শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / মুক্ত জানালা

বিভাগ: মুক্ত জানালা

Feed Subscription

ফিলিস্তিন টু আরাকান…

মুহাম্মদ কামাল হোসেন::বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ নৃশংসতা ও গণহত্যার মচ্ছব চলছে। সামান্য ঘটনায় তিলকে তাল বানিয়ে যখন-তখন মুসলমানদের পাইকারি হারে হত্যা ও নিধন করা হচ্ছে। কেউ কোনো উচ্চবাক্য করছে না। প্রকৃতপক্ষে মুসলমানদের পাশে কেউ নেই। কখনো ছিলও না। স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর দল ও সাম্রাজ্যবাদী দোসররা মাঝেমধ্যে সর্বস্ব লুটপাটের ধান্ধায় বন্ধুত্বের রূপ নিয়ে হাত বাড়িয়েছে। স্বার্থ উদ্ধার হওয়ার পর প্রকৃত মুখোশ উন্মোচিত হয়ে গেছে। নামসর্বস্ব ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানগুলো মুসলমানদের পক্ষে মাঝেমধ্যে কাগুজে বিবৃতি, লম্পঝম্প ও হাঁকডাকেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে। কাজের কাজ মূলত কেউ করছে না। বিশ্বব্যাপী মুসলমানই একমাত্র জাতি যারা সবচেয়ে নিগৃহীত ও নির্যাতিত। প্রকৃতপক্ষে মানুষ হিসেবে কেউ তাদের গণ্য করছে না। দিকে দিকে মজলুম অসহায় মুসলমান নারী-পুরুষকে নিধন করা হচ্ছে। ভূমিষ্ঠ নিষ্পাপ শিশুদেরও হত্যা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গর্ভের অনাগত সন্তানরাও রেহাই পাচ্ছে না। তাদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। খোদার আরশ কেঁপে উঠছে। মুসলমানদের আহাজারি ও কান্না কাউকে সামান্যতম স্পর্শ করছে না। মুসলমানরা মার খেতে খেতে সামান্য প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে বিশ্বময় সবাই সমস্বরে জঙ্গিবাদের ধুয়া তুলছে। অথচ জঙ্গিবাদের প্রকৃত দোসর হিসেবে তারাই নতুন নতুন জঙ্গি গ্রুপ বিশ্বময় ছড়িয়ে দিচ্ছে। শান্ত পৃথিবীকে অশান্ত ও অগ্নিগর্ভ করে তুলছে। এসব জঙ্গিবাদের ওপর স্ট্যাম্প লাগাচ্ছে শান্তিময় ইসলাম ধর্মের। কলুষিত করার চেষ্টা চলছে মুসলমানদের সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ‘ফিলিস্তিন টু আরাকান’ আজ একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এই রোডম্যাপ শুধুই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন নতুন দেশ। যেখানে মুসলমান সেখানেই বর্বরতা ও গণহত্যা চালানো হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী চলমান নৃশংসতা ও হত্যাকান্ডের ধরন বারবার একই চিত্রনাট্যের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আজ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ঘোর দুর্দিন, ঘোর অমানিশা। এক দুর্বিষহ জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে তারা প্রতিটি মুহূর্ত পার করছে। নিজ দেশেই তারা পরবাসী। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের শিকার। দুনিয়াজুড়ে আধিপত্যবাদ ও সা¤্রাজ্যবাদীদের নীলনকশায় তারা নিগৃহীত। বিশেষত যেসব দেশে মুসলমানরা সংখ্যালঘু সেখানে তাদের ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারসহ সব কিছুই পর্যুদস্ত। বিশ্বে এক সময়ের শির উঁচু করা জাতি, আজ ন্যুব্জ হয়ে রয়েছে। অত্যাচারীদের নির্মম খড়গ তাদের ঘাড়ে চেপে আছে। কিন্তু যারা এক দিন গোটা বিশ্ব শাসন করত, যাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সভ্যতার আলো দ্বারা সমগ্র বিশ্ব আলোকিত হয়েছিল, তারা আজ সতত বিশ্বব্যাপী চরমভাবে নির্যাতন, জুলুমের শিকার হচ্ছে এবং নৃশংসতা ও বর্বরতার বলি হচ্ছে বিরোধী অপশক্তি দ্বারা। এর জন্য মুসলমানদের অনৈক্য, ভোগবাদী মনোভাব ও স্বেচ্ছাচারিতাই মূলত দায়ী। তারা নিজেরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে জন্ম দিয়ে মিডিয়াকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ব্যবহার করে দায় চাপাচ্ছে মুসলমানদের ওপর। শক্তিশালী কোনো আন্তর্জাতিক তথ্য মিডিয়াও মুসলমানদের হাতে নেই। অথচ কিছু কিছু মুসলিম রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের ধনকুবের বিলাসবহুল প্রাসাদ, ভোগবিলাস ও আরাম আয়েশের দিকে মগ্ন থেকে নিজেদের তথা জাতিরাষ্ট্র ও সম্প্রদায়ের ধ্বংস ডেকে আনছে। বরং বিরুদ্ধ শক্তির কাছে এরা প্রিয়ভাজন ও প্রিয় ব্যক্তিত্ব। মুসলিম বিশ্বের প্রায় সব রাষ্ট্রপ্রধানই ওদের হাতের পুতুল। দুয়েকটি দেশ ব্যতিক্রম হলেও আন্তর্জাতিক বিরোধী গোষ্ঠীর দাপটে তারা কার্যকর কিছুই করতে পারে না।

রাবেতা, আরব লিগ ও ওআইসি নামের সংস্থাগুলোর ভূমিকা ইতিবাচক নয় বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। নিন্দা প্রস্তাব ও কাগুজে বিবৃতিদানের মধ্যেই তাদের কাজ সীমাবদ্ধ। ফিলিস্তিন, চেচনিয়া, কসোভা, মেসিডোনিয়া, মিন্দানাও, ইরাক, মিসর, লিবিয়া, আফগানিস্তান ও আজকের মিয়ানমারের আরাকানে কারবালার প্রান্তর তৈরি করে রাখা হলেও এসব সংস্থা এবং বিশ্ব মুসলিম সমাজ নির্লিপ্ত এবং জড়। হয়তো এরপর নতুন কোনো মুসলিম দেশ আক্রান্ত হবে। মুসলিম অধ্যুষিত নির্যাতিত দেশের তালিকাটা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে। পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বলতম জাতিগোষ্ঠী আরাকান মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের খড়গ চালাতে মিয়ানমার সরকারের মানবিক বোধে কোনো আঁচড় কাটেনি। দিন দিন তাদের স্পর্ধা ও ধৃষ্টতা লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশের আকাশসীমা বারবার লংঘন করে যাচ্ছে। এর একটা ছেদ চিহ্ন আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। সময় এসেছে মুসলিম বিশ্বকে সব মতভেদ ভুলে একই প্লাটফর্মে এসে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। মিয়ানমারের চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য, তাদের ওপর শক্তভাবে চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশে অবস্থানরত মুসলমান রোহিঙ্গাদের আবার তাদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করা। এর জন্য সবার আগে যা প্রয়োজন তা হলো ‘বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য এবং সাম্য প্রতিষ্ঠার ঘোষণা’। এ মুহূর্তেই যা শুরু হতে পারে।

লেখক : কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও কলামিস্ট

kamal83_alif@yahoo.com

ভারতবর্ষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বাঙালিদের অবদান যথেষ্ট

আবু নছর আব্দুল হাই ছিদ্দেকী:ভারতবর্ষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাঙালিদের যথেষ্ট অবদান ছিল। বাঙালিদের এক কঠোর সংগ্রামের ফলে  ইংরেজদের ভারত ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল।এটা সর্বজন বিদিত কিন্তু বর্তমানের প্রেক্ষাপেটে বৈচিত্রময় ভারতবর্ষের বিষেশত আসাম রাজ্যে বাঙালির অবস্হা অত্যন্ত খারাপ কারণ উগ্রজাতীয়বাদীদের সৃষ্ট হয়রানি, ডি ভোটার তকমা লাগিয় হেনস্তা আর কত কি? সুযোগ সন্ধানীরা বাঙালিদের নিজের ভাষাকে কেড়ে নিতে মরিয়া উঠিতেছে।

বাংলা ভাষার জন্মরহস্য নিহিত আছে মাগধী অপভ্রংশের মধ্য।এই মাগধী অপভ্রংশের একটি শাখা থেকে জন্ম নেয় বাংলা, অসমীয়া ও ওড়িয়া।বাংলা ও অসমীয়া প্রথম দিকে অভিন্ন থাকলেও পরে দুটি স্বতন্ত্র ভাষা হয়ে উঠে। অর্থাৎ বাংলা ভাষার জন্ম হচ্চে মাগধী অপভ্রংশ থেকে কিন্তু কেউ কেউ বলে থাকেন বাংলা ভাষা সংস্কৃতি থেকে এসেছে। কিন্তু সংস্কৃতকে কোন ভাবেই বাংলা ভাষার জননী বলা যেতে পারে না। সংস্কৃত হল প্রাচীন ভারতের আর্যভাষা।

বর্তমানে বাংলা সংস্কৃতি যেভাবে হারিয়ে যাচ্চে তা দেখে বড় অবাক হতে হয়।আধুনিক সমাজ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল গুলিতে দেখা যায়, বাংলা মাধ্যমের পাঠশালা আস্তে আস্তে বন্ধের মূখে।আর ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা খুবই নগণ্য।আমাদের বরাকে প্রায় ৮৫% বাঙালির বসবাস স্হল কিন্তু বড় দুঃখের সহিত বলতে হচ্চে আজ আমাদের যুব প্রজন্ম নীজের মাতৃভাষা থেকে সরে গিয়ে অসমীয়া হিন্দি ও ইংরাজি ভাষার দিকে ঝুকে পড়ছে। আজ বাংলা ভাষা তাদের কাছে হাস্যস্বরুপ। তার কারণ হিন্দি ও ইংরাজি স্কুলের বাড়ন্ত, অসমীয়া ভাষীদের চাপ খেয়ে আজ বরাকের নতুন প্রজন্মের বাঙালিরা নীজের মাতৃ ভাষা থেকে সরে যাচ্চে।আজ বরাকের মা-বাবারা গর্ব করে বলে আমার ছেলে মেয়ে বাংলা জানে না, সত্যি তখন যেন মনে  কি এক আঘাত লেগে, কিন্তু বলার তো কিছু নেই। তখন আমার মনে হয় যে বাচ্চা নীজের মায়ের ভাষাকে চিনতে পারলো না ,সে কিভাবে নীজের মাকে চিনবে।আরেকটা বিষয় হচ্চে কলকাতা হোক আমার মাতৃভূমি বরাক হোক সব যায়গায়ই আজ কালকের প্রজন্ম বাংলা ভাষা নিয়ে খুব কম পড়তে দেখা যায়, তারা বাংলা ভাষার উপর তেমন জোর দিচ্চে না। এই ভাষার প্রতি তেমন কোনও আগ্রহ নেই তাদের।এরই ফলে বাংলা মাধ্যেম স্কুল গুলো মার খাচ্চে।সত্যি অবাক লাগে কত বাংলা মাধ্যেম স্কুল আজ বন্দের মূখে ।
আজকে অবাক লাগে যখন যুব সমাজ ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯ মে কি তা জানে না? বা  এই দিনকে তারা তেমন গুরুত্ব দেয় না।লেখায় বসে একটা কথা বেসে উঠলো চোখের সামনে, আমাদের পরিবার আমাদের অঞ্চলের এক শিক্ষিত মুসলিম পরিবার । আমাদের এখানে এরকম শিক্ষিত একটা মুসলিম পরিবার খুব কমই দেখা যায়।আমাদের পরিবার শত শতাংশ শিক্ষিত , তাই আমাদের পরিবার ইংরাজি শিক্ষীত সবাই আমার বাবা একজন ল্যাকচারার ইংরাজি সাহিত্য বিভাগের ও আমার কাকু সিনিয়র বিজ্ঞানী হিসাবে আমিরিকায় কর্মরত ,আর আমরা সবাই মানে আমরা ভাই বোন ইংরাজি শিক্ষায় শিক্ষীত , আমিও আমার একমাত্র ছোট বোন আমরা গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা (ইংরাজি) নীয়ে এবং আমার আরেক ভাই চার্টাট এ্যাকাউন্টেনসি(C.A) সাথে এম কম(M.com) আর ছোট ভাই দশম শ্রেণীতে পড়ছে ইংরাজি মাধ্যমে পড়াশুণা করছি।কিন্তু আমরা সবাই ইংরাজি শিক্ষীত হয়েও আমার বাবা একজন ইংরাজি বিভাগের অধ্যপক হয়ে আমাদেরকে তিনি বাংলা ভাষা পুরাপুরি জুর দিয়ে শিখিয়েছেন।আমরা সবাই ইংরাজি থেকে ও বাংলা ভাষায় দক্ষতা ওনেক বেশী।
বর্তমানের    জৈব প্রজাতির মতো ভাষারও জন্ম, মৃত্যু, বেড়ে ওঠা, বুড়ো হওয়া এবং মরে যাওয়া স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু ভাষাবিদেরা লক্ষ করেছেন যে গত শতাব্দী থেকে বিপন্ন কিংবা মৃত ভাষার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট ৪২ হাজার ১৯২টি ভাষার মধ্যে পৃথিবীতে এখন মাত্র ছয় হাজার ভাষা জীবিত। এবং এখন যে হারে ভাষা অবলুপ্ত হচ্ছে, তাতে আগামী ১০০ বছরে ৫০ শতাংশ ভাষা হারিয়ে যাবে। অর্থাৎ, প্রতি দুই সপ্তাহে মৃত্যু হবে অন্তত একটি ভাষার।ভাষার স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে তেমন চিন্তার কিছু নেই। অনেক সমৃদ্ধ ভাষা যেমন সংস্কৃত, লাতিন বা গ্রিকের স্বাভাবিক ‘মৃত্যু’ হয়েছে,তাতে এমন কিছু ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি। কারণ, এই ভাষাগুলো আবার অন্য ভাষা তৈরি করেছে বা অন্য ভাষায় ছড়িয়ে গেছে। যেমন সংস্কৃত থেকে উৎপত্তি হয়েছে ভারতের অনেক ভাষা, ব্যবহারিক লাতিন থেকে এসেছে রোমান ভাষাগুলো আর প্রাচীন গ্রিক থেকে তৈরি হয়েছে আধুনিক গ্রিক ভাষা।ভাষার অস্বাভাবিক মৃত্যুটাই ভাবার বিষয়। কোনো ভাষা যদি অন্য ভাষার আক্রমণে নিহত হয় বা সে নিজে আত্মহত্যা করে, কিংবা হঠাৎ করে তার ভাষাভাষীদের মৃত্যুর কারণে সে হারিয়ে যায়, তাহলে সেই ক্ষতি আর পূরণ হয় না। ইংরেজির বিরুদ্ধে যে ভাষা হত্যার অভিযোগ আনা হয়, সে প্রসঙ্গে ডেভিড ক্রিস্টালদের মতো ভাষাবিদেরা বলেন, ইংরেজি নিজ গুণেই শক্তিশালী এবং তার শক্তিমত্তার কারণে অন্য দু-একটা ভাষা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তো সেটা তার দোষ নয়। কিন্তু ফিলিস্তিন বা পেনিকুকদের মতো সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ভাষাবিদদের মতে, ইংরেজি ভাষার বর্তমান দৌরাত্ম্য কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ফল নয়। এই ভাষাটিকে ইংল্যান্ড-আমেরিকার মতো দেশগুলো সুপরিকল্পিতভাবে শোষণের হাতিয়ার করার জন্য সর্বগ্রাসী করে তুলেছে। ফলে ইংরেজির চাপে এখন কোনো ভাষার মৃত্যু হলে তাকে আর স্বাভাবিক মৃত্যু বলা যাবে না, ‘হত্যা’ই বলতে হবে। যেমন আয়ারল্যান্ডে ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসকেরা সুপরিকল্পিতভাবে আইরিশ ভাষাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছেন।একটি ভাষার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা যায় তখন, যখন সেই ভাষাভাষী মানুষেরা স্বেচ্ছায় কোনো লাভের আশায় কিংবা অনধাবনতাবশত ‘কমল-কানন’ ভুলে ‘শৈবাল’ নিয়ে মত্ত হয়ে পড়ার ফলে তাদের ‘মাতৃভাষা-রূপ খনি’টি হারিয়ে ফেলে। ভাষাবিদ সালিকোকো মায়োন বলেছেন, এসব ক্ষেত্রে অনুরোধ করলেও তারা তাদের ভাষা ধরে রাখতে চায় না। প্রাকৃতিক কারণেও অনেক ভাষা নিশ্চিহ্ন হয়। জাতিসংঘের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সুনামিতে বঙ্গোপসাগরের যে দ্বীপগুলো নিশ্চিহ্ন হয়েছে, তাতে অন্তত ছয়টি ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।তাই আধুনিকতার নামে বাঙালি যত আত্মবিচ্ছিন্ন হবে ততই তার ভাষাও সংকটে পড়বে। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে পৃথিবীর সব ভাষাই বাঙালির রান্নাঘর থেকে শোবার ঘরে ঢুকে পড়েছে আজ। ইন্টারনেট, টিভি, সাইবার সবই আজ ঘরে। হিন্দি ভাষাটাও গান-নাচ-চলচ্চিত্রের হাত ধরে বাঙালির কান থেকে মগজে, চোখ থেকে কলজেতে অনুপ্রেবশ করেছে। অবলীলায় বাঙালির প্রতিমুহূর্তের ভাব বিনিময়ের ভাষায় হিন্দি শব্দ (মূলত আরবি, ফারসি) ইংরাজি শব্দ বাতাসের মতো ঘুরছে। এতে বাংলা ভাষার শব্দ ভাণ্ডারের সমৃদ্ধি ঘটলেও মাতৃভাষার নিজস্বতা হারাচ্ছে। তাই সতর্ক হওয়া দরকার।

এই বিশ্বের কোনো ভাষাই কেবল আবেগ আর ভালোবাসার উপর টিকে থাকে না। আবার পুরোপুরি শক্তিমত্তার ওপরও তার অস্তিত্ব নির্ভরশীল নয়। পৃথিবীতে কত গুরুত্বপূর্ণ ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের ভাষা মেসোডোনিয়ায় আজ ক’জন বলেন? পৃথিবীর প্রধান তিনটি ধর্মপ্রণেতার একজন যীশু যে-ভাষায় কথা বলতেন সেই ভূমধ্যসাগরীয় আরামাইক তখন ওই অঞ্চলের প্রধান ভাষাগুলোর একটি–আজ প্রায় বিলুপ্ত। কিংবা আরেক দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী, বিশ্ববিজয়ী চেঙ্গিস খানের ভাষায় একেবারেই সামান্য কিছু লোক কথা বলেন। হয়তো অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সেই ভাবে কি একদিন আমার মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা বিলুপ্তের পথে হেঠে যাবে?এটা আমার দীর্ঘশ্বাস নয়; ভয়। ভয় হয়, এই বিস্মৃতিপ্রবণ জাতি খুব সহজে নিজেকে ভুলে যাবে না তো! প্রয়োজন নেই বলে নিজের ভাষা, মাতৃভাষাটাকে হারিয়ে ফেলবে না তো! আর এজাতি ভাষা হারানোর আগে বা বাঙালি জাতিকে মেরুদণ্ডহীন করার আগে বিশ্ব বাঙালি জাতি কি একটু ভাববে বরাকের বাঙালি জাতি নীয়ে?

 

লেখক- আবু নছর আব্দুল হাই ছিদ্দেকী। সাংবাদিক ও লেখক।
Permanent Address : village-Bosla,P.S -Badorpur , District-karimganj assam, abu786siddique@gmail.com.

মৌলভী খোরশেদ আলম চৌধুরী ও বাংলা গেজেট

 : রবিউল হাসান চৌধুরী
————————————————
 
পৃথিবীতে মানুষ জন্মগ্রহন করে একটি নির্দিষ্ট সময় পর মৃত্যুবরণ করে।এটা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার নিয়ম।অনেকে মানুষের জন্য কাজ করে যায়,ভালো কাজ করে যায়।আবার অনেকে দুনিয়াটা চিরস্থায়ী মনে করে যত পারে নিজে সম্পদ বানাতে ব্যস্ত থাকে।
 
রবিন্দ্রনাথের কথা অনুযায়ী সব মানুষ প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে,কিন্তু সবাই প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে না।সেটা নির্ভর করে কর্মের উপর।সাধারন মানুষের মধ্যে অনেকে আছে পরোপকার করে যায়।বিনিময় চায় না।তারা পাদপ্রদিপের আলোয় থেকে যায়। আবার অনেকে আছে যশ,খ্যাতি,পরিচিতি সব পায়। যাদের মানুষ চিনে না তাদের অবদান কম নয়। আমরা মানুষ যাদেরকে সামনে পায় তাদেরকে নিয়ে মাতামাতি করি সেটা আমাদের স্বভাব।
 
আমরা সস্তা জনপ্রিয়তায় বিশ্বাসী।মানুষের আন্তরিকতা,ভালবাসা,আবেগের কোনও মূল্যায়ন হয় না। কোন মানুষ একটা ভাল কাজ করতে চাইলে সেটাতে অনেক কিন্তু খুজি।
সব কিছু ছাপিয়ে কিছু মানুষ তাদের কর্মের সাক্ষর রেখে যায়। নজরুল বলেছেন, “পাখির স্বভাব গান গাওয়া কে শুনল আর কে শুনলনা তাতে পাখির কিছু যায় আসে না”।
 
সেরকম একজন ব্যক্তি ছিলেন মৌলভী খোরশেদ আলম চৌধুরী। উনার জন্ম হয়েছিল ১৮৯০ সালে পশ্চিম গহিরা গ্রামের জমিদার বংশে। তার নম্রতা, ভদ্রতা, পরোপকারের কথা উনার সময়ের লোকেরা এখনো মনে রেখেছে। মৌলভী খোরশেদ আলম চৌধুরীর পিতা অলি মিয়া চৌধুরী ছিলেন পশ্চিম গহিরার জমিদার । মাতা ছিলেন উচ্চ বংশীয় মহিলা । প্রাথমিকের পাঠ শেষ করেছেন নিজ বাড়ির সামনে নিজেদের দানকৃত জমির উপর প্রতিষ্ঠিত পশ্চিম গহিরা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। মাধ্যমিকের পাঠ নিতে ভর্তি হন হাটহাজারি থানাধীন ফতেয়াবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে। কিন্তু পাঠ শেষ করা হয়নি স্বদেশী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারনে। মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। ইতিমধ্যে বার্মায় পাড়ি জমান। বার্মা বর্তমান মায়ানমার ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নত অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ একটা দেশ। না বললে নয় তৎকালীন বার্মা ছিল উপমহাদেশের মানুষদের তথা বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মানুষদের জন্য অতি আখাংকিত ভূমি। চট্টগ্রামের মানুষ বার্মাকে দ্বিতীয় জন্মভূমি মনে করত। বার্মার রাজধানী রেঙ্গুন ছিল পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি শহর। রেঙ্গুনকে বলা হত রঙ্গিলা শহর।
 
চট্টগ্রামের প্রায় মানুষ যারা স্থায়ী নিবাস গড়েছে তারা বার্মার মেয়ে বিয়ে করে সেখানে সংসারী হয়েছে। চট্টগ্রামের মানুষ বার্মায় সংবাদপ্ত্র শিল্প,জাহাজ পরিবহন ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে অর্থনীতিতে অবদান রেখেছে। ব্রিটিশ ইন্ডিয়া স্টিম নেভিগেশন কোম্পানির সাথে প্রতিযোগিতা করে আব্দুল বারী চৌধুরীর বেঙ্গল বার্মা স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি চট্টগ্রামের যাত্রীদের আস্থা অর্জন করেন।
 
বার্মা থেকে সে সময় বিভিন্ন সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকা বের হত প্রবাসী বাঙ্গালীদের জন্য। সেগুলো পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষিত লোকজন। প্রবাসী বাঙ্গালিরা খুবই উপকৃত হত। চট্টগ্রামের মানুষজন যারা দেশে থাকত তারা তাদের প্রবাসী আত্নীয় স্বজনদের পরিস্থিতি জানতে পারত।
 
সাপ্তাহিক বাংলা গেজেট নামে একটা পত্রিকা বের হত। প্রতিস্ঠাকাল ছিল ১৯২৯ সালের ১লা জুলাই। তখন সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন ফরুখ আহমদ নিজামপুরী। চট্টগ্রামের মিরসরাই ছিল জন্মস্হান। কয়েক বছর সম্পাদনার পর দায়িত্ব নেন মৌলভী খোরশেদ আলম চৌধুরী। সালটা ছিল ১৯৩১। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। পত্রিকার প্রচার সংখ্যা বাড়িয়েছেন। মালিকপক্ষ একটা সময় এসে পরিস্হিতির কারণে সহযোগিতা কমিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দমে যাননি। চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। ১৯৪২ সাল পর্যন্ত পত্রিকা চালিয়ে গেছেন নিজ দায়িত্বে।
 
জাপান বার্মায় বোমা ফেললে পত্রিকার প্রচুর ক্ষতিসাধন হয়। তিনি সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। শূন্যহাতে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে স্বদেশী আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে গান্ধীজির অনুপ্রেরণায় চরকায়ে সূতা কাটার ব্যবস্থা করেন। গ্রামের মানুষের জন্য লঙ্গরখানা খুলে আহারের ব্যবস্থা করেন। এভাবে নীরবে গ্রামের মানুষের জন্য অনেক কাজ করে গেছেন। সেরকম একটা কাজ গ্রামের সাঁকো নির্মাণের সময় তদারকি করতে গিয়ে সাঁকো থেকে পরে আহত হন। কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই নীরব পরোপকারী মৃত্যুবরণ করেন ১৯৬১ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী।
 
মৌলভী খোরশেদ আলম চৌধুরী “সত্যগ্রহ” নামে একটি পত্রিকারও সহকারী সম্পাদক ছিলেন। সেটা উঠে এসেছে দৈনিক আজাদীর সাহিত্য সাপ্তাহিকী রবিবার ৩০শে ভাদ্র ১৩৭৫, ১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৬৮ সংখ্যায়। সে সংখ্যায় জি, আবুল কাশেমের “বাংলা সাহিত্যে চট্টগ্রাম” প্রবন্ধ আলোচনায় হাকিম আলতাফুর রহমান নতুন করে যোগ করেছেন বাংলা সাহিত্যে মৌলভী খোরশেদ আলম চৌধুরীর অবদানের কথা। তার লেখার অংশটুকু তুলে ধরলাম। “রাউজান থানার গহিরা নিবাসী মরহুম খোরশেদ আলম চৌধুরীর অবদান চট্টলার বাংলার ক্ষেত্রে সমুজ্জ্বল হয়ে থাকবে।“
কলকাতার “সত্যাগ্রহ” পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও রেঙ্গুন বাংলা গেজেটের সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে তিনি কয়েকটি গন্থ প্রকাশ করেন।
তিনি চলে গেছেন কিন্তু কাজের ছাপ রেখে গেছেন। বাংলা গেজেট নিয়ে এখনো গবেষণা হচ্ছে। ফলে অনেকে বাংলা গেজেট থেকে গবেষণার উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারছেন। অনেকে উনাকে মনে রাখবেন হয়তো অনেকে রাখবেন না। তবুও কর্মের মাঝে বেঁচে থাকবেন আজীবন ।

হঠাও ষড়যন্ত্রকারী, বাঁচাও কিশলয়

সেলিম উদ্দিন:
কক্সবাজার জেলার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ খুটাখালী কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক শিক্ষানুরাগীদের বলতে শুনেছি প্রতিষ্ঠান নিয়ে এসব মানায় না। এসবের কারণে প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাবে। সমাজে একটা কথা হামেশা বলতে শুনি। ‘বাইরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট’ এ ফিটফাট-সদরঘাট অবস্থাতো স্কুলের হয়নি। যদি হয়ে থাকে এর আঁড়ালে স্কুল দরদী-শুভাকাংখীরা কি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাই। তাহলে বুঝতে বাকী রইল না কেন তাদের এত দরদ। যারা আজকের কিশলয় নিয়ে এত মাতামাতি-ঘাটাঘাটি করছেন তাদের হয়ত একটা মহৎ উদ্দেশ্য আছে? উদ্দেশ্যটা কি! দয়া করে কিশলয় স্কুলকে বলির পাঠা বানাবেন না। স্কুলের বিরুদ্বে পত্রিকা-ফেইজবুকে মন্তব্য দেখলেই স্কুলের মান-ইজ্জত, লেখা-পড়া সব কিছু নষ্ট হচ্ছে মনে করেন। যারা এসব কথা বলে বেড়ান তাদেরকে বলি ‘নীতি কথা বাদ দিন, সমস্যার সমাধান দিন’। কক্সবাজার জেলার গৌরব কিশলয়। খুটাখালীর অহংকার কিশলয়। সর্বপরি ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়ার ঠিকানা কিশলয়। নিন্দুকের কথা না শুনে ষড়যন্ত্রকারীরা যতই ষড়যন্ত্র করুক সকলের সহযোগিতায় এ চক্রান্ত ধূলিসাৎ হবে। সময় হয়েছে এক্ষুনি এগিয়ে আসার, কারা কি করলো, কি না করলো এসব দেখার দরকার নেই। যারা নিজেদের শুধু ফ্রেস ও ভাল মানুষ মনে করেন তাদেরও প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু ভাল মনের কয়েক জন অভিভাবক। সম্মিলিতভাবে তারাই করতে পারবে ষড়যন্ত্রকারীদের হঠিয়ে কিশলয় বাঁচাও আন্দোলন। আসলে কিশলয় নিয়ে এসব কি হচ্ছে। লেখা-পড়ার নামে যারা এ বিভক্তি সৃষ্টি করেছেন তারা কি সহজে এ থেকে রেহায় পাবেন? জ্বি না! যাদের কারণে ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার বিঘœ ঘটছে তাদের ছাড় দেয়া যাবে না। যারা নিন্দুক তারা হয়ত এত দোষ খুঁজেন। এ সমাজে তাদের কাজ সম্ভবত এটাই। তাদের উদ্দেশ্য বলি ”খাছিয়ত গম ন নছিয়ত গরি মছিবত ন লইঅ”।
সাম্প্রতিক সময়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে চলছে কল্পকাহিনী। চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। এসবকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর ষড়যন্ত্রকারী এলাকায় তুলপাড় সৃষ্টি করছে। কেনইবা তারা একটি স্কুল নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে তা কারো বোধগম্য না হলেও স্পষ্ট হয়েছে স্কুল কমিটির নির্বাচন নিয়ে তাদের অপপ্রচারের হাকঁডাক। যা শিক্ষিত সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ সমাজের কিছু ফায়দালোভী স্কুলের চলমান কার্যক্রমে বার বার বাঁধাগ্রস্থ করছে। তাদের এহেন কর্মকান্ডে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে আসলে এরা কি চাই! এরা কারা? কেন তারা খুটাখালীতে এত স্কুল থাকতে শুধু কিশলয় স্কুল নিয়ে মাথা ঘামায়। তাদের উদ্দেশ্য কি? তারা কিশলয় স্কুলের প্রতিষ্টাতা আলহাজ্ব চৌধুরী মুহাম্মদ তৈয়ব হুজুরকে বিতাড়িত করে তাঁর স্মৃতি বিজড়িত প্রতিষ্টানের চিহ্ন কি মুছে ফেলার চক্রান্ত করছে ?
এসব প্রশ্নের উত্তর আজ সবার জানা। তারপরেও বলতে শুনা যায় স্কুলের লেখাপড়ার মান খারাপ। শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়ে বির্তক, কমিটি অযোগ্য। তাহলে প্রশাসন এসবের বিরুদ্বে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? প্রতি বছর পিএসসি,জেএসসি,এসএসসিতে এত জিপিএ,এ প্লাস পায় কিভাবে? দেড় হাজার শিক্ষার্থীদের অভিভাবক কি কিছুই জানেন না। ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে কি কারো চিন্তা নাই। থাকলে লেখা পড়ায় যারা ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্বে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কোন মতলবে।
খুঁজে বের করতে হবে তাদের খুটির জোর কোথায়? তাদের পেছনে কারা নাড়ছে কলকাঠি। কুকুরে উপর বিড়াল,বিড়ালের উপর কুকুর তুলে দেয়া যাদের স্বভাব এরা কি তারা না তাদের প্রেত্তাত্বা? তাদের মুখোশ উম্মোচন করা সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে। উদ্দেশ্য যদি সৎ থাকে সফলতা আসবেই এটিই যেমন চিরন্তন সত্য,তেমনি যারা পিছন দিক দিয়ে এসব ষড়যন্ত্র করছে তাদের পরাজয় (বেইলশেষ) নিশ্চিত।
তাদের উদ্দেশ্যে কটি প্রশ্ন: কিশলয় স্কুল প্রতিষ্টার পর থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি কেন? এযাবত যে সমস্ত শিক্ষক অবসর নিয়েছেন তাদের বিদায় সংবর্ধনা কেন দেয়া হয়নি? যারা অকালে মারা গেছেন তাদের শোক সভা করা হয়েছি কি? কার ইশারায় কার ইন্দনে প্রতিষ্টাতা আলহাজ্ব চৌধুরী মুহাম্মদ তৈয়ব হুজুরকে বহিষ্কার করা হয়েছে? কেন দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত প্রধান শিক্ষকদের নামের তালিকা টাঙানো হয়নি? স্কুল বাস বিক্রির টাকা কার পকেটে? ছাত্র ছাত্রীদের ইউনিফরম আছে, সালাম আদব-লেহাছ গেল কই? শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে ধুমপান করে,দে জাত তুলে গালাগাল। তাঁরা নাকি মানুষ গড়ার কারিগর! সরকারী বেসরকারী বেতন নিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তাঁরা এখন ধোয়া তুলসী পাতা। তাঁরা উনিশ বিশ (ভাগবাটোয়ারা) কম হলে করে ক্লাস বর্জন। এসব তাদের অধিকার। এসবের সুরাহা কি কখনো হবেনা?
কমিটি-শিক্ষক-অভিভাবকদের মাঝে দুরত্ব কিসের ইঙিত বহন করে। কারা তিলকে তাল বানাই, কোথাও একটা ক শদ্ব দেখলে কিশলয় কমিটি ভাবে তাদের ঘোর কাটবে কখন?
লেখক:সেলিম উদ্দিন, প্রাক্তন ছাত্র ও অভিভাবক প্রতিনিধি ।

সিএনজি চালক আবুল বাশার বাঁচতে সকলের সহযোগিতা চান

গত ৭ মাস আগেও তিনি সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন। স্ত্রী, একমাত্র সন্তান ও পরিবারের লোকজনের মুখে আহার তুলে দিয়েছেন। এখন চলে না তার গাড়ি, চলে না তার শরীর। তাই পরিবারের লোকজনের মুখে ঠিকমত আহার জুটচেনা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেড়ে শুয়ে শুধু গুণছে মৃত্যুর প্রহর। অটোরিকশা চালক আবুল বাশারের দুটি কিডনী নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তার জীবনে নেমে এসেছে এক আমবশ্যর রাত। তিনি পরিবারের ভরণপোষণ, বাসা ভাড়া, তার চিকিৎসার কথা ভেবে চোখে অন্ধকার দেখছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন কিডনী প্রতিস্থাপন করতে প্রচুর টাকার প্রয়োজন। অত টাকা তার নেই। তাই চট্টগ্রাম নগরের বাদুরতলা বড়গ্যারেজ এলাকার তৈয়ব কলোনীতে বসবাসরত আবুল বাশার সমাজের বিত্তবান ও সবশ্রেণীর মানুষকে তার চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন। তিনি ভোলা চরফ্যাশন থানার দুলারহাট ১নং ওয়ার্ডের আবদুল মালেকের পুত্র। সাহায্য পাঠানো যাবে বিকাশ নম্বর-০১৯০৩-৯৬০৫৫৩ অথবা সঞ্চয়ী হিসাব নং-৮৬১৯, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ও আর নিজাম রোড শাখা,চট্টগ্রাম। বিজ্ঞপ্তি

“জাতীয় উন্নয়নে বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন ও বর্তমান প্রেক্ষিত”

শাহাব উদ্দিন মাহমুদ:: জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য শিক্ষা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ অপরিহার্য। প্রকৃতপক্ষে জাতীয় উন্নয়নে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের সুফল আসে ধীরে ধীরে। আর তাই সেটা অনেক সময় তাৎক্ষনিকভাবে আমাদের চোখে পড়ে না। অথচ অর্থনীতিবিদদের মতে, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ সবচেয়ে লাভজনক এবং নিরাপদ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ। অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ, ডেভিড রিকার্ডো এবং মার্শালের মতে, শিক্ষা এমন একটি খাত যার কাজ হলো দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে পুঁজির সঞ্চালন ঘটানো। অর্থনীতিবিদ আর্থার শুলজ দেখিয়েছেন যে, প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ করা সম্পদের সুফল ফেরত আসে ৩৫ শতাংশ, মাধ্যমিক শিক্ষায় ২০ শতাংশ এবং উচ্চ শিক্ষায় ১১ শতাংশ। শিক্ষার অর্থনীতি (Economics of Education) নিয়ে গবেষণা করে মৌলিক অবদান রাখার জন্য রবার্ট সলো এবং আর্থার শুলজ অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পর্যন্ত পেয়েছিলেন। শিক্ষার সুদূর প্রসারী ফলাফলের দিকটিকে সামনে রেখে চীন দেশে আজও একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে,তুমি যদি স্বল্পতম
সময়ে ফল লাভ করতে চাও? তাহলে মওসুমী ফসলের চাষ কর , তবে তুমি এতে ফসল পাবে মাত্র একবার, আর যদি তুমি ১০ বছর ধরে ফল লাভ করতে চাও , তাহলে চাষ কর ফলদার বৃক্ষের,আর যদি তুমি শতাব্দীকাল ধরে ফল পেতে চাও , তাহলে মানুষ চাষ কর। বলা বাহুল্য মানুষের চাষ মানে হলো একটি গণমুখী ও বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন।
শিক্ষা আন্দোলন
১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের চাপিয়ে দেয়া গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষানীতি বাতিল করে বৈষম্যহীন সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠা এবং একটি গণমুখী বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে ছাত্রসমাজ অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গড়ে তুলেছিল । ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা। রূঢ় বাস্তবতা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে শুধু সংখ্যায় নয়, গুণগতমান নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে একটি মানানসই বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন সময়ের দাবী।
প্রাথমিক শিক্ষা
দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী দেশে ফিরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশের প্রথম সরকার কর্মকান্ড শুরু করেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন। ১৯৭২-৭৩ সালে প্রস্তাবিত ‘কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন’ রিপোর্টে যে সুপারিশমালা দেওয়া হয়েছিল তা বৈপ্লবিক না হলেও উপনিবেশিক চিন্তা চেতনার বিপরীতে যুগোপযোগী এবং বৈষম্যহীন শিক্ষা কাঠামোর দিক- নির্দেশনা ছিল। স্বাধীনতার ঊষালগ্নে অত্যধিক ঘনবসতি, সীমিত সম্পদ আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ-প্রবণতার কারণে অনেক বিদেশি পণ্ডিত দেশের টিকে থাকার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্ব নিয়েই বঙ্গবন্ধু উপলব্দি করেছিলেন প্রাথমিক পর্যায়ে যতদিন শিক্ষার ভিত্তি মজবুত হবে না ,ততদিন এদেশের বিপুল জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করা সম্ভব নয় এবং তিনি এটাও উপলব্দি করেছিলেন প্রাথমিক পর্যায় থেকেই মানসম্মত শিক্ষার কাজ শুরু করতে হবে। তাই তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে কয়েকটি মৌলিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যার অন্যতম ছিল প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ। ১৯৭৩ সালে একটি ঘোষণায় দেশের ৩৬১৬৫ (ছত্রিশ হাজার একশত পয়ষট্টি) টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করন করে শিক্ষকদের বেতন ভাতার ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। ধনী , দরিদ্র ,শহর গ্রামের শিশুদের একই শিক্ষা কাঠামোর অর্ন্তভুক্ত করে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈষম্যহীন, সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । জাতির পিতার আদর্শের ধারাবাহিকতায় তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারী ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন । এর মধ্য দিয়ে এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত এক লাখ তিন হাজার ৮৪৫ জন শিক্ষকের চাকরি সরকারি হয়েছিল। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করনের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘ দুই দশকের আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি ঘটেছিল। দূরীভূত হয়েছিল প্রাথমিক স্তরের সরকারী-বেসরকারি বৈষম্য । সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্যে সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অর্জিত হয়ছিল উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
মাধ্যমিক শিক্ষা
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দেশকে একটি নতুন শিক্ষানীতি উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন। কমিশন জাতীয় শিক্ষার সকল দিক বিবেচনা করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যাপারে কমিশন একটি বৈষম্যহীন সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠা এবং একটি গণমুখী বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ পেশ করে। কিন্তু, কমিশনের প্রতিবেদন অনুমোদনের পূর্বেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তিত হয়ে যায়। পরবর্তীকালে ১৯৭৫ সালে জাতীয় শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত শিক্ষাক্রম ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়। এটি ১৯৯৬ সালে নতুন পাঠ্যক্রম চালুর পূর্বপর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। ১৯৭৮ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সাতটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। দেশে বর্তমানে প্রচলিত মাধ্যমিক শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যসূচি ১৯৯৬ শিক্ষাবছর থেকে চালু হয়েছিল।২০১০ সালের সর্বশেষ শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া পঞ্চম শ্রেণির পাঠদানশেষে সারা দেশে একযোগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং অষ্টম শ্রেণির পাঠদানশেষে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা জেএসসি নামে দুটি পাবলিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০০৮ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং ২০১০ সাল থেকে জেএসসি পরীক্ষা চালু হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে এ শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা পুরোপুরি অর্জিত হলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যয়ঃ
দেশের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেতন কিংবা ভর্তি ফি নেই। শুধু নাম মাত্র পরীক্ষার ফি নেওয়া হয়। পক্ষান্তরে বেসরকারী কিন্ডার গার্ডেন ও শহরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষার জন্য চড়া মূল্য দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত টিউশন ফি ১২ থেকে ১৫ টাকা, ভর্তি ফি ১,০০০- ১,৪০০ টাকার মধ্যে। সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্বল্প বেতনে অধ্যয়নের সুবিধা ভোগীদের অধিকাংশ অভিজাত শ্রেনী । দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোর মাসিক টিউশন ফি গড়ে ৮০০-১০০০ টাকা ভর্তি ফি ৮,০০০-২০,০০০ টাকার মধ্যে। উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যয় নামমাত্র। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে চিত্র তার বিপরীত ।
শিক্ষকদের বেতন ভাতায় বৈষম্যঃ
শিক্ষা ব্যবস্থার দুই ধারা সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষকদের মধ্যে বেতন ভাতায় ব্যাপক বৈষম্য বিরাজমান। দিন দিন এ বৈষম্য বেড়ে চলেছে। প্রাথমিক,মাধ্যমিক ও উচ মাধ্যমিক পর্যায়ে এই বৈষম্য খুবই তীব্র। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের চিত্র তার ঠিক উল্টো। এখানে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের তুলনায় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা বেশি বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন।
সরকারী শিক্ষক/কর্মচারীদের প্রাপ্ত সুযোগ/সুবিধাঃ
দেশের সরকারী প্রাথমিক/ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি , জাতীয় বেতন কাঠামো অনুসারে মূল বেতনের ৪৫% বাড়ী ভাড়া ,১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা , ভ্রমন ভাতা,শ্রান্তিবিনোদন ভাতা, মূল বেতনের সমপরিমাণ ২ টি উৎসব ভাতা, নব প্রবর্তিত ২০% বৈশাখী ভাতা, স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণ সুবিধা, আবাসন সুবিধা, আজীবন পেনশন,কর্মচারী কল্যাণ ও পরিদপ্তর থেকে চিকিৎসা সহায়তা, ০৮, ১২, ১৫ বছরে পর্যায় ক্রমে ০৩টি টাইম স্কেল সহ যাবতীয় সরকারী সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। একজন স্নাতক বি.এড ডিগ্রীধারী শিক্ষক মাস শেষে সর্বসাকুল্যে ৪৫,০০০- ৫৫,০০০ এবং টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্তরা সর্বসাকুল্যে ৬০,০০০-৮০,০০০ টাকা বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন।
বেসরকারী শিক্ষকদের প্রাপ্ত সুযোগ/সুবিধাঃ
দেশের মাধ্যমিক ও উচ মাধ্যমিক স্তরের ৯৮% শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারী ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। অথচ বেসরকারী শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার। স্বাধীনতা উত্তর বেসরকারী শিক্ষকদেরকে (১৯৭৬-১৯৮১) জাতীয় বেতন স্কেলের ৫০% বেতন প্রদানের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে (১৯৮১-১৯৯০) সালে জাতীয় বেতন স্কেলের ৭০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। এবং (১৯৯১-১৯৯৫)সালে ৮০ শতাংশে (১৯৯৬-২০০০) সালে ৯০ শতাংশে (২০০১-২০০৫)সালে বেসরকারী শিক্ষকদের বেতন ১০০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকরা সরকারী কোষাগার থেকে প্রারম্ভিক বেতনের শতভাগ বেতন পেলে ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সকল আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শতভাগ প্রারম্ভিক বেতনের পাশাপাশি ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ,বেতনের ২৫% হারে ২ টি উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন বেসরকারী শিক্ষকরা। প্রাপ্ত বেতন থেকে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টে ৬% কর্তনের পর একজন স্নাতক বি.এড ডিগ্রীধারী শিক্ষক মাস শেষে সর্বসাকুল্যে ১৬ ,৫০০ এবং টাইমস্কেল প্রাপ্তরা সর্বসাকুল্যে ২২,১৮০ টাকা বেতন পেয়ে থাকেন। বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীরা চাকুরীর মেয়াদ আট বছর পূর্তিতে সমগ্র চাকুরী জীবনে একটি মাত্র টাইম স্কেল পেতেন, ৮ম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর টাইম স্কেল প্রথা রহিত হয়ে যায় । ফলশ্রুতিতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে্র শিক্ষকদের বেতন ভাতায় সরকারী -বেসরকারী বৈষম্য আরো প্রকট আকার ধারন করে ।
শিক্ষা খাতে বর্তমান সরকারের অর্জনঃ
শিক্ষা খাতে বিরাজমান সরকারী -বেসরকারী বৈষম্য স্বত্বে ও শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ সমূহের মধ্যে অন্যতম হলো-১জানুয়ারী শতভাগ ছাত্রছাত্রীর মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রম। নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তির ব্যবস্থা। সারাদেশের ত্রিশ হাজার বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন। ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর শতকরা হার ছিল ৬১ শতাংশে বর্তমানে তা উন্নীত হয়েছে শতকরা ৯৭ ভাগে। শিক্ষার সুবিধাবঞ্চিত গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা আর শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে রীতিমতো ঘটে গেছে বিপ্লব যা বিশ্বের বহু দেশের কাছে অনুকরণীয়। সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ে ভর্তির হার শতভাগ, ছাত্রছাত্রীর সমতা, নারী শিক্ষায় অগ্রগতি, ঝরে পড়ার হার দ্রুত কমে যাওয়া সহ শিক্ষার অধিকাংশ ক্ষেত্রই রোল মডেল এখন বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে গেলেও শিক্ষার অগ্রগতিতে গত এক দশকই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশ্বব্যাংক, ইউনেস্কো, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামসহ আন্তর্জাতিক দাতা ও গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশের শিক্ষার অগ্রগতিকে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ সমূহের জন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, শিক্ষায় প্রতিটি পর্যায়ে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। একদশকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও টেকসই। শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা অর্জনে বাংলাদেশ ছুঁয়েছে নতুন মাইলফলক।

পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা ক্ষেত্রে এতসব অর্জনের পর ও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারী বেসরকারী বৈষম্য আপনার সরকারের অর্জন সমূহকে ম্লান করে দিচ্ছে । দেশের উন্নয়নে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্নিহিত শক্তির কারণেই স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের আলোকে শিক্ষাখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিলেন। শিক্ষা জনগণের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার তৃতীয়তম স্তম্ভ হওয়ায় আর দশটি উন্নত, উন্নয়নশীল দেশের মতো রাষ্ট্রকেই শিক্ষার মুখ্য দায়িত্বে থাকার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মম ভাবে হত্যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলের পর মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে ঢালাও বাজারিকরণের স্রোতে ঠেলে দেওয়া হয় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে, সেই দিন শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, হত্যা করা হয়েছিল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা রাষ্ঠ্রীয় করনের স্বপ্নকে। অবহেলিত থাকে যায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাস্তর। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে একটি মধ্যম আয়ের উন্নত দেশে রূপান্তরিত হতে চলেছে, বিষয়টি এখন আর কল্পনা বা অনুমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই,দেশে শিল্প বিপ্লব চলছে,নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে , বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ত্রিশ হাজার কোটি মার্কিন ডলার, তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের বদৌলতে ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন দৃশ্যমান। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এ ধরনের যে সমস্ত সংস্থা রয়েছে, তাদের সকলেরই অভিমত, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হবে। আপনার সরকারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে—২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশ বলে বিবেচিত হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর উন্নত দেশের কাতারে শামিল হবে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শহর-গ্রাম,সরকারী-বেসরকারী বৈষম্য দূর করে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করনের মাধ্যমেই শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য নিরসন করা সম্ভব । অব্যাহতভাবে এ কাজ চালিয়ে যেতে পারলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ শুধু একটি মধ্যম আয়ের দেশ হবে না, শিক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একটি মধ্যম মানের উন্নত শিক্ষিত দেশ বলে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করবে।

লেখক: কো-অর্ডিনেটর ও শিক্ষক প্রতিনিধি
আগ্রাবাদ সরকারী কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়,চট্টগ্রাম
Email-sumahmud78@gmail.com

জাতীয় স্বার্থে গোমাতলীকে রক্ষা করুন

লবন, চিংড়ী ও মৎস উৎপাদন অঞ্চল কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলীকে অস্তিতে¦র সংকট থেকে রক্ষা করতে হবে। গোমাতলী মহেশখালী সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে গেলে সমুদ্রের আঘাত এসে পড়বে লবন- মৎস্য শিল্পের ওপর। সুতরাং জাতীয় স্বার্থে গোমাতলীকে রক্ষা করুন। অন্যথায় দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক জোন খ্যাত গোমাতলী চরম হুমকির মধ্যে পড়বে। মাত্র ১০ বর্গমাইলের গোমাতলী মহেষখালী সমুদ্রের অব্যাহত বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের কারণে আজ ৬ বর্গমাইলে এসে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও অসাধু কর্মকর্তা ও দূর্নীতিবাজদের কারণে গোমাতলী আজ বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে। অতীতের লুটপাটের সুষ্ট তদন্ত পূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
গোমাতলীর সর্বস্তরের জনগণের দীর্ঘ দিনের একটা জোরালো দাবী হচ্ছে পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলীর বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ও টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করা। টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণের দাবীতে গণদাবী তুলার জন্য গোমাতলী সমবায় কৃষিও মোহাজের উপনিবেশ সমিতির পক্ষ থেকে আমি সকলকে আহবান জানাচ্ছি- সেলিম উদ্দীন (সাংবাদিক)-সভাপতি, গোমাতলী সমবায় কৃষিও মোহাজের উপনিবেশ সমিতি,পোকখালী,সদর কক্সবাজার।

“শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করন সময়ের দাবী”

শিক্ষকরাই হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগর। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজ আজ বঞ্চনার শিকার। এমপিওভুক্ত সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীদের তাঁদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে বারবার রাস্তায় নামতে হচ্ছে বা আন্দোলন করতে হচ্ছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ মূল বেতন স্কেলের সাথে ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি সহ সুযোগ-সুবিধার আশ্বাসে টাইমস্কেল বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন শিক্ষকরা না পাচ্ছেন ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, না পাচ্ছেন টাইমস্কেল। বাড়িভাতা ১০০০ টাকা, চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা, উৎসবভাতা সরকারি চাকরিজীবীদের চারভাগের একভাগ।বৈশাখীভাতা প্রদানের আশ্বাস দিলেও শিক্ষকদের রাস্তায় নেমে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ করে ও কোন  সুফল আসেনি , উল্টো গত ১৫ ও ২০ জুন পৃথক দুইটি গেজেটের মাধ্যমেঅবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টেরবিদ্যমান চাঁদার হার ৬% এর পরিবর্তে মূল বেতনের ১০ % উন্নীত করেন,চাঁদার হার বাড়ালেও শিক্ষকদের অবসর সুবিধা থাকবে আগের মতোই। এরপর থেকেই অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যার প্রতিফলন ঘটে দেশের শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক সংবাদ পত্র সমূহে ।অবশেষে গত ২০/০৭/২০১৭ ইং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় এক বিবৃতির মাধ্যমে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে অতিরিক্ত কর্তনের গেজেট অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন ।

উল্লেখ্য, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েকর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, মূল বেতনের ৪৫% বাড়িভাতা, ১৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা, ১০০% উৎসব ভাতা, ২০%  বৈশাখীভাতা ,যাতায়াত ভাতা ,শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, ভ্রমনভাতা, স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ ,আবাসন সুবিধা,পেনশন সহ সরকারের দেয়া সকল সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।

অথচ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা প্রারম্ভিক বেতনের সাথে বাড়িভাতা ১০০০ টাকা, চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা, উৎসবভাতা সরকারি চাকরিজীবীদের চারভাগের একভাগ । আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সম্মানী প্রদান করা হয়। শিক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব রাষ্ট্রের যেখানে সরকারী বেসরকারি বিভাজন নেই।

আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সরকারি ও বেসরকারি ছাড়া ওবহুধা বিভক্ত। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার সংখ্যা হচ্ছে মাত্র ২% এবং বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার সংখ্যা হলো ৯৮%। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ শুধুমাত্র মূল বেতন ও নামমাত্র সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

২০১০ সালের শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রদানের অঙ্গীকার রয়েছে। যা আজও আলোর মুখ দেখেনি। উল্লেখ্য, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই সিলেবাস ও একই যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকরা শিক্ষা দিয়ে থাকেন। সঙ্গত কারণে কেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আজ এই বৈষম্যের শিকার? কেন শিক্ষকগণ তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত? মূল বেতন স্কেল প্রদান করা স্বত্ত্বেও কেন তাঁরা আনুসাঙ্গিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত? কেন বেসরকারি শিক্ষকরা বৈশাখীভাতা, পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাতা, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসবভাতা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট থেকে বঞ্চিত? কেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহকেজাতীয়করণ করা হচ্ছে না? কেন আংশিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হচ্ছে? কেন বেসরকারি শিক্ষকদের অবহেলায় চোখে দেখা হচ্ছে? দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৈশাখীভাতা, ইনক্রিমেন্ট এবং পূর্ণাঙ্গ উৎসব বোনাস, বাড়িভাতা ও চিকিৎসাভাতাসহ বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন, মিছিল, সভা-সমাবেশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্ঠি আকর্ষণের চেষ্টা করাহয়েছে। জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকদের চাকুরী জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে সরকারী বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন ।

যেমনি ভাবে১৯৭২-৭৩সালেজাতিরপিতাবঙ্গবন্ধুশেখমুজিবুররহমানসদ্যস্বাধীনদেশের৩৬,০০০এরঅধিকসংখ্যকপ্রাথমিকবিদ্যালয়জাতীয়করনকরেবাঙ্গালীজাতিরভবিষ্যৎপ্রজন্মেরশিক্ষারভিত্তিপ্রস্তরস্থাপনকরেনবদিগন্তেরসূচনাকরছিলেন।একবিংশশতাব্দীরবাঙ্গালীজাতিরআইকনমাননীয়প্রধানমন্ত্রীশেখহাসিনা২০১৪সালে২৬০০০এরঅধিকসংখ্যকরেজিস্টার্ডপ্রাথমিকবিদ্যালয়জাতীয়করনকরেপ্রাথমিকশিক্ষাকেপূর্ণতাদানকরেছিলেন।সেইদিনআরবেশীদুরেনয়, যেদিনবঙ্গবন্ধুকন্যাসমগ্রশিক্ষাব্যবস্থাজাতীয়করনকরেএদেশকেমধ্যমআয়েরদেশহিসেবেউন্নতদেশগুলোরকাতারেপৌছেঁ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রনী ভুমিকা পালন করবেন ।তাই এদেশের পাঁচ লক্ষাধিক বেসরকারি শিক্ষকদের বিশ্বাস, যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বোঝাতে সক্ষম হন তাহলে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসাকে জাতীয়করণ করে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ

বিগত ৩০ নভেম্বর ২০১৫ইং সোমবার সাবেক শিক্ষা সচিব মো. নজরুল ইসলাম খানমাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে গেলে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা জাতীয়করণে সরকারের ব্যয় কত হবে ? সরকারি সুযোগ-সুবিধার বাইরে মোট কতটি প্রতিষ্ঠান রয়েছেতা জানতেচেয়েছিলেন? প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, দেশের সব স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা জাতীয়করণে সরকারের অতিরিক্ত কত খরচ হতে পারে, মোট কয়টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে সাবেক শিক্ষা সচিব মো. নজরুল ইসলাম খানজানিয়েছিলেন, সারাদেশে প্রায় ৩০ হাজারের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বাইরে রয়েছে। এগুলো জাতীয়করণ করতে সরকারের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। সব শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ঠিক আছে, জাতীয়করণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার মানোন্নয়নে কষ্ট করে হলেও এ টাকা খরচ করতে হবে।

পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদেশের পাঁচ লক্ষাধিক বেসরকারি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি নিবেদনসরকারী বেসরকারি বিভাজন আর নয়,এখনই সময় বৈষম্য দূর করে শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা ফিরিয়ে আনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করন করে সময়ের দাবী পূরনের মাধ্যমেবঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ নিশ্চিত করুন ।

লেখক:

 

 

যানজট থেকে মুক্তি উপায়: একটি প্রস্তাবনা

তসলিম খাঁ

যানজট থেকে মুক্তি উপায় শিরোনাম দেখে হয়তবা অনেকে লেখাটা একবার হলেও পড়তেই চাইবেন এটা আমি মনে করি। কারণ যানজটের সাথে পরিচয় মানুষের দীর্ঘদিনের। হায়রে যানজট তোমার দিন কখন যে শেষ হবে! ক্যান্সরের মত মানুষের আপন আত্বার সাথে মিশে তুমি শেষ করে দিচ্ছ সব কিছু। কি গৃহিনী, কি অফিস কর্তা, কি সাধারণ মানুষ, কি সরকারী আমলা সবখানেই যানজট নামক শব্দটা অনির্বাসী সুর প্রতিধ্বনি হয়ে মূহুর্তেতেই উচ্চারিত হয় ক্ষণে ক্ষণে। যানজটে পড়া একজনের কথা এরকম- “আরে বাবা যে যানজটে পড়েছি, যদি ওখান হতে পায়ে হেঁটে না যেতাম আজ কি দশায় না হত”।

উন্নত বিশ্বের ট্রাফিক ব্যবস্থা দিকে আমরা যদি থাকায় তাহলে আমাদের দেশ বহু পিছিয়ে। দেশে যানজট এখন নিত্য দিনের ব্যপার। যানজটে পড়ে দৈনন্দিন জীবনে আমাদের কত যে সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যানজট থেকে উত্তরণের পথ তেমন করে আমরা কোন দিনও খুঁজে পায়নি। যদিওবা দেশে বিভিন্ন সময় নানা ভাবে পরিবহন গুলো নিরবিছিন্ন ভাবে চলাচলের জন্য যতেষ্ট কাজ হয়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থায়, কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ না হলেও যানজট গুলো তো তেমন করে কমে আনা গেল না।
আমার এই ক্ষুদ্র জ্ঞানে দেশে যানজট থেকে মুক্তি উপায় হিসেবে এই প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় একবার ভেবে দেখার জন্য বলব।

আমি লেখা লেখি করি সাহিত্য নিয়ে তবে আমার মাথায় শুধু ঘুরপাক খায় কেন যানজট! আমরা সমস্যা নিয়ে তার গভীর থেকে গভীরে চিন্তা কিংবা অবলোকন করি না। যদিওবা দেশে ট্রাফিক আইন রয়েছে। আমরা শুধুমাত্র ট্রাফিক ব্যবস্থাকে দোষারপ করে চলছি। সড়ক যদি পূর্ণ ব্যবস্থা না থাকে থাহলে তো কোন দিনও শুধুমাত্র ট্রাফিক ব্যবস্থা দিয়ে কাজ হবে না। কোন গাড়ী কোন দিক হতে কোন দিকে যাবে, ডানে বামে নির্ধারন করে দিতে হবে সড়ক নির্মানে দ্বায়িত্বরত কতৃপক্ষ কিংবা মন্ত্রনালয়। সে আপাসের চিন্তা হতে আমি উন্নত বিশ্বের ট্রাফিক ব্যবস্থার সাথে মিল রেখে “যানজট থেকে মুক্তির উপায়: একটি প্রস্তাবনা” হিসেবে একটি চিত্র তৈরী করি, যা শুধুমাত্র আমার ব্যক্তিগত। হয়ত দেশে এই চিত্রের মত যাদি যানবাহন গুলো চলাচল করে, তাহলে মনে হয় ভাল হতে পারে। তাই আমি বলব, এই চিত্র ফলোআপ করে কিংবা আরো কিছু সংযোজন করেও যদি ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালিত হয় আমার ধারণা সঠিক। সংবাদপত্রে এই লেখা প্রকাশ হলে আমাকে সড়কে চলতে দেখে হয়তবা পরিচিতরা বিশেষজ্ঞ ভাববার প্রয়োজন নেই। খুব বিরক্ত হয়ে আমি যানজট নিয়ে নিজে সময় করে দেশ ও দশের স্বার্থে গবে+ষনা করে দেখলাম এই পদ্ধতিতেই যানজট দুর হওয়ার সম্ভবনা বেশী।

দৃশ্যপট: চট্টগ্রাম নগরীর খুবই ব্যস্ততম মুরাদপুর মোড়ের সব টিনের বেঁড়া খুলে নিয়েছে নির্মানাধীন আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার নির্মান কতৃপক্ষ নিচের কাজ প্রায় শেষ সে কারণে। এতদিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে সব পরিবহন গুলো ভালভাবেই চলেছে দেখলাম। মোড় মাঝ দিয়ে শুধুমাত্র মানুষজন পায়ে হেটে চলাফেরা করেছে সে ব্যবস্থা করে দিয়েছিল ফ্লাইওভার নির্মান কতৃপক্ষ। তখন সব পরিবহণ গুলো চিত্রে দেয়া নমুনা অনুযায়ী চলে আসছিল। সম্প্রতি মুরাদপুর মোড় খুলে দিলে এখানে যানজট তিব্র আকার ধারণ করছে। কৈ এতদিন তো তেমন করে প্রকট আকারে যানজট ছিল না। যদিও বা কিছু কিছু পরিবহন থেমে থেমে চলছিল যাত্রী নেয়ার জন্য কিন্তু সে গুলোকে ট্রাফিক-সার্জেন তাড়া করে ছিল। যখন টিনের বেঁড়া খুলে দিল তখনই চিরাচরিত যানজটের দস্যি ভর করে ভয়াবহ রূপ নেয়। তখন তো ট্রাফিক-সার্জেনদের এত ব্যতিব্যস্ত হতে দেখা যায়নি আর এখন চিত্রটা উল্টো হচ্ছে। পরিবহণ গুলো সামলাতে তাঁদের রীতিমত হিমসীম খেতে হচ্ছে।

যানজটের কারণ ঐ স্থানে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, এক দিক হতে আসা পরিবহণ গুলোকে ছাড়লে অন্য দিক হতে আসা পরিবহণ গুলোর দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এভাবে আরেক দিক হতে আসা পরিবহণ গুলো ছাড়লে অন্য দিক হতে আসা পরিবহণ গুলোর লাইন পড়ে যায়।
লাইন পড়–ক পরিবহন নির্ধারিত সময়ে তো লাইন খুলে দিবে তবু অধর্য্য কেন কিছু কিছু পরিবহন ছুটে চলে দ্রুত গতিতে ঠিক ঐ সময়ে অন্য লাইনের পরিবহন সব যাওয়া শেষ হয়নি এলোমেলো হয়ে যায় মোড়ে তখনই শুরু হয়ে যায় যানজট। এক্ষেত্রে যদি ট্রাফিকের দ্বায়িত্ব নড়বড়ে হয় তাহলেও তো একটা কথা থেকে যায়। সিঙ্গনাল পড়লে বামে যে পরিবহন গুলো যাবে সে গুলোকে যেতে দেওয়া যায় কিনা এসময় সেটাও ভেবে দেখা য়ায়। তারা তো সোজা যাবে না বামে যাবে বলেছে। যদি তা না করে অন্য সিঙ্গনালের গাড়ী যেতে বাঁধা সৃষ্টির করে তাহলে সে পরিবহকে ট্রাফিক আইনে যা করণীয় সে ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

যাই হউক, আর কথা না বাড়িয়ে তাহলে একটি যানজট মুক্ত স্থানের চিত্র দিয়ে নিচে আমার ধারণাপত্রটি করলাম।

দৃশ্যপট : মুরাদপুর
১. ২নং গেইট-ফরেষ্ট গেইট হয়ে আসা পরিবহন গুলো মুরাদপুর মোড় হয়ে সোজা বহর্দ্দারহাটের দিকে যে গুলো যাবে চলে যাবে। বাকি পরিবহণ গুলো ১ নং রেল গেইট উদ্যেশ্যে চলবে চলে যাবে। সে সব পরিবহন ফরেষ্ট গেইট হতে বামে বামে হয়ে চলবে।

২. ১নং গেইট হতে আসা সব গুলো পরিবহণ মুরাদপুর এসেই বামে মোড় নেবে। যে সব পরিবহন বহর্দ্দারহাট যাবে চলে যাবে। বাকি পরিবহন মুরাদপুর হয়ে পাচঁলাইশ যাবে সে গুলো ফ্লাইওভারের ৯০-৯১ নং পিলার হয়ে ডানে মোড় নিয়ে আবার মুরাদপুরের দিকে এসে বামে হয়ে পাঁচলাইশের দিকে চলে যাবে।
তবে বহর্দ্দারহাট হতে আসা পরিবহণ যে গুলো সোজা ২নং গেইট যাবে তাদের সরাসরি যাবার সুযোগ করে দিবে অন্য পরিবহন গুলো।

৩. পাঁচলাইশ-মির্জারপুল হতে আসা পরিবহণ গুলো মুরাদপুর মোড় এসে বামে যাবে, যে গুলো ২ নং গেইটের দিকে যাবে চলে যাবে। বাকি পরিবহন গুলো মুরাদপুর হয়ে যে গুলো ১ নং গেইট কিংবা বহর্দ্দারহাট যাবে সে গুলো ফ্লাইওভারের ৮৫-৮৬ নং পিলার হয়ে ডানে মোড় নিয়ে ১ন গেইট কিংবা বহর্দ্দারহাটের দিকে যাবে চলে যাবে।
তবে ২নং গেইট-ফরেষ্ট গেইট হয়ে আসা পরিবহণ যে গুলো সোজা বহর্দ্দারহাট যাবে তাদের সরাসরি যাবার সুযোগ দিবে অন্য পরিবহন গুলো।

এখানে উল্যেখ থাকে যে, মোড়ের চার কর্ণারে বামে ও ডানে ভালভাবে শৃংখলার সাথে চলার জন্য রেলিং এর ব্যবস্থা রাখা যায়।
পথচারী কারণে কোন ভাবেই সড়কে পরিবহণ চলতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না তার জন্য মোড়ের চারটি সড়কেই জেব্রা ক্রচিং ব্যবস্থা করে দেয়া যায়। ট্রাফিক আইন মেনে পথচারীর প্রয়োজনে তাঁরা জেব্রা ক্রচিং দিয়ে চলবেন। এতে দুর্ঘটনা হাতেও রেহায় পাওয়া যাবে। জেব্রা ক্রচিং দিয়ে পথচারী পার হতে পরিবহন চালক ব্রাক কষবেন নিজ দাঁয়িত্বে। প্রয়োজনে পরিবহণ ও পথচারীদেও জন্য লাল সবুজের সিগনাল বাতির ব্যবস্থাও করা গেলে ভাল হয়। কোনাকুনি দুই সড়কের বাতি সবুজ থাকলে অন্য দুই কোনার সড়কের বাতি লাল জলবে। সেই সুযোগে পথচারী সড়ক পার হবেন।

সব শেষে এখন কথা হচ্ছে, মুরাদপুর মোড়ে মানুষ চলাচল করার ব্যবস্থা রেখে ট্রাফিক ব্যবস্থা করা হয় সেটায় সময়উপযোগী চিন্তার। আর যদি আমার এই ধারণা পত্রের কিছুটা হলেও কাজে আসে তা হলে আমার ধারণার শ্রম সার্থক হবে। বাহবা নয়, সমাজ সেবাই আমায় মূল লক্ষ্য এবং সে চিন্তার আপাসের হতে আমি কাজ করার মধ্য দিয়ে স্বস্থি বোধ করি। আমার এই ধারণা হয়তবা সমগ্র দেশেও কাজে আসতে পারে। এতে ট্রাফিক ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে অন্তত আমার মনে হচ্ছে।

লেখক: তসলিম খাঁ, কলামিষ্ট, সাহিত্য সম্পাদক, মাসিক ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। ১১.০৭.২০১৭ ইংরেজী

আমার ব্যাক্তিগত কিছু কথা-জাফর আলম চৌধুরী

আমার সালাম নেবেন আস্সালামু আলাইকুম।হিন্দু ও অন্যান্য ধর্ম অবলম্বনকারীরা আদাব নেবেন।।।।।।(যদি কিছু মনে না করেন আজ আমার ব্যাক্তিগত কিছু কথা বলব) আমার জন্মদিনে অনেকে আমাকে শূভেচছা জানিয়েছেন,আবার কেউ কেউ গাল মন্দ করেছেন।কারন আমি জানা অজানা অনেকের ক্ষতির কারন ও হতে পারি।সামাজিক মাধ্যমেও অনেকের গাল মন্দ শুনেছি।আমি তো মানুষ ভূল আমার থাকতেই পারে।আমাকে মাপ করে দিবেন।আমার মত ভূল যেন তরুন সমাজ ও যুব সমাজ আর কোনদিন না করে।আমি আমার জীবনে যা করছি সব ভূল করেছি,ছাত্র অবস্হায় নবম শ্রেনী থেকে রাজনীতিতে সরাসরি যোগদান ছাত্রলীগ সু.র.করতাম।কারন একটাই রাজনীতিক পরিবারে এবং সামাজিক, বার বার নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনি ধির ঘরে জন্ম গ্রহন করেছিলাম।বাবা ও একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্বের সংগঠক ছিলেন।আমি ছোট বেলা থেকে খুব ডানপিটে ছেলে ছিলাম।ছাত্র হিসাবে খুব একটা খারাপ ছিলাম না ক্লাশে প্রথম ছিলাম,ক্লাশ ক্যাপ্টেন ছিলাম।ইচ্চে ছিল পড়া শুনা শেষে অনেক বড় চাকুরীজীবী হব।কারন বাবার আদর কোনদিন পাই নাই আমাদের পরিবার,বাবা সব সময় ব্যস্ত ছিলেন সামাজিক জনপ্রতিনিধি এবং রাজনীতির ব্যস্ততার কারনে তাই বাবার প্রতি খুব বিরক্ত ছিলাম।আমার মা,বাবা থেকে কোনদিন এতটুকু শান্তি পাই নাই।বাবা তো মানুষের জন্য আমাদের জন্য না।ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আমার আর পড়ালেখা শেষ করে সরকারী বড় চাকুরী করার সুযোগ হইল না।সেই নবম শ্রেনী থেকে রাজনীতির হাতে খড়ি।আমার জন্মের আগেই থেকেই বাবা জনপ্রতিনিধি ছিলেন।আমাদের কোন অভাব ছিল না রাজনীতির পিছনে এবং সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে দুই হাতে টাকা ছিটাতাম।টাকার কষ্ট কি জিনিস কোনদিন বুঝতে পারি নাই।আমি ও আর পারলাম না ছাত্র অবস্হায় রাজনীতি, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ ও অনার্স/ডিগ্রি শেষ করে মাষ্টার্সে ভর্তি হয়ে, আর পড়ার সুযোগ পেলাম না।চাকুরীর সুযোগ আর হইল না।হয়ে গেলাম সামাজিক রাজনীতিক নেতা।হয়ে গেলাম চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত কমিশনার,হয়ে গেলাম বার বার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।।।(একটানা ১৭ বছর) হায়রে নিয়তি আর সুখ কোথায়,জীবনের সব আনন্দ,হাসি, গান সব বিসর্জন দিলাম। সব আল্লার ইচ্ছা।আজ আমি বাবা,আমার পরিবার, ছেলে জন্ম থেকে আমাকে কাছে পাই নাই। কারন আমার বিয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরে।আজ আমি ভীষন ক্লান্ত।শূধু ভাবি আমার সিদ্বান্ত ভূল ছিল।প্রথম জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর হলাম রাজনীতিক ষড়যন্ত্রের শিকার,একটা শ্রেনী আমাকে ধ্বংশ করার জন্য ব্যস্ত ছিল।তারা স্বার্থক হইল।যার কারনে আমার ফুলেল ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর্স,বনফুল মিষ্টি বিতান শাখা, জমজম সুইটস এন্ড ফুড প্রোডাক্টস, মেজবান সুইটস এন্ড ফুড প্রোডাক্টস বন্দ হইল।রাজনীতিক কারনে আমার কোটি কোটি টাকা ওরা ধ্বংশ করে দিল আমাকে পঙ্গু করে দিল।কেন আমি জানি না।আমি আমার মা বাবাকে হারালাম।একটা সুন্দর জীবন কামনা করেছিলাম।পারলাম কই।আজ আমি আমার পরিবারের কাছে বড়ই অসহায়।রাজনীতির কষ্ট বড়ই কষ্ট।আমি আজ চট্রগ্রাম মহানগর আওয়ামীলিগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।তারপর ও বলি ছাত্র অবস্হায় কেউ জনপ্রতিনিধির দায়ির্ত গ্রহন করবেন না।আগে নিজে প্রতিষ্টিত হবেন।আমার মত ভূল যেন আপনারা না করেন।আমার বাকী জীবনটাও রাজনীতি করতে করতে একদিন শেষ হয়ে যাবে।আমি রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকান্ড ছাড়া একদিন ও থাকতে পারব না।আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ সহায়।হে আল্লাহ তোমার কাছে একটাই ফরিয়াদ যতদিন জীবন আছে মানুষের সেবা করে,ইজ্জত নিয়ে কলেমা মুখে নিয়ে যাতে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারি।আল্লাহ আপনাদের সকলের সহায় হোক।আমার অসংখ্য ভূল, জানা অজানা ভূল একজন সমাজকর্মি হিসাবে আমাকে আপনারা সবাই মাপ করে দিবেন।আল্লাহ হাফেজ।জয় বাংলা।-জাফর আলম চৌধুরী, সাবেক কমিশনার, চসিক।

Scroll To Top