শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয়

বিভাগ: সম্পাদকীয়

Feed Subscription

ওপার আর এপারে মানবিক বিপর্যয়

মো. ওসমান গনি:: বাংলাদেশ-মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) সীমান্তের ওপার আর এপারে সৃষ্টি হয়েছে এক মানবিক বিপর্যয়। আগুনে ধ্বংস হওয়া বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষের ঘরবাড়ি, জমিজিরাত আর স্বজনদের লাশ পেছনে ফেলে পাগলের মতো ছুটে আসছে রোহিঙ্গারা। তাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ, অগ্নিদগ্ধ, বোমায় ঝলসে যাওয়া কিংবা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত। অসংখ্য মুসলমান মহিলা এমনকি কিশোরী হারিয়েছে ইজ্জত-সম্ভ্রম। আবার পালানোর পথেও গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তে অসংখ্য স্থল মাইন পুঁতে রেখেছে মিয়ানমার সেনা ও সীমান্তরক্ষী বিজিপি। যাতে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার পর কেউ আর ফিরতে না পারে। স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়ে মারা পড়ছে কিংবা পঙ্গু হচ্ছে অনেকে।

হাজার বছর ধরে বসবাসরত আরাকানী আদিবাসী ধর্মপ্রাণ ও শান্তিপ্রিয় জাতিগোষ্ঠী মুসলমান রোহিঙ্গাদের জীবন এবং মহিলাদের ইজ্জত-সম্ভ্রম একেবারেই বিপন্ন। কঠিন সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে সমগ্র রোহিঙ্গা জাতি। নিরীহ রোহিঙ্গাদের একটিই মাত্র অপরাধ তারা মুসলমান। মুসলমানদের সমূলে উচ্ছেদ করে মগবৌদ্ধ শাসকরাই সেখানে কায়েম করতে চায় মগের মুল্লুক! সেনাসদস্যদের নিষ্ঠুরতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে আরাকান। তাদের হত্যার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে গানপাউডার, পেট্রোল ও এই ধরনের আগ্নিবোমা। মুসলমানদের গ্রাম-পাড়াগুলোতে এখনো আগুন ধরিয়ে দেওয়া বাড়িঘরের সঙ্গে মসজিদ, মাদরাসা-মক্তব, পবিত্র কোরআন-হাদিস সমেত লাইব্রেরি ইত্যাদি ধ্বংস করে দিয়ে ইসলামের নাম-নিশানা মুছে ফেলা হচ্ছে। হেলিকপ্টার দিয়ে আকাশে ঘন ঘন চক্কর দিচ্ছে সেনারা। সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্মী সীমান্তরক্ষী বিজিপি, গোয়েন্দা, পুলিশ, নাডালা বাহিনী এবং চরম উগ্র মগদস্যু যুবকরা।

পাশবিকতার শেষ নেই। যৌথবাহিনী একের পর এক বর্গী স্টাইলে হামলে পড়ছে নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ঘরবাড়িতে। গত ১১ আগস্ট থেকে সীমিতভাবে এবং ২৪ আগস্ট কালরাত থেকে সুসংগঠিতভাবেই চলছে এহেন রোহিঙ্গা নিধন ও দমনাভিযান। হিংস্র হায়েনার মতো তাদের উন্মত্ততা থেকে কেউই রেহাই পাচ্ছে না। আরাকানজুড়ে মুসলমান বেছে বেছে চলছে সে এক অবর্ণনীয় নারকীয়তা, পাশবিকতা। এহেন বর্বর ও ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা, নিপীড়ন, বিতাড়নে লাখ লাখ নর-নারী শিশু-বৃদ্ধ আজ ঘরছাড়া। চলমান রোহিঙ্গা দমনাভিযানে গত দু’সপ্তাহে অনেক লাশ জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিংবা ভেসে গেছে বাংলাদেশ- মিয়ানমার (আরাকান রাজ্য) সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে। দেশটির বন-জঙ্গল, পাহাড়-টিলা, খাল-বিলে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। উত্তর-পশ্চিম আরাকানের সঙ্গে লাগোয়া ২৭১ কিলোমিটারব্যাপী বান্দরবান-কক্সবাজারের ৩০টিরও বেশি স্থল ও নৌপথের সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষায় আছে এ মুহূর্তে কমপক্ষে আরো দেড় থেকে দুই লাখ রোহিঙ্গা। এ যাবৎ কোনোমতে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা পৌনে দুই লাখ হতে পারে। যাদের বেশিরভাগই মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ও আহত।

এদিকে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে পারে তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তারা দীর্ঘ এক মাস ধরে অনাহারে, রোগে-শোকে এখন ক্লান্ত ও অসাড়-অবসন্ন। তাদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয়, চিকিৎসা এমনকি টয়লটের অবস্থা খুবই নাজুক। যেভাবে দলে দলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে সঙ্কট মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। আর অন্যদিকে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের খলনায়িকা অং সান সু চি নির্বিচারে রোহিঙ্গা গণহত্যা-নিপীড়নে অনুতাপের পরিবর্তে সাফাই গাইছেন আর বলছেন, ‘রাখাইনে (আরাকান) সবাইকে আমরা রক্ষা করছি, সেখানে সকল নাগরিক নিরাপদ। বিশ্বের মিডিয়া ভুয়া খবর ও ছবি প্রকাশ করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিচ্ছে!’ সু চির মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে এখন বিশ্বের দেশে দেশে উচ্চারিত হচ্ছে প্রতিবাদ-ঘৃণা-ধিক্কার।

এদিকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ ও অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের মতে, আরাকান রাজ্যের পরিস্থিতি অগ্নিকুন্ডের মতোই। কেউই সেখানে নির্যাতন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। চরম দলন-পীড়নের মুখে যে যেদিকে পারছে সেদিকে ছুটছে। পেছনে তাকানোর পরিস্থিতি নেই। প্রতিদিন তারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে অথবা বিক্ষিপ্তভাবে পালিয়ে এসে ঠাঁই নিচ্ছে সীমান্তের দিকে। জিরো লাইনে এখনো অপেক্ষায় আছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। অনাহার-অর্ধাহারে, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের অভাবে তাদের দুঃখ-দুর্দশার সীমা নেই। রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের টেকনাফের নাইটংপাড়া, লেদা, জাদিমুরা, হ্নীলা, কানজারপাড়া, হোয়াইক্যং, উখিয়ার মনখালী, ছেপটখালী, বালুখালী, রহমতের বিল, আনজুমানপাড়া, ধামনখালী, পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির আমবাগান, তমব্রু, ঘুমধুম, আশারতলী, দোছড়িসহ ৩০টিরও বেশি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। দিন দিন বিপন্ন রোহিঙ্গাদের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তজুড়ে কড়া টহল দিয়ে যাচ্ছে। এ যাবৎ কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে পুশব্যাক করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফও) বাংলাদেশ মুখপাত্র দ্বীপায়ন ভট্টাচার্য মিডিয়াকে জানান, জাতিসংঘ কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলেন যে, ১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বাংলাদেশে আসতে পারে। এখন তারা মনে করছেন এ সংখ্যা তিন লাখে পৌঁছাতে পারে। যারা আসছে সবাই অপুষ্টির শিকার। সম্ভবত এক মাসেরও বেশি সময় যাবৎ তারা প্রয়োজন মতো খাবার পায় না। তাদের ক্ষুধার্ত ও ভীত-সন্ত্রস্ত দেখাচ্ছে। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুরা নৌকাযোগে এবং স্থল সীমান্তের অনেক জায়গা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বিপুলসংখ্যক উদ্বাস্তুর ন্যূনতম চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে ত্রাণ সংস্থাগুলো।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
ganipress@yahoo.com

আনুগত্য ও ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহা

ঈদ মোবারক। ঈদ মোবারক। ঈদ মোবারক। আজ সোমবার ১০ জিলহজ। পবিত্র ঈদুল আযহা।

আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। সাধারণভাবে এটি কোরবানির ঈদ হিসেবে পরিচিত। এই দিনে ঈদের নামাজ শেষে সামর্থ্যবান মুসলমানরা উট, দুম্বা, গরু, মহিষ, ছাগল ইত্যাদি পশু কোরবানি দেন। কোরবানির পশুর গোশত তিন ভাগ করে এক ভাগ আত্মীয়স্বজনকে, আরেক ভাগ গরিবদের মধ্যে বণ্টন ও বাকি এক ভাগ নিজেরা খাওয়া সুন্নত।

৯ জিলহজ ফজরের নামাজ থেকে ১৩ জিলহজ আসরের নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবির উচ্চারণ করা জরুরি। ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’ ঈদুল আযহার দুই রাকাত নামাজ জামাতে আদায় করা ওয়াজিব।

ঈদুল আজহা মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আ. ও তার পুত্র হজরত ইসমাইল আ.-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগের ঘটনা। ৮৫ বছর বয়সে আল্লাহ হজরত ইবরাহিম আ.-কে সন্তান দান করলেন। আবার আল্লাহর পক্ষ থেকে সে সন্তানকেই কোরবানি করার নির্দেশ এলো স্বপ্নযোগে। পরীক্ষায় পিতা-পুত্র দুজনেই উত্তীর্ণ হলেন। একজন নিজ পুত্রকে কোরবানি করার জন্য, আরেকজন নিজে কোরবানি হওয়ার জন্য মাথা নুয়ে দিয়ে আল্লাহর নির্দেশ পালনের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করলেন।

হজরত ইবরাহিম আ. স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিমের (আ.) এই আত্মত্যাগের মানসিকতাকে কবুল করে নিলেন এবং অপার মহিমায় হজরত ইসমাইলের (আ.) পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানির নজির প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে এই আদেশ ছিল ইবরাহিম আ.-এর জন্য পরীক্ষা।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই হযরত ইবরাহিম আ.-এর সুন্নত হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানির বিধান এসেছে ইসলামি শরিয়তে। ইসলামি শরিয়তে সামর্থ্যবানদের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করার পরম আনন্দ থেকেই পালিত হয় ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ, যা বকরা ঈদ নামেও বহুল পরিচিত। ধর্মের রীতি অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো দিন কোরবানি করা যায়। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহার দিন কোরবানি করাকেই উত্তম ঘোষণা করেছেন।

ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছাবাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

মহামিলনের মহাসোপান

অধ্যাপক মির্জা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। অর্থাৎ ইসলামের পাঁচ ফরজের অবিচ্ছেদ্র একটি ফরজ। প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য জীবনে একবার হজ ফরজ। আজ ৯ জিলহজ্ব বৃহস্পতিবার পবিত্র হজ দিবসে আরাফার ময়দানে সারা দিনমান অবস্থান কওে হজের অন্যতম ফরজ আমন গ্রহণ করার দিন। এ দিন আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামেরা থেকে দুপুরতক খুৎবাই হজ দেয়া হয়। যে কুৎবার পরপরই আজান হবে। এরপর আজানের মাধ্যমে দুবার ইকামতে জোহর এবং আছর নামাজ আদায় করবেন সমবেত আল্লাহর মেহমানগণ। তবে দুই ওয়াক্ত নামাজই হবে কসর অর্থাৎ দুই রাকাত করে।
এই আরাফাত ময়দানে জাতি হিসেবে মুসলমানদেও আদি পিতা হযরত আদাম আলাইহেস সালাম ও আদি মাতা পিতা হযরত হাওয় আলাইহেস সালাম এর দীর্ঘ বিচ্ছিন্ন জীবনের পর পুনরায় এক সাথে হওয়ার স্থান। আর আজ বিশ্ব মুসলিদেও মহামিলনে এই পবিত্র আরাপাতেই হাজির থাকবে প্রায় অর্ধ কোটি মুসলমান।

লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক, লাব্বায়েক লা শারীকা লাকা লাব্বায়েক, ইন্নাল হামদা ওয়া নি’মাতা, লাকা ওয়াল মূলক, লা শারীকা লাকা…। (আমি হাজির হয়েছি, হে আল্লাহ, আমি হাজির হয়েছি, হ্যাঁ আমি হাজির হয়েছি, তোমার কোন শরীক নেই, আমি হাজি হয়েছি, নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা এবং নিয়ামত সমূহ তোমারই। আর তোমারই জন্য সকল ক্ষমতা, তোমার কোন অংশীদার নেই)”।’ ধ্বনিতে ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান যেন অর্ধকোটি মসিলমানের আলআরহর নৈকট্য লাভের এক মহাসোপান। যেটাকে বলা হয়ে থাকে “… আরাফা।” ফজরের নামাজের পর তকবীর ই তাশরকি এবং তিনবার উচ্চস্বরে তালাবিয়া পাঠ করা হয়। তাশরিক ১৩ই জিলহজ্ব আছরের নামাজ পড়া পর্যন্ত ওয়াজিব।

আরাফাতের কাচাকাছি“জাবলে রহমতে”র কাছে অবস্তান নিতে পারলে ভালো। জোহর এবং আছরের নামাজ মসজিদে নামিরায় এক সঙ্গে আদায় করতে নিদিষ্ট শর্ত অনুযায়ী আদায় করতে পারা উত্তম। তবে জামাতে শরিক হতে না পাড়লেও নিজ নিজ তাবুতে যথা সময়ে নামাজ আদায় করা যায়। উল্লেখ করা যেতে পাওে বাংলাদেশের বেশির ভাগ তাবু সবুজ জিয়ায় নম গাছের মাঝে থাকে। আরাফাতের ময়দানে হাজীরা আল্লাহর যিকির ও তছবীহ তাহলীল থাকেন। এবং আল্লাহর কাছে যা চান তা-ই পান। চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে অসমানের দিকে দু হাত তুলে ফরিয়াদ এবং তা যদি হয় সমষ্টিক ভাবে মোনাজাতে আরো বেশি কার্যকর হয়। এর পর তাবু থেকে বেড়িয়ে খোলা আকাশের দিকে দুহাত তুলে গুনাহ মাফ চাইলে সারা জীবনের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

সারাদিনমান আরাফাতের দিকে কাটিয়ে ঠিক সূর্যাস্তের পরপরই হাজীগণ তালবিয়া পাঠ করতে করতে বা আল্লাহর যিকির মুখে মুখে মুজদালিফার দিকে রওনা হন। এ সময় দ্রুত হাটতে গিয়ে খেয়াল রাখতে হয় যাতে অন্য হাজিরা কষ্ট না পান। আরাফাতের ময়দান থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূওে মোজদালিফায় পৌছে এক আযানে মাগরিব ও এশারের নামাজ আদায় করা হয়। মোজদালিফায় আসার সময় মাঝ পথে মাগরিবের নামাজ পড়া যায়না। এ মোজদালীফায় রসুলে পাকের অনুসরণে সুন্নতে মোয়াককাদা আর আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য খোলা আকাশের নিচে ঘুমিয়ে রাত যাপন করতে হয়। যে ঘুম সম্পর্কে বিভিন্ন রেবায়েত প্রচলিত আছে। যার একটি হ”্ছে শুয়ার সাথে সাথে মরনসম ঘুম হয়। এ মুজদালিফা তেকে পরের দিন জামারায় গিয়ে শয়তানকে মারার জন্য ৭০টি পাথর খুঁজে সংরক্ষিত রাকত হয়।

মোজদালিফায় রাত যাপন শেষে সূর্যদয়ের সামান্য পূর্বে মিনার উদ্দ্যেশ্যে রওনা। এখানে যে কোন স্থানে রাত্রি যাপন করা গেলেও আশ-আব-ই হারাম এ অবস্থান করতে পারা উত্তম। কিন্তু আযাবের স্থান ওযাদিয়ে মুহাসসরে অবস্থান করা যায় না। এ কারনে মুজদালিফা ত্যাগের সময় এ জায়গাটি দ্রুত অতিক্রম করা হয়।

মিনায় পৌছে প্রতমে জামারায়ে আকাবায় ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও শাহাদাৎ আঙ্গুলি যোগে সাতটি কংক্রর নিক্ষেপ। এর মাধ্যমে ওয়াজিব আদায় হয়। যেনে রাখা উচিত প্রতিনিধিও কংকর নিক্ষেপ করতে পারে এ ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিজের কংকরগুরেঅ আগে নিক্ষেপ কর্ েএ দিনের তৃতিয কাজ কোরবানি করা। চতুর্থ কাজ হলো কিরান ও তামাতু আদায়কারী হাজীগণ মাথা মুন্ডন করে ইহরামের কাপড় ছেড়ে গোসল শেষে সাধারণ পোষাক পনিরধান করতে পারে। হজের হলক মিনায় করা সুন্নত। মহিলা হাজীগন মাথার চুলের চতুর্থাংশের এক ইন্ঞি পরিমান কেটে নেন। ১১ জিরহজ আবারোজামারায় গিয়ে প্রথমে সুগবা, অত:পর জামারায়ে উসতা এবং সর্বশেষ জামারায়ে আকাবায় সাতটি কওে কংকর নিক্ষেপ কওে তাকেন। ওই রাতে মিনা থেকে মক্কা শরিফে ফিরে শেষ তাওয়াফ কওে থাকেন। অথবা মিনা থেকে ১২ জিলহজ্ব তারিখে ফিরে একই নিয়মে বিদায়ী শেষ ও ফরজ তাওয়াফ কওে থাকেন। যারা ১১ তারিকে মক্কায় আসেন তারা আবার ১২ তারিকে মক্কা শরীফ থেকে খনায়ে কাবার পূর্বদিকের সুরঙ্গ পথ পেরিয়ে ৯ কিলোমিটার দূরুত্ব পায়ে হেটে মিনায় গিয়ে আবারো জামারায় শয়তানদেও পাথর নিক্ষপ করে আসেন। এমনটা আমরা করেছিলাম। এ পতে যেতে আসতে হাজীরা তীব্র গরমের অচেতন হয়ে পড়েন। যা আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে তাদেও কবুল কওে নেয়া হয বলে যানা যায়।

মিনায় কোরবানির পর মাথা মুন্ডন কওে ইহরাম ছেড়ে সাধারণ কাপড় পরিধানকে তাহাকুলে আসগর বলে। এ সময় স্ত্রী মিলন ছাড়া সব কিছু হারাম হয়ে যায়। এর পর কাবা শরীফ গিয়ে তাওয়াফে ফরজ বা ফরজ তাওয়াফ করার মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্টানিকতা শেষ হয়। দেশে ফিরার পূর্বে হাজীগণ শেষ বাওে মতো বিদায়ী তাওয়াফ কওে থাকেন।

হজে গমনকারী প্রতিজন হাজীসাহেবান যাতে এসব আরকান-আহকাম সুস্ত শরীরে করতে পারেন এ জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, সবার কাছে লাখো দোয়ার আবেদন রেখে শেষ করলাম।

 

লেখক: অধ্যাপক মির্জা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, চেযারম্যান-শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্র চট্টগ্রাম ও প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা (অব:)-চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

সূত্র- দৈনিক পূর্বদেশ ৩১.৮.২০১৭

শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি

নিউজচিটাগাং ::শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি। ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি॥ শরৎ, তোমার শিশির-ধোওয়া কুন্তলে. বনের-পথে-লুটিয়ে-পড়া অঞ্চলে. আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি॥ মানিক-গাঁথা ওই-যে তোমার কঙ্কণে. ঝিলিক লাগায় তোমার শ্যামল অঙ্গনে। কুঞ্জছায়া গুঞ্জরণের সঙ্গীতে. ওড়না ওড়ায় একি নাচের ভঙ্গীতে,. শিউলিবনের বুক যে ওঠে আন্দোলি

ভাদ্র ও আশ্বিন মাস মিলে শরৎ বাংলার ষড়ঋতুর তৃতীয় ঋতু। শরৎকে ইংরেজিতে “অটাম” বলা হলেও উত্তর আমেরিকায় একে “ফল” হিসেবে ডাকা হয়। পৃথিবীর ৪টি প্রধান ঋতুর একটি হচ্ছে শরৎকাল। উত্তর গোলার্ধে সেপ্টেম্বর মাসে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে মার্চ মাসে শরৎকাল গ্রীষ্মকাল ও শীতকালের মধ্যবর্তী ঋতু হিসেবে আগমন করে। এসময় রাত তাড়াতাড়ি আসে এবং আবহাওয়া ঠাণ্ডা হতে থাকে। এই সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পত্রঝরা বৃক্ষের পাতার ঝরে যাওয়া।

শরৎকাল বাংলাদেশের কোমল, স্নিগ্ধ এক ঋতু। শরৎ ঋতুর রয়েছে স্বতন্ত্র এক বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশের ছয়টি ঋতু রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল শরৎকাল। বর্ষা কন্যা শ্রাবণ অশ্রু সজল চোখে বিদায় নেয়। ভাদ্রের ভোরের সূর্য মিষ্টি আলোর স্পর্শ দিয়ে প্রকৃতির কানে কানে ঘোষণা করে শরতের আগমন বার্তা। থেমে যায় বর্ষাকাল।

শরৎ আকাশের সাদা মেঘের ভেলার নাম। ষড়ঋতুর দেশ আমাদের বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর তৃতীয় ঋতু শরৎ। শরতে তালের সঁদা গন্ধে ভরে যায় গাঁয়ের প্রতিটি ঘর। ভাদ্র আর আশ্বিন এ দুই মাস শরৎকাল। আষাঢ় মাস শেষ হয়ে শ্রাবণের ক’দিন পার হলেই আকাশ আর বিলের অবস্থা পাল্টে যায়। এক শান্ত, সমাহিত ভাব নেমে আসে। তখন আকাশে সাদা সাদা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়ায়। বিলের পানির ঘোলা ভাবটা কমে যায়। পানির ঢেউ কম থাকে। মৃদু বাতাসে তখন বিলের পানি কাঁপে। মনে হয় যেন চিকন হেউলি পাতার নকশি হোগলা।

ঋতু পরিক্রমার বাংলা ভাদ্র ও আশ্বিন মাস নিয়ে শরৎকাল। ইংরেজি মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত শরৎ ঋতুর পথচলা। শরৎকে বলা হয় শুভ্রতার প্রতীক! সাদা কাশফুল, শিউলি, স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না, আলোছায়ার খেলা দিনভরথ এইসব মিলেই তো শরৎ। শরৎকালের দ্বিতীয় মাস অর্থাৎ আশ্বিনের শুরুর দিকেই শরতের আবির্ভাবটা লক্ষণীয়। শরতের স্নিগ্ধতা এক কথায় অসাধারণ! জলহারা শুভ্র মেঘের দল যখন নীল, নির্জন, নির্মল আকাশে পদসঞ্চার করে তখন আমরা বুঝতে পারি শরৎ এসেছে। শরতের আগমন সত্যিই মধুর। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ আর বর্ষায় অঝোরধারায় শ্রাবণ ঢলের পর আসে শরতের আলোছায়ার খেলা; এই মেঘ, এই বৃষ্টি, আবার এই রোদ।

শরতের অন্যতম বড় আকর্ষণ কাশফুল! নদী তীরে বনের প্রান্তে কাশফুলের রাশি অপরূপ শোভা ছড়ায়। এ অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করেনি এমন মানুষ খুঁজে মেলা ভার। গাছে গাছে শিউলির মন ভোলানো সুভাষে অনুভূত হয় শরতের ছোঁয়া। শরতের মেঘহীন আকাশে গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুলের মতো সাদা মেঘের ভেলা কেড়ে নেয় মন। শরৎকালে কখনো কখনো বর্ষণ হয়, তবে বর্ষার মতো অবিরাম নয়। বরং শরতের বৃষ্টি মনে আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। চারপাশের শুভ্রতার মাঝে বৃষ্টির ফোঁটা যেন আনন্দ-বারি! বৃষ্টি শেষে আবারো রোদ। দিগন্তজুড়ে একে সাতরঙা হাসি দিয়ে ফুটে ওঠে রংধনু।

শরতের বৈশিষ্ট্য হলো- সাদা শিউলি ফুল, ঘন কাশবন, নীল আকাশে স্বচ্ছ মেঘের ভেলা আর ঘাসের ওপর জমে থাকা শিশিরবিন্দু। নগরে বসে এ বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করাটাই বৃথা। শরতের কিছুটা ছিটেফোঁট এখনো অবশিষ্ট আছে গ্রামবাংলার মাঝে। শরতের সৌন্দর্য খুঁজে পেতে হলে ফিরে যেতে হবে মাঁটির কাছে, নাগরিক আমাদের উৎস প্রোথিত আছে যেখানে।

নিখাদ বন্ধনের নিঃসংকোচ সম্পর্ক মানে বন্ধুত্ব

মির্জা ইমতিয়াজ শাওন:: নিখাদ বন্ধনের নিঃসংকোচ সম্পর্ক মানে বন্ধুত্ব। ভালোবাসা, নির্ভরতা আর খুনসুটির এক অদ্ভুত বন্ধন; বন্ধু। সুসময় কিংবা দুঃসময়ে বন্ধুর আপত্য স্নেহ আর ভালবাসার হাত বুকে সাহস যোগায়। বন্ধু আর বন্ধন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। বন্ধুত্ব মানেই যেন হৃদয়ের সবটুকু আবেগ নিংড়ে, ভালোবাসা দিয়ে মন খুলে জমানো কথা বলা। বন্ধু শব্দের মাঝে মিশে আছে নির্ভরতা আর বিশ্বাস।

আজ বন্ধু দিবস। প্রতি বছর আগস্টের প্রথম রোববার এই দিবসটি পালিত হয়। পরিবারের পাশাপাশি যে শক্তির বলয় আমাদের প্রতিনিয়ত নানা কিছু থেকে বাঁচিয়ে নিয়ে আসে, তা হল বন্ধুরা।
মানুষের সঙ্গে মানুষের সুন্দর সম্পর্ক সৃষ্টির এক অনন্য দিন আজ। একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা, উপকারী মনোভাব, বন্ধুত্বের মাধ্যমে নিজের বিকাশ, আনন্দ, দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগী করে নেওয়ার একটি দিন। আগস্টের প্রথম রবিবার বিশ্বজুড়ে বন্ধু দিবস পালন করা হয়। সেই হিসেবে আজ রবিবার বিশ্ব বন্ধু দিবস।

বিশ্ব বন্ধু দিবস একটি সাংস্কৃতিক কৃষ্টি ও আনন্দঘন দিবস হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদ্যাপিত হয়। কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশেও দিনটি ঘটা করে পালন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ১৯৩৫ সালের আগস্টের প্রথম রবিবারকে বন্ধু দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। ইউরোপ-আমেরিকায় বন্ধু দিবস পালনের রেওয়াজ বেশি হলেও প্রাচ্যেও এর দৃষ্টান্ত অনেক। তবে প্রাচ্যে বন্ধুত্বের ধরন একেবারেই আলাদা। এ যেন রক্তের চেয়েও শক্তিশালী কোনো বাঁধন। বাঙালি বন্ধুর হাত ধরে বড় হয়, একসঙ্গে ভালোবাসা শেখে, সংগ্রামের শপথ নেয়।

বন্ধুর হাতে হাত রেখে হাঁটি, মন খুলে জমানো কথাগুলো খুলে বলি বন্ধুদের।
যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে বন্ধুত্বের ধরণ পাল্টে গেছে বহুলাংশে। যুগ পাল্টালেও বন্ধুত্বের বন্ধন আদি ও অকৃত্রিম। প্রকৃতির চিরন্তণ নিয়মে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে মানুষে-মানুষে, ছেলে-মেয়েতে, ছাত্র-শিক্ষকে, বাবা-মায়ে, পাড়া-প্রতিবেশীতে। জীবনের পথ পরিক্রমায় শৈশব, কৈশর, ছাত্রজীবন, কর্মক্ষেত্রে, সংসার ও সমাজ জীবনে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে অনেকের সাথে।
ডক্টর এ.পি.জে আব্দুল কালাম বলেছিলের একটি ভালো বই একশ জন বন্ধুর সমান । কিন্তু একজন ভালো বন্ধু একটি লাইব্রেরীর সমান ।
মনোবিদ ড. মোহিত কামাল বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিপথে চলে গেছে। অনেকে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে, মাদকের সাথে যাচ্ছে। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, হাত দিয়ে ধরা বন্ধুকে, বলা যে, ‘চল’। এই যে আন্তরিকতা সেটা কিন্তু ফেসবুকে থাকবে না। ফেসবুক আমাদের কিছুটা আর্টিফিশিয়াল করে ফেলেছে। এটির স্থায়িত্ব নাও থাকতে পারে।’

প্রকৃত ও যোগ্য বন্ধু নির্বাচন একটি সঠিক সিদ্ধান্ত জীবনের জন্য প্রয়োজন। বন্ধু নির্বাচনে ভুল করলে জীবনে ছন্দ পতন ঘটে। ছেলে মেয়ে প্রত্যেকেরই উচিৎ সঠিক ও যোগ্য বন্ধু নির্বাচন করা। যে যতটুকু ভার বহন করতে পারে, তার ততটুকু বোঝা উত্তলন করা উচিৎ।

আধুনিক যুগে বন্ধুত্ব ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে দূর তেপান্তরে। গোটা বিশ্ব হাতের মুঠোয় চলে এসেছে প্রযুক্তির কল্যাণে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ যোগাযোগ রাখতে পারছে বন্ধুর সঙ্গে। ফলে বন্ধুত্বের পরিধি আজ বিশ্বময়।

বন্ধু বয়স ও শ্রেণি মানে না। বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে, মায়ের সঙ্গে, বাবার সঙ্গে, ভাইয়ের সঙ্গে, বোনের সঙ্গে। সহপাঠী হোক, হোক সমবয়সী। কোনো তফাৎ সেই বন্ধুত্বের গভীরতায় যদি কোনো খাদ না থাকে। জীবনে প্রথম বন্ধু গড়ে ওঠার স্মৃতি থাকে অমলিন। সময়ের প্রয়োজনে কোনো বন্ধু দূরে সরে যেতে পারে কিন্তু মনের দূরত্ব কখনই তৈরি হয় না। বন্ধুর সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই অমূল্য। স্কুল শুরুর দিনে যে ছেলেটি বা মেয়েটি আপনারা পাশে বসেছিল তাকে কী সহজে ভোলা যায় ? “ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা,
সে কি ভোলা যায়।” সে মুখ ছবিটি এখনো আপনার কাছে চোখ বুঝলেই যেন অন্য এক ভূবন হাজির করে।

পুরানো সেই দিনের কথা
ভুলবি কি রে হায়।
ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা,
সে কি ভোলা যায়।
আয় আর-একটিবার আয় রে সখা,
প্রাণের মাঝে আয়।
মোরা সুখের দুখের কথা কব,
প্রাণ জুড়াবে তায়।
মোরা ভোরের বেলা ফুল তুলেছি,
দুলেছি দোলায়–
বাজিয়ে বাঁশি গান গেয়েছি
বকুলের তলায়।
হায় মাঝে হল ছাড়াছাড়ি,
গেলেম কে কোথায়–
আবার দেখা যদি হল, সখা,
প্রাণের মাঝে আয়।।

>>লেখাটি বন্ধু শিল্পী শাদ ইরশাদকে উৎসর্গকৃত। আর লেখাটি লিখতে গিয়ে যে ক’জন বন্ধুর ছবি চোখের সামনে চলে এসেছে তার অন্যতম দুজন আলী রশিদ, মুহম্মদ ইসমাইল হোসেন। এ ছাড়া সকল বন্ধুর প্রতি রইলো অকৃত্রিম ভালোবাসা…

ঈদুল আজহা আসন্ন মসলাসহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করুন

ঈদুল আজহা আসন্ন মসলাসহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করুন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ না মেনে দাম বেশি রাখলে তার বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত যাতে অন্য ব্যবসায়ীরা আর এটা করতে সাহস না পায়।ঈদুল আজহা আসন্ন। আর কয়েকদিনের মধ্যেই কোরবানির ঈদের কেনাবেচা শুরু হবে। আর এই ঈদকে কেন্দ্র করে অনেকেই নিজগ্রামে, নিজশহরে ঈদ করার জন্য নগর ত্যাগ করবেন।  কিন্তু এই ঈদকে সামনে রেখেই আবারো ঘটছে নানা ধরনের বিপত্তি। সবাই যখন ঈদকে ঘিরে নানা ধরনের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত ঠিক তখনই শুরু হয় এইসব বিপত্তি। বাড়িতে যাওয়ার জন্য যেমন নেই পর্যাপ্ত যানবাহন। ফলে নিমিষেই নিঃশেষ হয়ে যায় টিকিট। বাড়িতে যেতে অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়। এমন কষ্ট করে ও ঝুঁকি নিয়ে যেতে যেতে ঘটে যায় অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আর এইসব ধর্মীয় উৎসব যখন পালন করতে মানুষ নানামুখী প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ঠিক তখনই ব্যবসায়ীরা তাদের স্বার্থকে হাসিল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি নতুন নয়। কোরবানির ঈদে মানুষ বিভিন্নরকম পশু কোরবানি করে, যার রান্নার জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন ধরনের মসলা ও উপাদান। আর এ সুযোগে ব্যবসায়ীরাও মসলা, রসুন, পেঁয়াজ, আদাসহ নানারকম পণ্যকে স্বার্থ পূরণের মূল টার্গেট হিসেবে ধরে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় অতিরিক্ত অর্থ। ফলে তা জোগান দিতে ক্রেতাদের হিমশিম খেতে হয়।
সম্প্রতি বাজারে মসলার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এতে সরকার উদ্বিগ্ন। যদিও বলা হয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে মসলার দাম বাড়লে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমরাও চাই তা হোক কিন্তু আদৌ হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। কারণ অতীতেও দেখা গেছে অস্বাভাবিক হারে মসলাসহ ঈদ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। তখন সরকার থেকে অনেক কিছু বলা হলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তাদের স্বার্থকে ঠিকই হাসিল করতে সক্ষম হয়। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, পণ্যের বাজার সম্পর্কিত নির্দেশনা না মানার ঘটনা সরকারকে উদ্বিগ্ন করেছে। বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি জেলায় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। কোনো ভোক্তা যদি হয়রানির শিকার হয়, তবে অধিদপ্তরকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যদি তাই হয় তবে তা অবশ্যই সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে এটা সত্য। তবে এটা সফল হবে কিনা তাই দেখার বিষয়। কারণ এর আগেও অনেক পদক্ষেপ নিলেও বাস্তবে দেখা যায় তার কিছুই হয় না। ফলে ভোক্তাদের হিমশিম খেতে হয়।  কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দামের সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা বাজারে কোনো ক্ষেত্রেই দামের মিল পাওয়া যায়না।
সার্বিক পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি এই বিষয়টিতে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। কারণ একই পরিস্থিতি বারবার তৈরি হচ্ছে। ঈদ এলেই ব্যবসায়ীরা এইভাবে তাদের স্বার্থকে হাসিল করবে আর তার শিকার হবে জনসাধারণ, এটা হতে পারে না। তাই সবকিছু বিবেচনা করে যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি সমাধান করুন। কারণ ঈদ আসতে আর দেরি নেই। বাজার সি-িকেট এই অসাধু খেলায় মেতে উঠে জনসাধারণকে যেভাবে হয়রানি করে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ না মেনে দাম বেশি রাখলে তার বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত যাতে অন্য ব্যবসায়ীরা আর এটা করতে সাহস না পায়।

মধু মাসেই ১২ ফল

দাদা-দাদি, নানা-নানীর মুখে শুনেছি ১২ মাসে ১২ রকম ফল, আর এই মধু মাসেই ১২ রকমের ফল। সোমবার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে মধুমাসের ফলের মহা উৎসব। ফলফলাদির সমারোহ দেখে সত্যিই মনে হয় আবার এলো মধুমাস।

বাংলা অভিধানে মধুমাস শব্দের অর্থ হলো- চৈত্র মাস। কিন্তু দেশের পত্রপত্রিকায় জ্যৈষ্ঠ মাস নিয়ে কোনো কিছু লিখতে গিয়ে লেখা হয় মিষ্টি ফলের রসে ভরা মধুমাস। এভাবেই জ্যৈষ্ঠ মাসের সাথে মধুমাস বিশেষণটি জড়িয়ে গেছে। অভিধানের মধুমাস অভিধানেই আছে। কিন্তু লোকমুখে এখন জৈষ্ঠই যেন আসল মধুমাস। যদিও এ কথা কারো অজানা নয়, মধু থাকে ফুলে, ফলে নয়। ফাল্গুন-চৈত্র বসন্ত কাল। এ সময় ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় বাংলার প্রকৃতি। বৈশাখ-জৈষ্ঠ গ্রীষ্মকাল। বসন্তের ফুল ফলে পরিণত হয় গ্রীষ্মে এসে।

ছয় ঋতুর বাংলাদেশের প্রকৃতির এ রূপের বদল সত্যি বড় বৈচিত্র্যময়। গ্রীষ্মের শেষ মাস জ্যৈষ্ঠ, এ মাসে ফল পেকে রসের ভারে টইটম্বুর হয়। এদিকে পরিপক্ব হওয়ার আগেই কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে ফরমালিনযুক্ত কিছু কিছু ফল বাজারে আসছে। এসব অপরিপক্ব ফল কর্তন করে বাজারে বিক্রি করছেন অধিকতর মুনাফালোভী কিছু খামারি। আগাম বাজারে আসা ফলের দাম অধিক পাওয়া গেলেও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রেতারা। আবার কাঁঠাল কাঁচা অবস্থায় সংগ্রহ করে বাগানেই বিষাক্ত ইথিলিন দিয়ে পাকানো হয়।

বাজারের একজন ক্রেতা আনিসুর রহমানের কাছ থেকে জানা যায়, আজকাল যেসব ফল পাওয়া যায় তার অধিকাংশ বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে পাকানো হয়। এসব খেলে স্বাস্থ্যের খুব ক্ষতি হয়। চকচকে ফল যা দেখতে ভারি সুন্দর তা না কেনাই ভালো। তাই দেখে-শুনে ফল কিনে খাওয়া উচিত।

অশেষ মহিমান্বিত সৌভাগ্যের রজনী আজ

সৌভাগ্যের রজনী অশেষ মহিমান্বিত পবিত্র শবে বরাত আজ। মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক রাত। পবিত্র কোরআনে এ রাতটিকে লাইলাতুল মুবারক বা মহিমাময় রজনী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ফারসি ‘শব’ শব্দটির অর্থ রাত, আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ ভাগ্য। তাই শবে বরাত শব্দের অর্থ ভাগ্যরজনী বা ভাগ্যের রাত। এ কারণে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে শবে বরাত ‘সৌভাগ্যের রজনী’ হিসেবে পরিচিত।
দিনের আলোকরেখা দিগন্তে মিলিয়ে যাবার পরই শুরু হবে পরম কাঙ্ক্ষিত মহিমাময় এ রাত। এই রাতের গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, বিশেষ এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা আগামী এক বছরের জন্য মানুষের রিজিক, জন্ম-মৃত্যু, ধন-দৌলত, উন্নতি-অবনতি প্রভৃতির ফয়সালা এ রাতেই করা হয়। রাত শেষে ভোর পর্যন্ত এ রাতের ফজিলত অব্যাহত থাকবে।
শবে বরাত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেন, ‘তোমরা এ রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করো এবং পরবর্তী দিনে রোজা রাখো। সূর্য অস্তমিত হওয়ার পরক্ষণ থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নূরের তাজাল্লি পৃথিবীর কাছাকাছি আসমানে প্রকাশ পায়। তখন আল্লাহ পাক বলতে থাকেন, আছে কি কেউ ক্ষমা প্রার্থী? যাকে আমি ক্ষমা করব, আছে কি কেউ রিজিকপ্রার্থী ? যাকে আমি রিজিক প্রদান করব। আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত ? যাকে আমি বিপদমুক্ত করব। আল্লাহপাকের মহান দরবার থেকে প্রদত্ত এই আহ্বান অব্যাহত থাকে ফজর পর্যন্ত।’
বস’ত শবেবরাত হলো আল্লাহপাকের মহান দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময়। আল্লাহপাকের নৈকট্য লাভের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় এই শবে বরাত।
রসূলুল্লাহ (দ.) স্বয়ং পবিত্র লাইলাতুল বরাতে গভীর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থেকে মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করতেন বলে হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন।
তাৎপর্যপূর্ণ এই রাতে বিশেষ বরকত হাসিলের মানসে বিশ্বের মুসলিম সমপ্রদায় রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আসকার, মিলাদ-মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ আদায় ও নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনায় মশগুল থাকেন। এদিন মুসলমানদের প্রায় সবার ঘরে ফাতেহা দেয়ার জন্য আয়োজন করা হয় হালুয়া ও গোশত-রুটিসহ নানা রকম খাবারের। আত্মীয়স্বজন ও গরিবদের মধ্যে এসব খাবার বিতরণ করা হয়।
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে আজ চট্টগ্রামের জাতীয় মসজিদ জমিয়তুল ফালাহ, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ, হযরত গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) জামে মসজিদ শাহ সুফি আমানত খান (রহ.) দরগাহ মসজিদসহ নগরের বিভিন্ন মসজিদ, খানকা ও দরবার সমূহে মিলাদ মাহফিল, জিকির-আসকার, নফল নামাজ ও বিশেষ মোনাজাত হবে।

অভিনন্দন, তবে ‘মামার বাড়ির আবদার’ নয় :

রিয়াজ হায়দার চৌধুরী::
সম্পর্কটা আমাদের ‘মামা-ভাগ্নে’র। তবে পেশাগত কারনে অম্লমধুরও। অভিনন্দনতো বটেই।
আবারো দু’বছর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(চউক) বা সিডিএ চেয়ারম্যানের পদে দু’বছরের বাড়তি দায়িত্ব পেলেন আবদুচ ছালাম।
আবদুচ ছালাম। সিডিএ’র চেয়ারম্যান, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মহানগর শাখার অর্থ সম্পাদক শুধু নন, একজন বিনয়ী সৎ সজ্জন ব্যক্তি । সর্বোপরি নিজের ঘুমকে হারাম করে দিন রাত চরম ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্ব মানচিত্রে ‘বাংলা’ নামের দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সংগ্রামে ব্যস্ত, তখন তাঁর সরকারের নির্দেশনায় ৬বারের মত সিডিএ চেয়ারম্যানের মেয়াদবৃদ্ধির নিশ্চয়ই কোন দুরদর্শী তাৎপর্য আছে। তাছাড়া একের পর এক প্রকল্প ছাড় করিয়ে বরাদ্দ আদায়ের ক্ষেত্রেও আবদুচ ছালামের সক্ষমতার তারিফ না করে পারিনা।
রাজনীতিতে সিডিএ চেয়ারম্যানের তৎপরতা বা চেয়ারম্যান পদে এই রাজনীতিবিদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক আছে। তা থাকতেই পারে। তবে সেই বিতর্ক অনেকটা ঠুনকো হয়ে যায়, যখন বহদ্দারহাটের ফ্লাইওভারের গার্ডার দুর্ঘটনার পর ক্ষমতাসীন দলের এই নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলী ছুঁড়ে রাজনীতির গোপন আততায়ীরা ! অবস্হা তখন এমন হয়ে দাড়িয়েছিল যে, বহদ্দারহাট হয়ে মোহরার বাড়িতে যেতেও দেখা যায়নি এই অমায়িক শান্তিপ্রিয় মানুষটিকে। উন্নয়ন আর রাজনীতিতে তাঁর উঠোন বৈঠকের পক্ষ বিপক্ষের লোকজন যা’ই বলেননা কেন, আবদুচ সালামকে অভিনন্দন ।
তবে, একই সাথে আশা করি, জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি আরো মনোযোগী হবেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নে ১৯৯৫সালেই সিডিএ,র মাস্টার প্ল্যানটিতে যে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তা ঠিকমত মানা হচ্ছিল কিনা সেটি নিশ্চিতের দায়িত্ব কিন্তু সিডিএ’রই। সিডিএ যদি খাল আর নালা দখল করে নির্মিত বাড়িগুলোর নকশা অনুমোদন না দিতো কিংবা এনিয়ে জনস্বার্থে ভেজাল বিরোধী অভিযানের মত সজাগ অভিযান চালাতো গেল ক’বছর, তবে অল্পবৃষ্টিতেই জলবন্দি দশা হওয়ার নেপথ্যের অন্তত: একটি কারণের যবনিকা ঘটতো। দ্রুত নালা খাল হয়ে বৃষ্টির জল গড়িয়ে যেতে পারতো কর্ণফুলী হয়ে বঙ্গোপসাগরে, চাটগাঁবাসীর কারো এতটা দুর্ভোগের ভাষা কিংবা কারো বোবাকান্নার জলও আর হতো না !
সিডিএ চেয়ারম্যানের সাথে মুঠোফোনে কথা হয়েছিল গতকাল। ‘কেন বাব বার ডোবে চট্টল শহর?’ -এমন প্রশ্নে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম অামাকে বলেন, ‘ শহর না ডোবার যা পন্থা, এর যাবতীয় গাইডলাইন মাস্টারপ্ল্যানেই দেওয়া হয়েছে। তা ফলোআপ না করার কারণে বা কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ধীরে ধীরে এমন মহাসংকট! ‘
বি:দ্র: নি:সন্দেহে এবার উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যান যতার্থ বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাটগাঁবাসী জলাবদ্ধতা মুক্তিসহ সামগ্রিক উন্নয়ন সমন্বয়ের গ্যারান্টিও পাবেন। জানি, একজন ক্ষুদ্র নাগরিকের এমন চাওয়া নিছক ‘মামার বাড়ির আবদার’ নয়।
লেখক : চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি

শুভ বাংলা নববর্ষ

পহেলা বৈশাখ। শুভ বাংলা নববর্ষ। স্বাগত ১৪২৪। সময়ের চক্রে আবারো ফিরে এলো পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরের প্রথম দিন। পেছনের সব গ্লানি মুছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিন আজ। আর এরই মাধ্যমে কালের আবর্তে হারিয়ে গেল আরো একটি বছর। প্রাণে প্রাণে হিল্লোল জাগাতে, ঐকতান রচনা করতে আর মানুষে মানুষে বিভেদ
ঘুচাতে নববর্ষ সবাইকে স্নাত করে নবচেতনায়। কাকডাকা ভোরে পূর্বদিগন্তে বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় বাঙালি চিত্ত অধীর হয়। নতুনকে বরণ করে নিতে নানা আয়োজন চলে গ্রাম-গ্রামান্তরে, শহরে, নগরে। ‘অনাগত আগামীর অফুরান বাদ্য/নতুনের আবাহনে বুঝি প্রতিপাদ্য/জড়তা ঝরাতে আসে পহেলা বোশেখ/রাজা’র পুণ্যাতে হয় বর্ষ অভিষেক’- কবির এমন পঙ্‌ক্তির মতোই নতুন বছরকে বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির নানা আয়োজনে রঙে-বর্ণে, উৎসবে দেশজুড়ে বরণ করা হবে আজ। আবহমান এ বাংলার দিক-দিগন্ত ঔজ্জ্বল্যে ভরিয়ে দিয়ে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে শুচি করে তুলতে আবার এসেছে বৈশাখ। বর্ষবরণের উৎসবের আমেজে মুখরিত হবে বাংলার চারদিক। চট্টগ্রামের ডিসি হিল, সিআরবি, নেভাল এলাকায় হবে বর্ষ বরণের মূল অনুষ্ঠান।

এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে সকালে বের হবে সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা। ঐতিহাসিক রমনার বটমূলে হবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। সারা দিন মুখর থাকবে রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। দেশের প্রত্যেক শহর, গ্রামগঞ্জে বাঙালি মেতে উঠবে প্রাণের আবাহনে। বসবে মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আজ সরকারি ছুটির দিন। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ সংখ্যা। রেডিও- টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সেই সঙ্গে আছে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানা আয়োজন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বর্ষবরণ উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর রমনার বটমূলে। এটি প্রায় ৫০ বছর ধরে আয়োজন করে আসছে দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট। কৃষির সঙ্গে বাংলা নববর্ষের ঘনিষ্ঠতা জড়িয়ে আছে এ সন প্রবর্তনের সূচনা থেকেই। বাংলা সনের প্রচলন করেন মোগল সম্রাট আকবর। এর আগে মোগল বাদশাহরা রাজকাজে ও নথিপত্রে ব্যবহার করতেন হিজরি সন। হিজরি চান্দ্র বছর, যা ন্যূনধিক ৩৫৪ দিনে পূর্ণ হয়। কিন্তু সৌর বছর পূর্ণ হয় ন্যূনধিক ৩৬৫ দিনে। বছরে প্রায় ১১ দিনের পার্থক্য হওয়ায় হিজরি সন আবর্তিত হয় এবং ৩৩ বছরের মাথায় সৌর বছরের তুলনায় এক বছর বৃদ্ধি পায়। কৃষকের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে হলে সারা দেশে একটি অভিন্ন সৌর বছরের প্রয়োজন। আর এ ধারণা থেকেই সম্রাট আকবর ১৫৮৪ সালের ১০ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তা কার্যকর হয় তার সিংহাসন আরোহণের সময় অর্থাৎ ১৫৫৬ সালের ৫ই নভেম্বর থেকে। আকবরের নবরত্ন সভার আমির ফতেউল্লাহ খান সিরাজী বাংলা সন প্রবর্তনের কাজটি সম্পন্ন করেন। প্রথমে এর নাম ছিল ফসলী সন। পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়। বৈশাখ নামটি নেয়া হয়েছিল নক্ষত্র বিশাখার নাম থেকে। আর সেই থেকে ক্রমান্বয়ে নববর্ষের ব্যাপ্তি আরো বিস্তৃত হয়েছে। খাজনা পরিশোধ, হালখাতা ও মিষ্টান্নের মাধ্যমে আপ্যায়নের সামাজিক পর্বটি রূপান্তর হয়েছে বাঙালি লোকজ উৎসবে। কালের বিবর্তনে নববর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক পুরনো উৎসবের বিলুপ্তি ঘটেছে, সংযোগ ঘটেছে অনেক নতুন উৎসবেরও। এর সঙ্গে হালখাতা জড়িয়ে আছে ঐতিহ্য হয়ে। তবে পুরনো এ হালখাতার ঐতিহ্য এখন খুব কমই দেখা যায়। যদিও অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। চিরাচরিত এ অনুষ্ঠানটি আজও পালিত হয়। তবে তা কম। হালখাতার ঐতিহ্যকে ছাড়িয়ে পহেলা বৈশাখে নগর সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছিল পান্তাভাত ও ইলিশ। যদিও ফসলী সন বা বঙ্গাব্দের ইতিহাসের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এ ইলিশ ভোজনের। পহেলা বৈশাখের খাবার তালিকায় ইলিশ মাছ না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে এবার অনেকেই পহেলা বৈশাখের আয়োজনে রাখছেন না ইলিশ।
দিনটিকে নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে রাজধানীজুড়ে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রমনা উদ্যানসহ বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। বৈশাখের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে ১১ই এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১১ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইউনিফর্ম ছাড়াও পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক নজর রাখবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ক্যাম্পাস এলাকায় বহিরাগত কেউ ঢুকতে পারবে না। রমনা বটমূল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় সবাইকে দেহ তল্লাশির মধ্য দিয়ে ঢুকতে হবে। সব অনুষ্ঠান ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় নজরদারি করা হবে। ভুভুজেলা বিপণন ও বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
রমনা বটমূলে মূলমঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে গতকালই। সম্পন্ন হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রার সব প্রস্তুতি। নববর্ষের শুভেচ্ছাসংবলিত পোস্টার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে রাজধানী। বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ের মুখে স্থাপন করা হয়েছে বৈশাখের তোরণ। রমনার বটতলায় তৈরি করা হয়েছে পহেলা বৈশাখের মূলমঞ্চ। ছায়ানটের শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা থাকবে এখানে। মূলমঞ্চ ছাড়াও বেশ কয়েকটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। নববর্ষকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে সাজানো হয়েছে নবরূপে। এখানে উন্মুক্ত অনুষ্ঠান পরিবেশনা ছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বর, হাকিম চত্বর, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও চলবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। ক্যাম্পাসের প্রবেশপথসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো রাস্তায় আঁকা হয়েছে বৈশাখের আল্পনা। সকাল থেকে শুরু হয়ে সারা দিনই চলবে নানা অনুষ্ঠান। বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করবে বাংলা একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমি। নববর্ষ উদযাপনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন করছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও জাতীয় প্রেস ক্লাব। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন সকালে বেলুন উড়িয়ে নববর্ষ উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, বিরোধী দল নেতা রওশন এরশাদ দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলা নববর্ষে তারা প্রত্যেকেই দেশবাসীর কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। পহেলা বৈশাখে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে এবার বৈশাখী র‌্যালি বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ। তবে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস। এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

Scroll To Top