শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / বান্দরবান

বিভাগ: বান্দরবান

Feed Subscription

রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণবাহী ট্রাক দূর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু, আহত ১২

 

বান্দরবান প্রতিনিধি।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা রেডক্রিসেন্টের ত্রানের গাড়ী দ্ঘূর্টনায় অন্তত ৯ জনের মুত্যু হয়েছে। এসময় আরো ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় জানায়, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাকঢালা সীমান্তে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য রেডক্রিসেন্টের একটি গাড়ী ত্রান নিয়ে যাবার পখে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- জলিল আহমদ (৪৫), সুলতান আহমেদ (৫২), আব্দুল্লাহ (৩৮), সুরুত আলম (৩৫), সুদশর্ন বড়ুয়া (৪৮), সৈয়দুল আমীন (৩০), আবদুল মাবুদ (৩০), মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (১৭) এবং হামিনুল হাকিম (১৪)। নিহতরা সকলেই নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দার।
খবর পেয়ে পুলিশ, বিজিবি, রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা রেডক্রিসেন্ট ইউনিট বান্দরবানের সেক্রেটারী একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, চাকঢালা সীমান্তের তিনটি পয়েন্টে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের রেডক্রিসেন্টের ত্রান সামগ্রি নিয়ে যাচ্ছিল গাড়ীটি। যাবার পথে দূর্ঘটনায় ৯ জন মারা গেছে। যাদের মধ্যে ৭ জন শ্রমিক এবং দুজন স্থানীয় শিশু রয়েছে। শিশুরা রোহিঙ্গাদের দেখতে ট্রাকে উঠেছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, রেড ক্রিসেন্টের ত্রান নিয়ে যাবার সময় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। এসময় আরো ১২ জন আহত হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হতাহততের উদ্ধার করেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ কবির জানান, ত্রানের ট্রাক দূর্ঘটনায় ৯ জন মারাগেছে। এছাড়া আহত ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গাড়ীটি খাদে পরে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

বান্দরবানের সাতটি আশ্রয় কেন্দ্রের রোহিঙ্গারা ভালো আছে

সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক

বান্দরবান প্রতিনিধি॥
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সাতটি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা’রা বাংলাদেশে ঢুকছে। বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো লাইনে এখনো অনেক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী বান্দরবানের দুটি ইউনিয়নের সাতটি আশ্রয় কেন্দ্র অবস্থান নেয়া প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা ভালো আছে। তাদের খাদ্য, চিকিৎসা এবং থাকার কোনো সমস্যা হচ্ছেনা। তবে বান্দরবানের ঘুমধুমের পাহাড় পাড়ায় অবস্থান নেয়া নিবন্ধিত ৮শ এবং অনিবন্ধিত ৫ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার’কে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে পাহাড় পাড়ায় ভিক্ষিপ্তভাবে কোনো রোহিঙ্গা নেই বললেই চলে। আজ মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসন সম্মেলনকক্ষে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বিষয়গুলো জানিয়েছেন।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর সফিক, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: অংসুই, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ডিএ মাকসুদ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মুফিদুল আলম’সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার গনমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, বান্দরবানের সাতটি পয়েন্টে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক সংখ্যা নির্ণয় করা হয়েছে। তারমধ্যে বড়ছনখোলায় ১৫শ পরিবার, লোখ সংখ্যা আনুমানিক ৭৫০০ জন, শাপমারা ঝিড়ি ৪শ পরিবার, লোকসংখ্যা আনুমানিক ২৫০০ জন, ফুলতলী ৭৩ পরিবার, লোকসংখ্যা আনুমানিক ৫০০ জন, পাহাড়পাড়া ৮শ পরিবার, লোকসংখ্যা আনুমানিক ৫ হাজার জন এগুলো নিবন্ধিত। এছাড়া অনিবন্ধিত রয়েছে পাহাড়পাড়া ৪ হাজার পরিবার, লোকসংখ্যা আনুমানিক ২০,০০০ জন, কোনাপাড়া ১৪শ পরিবার, লোকসংখ্যা ৮,০০০ জন, পশ্চিমকুল ১ হাজার পরিবার, লোকসংখ্যা ৭,০০০ জন। আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বর্তমানে ঘুমধুম ইউনিয়নে ২টি এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে ২টি ত্রান সেন্টার রয়েছে।
জেলা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: অংসুই জানান, রোহিঙ্গা আশ্রিত বান্দরবানের ঘুমধুম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে ৯টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৪২ জন রোহিঙ্গা রোগিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ১২শ শিশুকে টিকা, ভিটামিন খাওয়া হয়েছে। ঔষুধ এবং ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের কোনো ভাবেই ছড়িয়ে যেতে দেয়া হবেনা। জেলা সদরের রেইছা এবং নাইক্ষ্যংছড়ি শহর থেকে ১৩টি রোহিঙ্গা পরিবার’কে আটক কক্সবাজার শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসন সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন শেষে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আরেকটি প্রেসকনফারেন্স আয়োজন করা হয়। সেখানেও রোহিঙ্গাদের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়া বন্ধে গনমাধ্যমের সহযোগীতা চেয়েছেন পুলিশ।

পাঁচ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে

পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাঁচ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ঘুমধুম পাহাড় পাড়া ও টিভি রিলে কেন্দ্রের পূর্ব পাশে এ অভিযান চালায়।

ঘুমধুম ইউনিয়নে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা পরিবারদের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ পাহারায় উচ্ছেদ করা হয়। তাদের সেখান থেকে সরিয়ে উখিয়ায় আশ্রয় শিবিরগুলোতে পাঠানো হয়। তবে প্রশাসনের আকস্মিক এ অভিযানে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোহিঙ্গারা। দুপুর থেকে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে।

প্রশাসন বলছে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম পাহাড় পাড়া, তুমব্রু, চাকঢালা, আশারতলি ছাড়াও ঘুমধুম ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে কয়েক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা পরিবার বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ঘুমধুমের পাহাড় পাড়া ও রাবার বাগান, কুমির খামারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করছে। তাদের ত্রাণ ও সাহায্য দিতে গিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব কারণে দুই হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা পরিবারকে উখিয়ায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, সরানোর আগে মাইকিং করে তাদের উখিয়ায় সরে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, ঘুমধুম এলাকার বেশ কয়েকজন অভিযানের সময় দা, লাঠিসোটা নিয়ে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। পুলিশের সামনেই এই তাণ্ডব চলায় তারা। বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে রোহিঙ্গা পরিবারগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামাল জানান, রোহিঙ্গারা রাস্তার পাশে বাগানের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে বসবাস করছিল। তারা সেখান থেকে সরে যেতে অপ্রস্তুত ছিল। এছাড়া, বৃষ্টির কারণে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুর রহমান বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে উখিয়ার আশ্রয় শিবিরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, রবিবার সেখানে মাইকিং করা হয়।

তিন পার্বত্য জেলায় চলছে টার্গেট কিলিং

তিন পার্বত্য জেলায় চলছে টার্গেট কিলিং। বাঙালি মোটরসাইকেল চালকরা ওই কিলিংয়ের শিকার। পরিকল্পিতভাবে একের পর এক খুন ও গুম করা হচ্ছে তাদের। এতে অশান্ত হয়ে উঠছে পাহাড়। সৃষ্টি হচ্ছে নানা সংঘাতের। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজাতি সন্ত্রাসীরা। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে এ ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে খাগড়াছড়িতে। সেখানে যাত্রীবেশী সন্ত্রাসীদের হাতে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক খুন, অপহরণ, গুম ও হামলা করে মোটরসাইকেল ছিনতাই এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সাড়ে ৬ বছরে খাগড়াছড়িতে অন্তত ৮জন মোটরসাইকেল চালক যাত্রীবেশীদের হাতে খুন হয়েছে। গুম হয়েছেন ৮ জন। এদের মধ্যে একজন ছাড়া সকলেই খাগড়াছড়ির বাসিন্দা। অপহরণ হয়েছে অন্তত এক ডজন। এছাড়া অস্ত্রের মুখে মোটরসাইকেল ছিনতাই ও চুরি হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তারা এসব ঘটনাকে টার্গেট কিলিং হিসেবে দেখছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এসব ঘটনার কূলকিনারা পেতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে পার্বত্য জেলাগুলোতে তৎপর একটি গোয়েন্দা সংস্থা। একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, দুটি কারণে পাহাড়ে এ ধরনের টার্গেট কিলিং হচ্ছে। প্রথমত-পার্বত্য জেলাগুলোকে অশান্ত করার পাঁয়তারা। এতে লাভবান হচ্ছে উপজাতি সন্ত্রাসীরা। গণ্ডগোল হলেই তারা চাঁদার হার বাড়িয়ে দেয়। কর্মসূচির নামে সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালিদের কাছ থেকে আদায় করে কোটি কোটি টাকা। দ্বিতীয়ত- মোটরসাইকেল চালকরা খুব সহজে মিশে যেতে পারেন পাহাড়িদের সঙ্গে। পেশাগত কারণে তারা প্রবেশ করে দুর্গম জায়গাগুলোতে। সেখানে উপজাতি সন্ত্রাসীদের তৎপরতা অনেক সময় দেখে ফেলে তারা। এরপরই টার্গেটে পরিণত হতে হয় তাদের। যার শেষ পরিণতি খুন অথবা গুম। সর্বশেষ ১২ই সেপ্টেম্বর  খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা সিন্দুকছড়ির দুর্গম তৈকর্মা পাড়া এলাকা থেকে দু’হাত পিছমোড়া বাধা অবস্থায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলামের (২৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। সে গুইমারা উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। গুইমারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, রবিউল ১১ই সেপ্টেম্বর দুপুরে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়। এদিকে রবিউল ইসলাম নিহত হওয়ায় পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরাজী শাহাদাত হোসেন সাকিব এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার যেমন বিচার পায়নি, তেমনি নিখোঁজ ব্যক্তিরা হয়তো ফিরে আসবে সে প্রতীক্ষায় আছে তাদের পরিবার- স্বজনরা। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে অভাব-অনটনে দিন পার করছে তাদের পরিবার। এ সকল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জেলায় দফায় দফায় হরতাল-অবরোধে উত্তাল হয়েছে। এ ছাড়াও মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং প্রশাসনের কাছ থেকে বিচারের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে একটিরও বিচার হয়নি। এদিকে একের পর এক মোটরসাইকেল চালকদের খুন, অপহরণ ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, খাগড়াছড়িতে যাত্রী পরিবহনের মোটরসাইকেল একটি জনপ্রিয় বাহন। ভূ-প্রকৃতি এই জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ। জেলায় অন্তত দুই হাজার বেকার যুবক ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু একের পর এক যাত্রীবেশী সন্ত্রাসীদের হাতে মোটরসাইকেল চালক খুন, গুম ও অস্ত্রের মুখে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় এখন চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত প্রায় ছয় বছরে ১৬ জন মোটরসাইকেল চালক খুন ও গুম হয়েছে। জেলার মহালছড়ি ছাদিকুল ইসলাম, মাটিরাঙার আজিজুল হাকিম শান্ত, আব্দুর রহিম, গুইমারা নিজাম উদ্দিন সোহাগ, দীঘিনালার শাহ আলম, আব্দুস সাত্তার, চান মিয়া ও সর্বশেষ পার্শ্ববর্তী লংগদু উপজেলার নুরুল ইসলাম নয়ন খুন হন খাগড়াছড়ি জেলা সদরের যৌথ খামার এলাকায়। নয়ন হত্যাকাণ্ডটি দেশব্যাপী আলোচনায় আসলেও অন্য হত্যাকাণ্ডগুলো তেমন কোনো আলোচনায় আসেনি। একই সময় দীঘিনালার মোটরসাইকেল চালক আবুল কাশেম, মো. আলী, পানছড়ির হোসেন আলী, মানিকছড়ির মো. মোরশেদ, রাজিব কান্তি দে, গুইমারার রেজাউল করিম, আল আমীন ও শংকর দীর্ঘ দিন ধরে মোটরসাইকেলসহ নিখোঁজ রয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে খাগড়াছড়িতে অন্তত অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু উদ্ধার হয়েছে মাত্র কয়েকটি। প্রতিটি খুন, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের জন্য দায়ী করা হচ্ছে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে। এর আগে গত ১লা  জুন খাগড়াছড়ির যৌথ খামার এলাকায় খুন হন লংগদু উপজেলার যুবলীগের নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন। তার এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পরের দিন সেখানে প্রায় দুই শতাধিক পাহাড়িদের বাড়ি ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। গত ১০ই এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক ছাদিকুল ইসলামকে (২৩) দুই উপজাতি মহালছড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে রাঙ্গামাটির ঘিলাছড়ির উদ্দেশ্যে ভাড়া করে নিয়ে যাওয়ার পর ছাদিকুল ইসলাম নিখোঁজ হন। তিনদিন পর ১৩ই এপ্রিল বিকালে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলার ঘিলাছড়ি এলাকায় ছাদিকুল ইসলামের ক্ষতবিক্ষত লাশ মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর চলতি বছরের ২১শে ফেব্রুয়ারি দুপুরে খাগড়াছড়ি আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের রিছাং ঝর্না এলাকার দুর্গম পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয় মাটিরাঙ্গার মেটরসাইকেল চালক আজিজুল হাকিম শান্ত’র লাশ। নিখোঁজের একদিন পর ২০১৪ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের হাজীপাড়া কবরস্থান এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে মোটরসাইকেল চালক মো. আবদুর রহিমের (২৫) লাশ উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। নিহত আবদুর রহিম বেলছড়ির ২নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানপাড়ার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম এর ছেলে। একই বছরের ৭ই মে সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালার ভৈরফা পাড়া এলাকায় শাহ আলম নামে এক মোটরসাইকেল চালককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহ আলমের লাশ উদ্ধার করে। ২০১৬ সালের ২৭শে জুন নিখোঁজ হন মানিকছড়ির মোটরসাইকেল চালক রাজিব কান্তি দে। স্থানীয় সমীর পালের ছেলে রাজিব দুপুরে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পর আর ফিরেনি। ২০১৪ সালের ২রা জুন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মোটরসাইকেল চালককে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে মোটরসাইকেল ছিনতাই করে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। ঘটনার চার ঘণ্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার মোটরসাইকল চালক চরপাড়ার মো. ধনা ময়িার ছেলে মো. খলিলুর রহমান (২৭) কে উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই বছরের ৩০শে জুলাই খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি থেকে চন্দন ত্রিপুরা (২৪) নামে ভাড়ায় চালিত এক মোটরসাইকেল চালককে অপহরণ করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। উপজেলার গামারীঢালা এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। ২০১১ সালের ১০ই জুন খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার জালিয়াপাড়ার মাহবুব নগর এলাকায় মোটরসাইকেল চালক নিজাম উদ্দিন সোহাগকে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায়  সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া ২০১১ সালে যাত্রীবেশী সন্ত্রাসীদের হাতে জেলার দীঘিনালার কবাখালীর বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার ও চান মিয়া। এদিকে চলতি বছরের ৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে দীঘিনালায় মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলী নিখোঁজ রয়েছেন। ২০১০ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন দীঘিনালার রশিকনগরে বাসিন্দা আবুল কাশেম পিসি। ২০১৬ সালের ২৬শে এপ্রিল থেকে নিখোঁজ আছেন, জেলার পানছড়ি উপজেলার নিখোঁজ মোটরসাইকেল চালক হোসেন আলী। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি মাটিরাঙ্গা সদর ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের ব্রজেন্দ্র কার্বারী পাড়ার নির্জন এলাকা থেকে পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করলেও হোসেন আলীর সন্ধান মেলেনি। ২০১৬ সালের ২৭ জুন যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন মানিকছড়ির মোটরসাইকেল চালক রাজিব কান্তি দে। ২০১৬ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ আছেন মানিকছড়ির মোটরসাইকেল চালক মো. মোরশেদ আলম। ২০১২ সালে গুইমারা উপজেলার রেজাউল করিম, আল-আমীন ও শংকর যাত্রী নিয়ে রামগড় যাওয়ার পর নিখোঁজ হন।

বান্দরবানে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবাসিক হোটেলগুলোতে ৪০% ছাড় ঘোষণা

বান্দরবান প্রতিনিধি॥
বিশ্ব পর্যটন দিবস’কে সামনে রেখে বান্দরবানের আবাসিক হোটেল-রিসোর্টগুলোতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪০% ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সম্মেলনকক্ষে পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিকের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ডিএম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমীন আক্তার, বান্দরবান আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম’সহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট, গেষ্টহাউজের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বান্দরবান আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ বলেন, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। পর্যটন দিবসকে সামনে রেখে বান্দরবানের সবগুলো আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট, মোটেল, গেষ্টহাউজে প্রতিটি রুম ভাড়ায় ৪০% পর্যন্ত ছাড় দেয়া হবে। আগামী ১৮ সেপেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ছাড় কার্যকর থাকবে। পর্যটকদের ভ্রমনের স্বার্থে এ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক দিলী কুমার বণিক বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। পুরনো দর্শণীয় স্থানগুলোর সৌন্দর্য বর্ধন’সহ আরো নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপদ এবং আরামদায়ক ভ্রমন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আবাসিক হোটেল মালিকরা পর্যটন দিবস’কে কেন্দ্র দশদিনের জন্য ৪০% ছাড় ঘোষণা পর্যটকদের জন্য বাড়তি প্রাপ্তি। এ ধরণের উদ্যোগ পর্যটকদের আরো বেশি আকৃষ্ট করবে।

বান্দরবানে বৌদ্ধ মন্দির’সহ ধর্মীয় স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার

বান্দরবান প্রতিনিধি॥
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় বান্দরবানে হামলার আশঙ্কায় বৌদ্ধ মন্দির’সহ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন পাহাড়ের বৌদ্ধ ধর্মালম্বী জনগোষ্ঠীরা। ধর্মীয় স্থাপনা গুলোর নিরাপত্তায় পুলিশ প্রহড়া বসানো হয়েছে। টহল জোরদার করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। এ নিয়ে আজ রোববার সকালে বান্দরবান জেলা শহরের রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরী সভাও করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিকের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদর জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শফিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ডিএম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুফিদুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: কামরুজ্জামান, রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সাধারন সম্পাদক একে এম জাহাঙ্গীর, রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু উ-গুণ বর্ধনা মহাথের, জ্ঞানরতœ বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ সত্যজিত থের, মারমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থোয়াইংচ প্রু মাষ্টার, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন ইমামী’সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও গতশনিবার সন্ধ্যায় প্রশাসনের কর্মকর্র্তার জরুরী বেঠকে বসেন ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, শ্রী শ্রী কেন্দ্রিয় দুর্গা মন্দির, বান্দরবান সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার, বান্দরবান ক্যাথলিক চার্চ’সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলোতে।
সভায় জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে সৃষ্ট ঘটনা মিয়ানমারের অভ্যান্তরীন সমস্যা। এই সমস্যা আমাদেরও ভোগাচ্ছে। তবে সরকার সববিষয়ে সর্তক রয়েছে। সকল সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দিতে বাড়তি সতকর্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে অটুট রাখতে হবে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রোঙ্গিাদের অসহায়ত্বের সুযোগ কেউ যেন কোনো ধরণের ক্ষতি করতে না পারে সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারের সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশে বৌদ্ধ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরে যাতে কোনো হামলা না ঘটে, সেজন্য প্রশাসন বাড়তি সতর্র্কতা নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারো ক্ষতি হয়, এধরণের কোনো উস্কানিমুলক ছবি ও তথ্য আপলোড করা থেকে বিরত থাকতে সকলকে অনুরোধ জানান।

ফাইতং ইউপি সচিবের কক্ষে তালা, ভোগান্তিতে জনগণ

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সচিবের কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় জনগণ।

 

এ বিষয়ে ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জালাল উদ্দিন বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. হোছনকে অন্যত্র বদলি করা হয়। এখনো তিনি কর্মস্থল না ছেড়ে তার নানান অপকর্ম ঢাকার জন্য অফিসের বিভিন্ন ফাইলপত্র সরাতে থাকেন।

 

এমন তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করি এবং তাদের পরামর্শ মতে শনিবার সচিবের কক্ষে লোহার পাটাতন দিয়ে কক্ষটি বন্ধ করে দিই।

 

তাছাড়া সচিবের বিরুদ্ধে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের বরাবরে লিখিত অভিযোগ করি ও লামা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।

 

তবে ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. হোছন বলেন তার উল্টোটা। তিনি বলেন, ফাইতং ইউনিয়নের ২৩টি ইটভাটা রয়েছে। চলতি বছরে সেসব ইটভাটা থেকে কর আদায় বাবদ প্রায় ৯ লক্ষ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সেই টাকা থেকে মাত্র দেড় লাখ টাকা জমা দিয়ে বাকী টাকা আত্মসাৎ করেছেন চেয়ারম্যান।

 

এমন অভিযোগ এনে গত ৪ সেপ্টেম্বর সোমবার পরিষদের সদস্যরা বান্দরবান প্রেসক্লাব মিলনায়তনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা ইটভাটার ৯ লাখ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎসহ মোট ১১লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ তুলেন।

 

চেয়ারম্যান মনে করেন, ওইসব কিছুর অন্তরালে আমি রয়েছি। এমন চিন্তা থেকেই ক্ষোভে আমার অফিসে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন চেয়ারম্যান। কক্ষে তালা লাগানোর কারণে পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ জনগণ ভোগান্তিতে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।

 

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

 

এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু বলেন, বান্দরবান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের পরামর্শে ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের কক্ষে তালা লাগানোর জন্য চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি চলছে লামার ৮ মণ্ডপে

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শ্রী শ্রী সার্বজনীন শারদ উৎসব বা দুর্গাপূজা। ২৫ সেপ্টেম্বর মহাপঞ্চমীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই পূজা।

 

এবার বান্দরবানের লামা উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের ৮টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। এর মধ্যে পৌর এলাকায় দুটি, লামা সদর ইউনিয়নে একটি, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে চারটি, আজিজনগর ইউনিয়নে একটি মণ্ডপে পূর্জা অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং তুলি ও সাজ সজ্জার কাজ। উৎসবকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালন করতে মণ্ডপগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

 

লামা উপজেলা দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় আইচ বলেন, এ বছর মা দুর্গা আসছেন নৌকায় চড়ে, আর গমন করবেন ঘোড়ায় চড়ে। মাকে বরণ করার জন্য উপজেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিমা তৈরি করতে আমরা প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছি। গত বছর সরকারিভাবে ৫০০ কেজি চাউল বরাদ্দ পাওয়া গেলেও এবারে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

 

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় দুর্গা উৎসব হবে লামা কেন্দ্রীয় হরি মন্দির মণ্ডপে। হাজারো মানুষের সমাগম হবে আমাদের এই মন্দিরে, তাই সব কিছু মাথায় রেখে সুষ্ঠুভাবে উৎসব পালনের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবুল কান্তি দাশ বলেন, আমরা প্রতিবারের মতো সামাজিক রূপে প্রতিমাকে তৈরি করেছি। আমাদের কাজ প্রায় শেষ মুহূর্তে, বাকি আছে প্রতিমাকে রং করা আর কিছু সাজসজ্জার কাজ। প্রতিবারের মতো এবারও নবমীর দিন প্রসাদ বিতরণ করা হবে।

 

এদিকে লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা হরি মন্দিরের দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সাধন চন্দ্র সেন বলেন, আমরা প্রতিবারের মতো এবারও সনাতন ধর্মের নিয়ম অনুসারে প্রতিমা তৈরি করেছি। আমাদের প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। মন্দিরের সাজসজ্জার আর প্রতিমাকে সাজানোর কাজ বাকি রয়েছে। আশা করছি সার্বজনীন এই উৎসব সুষ্ঠুভাবে উদ্যাপন করতে পারবো।

 

একই কথা জানালেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গুলিস্তান বাজার, ইয়াংছা, পাগলির আগা, কমিউনিটি সেন্টার, আজিজনগর ইউনিয়নের তেলুনিয়া ও পৌরসভার চম্পাতলী মণ্ডপ কমিটির সদস্যরা।

 

লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন জানান, দুর্গাপূজা হচ্ছে সর্বজনীন উৎসব। এটি যদিও হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, তবে উৎসব হচ্ছে সকলের। বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতির বসবাস, সকলে মিলে প্রতিবছর আমরা সুষ্ঠুভাবে এই উৎসব উদযাপন করে আসছি। তাই আশা করি এবারও আমরা সকলে মিলেমিশে এ উৎসব উদ্যাপন করতে পারবো।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নু বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও সরকারিভাবে দুর্গাপুজা উৎসব পালনের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হবে। তবে এখনো বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দের জন্য ইতিমধ্যে মণ্ডপগুলোর তালিকা ও আবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে অনুদান প্রদান করা হবে মণ্ডপগুলোতে।

 

এছাড়া উৎসব যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালন করতে পারে সেজন্য মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আইনশৃঙখলা সভায় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বান্দরবা‌নের বিদ্যুৎ স্পর্শ হ‌য়ে নির্মাণ শ্র‌মি‌কের মৃত্যু

বান্দরবান প্র‌তি‌নি‌ধি।
বান্দরবা‌নের বিদ্যুৎ স্পর্শ হ‌য়ে এক নির্মাণ শ্র‌মি‌কের মৃত্যু হ‌য়ে‌ছে। অাজ শুক্রবার বিকা‌লে এ ঘটনা ঘ‌টে।
পু‌লিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জেলা শহ‌রের বান্দরবান বাজা‌রে পৌরঅাবা‌সিক ভবন ভাঙ্গার সময় অসাবধানতা মূলক পিলা‌রের লোহার এক‌টি অংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ লাই‌নের ১১ হাজা‌র ভো‌ল্টেজ তা‌রের উপর পড়‌লে বিদ্যুৎ স্পর্শ মোহাম্মদ বশর (৩৪) না‌মে এক নির্মাণ শ্র‌মি‌কের মৃত্যু হয়। খবর পে‌য়ে ফায়ার সা‌র্ভি‌সের সদস্যরা ঘটনাস্থ‌লে নিহ‌তের লাশ উদ্ধার ক‌রে‌ছে। ‌নিহত শ্র‌মি‌কের বা‌ড়ি কক্সবাজার জেলায়।
ঘটনার সত্যতা নি‌শ্চিত ক‌রে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) র‌ফিক উল্লাহ জানান, ভবন ভাঙ্গার কাজ করার সময় পাশ্ববর্তী বিদ্যুৎ সরবরাহ লাই‌নে লোহা স্পর্শ হ‌য়ে ঘটনাস্থ‌লেই এক শ্র‌মি‌কের মৃত্যু হয়।

রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক হতে হবে

বান্দরবানের লামা উপজেলায় মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভায় বক্তারা বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোন গুজবে কান দেয়া যাবে না। উপজেলায় দীর্ঘ লালিত সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে সজাগ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক হতে হবে।’

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাহী অফিসার খিনওয়ান নুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

 

এ সময় তারা আরো বলেন, মায়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গাদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে হবে। রোহিঙ্গারা যেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে না পড়ে সেদিকে স্থানীয় সর্দার, মাতাব্বর, হেডম্যান, কারবারীদের সহায়তা পূর্বক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে নজরে রাখতে হবে। অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাদের পুঁজি করে কাউকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ দেয়া যাবে না।

 

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েদ ইকবাল, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারাবান তহুরা, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ হোসেন বাদশা, প্রেসক্লাব সভাপতি প্রিয়দর্শী বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সময় অন্যদের মধ্যে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মার্মা, মো. জাকের হোসেন মজুমদার, ছাচিংপ্রু মার্মা, জালাল উদ্দিন, মিন্টু কুমার সেন, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বক্তব্য প্রদান করেন।

Scroll To Top