঁজ কাটা ধান ক্ষেত) দিকে। ধানখেত দেখা শেষ করে পাহাড়ি পথ ধরে অপরূপ কমলা বাগানের পাশ দিয়ে আমাদের গাড়ি পৌঁছে গেল কিন্তামনি, প্রায় ১৫০০ মিটার উচ্চতায়। সেখান থেকে মাউন্ট বাটুর ও লেক বাটুর দৃশ্য অতি মনোরম। মাউন্ট বাটুর এক ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি, ১৮০০ সাল থেকে ২৪ বার তার ঘুম ভেঙেছে, অগ্ন্যুৎপাতে হয়েছে সে অশান্ত! শেষ অগ্ন্যুৎপাত হয় ১৯৭০ সালে। দেখতে পেলাম পাহাড়ের কোল বেয়ে অনেকটা জায়গা জুড়ে জমে যাওয়া লাভা। মাউন্ট বাটুরের পাদদেশে লেক বাটুর বালির সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক হ্রদ। পাহাড় ও লেকের শোভা আরও ভাল ভাবে আস্বাদনের জন্য একটি ছোট টিলার মাথায় এক রেস্তোরাঁয় গিয়ে বসলাম। সেখানেই সারলাম মধ্যাহ্ন ভোজন।সেখান থেকে আমরা রওনা দিলাম টেগানুগান নামক এক বিশাল সু উচ্চ পাহাড়ি ঝরনা দেখতে| ঝরণার বিমুগ্ধ রুপদেখে ফেরার পথে একটি কাঠের কারুকর্ম তৈরির একটি কারখানায় অনেকগুলো শিল্পকর্ম দেখলাম।তারপর সন্ধ্যায় ফিরে এসে আমরা লেগিয়ান স্ট্রিট থেকে হাল্কা শপিং করে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরে আসলাম|

 

দ্বিতীয়দিন আমরা পরিকল্পনামতো রওনা করলাম নুসা লেমবনগান আইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে| এই আইল্যান্ড ভ্রমণটি ছিল একটি প্যাকেজ ট্যুর| ড্রাইভার আমাদেরকে প্রথমে নিয়ে গেলো সানুর বীচে| সেখান থেকে ৪০ জন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বড়ো স্পিড বোটে করে ৩০ মিনিটের নীল জলরাশির সমুদ্র ভ্রমণের মাধ্যমে আমরা পৌঁছে গেলাম নুসা লেমবনগান আইল্যান্ডের জুঙ্গুত বাটু বীচে| অপূর্ব সুন্দর একটা আইল্যান্ড| এই আইল্যান্ড ভ্রমণ না করলে বালি ভ্রমণ হয়তো পূর্ণতা পেতো না| বোট থেকে নামার পর পিছন খোলা একটা মিনি গাড়িতে করে সাগর পাড়ের একটা রেস্টুরেন্টে নামানোর সাথে সাথেই পেলাম ওয়েলকাম ড্রিংস| তারপর এখানে আমরা রোমাঞ্চ ও মনোমুগদ্ধকর সী-ওয়াক, স্নোরকেলিং, বানানা বোট রাইড, ম্যানগ্রোভ ট্যুর সম্পন্ন করে রেস্টুরেন্টে ফিরে লাঞ্চ শেষ করে আবার গাড়িতে করে ছুটলাম নুসা লেমবনগান দ্বীপ ও নুসা সেনিনগান দ্বীপ সংযোগকারী চমৎকার ইয়েলোও ব্রিজ দেখতে| সেখান থেকে আমরা আবার ছুটলাম ডেভিল’স টিয়ার ও ড্রিম বীচ দেখতে| ডেভিল’স টিয়ার- যা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছিলো, আর ড্রিম বীচের সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়| ড্রিম বীচের পানিতে গোসল করার লোভ সামলাতে পারলাম না| সেখান থেকে গেলাম এই দ্বীপের প্যানারোমা ভিউ স্পটে, প্যানারোমা ভিউ দেখে আবার ফিরে এলাম জুঙ্গুত বাটু বীচে| বিকেল ৫ টায় আমরা আবার বালির উদ্দেশ্যে ফিরে আসার জন্য রওনা দিলাম| সন্ধ্যায় ফিরে এসে আমরা লেগিয়ান স্ট্রিট থেকে হাল্কা শপিং করে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরে আসলাম|

 

তৃতীয় ও শেষ দিন আমরা সকালে রওনা করলাম তানাহ লটের উদ্দেশ্যে| সাগরের মাঝে একটা মন্দির বা সমুদ্রে ভাসমান মন্দির। ডেনপাসার থেকে ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে বালির দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে হিন্দু জলদেবতা বরুণ বন্দনার মন্দির। তীর থেকে অল্প দূরে এক ছোট্ট দ্বীপে এই মন্দির। ভাঁটার সময় সমুদ্রের জল যায় সরে, হেঁটে পৌঁছনো যায় মন্দির চত্বরে। এর পাশেই রয়েছে অপূর্ব সুন্দর নেচারাল ব্রিজ| এরপর আমরা ছুটতে শুরু করলাম নুসাদুয়া বীচের উদ্দেশ্যে| বালির সবগুলো বীচের মতো নুসাদুয়াও নীল জলরাশির সৈকত| এখানে রয়েছে প্যারাসেইলিং, ডাইভ, সী-ওয়াক, ওয়াটার স্কুটার, স্নোরকেলিং, বানানা বোট রাইড সহ সবধরনের সমুদ্র কেন্দ্রিক বিনোদনের ব্যবস্থা| দুপুরে গ্রিলড টুনা ফিশ দিয়ে লাঞ্চ সারলাম নুসাদুয়ায়| খুবই সুস্বাদু ছিলো সেই টুনা ফিশের স্বাদ| বিকেলে নুসাদুয়া থেকে ফিরে আসলাম হোটেলে|

 

এদিন রাতের ১১ টায় ছিলো আমাদের ফিরতি ফ্লাইট | ২ ঘন্টা আগে এয়ারপোর্টে পৌঁছাতে হবে| তাছাড়া বালির রাস্তায় অনেক ট্রাফিক জ্যাম, তবে কোনো বিশৃঙ্খলা নাই| তাই কিছুটা সময় হাতে নিয়েই এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম| বড় তাড়াতাড়িই যেন শেষ হল আমাদের বালি-ভ্রমণ। এ বার ঘরে ফেরার পালা। বালির অনন্য সুন্দর মুহূর্তগুলোর জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। আপনারাও সময় ও সুযোগ পেলে ঘুরে আসুন|

Scroll To Top