শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / রাঙ্গামাটি

বিভাগ: রাঙ্গামাটি

Feed Subscription

কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন

মো. আবুল বাশার::কাপ্তাই হ্রদটি দেশের অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মধ্যে সর্ববৃহত্ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৃত্রিমভাবে তৈরি হ্রদসমূহের মধ্যে অন্যতম।  মোট ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর আয়তনের এ হ্রদটি মূলত জলবিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য তৈরি হলেও মত্স্য উত্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। কাপ্তাই হ্রদ দেশীয় মত্স্য প্রজাতির এক বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ জলভাণ্ডার। বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ অন্যান্য গবেষণার সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী, এ হ্রদে মোট ৭৫ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ রয়েছে। তার মধ্যে ৬৭টি দেশীয় প্রজাতির মাছ, আর বাকী ৮টি বিদেশি প্রজাতির মাছ। বিগত ৪ দশকে হ্রদে মত্স্য আহরণ বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে উত্সাহব্যঞ্জক। তবে আশঙ্কাজনক দিক হচ্ছে, মূূল্যবান কার্পজাতীয় মাছের ক্রমবনতি। ১৯৬৫-৬৬ সালে রুই, কাতল, মৃগেল ও কালিবাউস সহ সামগ্রিকভাবে মেজর কার্প ছিল মোট মত্স্য সম্পদের প্রায় ৮১.৩৫%; যা ক্রমশ হ্রাস পেয়ে ২০১৫-১৬ সালে ৪-৫% এর নিচে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ছোট মাছ বিশেষ করে চাপিলা, কেচকি, মলা ইত্যাদির পরিমাণ ৩-৪% (১৯৬৫-৬৬ ) থেকে বেড়ে ২০১৫-২০১৬ সালে প্রায় ৮৫% এর কাছাকাছি পৌঁছেছে।

 

কার্পজাতীয় মাছের আশঙ্কাজনক অধঃগতি অবশ্যই ভাবার বিষয়। এ প্রেক্ষিতে ইনস্টিটিউট ২০১৫ সাল থেকে একটি গবেষণা প্রকল্পের মাধ্যমে হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের উত্পাদন হ্রাস পাওয়ার কারণ অনুসন্ধানের কাজ করে যাচ্ছে। ফলে ২০১৬ সালে হ্রদের কাসালং চ্যানেল থেকে সীমিত আকারে কার্পের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু প্রথমবার ডিম ফোটানোর ভালো ব্যবস্থা না থাকায় ডিমগুলো কোন মাছের তা শনাক্ত করতে পারা যায়নি। পরবর্তী সময়ে অর্থাত্ ২০১৭ সালে ডিম ফোটানোর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হয় এবং এতে ব্যাপক সফলতা আসে। প্রায় ১ মাস ৭ দিন পর আমরা  রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস মাছের আঙ্গুলি পোনা নিশ্চিত করি।

 

চলতি বছরের ২ ও ৩ জুন কাসালং চ্যানেলের ফরেস্ট ঘাটসংলগ্ন মাস্তানের টিলা নামক স্থান থেকে কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননকৃত ডিম সংগ্রহ করা হয়। এ বছর আমরা প্রায় ৫ কেজি কার্প জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করি। সংগ্রহকৃত ডিম থেকে লংগদু উপজেলার মারিশ্যার চরে অবস্থিত বাংলাদেশ মত্স্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) এর হ্যাচারীতে রেনু ফোটানো হয়। পরে রেনুগুলো পিটে (মাটির তৈরি গর্ত) ১ মাস ৭ দিন লালন-পালন করে আঙ্গুলি পোনা তৈরি করা হয়। উত্পাদিত পোনার মধ্যে রুই, কাতলা, মৃগেল এবং কালিবাউসের পোনা শনাক্ত করা হয়। এর ফলে  কাপ্তাই হ্রদে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস মাছের প্রকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত হয়।

 

 এই সাফল্যে অন্যতম কারণ প্রজনন মৌসুমের পূর্বে জাঁক (মাছ ধরার ফাঁদ) অপসারণের ফলে কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মা মাছ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সঠিক সময়ে অর্থাত্ ১ মে হ্রদ থেকে সকল প্রকার মাছ ধরার উপর জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে ডিমওয়ালা মা মাছগুলো কম ধরা পড়েছে যা পরে প্রাকৃতিক প্রজননে অংশগ্রহণের ফলে প্রচুর পরিমাণে ডিম পাওয়া গেছে।

 

জাঁক অপসারণ, মা মাছ রক্ষা এবং লেকে অভায়শ্রমের কার্যকারিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকাগুলোকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে পারলে হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের মজুদ বৃদ্ধি পাবে।

 

n লেখক: উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।

কাপ্তাইয়ে আবারও পাহাড় ধ্বসের আশংঙ্কা

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
কয়েক দিনের টানা বর্ষনে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আবারো পাহাড় ধ্বসের আংশঙ্কা করা হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারনকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে গত সোমবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারন আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরে আসছে না। এতে দূর্ঘটনার সম্ভাবনা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে পার্বত্যঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় কাপ্তাইয়ে টানা বর্ষন চলছে। বর্ষনের ফলে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধ্বসের সম্ভাবনা বেড়ে গেছে। উপজেলার বারঘোনা তনচংগ্যা পাড়া, কাটা পাহাড়, কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের পার্শ্বস্থ বড়ইছড়ি এলাকা, ওয়া¹া ইউনিয়নের মুরালীপাড়া, বড়ইছড়ি পাড়া, কুকিমারা, দেবতাছড়ি, কাপ্তাই ইউনিয়নের ঢাকাইয়া কলোনী, লগগেইট এলাকা, হরিনছড়া, জীপতলী সহ চিৎমরম ও রাইখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অসংখ্য লোকজন বসবাস করছে। লাগাতার বৃষ্টিপাতের ফলে এসব এলাকায় ভূমিধ্বসের আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের স্ব-স্ব উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে অথবা আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য বলা হলেও লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে সরে যাচ্ছে না। এতে ঝুঁকি বেড়েই চলছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ দিলদার হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের পুনরায় আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কয়েকদিনের টানা বর্ষনের ফলে পাহাড় ধ্বসের আশ্ঙ্কংা বেড়ে গেছে। এ কারনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য গত সোমবার বিকেলে মাইকিং করা ছাড়াও তিনি নিজে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে উপজেলার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনে তাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করা হবে বলে তিনি জানান। প্রসঙ্গতঃ গত ১৩ই জুন টানা বর্ষন ও পাহাড় ধ্বসের কারনে কাপ্তাই উপজেলায় ১৮ জনের মৃত্যু ও ৬৪ জন আহত হয়। তখন উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৭৮৯টি বসতঘর ধ্বসে পড়ে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট, গাছপালা, পশুপাখি, ফসলি জমি, ফলজ-বনজ বাগান ধ্বংস সহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সে সময় উপজেলায় ৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয় এবং ৩১০ পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় ৪০টি পরিবার নিজ গৃহে এখনও ফিরে যেতে পারেনি। তাদেরকে সরকারী বিভিন্ন পরিত্যাক্ত ভবনে রাখা হয়েছে।

সেকেন্ডে ৫৪ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে

নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাইঃ
টানা কয়েকদিনের বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলের কারনে উজান থেকে ধেয়ে আসছে পানি । পানির চাপ সামলাতে পিডিবি কর্তৃপক্ষ আবারও গতকাল রোববার সকাল হতে স্পীলওয়ের ১৬টি গেট ৩ ফুট খুলে দিয়েছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে ৫৪ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। পানি ছাড়ার পরিমান আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। কারন প্রতিদিনই বর্ষন হচ্ছে। স্পীলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়ায় নি¤œ অঞ্চলের অনেক জায়গায় তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলের কারনে উজান থেকে দ্রুত পানি আসায় কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বাঁধ হুমকির মুখে পড়ার আশংকায় কর্তৃপক্ষ পানির চাপ সামাল দিতে ১৬ টি স্পীলওয়ের ৩ ফুট খুলে দিয়েছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে ৫৪ হাজার কিউসেক পানি নদীতে পড়ছে। এ ব্যপারে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মোঃ আবদুর রহমানের সাথে গতকাল সোমবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হ্রদে এসময় ৯১ এমএসএল (মীন সী লেভেল) পানি থাকার কথা । কিন্তু পানি আছে ১০৫.২২ এমএসএল । অর্থাৎ বর্তমানে হ্রদে যে পরিমান পানি থাকার কথা তার চেয়ে প্রায় ১৫ ফুট পানি বেশি রয়েছে। অতিবর্ষন ও পাহাড়ী ঢলের কারনে হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উজান থেকে আরও পানি ধেয়ে আসেছে । পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে বাঁধ হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকে । তাই ঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষ স্পীলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি ছাড়ার পরিমান আরও বৃদ্ধি পেতে পারে । বর্তমানে ৩টি ইউনিটে ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে । স্পীলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়ার পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিমধ্যে রাঙ্গুনীয়া, রাউজানসহ নি¤œ অঞ্চলের কিছু কিছু এলাকায় নালা, ডোবা, পুকুর ও খাল-বিল পানিতে তলিয় যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির চাপ সামাল দিতে পিডিবি কর্তৃপক্ষ গত ১৬ জুন রাত থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত স্পীলওয়ে দিয়ে ২ ফুট পর্যন্ত অতিরিক্ত পানি ছেড়েছিল।

১ আগস্ট থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার করা যাবে

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশ বিস্তার ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষে চলতি মৌসুমে ১ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই কৃত্রিম জলরাশিতে সব ধরনের মাছ শিকার, আহরণ, বাজারজাত ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। প্রজনন মৌসুম শেষ হওয়ায় আগামী ১ আগস্ট তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়। সভায় জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) কাপ্তাই হ্রদের ব্যবস্থাপক কমান্ডার আসাদুজ্জামানসহ অন্য কর্মকর্তা, মাছ ব্যবসায়ী নেতা ও মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ আগস্ট মধ্যরাত থেকে হ্রদে পুনরায় উন্মুক্তভাবে মাছ শিকার, আহরণ, বাজারজাত ও পরিবহন করা যাবে। সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, এ মৌসুমে মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন, উৎপাদন ও বংশ বিস্তার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরার ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে স্বাভাবিকভাবে আবারও সব ধরনের মাছ শিকার, আহরণ, পরিবহন ও বিপণন করা যাবে।

বাড়তি পানি ছাড়া হচ্ছে ১৬ স্পিল দিয়ে

কাপ্তাই প্রতিনিধি:
রাঙামাটি, কাপ্তাই ও আশপাশে গত দুইদিন (২২ ও ২৩ জুলাই) টানা মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর সাথে যোগ হয় পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানি। এর ফলে কাপ্তাই লেকে পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। পানি বৃদ্ধির ফলে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ লেক থেকে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গতকাল (২৩ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি স্পিল দিয়ে ২ ফুট হারে বাড়তি পানি ছাড়া হয় বলে কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোঃ আবদুর রহমান কাপ্তাই লেক থেকে পানি ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী ২৩ জুলাই লেকে পানি থাকার কথা ৮৭.৫২ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কিন্তু লেকে পানি রয়েছে ১০৫.৩৯ ফুট এমএসএল। প্রয়োজনের চেয়ে লেকে ১৮ ফুট পানি বেশি রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পাশাপাশি পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানি লেকে প্রতিনিয়ত জমা হচ্ছে। এতে কাপ্তাই লেক তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে কাপ্তাই লেক থেকে পানি ছাড়া শুরু হয়। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পানি ছাড়া অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। এদিকে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৪টি সচল রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। এই ৪টি ইউনিট থেকে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে বলে কন্ট্রোল রুম জানায়। উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হচ্ছে। কাপ্তাই ও রাঙামাটিসহ পার্বত্য এলাকায় আজও (সোমবার) ভারি থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হাতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।

বন্য হাতির আক্রমণে নৌসেনা সদস্য নিহত

নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই প্রতিনিধি::
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে বন্য হাতির আক্রমণে মোহাম্মদ তৌহিদ (৪০) নামে এক নৌসেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত ১০টার দিকে কর্মস্থল থেকে নিজ বাসায় ফেরার সময় উপজেলার নেভী রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন। তিনি জানান, তৌহিদ কাপ্তাই শহীদ মোয়াজ্জেম নৌঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত ১০টার দিকে নৌসদস্য তৌহিদ ঘাঁটি থেকে বের হয়ে সড়ক ধরে কাছাকাছি এলাকায় তার নিজ বাসায় ফিরে যাওয়ার সময় বন্য হাতির আক্রমণের শিকার হন। হাতির পাল তাকে পায়ে পিষ্ট করে এবং শুঁড় দিয়ে আছড়ে হত্যা করে বনের ভেতর ঢুকে যায়। হাতির আক্রমণের সময় ওই সড়কে আরো কিছু যানবাহন ও লোকজন থাকলেও তারা পালিয়ে আত্মরক্ষা করে। খবর পেয়ে নৌবাহিনী ঘাঁটি থেকে সহকর্মীরা এসে তৌহিদের লাশ উদ্ধার করে।

কাট্টলী বিলে…

লংগদু উপজেলার কাট্টলী বিলে প্রচুর পরিমাণে মিঠাপানির মাছ পাওয়া যায়। এখানে সবকিছুর দাম একেবার সস্তা। কমলা যেখানে চট্টগ্রাম শহরে ডজন প্রতি গুনতে হয় ১৫০-১৬০ টাকা সেখানে এখানে পাওয়া যায় মাত্র ৫০ টাকায়।

 

কাট্টলী বিলে শীতকালে আগমন ঘটে অতিথি পাখির। ঝাঁকে ঝাঁকে এ পাখি এসে বসে। কাট্টলী বিল তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে বিলজুড়ে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে এ বিলটি। পানকৌড়ি আর নানা জাতের পাখির ঝাঁক বিলের চারপাশে। যারা আসেন তারা মূলত শীতের পাখি দেখতেই কাট্টলি বিলেই আসেন। মাছের প্রাচুর্যের কারণে কাট্টলি বিল পাখিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এখন। ছোট সরালি, টিকি হাঁস, বড় সরালি, মাথা মোটা টিটি, গাঙচিল, গাঙ কবুতর, চ্যাগা, চখাচখিসহ নানান প্রজাতির পাখির ঝাঁকে মুখরিত থাকে এ বিল।

 

 

কাট্টলী বাজার ছেড়ে যেতে হয় খাগড়াছড়ি বাজার, যেখানে বাঙালিদের হাট বসে প্রতিনিয়ত। গরু ছাগল থেকে শুরু করে শাক সবজিসহ প্রায় সব রকমের জিনিসপত্র পাওয়া যায় খুব অল্প মূল্যে। সেখানকার বাসিন্দাদের নৌকাই একমাত্র বাহন। ডিঙ্গি নৌকা, জিরি নৌকা, সাম্পান এমনকি বড় ধরনের ইঞ্জিন বোটও রয়েছে। এ এলাকার জনজীবন পাহাড়ের চূড়াকেন্দ্রিক। বর্ষায় লেকের পানি বেড়ে গেলে প্রতিটি পাহাড়ের চূড়া দূর থেকে মনে হয় একেক একটি দ্বীপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

 

লংগদুর দর্শনীয় স্থানসমূহ
বনশ্রী রেস্ট হাউজ মাইনীমুখ
মাইনীমুখ বাজার মসজিদ
তিনটিলা বন বিহার
ডুলুছড়ি জেতবন বিহার
বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স
কাট্টলী বিল
কাট্টলী বাজার
গরুসটাং পাহাড়
থলছাপ পাহাড়
কাকপাড়ীয়া প্রাকৃতিক বনভূমি
পাবলাখালী অভয়ারণ্য ও পাবলাখালী গেইম অভয়ারণ্য
যমচুগ বন বিহার
বনস্মৃতি রেস্ট-হাউস পাবলাখালী।

রাঙামাটির বিধ্বস্ত সড়ক উন্নয়নে টেকসই পরিকল্পনার সুপারিশ করা হবে

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত সড়ক উন্নয়নের টেকসই পরিকল্পনার জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগকে সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব।

শুত্রবার দুপুর ১টায় রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেন উপমন্ত্রী।

উপমন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে পাহাড় ধসে ঘর-বাড়ি হারা মানুষদের পুনর্বাসন করারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তার জন্য কয়েকটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলগুলো বন মন্ত্রণায়য়ের আওতাধীন না। তারপরও যেহেতু পরিবেশের বিষয় সেজন্য আমরা সরজমিন পরিদর্শন করে দেখেছি। এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুযোর্গে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তাই ভবিষ্যতে যাতে প্রাকৃতিক দুযোর্গে নতুন করে কোনও মানুষের প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সচেতনামূলক প্রদেক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

উপমন্ত্রী আরও বলেন, সাধারণত অন্যান্য অঞ্চলে যেসব সড়ক হয়, তা কিন্তু পাহাড়ি অঞ্চলে হয় না। তাই এ অঞ্চলে সড়ক উন্নয়নের কাজ চিন্তা করে করতে হবে। তার জন্য সংসদীয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হবে। যাতে পাহাড়ি অঞ্চলের সড়ক উন্নয়ন কাজ যেন টেকসই এবং আধুনিক প্রযুক্তিসম্পূর্ণ  ও উন্নত পরিকল্পিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের ভারপাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন, জেলা পরিষদের সদস্য মোনয়ারা বেগম প্রমুখ।

কাপ্তাইয়ে ৭৮৯ ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত, ক্ষতি ১০ কোটি টাকা

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধিঃ
কাপ্তাইয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৭৮৯টি ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত হয়েছে। শুধুমাত্র ধসে পড়া ঘরবাড়ী বাবদ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১০ কোটি টাকা। ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত হওয়ায় কাপ্তাইয়ের ৪০পরিবারে মাথা গোজার ঠাই না থাকায় এসব পরিবারকে অস্থায়ীভাবে সরকারী বিভিন্ন পরিত্যক্ত ভবনে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণ ও ভুমি ধসের ঘটনায় উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ফসলিজমি,বনজ,ফলজ বাগান ও পশুপাখি, রাস্তাঘাট,মসজিদ-মন্দির সহ বাড়ীঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুধুমাত্র ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত হয় ৭৮৯টি । এর মধ্যে চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে ২৬৪ টি পরিবার, রাইখালীতে ১৮০টি পরিবার, চিৎমরমে ৮২পরিবার, কাপ্তাইয়ে ১২২ পরিবার, ওয়াগ্গা ইউনিয়নে ১২০ পরিবার এবং তালিকায় অন্তর্ভুক্তের জন্য নতুন করে ২১ পরিবার আবেদন করেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে ওই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইউএনও তারিকুল আলম জানান, উপজেলায় যেসব ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত হয়েছে তার সবগুলোই টিনের অথবা কাঁচাঘর। সে অনুযায়ী ঘরবাড়ী ধ্বসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে। ফসলিজমি,বনজ,ফলজ বাগান ও পশুপাখি, রাস্তাঘাট,মসজিদ-মন্দির সহ বাড়ীঘরের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব স্ব স্ব কর্তৃপক্ষকে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পেতে একটু সময় লাগবে। এছাড়া উপজেলায় কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার হিসাব করার জন্য জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে ৫ ইউনিয়নের ৪৫ পরিবারকে ২ বান টেউটিন ও নগদ ৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে ঘরবাড়ী তৈরির জন্য। উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ধসে উপজেলার মোট ১৮জনের মৃত্যু ও ৬৪ জন আহত হয়। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল পাস

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল- ২০১৭ করা হয়েছে। পাটের উন্নত জাতের উদ্ভাবন, উৎপাদন সহজীকরণ ও বহুমুখী ব্যবহারে প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা পরিচালনায় একটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার বিধান করে আজ সোমবার বিলটি পাস হয়। এর আগে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। বিলে বিদ্যমান বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন ১৯৭৪ রহিত করা হয়েছে। তবে এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এমনভাবে বহাল রাখার বিধান করা হয়, যেন তা বিলের বিধানের অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিলে ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় রাখা হয়।
বিলে ইনস্টিটিউটের ৯টি সুনির্দিষ্ট কার্যাবলী নির্ধারণ করে দেয়া হয়। বিলে বলা হয়, এ আইনে যাই থাকুক না কেন, ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল থেকে দেয়া নির্দেশ, সুপারিশ বা পরামর্শ প্রতিপালন করবে। বিলে ইনস্টিটিউটের পরিচালকদের অন্তর্ভুক্ত করে মহাপরিচালককে চেয়ারম্যান করে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য একটি বোর্ড গঠনের বিধান করা হয়।
বিলে বোর্ডের কার্যাবলী, সভা, মহাপরিচালক নিয়োগ, তার ক্ষমতা ও দায়িত্ব, পরিচালক নিয়োগ, কর্মচারী নিয়োগ, তহবিল, বাজেট, হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা, প্রতিবেদন, কমিটি গঠন, ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা, চুক্তি সম্পাদন, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চ শিক্ষা, গবেষক বা প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ, ফেলোশিপ প্রদান, জনসেবক, বিধি-প্রবিধি প্রণয়নের ক্ষমতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির, নূরুল ইসলাম ওমর, নূরুল ইসলাম মিলন, বেগম রওশন আরা মান্নান বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব আনলে তা কন্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

Scroll To Top