শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয়

বিভাগ: সম্পাদকীয়

Feed Subscription

মধু মাসেই ১২ ফল

দাদা-দাদি, নানা-নানীর মুখে শুনেছি ১২ মাসে ১২ রকম ফল, আর এই মধু মাসেই ১২ রকমের ফল। সোমবার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে মধুমাসের ফলের মহা উৎসব। ফলফলাদির সমারোহ দেখে সত্যিই মনে হয় আবার এলো মধুমাস।

বাংলা অভিধানে মধুমাস শব্দের অর্থ হলো- চৈত্র মাস। কিন্তু দেশের পত্রপত্রিকায় জ্যৈষ্ঠ মাস নিয়ে কোনো কিছু লিখতে গিয়ে লেখা হয় মিষ্টি ফলের রসে ভরা মধুমাস। এভাবেই জ্যৈষ্ঠ মাসের সাথে মধুমাস বিশেষণটি জড়িয়ে গেছে। অভিধানের মধুমাস অভিধানেই আছে। কিন্তু লোকমুখে এখন জৈষ্ঠই যেন আসল মধুমাস। যদিও এ কথা কারো অজানা নয়, মধু থাকে ফুলে, ফলে নয়। ফাল্গুন-চৈত্র বসন্ত কাল। এ সময় ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় বাংলার প্রকৃতি। বৈশাখ-জৈষ্ঠ গ্রীষ্মকাল। বসন্তের ফুল ফলে পরিণত হয় গ্রীষ্মে এসে।

ছয় ঋতুর বাংলাদেশের প্রকৃতির এ রূপের বদল সত্যি বড় বৈচিত্র্যময়। গ্রীষ্মের শেষ মাস জ্যৈষ্ঠ, এ মাসে ফল পেকে রসের ভারে টইটম্বুর হয়। এদিকে পরিপক্ব হওয়ার আগেই কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে ফরমালিনযুক্ত কিছু কিছু ফল বাজারে আসছে। এসব অপরিপক্ব ফল কর্তন করে বাজারে বিক্রি করছেন অধিকতর মুনাফালোভী কিছু খামারি। আগাম বাজারে আসা ফলের দাম অধিক পাওয়া গেলেও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রেতারা। আবার কাঁঠাল কাঁচা অবস্থায় সংগ্রহ করে বাগানেই বিষাক্ত ইথিলিন দিয়ে পাকানো হয়।

বাজারের একজন ক্রেতা আনিসুর রহমানের কাছ থেকে জানা যায়, আজকাল যেসব ফল পাওয়া যায় তার অধিকাংশ বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে পাকানো হয়। এসব খেলে স্বাস্থ্যের খুব ক্ষতি হয়। চকচকে ফল যা দেখতে ভারি সুন্দর তা না কেনাই ভালো। তাই দেখে-শুনে ফল কিনে খাওয়া উচিত।

অশেষ মহিমান্বিত সৌভাগ্যের রজনী আজ

সৌভাগ্যের রজনী অশেষ মহিমান্বিত পবিত্র শবে বরাত আজ। মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক রাত। পবিত্র কোরআনে এ রাতটিকে লাইলাতুল মুবারক বা মহিমাময় রজনী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ফারসি ‘শব’ শব্দটির অর্থ রাত, আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ ভাগ্য। তাই শবে বরাত শব্দের অর্থ ভাগ্যরজনী বা ভাগ্যের রাত। এ কারণে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে শবে বরাত ‘সৌভাগ্যের রজনী’ হিসেবে পরিচিত।
দিনের আলোকরেখা দিগন্তে মিলিয়ে যাবার পরই শুরু হবে পরম কাঙ্ক্ষিত মহিমাময় এ রাত। এই রাতের গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, বিশেষ এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা আগামী এক বছরের জন্য মানুষের রিজিক, জন্ম-মৃত্যু, ধন-দৌলত, উন্নতি-অবনতি প্রভৃতির ফয়সালা এ রাতেই করা হয়। রাত শেষে ভোর পর্যন্ত এ রাতের ফজিলত অব্যাহত থাকবে।
শবে বরাত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (দ.) বলেছেন, ‘তোমরা এ রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করো এবং পরবর্তী দিনে রোজা রাখো। সূর্য অস্তমিত হওয়ার পরক্ষণ থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নূরের তাজাল্লি পৃথিবীর কাছাকাছি আসমানে প্রকাশ পায়। তখন আল্লাহ পাক বলতে থাকেন, আছে কি কেউ ক্ষমা প্রার্থী? যাকে আমি ক্ষমা করব, আছে কি কেউ রিজিকপ্রার্থী ? যাকে আমি রিজিক প্রদান করব। আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত ? যাকে আমি বিপদমুক্ত করব। আল্লাহপাকের মহান দরবার থেকে প্রদত্ত এই আহ্বান অব্যাহত থাকে ফজর পর্যন্ত।’
বস’ত শবেবরাত হলো আল্লাহপাকের মহান দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময়। আল্লাহপাকের নৈকট্য লাভের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় এই শবে বরাত।
রসূলুল্লাহ (দ.) স্বয়ং পবিত্র লাইলাতুল বরাতে গভীর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থেকে মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করতেন বলে হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন।
তাৎপর্যপূর্ণ এই রাতে বিশেষ বরকত হাসিলের মানসে বিশ্বের মুসলিম সমপ্রদায় রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আসকার, মিলাদ-মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ আদায় ও নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনায় মশগুল থাকেন। এদিন মুসলমানদের প্রায় সবার ঘরে ফাতেহা দেয়ার জন্য আয়োজন করা হয় হালুয়া ও গোশত-রুটিসহ নানা রকম খাবারের। আত্মীয়স্বজন ও গরিবদের মধ্যে এসব খাবার বিতরণ করা হয়।
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে আজ চট্টগ্রামের জাতীয় মসজিদ জমিয়তুল ফালাহ, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ, হযরত গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) জামে মসজিদ শাহ সুফি আমানত খান (রহ.) দরগাহ মসজিদসহ নগরের বিভিন্ন মসজিদ, খানকা ও দরবার সমূহে মিলাদ মাহফিল, জিকির-আসকার, নফল নামাজ ও বিশেষ মোনাজাত হবে।

অভিনন্দন, তবে ‘মামার বাড়ির আবদার’ নয় :

রিয়াজ হায়দার চৌধুরী::
সম্পর্কটা আমাদের ‘মামা-ভাগ্নে’র। তবে পেশাগত কারনে অম্লমধুরও। অভিনন্দনতো বটেই।
আবারো দু’বছর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(চউক) বা সিডিএ চেয়ারম্যানের পদে দু’বছরের বাড়তি দায়িত্ব পেলেন আবদুচ ছালাম।
আবদুচ ছালাম। সিডিএ’র চেয়ারম্যান, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মহানগর শাখার অর্থ সম্পাদক শুধু নন, একজন বিনয়ী সৎ সজ্জন ব্যক্তি । সর্বোপরি নিজের ঘুমকে হারাম করে দিন রাত চরম ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্ব মানচিত্রে ‘বাংলা’ নামের দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সংগ্রামে ব্যস্ত, তখন তাঁর সরকারের নির্দেশনায় ৬বারের মত সিডিএ চেয়ারম্যানের মেয়াদবৃদ্ধির নিশ্চয়ই কোন দুরদর্শী তাৎপর্য আছে। তাছাড়া একের পর এক প্রকল্প ছাড় করিয়ে বরাদ্দ আদায়ের ক্ষেত্রেও আবদুচ ছালামের সক্ষমতার তারিফ না করে পারিনা।
রাজনীতিতে সিডিএ চেয়ারম্যানের তৎপরতা বা চেয়ারম্যান পদে এই রাজনীতিবিদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক আছে। তা থাকতেই পারে। তবে সেই বিতর্ক অনেকটা ঠুনকো হয়ে যায়, যখন বহদ্দারহাটের ফ্লাইওভারের গার্ডার দুর্ঘটনার পর ক্ষমতাসীন দলের এই নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলী ছুঁড়ে রাজনীতির গোপন আততায়ীরা ! অবস্হা তখন এমন হয়ে দাড়িয়েছিল যে, বহদ্দারহাট হয়ে মোহরার বাড়িতে যেতেও দেখা যায়নি এই অমায়িক শান্তিপ্রিয় মানুষটিকে। উন্নয়ন আর রাজনীতিতে তাঁর উঠোন বৈঠকের পক্ষ বিপক্ষের লোকজন যা’ই বলেননা কেন, আবদুচ সালামকে অভিনন্দন ।
তবে, একই সাথে আশা করি, জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি আরো মনোযোগী হবেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নে ১৯৯৫সালেই সিডিএ,র মাস্টার প্ল্যানটিতে যে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তা ঠিকমত মানা হচ্ছিল কিনা সেটি নিশ্চিতের দায়িত্ব কিন্তু সিডিএ’রই। সিডিএ যদি খাল আর নালা দখল করে নির্মিত বাড়িগুলোর নকশা অনুমোদন না দিতো কিংবা এনিয়ে জনস্বার্থে ভেজাল বিরোধী অভিযানের মত সজাগ অভিযান চালাতো গেল ক’বছর, তবে অল্পবৃষ্টিতেই জলবন্দি দশা হওয়ার নেপথ্যের অন্তত: একটি কারণের যবনিকা ঘটতো। দ্রুত নালা খাল হয়ে বৃষ্টির জল গড়িয়ে যেতে পারতো কর্ণফুলী হয়ে বঙ্গোপসাগরে, চাটগাঁবাসীর কারো এতটা দুর্ভোগের ভাষা কিংবা কারো বোবাকান্নার জলও আর হতো না !
সিডিএ চেয়ারম্যানের সাথে মুঠোফোনে কথা হয়েছিল গতকাল। ‘কেন বাব বার ডোবে চট্টল শহর?’ -এমন প্রশ্নে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম অামাকে বলেন, ‘ শহর না ডোবার যা পন্থা, এর যাবতীয় গাইডলাইন মাস্টারপ্ল্যানেই দেওয়া হয়েছে। তা ফলোআপ না করার কারণে বা কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ধীরে ধীরে এমন মহাসংকট! ‘
বি:দ্র: নি:সন্দেহে এবার উন্নয়নের মাস্টারপ্ল্যান যতার্থ বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাটগাঁবাসী জলাবদ্ধতা মুক্তিসহ সামগ্রিক উন্নয়ন সমন্বয়ের গ্যারান্টিও পাবেন। জানি, একজন ক্ষুদ্র নাগরিকের এমন চাওয়া নিছক ‘মামার বাড়ির আবদার’ নয়।
লেখক : চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি

শুভ বাংলা নববর্ষ

পহেলা বৈশাখ। শুভ বাংলা নববর্ষ। স্বাগত ১৪২৪। সময়ের চক্রে আবারো ফিরে এলো পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরের প্রথম দিন। পেছনের সব গ্লানি মুছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিন আজ। আর এরই মাধ্যমে কালের আবর্তে হারিয়ে গেল আরো একটি বছর। প্রাণে প্রাণে হিল্লোল জাগাতে, ঐকতান রচনা করতে আর মানুষে মানুষে বিভেদ
ঘুচাতে নববর্ষ সবাইকে স্নাত করে নবচেতনায়। কাকডাকা ভোরে পূর্বদিগন্তে বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় বাঙালি চিত্ত অধীর হয়। নতুনকে বরণ করে নিতে নানা আয়োজন চলে গ্রাম-গ্রামান্তরে, শহরে, নগরে। ‘অনাগত আগামীর অফুরান বাদ্য/নতুনের আবাহনে বুঝি প্রতিপাদ্য/জড়তা ঝরাতে আসে পহেলা বোশেখ/রাজা’র পুণ্যাতে হয় বর্ষ অভিষেক’- কবির এমন পঙ্‌ক্তির মতোই নতুন বছরকে বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির নানা আয়োজনে রঙে-বর্ণে, উৎসবে দেশজুড়ে বরণ করা হবে আজ। আবহমান এ বাংলার দিক-দিগন্ত ঔজ্জ্বল্যে ভরিয়ে দিয়ে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে শুচি করে তুলতে আবার এসেছে বৈশাখ। বর্ষবরণের উৎসবের আমেজে মুখরিত হবে বাংলার চারদিক। চট্টগ্রামের ডিসি হিল, সিআরবি, নেভাল এলাকায় হবে বর্ষ বরণের মূল অনুষ্ঠান।

এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে সকালে বের হবে সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা। ঐতিহাসিক রমনার বটমূলে হবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। সারা দিন মুখর থাকবে রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। দেশের প্রত্যেক শহর, গ্রামগঞ্জে বাঙালি মেতে উঠবে প্রাণের আবাহনে। বসবে মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আজ সরকারি ছুটির দিন। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ সংখ্যা। রেডিও- টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সেই সঙ্গে আছে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানা আয়োজন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বর্ষবরণ উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর রমনার বটমূলে। এটি প্রায় ৫০ বছর ধরে আয়োজন করে আসছে দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট। কৃষির সঙ্গে বাংলা নববর্ষের ঘনিষ্ঠতা জড়িয়ে আছে এ সন প্রবর্তনের সূচনা থেকেই। বাংলা সনের প্রচলন করেন মোগল সম্রাট আকবর। এর আগে মোগল বাদশাহরা রাজকাজে ও নথিপত্রে ব্যবহার করতেন হিজরি সন। হিজরি চান্দ্র বছর, যা ন্যূনধিক ৩৫৪ দিনে পূর্ণ হয়। কিন্তু সৌর বছর পূর্ণ হয় ন্যূনধিক ৩৬৫ দিনে। বছরে প্রায় ১১ দিনের পার্থক্য হওয়ায় হিজরি সন আবর্তিত হয় এবং ৩৩ বছরের মাথায় সৌর বছরের তুলনায় এক বছর বৃদ্ধি পায়। কৃষকের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে হলে সারা দেশে একটি অভিন্ন সৌর বছরের প্রয়োজন। আর এ ধারণা থেকেই সম্রাট আকবর ১৫৮৪ সালের ১০ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তা কার্যকর হয় তার সিংহাসন আরোহণের সময় অর্থাৎ ১৫৫৬ সালের ৫ই নভেম্বর থেকে। আকবরের নবরত্ন সভার আমির ফতেউল্লাহ খান সিরাজী বাংলা সন প্রবর্তনের কাজটি সম্পন্ন করেন। প্রথমে এর নাম ছিল ফসলী সন। পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়। বৈশাখ নামটি নেয়া হয়েছিল নক্ষত্র বিশাখার নাম থেকে। আর সেই থেকে ক্রমান্বয়ে নববর্ষের ব্যাপ্তি আরো বিস্তৃত হয়েছে। খাজনা পরিশোধ, হালখাতা ও মিষ্টান্নের মাধ্যমে আপ্যায়নের সামাজিক পর্বটি রূপান্তর হয়েছে বাঙালি লোকজ উৎসবে। কালের বিবর্তনে নববর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক পুরনো উৎসবের বিলুপ্তি ঘটেছে, সংযোগ ঘটেছে অনেক নতুন উৎসবেরও। এর সঙ্গে হালখাতা জড়িয়ে আছে ঐতিহ্য হয়ে। তবে পুরনো এ হালখাতার ঐতিহ্য এখন খুব কমই দেখা যায়। যদিও অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। চিরাচরিত এ অনুষ্ঠানটি আজও পালিত হয়। তবে তা কম। হালখাতার ঐতিহ্যকে ছাড়িয়ে পহেলা বৈশাখে নগর সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছিল পান্তাভাত ও ইলিশ। যদিও ফসলী সন বা বঙ্গাব্দের ইতিহাসের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এ ইলিশ ভোজনের। পহেলা বৈশাখের খাবার তালিকায় ইলিশ মাছ না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে এবার অনেকেই পহেলা বৈশাখের আয়োজনে রাখছেন না ইলিশ।
দিনটিকে নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে রাজধানীজুড়ে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রমনা উদ্যানসহ বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। বৈশাখের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে ১১ই এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১১ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইউনিফর্ম ছাড়াও পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক নজর রাখবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ক্যাম্পাস এলাকায় বহিরাগত কেউ ঢুকতে পারবে না। রমনা বটমূল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় সবাইকে দেহ তল্লাশির মধ্য দিয়ে ঢুকতে হবে। সব অনুষ্ঠান ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় নজরদারি করা হবে। ভুভুজেলা বিপণন ও বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
রমনা বটমূলে মূলমঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে গতকালই। সম্পন্ন হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রার সব প্রস্তুতি। নববর্ষের শুভেচ্ছাসংবলিত পোস্টার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে রাজধানী। বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ের মুখে স্থাপন করা হয়েছে বৈশাখের তোরণ। রমনার বটতলায় তৈরি করা হয়েছে পহেলা বৈশাখের মূলমঞ্চ। ছায়ানটের শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা থাকবে এখানে। মূলমঞ্চ ছাড়াও বেশ কয়েকটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। নববর্ষকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে সাজানো হয়েছে নবরূপে। এখানে উন্মুক্ত অনুষ্ঠান পরিবেশনা ছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বর, হাকিম চত্বর, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও চলবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। ক্যাম্পাসের প্রবেশপথসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো রাস্তায় আঁকা হয়েছে বৈশাখের আল্পনা। সকাল থেকে শুরু হয়ে সারা দিনই চলবে নানা অনুষ্ঠান। বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করবে বাংলা একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমি। নববর্ষ উদযাপনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন করছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও জাতীয় প্রেস ক্লাব। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন সকালে বেলুন উড়িয়ে নববর্ষ উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, বিরোধী দল নেতা রওশন এরশাদ দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাংলা নববর্ষে তারা প্রত্যেকেই দেশবাসীর কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। পহেলা বৈশাখে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে এবার বৈশাখী র‌্যালি বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ। তবে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস। এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

নিউজচিটাগাং২৪’র ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা

মহান সৃষ্টিকর্তার অসীম দয়া ও আপনাদের ভালোবাসায় চট্টগ্রামের প্রথম ২৪ ঘণ্টার অনলাইন পত্রিকা নিউজচিটাগাং২৪.কম ৮ম বর্ষে উপনিত। সম্মানীত সূধীজন, প্রিয় পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীগণ, আপনাদের সকলের প্রতি শুভেচ্ছা ও বাংলা নববর্ষের আগাম অভিনন্দন।

যে নিষ্ঠা ও প্রত্যয় নিয়ে নিউজচিটাগাং২৪.কম গণমুখী সাংবাদিকতা করে এসেছে আগামীতেও তা অব্যাহত রাখবে। নিউজচিটাগাং২৪.কম কখনোই অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেনি, ভবিষ্যতেও সাংবাদিকতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে না এই প্রত্যাশা নিউজচিটাগাং২৪.কম পরিবারের প্রতিটি সদস্যের। পেরিয়ে আসা দিনের মত আগামী দিনগুলোতেও সত্য, ন্যায় ও গণমুখী সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়।

পাঠকদের ভালোবাসায় চট্টগ্রামের প্রথম ২৪ ঘণ্টার অনলাইন পত্রিকা নিউজচিটাগাং২৪.কম আজ এই পর্যায়ে এসেছে। আমরা চেষ্টা করি পাঠকদের চাহিদা পূরণের। কতটুকু পারছি সেই বিবেচনা আপনাদের। সবার সহযোগিতা-ভালোবাসা নিয়ে আমারা এগিয়ে যেতে চাই।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপ্ন-লালিত যে বাংলাদেশ সেই জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে  নিউজচিটাগাং২৪.কম। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে ও মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে অবলম্বন করেই সামনে এগিয়ে যেতে চায় নিউজচিটাগাং২৪.কম।

আগামীতেও গণমানুষের মুখপত্র হিসাবেই চট্টগ্রামের প্রথম ২৪ ঘণ্টার অনলাইন পত্রিকা নিউজচিটাগাং২৪.কম তার দায়িত্ব পালন করে যাবে। প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে দল নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করছে নিউজচিটাগাং২৪.কম। এ সম্পাদকীয় নীতিকে পাথেয় করে আগামীতেও এগিয়ে যাবে নিউজচিটাগাং২৪.কম। সবার সহযোগীতা আমাদের চলার পথকে দৃঢ় করবে….

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন… আমাদের সাথে থাকুন….

 

আজ বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস

আজ ১৭ মার্চ, বাঙালি জাতির জীবনের এক আনন্দের দিন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। জাতীয় শিশু দিবসও আজ। ১৯২০ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার তত্কালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ার সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শেখ লুত্ফর রহমান ও মাতার নাম সায়েরা খাতুন। পিতা-মাতার চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয়। খোকা নামের সেই শিশুটি পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালির ত্রাতা ও মুক্তির দিশারী। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ এবং জনগণের প্রতি মমত্ববোধের কারণে পরিণত বয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। এক রাজনৈতিক সংগ্রামবহুল জীবনের অধিকারী এই নেতা বিশ্ব ইতিহাসে ঠাঁই করে নেন স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার হিসাবে। বাঙালি জাতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অবদান চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত হচ্ছে। আজ সরকারি ছুটির দিন। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আজীবন সংগ্রামী বঙ্গবন্ধুর যখন জন্ম হয় তখন ছিল বৃটিশ রাজত্বের শেষ অধ্যায়। গ্রামের স্কুলে তাঁর লেখাপড়ার হাতেখড়ি। ১৯২৭ সালে শেখ মুজিব গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। নয় বছর বয়সে ১৯২৯ সালে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন এবং এখানেই ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জ মাথুরানাথ ইনস্টিটিউট মিশন স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। কিশোর বয়সেই বঙ্গবন্ধু সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তত্কালীন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে বঙ্গবন্ধু প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। এরপর থেকে শুরু হয় তার বিপ্লবী জীবন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর তিনি কলকাতার ইসলামীয়া কলেজে (বর্তমান নাম মাওলানা আজাদ কলেজ) ভর্তি হন। এই কলেজ থেকে সক্রিয়ভাবে তিনি ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে অর্থাত্ দেশবিভাগের বছর এ কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। পাকিস্তান-ভারত পৃথক হয়ে যাওয়ার পর শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ যার মাধ্যমে তিনি উক্ত প্রদেশের অন্যতম প্রধান ছাত্রনেতায় পরিণত হন।

৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান পেরিয়ে ৭০ সালের নির্বাচনে নেতৃত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাঙালির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। তার নির্দেশনা মোতাবেক ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বীর বাঙালি ৭১’র ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে নেয়। জন্ম হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। ৭৫’র ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকদের তপ্ত বুলেটে সপরিবারে নিহত হন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

রাষ্ট্রপতির বাণী

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত্ এবং সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দলমতনির্বিশেষে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু শৈশব থেকেই ছিলেন অত্যন্ত হূদয়বান ও মানবদরদি কিন্তু অধিকার আদায়ে ছিলেন আপোষহীন। রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের নতুন প্রজন্মকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

বাণীতে জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাল্যকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন নির্ভীক, দয়ালু এবং পরোপকারী। স্কুলে পড়ার সময়েই নেতৃত্বের গুণাবলী ফুটে উঠে তাঁর মধ্যে। দেশের সকল শিশুসহ দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এই বিশ্বনেতার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, শিশুদের কল্যাণে আমাদের বর্তমানকে উত্সর্গ করি। সবাই মিলে জাতির পিতার অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলি। আজকের দিনে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

ব্যক্তি মুজিব শাহাদাত্বরণ করেছেন কিন্তু

মুজিব আদর্শ মৃত্যুঞ্জয়ী:জেপি

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, যে নেতার জন্ম না হলে বাঙালির জাতিসত্ত্বার বিকাশ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হতো না। সেই নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মদিনে আমরা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধাভরে ও বিনম্র ভালোবাসায় স্মরণ করছি।

জেপি নেতৃদ্বয় বলেন, সুমহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে আমরা তাঁর মৃত্যুঞ্জয়ী আদর্শ নিজেদের মাঝে ধারণ করব। তাঁর কাছ থেকে দেশপ্রেম, ত্যাগের দীক্ষা নিব এবং তাঁর আবাল্য লালিত স্বপ্ন সুখি সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলাদেশ গড়ার শপথগ্রহণ করব। আমরা আজকের এই দিনে মরহুম নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করি এবং বলতে চাই ব্যক্তি মুজিব শাহাদাত্বরণ করেছেন কিন্তু মুজিব আদর্শ মৃত্যুঞ্জয়ী।

কর্মসূচি

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে জাতির পিতার জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়াতেও প্রতিবারের মতো বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শুক্রবার সকাল দশটায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণসহ বাদ জুম্মা দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা, গ্রন্থমেলা, সেলাই মেশিন বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং একই স্থানে অনুষ্ঠিত ‘খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে আলোকচিত্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ এবং পরের দিন ১৮ মার্চ বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সস্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে দশটায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনা সভা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ আবাসিক হলের মসজিদ ও উপাসনালয়ে দোয়া-প্রার্থনা, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চারুকলা অনুষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

জেপির কর্মসূচি

জাতির পিতার জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যদায় পালনের জন্য জাতীয় পার্টির (জেপি) কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টায় জেপির সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমাবেশ, সকাল সাড়ে ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন, সকাল ৯টায় টুঙ্গিপাড়াস্থ জাতির পিতার মাজার জিয়ারত এবং ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত।

‘পিতা’র ত্রিমাত্রিক ভিডিও প্রদর্শনী

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার রাজধানীর পান্থপথে স্টার সিনেপ্লেক্সে বিনামূল্যে জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণের ত্রিমাত্রিক ভিডিওচিত্র ‘পিতা’র প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেড় হাজার শিশু-কিশোরসহ আগ্রহীরা এ প্রদর্শনী উপভোগ করতে পারবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘মাত্রা’ প্রদর্শনীটির আয়োজন করেছে।

সারাদেশে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে

চিকিত্সা সেবা

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে সারাদেশে সকল সরকারি হাসপাতালে আজ শুক্রবার রোগীদের বিনামূল্যে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নির্দেশে আজ সারাদেশে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সব সরকারি হাসপাতালে এই চিকিত্সা সেবা দেওয়া হবে। এ সময় রোগীদের কাছ থেকে হাসপাতালের নির্ধারিত ফি নেওয়া হবে না। এছাড়া সকল সরকারি হাসপাতালে রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

বাংলার আকাশে ওড়ে লাল-সবুজ পতাকা

১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানিদের উপেক্ষা করে ছাত্র সমাজের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে বটতলায়। সে সময় উপস্থিত শিক্ষার্থী-আন্দোলনকারীদের ভাষায়, ১৯৭১ সালের ২ মার্চ পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা অর্জনের পথে যাত্রা শুরু হয়েছিল।

শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল ডিজাইনার। তিনি একজন ছাত্রনেতা ও স্বভাব আঁকিয়ে ছিলেন। তার তৈরি করা পতাকা সেদিন ওড়ানো হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায়।

স্বাধীনতা অর্জনের পরের বছর, ১৯৭২ সালের এই দিনে দৈনিক বাংলা পত্রিকার পাঁচ এর পাতায় লেখা হয় সেই স্মৃতি। সেখানে ‘বিক্ষোভে উদ্বেল সেই দিনগুলো’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৃহত্তম ছাত্র সভায় বাংলাদেশের পূর্ণ স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষিত হলো। এ সভাতেই ছাত্র সমাজ সর্বপ্রথম উড়িয়েছিলেন স্বাধীন বাংলার পতাকা। সেই যে পতাকা উড়েছিল, তা আর নামেনি।

সেদিন আসম আবদুর রব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে বটতলায় এক ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার স্বপ্নের লাল-সবুজের পতাকা সর্বপ্রথম উত্তোলন করেন। তবে এর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল আরও অনেক আগে। ১৯৭০ সালের ৭ জুন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত ছাত্রদের এক সামরিক কুচকাওয়াজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অংশগ্রহণের কথা ছিল। এই লক্ষ্যে ছাত্রদের নিয়ে একটি বাহিনী গঠন করে ছাত্র নেতারা একটি পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাথমিক প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে সবার আলোচনার শেষে সবুজ জমিনের ওপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।

একাত্তরের এই দিনে লাল-সবুজে হলুদ মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল স্বাধিকারের আহ্বান। কেবল পতাকা উত্তোলন নয়, একাত্তরের এই দিনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক জনসভার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল এই দিনে। পরে ২৩ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বাসভবনে ও স্বাধীনতা ঘোষণার প্রাক্কালে সেই পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তৎকালীন সরকার শিবনারায়ণ দাসের নকশা করা পতাকার মানচিত্রটির বদলে পতাকার মাপ, রঙ ও এর ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি প্রতিবেদন দিতে বলেন চিত্রকর কামরুল হাসানকে। ২ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকার রাজপথ জনারণ্যের রূপ পায়। সেদিনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র সহ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা পেয়েছিলাম আমরা।

এলো অগ্নিঝরা উত্তাল মার্চ

এলো অগ্নিঝরা উত্তাল মার্চ। পরাধীনতা থেকে মুক্তি পেতে বাঙালির রক্তক্ষরণের মাস এটি। বঙ্গবন্ধুর ডাকে, একাত্তরের এ মাসেই শুরু হয়েছিল বাঙালির স্বাধীনতা যুদ্ধ। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বেয়নেটের সামনে বুক চিতিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালি। লড়েছিল বীর দর্পে। বুকের রক্তে ভাসিয়ে মাটি, এনেছিল স্বাধীনতা। বাতাসে উড়েছিল লাল সবুজ পতাকা। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মুখ তুলে দাঁড়িয়েছিল- বাংলাদেশ।

এ বছর মার্চ এলো এক নতুন দ্যোতনা নিয়ে, রক্তে নাচিয়ে নতুন দ্রোহ। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়ায় দীর্ঘদিন বুকের ভেতর পুষে ছিল যে ক্ষোভ ও যন্ত্রনা, অনেকটাই লাঘব হয়েছে দেশের মানুষের। ইতিমধ্যেই চার যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বিচারাধীন রয়েছে আরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। বিশ্ব আরেকবার অবাক চোখে দেখছে অকুতোভয় বাঙালিকে। অসাম্প্রাদায়িক রাষ্ট্র বিনির্মানে এখনো একাট্টা মানুষ। মার্চ আরো বেশি সুসংহত করবে তাদের।

একাত্তরের সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার এবং যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধের দাবিতে এখনো পথে মানুষ। শাহবাগের গণজাগরণ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র, গোটা দেশে, দেশের বাইরেও। মানুষ জেগেছে, জাগছে। কিন্তু থেমে নেই যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধে ধর্মীয় মৌলবাদী চক্রের মরন কামড়, দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র। তবুও পিছু হটছে না মানুষ, হটবেও না। এ লড়াইয়ে জিততে হবে- মার্চের আগুনবাতাসে ছুটছে সে বার্তা।

বাঙালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি বিনষ্টে এখনো সক্রীয় উগ্র মৌলবাদী চক্র। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে দেশি-বিদেশি গোষ্ঠী। বারবার হামলা হচ্ছে। খুন হচ্ছে মুক্তচিন্তার প্রগতিশীল লেখক- প্রকাশক। বিশ্বে বাংলাদেশকে উগ্র জঙ্গিরাষ্ট্র প্রমাণে চেষ্টা চলছে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংস্কৃতি নষ্টের। কিন্তু সে ষড়যন্ত্র বানচাল করতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে জোট বেঁধেছে শুভবোধ মানুষ। মার্চ সে সম্মিলনকে আর দৃঢ় করার ব্রত নিয়ে এলো।

একাত্তরের মার্চে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধ- অনিবার্য হয়ে উঠেছিল বাঙালির জন্য। জন্মলগ্ন থেকেই পুর্ব পাকিস্তানের মানুষের প্রতি চরম বৈষম্য ছিলো পশ্চিম পাকিস্তানের। মোট জাতীয় বাজেটের সিংহভাগ বরাদ্দ থাকত পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য। পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীও ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের।

বাঙ্গালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপরও নিপীড়ন ছিল তাদের। তার উদাহরণ- রাষ্ট্রভাষার উর্দুর ঘোষনা।

সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন অংশে সমগ্র বাহিনীর মাত্র ৫ শতাংশ ছিল বাঙ্গালি অফিসার। পাকিস্তানের বাজেটের একটি বড় অংশ সামরিক খাতে বরাদ্দ থাকলেও পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ এর সুফল পেত খুবই কম।

১৯৬৫ সালে কাশ্মির নিয়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, বাঙালির মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

রাজনৈতিক ক্ষমতাও কুক্ষিগত ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের হাতেই। বারবার নানা অজুহাতে পদচ্যুত করা হয়েছে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীদের। বিশেষ করে ১৯৫৮ সাল থেকে টানা ১১ বছর পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের অনৈতিক ক্ষমতা দখল, দুরত্ব বাড়ায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর ভোলার সাইক্লোনে বিপর্যস্ত মানুষের প্রতি পাকিস্তান সরকারের নিষ্ঠুরতা, পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে আরো বেশি ক্ষুব্ধ করে তোলে।

১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন স্পষ্ট করে তোলে দুই পাকিস্তানের বিভাজন। আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও সরকার গঠন করতে দেওয়া হয় না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সারাদেশে ধর্মঘটের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন থেকে ঘোষনা দেন স্বাধীনতার। স্বাধীনতার আকাঙ্খায় উত্তাল হয়ে পড়ে গোটা জাতি।

রাজনীতির নামে চলতে থাকে পাকিস্তান সরকারের সময়ক্ষেপণ। অবশেষে ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীকে বাঙ্গালি নিধনযজ্ঞের সবুজ সংকেত দিয়ে, গোপনে যাত্রা করে পশ্চিম পাকিস্তানে। সে রাতেই বাঙালি নিধনযজ্ঞে নামে পাকিস্তান সেনাদের ‘অপারেশন সার্চলাইট’। মাত্র এক রাতেই কেবল ঢাকা শহরেই হত্যা করে অন্তত ৫০ হাজার ঘুমন্ত মানুষকে।

প্রতিরোধে জ্বলে উঠলো বাঙালি। শুরু হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ। এগিয়ে এলো ভারত। চললো টানা ন’মাসের যুদ্ধ। অবশেষে ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ৯৩ হাজার সৈন্যসহ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান। প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালি জাতির প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র- বাংলাদেশ।

প্রেরণার একুশ আজ

নিউজচিটাগাং২৪: নির্ভয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দেওয়ার প্রথম ইতিহাস সৃষ্টির দিন … ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বিশ্বের সকল জাতিসত্তার ভাষা রক্ষার দিন হিসেবে জাতিসংঘ বেছে নেয় ১৯৫২ সালের বাঙালি জাতির ভাষার জন্য লড়াইয়ের দিন সেই একুশে ফেব্রুয়ারি।

শোকবিহ্বলতা, বেদনা আর আত্মত্যাগের অহংকারে দেদীপ্যমান ভাষা আন্দোলনের সেই শপথ যুগে যুগে বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আলোকবর্তিকার মতো মূর্ত হয়ে ওঠে। এখনো জাতির যে কোন ক্রান্তিকালে ভাষা আন্দোলন আমাদের প্রেরণা যোগায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষা আন্দোলন জাতির বীরত্বপূর্ণ ঐতিহ্যের পরিচয় তুলে ধরে। যখন স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ এগিয়ে চলেছে, ধর্মান্ধ মৌলবাদী মানবতাবিরোধী অপশক্তি যখন দেশের রাজনৈতিক পরিমন্ডল অস্থির অশান্ত করে তোলার চক্রান্তে লিপ্ত তখন চির প্রেরণার প্রতীক অমর একুশে নতুন তাত্পর্য নিয়ে জাতির সামনে হাজির হয়েছে। তাই আজ শুধু শোক নয়, শোককে শক্তিতে পরিণত করার দিন।
জাতির দিনবদলের পালা শুরু হয়েছিল যেদিন, বাঙালির মননে অনন্য মহিমায় ভাস্বর চিরস্মরণীয় সেই দিন একুশে ফেব্রুয়ারি। ইতিহাসের পাতায় রক্ত পলাশ হয়ে ফোটা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর, আউয়াল, অহিউল্লাহর রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সারা বিশ্বের কোটি কণ্ঠে আজ উচ্চারিত হবে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…’

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে ঘটেছিল বাঙালির ইতিহাস পাল্টে দেয়ার ঘটনা। ‘বাংলা ভাষা প্রাণের ভাষা’ স্লোগানে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দেয় বাঙালি তরুণ প্রজন্ম। ইতিহাসবিদদের মতে, ভাষার প্রশ্নে একুশের আন্দোলন হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে তা ছিল শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ। সেদিন আত্ম-অধিকার, সমতাভিত্তিক সমাজ আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রবিনির্মাণের স্বপ্নে জেগে উঠেছিল তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ। একুশের আন্দোলনেই ঘটে বাঙালির আত্মবিকাশ, যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে এসেছে মহান স্বাধীনতা।

একুশে তাই বাঙালির চেতনার প্রতীক। একুশের শহীদদের ঠাঁই এখন প্রতিটি বাঙালির মর্মমূলে। পরম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় উচ্চারিত হয় একেকটি নাম। মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে সারা দেশে, অগণিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং বিদেশে যেখানে রয়েছে বাঙালি, সেখানেই গড়ে উঠেছে অহংকারের প্রতীক শহীদ মিনার। একুশে তাই আত্মত্যাগের অহংকারে ভাস্বর মহান একটি দিন; জেগে ওঠার প্রেরণা। দেশমাতৃকার প্রয়োজনে আত্মোৎসর্গ করার শপথ গ্রহণের দিন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদদের স্মরণে ‘জাতীয় শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ বাংলাদেশ ও সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে নানা আনুষ্ঠানিকতায়। রাষ্ট্রীয় আয়োজনে একুশের অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয় রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজসংলগ্ন একুশের রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা একুশের প্রথম প্রহরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর সর্বস্তরের মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

‘একুশ মানে মাথা নত না করা’ চিরকালের এ স্লোগান আর বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে, খালি পায়ে আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই শামিল হতে শুরু করেন শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। আজ সরকারি ছুটির দিন। অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা। একই সঙ্গে সর্বত্র ওড়ানো হবে শোকের কালো পতাকা। সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও বেতারে ভাষা দিবসের বিশেষ ক্রোড়পত্র ও অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে। মাতৃভাষার মর্যাদা রাখতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে বাঙালি জাতি যে ইতিহাস রচনা করেছিল, শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্ব তাকে বরণ করেছে গভীর শ্রদ্ধায়। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর তাদের ৩০তম সম্মেলনে ২৮টি দেশের সমর্থনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে একযোগে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্যসাধারণ অর্জন। রক্তক্ষয়ী এ দিনটি শোক আর বেদনার মধ্যে আবদ্ধ নেই। জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষের সর্বজনীন উৎসবের দিন।

ফিরে দেখা সেসব দিন : ১৯৪৭ সালের ব্রিটিশ-ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে জন্ম নেয় ভাষা-বিরোধ। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে অস্বীকার করে কৃত্রিম ভাষা উর্দুকে চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করে। প্রতিবাদে সোচ্চার হন বাংলার বুদ্ধিজীবীরা। ১৯৪৮ সালেই গড়ে উঠে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। সে বছরের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দম্ভভরে উচ্চারণ করেন, ‘উর্দু, কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, অন্য কোনো ভাষা নয়।’ প্রতিবাদের ঝড় ওঠে বাংলাজুড়ে। শুরু হয় ভাষার জন্য বাঙালির প্রাণপণ সংগ্রাম। ১৯৫২ সালে আন্দোলন তীব্রতর হয়ে উঠলে শাসকগোষ্ঠী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলার সভা থেকে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়। মিছিল বের হয় ১০ জন, ১০ জন করে। পুলিশ বাধা দিলে বাধে সংঘর্ষ। একপর্যায়ে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। শহীদ হন আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমদ ও আবদুল জব্বার। ছাত্র মিছিলে গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথ। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারিও ঘটে গুলিবর্ষণের ঘটনা। পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শফিউর রহমান, রিকশাচালক আবদুল আউয়াল, অহিউল্লাহসহ কয়েকজন অজ্ঞাত মানুষ। ৭ এপ্রিল মারা যান একুশে ফেব্রুয়ারিতে আহত আবদুস সালাম।

রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের কাছে নতিস্বীকার করে পাকিস্তানি সরকার। বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এলে একুশে ফেব্রুয়ারিকে শোক দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের রীতি চালু হয়। একুশের পথ ধরে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার সংগ্রাম। জন্ম নেয় স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

কর্মসূচি : আজ সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি স্মরণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিশেষ কর্মসূচি পালন করবে। সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং শোকের প্রতীক কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদ মিনার অভিমুখে প্রভাতফেরি, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আজিমপুরে শহীদদের কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জাতীয় শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এডভোকেট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণী দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা।

সবার জন্য ভালোবাসা….

চট্টগ্রামের প্রথম ২৪ ঘন্টার অনলাইন পত্রিকা “নিউজচিটাগাং২৪” এর পক্ষ থেকে সবার জন্য ভালোবাসা…. আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’। তবে তরুণ-তরুণী শুধু নয়, নানা বয়সের মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন আজ। এ ভালোবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি মানুষে-মানুষে ভালোবাসাবাসির দিনও এটি। ‘কিন্তু শুধু একটি দিন ভালোবাসার জন্য কেন?’ এ প্রশ্নে কবি নির্মলেন্দ গুণের ছোট জবাব, ‘ভালোবাসা একটি বিশেষ দিনের জন্য নয়। সারাবছর, সারাদিন ভালোবাসার। তবে আজকের এ দিনটি ভালোবাসা দিবস হিসেবে বেছে নিয়েছে মানুষ।’
তারুণ্যের অনাবিল আনন্দ আর বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাসে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের মাঝেও ভালোবাসা দিবস পালিত হচ্ছে। ভালোবাসার উৎসবে মুখর আজ রাজধানী। এ উৎসবের ছোঁয়া লাগবে গ্রাম-বাংলার জনজীবনেও। মুঠোফোনের মেসেজ, ই-মেইল অথবা অনলাইনের চ্যাটিংয়ে পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেমকথার কিশলয় হয়ে উঠবে পল্লবিত। অনেকের মতে, ফেব্রুয়ারির এ সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে। নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায়। পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়। এ দিনে চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, ই-মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, হীরার আংটি, প্রিয় পোশাক, জড়াজড়ি করা খেলনা মার্জার অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেয়া হয়। নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ, একটা গোলাপ ফুল, চকোলেট, ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দু’ছত্র গদ্য অথবা পদ্য হয়ে উঠতে পারে উপহারের অনুষঙ্গ।
অন্যদিকে আজকের এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারে সবাই। চলবে উপহার দেয়া-নেয়া।
ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদ- দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদ-ে দ-িত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্যালেনটাইনস ডে সর্বজনীন হয়ে ওঠে আরো পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরো একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
আমাদের দেশে দিনটিকে ঘিরে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। রয়েছে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সূচনা সঙ্গীত, ভালোবাসার স্মৃতিচারণ, কবিতা আবৃত্তি, গান, ভালোবাসার চিঠি পাঠ এবং ভালোবাসার দাবিনামা উপস্থাপনসহ আরো নানা কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কনসার্টেরও আয়োজন করা হয়েছে।

Scroll To Top