শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / বান্দরবান

বিভাগ: বান্দরবান

Feed Subscription

বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক চালু, নিখোঁজদের উদ্ধারে ফের অভিযান

সঙ্গে চট্টগ্রাম-রাঙমাটির
পাহাড় ধসে
॥ বান্দরবান প্রতিনিধি, ২৬ জুলাই ২০১৭ ॥
সড়কে পানি কমে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, রাঙমাটির সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে তিনদিন পর। এদিকে রুমা সড়কে পাহাড় ধসে নিখোঁজ বাকি ৩ জনের খোজে চতুর্থ দিনের মত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন সেনাবাহিনী-ফায়ারসার্ভিসের সদস্যরা। আজ বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানায়, গতশনিবার থেকে টানা বর্ষণে বান্দরবান চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া এবং রাঙামাটি সড়কের পুলপাড়ায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে গত তিনদিন সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় সড়কে পানি কমে যাওয়ায় বুধবার সকাল থেকে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ ফের চালু হয়েছে। তবে পাহাড় ধসের কারণে আজও বন্ধ রয়েছে রুমা উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না থাকায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। পরিবহন শ্রমিক মোহাম্মদ মহসিন বলেন, বুধবার সকাল থেকে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। ইতিমধ্যে বান্দরবান ছেড়েছে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বেশকয়েকটি বাসও।
এদিকে গতরোববার (২৩ জুলাই) পাহাড় ধসে নিখোঁজ বাকি ৩ জনের খোজে চতুর্থ দিনের মত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে সেনাবাহিনী-ফায়ারসার্ভিসের সদস্যরা। নিখোঁজরা হচ্ছেন- রুমা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিস সহকারী মুন্নি বড়–য়া, কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দী, ডাক বিভাগের কর্মচারী মো: রবিউল, এবং পাড়া কার্বারী মংশৈহ্লা’র বড়মেয়ে উমেচিং মারমা। এদিকে রুমা সড়কের ঘটনাস্থলে স্বজনদের অপেক্ষায় ভীড় জমিয়েছেন নিখোজদের আত্মীয় স্বজনেরাও।
নিখোঁজ ব্যাংক কর্মকর্তার শ্যালক দিগন্ত নদী বলেন, কর্মস্থলে যাবার সময় গত২৩ জুলাই পাহাড় ধসে রুমা সড়কে নিখোজ হয় আমার বোনজামাতা কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দী। নিখোজের চারদিন হলেও এখনো তার কোনো খোজ পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনী, ফায়ারসার্ভিস, রেডক্রিসেন্ট সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। যোগ দিয়েছেন স্থানীয় পাহাড়ীরাও। আমরাও অপেক্ষায় আছি স্বজনদের।
বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট অফিসার ইকবাল হোসেন বলেন, পাহাড় ধসে বিধস্ত সড়কের ঝুকিপূর্ন এলাকা ঘেরাও করে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন সেনাবাহিনী-ফায়ারসার্ভিস. রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সদস্যরা’সহ স্থানীয় পাহাড়ীরা। বৃষ্টির কারণে উদ্ধার তৎপরতা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাস্থলের কয়েকশ ফুট নিচে পাহাড়ের খাদে একটি পাহাড়ী ছড়া আছে, সেখানেও খোজা হচ্ছে। তবে পানির ¯্রােতে লাশ ভেসে যাবার শঙ্কাও রয়েছে। তবে কৌশল পরিবর্তন করে পানি মেরে মাটি সরিয়ে খোজা হচ্ছে নিখোজদের। যদি লাশ থেকে থাকে, তাহলে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। আমরা আশাবাদি।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: হারুন উর রশীদ বলেন, ভারী বর্ষণে রুমা সড়কে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধসে রুমা উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পাহাড় ধসে নিখোজদের উদ্ধারে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। পাহাড় ধসের ঝুকিতে বসবাসকারীদের ঝুকিপূর্ন বসতিগুলো ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। শহরের দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলা হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র।

বান্দরবা‌নের স্বাস্থ্য সহকারীর লাশ মিল‌লো বাশখালী‌তে

রুমা সড়‌কে পাহাড় ধ‌সে নি‌খোজ 
।। বান্দরবান প্র‌তি‌নি‌ধি।
বান্দরবা‌নের রুমা সড়‌কে পাহাড় ধ‌সে নি‌খোজ প‌রিবার প‌রিকল্পনা স্বাস্থ্য সহকারী মু‌ন্নি বড়ুয়া (৩৫) লাশ মিল‌লো বাশখালী নদী‌তে। অাজ মঙ্গলবার দুপু‌রে এ ঘটনা ঘ‌টে।
বাশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) মোহাম্মদ অালমগীর জানান, বৃ‌ষ্টি‌তে বাশখালী নদী‌তে ভে‌সে অাসা এক‌টি নারীর লাশ উদ্ধার করা হ‌য়ে‌ছে। অজ্ঞাত প‌রিচ‌য়ের লা‌শের ছ‌বি থানার ফেসবুক পেই‌জে দেয়ার পর জানা‌গে‌ছে এ লাশ‌টি বান্দরবা‌নের রুমা সড়‌কে পাহাড় ধ‌সে গত‌রোববার নিখোজ হওয়া স্বাস্থ্য সহকারীর। ছ‌বি দে‌খে লা‌শের প‌রিবার বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছে।
‌নিহ‌তের ছোটভাই সাংবা‌দিক রাহুল বড়ুয়া ছোটন ব‌লেন, বাশখালী‌ নদী‌তে পাওয়া লাশ‌টি অামার বড়‌বো‌নের। গত‌রোববার চাকরী‌তে যাবার সময় রুমা সড়‌কে পাহাড় ধ‌সে অামার বোনসহ ৫ জন নি‌খোজ হয়। পাহাড় ধ‌সে ছড়ার পা‌নি‌তে ভে‌সে লাশ‌টি সাঙ্গু নদী হ‌য়ে ভে‌সে যায় বাশখালী‌তে। এ পর্যন্ত ২ জ‌নের লাশ উদ্ধার হ‌য়ে‌ছে। অা‌রো ৩ জ‌নের লাশ নি‌খোজ র‌য়ে‌ছে।

বান্দরবানে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

বান্দরবান প্রতিনিধি॥
বান্দরবানের মুত্তিকা এলাাকা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জেলা সদরের বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের মৃত্তিকা এলাকায় রাস্তারপাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কাদা মাকানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বান্দরবান হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ঐ ব্যক্তিকে হত্যার পর লাশটি এখানে ফেলে গেছে দূর্বত্তরা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল্লাহ জানান, লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পাহাড় ধসে নিখোঁজ ৪ জন’কে উদ্ধারে ফের অভিযান

ভারী বর্ষণ অব্যাহত বান্দরবানে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
বান্দরবান প্রতিনিধি॥
অবিরাম বর্ষণে বান্দরবানের রুমা উপজেলা সড়কে নিখোঁজ ৪ জন’কে উদ্ধার করা যায়নি এখনো। আজ মঙ্গলবার সকালে আটটা থেকে তৃতীয়দিনের মত উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী-ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এদিকে বৃষ্টিতে বন্যার পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং রাঙ্গামাটি জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে তিনদিন ধরে। চালু হয়নি রুমা উপজেলার সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগও জানিয়েছেন পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুভ্রত দাস ঝন্টু।
ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট অফিসার ইকবাল হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিস এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা তৃতীয়দিনের মত মঙ্গলবার সকাল থেকেই নিখোঁজদের উদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় উদ্ধার তৎপরতা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টিতে পানির সঙ্গে নামছে পাহাড় ধসের মাটি। গত রোববার (২৩ জুলাই) পাহাড় ধসে নিখোঁজরা হচ্ছেন- রুমা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিস সহকারী মুন্নি বড়–য়া, কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দী, ডাক বিভাগের কর্মচারী মো: রবিউল, এবং পাড়া কার্বারী মংশৈহ্লা’র বড়মেয়ে উমেচিং মারমা। স্বজনদের খোঁজে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘটনাস্থলে ভীড় জমিয়েছেন নিখোঁজদের আত্মীয় স্বজনেরা।
বান্দরবানের মৃত্তিকা সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, সকাল নয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় বান্দরবানে ৯৪ মি:মি: বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তার আগের চব্বিশ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১২৩ মি: মিটার।

রুমা সড়কে নিখোঁজ চারজনের তিনজনই সরকারি কর্মকর্তা

বান্দরবানের রুমায় সড়কে পাহাড় ধসে পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও চারজন। নিখোঁজ চারজনের তিনজনই সরকারি কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।

নিখোঁজরা হলেন, উমেচিং মারমা (১৭) উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুন্নি বড়ুয়া (৩৫), কৃষি ব্যাংক রুমা শাখার কর্মকর্তা গৌতম কুমার নন্দী (৫৫) এবং রুমা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ রবিউল। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে রবিবার উদ্ধার করা হয়েছে রুমা উপজেলার বাসিন্দা চিংমে হ্লা মারমা (১৯) নামে এক ছাত্রীর লাশ।

ঘটনার পর দমকল বাহিনীর সদস্য, সেনা সদস্য ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালালেও রবিবার টানা বৃষ্টিপাত ও আলো স্বল্পতার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়। সোমবার সকাল থেকে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। কিন্তু প্রচন্ড বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানান বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক।

নিহত চিংমে হ্লা মারমার পরিবারকে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

নিখোঁজ মুন্নি বড়ুয়ার ভাই রাহুল বড়ুয়া ছোটন বলেন, সকাল থেকে সেনা সদস্য ও দমকলকর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালালেও বৃষ্টির জন্য উদ্ধার কার্যক্রম বার বার ব্যাহত হচ্ছে।

সকালে উদ্ধার কার্যক্রমে দেখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল্লাহ বলেন, এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বলা যাবে।

বান্দরবান প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি

বাচ্চু সভাপতি, ফরিদ সম্পাদক নির্বাচিত
॥ নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান ॥
বান্দরবান প্রেসক্লাবে কার্যনির্বাহী পরিষদের ২০১৭-১৯ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ বেতারের জেলা সংবাদদাতা আমিনুল ইসলাম বাচ্চু সভাপতি, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি ফরিদুল আলম সুমন সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি এনামুল হক কাশেমী কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন।কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যান্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন সহ-সভাপতি এম.এ. হাকিম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক সাদেক হোসেন চৌধুরী।
গতকাল সোমবার দুপুরে বান্দরবান প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ ৫টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব পদে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা উপলক্ষে প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি মোঃ বাদশা মিঞা মাষ্টার, সাবেক সভাপতি এ.কে.এম. জাহাঙ্গীর, সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু। প্রেস ক্লাবের সদস্যবর্গের সাথে জেলা সদরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম-বান্দরবান-রাঙ্গামাটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বান্দরবানে পাহাড় ধস অব্যাহত

॥ বান্দরবান প্রতিনিধি॥
অবিরাম ভারী বর্ষণে বান্দরবানে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। রুমা সড়কে পাহাড় ধসে নিখোঁজ ৪ যাত্রীকে এখনো উদ্ধার করা যায়নি। বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার তৎপরতা। এদিকে বৃষ্টিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে দুদিন ধরে। আজ সোমবারও ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, টানা ভারী বর্ষণে গতরোববার (২৩ জুলাই) সকালে এগারোটায় বান্দরবান-রুমা সড়কের দলিয়ান পাড়া এলাকায় বিধস্ত ভাঙ্গা সড়ক পায়ে হেটে পার হওয়ার সময় পাহাড় ধসে পড়ে দুই বোন’সহ ৫ জন নিখোঁজ হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে ছোটবোন ছাত্রী চিংমে হ্লা (১৮) লাশের উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৪ জন। এরা হচ্ছেন- রুমা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিস সহকারী মুন্নি বড়–য়া, কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দী, ডাক বিভাগের কর্মচারী মো: রবিউল, এবং ছাত্রী উমেচিং মারমা। সকাল থেকেই সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আবারো উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে অবিরাম বর্ষণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া এলাকায় কয়েকটি স্থানে সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আর বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কে বেইলী ব্রীজ ডুবে গেছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে দুদিন ধরে।
এদিকে বৃষ্টিতে বান্দরবান শহরের ইসলামপুর, কালাঘাটা, বালাঘাটা’সহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় ধসে বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নতুন কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এদিকে বৃষ্টিতে সাঙ্গু ও মাতামুুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। দূর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

 

রুমা সড়কের পাহাড় ধসে এখনও ৭ ব্যক্তি নিখোঁজ

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বান্দরবান-রুমা সড়কের পাহাড় ধসের ঘটনায় এখনও ৭ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে সোমবার সকাল থেকে ফের অভিযান শুরু করেছে উদ্ধারকারীরা।

নিখোঁজদের উদ্ধারে সেনা সদস্য, পুলিশ, দমকল বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ ব্যবস্থায় প্রায় ৪শ’ ফুট লম্বা মোটা রশিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন।

মাটিচাপায় নিখোঁজরা হলেন- রুমা উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী মুন্নি বড়ুয়া(২৫), রুমা উপজেলা পোস্ট মাস্টার জাবিউল আলম(৪৫), রুমা কৃষি ব্যাংক কর্মচারী গৌতম নন্দী (৪০) এবং গৃহবধূ চিংমে মারমাসহ (৩০) অজ্ঞাত পরিচয়ে সাতজন।

সূত্র জানায়, জেলার ২৬ কিমি দূরে দৌলিয়ান পাড়া এলাকায় রবিবার সকালে পাহাড়ি ঢলের পানি ও মাটির তোড়ে একটি বাস গভীর খাদে পড়ে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তিনজনকে জীবিত অবস্থায়(আহত) উদ্ধার করা গেলেও সেখান থকে চিংমে হ্লা মারমা (২০) নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

রুমা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংথোয়াইচিং মারমা জানান, ওই এলাকায় হেঁটে পারাপারের সময় পাহাড়ধসের মাটিচাপায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ওই চারজনসহ মোট ৭জন যাত্রী। তিনজন যাত্রী শ্রমিক এবং অঞ্জাতনামা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সড়কের নির্মাণ কাজের কারণে ওই স্থান পারাপারে নিষেধাজ্ঞার পরও তা অমান্য করেই বাসযাত্রীরা হেঁটে অন্য পাড়ে যাবার সময় পাহাড়ধসের শিকার হন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে বলে সোমবার সকালে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বান্দরবান প্রতিনিধি॥
টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম’সহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় সড়কে সবধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
প্রশাসন ও শ্রমিকেরা জানায়, গতশনিবার থেকে বান্দরবানে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। অবিরাম বর্ষণে বান্দরবান জেলা সদর এবং লামা উপজেলায় নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টিতে বান্দরবান-কেরানীহাট চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের বাজালিয়ার বরদুয়ারা’সহ কয়েকটি স্থানে বন্যার পানিতে সড়ক কয়েকফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। অপরদিকে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের পুলপাড়া বেইলী ব্রীজ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঢাকা, রাঙামাটি’সহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দূর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। সড়কের উপরে চলছে নৌকা। অনেকে ভ্যান গাড়ীতে করেও পার হচ্ছে তলিয়ে যাওয়া সড়কপথ। পরিবহন শ্রমিক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, রোববার সন্ধ্যা থেকে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। বান্দরবানের মৃত্তিকা সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, সকাল নয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় বান্দরবানে ৭৮ মি:মি: বৃষ্টিপাত হয়েছে। এখনো ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বৃষ্টিতে বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ভারী বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড় ধসে প্রানহাণি এবং ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে। পাহাড় ধসের ঝুকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র। বন্যার পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

রুমা সড়কে পাহাড় ধস: ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান ॥
টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানে আবারো পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় ধসে নিহত চিংমে হ্লা (১৮) নামে এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে আরো ৪ জন। এরা হলেন- রুমা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিস সহকারী মুন্নি বড়–য়া, কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দী, ডাক বিভাগের কর্মচারী মো: রবিউল, এবং ছাত্রী উমেচিং মারমা। নিখোঁজদের খোজে ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী’র সদস্যরা। গতকাল রোববার সকালে এগারোটায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গতশনিবার থেকে বান্দরবানে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টিতে বান্দরবান থেকে রুমা উপজেলার উদ্দেশ্যে এবং রুমা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ২টি যাত্রীবাহি বাস পাহাড় ধসে বিধস্ত রুমা সড়কের দলিয়ান পাড়া এলাকায় পৌছায়। দু’পাশের যাত্রীরা বাস পরিবর্তনের জন্য ভাঙ্গা রাস্তা পায়ে হেটে পার হওয়ার সময় বৃষ্টিতে আবারো পাহাড় ধসে পড়ে। এসময় পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে দুটি বাসের বেশকয়েকজন যাত্রী। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী, প্রশাসন এবং স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। উদ্ধারকর্মীরা পাহাড় ধসে নিহত এক কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম- চিংমে হ্লা (১৮)। এছাড়াও আহত অবস্থায় তিন’জনকে জীবিত উদ্ধার করে বান্দরবান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন-রুমা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: বেলাল হোসেন, শিক্ষক চিত্ত রঞ্জন তঞ্চঙ্গ্যা এবং স্থানীয় বাসিন্দার অংথোয়াই চিং। অপরদিকে পাহাড় ধসে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরো ৪ জন যাত্রী। নিখোঁজরা হচ্ছেন- রুমা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিস সহকারী মুন্নি বড়–য়া, কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গৌতম নন্দী, ডাক বিভাগের কর্মচারী মো: রবিউল, এবং ছাত্রী উমেচিং মারমা। নিখোঁজদের খোজে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী, প্রশাসন’সহ স্থানীয়রা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা সাতটায়ও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, বান্দরবান ৬৯ সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রীগেডিয়ার জেনারেল মো: যোবায়ের সালেহীন, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়’সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তরা।
বান্দরবানের মৃত্তিকা সংরক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, সকাল নয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় বান্দরবানে ৭৮ মি:মি: বৃষ্টিপাত হয়েছে। এখনো ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
পরিবহন শ্রমিক স্বপন দাস বলেন, গতমাসের ১২ জুন অবিরাম বর্ষণে বান্দরবান-রুমা উপজেলা সড়কের দলিয়ান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেনাবাহিনী কয়েকদফায় পাহাড়ের মাটি সরানোর চেষ্টা করলেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পারেনি। তবে সড়কের দু’পাশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। বিধস্ত ভাঙ্গা সড়ক পায়ে হেটে যাত্রীরা গাড়ী পরিবর্তন চলাচল করে আসছিল। রোববার সকালেও যাত্রীরা পায়ে হেটে গাড়ী পরিবর্তন করতে যাবার সময় পাহাড় ধসে অনেক যাত্রী মাটি চাপা পড়েন। আহত অবস্থায় আমরা ৩ জন যাত্রীকে উদ্ধার করতে পেরেছি।
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি বলেছেন, পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী’সহ স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের শঙ্কা আরো বাড়ছে। বৃষ্টিতে চলাচলে স্থানীয়দের আরো বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, পাহাড় ধসের ঘটনাস্থল থেকে এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকর্মীরা। এখনো আরো ৪ জন নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়াও আহত অবস্থায় রুমা উপজেলা শিক্ষা অফিসার’সহ ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী’সহ সরকারী-বেসরকারী সংস্থার লোকজনেরা উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার তৎপরতা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বান্দরবান-রুমা উপজেলা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টিতে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বাজালিয়া পয়েন্টে বন্যার পানিতে প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঢাকা সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা বাড়ছে। পাহাড় ধসের ঝুকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

Scroll To Top