শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / ভালো খবর

বিভাগ: ভালো খবর

Feed Subscription

চাক্তাই-কালুরঘাট রিভার ড্রাইভ সড়ক হচ্ছে

নির্মাণ হতে যাচ্ছে শাহ আমানত সেতুর চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের রিভার ড্রাইভ ড়কটি। সমুদ্র সমতল থেকে ২৪ ফুট উঁচু, রোডের নিচে ২৫০ ফুট চওড়া ও রোডের উপরিভাগে ৮০ ফুট চওড়া সড়কটি ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ১ হাজার ৯৭৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন হবে প্রকল্পটি। মাত্র তিন মাসে ডিপিপি অনুমোদন, প্ল্যানিং কমিশনের অনুমোদন, প্রি-একনেক ও একনেক শেষ করে নির্মাণ হতে যাচ্ছে শাহ আমানত সেতুর চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের রিভার ড্রাইভ সড়ক প্রকল্পটি।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পুরো চান্দগাঁও ও বাকলিয়া এলাকার চিত্র বদলে যাবে জানিয়ে বিশিষ্ট ট্রান্সপোর্টেশন বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী সুভাষ বড়-য়া বলেন, ‘১৯৬১ ও ৯৫ এর মাস্টারপ্ল্যানেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল, কিন’ এতোদিন তা হয়নি। দেরিতে হলেও এই রোডটি বাস্তবায়ন হলে চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মোহরাসহ বিশাল এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস’ায় আমূল পরিবর্তন আসবে। একই সাথে এই রোডের সাথে অন্তর্বর্তী রোডগুলোও যুক্ত করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, যাতায়াত ব্যবস’ার উন্নয়নের পাশাপাশি এসব এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে। এতোদিন যাতায়াত ব্যবস’ার অভাব ও জোয়ারের পানির কারণে মানুষ এখানে আসতো না। এখন সবাই আসতে চাইবে এবং শহরটি এদিকে বিস্তার লাভ করবে।
প্রকল্পটির আওতায় কী কী কাজ হবে জানতে চাইলে সোমবার ৬ষ্ঠ দফায় আরো দুই বছরের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আবদুচ ছালাম বলেন, ‘ মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত সাগর পাড়ের আউটার রিং রোডের আদলে নির্মিত হবে এই রোড। সমুদ্র সমতল থেকে ২৪ ফুট উঁচু, রোডের উপরিভাগে ৮০ ফুট চওড়া, রোডের নিচের দিকে ২৫০ ফুট চওড়া থাকবে। এছাড়া ১২টি খালে থাকবে টাইডাল রেগুলেটর ও পাম্প হাউস। এতে জোয়ারের পানিতে আর ডুবে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আউটার রিং রোডের আওতায় এই রোডটি নির্মাণের জন্য মাস্টারপ্ল্যানে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল। প্রথম পর্যায়ে আমরা সাগর পাড়ে নেভাল একাডেমি থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত চারলেনের উপকূলীয় বেড়িবাঁধ কাম রোড, ডিটি রোড থেকে থেকে বায়েজিদ পর্যন্ত চার লেনের বাইপাস সড়ক ও এখন কালুরঘাট থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত চার লেনের রোড নির্মিত হলে পুরো নগরী আউটার রিং রোডের মধ্যে বেষ্টিত হয়ে যাবে। এই রোডের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ সহজেই বঙ্গবন্ধু সড়ক হয়ে ডিটি বায়েজিদ সংযোগ রোড দিয়ে ঢাকা ট্রাঙ্ক রোডে যেতে পারবে। এতে নগরী যানজটমুক্ত হবে।
তিনি আরো বলেন, এই রোডের কারণে চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, দেওয়ানবাজার, চকবাজার, বাকলিয়াসহ বিস্তৃত এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
এই রোডটি একনেকে অনুমোদন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আমার এলাকার মানুষ শীতকালের পূর্ণিমার জোয়ারেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা জলাবদ্ধতায় ভুগছিলাম। এখন রোড কাম বাঁধ নির্মিত হলে আমরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাব।’
একই ধরনের মন্তব্য করে চান্দগাঁও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, বৃষ্টিতে আমার এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পানিবন্দি থাকে। এখন যদি কর্ণফুলীর পাড় দিয়ে রোড ও টাইডাল রেগুলেটর নির্মিত হয় তাহলে আমরা এই অবস’া থেকে মুক্তি পাবো।
এদিকে সিডিএ প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় নদীর ভেতরের অংশে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঢালু করে ব্লক বসানো হবে। আর চার লেনের এই রোডটির সাথে খাজা রোড, কে বি আমান আলী রোড ও মিয়াখান রোড যুক্ত হবে।
এই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প নেয়ার কথা ছিল সেই অনুযায়ী ডিপিপিও তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি অঞ্চলের নির্বাহি প্রকৌশলী স্বপন বড়-য়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মদুনাঘাট থেকে নেভাল একাডেমি পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ ও স্লুইস গেইট নির্মাণের জন্য সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তা প্ল্যানিং কমিশনে জমা হয়েছে। বিশাল এ প্রকল্পের অর্থায়ন কে করবে তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায় দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে।
সিডিএ’র তত্ত্বাবধানে চাক্তাই থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত আউটার রিং রোড কাম উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মিত হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিটি করপোরেশনের প্রকল্পের সাথে ওভারলেপিং হবে কিনা জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘ওভারলেপিংয়ের কোনো প্রশ্নই আসে না। সিডিএ যে অংশের কাজ করবে আমরা (সিটি করপোরেশন) সেই অংশটি বাদ দিয়ে করবো। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকা জলাবদ্ধতামুক্ত হবে। আমরা তো পুুরো শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে পরিকল্পনা করছি।’
তিন মাসে অনুমোদন পেল প্রকল্প
সিডিএ সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এই প্রকল্পটি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের কয়েক দফা জিজ্ঞাসার পর জানুয়ারির শেষ দিকে প্রকল্পটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায়। পরে তা প্ল্যানিং কমিশনে যায়। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়ার তা প্রি-একনেক হয় গত ১৬ মার্চ। প্রি-একনেক সভায় অনুমোদনের পর গত একনেক সভায় তা উপস’াপন হওয়ার কথা ছিল। কিন’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে না থাকায় গতকালের একনেক সভায় তা অনুমোদন দেয়া হয়।

টেকনাফের ঝাড়ু যাচ্ছে বিভিন্নস্থানে

ঘর-গৃহস্থালী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে আমাদের নাগরিক জীবনের অতি প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ হলো ফুলের ঝাড়ু। শহরাঞ্চলে এই ফুলের ঝাড়ুর চাহিদা অনেক। এইসব ফুলের ঝাড়ুর কাঁচামালের জোগান আসে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে। টেকনাফের পাহাড়ি অঞ্চলে ছন জাতীয় এসব গাছকে স্থানীয়ভাবে ‘পুরিন’ বা ‘উলুফুল’ বলে ডাকা হয়। টেকনাফের পাহাড়ীয়া উলুফুলের তৈরি এসব ঝাড়ু এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। উলুফুল সংগ্রহে সীমান্তের কাঠুরিয়া নারী-পুরুষ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। চাহিদার যোগান দিতে সীমান্তের অনেকে এখন উলুফুল চাষ করার চিন্তা ভাবনা করছেন। সীমান্তে উলুফুল সংগ্রহ এবং বিক্রি করে অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কারিগরি সহযোগিতা পেলে টেকনাফের ন্যাড়া পাহাড় সমূহে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপকহারে উলুফুলের চাষ করা যেতে পারে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিত্যক্ত শত শত হেক্টর পাহাড় এবং ঢালু জমি উলুফুল চাষের আওতায় আসলে এটি একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে অবদান রাখবে। পাশাপাশি অনেক বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রীজ, তুলাতুলী, কম্বন, লাতুরীখোলা, আমতলী, লম্বাবিল, পুটিবনিয়া, বাহারছড়ার শামলাপুর, শীলখালী, কচ্ছপিয়া, জাহাজপুরা, নোয়াখালী, হ্নীলার আলী আকবরপাড়া, মরিচ্যাঘোনা, পানখালী, খণ্ডাকাটা, আলীখালী, লেচুয়াপ্রাং, মুচনী, জাদীমুরা ও দমদমিয়া এলাকার শত শত নারী-পুরুষ (কাঠুরিয়া) সংরক্ষিত বন থেকে উলুফুল সংগ্রহ করছেন। সংগৃহীত ফুল আঁটি বেঁধে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করে নগদ টাকা আয়ের মাধ্যমে সংসার চালাচ্ছেন তারা। উপজেলার হোয়াইক্যং এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের উঠতি বয়সের কিছু ব্যবসায়ী গ্রাম থেকে উলুফুল সংগ্রহ করে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন। হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রীজ এলাকার নূরুল আলম, লম্বাবিল এলাকার রমজান আলী, হোয়াইক্যংয়ের আলমের মতো অনেকে উলুফুলের ভ্রমের ব্যবসা করে দুয়েক মাসের মধ্যে লাখ টাকা পেয়েছেন।

উলুফুলের ব্যবসায়ী লম্বাবিল এলাকার নূরুল আলম জানান, আমি ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর এসব সংগ্রহ করে ঢাকা এবং বরিশালে নিয়ে বিক্রি করে ভালো টাকা আয় করছি। এ বছরও এক হাজার বান্ডিল সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি।

হোয়াইক্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম হোসেন জানান, টেকনাফের সব ন্যাড়া পাহাড়ে পরিকল্পিতভাবে উলুফুলের চাষ করা যেতে পারে। প্রযুক্তির এই যুগে বনাঞ্চল রক্ষায় কাঠুরিয়া শ্রমিক দিয়েই বাণিজ্যিকভাবে উলুফুলের চাষ করলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি ঢালু এবং পরিত্যক্ত জমিতে সহজ উপায়ে উলুফুলের চাষ করে বাড়তি টাকা আয় করা সম্ভব। পরিচর্যা ছাড়াই খুব অল্প সময়ের মধ্যে উলুফুল সংগ্রহ করা যায়। এই চাষে উদ্যোগীদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সব সময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

৩৬ দেশ জয় করেছে মেধাকচ্ছপিয়ার হাতে তৈরি পুতুল

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও/কক্সবাজার প্রতিনিধি: চকরিয়া খুটাখালীর উত্তর মেধাকচ্ছপিয়ায় নারীদের হাতে তৈরি পুতুল জয় করেছে বিশ্ব। এসব পুতুল অন্তত ৩৬ দেশে বাজারজাত হচ্ছে। ‘হাতে বুনন’ নামের ঢাকার একটি কম্পানি এগুলো কিনে নেয়। পরে এরা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে।
খুটাখালীর উত্তর মেধাকচ্ছপিয়া গ্রামের স্বামীহারা জয়গুন নাহার (৪৪) জানান, তিনিসহ প্রায় ২০ জন নারী হাতে তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের পুতুল। হাতের কারসাজিতে তৈরি হচ্ছে অক্টোপাস রেটল, কাউবয় রেটল, প্লেইন রেটল, মারমিড রেটল, মানকি রেটল, পেঙ্গুইন, পাণ্ডা, ফ্লাওয়ার, হোয়াইট বল, আপেল, অরেঞ্জ, ক্যারট, পিপজি, ড্রাগন ফ্রুট, বানি মালছি, ফ্রগ বয় প্রভৃতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বের ৩৬টি দেশে বর্তমানে এসব পুতুল রপ্তানি হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশের তালিকায় রয়েছে আমেরিকা, লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, সুইডেন অন্যতম। এসব দেশে বেশি চাহিদা রয়েছে হাতে তৈরি এসব পুতুলের।
কথা হয় জয়গুন নাহার এবং তাঁর কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে। জয়গুন নাহার বলেন, ‘তিন ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে স্বামী মারা যায়। এর পর দীর্ঘ ১৮ বছর পর্যন্ত পরিবারের ভরণ-পোষণ চালাতে গিয়ে বনের গাছ কাটাসহ কত কিছুই না করতে হয়েছে। এই অবস্থায় ক্রেল নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় হস্তশিল্পের। প্রায় দুই মাস একনাগাড়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর আর বনের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়নি। দীর্ঘ আড়াই বছর পর্যন্ত আমরা নিজেরাই হাতে তৈরি করছি বিভিন্ন ধরনের পুতুল। ’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রশিক্ষণ পেয়ে আমরা যখন বিভিন্ন ধরনের পুতুল হাতে তৈরি করি, তখন দেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এখন শুনছি, আমাদের হাতে তৈরি পুতুল বিশ্বের বড় বড় দেশে পাঠানো হচ্ছে। আমাদের তৈরি পুতুল বিদেশে যাচ্ছে, এটি শোনার পর থেকে কি যে খুশি লাগছে তা বলে বোঝাতে পারব না! কেননা কোনোদিন চিন্তাও করিনি, আমাদের হাতে তৈরি পুতুল বিশ্বজয় করবে। ’
একই এলাকার মোস্তফা বেগম, ছেনুয়ারা বেগম, রোহানা বেগম, বুলবুল, রোকেয়া বেগম, তাহেরা বেগম, খুরশিদা বেগম, রুনা আক্তার, জয়নাব বেগম, রাজিয়া সুলতানা, শাহিনা আক্তার, সেতারা বেগম, রোকেয়া, রোকসানা বেগম, মোহছেনা বেগম, ছাবেকুন্নাহার, জেবুন্নাহার, আনার কলি ও রেনু বেগম। তাঁরা জানান, তাঁদের কারো স্বামী মারা গেছেন, আবার কেউ তালাকপ্রাপ্তা। এই অবস্থায় মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান (ন্যাশনাল পার্ক) এলাকা থেকে বনের গাছকাটা, লাকড়ি সংগ্রহ ছিল সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন। যদিওবা বনের গাছকাটা নিয়ে প্রতিনিয়ত বনবিভাগ তাঁদের তাড়া করত। অনেক সময় মামলার আসামিও হতে হয়েছিল অনেককে।
তাঁরা বলেন, বছর তিনেক আগে আমাদেরকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন ক্রেল প্রকল্পের সাইট অফিসার আবদুল কাইয়ুম। একদিন তিনি আমাদেরকে একত্রিত করে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন, ‘বনের গাছ কাটলে একদিকে পরিবেশের ক্ষতি, অন্যদিকে মামলা-হামলার ভয় রয়েছে। ’
তাহলে কীভাবে সংসার চলবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে আবদুল কাইয়ুম আশ্বাস দেন, ‘বনের গাছ কেটে এখন থেকে আর আপনাদের সংসার চালাতে হবে না। হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে হস্তশিল্পের। ’
তাঁর কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে নবউদ্যমে নেমে পড়েন সবাই হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণে। এতে সফলতাও এসেছে দ্রুত। এখন আর বনের গাছ কেটে সংসার চালাতে হচ্ছে না।
তাঁরা জানান, হাতের কারসাজিতে খেলনা পুতুল তৈরি করে একেকজন নারী প্রতিমাসে সর্বনিম্ন ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা আয় করছেন। পুতুল তৈরির জন্য ঢাকার ‘হাতে বুনন’ নামের একটি কম্পানি রসদ (সূতা, ফোম, লিকার) সরবরাহ করেন। বিনিময়ে মজুরি হিসেবে একেকটি পুতুল তৈরিতে পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ১২০ টাকা, থেকে সর্বনিম্ন ১৫ টাকা। এভাবেই হাতে তৈরি পুতুলের মজুরি দিয়ে ভালোই চলছে সবার সংসার। তবে তাদের মজুরি সময়মতো যাতে পান সেজন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ রেখেছেন এসব নারী।
ক্রেল প্রকল্পের চকরিয়ার সাইট অফিসার মো. আবুদল কাইয়ুম জানান, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালী ও খুটাখালীর মেধাকচ্ছপিয়ার পৃথক জাতীয় উদ্যান এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল নির্ভর জীবিকা ছিল কয়েক হাজার মানুষের। এতে বিগত সময়ে তারা বনের গাছকাটা, লাকড়ি সংগ্রহসহ বনাঞ্চল উজাড় করে সংসার চালাতো। ক্রেল প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদেরকে বনরক্ষায় যথাযথ উদ্বুদ্ধকরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পরিবার বনের গাছকাটা তো দূরের কথা, তারাই এখন বনরক্ষায় কাজ করছে।
‘এ জন্য তাঁদেরকে প্রশিক্ষিত করে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে স্বামীহারা ও তালাকপ্রাপ্তা বেশ কয়েকজন নারীর হাতে তৈরি বিভিন্ন আইটেমের খেলনা পুতুল দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজয় করে নিয়েছে। বর্তমানে অন্তত ৩৬টি দেশে এসব খেলনা পুতুল বাজারজাত হচ্ছে। এর আগে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঢাকার হাতে বুনন নামে একটি কম্পানির সঙ্গে তাঁদের সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। যা একটি সফল দৃষ্টান্ত এবং অবিশ্বাস্য ব্যাপার বলে মনে করি।
আবদুল কাইয়ুম জানান, বননির্ভর এসব পরিবারকে স্বাবলম্বী করে ফাঁসিয়াখালী ও মেধাকচ্ছপিয়া সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটিকে একটি শক্তিশালী ও টেকসই সংগঠন হিসেবে দাঁড় করিয়ে বন, পরিবেশ তথা জীববৈচিত্র্যকে রক্ষায় প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে ক্রেল প্রকল্প। ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেম অ্যান্ড লাইভিহুড (ক্রেল) নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব নারী স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। ইউএসএআইডির অর্থায়নে এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এর কারিগরি সহায়তায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ মাঠপর্যায়ে সরাসরি তদারকি করছেন ন্যাচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম) ও কোডেক। বাংলাদেশ সরকারের চারটি মন্ত্রণালয় যথাক্রমে পরিবেশ ও বন, মত্স্য ও কৃষি, ভূমি এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দেশের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ, জলাভূমি, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় গত ২০ বছর ধরে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

 

 

 

‘দ্য এনার্জি গ্লোব অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বান্দরবানের তহ্জিংডং

 বান্দরবান প্রতিনিধি॥
প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গ্রামীণ বন সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় বান্দরবানের নয়টি পাড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৯১৯ হেক্টর জায়গা জুড়ে বন সংরক্ষণ করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ বনের (ভিলেজ কমন ফরেস্ট) ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ২০০৯ সাল থেকে আট বছর ধরে কাজ করছে বান্দরবানের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা তহ্জিংডং। সাফল্যের স্বীকৃতি সরুপ বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ বিষয়ক পুরস্কার ‘দ্য এনার্জি গ্লোব অ্যাওয়ার্ড-২০১৬’ পেয়েছে তহ্জিংডং সংস্থার এ প্রকল্পটি। এ পুরস্কারটি পরিবেশের জন্য নোবেল হিসেবে বিবোচিত। এ উপলক্ষ্যে আজ সোমবার সকালে বান্দরবানের ভেনার্স রেষ্টুরেন্ট মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংস্থাটি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। উন্নয়ন সংস্থা তহ্জিংডং চেয়ারম্যান মংথুইমং মারমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ, উন্নয়ন সংস্থা তহ্জিংডং নির্বাহী পরিচালক অংশৈচিং’সহ গনমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পুরস্কারপ্রাপ্ত তহ্জিংডং নির্বাহী পরিচালক অংশৈচিং বলেন, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় সামাজিক অংশগ্রহণে গ্রামের চারপাশের বন সংরক্ষণের কর্মসূচি হাতে নেয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা তহ্জিংডং। পরিবেশ ও গ্রামীণ বন সংরক্ষণ প্রকল্পের কারণে গ্রামের মানুষের পানির উৎসও সুরক্ষিত হচ্ছে। সেই উৎস থেকে ৯টি পাড়ার ঘরে ঘরে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ হওয়ায় বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। এ প্রকল্পের জন্য তহ্জিংডং অস্ট্রিয়ার নাগরিক উলফগাং প্রতিষ্ঠিত সংস্থা দ্য এনার্জি গ্লোব অ্যাওয়ার্ড-২০১৬’ পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, ছয়টি বিভাগে পুরস্কারের জন্য ১৭৮টি দেশ থেকে দুই হাজার প্রকল্প জমা পড়েছিল। জুরিবোর্ডের সদস্যরা এগুলোর মধ্য থেকে প্রথমে ১৭টি প্রকল্প বাছাই করেন। পরে সেখান থেকে সেরা ছয়টি প্রকল্প নির্বাচন করে জুরিবোর্ড। তহ্জিংডংয়ের প্রকল্প পুরস্কার পেয়েছে ‘আর্থ’ বিভাগে। ১৯৯৯ সাল থেকে সংস্থাটি বিভিন্ন বিভাগে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু করে।
পার্বত্য সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, এনার্জি গ্লোব অ্যাওয়াড বান্দরবানের উন্নয়ন সংস্থা তহ্জিংডং পেলেও এটি বাংলাদেশের জন্য গর্বের। পরিবেশ ও গ্রামীণ বন সংরক্ষণ প্রকল্পের কারণে গ্রামের মানুষের পানির উৎসও সুরক্ষিত হচ্ছে। সেই উৎস থেকে ৯টি পাড়ার ঘরে ঘরে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে এ উদ্যোগ প্রসংনীয়। পরিবেশ রক্ষায় এ প্রকল্পের ব্যাপকতা আরো বাড়াতে হবে।

সুখি দেশের তালিকা: বাংলাদেশ এবারও ১১০তম

সুখের খবর শুনতে কার না ভালো লাগে। তাই সুখের খবর হলো বাংলাদেশ একই রকম সুখি। গত বছরেও যেমন ছিলো এবছরও তেমন।

জাতিসংঘ ২০১৭ সালের যে সুখি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে বিশ্বে ১৫৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এবারও ১১০তম। গতবছরও এমনটাই ছিলো।

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ নরওয়ে হিসেবে নাম উঠে এসেছে নরওয়ের। দ্বিতীয় ডেনমার্ক, তৃতীয় আইসল্যান্ড। আর এরপর প্রথম দশে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ক্যানাডা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও সুইডেন।

যুক্তরাজ্যে সুখ কিছুটা বেড়েছে বটে কিন্তু প্রথম দশে নেই। আর সুখ অবধারিতভাবে কমেছে যুক্তরাষ্ট্রে। সে দেশ এবার ১৪তম অবস্থানে গেছে যা গতবছর ছিলো ১৩তম।

বিশ্বের সবচেয়ে দুখি দেশ হচ্ছে- মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র। এরপর অপেক্ষাকৃত কম দুখিদের তালিকায় বুরুন্ডি, তানজানিয়া, সিরিয়া, রোয়ান্ডা, তোগো, গিনি, লাইবেরিয়া, দক্ষিণ সুদান ও ইয়েমেন।

এভাবেই একে একে সুখের দিকে এগিয়ে দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১০তম। ভারত বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে ১২২তম। আর নেপাল সুখে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ৯৯তম অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশে উৎপাদন করে ওষুধ নিতে চায় জাপান

লাইসেন্সিং চুক্তি করে বাংলাদেশের কারখানায় উৎপাদন করে ওষুধ নিতে চান জাপানি উদ্যোক্তারা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ও ওষুধ শিল্প সমিতির নেতারা ওষুধ শিল্প পরিদর্শনে জাপান সফরে যান। তাদের কাছে জাপানি ব্যবসায়ীরা এ প্রস্তাব দিয়েছেন। ইতিমধ্যে জাপানি ব্যবসায়ীদের এ পরিকল্পনার অগ্রগতিও বেশ সন্তোষজনক হয়েছে বলে ওষুধ উৎপাদনকারীরা জানিয়েছেন। ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান বলেন, বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধশালী দেশ জাপানে আমরা গিয়েছিলাম সেখানকার ওষুধ শিল্প পরিদর্শনের জন্য। ১২ দিনের সফরে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। জাপান বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে বিনিয়োগের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তারা লাইসেন্সিং চুক্তি করে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ উৎপাদন করে নিজ দেশে নিয়ে যাবে বলেও পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, যে কারখানায় তারা কাজ করবে সেই কারখানায় তাদের নিজস্ব কাঁচামাল থাকবে। মেশিনারিজও তাদের থাকবে। বাদবাকি আমাদের দেশ থেকে পূরণ করা হবে। এর পর তারা এখানে উৎপাদিত ওষুধ নিজ দেশে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও করতে পারে। তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জে ওষুধ পার্ক পূর্ণাঙ্গ চালু হলে ওষুধ শিল্পের কাঁচামালের জন্য আর কারো কাছে মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। বরং আমরাই উল্টো কাঁচামাল রপ্তানি করতে পারবো। ফলে তখন জাপানি উদ্যোক্তারা আরো সুবিধা পাবে।
উদ্যোক্তারা বলেন, ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখায় বিদেশি বাজারে দেশীয় ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে উৎপাদনে ওষুধের দাম অনেক কম। আবার শ্রমিক মজুরিও কম। ফলে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এই শিল্পের মানসম্মত উৎপাদনশীলতার জন্য যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে, আন্তর্জাতিক মান অর্জনে সক্ষম হয়েছে। দেশের অনেক কোম্পানিই এখন আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ তৈরি করছে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সার্টিফিকেশন সনদও পেয়েছে বেশকিছু কোম্পানি। বিশ্বের ১২৭টি দেশে দেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। ফলে বিদেশি উদ্যোক্তাদের চোখ এখন বাংলাদেশের ওপর পড়েছে। এ কারণেই জাপানিরা বাংলাদেশের কারখানায় ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তাদের মতে, আরেকটি কারণ হলো- বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধের মেধাস্বত্বে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অবস্থিত ওষুধ শিল্পনগরী প্রকল্পের (এপিআই) শিল্পপার্ক হচ্ছে। এই পার্কে কাঁচামাল উৎপাদনের সব ধরনের সুবিধা প্রণয়ন করে দেবে সরকার। এরপরই সেখানে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনের কারখানা স্থাপন শুরু হবে। ফলে আমদানি খরচ শতকরা ৭০ ভাগ কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব কারণে এদেশে ওষুধ উৎপাদন খরচ অনেক কমে আসবে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এখন দেশের বেশির ভাগ ওষুধের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। দেশে ওষুধের কাঁচামালের বাজার ১২০০ কোটি টাকার মতো। দেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কাঁচামাল উৎপাদন করছে। উন্নতমানের ৫৪টির বেশি কোম্পানি ৩০৩টি গ্রুপের ওষুধ রপ্তানি করে। গত অর্থবছরে প্রায় ৬০৪ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি হয়েছিল।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৬৯টি ছোট-বড় ওষুধ কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৪টি ওষুধ কারখানা সচল। এসব কোম্পানি সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫ হাজার ব্র্যান্ডের ৮ হাজারের বেশি ওষুধ উৎপাদন করছে। যার মধ্যে বড় ১০টি কোম্পানি দেশের চাহিদার ৮০ শতাংশ মিটিয়ে থাকে। বড় ২০টি কোম্পানি বিবেচনায় নিলে তারা মোট চাহিদার ৯০ শতাংশ সরবরাহ করছে। আর ৪০টি কোম্পানি ১৮২টি ব্র্যান্ডের সহস্রাধিক রকমের ওষুধ রপ্তানি করে।

এপ্রিলে মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন

আগামী এপ্রিল মাসেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে স্বপ্নের সড়ক কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। মেরিন ড্রাইভ সড়কটি উদ্বোধন হলে বিশ্বের দরবারে অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে উখিয়া-টেকনাফ। কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পেও যোগ হবে নতুন মাত্রা।
উন্নত বিশ্বের আদলে নির্মিত হচ্ছে দীর্ঘতম এই সড়ক। বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘেঁসে নান্দনিক সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্যে ঘেরা এ মেরিন ড্রাইভ সড়ক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দেবে। কারণ হাজার হাজার পর্যটক বিশাল সমুদ্রে বুকে সূর্যাস্তের মনোমুকর দৃশ্য দেখতে পারবে খুব সহজে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মেরিন ড্রাইভ সড়কটির দুপাশে থাকবে ওয়াকওয়ে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সুবিধার্থে সড়কজুড়ে থাকবে শেড ও ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট। সেই সাথে থাকবে গাড়ি পার্কিং, চেঞ্জিং রুমের ব্যবস’া। দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়কে ৩টি বড় বড় আরসিসি সেতু, ৪২টি বক্স কালভার্ট, ৩ হাজার মিটার সসার ড্রেন এবং ৫০ হাজার মিটার সিসি ব্লক ও জিও টেক্সটাইল থাকবে। এ মহাপ্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি। ৪শ ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়কটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে।
সূত্র জানায়, কক্সবাজারের সঙ্গে টেকনাফকে সংযুক্ত করতে বিদ্যমান ৪৮ কিলোমিটার সাগর ও পাহাড় ঘেরা মেরিন ড্রাইভ সড়কটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে শুরু করে ২০১৭ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ সমপন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন’ সড়কের দৈঘ্য আরো ৩২ কিলোমিটার বাড়ানোর পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণসহ আরো বিভিন্ন কাজ পরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে ব্যয় বেড়ে গিয়ে ৪শ ৫৬ কোটি টাকাতে দাঁড়ায়। এতে মেয়াদ বর্ধিত করেন ২০১৮ সাল জুন পর্যন্ত। কিন’ গত ১২ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের এক অনুষ্ঠানে পরিবহন, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা করেছিলেন, এপ্রিল মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের এই মেরিন ড্রাইভ সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।
উল্লেখ্য, মেরিন ড্রাইভ সড়কটি ৩ ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে কলাতলী থেকে ইনানী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে ইনানী থেকে শীলখালী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে মেরিন ড্রাইভ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তৃতীয় ধাপে চলছে শীলখালী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মাত্র ৩২ কিলোমিটারের কাজ। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে এই ৩২ কিলোমিটার সড়কের কাজও সমাপ্ত হবে। তাই সড়কটি উদ্বোধনে অপেক্ষার প্রহর গুনছে উখিয়া-টেকনাফের হাজারো জনতা। প্রতিদিন সড়কটি দেখার জন্য উখিয়া-টেকনাফ সমুদ্রসৈকতে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত নারী-পুরুষ।
এ ব্যাপারে উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি বলেন, ‘অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পকে আরো বিকশিত করতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে উখিয়া-টেকনাফকে নতুন রূপে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। নেওয়া হয়েছে পর্যটনবান্ধব কর্মসূচি। তার মধ্যে মেরিন ড্রাইভ সড়কটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে আরো সক্ষম হবে।’

বাংলাদেশের জিন্স পণ্যের কদর বাড়ছে বিশ্ববাজারে

উন্নতমানের বৈচিত্র্যময় ডেনিম পোশাক তৈরিতে সক্ষমতা অর্জন করায় বাংলাদেশে উৎপাদিত ডেনিম পণ্যের কদর বাড়ছে বিশ্ববাজারে। পোশাক খাতে নতুন এক সম্ভাবনা জাগিয়েছে জিন্স নামে পরিচিত ডেনিম পণ্য। ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন এ খাতে। বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে ডেনিমে। দেশে ডেনিমের উন্নয়নে আলাপ-আলোচনা, প্রদর্শনী ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয়, আর ডেনিম রপ্তানিতে এখন তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, এ খাত বাংলাদেশের রপ্তানি আয়কে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে। যদিও বাংলাদেশে
ডেনিম পোশাক তৈরিতে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাপড় উৎপাদন না হলেও এর পরিমাণটা বাড়ছে। এছাড়া ডেনিমের সম্ভাবনা তুলে ধরতে দেশে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী করা হচ্ছে।
দেশের অন্যতম ডেনিম কারখানার মালিক ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ডেনিম মূলত হাইভ্যালু পণ্য। এতে বিনিয়োগ যেমন বেশি লাগে, তেমনি ডেনিম পণ্য সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। সরকার ও গার্মেন্ট খাতের উদ্যোক্তারা আগামী ২০২১ সাল নাগাদ পোশাকশিল্প থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এই গতানুগতিক তৈরি পোশাক রপ্তানি করে সে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ জন্য ডেনিমের মতো হাই ভ্যালু প্রডাক্টের দিকে ঝুঁকতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডেনিম পণ্য বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক ভালো মানের। কিন্তু বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ডেনিম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় এবং বাংলাদেশের ইমেজ সংকটের কারণে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য সবার আগে দেশের ইমেজ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য প্রতিবছর দু’বার ‘বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো’ নামে মেলা করছি।
জানা গেছে, বর্তমানে ডেনিমের দুটি প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদার যথাক্রমে ২২.৮৮ ও ১১.৩৫ শতাংশ পূরণ করে বাংলাদেশ। বছরে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ ডেনিম পণ্য রপ্তানি করছে ৩৫০ কোটি ডলারের। বছরে ডেনিম পণ্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশের উপরে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ডেনিম পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয়। বাংলাদেশ ২০১৪ সালে ১ কোটি ৮৫ লাখ ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ কোটি ৪৩ লাখ পিস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ১৪ কোটি ১০ লাখ পিস ডেনিম পণ্য (জিনসের প্যান্ট, শার্ট, জ্যাকেট, ব্লেজার ইত্যাদি) রপ্তানি হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। এসব পণ্য রপ্তানি থেকে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ২৫০ কোটি ডলার। আলোচিত বছরে ইইউতে রপ্তানি বেড়েছে ১১ শতাংশের বেশি। ২০২১ সাল নাগাদ এ খাতে রপ্তানি আয়ের আশা করা হচ্ছে ৭০০ কোটি ডলার।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে ডেনিম কাপড় তৈরির জন্য দেশে ২৭টির বেশি কারখানা তৈরি হয়েছে। আরো ৫টি কারখানা প্রক্রিয়াধীন। এই খাতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করেছেন ৮৩৪ মিলিয়ন ডলার। প্রতিবছর ডেনিম কাপড় উৎপাদনে দেশের সক্ষমতা রয়েছে ৩৬ কোটি গজ। আর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৬০-৬৫ কোটি গজ। ২০২১ সালের মধ্যে এই চাহিদা ১২০ কোটি গজে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। সুতরাং এ খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক জায়গা রয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
জানা গেছে, বিশ শতকের মাঝামাঝি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিমের ব্যবহার শুরু হলেও বাংলাদেশ এখন এর অন্যতম উৎপাদনকারী দেশ। পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মনে করেন গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের সমাধানে ইতিবাচক উদ্যোগ নিলে ডেনিম খাতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
ডেনিম অ্যান্ড জিন্স বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সন্দ্বীপ আগারওয়াল বলেন, সারা দুনিয়ায় ডেনিমের বাজার সুবিশাল। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও হয়ে গেছে সে বাজারের বিশাল এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশবিশেষ।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে প্রথমবার এদেশে উৎপাদন শুরু হয় ডেনিম পোশাকের। তুলা এবং বুননের বিশেষত্বের কারণে বিশ্বব্যাপী কাপড়টি ‘ডেনিম’ নামে পরিচিত। তবে জনপ্রিয়তার বিচারে এখন জিন্স নামেই বেশি চেনেন ব্যবহারকারীরা। সারাবিশ্বের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীর পছন্দের পোশাক এটি।

দেশের গন্ডি পেরিয়ে ৯টি দেশে আলু

আলু উৎপাদনে বৃহত্তম জেলা হিসেবে খ্যাত জয়পুরহাটের আলু এবার দেশের গন্ডি পেরিয়ে ৯টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশগুলো হচ্ছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, নেপাল ও রাশিয়া।

 

প্রাচীন বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত জয়পুরহাট জেলায় এবারও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। বীজ, সার ও কীটনাশকের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন হয়েছে ভাল। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আলু বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বাজারে আলুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন স্থানীয় আলু চাষীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার জয়পুরহাটে ৪২ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ৭৯৫ হেক্টর বেশি। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে আট লাখ ১৪ হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, কালাই উপজেলার মাত্রাই, উদয়পুর, পুনট, জিন্দারপুর ও আহম্মেদাবাদ ৫টি ইউনিয়নে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে গ্রানোলা, মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিকস, কার্ডিনাল, ও রোজেটা জাতের আলু চাষ হয়েছে। সেই সঙ্গে আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আলু ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা, কুষ্টিয়া, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন স্থানীয় পাইকারী আলু ক্রেতারা।

 

এছাড়া এখানকার আলু বর্তমানে প্যাকেটজাত করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, নেপাল ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

 

 

জানা গেছে, কালাই উপজেলাতে ৩০ থেকে ৩৫টি স্থানে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার মণ আলু কেনাবেচা হচ্ছে। এখানকার বিভিন্ন জাতের আলু দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর পাশাপাশি দেশের বাইরে পাঠানোর জন্য আলু ব্যবসায়ীরা আলু কিনছেন বলে জানান। ফলে বাজারে আলুর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে এবং ভালো দাম পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় আলু চাষীরা।

 

আবার স্থানীয় কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা আলু রাখার জন্য বুকিং শুরু করেছেন। জেলার ১৫টি কোল্ড স্টোরেজে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন আলু রাখা সম্ভব হবে বলে জানায়, কৃষি বিভাগ।

 

উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের আলুচাষী আবদুর রাজ্জাক জানান, এবারে তিনি ৮০ শতক জমিতে মিউজিকা জাতের আলু চাষ করেছেন, সবমিলে তার উৎপাদনের খরচ হয় ২০ হাজার টাকা, প্রতি শতকে তিন মণ হারে মোট আলু পেয়েছেন ২৪০ মণ। বিদেশী এক কোম্পানির এজেন্টের কাছে তিনি ৩শ’ টাকা মণ দরে আলু বিক্রি করেছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে বর্তমান লাভ টিকেছে প্রায় ৫২ হাজার টাকা।

 

কালাই উপজেলার ঝামুটপুর গ্রামে মালয়েশিয়ার মাসায়া কোম্পানির আলু কেনার এজেন্ট গোলাম মোস্তফা জানান, মালয়েশিয়ার মাসায়া কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ৩শ’ মণ করে বিভিন্ন জাতের আলু কিনতে হয়। এভাবে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত আলু কিনবেন বলে জানান তিনি।

 

কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, এবারের বীজ, সার ও কীটনাশক ওষুধ সরবরাহসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলাতে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমান আলুর বাজারে আলুর ভাল দাম পেয়ে কৃষকেরা অনেক খুশি, তাছাড়া এখানকার আলু বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় আলু চাষিরা আলুর ভাল দাম পাচ্ছেন।

আসছে ১৬টি বাংলা টুলস

গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করবে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি)।  গ্লোবাল  প্লাটফর্মে একটি অগ্রগামী ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করা হবে। গবেষণার মাধ্যমে বাংলা ভাষা সহায়ক ১৬টি টুলসও তৈরি করবে সরকার। এসব সফটওয়্যার ও টুলসের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সঠিক স্পেসিফিকেশনও করা হবে।

এ লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ হয়নি।  ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। এর মধ্যে ১৬টি কম্পোনেন্ট কিনতে ১৫৩ কোটি ২০ লাখ টাকা অনুমোদনের প্রস্তাব করেছে আইসিটি বিভাগ।

বিসিসি সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় আইসিটি সহায়ক বাংলা ভাষার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য প্রমিতকরণ, টেকনোলজি  ও বিষয়বস্তুর  উন্নয়ন এবং আইসিটিতে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধকরণ ও আধুনিকায়ন করা হবে।  আইসিটি সহায়ক বাংলা ভাষার বিভিন্ন ফিচারের প্রমিতকরণও করা হবে। এসব নিয়ে সমীক্ষা, জরিপ, গবেষণা ও ‘বাংলা ভাষা প্রযুক্তি’ হিসেবে যেকোনো বিষয়ে জ্ঞানার্জনে কাজ করবে সরকার।

চলতি সময় থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

বিসিসি সূত্র জানায়, টুলসগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলা কার্পাস, বাংলা ওসিআর, বাংলা স্পিচ টু টেক্সট, টেক্সটু টু স্পিস, জাতীয় বাংলা কি-বোর্ড, বাংলা স্টাইল গাইড, বাংলা ফ্রন্ট, বাংলা মেশিন ট্রান্সলেটর ইত্যাদি।

বিসিসি সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় তিন লাখ টাকা মাসিক বেতনে ৩০ জন বাংলা ভাষা বিশেষজ্ঞ এবং পরিকল্পনা কমিশনে দেড় লাখ টাকা মাসিক বেতনে ১৮ জন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে আইসিটি বিভাগের পাশাপাশি বিসিসি, আইএমইডি, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও আইটি বিশেষজ্ঞদের নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিসিসি’র সিস্টেমস অ্যানালিস্ট ছারোয়ার মোস্তফা চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলা ভাষাকে ব্যবহার উপযোগী করার লক্ষ্যে ১৬টি টুলসের উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেলেও এখনও পিডি (প্রকল্প পরিচালক) নিয়োগ দেওয়া হয়নি। খুব শিগগিরই পিডি নিয়োগ দেওয়া হলে তিনিই ঠিক করবেন, একসঙ্গে ১৬টি টুলসের উন্নয়ন করবেন না পর্যায়ক্রমে করবেন’।

Scroll To Top