শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / শহর থেকে দূরে

বিভাগ: শহর থেকে দূরে

Feed Subscription

গোয়েন্দা নজরদারিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প

একদিকে মানবিকতা, অন্যদিকে বাস্তবতা। মুখ্য দু’টি বিষয়কে সামনে রেখেই চলছে রোহিঙ্গা সংকট সামলে ওঠার চেষ্টা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। ত্রাণকর্মীদেরও ত্রাহি অবস্থা। নতুন-পুরাতন মিলে প্রায় ১০ লাখ উদ্বাস্তু মিয়ানমার নাগরিকের খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসাসহ জীবন রক্ষার ন্যূনতম নিশ্চয়তা নিশ্চিতেই দেশি-বিদেশি যতসব উদ্যোগ। কিন্তু বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগেরও শেষ নেই। রোহিঙ্গাদের নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয়। মাদক, মানবপাচার, চোরাচালান, পরিবেশের বিনাস, নারী ব্যবসাসহ মোটাদাগে ৫টি অপরাধে পুরনো অনেক রোহিঙ্গার সম্পৃক্ততার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে। এছাড়া তথ্য পাচারে কতিপয় রোহিঙ্গার জড়িয়ে পড়ার নতুন শঙ্কা তাড়া করছে প্রশাসনকে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির গহিন সীমান্ত থেকে সন্দেহভাজন ৪ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছিল। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হলেও তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ভুয়া ঠিকানা ও আইডি ব্যবহার করে লাখেরও বেশি মোবাইল সিম কার্ড তুলে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। এ নিয়ে সরকারের তরফে অবশ্য চটজলদি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তের সব মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রশাসন বলছে, নবাগত রোহিঙ্গারা যেন পুরনোদের পথে হাঁটতে না পারে তা নিয়ে আগেভাগেই সতর্ক সরকার। নীতিনির্ধারক ও সরকারের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়া, টেকনাফসহ গোটা কক্সবাজার এলাকাকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে বাড়ানো হয়েছে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি। ত্রাণ বিতরণ, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়সহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, তারা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন রোহিঙ্গা সংকটের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাদের কি রাখাইনে ফেরানো যাবে, নাকি জনবহুল বাংলাদেশকেই এ ঘানি টানতে হবে? বর্মী বাহিনীর বর্বর নির্যাতনে প্রাণ বাঁচাতে জন্মভিটা ছেড়ে আসতে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গারা কি ত্রাণের ওপর নির্ভর থাকবে, নাকি তারা এদেশে কর্মক্ষেত্র এবং মূল স্রোতে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করবে? সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা বিষয়ে স্থানীয় একাধিক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, এখন থেকে আর কোনো রোহিঙ্গা রাস্তায় থাকতে পারবেন না। সরকারের বরাদ্দ দেয়া এলাকাতেই তাদের থাকতে হবে। কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পেছনে সরকার এরইমধ্যে ২০০০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে নবাগতদের জন্য। ওই এলাকায় তাদের জায়গা না হলে আরো জমি বরাদ্দ করা হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই রোহিঙ্গারা ক্যাম্প এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। যদিও এরই মধ্যে নবাগত প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা কক্সবাজার শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ আছে। তারা পুরনো রোহিঙ্গা স্বজনদের সহায়তায় শহর, উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িভাড়া নিয়েছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে জেলার ২৫টির বেশি পয়েন্টে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অতিরিক্ত পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, চার প্লাটুন বিজিবি, ৬০ জন অফিসারসহ ৩৬০ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় আনসার সদস্য, স্কাউট সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ এবং আশ্রয় কাজে শৃঙ্খলা ফেরাতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তায় এরইমধ্যে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে থাকা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় কেন্দ্র ও পয়ঃনিষ্কাশন নিশ্চিতেও সেনাবাহিনী কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পুলিশের পেট্রল টিম সারাক্ষণ কাজ করছে। গোটা এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেবল পুলিশ নয়, দেশের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সেখানে সক্রিয় রয়েছে। সবাই মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এখনো কোনো অশুভ তৎপরতার খবর পাইনি। তবে সতর্ক রয়েছি। রোহিঙ্গারা যাতে টেকনাফ এবং উখিয়ার নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে না পারে সে জন্য পথে পথে তল্লাশি টিম রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সরকারের বরাদ্দ করা জমিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর পুরো এলাকা কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হবে। এতে সেখানে ত্রাণ কার্যক্রমে যেমন শৃঙ্খলা আসবে তেমনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও কমবে। সীমান্ত এলাকায় থাকা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি সতর্ক রয়েছে জানিয়ে কক্সবাজারের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মন্‌জুরুল হাসান খান মানবজমিন বলেন, আমরা সব সময় সতর্ক রয়েছি। কয়েকজন রোহিঙ্গা সীমান্ত এলাকায় গুপ্তচরবৃত্তি করছে মর্মে যে অভিযোগ ওঠেছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সন্দেহভাজন ৪ জনকে ধরা হয়েছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিছু রোহিঙ্গা মিয়ানমারের সীমান্ত বাহিনী বিজিপির সোর্স হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে মর্মে অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে তার কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে কি-না জানতে চাইলে লে. কর্নেল মন্‌জুর বলেন, ‘ভালো কথা বলেছেন। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’ এদিকে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল ফেরদৌস বিবিসি বাংলার সঙ্গে আলাপে রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রশাসনের শঙ্কার কথা জানান। বলেন, ‘তারা যেহেতু বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং আর্থিক সমস্যাও রয়েছে, কোনো অপরাধী চক্র তাদেরকে যেকোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলতে পারে। অথবা তারা স্বেচ্ছায় কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত হতে পারে। এটার জন্য আমরা সতর্ক আছি। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইন্টেলিজেন্সের মনিটরিং আছে। আমাদের নিজস্ব যেসব ব্যবস্থা আছে, তার মাধ্যমে আমরা তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি। সামাজিক মাধ্যমগুলোও কোনো প্রপাগান্ডা বা কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে বিষয়টিও নজরদারি করা হচ্ছে।’>> মানবজমিন

ঈদগাঁওতে এএসআই মহিউদ্দিনের আটক বানিজ্য!

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আটক বানিজ্য ও দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকার সাধারণ জনগণ চরম হয়রানির স্বীকার হচ্ছে বলে জানা গেছে। এমনকি তার আটক বানিজ্য থেকে রেহাই পাচ্ছে না সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা ও জামিনে থাকা বিভিন্ন লোকজন।
সূত্রে প্রকাশ, অভিযোগ উঠা এএসআই মহিউদ্দিন একসময় ঈদগাঁও পুলিশের কনষ্টেবল হিসাবে কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতি পেয়ে কনষ্টেবল থেকে এএসআই হিসাবে একই ষ্টেশনে চেষ্টা তদবির করে অদ্যবধি কর্মরত আছেন। এএসআই হিসাবে পদোন্নতি পাওয়ার পর পরই বেপরোয়া হয়ে উঠে। পরে তার বদলী হলে বিভিন্ন চেষ্টা তদবীর করে বদলি ঠেকায় । শুরু করে বিভিন্ন অপকর্ম। দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকার সুবাধে বিভিন্ন অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে ঈদগাঁও গরু বাজার এলাকা থেকে সাবেক জেলা ছাএলীগ নেতা সাদ্দাম ও ইব্রাহীমকে কোন ওয়ারেন্ট ছাড়া ধরে নিয়ে গিয়ে পুলিশ ক্যাম্পে আটকিয়ে রেখে গভীর রাতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এরই কয়েকদিন আগে জালালাবাদ পালাকাটার সুলতানের পুত্র বেলাল উদ্দিনকে মামলা আছে বলে ধরে নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে রেখে ১০ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। তারই কয়েকদিন আগে একই এলাকার আবু বক্করের পুত্র নেজাম উদ্দিনকে ধরে নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে রেখে মোটা অংকের টাকায় ছেড়ে দেয়। এছাড়া বাজারের বাশঁঘাটা করাত কলের মালিক কামাল উদ্দিনকে মামলা আছেন বলে ধরে নিয়ে গিয়ে রাতের আধারে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। সাপ্তাহ আগে জালালাবাদ পালাকাটা এলাকার সত্তারের পুত্র সুলেমানের একটি জায়গার বিচারের দ্বায়িত্ব নিয়ে রাতের আধারে মোটা অংকের টাকায় একই এলাকার প্রভাবশালী কামালকে দখল দেয়। বাজারের কোটি টাকার খাস জায়গায় নির্মানাধীন বিল্ডিং এ নির্মান কাজে বাধা দিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। প্রতিনিয়ত এভাবে একের পর এক অপর্কম করে যাচ্ছে। তার সহযোগীতায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে নানা শ্রেনীর অপরাধী চক্র।
এ ব্যাপারে অভিযোগ উঠা এএসআই মহি উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক ও গভীর রাতে ছেড়ে দেয়ার কথা স্বীকার করলেও অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেন। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের দাবী সরেজমিনে তদন্ত করলে এসব ঘটনার সত্যতা মিলবে। তারা তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নিতে উধ্বর্তন র্কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ত্রাণ সংগ্রহের ‘লড়াইয়ে’ পুরনো রোহিঙ্গারাও

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
রোহিঙ্গাদের মধ্যে কে নতুন আর কে পুরনো বোঝা বেশ কঠিন। এ সুযোগে নতুনদের জন্য দেওয়া ত্রাণে পুরনো রোহিঙ্গারাও ভাগ বসাচ্ছে। নতুনদের সঙ্গে মিশে পুরনোরাও রাস্তায় এসে ত্রাণ সংগ্রহ করছে সারাদিন। ফলে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করছেন নতুন করে আসা রোহিঙ্গা। উখিয়ার বালুখালী থেকে কুতুপালং পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার সড়কের দুই ধারে হাজার হাজার রোহিঙ্গা ত্রাণের জন্য বসে থাকেন। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি ও তাদের সন্তানরা বিভিন্ন স্থানে বসে থাকেন। যাতে বেশি বেশি ত্রাণ সংগ্রহ করা যায়। কিছুক্ষণ কোনও সড়কে দাঁড়ালেই যে কারও চোখে এই দৃশ্য ধরা পড়বে। এই কথা জানিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনও বারবার সমন্বয় করে ত্রাণ দেওয়ার কথা বলছে। উখিয়ার বালুখালী, থ্যাংখালী, পালংখালী এবং টেকনাফের উনছিপ্রাং, নয়াবাড়ি এলাকার রাস্তার দু’ধারে এখন কেবল রোহিঙ্গাই চোখে পড়ে। সব নারী আর শিশু। নারীরা বোরকা পরে সারাদিন ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে রাস্তার পাশেই বসে থাকেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গাড়ি সাধারণত তাদের ত্রাণ দিয়ে থাকে। গাড়ি থেকে দেওয়া ত্রাণ নিতে রীতিমত যুদ্ধে নেমে পড়েন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু। কারণ মানুষের তুলনায় ত্রাণের সংখ্যা খুবই কম। গায়ে শক্তি যার বেশি তিনিই ‘ত্রাণ যুদ্ধে’ জিতে যাচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, শাহ পরীর দ্বীপে রোহিঙ্গাদের নৌকা ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের হাতে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ টাকা দিচ্ছেন অনেকেই। এই সাহায্যের হাত পাশে থাকছে উখিয়া পর্যন্ত। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সহযোগিতা করছেন বাংলাদেশের মানুষ। তবে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের কাছে গিয়ে আর ক্যাম্পে প্রবেশ করেন না। রাস্তাতেই থাকেন। কারণ ত্রাণ। কোনোভাবেই তাদের রাস্তা থেকে সড়ানো যাচ্ছে না। এতে টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সড়কপথে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এখন নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে পুরনো রোহিঙ্গারাও ত্রাণ নিতে রাস্তায় বসে গিয়েছেন। কুতুপালংয়ের নিবন্ধিত ক্যাম্পের রোহিঙ্গারাও এখন ত্রাণের জন্য রাস্তায় চলে এসেছেন।
কুতুপালং ক্যাম্পে জন্ম হয়েছে ইকবাল নামে এক রোহিঙ্গা ছেলের। তার বয়স এখন ১৪। এই কিশোর কুতুপালং আমতলা বস্তির সামনে এসে ত্রাণ সংগ্রহ করছে। তাকে বেশ খবরদারি করতে দেখা যায়। তার সঙ্গে কথা হলে সে তার বিষয় নিজেই সব বলে দেয়। সে কেন ত্রাণ নিতে এসেছে- জানতে চাইলে ইকবাল বলে, ‘আমাদের সবার জন্যই এই ত্রাণ।’ বালুখালী ঢাল থেকে নেমে একটু সামনে গিয়েই দেখা যায় রাস্তার পাশেই পলিথিন দিয়ে সারি সারি টং ঘর তুলেছেন রোহিঙ্গারা। এই ঘরের ভেতরে তারা থাকেন শুধু ত্রাণের জন্য। যত বেশি রাস্তার পাশে থাকা যাবে ততবেশি ত্রাণ। এই ঘরের একজন হামিদা খাতুন বলেন, ‘আমরা পাহাড়ে জায়গা পাইনি। তাই রাস্তার পাশেই ঘর করে থাকছি।’ বস্তি সংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে, প্রতিদিন অন্তত দুই বেলা রোহিঙ্গাদের ভাষায় বস্তি সংলগ্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। মাইকিং করে রোহিঙ্গাদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে রোহিঙ্গারা তা পাত্তাই দিচ্ছে না। তারা কোনও গাড়ি দেখলেই ছুটে আসেন। যারা ত্রাণ দেন তারাও রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ত্রাণ দিয়ে চলে যাচ্ছেন। এভাবে ত্রাণ নিতে গিয়েও অনেক রোহিঙ্গা আহতও হচ্ছেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মাহিদুর রহামান বলেন, ‘আমরা তাদের (রোহিঙ্গা) এক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। সমন্বয় করে ত্রাণ দেওয়ার কাজও চলছে। ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকই রাস্তায় রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিচ্ছেন। তারা যাওয়ার সময় গাড়ি থেকে ত্রাণ দিচ্ছেন। তাদেরও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কারণ একারণে রোহিঙ্গারা রাস্তাতেই থাকছে।

 

ভারুয়াখালীর মাসুদ বাঁচতে চায়

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধি, কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকার মৃত ছৈয়দ আলমের পুত্র মাসুদ পারভেজ বাঁচতে চাই। মাসুদ দীর্ঘদিন ছাত্র-যুব রাজনীতি করেছেন। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারন করে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও যুবলীগের দুইবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে। বর্তমানে কক্সবাজার সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পরিবারের যা ছিল সহায় সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসার কাজে ব্যয় করেছে। এই এতিম ছেলেটার আত্বীয়-স্বজনরাও যা পারে দিয়েছে। এখন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৫০৬ নং কেবিনে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ইতিমধ্যে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়ে দিয়েছে তাকে বাঁচিয়ে রাখতে শরীরে কয়েকটি অপরেশন প্রয়োজন। যার জন্য রেফার করেছে ঢাকা বারডেম হাসপাতালে। অর্থের অভাবে যেতে পারছেনা উন্নত চিকিৎসার জন্য। তার চিকিৎসার জন্য ৪/৫ লক্ষ টাকা লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। এত টাকা মাসুদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। যা ছিল সবটুকু শেষ। মাসুদ সারাজীবন মানুষের কল্যানে কাটিয়েছে মুল্যবান সময়।
এলাকাবাসীদের মতে, এত অল্প বয়সে চলে যাবে মাসুদ? আমরা কি পারি না তার জন্য অর্থের হাত বাড়াতে? জীবন রক্ষা করার মালিক আল্লাহ আমরা যদি তার জন্য দোয়া ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারি কিছুটা হলেও বাঁচার সম্ভবনা বেশি। ফুটফুটে সন্তান নববধু নিয়ে খুব টেনশনে রয়েছে তার স্বজনরা। একজন দলীয় নেতাকে হারানোর চিন্তয় হাজার হাজার নেতাকর্মী। দলবল নির্বিশেষে একজন মা-বাবা হারানো এতিম যুবকের জন্য সাহায্যের হাত বাঁড়ায়। আসুন মানবতার জন্য হাত বাঁড়ায়। আপনার সামান্য সহযোগীতায় বাঁচতে পারে একজন যুবক, একজন সন্তানের বাবা, একজন নববধূর স্বামী। সাহায্য পাঠাতে পারেন মাসুদ পারভেজের ভগ্নিপতি নুরুল হুদা মেহেদি-০১৭১৫-৩০৭২৬২।

 

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ

চন্দনাইশে বস্ত্রবিতরণকালে-মফিজুর রহমান

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির অনন্য দৃষ্টান্ত, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার আমরা এই নীতিতে বিশ্বাসী, আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ সুন্দর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। এই সম্প্রীতির পরিবেশকে বার বার নষ্ট করার পায়তারা করছে একটি মহল। ধর্মের নামে কোন জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আমাদের সরকার বরদাশত করবেনা। ২১ সেপ্টেম্বর চন্দনাইশ উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদকে গরীব, অসচ্ছল পূজার্থীদের জন্য বস্ত্র হস্তান্তর কালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান উপরোক্ত কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি উৎপল রক্ষিত, সহ-সভাপতি অমিতাব চৌধুরী টিটু, সাধারণ সম্পাদক- বাবু বলরাম চক্রবর্তী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবু জাফর, সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন, দক্ষিণ কৃষক লীগের সভাপতি আতিকুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য মোরশেদুল আলম সিকদার, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ নেতা এম. মনজুর আলম, রিহান পারভেজ, মো. ছোটন, মোরশেদ প্রমূখ।

শৃঙ্খলা হচ্ছে উন্নয়নের মূল সোপান- বাদল

‘দেশকে উন্নয়নের সোপানে দাঁড় করাতে প্রয়োজন শৃঙ্খলা। শৃঙ্খলা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি করতে পারে না। স্কাউট হচ্ছে সু-শৃঙ্খল জাতি গঠনে একটি আন্দোলনের নাম। স্কাউটরা এ্যাওয়ার্ড কিংবা বেইজ অর্জন করে ঘরে বসে থাকলে হবে না। দেশ ও সমাজের কল্যাণে ছড়িয়ে পড়তে হবে।’
বৃহস্পতিবার(২১ সেপ্টেম্বর) সকালে কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্কাউট বোয়ালখালী উপজেলার ত্রয়োদশ বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ৮ আসনের সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদল এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা না থাকায় কত মানুষের শ্রম ঘন্টা নষ্ট হয় তার একটি দৃষ্টান্ত কালুরঘাট সেতু। স্কাউটরা কালুরঘাট সেতু পরিদর্শন করে সেখানে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতে পারে। অসামাজিক যে কোন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে।’
উপজেলা স্কাউটস সভাপতি নির্বাহী অফিসার আফিয়া আখতার এর সভাপতিত্বে ও সম্পাদক শিক্ষক জানে আলমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিসদ চেয়ারম্যান মো. আতাউল হক, থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সালাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা এস এম সেলিম, জাসদ সভাপতি মনির খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ইউনুচ, শিক্ষা অফিসার সদানন্দ পাল, সাংবাদিক অধীর বড়–য়া, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নুরুল কবির, এস এম জসিম উদ্দিন ও স্বপন শীল।
এ সময় বোয়ালখালী উপজেলা স্কাউট থেকে প্রেসিডেন্ট এ্যাওয়ার্ড, সমাজ কল্যাণ এ্যাওয়ার্ড ও শাপলা এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কৃতজ্ঞতা স্বরুপ মেয়ের নাম রেখেছেন শেখ হাসিনা

২০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা মুসলিম নারী খাদিজা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর জাতিগত নিধন শুরু হলে নাফ নদী পেরিয়ে শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে আসেন আটমাসের অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা। বাংলাদেশে এসে কন্যা সন্তানের জননী হয়েছেন তিনি। তাইতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরুপ মেয়ের নাম রেখেছেন শেখ হাসিনা।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়াটুডে’র প্রতিবেদন অনুসারে, খাদিজার পিতা নুরুদ্দিন ও স্বামী ফখরুদ্দীনকে মিয়ানমারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মা আলুম বাহারের হাত ধরে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে অাশ্রয় নেন অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা।
রাখাইনে নির্যাতনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে খাদিজা সাংবাদিকদের বলেন, পুরো রাখাইন রাজ্য আগুনে জ্বলছে। আমাদের বাড়ি ঘরও পুরিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রাণভয়ে আমরা ঘর-বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই, গর্ভে সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে থাকি। একপর্যায়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। এখানেই আমি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেই। রাখাইনের সহিংসতায় আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। মেয়ের নাম রেখেছি শেখ হাসিনা।
ছয় সদস্যের পরিবারের মধ্যে থেকে এখন মেয়ে ও মা’ই তার বেঁচে থাকার সম্বল খাদিজার। শুধু খাদিজা একাই নয় বরং তার মত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা নারী শরণার্থী আছেন যারা অন্তঃসত্ত্বা।
খাদিজার মা আলুম বাহার সাংবাদিকদের বলেন, অনেক ব্যথা সহ্য করে আমরা বাংলাদেশে এসেছি। আমার কন্যা তখন গর্ভবতী ছিল। সে এখানেই একটি শিশুর জন্মদিয়েছে। আমরা তার নাম রেখেছি শেখ হাসিনা। সে আমাদের নতুন জীবনের আশা দেখিয়েছে, আমরা আমাদের জীবনে এখন কিছুটা শান্তি আশা করতে পারি।
প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হলে প্রাণভয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়। উদার মন ও মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের দু:খ কষ্টে সমব্যথী হয়ে তিনি রোহিঙ্গাদের ‘মিয়ানমার সরকার যতদিন ফিরিয়ে না নেবে’ ততদিন আশ্রয় দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ খাবার ভাগাভাগি করে খাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সাধুবাদ জানিয়েছে গোটা বিশ্বের মানুষ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন।

বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন

 

বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগ গঠন কল্পে এক সাধারণ সভা ২০ সেপ্টেম্বর কলেজ মিলনায়তনে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি একরামুল হক মুন্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল মোনাফ। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হাসান রুবেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌরসভা ছাত্রলীগের আহবায়ক গিয়াস উদ্দীন সুমন।
সভায় সর্বসস্মতিক্রমে একরামুল হক মুন্না কে সভাপতি, নয়ন উদ্দীন রিকন কে সাধারন সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট ১ বছরের জন্য বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি

 

ঈদগাঁওর শামশু হত্যা মামলার ২ আসামী গ্রেফতার

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও জালালাবাদের আলোচিত শামশু হত্যার এজাহার নামীয় ও সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২১ সেপ্টেম্বর পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হল জালালাবাদ বাহার ছড়া এলাকার মৃত আবদুর রহমানের পুত্র নুরুল হক(৪০),ঈদগাঁও ইউনিয়েনর শিয়াপাড়া এলাকার মোজাফ্ফর আহমদের পুত্র ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত মাহমুদুল হক।
পুলিশ সুত্র জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই জাহাঙ্গীরর আলম সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে রামু রশিদ নগর নতুন বাজার এলাকার থেকে তাকে গ্রেফতার করে। অপরদিকে এএসআই লিটনুর রহমান জয়, অভিযান চালিয়ে বাসষ্টেশন এলাকা থেকে বন মামলার ছয় মাসের সাজাসহ আরও একটি মামলার আসামী মাহমুদুল হককে গ্রেফতার করে।
এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানায়,জালালাবাদের চাঞ্চল্যকর শামশুল আলম হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামী নুরুল হক ঘটনার সাথে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ খাইরুজ্জামান গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হবে বলে জানান।

চার রোহিঙ্গা অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এক নারীসহ চার রোহিঙ্গা অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

এদের মধ্যে একজন জন্ডিসে এবং একজন জ্বরে আক্রান্ত বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে।

বুধবার রাতে মাথা ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন মো. হোসেন (৫০)। তিনি মিয়ানমারের মংডু থানার হাসুয়াথা গ্রামের মৃত মিয়া হোসেনের ছেলে।

একই সময়ে আসা আরেক রোহিঙ্গা নজির হোসেন (৫০) মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার থাম বাজারের বাসিন্দা।

ফাঁড়ি পুলিশের এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, নজির হোসেন জন্ডিসে আক্রান্ত। তাকে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করানো হয়েছে।

মাথায় আঘাত নিয়ে চমেকে ভর্তি হয়েছেন মো. জকির (২৮)। তিনি মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদের ছেলে। তাকে হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে চমেকে ভর্তি হয়েছেন রোহিঙ্গা নারী মোসাম্মৎ রাজিয়া। তার স্বামীর নাম ফয়সাল।

এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, মোসাম্মৎ রাজিয়া জ্বর এবং অন্য শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অগাস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গুলি-বোমা হামলা, বাড়িতে আগুন দেয়া এবং সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতরা চমেক হাসপাতালে আসতে শুরু করে।

শুরুতে গুলিবিদ্ধ, বোমায় দগ্ধ এবং হাত-পা ভাঙ্গা আহত মানুষের সংখ্যা ছিল বেশি। পরে মাইনে দগ্ধ দুজনও এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে।

সব শেষ বুধ ও বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ কেউ নেই।

Scroll To Top