শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি

বিভাগ: শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি

Feed Subscription

শান্তির জন্য

।। কামরান চৌধুরী
———–বিশ্ব শান্তি দিবসের কবিতা————-

শান্তির জন্য আমরা হাতে হাত রাখি
শান্তির জন্য মিছিল করি রাজপথে
শান্তির জন্য কবিতা গান লিখে যাই
স্বৈরাচার পতনে স্লোগানে পায়ে পায়।
এই আমি প্রচণ্ড বেগে হুঙ্কার ছাড়ি
প্রলয় নৃত্যে নামায় যেন হিম বারি।
অজস্র ফুল বর্ষণে সিক্ত করি ধরা
প্রিয়ার কণ্ঠে সুরের বীণা শান্তিধারা।

প্রকৃতি মাঝে বেড়াই ঘুরেঘুরে নিত্য
ঈশ্বর প্রেমে অনিন্দ্য থাকি মগ্নচিত্ত।
শান্তির জন্য ছুটছি তবু হাসি ম্লান
হিরোশিমা নাগাসাকিতে যে অগ্নিস্নান।

পায়রা উড়াই শূন্যে, সুখে, শ্বেতবন্ত্রে
শিশির মেখে প্রার্থনা গীতে পূত মন্ত্রে।
শান্তির জন্য বিশ্ব বিবেক জাগে আজ
দলাদলি, যুদ্ধে, পরমাণু অস্ত্রে সাজ।

এসো, সমবেত হই, বিশ্ব জনগণ
শান্তি প্রত্যাশায় পুঞ্জিভূত অনশন।
শান্তির জন্যই অন্তহীন পথচলা
অরণ্য, সাগর, মরুতে ভাসায় ভেলা।

প্রিয়ার অধরে, বুকে, স্পর্শে আলিঙ্গনে
শান্তির জাল বুনছি সেথা আনমনে।
শান্তি শান্তি শান্তি চাই, বুক ভরা শান্তি
ফুল দলে, মন দলে, খুঁজে চলা ভ্রান্তি।।

২০.০৯.২০১৭ ।। শ্যামলী, ঢাকা।।

বাঙ্গালি সংস্কৃতির চর্চায় জাতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে

বাঙ্গালি সংস্কৃতির চর্চায় জাতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে। বাঙ্গালির ষড় ঋতুর উৎসব বাঙ্গালির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের’র সভাপতিত্বে ও মহাসচিব সনাতন চক্রবর্ত্তী বিজয়’র সঞ্চালনায় দিগন্ত রাঙিয়ে দাও আলোয় আলোয় শ্লোগানে পূর্বা ও শরৎ উৎসব উদ্যাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শরৎ উৎসবের কথামালায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, অধ্যক্ষ উত্তম কুমার আচার্য্য, কবি ও প্রাবন্ধিক ক্ষণরঞ্জন রায়, শওকত আলী সেলিম, এম এ হাশেম চেয়ারম্যান, মোঃ সেলিম হোসেন, প্রধান সমন্বয়কারী সায়মন শাহাদাত চৌধুরী, এড. রোকনুজ্জামান মুন্না, জসিম উদ্দিন আমিরী, ঝুলন বড়–য়া, ইমরান খান, আব্দুল মালেক খান, সমন্বয়ক অথৈ মজুমদার, সাদ্দাম হোসেন, শ্রাবণী দাশ গুপ্তা, মঞ্জুর মোর্শেদ, মোঃ বদিউল আলম, অর্কিড দে, সাথী চৌধুরী, জারিন, সুদীপ, আলী হোসেন, তাসমিয়া ইসলাম, ইকরা বিনতে বিল্লা প্রমুখ। উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করেন ঘুঙ্গুর নৃত্য কলা কেন্দ্র, সঙ্গীত পরিবেশন করেন আইনজীবী সাংস্কৃতিক পরিষদ, পূর্বা, মুকাভিনয় পরিবেশন করেন সাইলেন্ট থিয়েটার।

নবাব সিরাজউদ্দৌলা’র জন্মবার্ষিকীতে ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম সম্মিলন আজ

 

আজ (১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ) মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ সমাজ উন্নয়ন ও তমদ্দুনী সাহিত্য মজলিশ ও চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র (সিএইচআরসি) এর যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস (পার্ট Ñ ২, জিয়া অডিটরিয়াম) মিলনায়তনে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব-নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার ২৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, মুক্ত আলোচনা, দেশের গানের অনুষ্ঠান ও ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম সম্মিলন ২০১৭ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার নবম বংশধর নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা। উক্ত সম্মিলনের আলোচনা সভা, মুক্ত আলোচনা ও ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম সম্মিলনে দেশবরেণ্য ইতিহাসবিদ, বুদ্ধিজীবী, লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক অংশগ্রহণ করবেন। আগ্রহীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

 

৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা শুরু

সাতক্ষীরার ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা শুরু হয়েছে। মাসব্যাপী চলা এ মেলা উপলক্ষে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মেলার প্রধানকেন্দ্র শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ককে সাজানো হয়েছে নান্দনিক রূপে। পার্কজুড়ে বসেছে বিভিন্ন বিপণী স্টল। এছাড়া থাকছে চিত্তবিনোদনের পৃথক স্পট।

 

অন্যদিকে, শহরের নিউমার্কেট থেকে পাকাপুল পর্যন্ত সড়কের দুই ধারে মনোহরীর দোকান, পলাশপোল হাইস্কুলের সামনে লৌহজাত সামগ্রী, বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসপত্র এবং প্রাণ সায়ের খালের পশ্চিম তীরে কাঠের তৈরি আসবাবপত্রের পসরা বসেছে। মেলা শুরু হয়েছে মনসা পূজার মাধ্যমে।

 

সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি জানান, মেলার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।  মেলা ১৭ সেপ্টম্বর রবিবার থেকে শুরু হয়ে ১৬ অক্টোবর শেষ হবে।

 

সূত্র জানায়, পুরো পার্ককে মেলার আওতায় আনা হয়েছে। মেলা উপলক্ষে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তাদানে তৎপর রয়েছে। চাঁদাবাজি, জুঁয়া বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই নেয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। গোটা সাতক্ষীরা নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো।

 

সূত্র আরো জানায়, ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মেলা উপলক্ষে আসা একটি সার্কাস প্যান্ডেলে এবং সাতক্ষীরার রকসি সিনেমা হলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি সন্ত্রাসী চক্র বোমা হামলা চালায়। এতে নিহত হয় তিনজন। আহত হয় অর্ধশতাধিক। এরপর মেলা হারিয়ে ফেলে তার ঐতিহ্য।

 

মনসা ও বিশ্বকর্মা পূর্জা উপলক্ষে বাংলা সালের ভাদ্র মাসের শেষের দিকে এ মেলা বসে। মেলা বসে পৌর সভার পলাশপোল গুড়পুকুর পাড়ে। গুড়পুকুরের নামানুসারে মেলার নামকরণ হয়েছে।

 

সূত্র আরো জানায়, এই গুড়পুকুরকে নিয়ে রয়েছে নানা কাহিনী। কথিত আছে, পয়োগ্রাম কসবায় রায় চৌধুরী পরিবারের সন্তান দক্ষিণা নারায়ণ দক্ষিণ ডিহী ও নাগরনাথ উত্তর ডিহীর সম্পত্তি ভাগ করে নেন। পীর খান জাহান আলীর আমলে রায় বংশ সমাজে সম্মানিত ছিল। তারা কনৌজগত ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন এবং তাদের পূর্বপুরুষ গুড়গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তাই তাদেরকে গুড়ী বা গুড় গাঙ্গী ব্রাক্ষণ হিসেবে ডাকা হতো।

 

নাগরনাথ ছিলেন, নিঃসন্তান। তার ভাই দক্ষিণা নারায়ণের ছিল চার ছেলে। তারা হলেন কামদেব, রতিদের, জয়দেব শুকদেব। দক্ষিণা নারায়ণের সম্পত্তি ভাগের জন্য মধ্যবর্তী স্থান নির্ধারণ করা হয় পলাশপোল। এ স্থানে তিনি বসতি গড়ে তোলেন। বসবাসের শুরুতেই পানি সংকট নিরসনের জন্য জন্য একটি পুকুর খনন করেন। পূর্ব পুরুষের নামানুসারে এ পুকুরের নাম রাখেন ‘গুড় পুকুর’।

 

কেউ কেউ বলেন, রায় চৌধুরীরা গৌর বর্ণের ব্রাক্ষণ ছিলেন। তাই তাদের পুকুরকে বলা হতো গৌড়দের পুকুর। যা বিকৃত হয়ে পরে ‘গুড়পুকুর’ হয়েছে।

 

মেলার উৎপত্তি সম্পর্কে জানা যায়, পীর খান জাহান আলীর শিষ্য ছিলেন নব মুসলিম তাহের আলী। দক্ষিণা নারায়ণের ছেলে কামদেব ও জয়দেব নবাগত শাসন কর্তা মোহাম্মদ তাহের আলীর অধীনে উচ্চ পদে চাকরি করতেন। ঘটনাক্রমে তারা তাহের আলীর কাছে ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নেন। কামদেব নাম পরিবর্তন করে কামাল উদ্দীন খান চৌধুরী এবং জয়দেব জামাল উদ্দীন খান চৌধুরী নামে পরিচিত হন। তাদের দুজনের কোনো একজনের পরবর্তী বংশধর বুড়া খাঁ।

 

লোকে বলে, বুড়া খাঁ বাগেরহাট থেকে এসে সাতক্ষীরার পলাশপোলে এসে ঘরবাড়ি তৈরি করেন। গড়ে তোলেন পলাশপোল চৌধুরী বাড়ি। বাড়ির পূর্বপাশে একটা দরগা তৈরি করে সেখানে ধর্ম সাধনা করতে থাকেন। চৌধুরী বাড়ির অধীনে তখন পলাশপোল মৌজার বৃহৎ এলাকা। এলাকাবাসী তখন খাজনা দিত চৌধুরীদের।

 

বাংলা ১২ শতকের কোনো এক সময় বুড়া খাঁর বংশধর ফাজেল খাঁন চৌধুরী পলাশপোল এলাকায় খাজনা আদায় করে ফিরছিলেন। ক্লান্তিতে গুড়পুকুর পাড়ে বটগাছের ছায়ায় বসামাত্রই ঘুমিয়ে পড়েন। বটপাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের রশ্মি এসে পড়ে ফাজেলের মুখে। গাছের মগডালে জড়িয়ে ছিল এক পদ্মগোখরা সাপ। সাপটি নেমে এসে ফনা তুলে ছায়া করে রাখে ফাজেলের মুখে।

 

ফাজেল খাঁনের ঘুম ভেঙে গেলে বটগাছের পাতায় পাতায় চোখ ফেরাতেই তিনি দেখতে পান সাপটিকে। তখনও সাপটি ফনা তুলে সূর্যকে আঁড়াল করে আছে। তারপর এক সময় ফনা নামিয়ে সাপটি হারিয়ে যায়। ফাজেল খান বটতলা ত্যাগ করলেন। স্থানীয় হিন্দুদের ডেকে ওই স্থানে মনসা পূজার আহ্বান জানান। সেদিন ছিল ভাদ্র মাসের শেষ দিন। বাংলা ১২ শতকের গোড়ার দিকে কোনো এক বছর গুড়পুকুরের দক্ষিণ পাড়ের ওই বটতলায় শুরু হয় মনসা পূজা। এ মনসা পূজাকে ঘিরে বসে গুড়পুকুর মেলা।

আহ্বান

এম টি ইসলাম

—————————

আহ্বান তোমাকে ছন্দে ফেরার
আহ্বান তোমাকে ঢেউয়ের একাত্মতায়,
সুগন্ধ-ভরা এক তোড়া ফুল হাতে
বলছি, ফেরো বুক ভরা বাতাসে- ফেরো
আকাশের কালো চোখের তাঁরার আলোয়;
ফুরোবার সে (তো) নয়।

আহ্বান এসো জীবনের পথে
মনের সব ব্যাথা ভুলে, ঐকতানে
যেন মন (-পাখি) কথা বলে,
ছন্দ সে-ই ত গতি, প্রেমময়তা-
(নিশ্চিত) সুখের অপেক্ষা, আশার পথ-চাওয়া
আহ্বান এ গান ভরো বুকে
(আহ্বান) ভালোবাসো;
নিজেরে একান্তই আপন করে।।

ফুল

।। সন্ধ্যার নীড়ে ফেরা পাখিরা জানালো পেড়ে ফেলা সহস্র ফুলের খবর। আমি প্রস্তুত ছিলাম না। আমার পক্ষেও সম্ভব ছিল বাগানের ফুটে থাকা ফুল চোখের পলকে ছিঁড়ে নিয়ে প্রবল আক্রোশে মাটিতে পিষে ফেলার, তবে ফুল ভালোবাসি বলে আমি দেখি, শুধুই দেখি, ফুটে থাকা ফুল, মানান সই কিংবা বেমানান সকল ফুল আমার প্রিয়। একেকটা ফুল আমার কাছে একেকটা মানুষের প্রতিচ্ছবি। ওদের পাপড়িগুলো ওদের এক একটা অঙ্গ, চোখ,কান,নাক,ঠোঁট,মুখ,গলা,বুক,পেট,উরু………।

হাসান কামরুল।। হাসপাতাল রোড, জয়দেবপুর।। ১২/০৯/২০১৭।।

সৈয়দ মুজতবা আলী

 

বহুভাষাবিদ সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা একই সঙ্গে পাণ্ডিত্য এবং রম্যবোধে পরিপুষ্ট। তাঁর ভ্রমণকাহিনীগুলির জন্য তিনি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মদিন আজ। এ দিনে চট্টগ্রামের প্রথম ২৪ ঘন্টার অনলাইন পত্রিকা “নিউজচিটাগাং২৪” শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে

সৈয়দ মুজতবা আলী (১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ – ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪) একজন বিংশ শতকী বাঙালি সাহিত্যিক। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা। তিনি তাঁর ভ্রমণকাহিনীগুলির জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। বহুভাষাবিদ সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা একই সঙ্গে পাণ্ডিত্য এবং রম্যবোধে পরিপুষ্ট।
সৈয়দ মুজতবা আলী জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ সেপ্টেম্বর অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতে আসামের অন্তর্ভুক্ত সিলেটের করিমগঞ্জে। সাব-রেজিস্ট্রার তাঁর পিতা সৈয়দ সিকান্দার আলী।[৩] তাঁর পৈতৃক ভিটা মৌলভীবাজার, সিলেট।
ইলেটের গভর্নমেন্ট হাই স্কুলে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। পিতার বদলির চাকরি হওয়ায় মুজতবা আলীর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন কাটে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ১৯২১ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন। তিনি ছিলেন বিশ্বভারতীর প্রথমদিকের ছাত্র। এখানে তিনি সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, হিন্দি, গুজরাটি, ফরাসি, জার্মান ও ইতালীয় ভাষাশিক্ষা লাভ করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে এখান থেকে বি.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। অতঃপর দর্শনশাস্ত্র পড়ার জন্য বৃত্তি নিয়ে জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে গবেষণার জন্য তিনি ডি.ফিল লাভ করেন ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে। ১৯৩৪-১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মিশরে কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মুজতবা আলী কাবুলের শিক্ষাদপ্তরে অধ্যাপনা করেন। সেখানে তিনি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার শিক্ষক ছিলেন। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে বরোদার মহারাজার আমন্ত্রণে তিনি বরোদা কলেজে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি আট বছর কাটান। এরপর দিল্লির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের খণ্ডকালীন প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পঞ্চাশের দশকে কিছুদিন আকাশবাণীর স্টেশন ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন পাটনা, কটক, কলকাতা এবং দিল্লিতে। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি শান্তিনিকেতনে প্রত্যাবর্তন করেন। বিশ্বভারতীর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রিডার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অবসরগ্রহণ করেন।
শান্তিনিকেতনে পড়ার সময় সেখানের বিশ্বভারতী নামের হস্তলিখিত ম্যাগাজিনে মুজতবা আলী লিখতেন। পরবর্তীতে তিনি ‘সত্যপীর’, ‘ওমর খৈয়াম’, ‘টেকচাঁদ’, ‘প্রিয়দর্শী’ প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায়, যেমন : দেশ, আনন্দবাজার, বসুমতী, সত্যযুগ, মোহাম্মদী প্রভৃতিতে কলাম লিখেন। তাঁর বহু দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন ভ্রমনকাহিনী। এছাড়াও লিখেছেন ছোটগল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা। বিবিধ ভাষা থেকে শ্লোক ও রূপকের যথার্থ ব্যবহার, হাস্যরস সৃষ্টিতে পারদর্শিতা এবং এর মধ্য দিয়ে গভীর জীবনবোধ ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা তাঁকে বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি হল, “বই পড়ে কেউ দেউলিয়া হয়না।” তাঁর রচিত বইয়ের সংখ্যা ৩০।

ভ্রমণকাহিনী উপন্যাস ছোটগল্প রম্যরচনা
দেশে বিদেশে (১৯৪৯) (কাবুল শহরের কাহিনী নিয়ে লেখা।)
জলে ডাঙ্গায় (১৯৬০)
অবিশ্বাস্য (১৯৫৪)
শবনম (১৯৬০)
শহরইয়ার (১৯৬৯)
চাচা কাহিনী (১৯৫২)
টুনি মেম (১৯৬৪)
পঞ্চতন্ত্র (১৯৫২)
ময়ূরকন্ঠী (১৯৫২)
গল্পমালা :[সম্পাদনা] রাজা উজির
ধূপছায়া
বেচে থাক সর্দি-কাশি
পুনশ্চ
পাদটীকা
তীর্থহীনা
কর্ণেল
রাক্ষসী
বিধবা বিবাহ
ক্যাফে-দে-জেনি
মা জননী
বেল তুলে দু-দু’বার
স্বয়ংবরা
রস-গোল্লা (ইংরেজি)
পুরস্কার
১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নরসিং দাস পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে তাঁকে আনন্দ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
মৃত্যু
১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ মুজতবা আলী মৃত্যুবরণ করেন।

শাহ আবদুল করিম

শাহ আবদুল করিম (ইংরেজি: Shah Abdul Karim, ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯১৬[১] – ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯) হলেন বাংলা বাউলগানের একজন কিংবদন্তি শিল্পী। সুনামগঞ্জের কালনী নদীর তীরে বেড়ে উঠা শাহ আব্দুল করিমের গান ভাটি অঞ্চলে জনপ্রিয় হলেও শহরের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায় তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগে। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি প্রায় পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন।

শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ইব্রাহীম আলী ও মাতার নাম নাইওরজান।[৩] দারিদ্র ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। বাউলসম্রাটের প্রেরণা তার স্ত্রী; যাকে তিনি আদর করে ‘সরলা’ নামে ডাকতেন। ১৯৫৭ সাল থেকে শাহ আবদুল করিম তাঁর জন্মগ্রামের পাশের উজানধল গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।[৪] ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরূদ্ধে। তিনি তার গানের অনুপ্রেরনা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ এবং দুদ্দু শাহ এর দর্শন থেকে। যদিও দারিদ্র তাকে বাধ্য করে কৃষিকাজে তার শ্রম ব্যয় করতে কিন্তু কোন কিছু তাকে গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তিনি বাউলগানের দীক্ষা লাভ করেছেন সাধক রশীদ উদ্দীন, শাহ ইব্রাহীম মাস্তান বকশ এর কাছ থেকে। তিনি শরীয়তী, মারফতি, দেহতত্ত্ব, গণসংগীতসহ বাউল গান এবং গানের অন্যান্য শাখার চর্চাও করেছেন।

স্বশিক্ষিত বাউল শাহ আব্দুল করিম এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন। বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে তাঁর ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধুমাত্র ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগে বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। বাউলসাধক শাহ আবদুল জীবনের একটি বড় অংশ লড়াই করেছেন দরিদ্রতার সাথে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় তার সাহায্যার্থে এগিয়ে এলেও তা তিনি কখনোই গ্রহণ করেননি। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সাউন্ড মেশিন নামের একটি অডিও প্রকাশনা সংস্থা তার সম্মানে জীবন্ত কিংবদন্তীঃ বাউল শাহ আবদুল করিম নামে বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া তার জনপ্রিয় ১২ টি গানের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে। এই অ্যালবামের বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ তাঁর বার্ধক্যজনিত রোগের চিকি‍ৎসার জন্য তার পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়। ২০০৭ সালে বাউলের জীবদ্দশায় শাহ আবদুল করিমের জীবন ও কর্মভিত্তিক একটি বই প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়, ‘শাহ আবদুল করিম সংবর্ধন-গ্রন্থ’ (উৎস প্রকাশন) নামের এই বইটি সম্পাদনা করেন লোকসংস্কৃতি গবেষক ও প্রাবন্ধিক সুমনকুমার দাশ। শিল্পীর চাওয়া অনুযায়ী ২০০৯ সালের প্রথম দিকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে বাউল আব্দুল করিমের সমগ্র সৃষ্টিকর্ম নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।[৬] শাহ আবদুল করিমের জনপ্রিয় কিছু গানঃ

  • বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে
  • আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
  • গাড়ি চলে না
  • রঙ এর দুনিয়া তরে চায় না
  • তুমি রাখ কিবা মার
  • ঝিলঝিল ঝিলঝিল করেরে ময়ুরপংখী নাও
  • তোমার কি দয়া লাগেনা
  • আমি মিনতি করিরে
  • তোমারও পিরিতে বন্ধু
  • সাহস বিনা হয়না কভু প্রেম
  • মোদের কি হবেরে ,
  • মানুষ হয়ে তালাশ করলে
  • আমি বাংলা মায়ের ছেলে
  • আমি কূলহারা কলঙ্কিনী
  • কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া
  • কোন মেস্তরি নাও বানাইছে
  • কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু
  • মন মিলে মানুষ মিলে, সময় মিলেনা
  • সখী তুরা প্রেম করিওনা
  • কাছে নেওনা ,দেখা দেওনা
  • মন মজালে,ওরে বাউলা গান
  • আমার মাটির পিনজিরাই সোনার ময়নারে
  • নতুন প্রেমে মন মজাইয়া
  • বসন্ত বাতাসে সইগো
  • আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু
  • মহাজনে বানাইয়াছে ময়ুরপংখী নাও
  • আমি তোমার কলের গাড়ি
  • সখী কুঞ্জ সাজাও গো
  • জিজ্ঞাস করি তোমার কাছে
  • যে দুংখ মোর মনে
  • হুরু থাকতে,আমরা কত খেইর (খেইল) খেলাইতাম
  • হাওয়াই উরে আমার
  • গান গাই আমার মনরে বুঝাই
  • দুনিয়া মায়ার জালে

উল শাহ আবদুল করিমের এ পর্যন্ত ৭টি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে তাঁর রচনাসমগ্র (অমনিবাস)-এর মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। এছাড়াও সুমনকুমার দাশ সম্পাদিত শাহ আব্দুল করিম স্মারকগ্রন্থ (অন্বেষা প্রকাশন) তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। এর আগে-পরে শাহ আবদুল করিমকে নিয়ে সুমনকুমার দাশের ‘বাংলা মায়ের ছেলে : শাহ আবদুল করিম জীবনী’ (অন্বেষা প্রকাশন), ‘সাক্ষাৎকথায় শাহ আবদুল করিম’ (অন্বেষা প্রকাশন), ‘শাহ আবদুল করিম’ (অন্বেষা প্রকাশন), ‘বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম’ (উৎস প্রকাশন), ‘গণগীতিকার শাহ আবদুল করিম’ (উৎস প্রকাশন) প্রকাশিত হয়। সর্ব শেষ ২০১৬ সালে ঢাকার প্রখ্যাত প্রকাশনাসংস্থা প্রথমা থেকে প্রকাশিত হয় সুমনকুমার দশের ‘শাহ আবদুল করিম : জীবন ও গান’ বইটি। এ বইটি ইতোমধ্যেই একটি প্রামণ্য জীবনী হিসেবে বোদ্ধামহলে স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে। এ বইটিতে করিমের নির্বাচিত বেশ কিছু গানও সংকলিত হয়েছে।[৮]

বইয়ের তালিকা[সম্পাদনা]

  • আফতাব সঙ্গীত (১৯৪৮)
  • গণ সঙ্গীত (১৯৫৭)
  • কালনীর ঢেউ (১৯৮১)
  • ধলমেলা (১৯৯০)
  • ভাটির চিঠি (১৯৯৮)
  • কালনীর কূলে (২০০১)
  • শাহ আব্দুল করিম রচনাসমগ্র (২০০৯)

সম্মাননা[সম্পাদনা]

বাউল শাহ আব্দুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। বাংলা একাডেমি তার দশটি গানের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করে। শাকুর মজিদ তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছেন ভাটির পুরুষ নামে একটি প্রামাণ্য চিত্র। এছাড়াও সুবচন নাট্য সংসদ তাকে নিয়ে শাকুর মজিদের লেখা মহাজনের নাও নাটকের ৮৮টি প্রদর্শনী করেছে।[৯]

  • একুশে পদক (২০০১)
  • কথা সাহিত্যিক আবদুর রউফ চৌধুরি পদক (২০০০)
  • রাগীব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার (২০০০)
  • লেবাক এ্যাওয়ার্ড (২০০৩)
  • মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার আজীবন সম্মাননা (২০০৪)
  • সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস আজীবন সম্মাননা (২০০৫)
  • বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতি সম্মাননা (২০০৬)
  • খান বাহাদুর এহিয়া পদক (২০০৮)
  • বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা (২০০৮)
  • হাতিল এ্যাওয়ার্ড (২০০৯)
  • এনসিসি ব্যাংক এনএ সম্মাননা (২০০৯)

মৃত্যু[সম্পাদনা]

২০০৯ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম মৃত্যু বরণ করেন।[৪] সেই দিন শনিবার সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে সিলেটের একটি ক্লিনিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সিলেটের নুরজাহান পলি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আব্দুল করিমকে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুর থেকেই লাইফসাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়ে ছিল।

ভারতবর্ষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বাঙালিদের অবদান যথেষ্ট

আবু নছর আব্দুল হাই ছিদ্দেকী:ভারতবর্ষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাঙালিদের যথেষ্ট অবদান ছিল। বাঙালিদের এক কঠোর সংগ্রামের ফলে  ইংরেজদের ভারত ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।এটা সর্বজন বিদিত কিন্তু বর্তমানের প্রেক্ষাপেটে বৈচিত্রময় ভারতবর্ষের বিষেশত আসাম রাজ্যে বাঙালির অবস্হা অত্যন্ত খারাপ কারণ উগ্রজাতীয়বাদীদের সৃষ্ট হয়রানি, ডি ভোটার তকমা লাগিয় হেনস্তা আর কত কি? সুযোগ সন্ধানীরা বাঙালিদের নিজের ভাষাকে কেড়ে নিতে মরিয়া উঠিতেছে।

বাংলা ভাষার জন্মরহস্য নিহিত আছে মাগধী অপভ্রংশের মধ্য।এই মাগধী অপভ্রংশের একটি শাখা থেকে জন্ম নেয় বাংলা, অসমীয়া ও ওড়িয়া।বাংলা ও অসমীয়া প্রথম দিকে অভিন্ন থাকলেও পরে দুটি স্বতন্ত্র ভাষা হয়ে উঠে। অর্থাৎ বাংলা ভাষার জন্ম হচ্চে মাগধী অপভ্রংশ থেকে কিন্তু কেউ কেউ বলে থাকেন বাংলা ভাষা সংস্কৃতি থেকে এসেছে। কিন্তু সংস্কৃতকে কোন ভাবেই বাংলা ভাষার জননী বলা যেতে পারে না। সংস্কৃত হল প্রাচীন ভারতের আর্যভাষা।

বর্তমানে বাংলা সংস্কৃতি যেভাবে হারিয়ে যাচ্চে তা দেখে বড় অবাক হতে হয়।আধুনিক সমাজ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল গুলিতে দেখা যায়, বাংলা মাধ্যমের পাঠশালা আস্তে আস্তে বন্ধের মূখে।আর ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা খুবই নগণ্য।আমাদের বরাকে প্রায় ৮৫% বাঙালির বসবাস স্হল কিন্তু বড় দুঃখের সহিত বলতে হচ্চে আজ আমাদের যুব প্রজন্ম নীজের মাতৃভাষা থেকে সরে গিয়ে অসমীয়া হিন্দি ও ইংরাজি ভাষার দিকে ঝুকে পড়ছে। আজ বাংলা ভাষা তাদের কাছে হাস্যস্বরুপ। তার কারণ হিন্দি ও ইংরাজি স্কুলের বাড়ন্ত, অসমীয়া ভাষীদের চাপ খেয়ে আজ বরাকের নতুন প্রজন্মের বাঙালিরা নীজের মাতৃ ভাষা থেকে সরে যাচ্চে।আজ বরাকের মা-বাবারা গর্ব করে বলে আমার ছেলে মেয়ে বাংলা জানে না, সত্যি তখন যেন মনে  কি এক আঘাত লেগে, কিন্তু বলার তো কিছু নেই। তখন আমার মনে হয় যে বাচ্চা নীজের মায়ের ভাষাকে চিনতে পারলো না ,সে কিভাবে নীজের মাকে চিনবে।আরেকটা বিষয় হচ্চে কলকাতা হোক আমার মাতৃভূমি বরাক হোক সব যায়গায়ই আজ কালকের প্রজন্ম বাংলা ভাষা নিয়ে খুব কম পড়তে দেখা যায়, তারা বাংলা ভাষার উপর তেমন জোর দিচ্চে না। এই ভাষার প্রতি তেমন কোনও আগ্রহ নেই তাদের।এরই ফলে বাংলা মাধ্যেম স্কুল গুলো মার খাচ্চে।সত্যি অবাক লাগে কত বাংলা মাধ্যেম স্কুল আজ বন্দের মূখে ।
আজকে অবাক লাগে যখন যুব সমাজ ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯ মে কি তা জানে না? বা  এই দিনকে তারা তেমন গুরুত্ব দেয় না।লেখায় বসে একটা কথা বেসে উঠলো চোখের সামনে, আমাদের পরিবার আমাদের অঞ্চলের এক শিক্ষিত মুসলিম পরিবার । আমাদের এখানে এরকম শিক্ষিত একটা মুসলিম পরিবার খুব কমই দেখা যায়।আমাদের পরিবার শত শতাংশ শিক্ষিত , তাই আমাদের পরিবার ইংরাজি শিক্ষীত সবাই আমার বাবা একজন ল্যাকচারার ইংরাজি সাহিত্য বিভাগের ও আমার কাকু সিনিয়র বিজ্ঞানী হিসাবে আমিরিকায় কর্মরত ,আর আমরা সবাই মানে আমরা ভাই বোন ইংরাজি শিক্ষায় শিক্ষীত , আমিও আমার একমাত্র ছোট বোন আমরা গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা (ইংরাজি) নীয়ে এবং আমার আরেক ভাই চার্টাট এ্যাকাউন্টেনসি(C.A) সাথে এম কম(M.com) আর ছোট ভাই দশম শ্রেণীতে পড়ছে ইংরাজি মাধ্যমে পড়াশুণা করছি।কিন্তু আমরা সবাই ইংরাজি শিক্ষীত হয়েও আমার বাবা একজন ইংরাজি বিভাগের অধ্যপক হয়ে আমাদেরকে তিনি বাংলা ভাষা পুরাপুরি জুর দিয়ে শিখিয়েছেন।আমরা সবাই ইংরাজি থেকে ও বাংলা ভাষায় দক্ষতা ওনেক বেশী।
বর্তমানের    জৈব প্রজাতির মতো ভাষারও জন্ম, মৃত্যু, বেড়ে ওঠা, বুড়ো হওয়া এবং মরে যাওয়া স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু ভাষাবিদেরা লক্ষ করেছেন যে গত শতাব্দী থেকে বিপন্ন কিংবা মৃত ভাষার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট ৪২ হাজার ১৯২টি ভাষার মধ্যে পৃথিবীতে এখন মাত্র ছয় হাজার ভাষা জীবিত। এবং এখন যে হারে ভাষা অবলুপ্ত হচ্ছে, তাতে আগামী ১০০ বছরে ৫০ শতাংশ ভাষা হারিয়ে যাবে। অর্থাৎ, প্রতি দুই সপ্তাহে মৃত্যু হবে অন্তত একটি ভাষার।ভাষার স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে তেমন চিন্তার কিছু নেই। অনেক সমৃদ্ধ ভাষা যেমন সংস্কৃত, লাতিন বা গ্রিকের স্বাভাবিক ‘মৃত্যু’ হয়েছে,তাতে এমন কিছু ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি। কারণ, এই ভাষাগুলো আবার অন্য ভাষা তৈরি করেছে বা অন্য ভাষায় ছড়িয়ে গেছে। যেমন সংস্কৃত থেকে উৎপত্তি হয়েছে ভারতের অনেক ভাষা, ব্যবহারিক লাতিন থেকে এসেছে রোমান ভাষাগুলো আর প্রাচীন গ্রিক থেকে তৈরি হয়েছে আধুনিক গ্রিক ভাষা।ভাষার অস্বাভাবিক মৃত্যুটাই ভাবার বিষয়। কোনো ভাষা যদি অন্য ভাষার আক্রমণে নিহত হয় বা সে নিজে আত্মহত্যা করে, কিংবা হঠাৎ করে তার ভাষাভাষীদের মৃত্যুর কারণে সে হারিয়ে যায়, তাহলে সেই ক্ষতি আর পূরণ হয় না। ইংরেজির বিরুদ্ধে যে ভাষা হত্যার অভিযোগ আনা হয়, সে প্রসঙ্গে ডেভিড ক্রিস্টালদের মতো ভাষাবিদেরা বলেন, ইংরেজি নিজ গুণেই শক্তিশালী এবং তার শক্তিমত্তার কারণে অন্য দু-একটা ভাষা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তো সেটা তার দোষ নয়। কিন্তু ফিলিস্তিন বা পেনিকুকদের মতো সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ভাষাবিদদের মতে, ইংরেজি ভাষার বর্তমান দৌরাত্ম্য কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ফল নয়। এই ভাষাটিকে ইংল্যান্ড-আমেরিকার মতো দেশগুলো সুপরিকল্পিতভাবে শোষণের হাতিয়ার করার জন্য সর্বগ্রাসী করে তুলেছে। ফলে ইংরেজির চাপে এখন কোনো ভাষার মৃত্যু হলে তাকে আর স্বাভাবিক মৃত্যু বলা যাবে না, ‘হত্যা’ই বলতে হবে। যেমন আয়ারল্যান্ডে ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসকেরা সুপরিকল্পিতভাবে আইরিশ ভাষাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছেন।একটি ভাষার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা যায় তখন, যখন সেই ভাষাভাষী মানুষেরা স্বেচ্ছায় কোনো লাভের আশায় কিংবা অনধাবনতাবশত ‘কমল-কানন’ ভুলে ‘শৈবাল’ নিয়ে মত্ত হয়ে পড়ার ফলে তাদের ‘মাতৃভাষা-রূপ খনি’টি হারিয়ে ফেলে। ভাষাবিদ সালিকোকো মায়োন বলেছেন, এসব ক্ষেত্রে অনুরোধ করলেও তারা তাদের ভাষা ধরে রাখতে চায় না। প্রাকৃতিক কারণেও অনেক ভাষা নিশ্চিহ্ন হয়। জাতিসংঘের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সুনামিতে বঙ্গোপসাগরের যে দ্বীপগুলো নিশ্চিহ্ন হয়েছে, তাতে অন্তত ছয়টি ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।তাই আধুনিকতার নামে বাঙালি যত আত্মবিচ্ছিন্ন হবে ততই তার ভাষাও সংকটে পড়বে। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে পৃথিবীর সব ভাষাই বাঙালির রান্নাঘর থেকে শোবার ঘরে ঢুকে পড়েছে আজ। ইন্টারনেট, টিভি, সাইবার সবই আজ ঘরে। হিন্দি ভাষাটাও গান-নাচ-চলচ্চিত্রের হাত ধরে বাঙালির কান থেকে মগজে, চোখ থেকে কলজেতে অনুপ্রেবশ করেছে। অবলীলায় বাঙালির প্রতিমুহূর্তের ভাব বিনিময়ের ভাষায় হিন্দি শব্দ (মূলত আরবি, ফারসি) ইংরাজি শব্দ বাতাসের মতো ঘুরছে। এতে বাংলা ভাষার শব্দ ভাণ্ডারের সমৃদ্ধি ঘটলেও মাতৃভাষার নিজস্বতা হারাচ্ছে। তাই সতর্ক হওয়া দরকার।

এই বিশ্বের কোনো ভাষাই কেবল আবেগ আর ভালোবাসার উপর টিকে থাকে না। আবার পুরোপুরি শক্তিমত্তার ওপরও তার অস্তিত্ব নির্ভরশীল নয়। পৃথিবীতে কত গুরুত্বপূর্ণ ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের ভাষা মেসোডোনিয়ায় আজ ক’জন বলেন? পৃথিবীর প্রধান তিনটি ধর্মপ্রণেতার একজন যীশু যে-ভাষায় কথা বলতেন সেই ভূমধ্যসাগরীয় আরামাইক তখন ওই অঞ্চলের প্রধান ভাষাগুলোর একটি–আজ প্রায় বিলুপ্ত। কিংবা আরেক দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী, বিশ্ববিজয়ী চেঙ্গিস খানের ভাষায় একেবারেই সামান্য কিছু লোক কথা বলেন। হয়তো অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সেই ভাবে কি একদিন আমার মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা বিলুপ্তের পথে হেঠে যাবে?এটা আমার দীর্ঘশ্বাস নয়; ভয়। ভয় হয়, এই বিস্মৃতিপ্রবণ জাতি খুব সহজে নিজেকে ভুলে যাবে না তো! প্রয়োজন নেই বলে নিজের ভাষা, মাতৃভাষাটাকে হারিয়ে ফেলবে না তো! আর এজাতি ভাষা হারানোর আগে বা বাঙালি জাতিকে মেরুদণ্ডহীন করার আগে বিশ্ব বাঙালি জাতি কি একটু ভাববে বরাকের বাঙালি জাতি নীয়ে?

 

লেখক- আবু নছর আব্দুল হাই ছিদ্দেকী। সাংবাদিক ও লেখক।
Permanent Address : village-Bosla,P.S -Badorpur , District-karimganj assam, abu786siddique@gmail.com.

কেড়ে নাও নোবেল

 

মির্জা শহীদুল্লাহ বাবুল

—————————————–

মগমুল্লুকে গুলি করে মারে শত 
পাখীর মত শিশু-পুরুষ-নারী ,
নাফের জলে লাশ‌েরা ভাসে
পালিয়ে বাঁচে‌ মানুষ বসত-ভিটে ছাড়ি।

ধর্ষিত আজ নারী সমাজ
বর্বর জাতির জান্তা হাতে ,
নৃশংসতায় বিশ্ব কাঁদে
এরদোয়ানের পত্নীর সাথে ।

গ্রামের পর গ্রাম জ্বালায়
হাতুড়ি দিয়ে পিটায় মৃতদেহ ,
রাখাইনে হিংস্রতারি স্বরূপ দেখে
বিশ্ববাসীর বসে নাহি কেহ ।

জাতিসংঘ নিন্দা করে বার্তা ছাড়ে‌
রোহিঙ্গা নিয়ে সারা বিশ্বময় ,‌
শান্তি দূতী নয়তো বেটি
সমান তালে মিথ্যে কথা কয় ।

আর নহেতো বার্তা কোন
মোড়ল বিশ্বে রইলো অনুরোধ ,
বোমা ছাড়েন জান্তা মারেন ‌
আজি‌ করেন বার্মা অবরোধ ।

খেয়ে বাঁচতে দুধ চুষে আজ
শিশু পড়ে মৃত মায়ের বুকে ,
এইনা দেখে কাঁদে সৃষ্টি
জগত কেমনে নীরব থাকে ।

হাতে কেনো এখনো তার
শান্তি নোবেল, মানুষ করছে ছি-ছি ,
দানেন খেতাব রক্ত খেকো
নোবেল কাড়েন , বলেন অ–সুচি ।

Scroll To Top