শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / মুক্ত জানালা

বিভাগ: মুক্ত জানালা

Feed Subscription

“শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করন সময়ের দাবী”

শিক্ষকরাই হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগর। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজ আজ বঞ্চনার শিকার। এমপিওভুক্ত সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীদের তাঁদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে বারবার রাস্তায় নামতে হচ্ছে বা আন্দোলন করতে হচ্ছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ মূল বেতন স্কেলের সাথে ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি সহ সুযোগ-সুবিধার আশ্বাসে টাইমস্কেল বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন শিক্ষকরা না পাচ্ছেন ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, না পাচ্ছেন টাইমস্কেল। বাড়িভাতা ১০০০ টাকা, চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা, উৎসবভাতা সরকারি চাকরিজীবীদের চারভাগের একভাগ।বৈশাখীভাতা প্রদানের আশ্বাস দিলেও শিক্ষকদের রাস্তায় নেমে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ করে ও কোন  সুফল আসেনি , উল্টো গত ১৫ ও ২০ জুন পৃথক দুইটি গেজেটের মাধ্যমেঅবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টেরবিদ্যমান চাঁদার হার ৬% এর পরিবর্তে মূল বেতনের ১০ % উন্নীত করেন,চাঁদার হার বাড়ালেও শিক্ষকদের অবসর সুবিধা থাকবে আগের মতোই। এরপর থেকেই অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যার প্রতিফলন ঘটে দেশের শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক সংবাদ পত্র সমূহে ।অবশেষে গত ২০/০৭/২০১৭ ইং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় এক বিবৃতির মাধ্যমে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে অতিরিক্ত কর্তনের গেজেট অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন ।

উল্লেখ্য, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েকর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, মূল বেতনের ৪৫% বাড়িভাতা, ১৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা, ১০০% উৎসব ভাতা, ২০%  বৈশাখীভাতা ,যাতায়াত ভাতা ,শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, ভ্রমনভাতা, স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ ,আবাসন সুবিধা,পেনশন সহ সরকারের দেয়া সকল সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।

অথচ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা প্রারম্ভিক বেতনের সাথে বাড়িভাতা ১০০০ টাকা, চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা, উৎসবভাতা সরকারি চাকরিজীবীদের চারভাগের একভাগ । আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সম্মানী প্রদান করা হয়। শিক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব রাষ্ট্রের যেখানে সরকারী বেসরকারি বিভাজন নেই।

আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সরকারি ও বেসরকারি ছাড়া ওবহুধা বিভক্ত। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার সংখ্যা হচ্ছে মাত্র ২% এবং বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার সংখ্যা হলো ৯৮%। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ শুধুমাত্র মূল বেতন ও নামমাত্র সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

২০১০ সালের শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রদানের অঙ্গীকার রয়েছে। যা আজও আলোর মুখ দেখেনি। উল্লেখ্য, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই সিলেবাস ও একই যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকরা শিক্ষা দিয়ে থাকেন। সঙ্গত কারণে কেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আজ এই বৈষম্যের শিকার? কেন শিক্ষকগণ তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত? মূল বেতন স্কেল প্রদান করা স্বত্ত্বেও কেন তাঁরা আনুসাঙ্গিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত? কেন বেসরকারি শিক্ষকরা বৈশাখীভাতা, পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাতা, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসবভাতা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট থেকে বঞ্চিত? কেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহকেজাতীয়করণ করা হচ্ছে না? কেন আংশিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হচ্ছে? কেন বেসরকারি শিক্ষকদের অবহেলায় চোখে দেখা হচ্ছে? দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৈশাখীভাতা, ইনক্রিমেন্ট এবং পূর্ণাঙ্গ উৎসব বোনাস, বাড়িভাতা ও চিকিৎসাভাতাসহ বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন, মিছিল, সভা-সমাবেশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্ঠি আকর্ষণের চেষ্টা করাহয়েছে। জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকদের চাকুরী জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে সরকারী বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন ।

যেমনি ভাবে১৯৭২-৭৩সালেজাতিরপিতাবঙ্গবন্ধুশেখমুজিবুররহমানসদ্যস্বাধীনদেশের৩৬,০০০এরঅধিকসংখ্যকপ্রাথমিকবিদ্যালয়জাতীয়করনকরেবাঙ্গালীজাতিরভবিষ্যৎপ্রজন্মেরশিক্ষারভিত্তিপ্রস্তরস্থাপনকরেনবদিগন্তেরসূচনাকরছিলেন।একবিংশশতাব্দীরবাঙ্গালীজাতিরআইকনমাননীয়প্রধানমন্ত্রীশেখহাসিনা২০১৪সালে২৬০০০এরঅধিকসংখ্যকরেজিস্টার্ডপ্রাথমিকবিদ্যালয়জাতীয়করনকরেপ্রাথমিকশিক্ষাকেপূর্ণতাদানকরেছিলেন।সেইদিনআরবেশীদুরেনয়, যেদিনবঙ্গবন্ধুকন্যাসমগ্রশিক্ষাব্যবস্থাজাতীয়করনকরেএদেশকেমধ্যমআয়েরদেশহিসেবেউন্নতদেশগুলোরকাতারেপৌছেঁ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রনী ভুমিকা পালন করবেন ।তাই এদেশের পাঁচ লক্ষাধিক বেসরকারি শিক্ষকদের বিশ্বাস, যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বোঝাতে সক্ষম হন তাহলে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসাকে জাতীয়করণ করে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ

বিগত ৩০ নভেম্বর ২০১৫ইং সোমবার সাবেক শিক্ষা সচিব মো. নজরুল ইসলাম খানমাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে গেলে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা জাতীয়করণে সরকারের ব্যয় কত হবে ? সরকারি সুযোগ-সুবিধার বাইরে মোট কতটি প্রতিষ্ঠান রয়েছেতা জানতেচেয়েছিলেন? প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, দেশের সব স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা জাতীয়করণে সরকারের অতিরিক্ত কত খরচ হতে পারে, মোট কয়টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে সাবেক শিক্ষা সচিব মো. নজরুল ইসলাম খানজানিয়েছিলেন, সারাদেশে প্রায় ৩০ হাজারের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বাইরে রয়েছে। এগুলো জাতীয়করণ করতে সরকারের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। সব শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ঠিক আছে, জাতীয়করণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার মানোন্নয়নে কষ্ট করে হলেও এ টাকা খরচ করতে হবে।

পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদেশের পাঁচ লক্ষাধিক বেসরকারি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি নিবেদনসরকারী বেসরকারি বিভাজন আর নয়,এখনই সময় বৈষম্য দূর করে শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা ফিরিয়ে আনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করন করে সময়ের দাবী পূরনের মাধ্যমেবঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ নিশ্চিত করুন ।

লেখক:

 

 

যানজট থেকে মুক্তি উপায়: একটি প্রস্তাবনা

তসলিম খাঁ

যানজট থেকে মুক্তি উপায় শিরোনাম দেখে হয়তবা অনেকে লেখাটা একবার হলেও পড়তেই চাইবেন এটা আমি মনে করি। কারণ যানজটের সাথে পরিচয় মানুষের দীর্ঘদিনের। হায়রে যানজট তোমার দিন কখন যে শেষ হবে! ক্যান্সরের মত মানুষের আপন আত্বার সাথে মিশে তুমি শেষ করে দিচ্ছ সব কিছু। কি গৃহিনী, কি অফিস কর্তা, কি সাধারণ মানুষ, কি সরকারী আমলা সবখানেই যানজট নামক শব্দটা অনির্বাসী সুর প্রতিধ্বনি হয়ে মূহুর্তেতেই উচ্চারিত হয় ক্ষণে ক্ষণে। যানজটে পড়া একজনের কথা এরকম- “আরে বাবা যে যানজটে পড়েছি, যদি ওখান হতে পায়ে হেঁটে না যেতাম আজ কি দশায় না হত”।

উন্নত বিশ্বের ট্রাফিক ব্যবস্থা দিকে আমরা যদি থাকায় তাহলে আমাদের দেশ বহু পিছিয়ে। দেশে যানজট এখন নিত্য দিনের ব্যপার। যানজটে পড়ে দৈনন্দিন জীবনে আমাদের কত যে সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যানজট থেকে উত্তরণের পথ তেমন করে আমরা কোন দিনও খুঁজে পায়নি। যদিওবা দেশে বিভিন্ন সময় নানা ভাবে পরিবহন গুলো নিরবিছিন্ন ভাবে চলাচলের জন্য যতেষ্ট কাজ হয়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থায়, কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ না হলেও যানজট গুলো তো তেমন করে কমে আনা গেল না।
আমার এই ক্ষুদ্র জ্ঞানে দেশে যানজট থেকে মুক্তি উপায় হিসেবে এই প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় একবার ভেবে দেখার জন্য বলব।

আমি লেখা লেখি করি সাহিত্য নিয়ে তবে আমার মাথায় শুধু ঘুরপাক খায় কেন যানজট! আমরা সমস্যা নিয়ে তার গভীর থেকে গভীরে চিন্তা কিংবা অবলোকন করি না। যদিওবা দেশে ট্রাফিক আইন রয়েছে। আমরা শুধুমাত্র ট্রাফিক ব্যবস্থাকে দোষারপ করে চলছি। সড়ক যদি পূর্ণ ব্যবস্থা না থাকে থাহলে তো কোন দিনও শুধুমাত্র ট্রাফিক ব্যবস্থা দিয়ে কাজ হবে না। কোন গাড়ী কোন দিক হতে কোন দিকে যাবে, ডানে বামে নির্ধারন করে দিতে হবে সড়ক নির্মানে দ্বায়িত্বরত কতৃপক্ষ কিংবা মন্ত্রনালয়। সে আপাসের চিন্তা হতে আমি উন্নত বিশ্বের ট্রাফিক ব্যবস্থার সাথে মিল রেখে “যানজট থেকে মুক্তির উপায়: একটি প্রস্তাবনা” হিসেবে একটি চিত্র তৈরী করি, যা শুধুমাত্র আমার ব্যক্তিগত। হয়ত দেশে এই চিত্রের মত যাদি যানবাহন গুলো চলাচল করে, তাহলে মনে হয় ভাল হতে পারে। তাই আমি বলব, এই চিত্র ফলোআপ করে কিংবা আরো কিছু সংযোজন করেও যদি ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালিত হয় আমার ধারণা সঠিক। সংবাদপত্রে এই লেখা প্রকাশ হলে আমাকে সড়কে চলতে দেখে হয়তবা পরিচিতরা বিশেষজ্ঞ ভাববার প্রয়োজন নেই। খুব বিরক্ত হয়ে আমি যানজট নিয়ে নিজে সময় করে দেশ ও দশের স্বার্থে গবে+ষনা করে দেখলাম এই পদ্ধতিতেই যানজট দুর হওয়ার সম্ভবনা বেশী।

দৃশ্যপট: চট্টগ্রাম নগরীর খুবই ব্যস্ততম মুরাদপুর মোড়ের সব টিনের বেঁড়া খুলে নিয়েছে নির্মানাধীন আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার নির্মান কতৃপক্ষ নিচের কাজ প্রায় শেষ সে কারণে। এতদিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে সব পরিবহন গুলো ভালভাবেই চলেছে দেখলাম। মোড় মাঝ দিয়ে শুধুমাত্র মানুষজন পায়ে হেটে চলাফেরা করেছে সে ব্যবস্থা করে দিয়েছিল ফ্লাইওভার নির্মান কতৃপক্ষ। তখন সব পরিবহণ গুলো চিত্রে দেয়া নমুনা অনুযায়ী চলে আসছিল। সম্প্রতি মুরাদপুর মোড় খুলে দিলে এখানে যানজট তিব্র আকার ধারণ করছে। কৈ এতদিন তো তেমন করে প্রকট আকারে যানজট ছিল না। যদিও বা কিছু কিছু পরিবহন থেমে থেমে চলছিল যাত্রী নেয়ার জন্য কিন্তু সে গুলোকে ট্রাফিক-সার্জেন তাড়া করে ছিল। যখন টিনের বেঁড়া খুলে দিল তখনই চিরাচরিত যানজটের দস্যি ভর করে ভয়াবহ রূপ নেয়। তখন তো ট্রাফিক-সার্জেনদের এত ব্যতিব্যস্ত হতে দেখা যায়নি আর এখন চিত্রটা উল্টো হচ্ছে। পরিবহণ গুলো সামলাতে তাঁদের রীতিমত হিমসীম খেতে হচ্ছে।

যানজটের কারণ ঐ স্থানে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, এক দিক হতে আসা পরিবহণ গুলোকে ছাড়লে অন্য দিক হতে আসা পরিবহণ গুলোর দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এভাবে আরেক দিক হতে আসা পরিবহণ গুলো ছাড়লে অন্য দিক হতে আসা পরিবহণ গুলোর লাইন পড়ে যায়।
লাইন পড়–ক পরিবহন নির্ধারিত সময়ে তো লাইন খুলে দিবে তবু অধর্য্য কেন কিছু কিছু পরিবহন ছুটে চলে দ্রুত গতিতে ঠিক ঐ সময়ে অন্য লাইনের পরিবহন সব যাওয়া শেষ হয়নি এলোমেলো হয়ে যায় মোড়ে তখনই শুরু হয়ে যায় যানজট। এক্ষেত্রে যদি ট্রাফিকের দ্বায়িত্ব নড়বড়ে হয় তাহলেও তো একটা কথা থেকে যায়। সিঙ্গনাল পড়লে বামে যে পরিবহন গুলো যাবে সে গুলোকে যেতে দেওয়া যায় কিনা এসময় সেটাও ভেবে দেখা য়ায়। তারা তো সোজা যাবে না বামে যাবে বলেছে। যদি তা না করে অন্য সিঙ্গনালের গাড়ী যেতে বাঁধা সৃষ্টির করে তাহলে সে পরিবহকে ট্রাফিক আইনে যা করণীয় সে ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

যাই হউক, আর কথা না বাড়িয়ে তাহলে একটি যানজট মুক্ত স্থানের চিত্র দিয়ে নিচে আমার ধারণাপত্রটি করলাম।

দৃশ্যপট : মুরাদপুর
১. ২নং গেইট-ফরেষ্ট গেইট হয়ে আসা পরিবহন গুলো মুরাদপুর মোড় হয়ে সোজা বহর্দ্দারহাটের দিকে যে গুলো যাবে চলে যাবে। বাকি পরিবহণ গুলো ১ নং রেল গেইট উদ্যেশ্যে চলবে চলে যাবে। সে সব পরিবহন ফরেষ্ট গেইট হতে বামে বামে হয়ে চলবে।

২. ১নং গেইট হতে আসা সব গুলো পরিবহণ মুরাদপুর এসেই বামে মোড় নেবে। যে সব পরিবহন বহর্দ্দারহাট যাবে চলে যাবে। বাকি পরিবহন মুরাদপুর হয়ে পাচঁলাইশ যাবে সে গুলো ফ্লাইওভারের ৯০-৯১ নং পিলার হয়ে ডানে মোড় নিয়ে আবার মুরাদপুরের দিকে এসে বামে হয়ে পাঁচলাইশের দিকে চলে যাবে।
তবে বহর্দ্দারহাট হতে আসা পরিবহণ যে গুলো সোজা ২নং গেইট যাবে তাদের সরাসরি যাবার সুযোগ করে দিবে অন্য পরিবহন গুলো।

৩. পাঁচলাইশ-মির্জারপুল হতে আসা পরিবহণ গুলো মুরাদপুর মোড় এসে বামে যাবে, যে গুলো ২ নং গেইটের দিকে যাবে চলে যাবে। বাকি পরিবহন গুলো মুরাদপুর হয়ে যে গুলো ১ নং গেইট কিংবা বহর্দ্দারহাট যাবে সে গুলো ফ্লাইওভারের ৮৫-৮৬ নং পিলার হয়ে ডানে মোড় নিয়ে ১ন গেইট কিংবা বহর্দ্দারহাটের দিকে যাবে চলে যাবে।
তবে ২নং গেইট-ফরেষ্ট গেইট হয়ে আসা পরিবহণ যে গুলো সোজা বহর্দ্দারহাট যাবে তাদের সরাসরি যাবার সুযোগ দিবে অন্য পরিবহন গুলো।

এখানে উল্যেখ থাকে যে, মোড়ের চার কর্ণারে বামে ও ডানে ভালভাবে শৃংখলার সাথে চলার জন্য রেলিং এর ব্যবস্থা রাখা যায়।
পথচারী কারণে কোন ভাবেই সড়কে পরিবহণ চলতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না তার জন্য মোড়ের চারটি সড়কেই জেব্রা ক্রচিং ব্যবস্থা করে দেয়া যায়। ট্রাফিক আইন মেনে পথচারীর প্রয়োজনে তাঁরা জেব্রা ক্রচিং দিয়ে চলবেন। এতে দুর্ঘটনা হাতেও রেহায় পাওয়া যাবে। জেব্রা ক্রচিং দিয়ে পথচারী পার হতে পরিবহন চালক ব্রাক কষবেন নিজ দাঁয়িত্বে। প্রয়োজনে পরিবহণ ও পথচারীদেও জন্য লাল সবুজের সিগনাল বাতির ব্যবস্থাও করা গেলে ভাল হয়। কোনাকুনি দুই সড়কের বাতি সবুজ থাকলে অন্য দুই কোনার সড়কের বাতি লাল জলবে। সেই সুযোগে পথচারী সড়ক পার হবেন।

সব শেষে এখন কথা হচ্ছে, মুরাদপুর মোড়ে মানুষ চলাচল করার ব্যবস্থা রেখে ট্রাফিক ব্যবস্থা করা হয় সেটায় সময়উপযোগী চিন্তার। আর যদি আমার এই ধারণা পত্রের কিছুটা হলেও কাজে আসে তা হলে আমার ধারণার শ্রম সার্থক হবে। বাহবা নয়, সমাজ সেবাই আমায় মূল লক্ষ্য এবং সে চিন্তার আপাসের হতে আমি কাজ করার মধ্য দিয়ে স্বস্থি বোধ করি। আমার এই ধারণা হয়তবা সমগ্র দেশেও কাজে আসতে পারে। এতে ট্রাফিক ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে অন্তত আমার মনে হচ্ছে।

লেখক: তসলিম খাঁ, কলামিষ্ট, সাহিত্য সম্পাদক, মাসিক ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। ১১.০৭.২০১৭ ইংরেজী

আমার ব্যাক্তিগত কিছু কথা-জাফর আলম চৌধুরী

আমার সালাম নেবেন আস্সালামু আলাইকুম।হিন্দু ও অন্যান্য ধর্ম অবলম্বনকারীরা আদাব নেবেন।।।।।।(যদি কিছু মনে না করেন আজ আমার ব্যাক্তিগত কিছু কথা বলব) আমার জন্মদিনে অনেকে আমাকে শূভেচছা জানিয়েছেন,আবার কেউ কেউ গাল মন্দ করেছেন।কারন আমি জানা অজানা অনেকের ক্ষতির কারন ও হতে পারি।সামাজিক মাধ্যমেও অনেকের গাল মন্দ শুনেছি।আমি তো মানুষ ভূল আমার থাকতেই পারে।আমাকে মাপ করে দিবেন।আমার মত ভূল যেন তরুন সমাজ ও যুব সমাজ আর কোনদিন না করে।আমি আমার জীবনে যা করছি সব ভূল করেছি,ছাত্র অবস্হায় নবম শ্রেনী থেকে রাজনীতিতে সরাসরি যোগদান ছাত্রলীগ সু.র.করতাম।কারন একটাই রাজনীতিক পরিবারে এবং সামাজিক, বার বার নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনি ধির ঘরে জন্ম গ্রহন করেছিলাম।বাবা ও একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্বের সংগঠক ছিলেন।আমি ছোট বেলা থেকে খুব ডানপিটে ছেলে ছিলাম।ছাত্র হিসাবে খুব একটা খারাপ ছিলাম না ক্লাশে প্রথম ছিলাম,ক্লাশ ক্যাপ্টেন ছিলাম।ইচ্চে ছিল পড়া শুনা শেষে অনেক বড় চাকুরীজীবী হব।কারন বাবার আদর কোনদিন পাই নাই আমাদের পরিবার,বাবা সব সময় ব্যস্ত ছিলেন সামাজিক জনপ্রতিনিধি এবং রাজনীতির ব্যস্ততার কারনে তাই বাবার প্রতি খুব বিরক্ত ছিলাম।আমার মা,বাবা থেকে কোনদিন এতটুকু শান্তি পাই নাই।বাবা তো মানুষের জন্য আমাদের জন্য না।ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আমার আর পড়ালেখা শেষ করে সরকারী বড় চাকুরী করার সুযোগ হইল না।সেই নবম শ্রেনী থেকে রাজনীতির হাতে খড়ি।আমার জন্মের আগেই থেকেই বাবা জনপ্রতিনিধি ছিলেন।আমাদের কোন অভাব ছিল না রাজনীতির পিছনে এবং সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে দুই হাতে টাকা ছিটাতাম।টাকার কষ্ট কি জিনিস কোনদিন বুঝতে পারি নাই।আমি ও আর পারলাম না ছাত্র অবস্হায় রাজনীতি, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ ও অনার্স/ডিগ্রি শেষ করে মাষ্টার্সে ভর্তি হয়ে, আর পড়ার সুযোগ পেলাম না।চাকুরীর সুযোগ আর হইল না।হয়ে গেলাম সামাজিক রাজনীতিক নেতা।হয়ে গেলাম চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত কমিশনার,হয়ে গেলাম বার বার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।।।(একটানা ১৭ বছর) হায়রে নিয়তি আর সুখ কোথায়,জীবনের সব আনন্দ,হাসি, গান সব বিসর্জন দিলাম। সব আল্লার ইচ্ছা।আজ আমি বাবা,আমার পরিবার, ছেলে জন্ম থেকে আমাকে কাছে পাই নাই। কারন আমার বিয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরে।আজ আমি ভীষন ক্লান্ত।শূধু ভাবি আমার সিদ্বান্ত ভূল ছিল।প্রথম জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর হলাম রাজনীতিক ষড়যন্ত্রের শিকার,একটা শ্রেনী আমাকে ধ্বংশ করার জন্য ব্যস্ত ছিল।তারা স্বার্থক হইল।যার কারনে আমার ফুলেল ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর্স,বনফুল মিষ্টি বিতান শাখা, জমজম সুইটস এন্ড ফুড প্রোডাক্টস, মেজবান সুইটস এন্ড ফুড প্রোডাক্টস বন্দ হইল।রাজনীতিক কারনে আমার কোটি কোটি টাকা ওরা ধ্বংশ করে দিল আমাকে পঙ্গু করে দিল।কেন আমি জানি না।আমি আমার মা বাবাকে হারালাম।একটা সুন্দর জীবন কামনা করেছিলাম।পারলাম কই।আজ আমি আমার পরিবারের কাছে বড়ই অসহায়।রাজনীতির কষ্ট বড়ই কষ্ট।আমি আজ চট্রগ্রাম মহানগর আওয়ামীলিগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।তারপর ও বলি ছাত্র অবস্হায় কেউ জনপ্রতিনিধির দায়ির্ত গ্রহন করবেন না।আগে নিজে প্রতিষ্টিত হবেন।আমার মত ভূল যেন আপনারা না করেন।আমার বাকী জীবনটাও রাজনীতি করতে করতে একদিন শেষ হয়ে যাবে।আমি রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকান্ড ছাড়া একদিন ও থাকতে পারব না।আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ সহায়।হে আল্লাহ তোমার কাছে একটাই ফরিয়াদ যতদিন জীবন আছে মানুষের সেবা করে,ইজ্জত নিয়ে কলেমা মুখে নিয়ে যাতে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারি।আল্লাহ আপনাদের সকলের সহায় হোক।আমার অসংখ্য ভূল, জানা অজানা ভূল একজন সমাজকর্মি হিসাবে আমাকে আপনারা সবাই মাপ করে দিবেন।আল্লাহ হাফেজ।জয় বাংলা।-জাফর আলম চৌধুরী, সাবেক কমিশনার, চসিক।

প্রকৃতিবিরোধী সমৃদ্ধিতে জীবন বাঁচে না

খলিলউল্লাহ্‌প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কিছু করতে গেলে তার ফল ভয়ানক হয়, সে কথা অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছে। বিশ্বজোড়া জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ঘটে চলা লাগামহীন বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, জীববৈচিত্র্য ও ফসলহানি—এর সবই তার প্রমাণ। উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে না করলে প্রকৃতি তার উল্টো ফল দেবেই। এর সত্যতা নিয়েও কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। কয়েক দিন আগে পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা আমরা সবাই জানি। পাহাড়ধসের ঘটনা এ দেশে নতুন নয়। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন ও বনায়ন ধ্বংসের পরিণতিই এই পাহাড়ধস।
প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানুষ তার জীবনধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে না পারার কারণ এসব বিপর্যয়। মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজাতি। এই বিশ্বাস থেকেই মানুষ প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার নামে ধ্বংস করে চলেছে। কিন্তু শ্রেষ্ঠতার মানে যে ধ্বংস নয়, বরং সংরক্ষণ—সেই বোধ মানুষের মনে জাগ্রত হচ্ছে না। এর ফলাফল আমরা পাচ্ছি অহর্নিশি।
প্রকৃতি ছাড়া মানুষ সুখী-স্বাস্থ্যবান হতে পারে না। মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি, বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য প্রকৃতির অবদানকে আমাদের সামাজিক অগ্রগতির মাপকাঠিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। যত দিন পর্যন্ত তা করা না হবে, তত দিন যতই আমরা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আর আলোচনা করি না কেন, তা কোনো কাজে আসবে না।
অনেক দিক থেকেই প্রকৃতি মানুষের জন্য মূল্যবান। খাদ্য, নির্মল বাতাস ও পানির মতো মৌলিক প্রয়োজন ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে চলেছে এই প্রকৃতি। এ ছাড়া মানুষের নিজস্ব সত্তার উপলব্ধির জন্য প্রকৃতির রয়েছে মৌলিক অবদান। পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। মানুষের সুখানুভূতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ প্রকৃতি। একবার ভাবুন তো! কোনো পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখছেন বা কোনো সুন্দর নদীর মনোরম বয়ে চলার দৃশ্য উপভোগ করছেন বা কোনো সবুজ উন্মুক্ত মাঠ পেরিয়ে চলেছেন? এ সবই মানুষের সুখী হওয়ায় অবদান রাখে, যা শারীরিক ও মানসিক উভয় প্রকার সুস্বাস্থ্যের জন্য অনস্বীকার্য।
প্রকৃতি থেকে এত কিছু পাওয়ার পরও আমাদের সমৃদ্ধি ও কল্যাণের মাপকাঠি এতই সংকীর্ণ যে সেখানে প্রকৃতির জায়গা হয় না। শুধু দৃশ্যমান ও বস্তুগত দিক থেকেই আমরা সমৃদ্ধি পরিমাপ করি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ও মানুষের কল্যাণ পরিমাপের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)। প্রকৃতি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এই পরিমাপে প্রকৃতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
তবে এর বিকল্প আছে। যেমন অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পদ সূচক বা ইনক্লুসিভ ওয়েলথ ইনডেক্স মানুষ ও প্রকৃতির বৃহত্তর পরিমাপ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। তাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ১৯৯২-২০১০ সময়কালে প্রথাগত জিডিপির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধিকে অতিরঞ্জন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়নে আমরা দেখি জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচক ও বহুমুখী দারিদ্র্য সূচকে অনেক বিষয়কে বিবেচনা করা হয়। বস্তুগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু এখনো প্রকৃতির ভূমিকাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না।
প্রকৃতিকে বাদ দিয়ে এসব সূচক তৈরি করা হলে তার কিছু বিকৃত বৈপরীত্য দেখা যায়। যেমন পরিবেশ ধ্বংস করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। পরিবেশের এসব ক্ষতির আঁচ কিন্তু জিডিপির গায়ে লাগে না। একটি দেশ তার অতিপ্রয়োজনীয় বন কেটে উজাড় করে ধনী হয়ে যেতে পারে (অনেক দেশ সেটা করেও থাকে)। কিন্তু এর ফলে যে জীববৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণী ধ্বংস হলো তার হিসাব রাখা হয় না।
যুক্তরাজ্যের তিনটি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস ফর পভার্টি এলেভিয়েশন (ইএসপিএ) এমন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বহুমুখী দারিদ্র্যের মাপকাঠি তৈরি করা। যখন প্রকৃতিতে মানুষের প্রবেশাধিকার থাকে না, তখন মানুষ আরও বেশি দরিদ্র হয়। জুডিথ স্লাইশার ও ভাস্কর ভিরা এ বিষয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। তাঁরা মানব উন্নয়ন ও কল্যাণের মাপকাঠিতে প্রকৃতিকে বিবেচনার দাবি করেছেন। তাঁদের মতে বর্তমান স্থিতাবস্থায় গরিব মানুষের স্থান নেই। সমৃদ্ধির চলমান এসব সূচক ব্যবহারে বিশ্বব্যাপী এলিটদের লাভ হয়, যারা পরিবেশ ধ্বংস করে মুনাফা অর্জন করতে পারে। আর ক্ষতি হয় সেসব গরিব মানুষের, যারা জীবিকার জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল এবং পরিবেশ ধ্বংসের ফলে বিপন্ন হয়ে পড়ে। এই দুই গবেষক আরও দাবি করেন, প্রকৃতিকে যতটুকু মূল্যায়ন করা হয়, তা পণ্য আকারে মুদ্রামানে রূপান্তরের মাধ্যমে। ফলে যারা সামর্থ্যবান, শুধু তারাই এর ফল ভোগ করতে পারে।
বোতলজাত পানি এমন একটি উদাহরণ। এখন বাতাসও বিক্রয়যোগ্য পণ্য। কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে ব্যাপক হারে পরিবেশদূষণের শিকার হয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিং। বাতাস এতটাই দূষিত হয়েছে যে সেখানে নিশ্বাস নেওয়ার মতো নির্মল বাতাস পাওয়া যাচ্ছে না। গত বছর সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে লিও ডি ওয়াটস নামে এক ব্রিটিশ ব্যবসায়ী বাতাস বিক্রি করে হাজার হাজার ডলার কামিয়েছেন। প্রতি বোতল বাতাসের দাম ধরা হয়েছে ১১৫ মার্কিন ডলার।
এ থেকেই বোঝা যায় যে প্রকৃতিকে অবহেলা করতে থাকলে এ রকম ভয়ানক ফল আরও বেশি ভোগ করতে হবে ভবিষ্যতে। অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও টেকসই সমাজ নির্মাণে প্রকৃতির ভূমিকাকে অস্বীকার করা হবে বোকামি। প্রকৃতিকে অবহেলা করতে থাকলে মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের বদলে তার ধ্বংসের পথেই আমরা এগিয়ে যাব। এর ফলে নিশ্বাসের বাতাস যেমন কিনতে হবে, তেমনি পাহাড়ধসে জীবননাশও ঠেকানো যাবে না।

খলিলউল্লাহ্‌: সহকারী সম্পাদক, প্রতিচিন্তা
khalil.jibon@gmail.com

প্রকৃতির প্রতিশোধ

এস এম মুকুল::প্রাকৃতিক দুর্যোগে সম্প্রতি দেশে ঘটে গেছে বিপর্যয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ভারী বর্ষণ ও পাহাড় ধসের ঘটনায় ১৫৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশব্যাপী শোকের ছায়া নেমে আসে। এই নির্মমতা প্রকৃতির প্রতিশোধ ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। আর এজন্য কেবল মানুষই দায়ী। কারণ প্রকৃতিরও একটা নিয়ম আছে। সে আঘাত সইতে সইতে একসময় হুঙ্কার দিয়ে গর্জে ওঠে, ভয়ংকর প্রতিশোধ নেয়। আমরা জানি, পাহাড় হচ্ছে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষাকারী পিলার। পবিত্র কোরআনে পাহাড়কে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষাকারী ‘পেরেক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, পাহাড় হলো পৃথিবীর ‘পিলার। তাই পাহাড় প্রকৃতিকে তার মতো থাকতে না দিলে প্রতিশোধ সে নেবেই। এই প্রতিশোধ কেবল পাহাড় ধস, ভূমিধস নয় এর ভয়াবহতা আরো ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কারণ মানুষ তার সীমাহীন লোভ ও লাভের লালসায় পাগলপারা হয়ে অকাতরে পরিবেশ নষ্ট করছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন এসব ঘটনা কি সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টির আড়ালে হচ্ছে? নিশ্চয়ই নয়। পাহাড় কেটে বসতি, আবাসন, কটেজ বাণিজ্য এমনকি খামারও করা হচ্ছে। এসব কাজ হঠাৎ করে লোকচক্ষুর অন্তরালে করা সম্ভব নয়। প্রশাসন জেনেও কেন নিশ্চুপ থাকছে। বন পরিবেশ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ আইন এবং আমাদের পরিবেশবাদী সংগঠনের নজরের বাইরে কিছুই হচ্ছে না। তার মানে যারা করছেন তারা সরকার যন্ত্রের চেয়েও ক্ষমতাধর। স্থানীয় প্রশাসন কি তাদের কাছে নিতান্তই অসহায়? তথ্য-তালাশে জানা গেছে, চট্টগ্রামের জনৈক জনপ্রিয় বিরোধীদলীয় নেতা পাহাড় কেটে খামার তৈরি করেছেন। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দলের বলয়ে বড় বড় নেতাসহ সাঙ্গোপাঙ্গরা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম করে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিনষ্ট করছেন। আর তার খেসারত দিচ্ছে হতদরিদ্র সাধারণ মানুষ।

নির্মম বাস্তবতা হলো পাহাড় নেই পাহাড়ের জায়গায়। পাহাড়ের উপত্যকা নেই, টিলা নেই। অতিবৃষ্টিজনিত পাহাড়ি ঢল ছাড়াও পাহাড় কেটে অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন ও গাছপালা উজাড় করার কারণে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেই চলেছে। পাহাড় ধসে কেবল মানুষের প্রাণহানি ঘটছে যে তা নয়-পাহাড় কাটা, গাছ কাটা, জঙ্গল উজাড় করা, বৃষ্টিতে পাহাড় ক্ষয়ে পানির ঢল নামার কারণে নদীর পানি ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে। কাটা পাহাড়ের মাটি ও বালি নেমে এসে ভরাট হচ্ছে নালা-নর্দমা-খাল। রাস্তা নির্মাণে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিবেচনা না করা, পর্যটনের জন্য কটেজ, সরকারি বেসরকারি অফিস, এমনকি খামার ও কারখানাও তৈরি হয়েছে এই পাহাড়ে। কিন্তু এই পাহাড় থাকার কথা শুধুই গাছপালার বনবনানী, পশুপাখি, ফলমূল, ভেষজ অরণ্য-উদ্যান। তার চেয়েও দুঃখের ব্যাপারটি হলো-পাহাড়িরা পাহাড় থেকে বিতাড়িত হয়েছে। অথচ তারাই ছিল পাহাড়ের প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই জীবনধারণে অভ্যস্ত। এখন তাদের সরিয়ে দখলবাজরা গাছ লাগিয়ে লিজের নামে দখল প্রতিষ্ঠা করেছে। পাহাড়খাদকরা বাঁচার আশা দিয়ে সমতলের উদ্বাস্তুদের পাহাড়ে বসতির সুযোগ নিয়ে বাণিজ্য করছে। কিন্তু সমতলের বাঙালিরা তো পাহাড়ে জীবনযাপনের কায়দা-কানুন জানে না। তারা কি মাটি আর পাহাড়ের আচরণবিধি বুঝতে না পারার কারণে বা পাহাড়ের ভাষার সঙ্গে নিজেদেরও মানিয়ে নেওয়ার আগেই এসব প্রাণবিধ্বংসী দুর্ঘটনা ঘটছে। আমাদের বাংলাদেশে প্রায় ২৬ ভাষাভাষীর ৪৫ জাতিসত্তার প্রায় এক মিলিয়ন ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। এদের মধ্যে চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মনিপুরি, কুকি, রাখাইন, গারো, সাঁওতাল, হাজং, বম ও ত্রিপুরা জাতি রয়েছে। বংশানুক্রমে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর লোকেরা পাহাড়ি এলাকাতে বসবাস করে আসছিল। পাহাড়ি পরিবেশের সঙ্গে এদের জীবন, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতির মিলমিশ রয়েছে। কারণ তাদের জন্ম ও জীবন প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা। পাহাড় তাদের কাছেই বরং নিরাপদ ছিল।

ভাবতে অবাক লাগে প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধভাবে পাহাড়ে বসতি গড়ে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ভাড়া দিচ্ছে প্রভাবশালী চক্র। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ঘর বানানো থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগ দিয়েও পাহাড়ে বসবাসকারীদেরও নিয়ন্ত্রণ করছে। উল্টো রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবে পাহাড় দখলমুক্ত করতে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। পাহাড়ি এলাকা নির্বিচারে কেটে বনজঙ্গল ধ্বংস করা হচ্ছে। পাহাড় কেটে সমতল বসতি স্থাপন করা হচ্ছে। এসব বিধ্বংসী কার্যকলাপের ফলে পাহাড়ের অভ্যন্তরীণ বন্ধন শক্তি অনেকাংশে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মূলত এই দুর্বলতার কারণেই বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, বান্দরবানসহ অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ছে; ঘটছে প্রাণহানি এবং অনেক ক্ষয়ক্ষতি। ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে এই ক্ষতিটি শেষ ক্ষতি নয়-এটি মানবসমাজের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সূত্রপাত মাত্র। কেননা পাহাড়, সাগর, ও সমতল এগুলো প্রকৃতির সৃষ্টি। মানুষ চাইলেও পাহাড় তৈরি করে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে না। কারণ এটি মহান আল্লাহতায়ালার অপরিসীম মহিমার সৃষ্টি-যা কেবল তিনিই জানেন কিভাবে মাটি, পানি, পাহাড় আর আকাশের ভারসাম্য ঠিক থাকবে। মোটকথা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড় ব্যবস্থাপনায় যে ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা আমাদের কাজ ছিল, আমরা তা করতে পারিনি। মানুষের লোভের লালসায় মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে পাহাড়ের অপব্যবহারের কারণে আজ ক্ষুব্ধ হয়ে মানবজাতির ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে পাহাড় প্রকৃতি। যদিও পাহাড়ধস শুধু বাংলাদেশের একক দুর্যোগ নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তথা কানাডা, সোভিয়েত ইউনিয়ন, তাজিকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাহাড় ধসের ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯৯ সালে ভেনিজুয়েলাতে মাটিধসে প্রায় দশ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ২০১১ সালে ব্রাজিলের রিওডি জেনিরোতে ভূমি ধসে ৬১০ জনের মৃত্যু হয়। আশঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে-দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, নেপালে পাহাড়ধস উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব অপকর্মের মূলে রয়েছে মানুষের লোভ। অর্থের লালসার রাক্ষুসী ক্ষুধা। কথায় আছে লোভে পাপ-পাপে মৃত্যু। এখানে লোভীর পাপে তার নিজের মৃত্যু হয় না। কিছু লোভী মানুষের পাপের ফল ভোগ করে অন্যরা। তারচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিণতি হয়তোবা অপেক্ষা করছে দেশবাসীর জন্য। কেননা প্রকৃতির ভারসাম্যতা নষ্ট হলে ভূমিকম্প বা পাহাড় ধসের মতো বড় বিপর্যয় থেকে পরিত্রাণ পাবে না কেউই। জানা গেছে, শুধু প্রভাবশালী ও বিত্তবানরাই নয় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যেমন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প করপোরেশনও বিপুল পরিমাণ পাহাড় কেটে রাস্তাঘাট ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান তৈরি করছে। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড়ের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি এই অবিচার সামাল দিতে পারবে তো পাহাড়ি এলাকার মানুষরা। পত্রিকার পাতায় পাহাড়ের ধসে মানুষের মৃত্যুর খবরে দেশবাসী আতঙ্কিত ও সোচ্চার। কিন্তু সরকার, প্রশাসন কেন নীরব? বিরোধী দলের ভূমিকা কী? পরিবেশবাদীরা কী করছেন? মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভূমিকা কী? ওইসব পাহাড়ে সেনা ক্যাম্প রয়েছে, তাদের চোখও কি এড়িয়ে ঘটছে এসব কার্যক্রম? এমন অনেক জিজ্ঞাসা সাধারণ মানুষের মনে। বাংলাদেশে পরিবেশ আইনে পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদ-, এক কোটি টাকা অর্থদ-, পাহাড় কাটলে হাতেনাতে আটক যন্ত্র-সামগ্রী জব্দ, নিষেধাজ্ঞা, পাহাড়কে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিধিবিধান রয়েছে। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে সীমিত ও পরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার সুযোগ রয়েছে।

পাহাড় রক্ষায় পাহাড়গুলোর ওপর এই অবিচার বন্ধ করতে হবে। পাহাড়ের পাদদেশের বাসিন্দাদের সরিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে বসতি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। পাহাড়ে প্রচুর গাছ লাগিয়ে ঘন বনায়ন সৃষ্টি করতে হবে। পাহাড়ে ফলদ, ঔষধি বৃক্ষ হতে পারে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র। পাহাড় আছে এমনসব দেশের মতো পাহাড়ের স্তরে স্তরে টিলা কাটিং ‘স্লোপ’ পদ্ধতিতে পাহাড়ের ওপর থেকে পানি নিসরণের ব্যবস্থা নিলে ধসের ঘটনা ঘটবে না। আমরা জানি, পাহাড়-পর্বত ও টিলারাশি সুরক্ষায় উন্নয়নে বিশ্বে অতুলনীয় এক নজির স্থাপন করেছে পাহাড়-পর্বতের দেশ নেপাল। দেশটিতে উঁচু পাহাড়-পর্বতের শানুদেশ ও ঢালুতে সিঁড়ির ধাপের মতো ‘স্লোপ’ সৃষ্টি করেছে। নেপালে স্লোপ অ্যাগ্রিকালচার ল্যান্ড টেকনোলজি বা ‘সল্ট’ হিসেবে পরিচিত। সেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রচুর মৌসুমি ফল-ফসল, খেত-খামার এবং বনায়ন করা হয়েছে। এতে করে স্লোপের মাটি আলগা বা সরছে না। বরং মাটিক্ষয় কার্যকরভাবে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে। স্লোপ অতিক্রম করে বৃষ্টির পানি নিচের দিকে অপসারণ হচ্ছে। সল্টের কারণে পাহাড় রক্ষার পাশাপাশি এর সুফল ভোগ করছে প্রান্তিক কৃষকরা। তাই পাহাড়ের দেশ নেপালে বর্ষায় পাহাড় ধসের ঘটনা নেই বললেই চলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক ধরনের গুল্মজাতীয় গাছ যার গুচ্ছ শেকড় মাটির অনেক গভীরে ছড়িয়ে পড়ে মাটির বন্ধন শক্তিকে আরো মজবুত করে তোলে। এ ধরনের গাছ লাগানোর পাশাপাশি আমাদের দেশীয় তালগাছ লাগানোর কথাও ভাবা যেতে পারে। তালগাছের শেকড়ও মাটির বন্ধন শক্তি বাড়ায়। এছাড়াও তালগাছ বজ্রপাত নিরোধক।

লেখক : বিশ্লেষক ও উন্নয়ন গবেষক

writetomukul36@gmail.com

ঈদের কেনাকাটার ভিড়ে চুরির হিড়িক!

গত কয়েকদিন আগে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট বাজারে ঈদুল ফিতরের কেনাটাকাটা করতে নাতীকে নিয়ে গেলেন কবি এস এম আবুল বাশার, কেনাকাটার এক পর্যায়ে পকেটে দেখেন তার মোবাইল নাই! গেলো কই? তিনি মনে করেছেন বাসায় রেখে এসেছেন। বাসায় গিয়ে দেখেন- না, বাজারের ভিড়ের মধ্যেই কেনাকাটার সময় চুরি হয়ে গেছে।’ এইরকম হাজার ঘটনা ঘটছে এই সময়ে সারাদেশে, কেননা সারাদেশে মুসলমান ধর্মালম্বীদের আসছে ২৭ বা ২৮ জুন রোজার ঈদ। ঈদ উপলক্ষ্যে সর্বস্তরে ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়েছে। আর সেই ভিড়ের মাঝে ঢুকে পড়ছে সিন্ডিকেট কৃত একদল চোর-ডাকাত। যা সুযোগ পেলেই টার্গেটকৃত গরীব থেকে শুরু করে ধনী লোকদের পকেট বা মানিব্যাগ হাতিয়ে নিচ্ছে । বিষয়টি পত্রিকার চিঠিপত্র কলামের মাধ্যমে দেশবাসীকে সর্তক করছি সেই সাথে আশা করি সবাই সর্তকতার সহিত কেনাকাটা করবেন ও সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন।

ফেলে আসা শৈশব এবং বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট

“কানা মাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাই তাকে ছোঁ” ছড়াটি কে বানিয়েছিল? কেউ কি জানে? জানে না। এমন মন মাতানো হাজারো শব্দের ডালে ছোঁয়া কি যায় সেই শৈশবকে? সেই ছড়াতে মিশে আছে আমাদের ছোটবেলার রঙ্গিন স্মৃতি।
সেই পড়ন্ত বিকেল বেলায় পাড়া মাতিয়ে এদিক থেকে সেদিকে ঘুরে বেড়ানো, কানামাছি, দৌড়াদৌড়ি, এলাটিং-বেলাটিং, ইকরি সিকরি, ইচিং বিচিং, হাড়িভাঙ্গা, লুকোচুরি, এক্কাদোক্কা, ফুলটোক্কা, পলানটুক, গোল্লাছুট সহ আরো কতো কি খেলে সারা শরীর কাদা-মাটি মেখে ঘরে ফেরা, মায়ের বকুনি, দাদার হাতে লাঠি, দাদী/ ঠাকু’মার হাতের আদর আর বাবার হাতের পরশ, কোথায় হারিয়ে গেছে যেন আমাদের সেই দিনগুলো, হারিয়ে গেছে শৈশবের খেলা, দিন দিন ব্যস্থতার ভীড়ে হারাচ্ছে শিশুদের সব রকমের শৈশবের খেলা। আরো হারাচ্ছে ব্যস্ত নগরীর ভীড়ে ধূূলো আর কাদার গন্ধ।
বর্তমান প্লে পড়–য়া একজন ছাত্রের কাছে খেলা করা তো দূরের কথা, কেবল নিজেকে দেবার মতন কোন সময়ই তার নেই। সেই সকাল থেকে শুরু করে স্কুল বড় বড় বইয়ের বোঝা, পড়ার চাপ কোচিং গান/ নাচ/ ড্রয়িং শেখা, সব মিলে ব্যস্থ সে। নিজেকে দেবার কোনরূপ সময় তার নেই। তাছাড়া ইন্টারনেট আর মুঠোফোনের যুগে, পড়ন্ত বিকেলে দৌড়াদৌড়ি বা কানামাছি এসব খেলা অথবা তাদের মুখ থেকে এসব আর্শ্চয্য সব ছন্দবদ্ধ ছড়ার লাইন শোনা কল্পনাই করা যায় না।
আমরা কি যুগের সাথে খাপ খাওয়াতে আর মানিয়ে নিতে নিজের সন্তানদের এক ভয়ংঙ্কর ভবিষ্যতের দিকে পাড় করিয়ে দিচ্ছি? নাকি, অল্প বয়সে মুঠোফোন আর ট্যাব, ল্যাপটপ আর ইন্টারনেট দিয়ে নিজের সন্তান কতোই না স্মার্ট সেটাই জাহির করছি? কোনটি? বাস্তবিক পক্ষে, আমরা সময়ের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে নিজের সন্তানদের সময় দিতে পারছি না।
চার দেওয়াল ঘেরা বদ্ধ নগরীতে জায়গা খুঁজে না পেয়ে সময় কাটানোর অন্যতম মাধ্যম হিসেবে শিশুরা বেছে নিচ্ছে ইন্টারনেট বা স্মার্টফোন যা তাদের অনাগামী ভবিষ্যৎ কে এক কালো ছায়ার দিক নির্দেশনা করছে।
সুতরাং শিশুর বেড়ে উঠা হোক বিশুদ্ধ, পরিপূর্ণ। কেননা, আজকের শিশু আগামীর সূর্যোদয়। একটি জাতির সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে শিশুরা। বেগম সুফিয়া কামাল-এর একটি কবিতা আমাদের পাঠ্যবইয়ে ছিল। তা হল-
‘আমাদের যুগে আমরা যখন
খেলেছি পুতুল খেলা
তোমরা এখন সেই বয়সেই
লেখাপড়া করো মেলা’
তো আমরা সেই লেখাপড়া মেলা করা শিশুরা বড় হয়ে গেছি। এখন পুরো পৃথিবীময় আমাদের শিশুরা চষে বেড়াচ্ছে ইন্টারনেট নিয়ে।
পৃথিবীর নির্মল আলোয় আসা শিশুদের মাঝে লুকায়িত থাকে আগামীর স্বপ্ন। আমাদের সোনালী স্বপ্নীল ভবিষ্যৎ। শিশুরাই হবে দেশ ও জাতি গঠনের সু-কারিগর। শিশুর শৈশব, কৈশোরের লালিত স্বপ্নভূমির ভিত্তি মজুত করতে হবে। শিশুদের আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত করতে হবে। আগামীর সূর্যোদয় যেনো চারপাশকে আলোকিত করে, তেমনিভাবে তাকে গড়ে তুলতে হবে। শিশুর শৈশব স্বপ্ন বিকশিত হবে জীবন পরিবর্তনের নব ধারায়, নবরূপে। আর, এরই সাথে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি সাফল্যের শীর্ষ ধারায় পৌঁছে যাবে।
চারপাশের মানুষগুলোকে পরিলক্ষিত করছি প্রতিক্ষণ। ভালো থাকতে চাই এবং ভালো রাখতে চাই চারপাশটাকে। সুন্দর আগামী দিনের অনুপ্রেরণা যোগাতে চাই চারপাশটায়। সবসময় চাই, গাছের চারার পরিচর্যা করতে, যাতে তা ফুল দেয় এবং তার সুবাস ছড়াবে সবখানে, আর তাই, জেগে আছি আজো স্বপ্ন বাস্তবায়নে। আমি চাই না, আমাদের ফুটফুটে ভবিষ্যৎগুলো অমানিশার কালো মেঘে চাপা পড়–ক। চিরায়ত বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষ্টি এসব কিছু জানানো, বুঝানো ও শিখানোর মধ্য দিয়ে সংস্কৃতিবান, ঐতিহ্যবান ও কৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে তাদের গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ টুকু নিতে হবে সামাজিকভাবে, সরকারীভাবে, আমাকে ও আপনাকে। এই চ্যালেঞ্জ টুকু আমরা নিব নবজাতকের কাছে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

মুনমুন বড়–য়া চৌধুরী
দর্শন বিভাগ
মাষ্টার্স (নিয়মিত)
চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ
চট্টগ্রাম।

কুতুবদিয়ার জনগনের পক্ষ থেকে আবেদন

কুতুবদিয়ায় দীর্ঘদিন থেকে মাস ব্যাপী কিছুদিন পর পর অশ্লীল গান গান বাজনা নাচ জুয়ার আসর চলে আসছে যা বর্তমানে ও চলছে।এই শান্তির দ্বীপে যারা এসব আয়োজন করছেন তারা এক প্রকার দেশ দ্রোহীর সামিল,কারন এসবের কারনে ছেলে মেয়েদের এবারের পরীক্ষার ফলাফলে ধস নেমেছে বলে সাধারণ মানুষের মন্তব্য।আমি নিজেও শিল্পী তবে সুস্থ সংস্কৃতির পক্ষে আমার পথ চলা,আমি মাননীয় এম পি মহোদয়কে কুতুবদিয়া বাসীর পক্ষ থেকে সবিনয় অনুরোধ করছি অবিলম্বেে এসব অপ সংস্কৃতি বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে কুতুবদিয়ার শিক্ষারর পরিবেশ রক্ষা করা হোক,আমি জানি আপনি অনেক সৎ ভাল মানুষ।আপনার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনায় ।
কুতুবদিয়া বাসীর পক্ষে
আলাউদ্দিন তাহের
সংগীত শিল্পী
বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন ।

মেধাবী এক ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন

তসলিম খাঁ:
চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্ম নেয়া নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন চট্টগ্রাম, ঢাকা জয় করে খন লন্ডনে বাংলাদেশে বিশেষ সম্মানের আসনে আসীন করার সংগ্রামে রত। অনেক গুণে গুণান্বীত এই মানুষটি স্কুল জীবনেই তাঁর স্বভাবজাত নেতৃত্বের প্রতিভায় ভাস্বর ছিলেন। ১৯৭৪-৭৬ সাল পর্যনন্ত নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ১৯৯২-৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন ছাত্র সমিতির তিনি প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক এবং তাঁরই সুযোগ্য নেতৃত্বে ১৯৯৩ সালে স্কুলের প্রথম প্রাক্তন ছাত্র পুনর্মিলনী আয়োজন সম্পন্ন হয়। আরও আছে; ১৯৯১ সালে তাঁরই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আমাদের স্কুলের মর্ণিং শিফট এবং স্কুল শহীদ মিনার নির্মাণের অমর নায়কও তিনি। এই প্রজন্মের যারা সচেতন তারা ইতোমধ্যেই জেনে গেছেন তাঁর সম্পর্কে। অসচেতনদের জন্যেই বলি, ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের রাজপথ কাঁপানো লড়াকু বীর মনোয়ার হোসেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সহ-সভাপতি হিসেবে। ছাত্র ইউনিয়ন ছিল সেই আন্দোলনের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন। সরকারি কমার্স কলেজের মেধাবী মুখ মনোয়ার ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় মাস্টার্স করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা কালীন শহীদ আব্দুর রব ও প্রীতিলতা হল, আইন বিভাগ চালু, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও বাস কনসেশন চালুর জন্যে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৪ সালে লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে খখই যড়হড়ঁৎং এবং পরবর্তীতে লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার হয়ে মনোয়ার হোসেন আইন পেশায় মনোনিবেশ করেন। এ পেশায় তিনি লন্ডনে বিপুল জনপ্রিয়তা পান। দেশের মানুষের সেবায় তিনি সদা তৎপর। মানবিক নানা উদ্যোগে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউমান রাইটস ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল তিনি। চট্টগ্রামের উন্নয়নের দাবিতে প্রথম জনপ্রিয় নাগরিক সংগঠন চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁরই নেতৃত্বে চট্টগ্রামে দৃশ্যমান উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয়। তাঁদেরই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে শিক্ষাবোর্ড, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কর্ণফুলী ব্রিজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়। চট্টগ্রাম মহানগরীর বিশ লক্ষ মানুষকে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষার জন্যে আশি ও নব্বইয়ের দশকে বিশাল এক গণ আন্দোলনের রূপকার তিনি এবং টনক নাড়িয়েছিলে সরকারের। বিভিন্ন সময়ে নানা ধরণের সম্মাননা এবং ক্রেস্ট গ্রহণের পাশাপাশি সম্প্রতি তিনি ‘হুজ হু বাংলাদেশ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া ব্রিটিশ বাংলাদেশ পেশাদার ব্যবসায়ী সম্মাননা ’১৫ এবং পূর্ব লন্ডনে আইন পেশায় বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন। ব্যারিস্টার মনোয়ার সম্প্রতি দেশে ‘চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম’-এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতি (ইউকে)’র সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন টিভি-চ্যানেলে ‘টক শো’র জনপ্রিয় কথক মনোয়ার হোসেন নগরীর ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ডা. নুরুল হুদা ছিলেন একজন সমাজহিতৈষী। তিনি বোয়ালখালীতে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অসম্ভব মেধাবী সংগঠক এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন।

প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ!

নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল

বছর ঘুরে আবার ফিরে এলো বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ! এসো হে বৈশাখ এসো এসো.. স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ “আজ পহেলা বৈশাখ”বাঙালি জনগোষ্ঠীর চৈত্রসংক্রান্তি, হালকাতা ও বর্ষবরণ উপলক্ষে নানা আয়োজন নিয়ে আজ সকাল থেকে বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য উৎসবে মেতে উঠবে সারাদেশের মানুষ! টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্রই বর্ষবরণ উৎসবের আমেজ! নববর্ষ উপলক্ষে পাহাড়ী জনপথে বৈসাবী উৎসব শুরু হয়েছে ১২ই এপ্রিল থেকে। বর্ষবরণ উপলক্ষে গত কয়েক দিন থেকেই ব্যস্থ সময় পার করেছে উৎসবমুখী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। নববর্ষের নানা আয়োজন নিয়ে দেশের সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে এছাড়া টেলিভিশন চ্যানেল গুলোতে চলছে বর্ষবরণের নানা আয়োজন নিয়ে সরাসরি সম্প্রচার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান। বিগত বছর থেকে নববর্ষে সরকারি কর্মচারীদের উৎসব বোনাস যোগ হওয়ায় আনন্দে ভাসছে ১৩ লাখ সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তারা। এবার ১৪ই এপ্রিল শুক্রবার হওয়ায় হওয়ায় ঐচ্ছিক ছুটি বঞ্ছিত হয়েছেন দেড় কোটি চাকরী জীবী মানুষ।
দেশজুড়ে পহেলা বৈশাখ এর উৎসব মূখর পরিবেশ পরিলক্ষিত হচ্ছে গত কয়েকদিন থেকেই! এই যেন ঈদের আমেজ।
ঢাকা- চট্টগ্রামসহ দেশের সব বিভাগ ও জেলা-উপজেলা ছাড়িয়ে পহেলা বৈশাখ এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। পুরানো বছরের গ্ল্যানিমুছে নতুন বছর, নতুন দিন, নতুন প্রত্যাশায় বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ কে বরণ করবে দেশের মানুষ। পহেলা বৈশাখের আয়োজনকে ঘিরে বাঙালি জাতির আবেগ আগ্রহ দিন-দিন বাড়ছে। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রাণের উৎসবকে ঘিরে নাটক, কবিতা, নিত্য, আবৃত্তি ও সংগীতের জোর প্রস্তুতি চলেছে গত কয়েকদিন থেকেই। ঢাকার রমনা বটমূল থেকে চট্টগ্রামের ডিসি হিল, সিআরবি উৎসবে একাকার হয়ে থাকবে সারাদিন! এবারও চট্টগ্রামের ডি.সি হিল থেকে সিআরবি পর্যন্ত লোকে লোকরাণ্য হয়ে থাকবে। এছাড়া পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে পারকির চর ছাড়িয়ে নতুন ব্রীজ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এক সময়ের ডিসিহিল কেন্দ্রিক পহেলা বৈশাখ এখন সমগ্র শহর ব্যাপী বিস্তৃন্ন হয়েছে। পহেলা বৈশাখে নগরীর সিআরবিতে সাহাব উদ্দীন এর বলীখেলা উৎসবমুখী মানুষের মাঝে নতুন মাত্রা ছড়িয়েছে। এছাড়া নগরীর আরো বিভিন্ন স্থানে উৎসবের উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভিন্ন সংগঠন তাদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে নানা বৈচিত্র্যের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ নানা রং এর মুখ ও মূখোশ এবং ফুল, পরী, প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র রং তুলিতে তুলে ধরা হচ্ছে! পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছা র্কাড বিতরণে এই বছর ধুম পড়েছে। বসে নেই ঘরের গৃহিনীরাও! পদ্মার ইলিশের আকাল সত্ত্বেও পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশের খোঁজে গৃহিণীরা ছুটছেন এ মার্কেট থেকে ও মার্কেটে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের চাহিদা বেড়েছে গত কয়েকদিন থেকেই ফলে ইলিশ যেন এখন সোনার হরিণ! রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বাজারে গত কয়েক দিন থেকে দামের চেয়ে দ্বিগুন বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ! যদিও পহেলা বৈশাখের সাথে ইলিশের কোন সম্পর্ক নেই! শহরের নব্যধনিক শ্রেণীর মানুষের অতিমাত্রার ভোগ বিলাসী আয়োজন এখন রাজধানী ছাড়িয়ে জেলা-উপজেলার নি¤œ মধ্যবিত্ত মানুষের উপর চোয়ার হয়েছে। যেদেশের সব মানুষের মুখে এখনও খাবার জোটে না, সে দেশে নববর্ষকে কেন্দ্র করে ৪০/৫০ পদের খাদ্য উৎসব ভোগবাদী মানুষের বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু নয়। আবহমান কাল থেকে পহেলা বৈশাখের যে ঐতিহ্য সে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমাদের সবার সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তারপরও ভোজন রশিক বাঙালীর ঘরে পহেলা নববর্ষ উপলক্ষে“পান্তা ইলিশ” যেন না হলেই নয়। এ কারণে সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা বরফবিহীন তরতাজা ইলিশের নামে অধিক ফরমালিন যুক্ত ইলিশ বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পদ্মার ইলিশ বলে এক কেজির কম বেশি ওজনের ইলিশের দাম কেজি প্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে! চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সৌখিন ক্রেতারা বেশি দামেই কিনছে ইলিশ! অতিথি আপ্যায়নের পাশাপাশি ঘরের সৌর্ন্দয্য বৃদ্ধি এবং বাংলা নববর্ষে নিজেকে নতুন পোষাকে সাজাতে ফ্যাশন হাউস গুলোতে তো ভীড় লেগেই ছিল গত কয়েকদিন থেকেই! মার্কেটে-মার্কেটে শোভা পাচ্ছে বাংলা নববর্ষের নানা রঙের রঙিন পোষাক। ৬ মাসের কোলের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধের জন্যও পহেলা বৈশাখের নানা ডিজাইনের জামা কাপড় তৈরি হয়েছে। এ সব জামা কাপড় প্রদর্শনীর উপলক্ষে ফ্যাশন শো হয়েছে অনেক। এ যেন ঈদের আগে আরেক ঈদ। বাঙালির সবচেয়ে বড় সার্বজনীন এই উৎসব প্রমাণ করে বাংলাদেশের মানুষ উৎসব প্রিয় এবং অসাম্প্রদায়িক। দেশের ৩ পার্বত্য জেলা জুড়ে নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাবী উৎসব পাহাড়ী বাঙ্গালীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে এই নববর্ষ উৎসব। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে নববর্ষ পালন করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন পর্যটকরা কক্সবাজারের দিকে ছুটে আসছেন। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাতুরিয়া পর্যন্ত আজ বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ এর উৎসব মুখর পরিবেশ। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তোরণ ও একাধিক বিলর্বোড। বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ গতকাল ১৩ই এপ্রিল থেকেই দেশে উৎসব আমেজ তৈরি হয়েছে। এ উৎসব আমেজে দেশীয় সংস্কৃতির আবহমান বাংলার চিরাচরিত ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভিনদেশী সাংস্কৃতিক আগ্রাসন যেন বাংলার নিজস্ব স্বকীয়তা নষ্ট করতে না পারে। কেননা আমাদের রয়েছে আবহমান বাংলার চিরাচরিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তাই বিকৃত সংস্কৃতির আগ্রাসন রোধে বাঙালির সংস্কৃতির স্বরূপ সন্ধানে আমাদের জাতিসত্তার আপন মহিমায় উজ্জিবীত হতে হবে।এবারের নববর্ষে ভভু জেলা নিষিদ্ধ হওয়ায় উৎপীড়কদের শব্দ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে আনন্দকামী মানুষের। কিন্তু বিকাল ৫টার মধ্যে অনুষ্ঠান বন্ধ করার প্রশাসনিক নির্দেশ হতাশ করেছে উৎসব মুখী মানুষকে। বাঙালি সবসময় উৎসব পরায়ন কখনো সহিংসপরায়ন নয়। গুটি কয়েক দুষ্ট জনের জন্য লাখো মানুষের প্রাণের উৎসবকে ছোট করে আনার কোন মানে হয়না। কেবল বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর সব দেশেই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। চীন, থাইওয়ানসহ পৃথিবীর অনেক দেশে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান হয় পাঁচ সাত ব্যাপী।
নববষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সময় কাল প্রায় ৪৫১ বছরের অধিক পুরানো। ৯৬৩ হিজরী, ২ রবিউস সানী, ১৪ এপ্রিল ১৫৫৬ সালে প্রথম পহেলা বৈশাখ পালনের রেওয়াজ শুরু হয়। এ রেওয়াজ চালু করেন ঐ সময়ের দিল্লীর স¤্রাট জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
জানা যায়, হিজরা সনের পরিবর্তে সৌর বৎসর পালনের জন্য ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ অর্থ্যাৎ বাংলা সনের প্রথম দিনকে স¤্রাট জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর বৃহত্তর কৃষক সমাজের খাজনা আদায়ের জন্য এ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আনন্দ আয়োজন করেন। মূলত বাংলা সনের উৎপত্তি হয়েছে হিজরী সন থেকে। সেই শুরুর পহেলা বৈশাখ কালের পরিক্রমায় বাংলার পথ প্রান্তর ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষিদের মাঝে, পৃথিবীর যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীরা রয়েছে সেসব দেশেও আজ পহেলা বৈশাখ পালন করা হবে মহা উৎসবে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে। আবহমান বাংলার চিরাচরিত উৎসব উদযাপনে সংস্কৃতির উৎকর্ষতায় সমৃদ্ধ হোক বাংলার পথ প্রান্তর।
শুভ হালখাতা
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে স¤্রাট আকবরের আমল থেকে পহেলা বৈশাখে হালখাতার রেওয়াজ চালু আছে। জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলেও বাংলার ব্যবসায়ী সমাজে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও মুদির দোকানদাররা হালখাতার রেওয়াজকে ঐতিহ্যেরআলোকে অক্ষুন্ন রেখেছেন বেশ গর্বের সাথে। হারানো ঐতিহ্যের শৈশবের হাড়ির মিষ্টি পাওয়া না গেলেও বাহারী প্যাকেটজাত মিষ্টি দিয়ে ব্যবসায়ীরা অগ্নিকারী ব্যক্তির মধ্যে দেনা পরিশোধ উপলক্ষে মিষ্টি মুখের আয়োজন করে থাকে। এ হালখাতার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা পাওনা আদায় করার মধ্যদিয়ে নতুন বছরে.. নতুন প্রত্যাশায় আরেকটি লাল কাপড়ের বাঁধাই করা বিশেষ খাতা খুলে থাকেন। পুরনো খাতার হালনাগাদ ও নতুন খাতার অভিষেক এর মধ্যদিয়ে হালখাতার আয়োজন বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যে অস্থিরতা দূর করুক এটাই নতুন বছরের প্রত্যাশা। এসো মিলি প্রাণের উৎসবে। বাঙালির সংস্কৃতির নানা আয়োজনে বর্নিল হোক এবারের পহেলা বৈশাখ। বাংলাদেশের মানুষের জন্য বাংলা নববর্ষ বয়ে আনুক অনাবিল সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি। শুভ নববর্ষ ১৪২৪।

লেখক, সংগঠক ও কলামিস্ট

Scroll To Top