শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / স্বাস্থ্য

বিভাগ: স্বাস্থ্য

Feed Subscription

চার রোহিঙ্গা অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এক নারীসহ চার রোহিঙ্গা অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

এদের মধ্যে একজন জন্ডিসে এবং একজন জ্বরে আক্রান্ত বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে।

বুধবার রাতে মাথা ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন মো. হোসেন (৫০)। তিনি মিয়ানমারের মংডু থানার হাসুয়াথা গ্রামের মৃত মিয়া হোসেনের ছেলে।

একই সময়ে আসা আরেক রোহিঙ্গা নজির হোসেন (৫০) মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার থাম বাজারের বাসিন্দা।

ফাঁড়ি পুলিশের এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, নজির হোসেন জন্ডিসে আক্রান্ত। তাকে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করানো হয়েছে।

মাথায় আঘাত নিয়ে চমেকে ভর্তি হয়েছেন মো. জকির (২৮)। তিনি মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদের ছেলে। তাকে হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে চমেকে ভর্তি হয়েছেন রোহিঙ্গা নারী মোসাম্মৎ রাজিয়া। তার স্বামীর নাম ফয়সাল।

এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, মোসাম্মৎ রাজিয়া জ্বর এবং অন্য শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অগাস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গুলি-বোমা হামলা, বাড়িতে আগুন দেয়া এবং সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতরা চমেক হাসপাতালে আসতে শুরু করে।

শুরুতে গুলিবিদ্ধ, বোমায় দগ্ধ এবং হাত-পা ভাঙ্গা আহত মানুষের সংখ্যা ছিল বেশি। পরে মাইনে দগ্ধ দুজনও এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে।

সব শেষ বুধ ও বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ কেউ নেই।

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল আগ্রাবাদ

 

 

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে ফ্রি নাক-কান-গলা চিকিৎসা ক্যাম্প গত ২০ সেপ্টম্বর অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৭ নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ এইচ এম সোহেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এন্ড ইনচার্জ আইবিটিআরএ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। উক্ত ক্যাম্পে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল চট্টগ্রাম এর সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ এস এম রফিকুল ইসলাম। উক্ত ক্যাম্পে আগত রোগীদের চিকিৎসা দেন নাক-কান-গলা বিশেজ্ঞ ও হেডনেক সার্জন মেজর (অবঃ) ডাঃ রেজাউল করিম।
প্রধান অতিথি জনাব এস এম সোহেল জনকল্যাণ মূলক ফ্রি নাক-কান-গলা চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজনের জন্য ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল আগ্রাবাদের প্রশংসা করেন। তিনি আরো বলেন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল সুনামের সাথে সমগ্র বাংলাদেশে পরিচিতি লাভ করেছে। সে ধারাবাহিকতা চট্টগ্রামেও বজায় রাখার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন।
বিশেষ অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ইতিমধ্যে সঠিক রোগ নির্ণয়, সর্বোচ্চ ডিসকাউন্ট ও উন্নত সেবা প্রদানের মাধ্যমে সর্বসাধারনের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
সভাপতি উপস্থিত সবাইকে হিংসা-বিদ্বেষ ছেড়ে ত্যাগের মহিমায় জীবন গড়ার আহবান জানান। তিনি প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আর্মি মেডিকেল কোরের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা দিন

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান সমন্বয়কারী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ২৮জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ৫০জন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত রোহিঙ্গা শিবির কুতপালন, পালংখালী, বালুখালী, বাঘঘোনা এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প শেষে বলেন, প্রায় ১০হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, নগদ অর্থ প্রদান, হাই এনার্জি বিস্কিট, দুধ সহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
তিনি আরো বলেন, সরকারী দলের কোন চিকিৎসক সংগঠনকে উখিয়া এলাকায় দেখা যায়নি। অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের সমন্নিত চিকিৎসার জন্য আর্মি মেডিকেল কোরের (অগঈ) মাধ্যমে যদি সমন্নিত চিকিৎসা ও খাদ্য সামগ্রী দেয়া না হয় তাহলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিশু, মা অকালেই মৃত্যুবরণ করবে। ফুসফুসের নিউমোনিয়া জনিত রোগ, ডায়রিয়া, চর্মরোগের ইনফেকশনে ইপিআই, (ঠধপপরহধঃরড়হ) সুবিধা না পাওয়ার কারণে এই মৃত্যু হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিন দিন ব্যাপী জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের এই চিকিৎসা সেবা ও ত্রাণ বিতরণ ক্যাম্পে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সম্মানিত ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মেডিকেল ক্যাম্পটি সার্বিক ভাবে পরিচালনা করেন জিয়াউর ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিনএপির যুগ্ম মহা সচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সমাজ সেবা সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, মৎস বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, সহ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আফজাল হোসেন সবুজ, কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম (নীরব), সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন (টুকু), সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, উপজেলা চেয়ারম্যান সরোয়ার জাহান, মেডিকেল টিমের প্রধান অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দীন, সদস্য সচিব ডা. সরোয়ার আলমের তত্ত্বাবধানে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ২৮জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক গাজী মো: সিরাজ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সহ-স্বেচ্ছা বিষয়ক সম্পাদক আরিফ মেহেদী, নগর ছাত্রদলের সহসভাপতি জসিম উদ্দীন চৌধুরী, জিয়াউর রহমান জিয়া, ছাত্রদল নেতা মোস্তাকিম মাহমুদ প্রমুখ।

শরীরে ব্যথানাশক ওষুধের মতোই কাজ করে পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতা শরীরে ব্যথানাশক ওষুধের মতোই কাজ করে। ব্যথানাশক যেসব ওষুধ বাজারে পাওয়া যায় তার সব ক’টিতেই পুদিনা পাতার ব্যবহার রয়েছে। এর কারণ হচ্ছে পুদিনা পাতার রস তাৎক্ষণিক ব্যথানাশক উপাদান হিসেবে কাজ করে। পুদিনা পাতার রস চামড়ার ভেতর দিয়ে নার্ভে পৌঁছে নার্ভ শান্ত করতে সহায়তা করে। তাই মাথাব্যথা বা জয়েন্টে ব্যথা উপশমে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যায়। মাথাব্যথা হলে পুদিনা পাতার চা পান করতে পারেন। অথবা তাজা কিছু পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। জয়েন্টে ব্যথায় পুদিনা পাতা বেটে লেপ দিতে পারেন। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানে ভরপুর পুদিনা পাতা দাঁত এবং মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। পুদিনা পাতার রস মিশ্রিত পানি দিয়ে প্রতিদিন কুলকুচা করার অভ্যাস করলে দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা ও সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারবেন। এছাড়া মাড়ির ইনফেকশনজনিত সমস্যা দূর করতে তাজা পুদিনা পাতা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। পুদিনা পাতায় রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন-সি, ডি, ই এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। যারা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যায় ভোগেন তারা নিয়মিত পুদিনা পাতা খাওয়ার অভ্যাস করুন। সালাদ কিংবা অন্যান্য রান্নায় পুদিনা পাতা ব্যবহার করুন। খেতে পারেন পুদিনা পাতার শরবত। মোটকথা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও ব্যথামুক্ত থাকতে পুদিনা পাতা খুব বেশি কার্যকরী।

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বাড়ছে রোগবালাই

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ও নাইক্ষ্যং ছড়ির ঘুমধুমে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা শরণার্থীরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। দিন যদ ঘনিয়ে আসছে কষ্টের ভার প্রকট আকার ধারন করছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে বেশিরভাগ রোহিঙ্গার। তাদের সঙ্গে থাকা শিশুদের অবস্থা আরও ব্যাপক হুমকি হয়ে পড়ছে। এদিকে গতকাল রাত থেকে শুরু হওয়া মৌসুমী বৃষ্টি ও ভৌওরী আবহাওয়ার কারনে প্রায় নারী ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা গুলো পর্যাপ্ত ঔষুধ সর্বরাহ দিতে না পারায় অকালে মুত্যুর মুখে পতিত হতে পারে এই অনাথ শিশুদের জীবন। এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের জন্য বিশেষ ইপিআই কর্মসূচী চালু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল থেকে উখিয়া-টেকনাফ-নাইক্ষংছড়ি উপজেলা রেজিষ্ট্রার ও আনরেজিষ্ট্রার এবং রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদেও জন্য এই কর্মসূচি চালু করেছে। উখিয়া উপজেলার সবকয়টি রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের ২৪টি ইপিআই বিশেষ সেন্টাওে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। রোহিঙ্গা শিশুদের হাম, পোলিও, রুবেলা ও ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে। রোহিঙ্গা মায়েরা না খেয়ে দীর্ঘপথ হেঁটে বাংলাদেশে আসায় তাদের অবস্থাও গুরুতর। এ কারণে শিশুকে বুকের দুধ দিতে না পারায় শিশুদের অবস্থা হাড্ডিসারে পরিনত হয়েছে । হাজার হাজার শিশুর শরীর জ্বরে পুড়লেও কোলে নিয়ে বসে থাকা ছাড়া মায়েদের কিছু করা নেই। তার উপর সবখানে পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়া, আমাশয়, নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় শিশুদের অবস্থা আরও চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকলেও বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির জন্য এ সেবা নিতান্তই অপ্রতুল বলে জানা গেছে। গতকাল সকাল থেকে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী ও হাকিমপাড়া সহ কয়েকটি স্থায়ী ও অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে দেখা যায়, মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে দুই লাখের বেশিই শিশু, যা এবার আসা মোট শরণার্থীর ৬০ শতাংশ। এদের মধ্যে অনেক শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব শিশুর সাহায্যের দরকার। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া দুই লাখ রোহিঙ্গা শিশুর ঝুঁকিতে থাকার কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘের এ সংস্থার শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান জ্যঁ লিবি জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ঢাকা থেকে ইউনিসেফের সহায়তার জরুরী সামগ্রী কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ক্যাম্পগুলোয় সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার। উখিয়ার কুতুপালং রেজিষ্ট্রাট ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার মধেও এমন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে দেখা গেছে রোহিঙ্গা নারীরা খাল-বিল ও নালার জমাট বাধা পরিত্যক্ত অপরিচ্ছন্ন পানিতে তাদের ব্যবহৃত কাপড় চোপড় ও থালা বাসন পরিষ্কার করছেন। আবার একই পানিতে মলমূত্র ত্যাগ করছেন। শরণার্থী শিবিরগুলো প্রতিদিনই বড় হচ্ছে এবং সেখানে সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। পানিবাহিত কোনো রোগ যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য চেষ্টা করা হলেও এত এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে বহু নারী, শিশু ও বৃদ্ধ অল্প জায়গার মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে ক্যাম্পের শিশুরা পানিবাহিত রোগের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার রবিউর রহমান রবি জানান, ‘অপরিচ্ছন্ন পানি ব্যবহার করলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাছাড়া বিশুদ্ধ পানির অভাবে শিশুরা পানিবাহিত রোগে আকান্ত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ডায়েরিয়া ও আমাশায় আক্রান্ত হয়ে উখিয়া হাসপাতালে আসা প্রতিদিন অসংখ্য রোহিঙ্গা শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ বালুখালী হাতির ডেরা ও তাজনিরমার খোলা এলাকায় আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান পার্শ্ববর্তী গ্রামের বসতবাড়িতে টিউবয়েল থাকলেও রোহিঙ্গাদের চাহিদা বেশি থাকার কারণে ঠিকমত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে রোহিঙ্গা নারীরা খাল ও ছরার পানি দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সারছেন। এর ফলে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হচ্ছে তাদের। একই বস্তির আমেনা বেগম জানান, পানি ও খাবারের অভাবে তার পরিবারে চার শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এ সময় তিন বছর বয়সী শিশু আছিফাকে নিয়ে মা শরিয়া বেগম কাঁদতে কাঁদতে জানান, তিন দিন ধরে তার মেয়ে জ্বর ও ডায়েরিয়ায় ভুগছেন। স্থানীয় বেশ কয়েকজন ওই মহিলাকে চিকিৎসার জন্য টাকা দিতে দেখা গেছে। এছাড়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে আশ্রয় নেওয়া প্রতিটি বস্তিতেও এমন চিত্র দেখা গেছে। এদিকে, বিশুদ্ধ পানি ও স্যনিটেশন ব্যবস্থা বাদে, সবচেয়ে বড় যে সমস্যায় ভুগছে রোহিঙ্গারা তা হল ত্রাণের অপ্রতুলতা। ইতিমধ্যে প্রায় চার লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা, তবে এদের জন্য যে পরিমান ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তা অনেক কম। বিভিন্ন সংগঠন থেকে ত্রাণ ততপরতা চালান হলেও তা পোষাচ্ছে না। মালয়েশিয়া প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া তুরস্ক সরকারের পাঠানো এক হাজার টন ত্রাণ কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিতরণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের দেখে বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ান। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ১০ হাজার টন ত্রাণ পাঠানোর কথা রয়েছে তুরস্কর। ডেনমার্ক সরকার জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-কে ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ডব্লিউএফপি ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর মাধ্যমে ডেনিস ত্রাণ সহায়তা শরণার্থীদের কাছে পৌঁছাবে। ইরান থেকেও খুব শিগগিরই ত্রাণ পাঠানোর কথা রয়েছে। কিন্তু এগুলো যথাযথভাবে বন্টন না হলে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সমস্যা দূর হবে না। অনেক এইসব ত্রাণ সহয়তা লুটপাট হতে পারে বলেও শংকায় রয়েছেন।

হলুদের ব্যবহার

বাঙালির রান্নায় হলুদের ব্যবহার থাকবেই। মাছ, মাংস কিংবা সবজিতে হলুদ না দিলে রঙ হয় না ঠিকই, কিন্তু, হলুদের আরও গুণাগুণ আছে। সেটা জানেন? হলুদের এমন অনেক গুণ রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। যেমন বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে হলুদ। বাজার চলতি যে সমস্ত অ্যান্টি এজিং ক্রিম আপনি ব্যবহার করেন, সেই ক্রিমগুলির তুলনায় হলুদ কিন্তু অনেকটাই এগিয়ে।

গাঁটের ব্যথা থেকে রক্ষা করতে পারে হলুদ। অর্থাৎ, প্রতিদিন নিয়ম করে যদি হলুদ খেতে পারেন, তাহলে বিভিন্ন ধরণের ব্যথা থেকে মিলবে মুক্তি। গাঁটের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে হলুদের সাহায্য নিতেই পারেন আপনি।

মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সাহায্য করে হলুদ। মস্তিষ্কের যেকোনো ধরণের রোগ থেকেও মুক্তি দিতে পারে হলুদ।

খাবারে হলুদ ব্যবহার করলে হজম শক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও পেতে পারেন উপকার। অর্থাৎ, যেকোনো ধরণের খাবারের পর হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে হলুদ। গ্যাস, অম্বল এবং অ্যাসিডিটি থেকেও মুক্তি দেয় হলুদ। খাবারে বিষক্রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসাও হলুদ দিয়ে করতে পারেন।

হৃদ রোগের হাত থেকে রক্ষা করতেও হলুদের জুড়ি নেই। তাই হৃদ রোগের সম্ভাবনা থেকে যদি মুক্তি চান, অবশ্যই ডায়েট চার্টে রাখুন হলুদ।

এসবের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে, যেকোনো ধরণের ফাঙ্গাল ইনফেকশন থেকে রক্ষা পেতে, অ্যালার্জির হাত থেকে রেহাই পেতে এবং যে কোনও ধরণের ত্বকের সমস্যা সমাধানে হলুদের জুড়ি মেলা ভার। তাই এবার থেকে রান্না ঘরের মশলা হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি হলুদকে ব্যবহার করে ফেলুন বিভিন্ন কাজে। আর দেখুন ম্যাজিক।

রোহিঙ্গা বস্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শিশুদের মাঝে নানা সংক্রামক ব্যাধি থাকতে পারে এবং তাদের মাঝে সংক্রামক রোগ সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কায় রোহিঙ্গা বস্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

আজ শনিবার সকাল ৯টায় উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এইা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আবদুল সালাম।

তিনি জানান, মিয়ানমার থেকে যারা বাংলাদেশে আসছে তারা অধিকাংশ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধি থাকতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মাঝে এসব ছোঁয়াচে রোগ হতে পারে। এতে রোহিঙ্গা শিশুদের থেকে সংক্রামক রোগ বাংলাদেশের স্থানীয়দের মাঝে ছড়াতে পারে। তাই রোহিঙ্গা শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচাতে এবং স্থানীয়দের মাঝে যাতে সংক্রামক রোগ ছড়াতে না পারে সেই জন্য আজ (শনিবার) থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এতে ইউনিসেফ সহযোগিতা করছে বলেও ডা. আবদুল সালাম জানান।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. রঞ্জন বড়ুয়া রাজন জানান, ৬ মাস থেকে ১৫ বছরের সকল শিশুকে হাম রোবেলা (এমআর) ও শূন্য থেকে ৫ বছরের সকল শিশুকে পোলিও টিকা ও ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সকল রোহিঙ্গা শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনায় হবে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে লালশাক

ছোট-বড় সবার খুব প্রিয় লালশাক। লালশাক রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়। ফলে যাদের রক্তস্বল্পতা রয়েছে তারা নিয়মিত লালশাক খেলে রক্তস্বল্পতা পূরণ হয়। লালশাক ভিটামিন ‘এ’-তে ভরপুর। লালশাক নিয়মিত খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে এবং অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

 

লালশাকের আরও উপকারিতা রয়েছে- ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও লালশাক যথেষ্ট উপকারী। এ ছাড়া এটি শরীরের ওজন হ্রাস করে।আঁশজাতীয় অংশ খাবার পরিপাকে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।ভিটামিন ‘সি’-এর অভাবজনিত স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়।

 

এটি মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডকে শক্তিশালী করে। দাঁতের মাড়ি ফোলা প্রতিরোধ করে। শিশুদের অপুষ্টি দূর করে। শরীরে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে গিয়ে যেসব অসুখ হয় তা প্রতিরোধ হয়। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

সেনাবাহিনী উদ্যোগে চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান

বান্দরবানের লামা উপজেলায় দিনব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে দুঃস্থ ও অসহায় পাঁচ শতাধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙ্গালিদের মাঝে এ চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া শুরু হয়। চলবে বিকেল পর্যন্ত।

 

আলীকদম সেনাবাহিনীর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান (পিএসসি) ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। এসময় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছাচিংপ্রু মারমা, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামানসহ পরিষদের সকল সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ডা. আসিফুর রহমান ও ক্যাপ্টেন ডা. নিগার সুলতানার নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

 

চিকিৎসা সেবা নিতে যাওয়া বালুচরপাড়ার বাসিন্দা ম্রাখাইচিং মারমা (৪০), পোয়াংচিংউ (৭০), মুরুংঝিরির বাসিন্দা মো. মাইন উদ্দিন (৪৫), রুপসিপাড়া বাজারের আবুল কাদের (৬০), দরদরী মারমা পাড়ার মংব্রাচিং মারমা (৬) এবং লাচ্ছাইপাড়ার মাকিউচিং (৩৪) জানান, তারা সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ফ্রি ব্যবস্থাপত্র ও ভালো মানের ওষুধ পেয়েছেন। এতে তারা খুব খুশি।

 

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছাচিংপ্রু মারমা বলেন, ইউনিয়নের দুর্গম এলাকার অনেক দরিদ্র নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ফ্রি চিকিৎসা সেবা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন। রুপসিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আলীকদম জোনের এই মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।

 

৫ রোহিঙ্গাকে চমেকে ভর্তি করা হয়েছে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহিংসতায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত দুই জন-সহ আরো ৫ রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়েছে।

 

রবিবার রাতে তাদের হাসপাতালে নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক আমির হোসেন।

 

আহতরা হলেন- ইউসুফ নবী (২৮), মো. হাসান (২৫), নুর হোসেন (৯), মো. মামুন (২৫) ও সোহানা (৪০ দিন) নামের এক নবজাতক।

 

তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান নায়েক আমির।

Scroll To Top