শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / রাঙ্গামাটি

বিভাগ: রাঙ্গামাটি

Feed Subscription

চন্দ্রঘোনায় পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান

 

কাপ্তাই প্রতিনিধিঃ
কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায় পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে গতকাল সোমবার। ইউনিসেফ এর অর্থায়নে এনজিও সংস্থা গ্রীনহিল বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের চিকিৎসা সেবা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নিতিশ চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবী, খ্রিষ্টান মিশন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ প্রবীর খিয়াং।বক্তব্য রাখেন খ্রিষ্টান মিশন হাসপাতালের সহকারী মেডিকেল অফিসার ডাঃ এ্যামি মারমা,সিএইচপি, খ্রিষ্টান মিশন হাসপাতালের প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিজয় মারমা, রাঙ্গামাটি জেলা গ্রীনহিল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর লাল চোয়াক পাংখোয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, গ্রীনহিল ডিস্ট্রিক প্রোগ্রাম ম্যানেজার মংশেনুক মারমা। ইউনয়নের প্রায় দু’শতাধিক জনগনকে এদিন বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

তিন পার্বত্য জেলায় চলছে টার্গেট কিলিং

তিন পার্বত্য জেলায় চলছে টার্গেট কিলিং। বাঙালি মোটরসাইকেল চালকরা ওই কিলিংয়ের শিকার। পরিকল্পিতভাবে একের পর এক খুন ও গুম করা হচ্ছে তাদের। এতে অশান্ত হয়ে উঠছে পাহাড়। সৃষ্টি হচ্ছে নানা সংঘাতের। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজাতি সন্ত্রাসীরা। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে এ ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে খাগড়াছড়িতে। সেখানে যাত্রীবেশী সন্ত্রাসীদের হাতে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক খুন, অপহরণ, গুম ও হামলা করে মোটরসাইকেল ছিনতাই এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সাড়ে ৬ বছরে খাগড়াছড়িতে অন্তত ৮জন মোটরসাইকেল চালক যাত্রীবেশীদের হাতে খুন হয়েছে। গুম হয়েছেন ৮ জন। এদের মধ্যে একজন ছাড়া সকলেই খাগড়াছড়ির বাসিন্দা। অপহরণ হয়েছে অন্তত এক ডজন। এছাড়া অস্ত্রের মুখে মোটরসাইকেল ছিনতাই ও চুরি হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তারা এসব ঘটনাকে টার্গেট কিলিং হিসেবে দেখছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এসব ঘটনার কূলকিনারা পেতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে পার্বত্য জেলাগুলোতে তৎপর একটি গোয়েন্দা সংস্থা। একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, দুটি কারণে পাহাড়ে এ ধরনের টার্গেট কিলিং হচ্ছে। প্রথমত-পার্বত্য জেলাগুলোকে অশান্ত করার পাঁয়তারা। এতে লাভবান হচ্ছে উপজাতি সন্ত্রাসীরা। গণ্ডগোল হলেই তারা চাঁদার হার বাড়িয়ে দেয়। কর্মসূচির নামে সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালিদের কাছ থেকে আদায় করে কোটি কোটি টাকা। দ্বিতীয়ত- মোটরসাইকেল চালকরা খুব সহজে মিশে যেতে পারেন পাহাড়িদের সঙ্গে। পেশাগত কারণে তারা প্রবেশ করে দুর্গম জায়গাগুলোতে। সেখানে উপজাতি সন্ত্রাসীদের তৎপরতা অনেক সময় দেখে ফেলে তারা। এরপরই টার্গেটে পরিণত হতে হয় তাদের। যার শেষ পরিণতি খুন অথবা গুম। সর্বশেষ ১২ই সেপ্টেম্বর  খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা সিন্দুকছড়ির দুর্গম তৈকর্মা পাড়া এলাকা থেকে দু’হাত পিছমোড়া বাধা অবস্থায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলামের (২৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। সে গুইমারা উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। গুইমারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, রবিউল ১১ই সেপ্টেম্বর দুপুরে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়। এদিকে রবিউল ইসলাম নিহত হওয়ায় পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরাজী শাহাদাত হোসেন সাকিব এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার যেমন বিচার পায়নি, তেমনি নিখোঁজ ব্যক্তিরা হয়তো ফিরে আসবে সে প্রতীক্ষায় আছে তাদের পরিবার- স্বজনরা। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে অভাব-অনটনে দিন পার করছে তাদের পরিবার। এ সকল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জেলায় দফায় দফায় হরতাল-অবরোধে উত্তাল হয়েছে। এ ছাড়াও মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং প্রশাসনের কাছ থেকে বিচারের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে একটিরও বিচার হয়নি। এদিকে একের পর এক মোটরসাইকেল চালকদের খুন, অপহরণ ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, খাগড়াছড়িতে যাত্রী পরিবহনের মোটরসাইকেল একটি জনপ্রিয় বাহন। ভূ-প্রকৃতি এই জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ। জেলায় অন্তত দুই হাজার বেকার যুবক ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু একের পর এক যাত্রীবেশী সন্ত্রাসীদের হাতে মোটরসাইকেল চালক খুন, গুম ও অস্ত্রের মুখে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় এখন চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত প্রায় ছয় বছরে ১৬ জন মোটরসাইকেল চালক খুন ও গুম হয়েছে। জেলার মহালছড়ি ছাদিকুল ইসলাম, মাটিরাঙার আজিজুল হাকিম শান্ত, আব্দুর রহিম, গুইমারা নিজাম উদ্দিন সোহাগ, দীঘিনালার শাহ আলম, আব্দুস সাত্তার, চান মিয়া ও সর্বশেষ পার্শ্ববর্তী লংগদু উপজেলার নুরুল ইসলাম নয়ন খুন হন খাগড়াছড়ি জেলা সদরের যৌথ খামার এলাকায়। নয়ন হত্যাকাণ্ডটি দেশব্যাপী আলোচনায় আসলেও অন্য হত্যাকাণ্ডগুলো তেমন কোনো আলোচনায় আসেনি। একই সময় দীঘিনালার মোটরসাইকেল চালক আবুল কাশেম, মো. আলী, পানছড়ির হোসেন আলী, মানিকছড়ির মো. মোরশেদ, রাজিব কান্তি দে, গুইমারার রেজাউল করিম, আল আমীন ও শংকর দীর্ঘ দিন ধরে মোটরসাইকেলসহ নিখোঁজ রয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে খাগড়াছড়িতে অন্তত অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু উদ্ধার হয়েছে মাত্র কয়েকটি। প্রতিটি খুন, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের জন্য দায়ী করা হচ্ছে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে। এর আগে গত ১লা  জুন খাগড়াছড়ির যৌথ খামার এলাকায় খুন হন লংগদু উপজেলার যুবলীগের নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন। তার এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পরের দিন সেখানে প্রায় দুই শতাধিক পাহাড়িদের বাড়ি ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। গত ১০ই এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক ছাদিকুল ইসলামকে (২৩) দুই উপজাতি মহালছড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে রাঙ্গামাটির ঘিলাছড়ির উদ্দেশ্যে ভাড়া করে নিয়ে যাওয়ার পর ছাদিকুল ইসলাম নিখোঁজ হন। তিনদিন পর ১৩ই এপ্রিল বিকালে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলার ঘিলাছড়ি এলাকায় ছাদিকুল ইসলামের ক্ষতবিক্ষত লাশ মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর চলতি বছরের ২১শে ফেব্রুয়ারি দুপুরে খাগড়াছড়ি আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের রিছাং ঝর্না এলাকার দুর্গম পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয় মাটিরাঙ্গার মেটরসাইকেল চালক আজিজুল হাকিম শান্ত’র লাশ। নিখোঁজের একদিন পর ২০১৪ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের হাজীপাড়া কবরস্থান এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে মোটরসাইকেল চালক মো. আবদুর রহিমের (২৫) লাশ উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। নিহত আবদুর রহিম বেলছড়ির ২নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানপাড়ার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম এর ছেলে। একই বছরের ৭ই মে সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালার ভৈরফা পাড়া এলাকায় শাহ আলম নামে এক মোটরসাইকেল চালককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহ আলমের লাশ উদ্ধার করে। ২০১৬ সালের ২৭শে জুন নিখোঁজ হন মানিকছড়ির মোটরসাইকেল চালক রাজিব কান্তি দে। স্থানীয় সমীর পালের ছেলে রাজিব দুপুরে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পর আর ফিরেনি। ২০১৪ সালের ২রা জুন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মোটরসাইকেল চালককে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে মোটরসাইকেল ছিনতাই করে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। ঘটনার চার ঘণ্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার মোটরসাইকল চালক চরপাড়ার মো. ধনা ময়িার ছেলে মো. খলিলুর রহমান (২৭) কে উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই বছরের ৩০শে জুলাই খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি থেকে চন্দন ত্রিপুরা (২৪) নামে ভাড়ায় চালিত এক মোটরসাইকেল চালককে অপহরণ করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। উপজেলার গামারীঢালা এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। ২০১১ সালের ১০ই জুন খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার জালিয়াপাড়ার মাহবুব নগর এলাকায় মোটরসাইকেল চালক নিজাম উদ্দিন সোহাগকে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায়  সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া ২০১১ সালে যাত্রীবেশী সন্ত্রাসীদের হাতে জেলার দীঘিনালার কবাখালীর বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার ও চান মিয়া। এদিকে চলতি বছরের ৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে দীঘিনালায় মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলী নিখোঁজ রয়েছেন। ২০১০ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন দীঘিনালার রশিকনগরে বাসিন্দা আবুল কাশেম পিসি। ২০১৬ সালের ২৬শে এপ্রিল থেকে নিখোঁজ আছেন, জেলার পানছড়ি উপজেলার নিখোঁজ মোটরসাইকেল চালক হোসেন আলী। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি মাটিরাঙ্গা সদর ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের ব্রজেন্দ্র কার্বারী পাড়ার নির্জন এলাকা থেকে পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করলেও হোসেন আলীর সন্ধান মেলেনি। ২০১৬ সালের ২৭ জুন যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন মানিকছড়ির মোটরসাইকেল চালক রাজিব কান্তি দে। ২০১৬ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ আছেন মানিকছড়ির মোটরসাইকেল চালক মো. মোরশেদ আলম। ২০১২ সালে গুইমারা উপজেলার রেজাউল করিম, আল-আমীন ও শংকর যাত্রী নিয়ে রামগড় যাওয়ার পর নিখোঁজ হন।

রাঙামাটিতে গাঁজাসহ আটক ২, ছয় মাসের জেল

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটি শহরের প্রবেশ মুখে মানিকছড়ি চেকপোস্ট এলাকায় ৭০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জনকে আটক করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদিনের নেতৃত্বে রবিবার দুপুরে তাদের আটক করা হয়।

 

আটকরা হলেন রাঙামাটির শিমুলতলী এলাকার মো. মিজান (২২) এবং ভেদভেদী এলাকার মো. মুজিবুর রহমান (৩৮)।

 

আটক দুইজনকে রাঙামাটি নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মো. রফিকুল ইসলামের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

দু’পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত রবিউল হত্যার বিচার দাবিতে দু’পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচী ঘোষণা করেছে, স্থানীয় বাঙালী সংগঠনগুলো।

শনিবার পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূইঁয়া স্বাক্ষরিত্ব গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।

এ কর্মসূচীর একমত প্রকাশ করেন- পার্বত্য নাগরিক পরিষদের মহাসচিব এ্যাডভোকেট এয়াকুবআলী চৌধুরী, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাহাদাৎ ফরাজি সাকিব।

পার্বত্য নাগরিক পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, রাঙামাটি লংগদু উপজেলার নয়নকে ও খাগড়াছড়িতে হত্যা করেছিল উপজাতি সন্ত্রাসীরা। পরে পুলিশ সে হত্যাকারীদের গ্রেফতারও করেছিল। কিন্তু তারপরও সন্ত্রাসীদের শিক্ষা হয়নি। তারা একইভাবে মোটরসাইকেল চালক রবিউলকে হত্যা করে হাত ও মুখ বেঁধে ধান খেতে ফেলে মোটরসাকেল ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এসব ঘটনা বিশেষ করে খাগড়াছড়ি জেলা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই একটা সুস্থ সমাধান হওয়া উচিত। যাতে অসহায় সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরা সন্ত্রাসীদের থেকে নিরাপদে থাকতে পারে।
পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলা শাখার আহবায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, রবিউল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক কঠিন শাস্তির দাবীতে মূলত এ হরতাল কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে হরতালের মাধ্যমে আমরা অপহৃত ফাতেমাকে উদ্ধার ও খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল এবং পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের ৮ দফা বাস্তবায়নের দাবীও জানিয়েছি। এসব দাবি পুরোনের জন্য ৪৮ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

সকল জাতির মধ্যে সম্প্রিতির উন্নতি ঘটেছে

‘রাঙামাটিতে পাহাড় ধ্বসের ফলে সকল জাতির মধ্যে সম্প্রিতির উন্নতি ঘটেছে’ এমন মন্তব্য করে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, পাহাড়ধ্বসে নিহতদের উদ্ধার কাজে পাহাড়ি বাঙালি বিভেদ ছিলো না। কে পাহাড়ি! কে বাঙালি! তা না দেখে সাধারণ মানুষ উদ্ধার কাজে তৎপর ভূমিকা রেখেছে।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পরিষদের সভা কক্ষে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাঙামাটি জেলা ইউনিটের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব বক্তব্য প্রদান করেন।

 

বৃষ কেতু চাকমা আরো বলেন, পাহাড়ধ্বস ও পার্বত্য এলাকায় দুর্যোগ কবলিত আর্তমানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সরকার অন্যান্য সংস্থাগুলো যদি রেডক্রিসেন্টকে আরো বেশি সাহায্য করে এতে করে তাদের কাজ আরো অগ্রসর হবে।

 

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন উদ্ধারকারী বাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকলেও রেড ক্রিসেন্টের তেমন কিছুই নেই, কিন্তু রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা নিজেদের মনোবল দিয়ে যে কাজ করে যাচ্ছে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

 

এসময় জেলা রেড ক্রিসেন্টের ইউনিট অফিসার আজরু উদ্দিন সাফদারের সঞ্চালনায় বক্তব্য প্রদান করেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির রাঙামাটি ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ভূট্টো, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক, রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মিলটন বড়ুয়া প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেড ক্রিসেন্টের রাঙামাটি ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার উদ্দিন।

 

এসময় বক্তারা বলেন, দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সবসময়ই রেড ক্রিসেন্ট সাহসী ভূমিকা রেখে আসছে। সামনের দিনগুলোতেও যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলায় রেড ক্রিসেন্টকে সতর্ক অবস্থানে সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে।

রাঙামাটি জেলার ৪০টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা

সার্বজনীন শারদ উৎসব বা দুর্গাপূজা। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মহাপঞ্চমীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই পূজা। এবার রাঙামাটি জেলার ৪০টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা।

 

এর মধ্যে রাঙামাটি সদরে ১৪টি, কাপ্তাই উপজেলায় ৭টি, কাউখালি উপজেলায় ৪টি, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৪টি, রাজস্থলী উপজেলায় ৩টি, লংগদু উপজেলায় ২টি, নানিয়ারচর উপজেলায় ২টি, বিলাইছড়ি উপজেলায় ১টি, জুড়াইছড়ি উপজেলায় ১টি, বরকল উপজেলায় ২টি মন্ডপে পূর্জা অনুষ্ঠিত হবে।

 

ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। চলছে প্রতিমাকে রঙ লাগানোসহ সাজসজ্জার কাজ, বলা যেতে পারে প্রায় শেষ মুহূর্ত্বে প্রস্তুতি নিচ্ছে সকলে।

 

রাঙামাটি গীতাশ্রম মন্দিরের পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রকি দেবনাথ (পিংকু) বলেন, ইতালির রোম শহরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে ধংস হয়েছিলো তাতে মা যেভাবে এসে রক্ষা করেছিলো তাই ফুটিয়ে তুলতে চাইছি প্রতিমার মাধ্যমে। মা তার সন্তানদের রক্ষার জন্য যে ভাবে আগমন করেছে সে রূপ সকলের মাঝে তুলে ধরার চেষ্ঠা করছি আমরা।

 

তিনি আরো বলেন, এই প্রতিমা তৈরি করতে আমরা প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার বাজেট করেছি। রাঙামাটির সব চেয়ে বড় দুর্গা উৎসব হবে এখানে। হাজারো মানুষের সমাগম হবে আমাদের এই মন্দিরে, তাই সব কিছু মাথায় রেখে সুষ্ঠভাবে উৎসব পালনের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ এখন শুধুমাত্র রঙ লাগানোর কাজ আর কিছুটা সাজসজ্জার কাজ বাকি রয়েছে।

 

 

তিনি জানান, মহালয়ার দিন মন্দিরে দরিদ্রদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, পঞ্চমীর দিন সংগীত সন্ধ্যা, অষ্টমীর দিন চন্ডীযোগ্য সহ নানান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হবে।

 

কালিন্দাপুর দূর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুনিল কান্তি পাল বলেন, আমরা প্রতিবারের মত সামাজিক রুপে প্রতিমাকে তৈরি করেছি। আমাদের কাজ প্রায় শেষ মুহূর্তে, বাকি আছে প্রতিমাকে রঙ করা আর কিছু সাজসজ্জার কাজ। প্রতিবারের মত এবারো নবমীর দিন প্রসাদ বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

কালীবাড়ি মন্দিরের দূর্গা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি রতন কুমান দে বলেন, আমরা প্রতিবারের মত এবারও সনাতন ধর্মের নিয়ম অনুসারে প্রতিমা তৈরি করেছি। আমাদের প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। মন্দিরের সাজসজ্জার আর প্রতিমাকে সাজানোর কাজ বাকি রয়েছে। আশা করছি সার্বজনীন এই উৎসব সুষ্ঠভাবে উদযাপন করতে পারবো।

 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক পঞ্চানন্দ ভট্টাচার্য জানান, এবারে মা দুর্গা আসছেন নৌকায় চড়ে আর গমন করবেন ঘোড়ায় চড়ে। মাকে বরণ করার জন্য রাঙামাটি প্রতিটি পূজা মণ্ডপ প্রস্তুত। রাঙামাটি জেলায় ৪০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

 

তিনি আরো বলেন, দুর্গাপূজা হচ্ছে সর্বজনীন উৎসব। এটি যদিও হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, তবে উৎসব হচ্ছে সকলের। রাঙামাটিতে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতির বসবাস, সকলে মিলে প্রতিবছর আমরা সুষ্ঠভাবে এই উৎসব উদযাপন করে আসছি। তাই আশা করি এবারও আমরা সকলে মিলেমিশে এ উৎসব উদ্যাপন করবো। দুর্গাপূজা সঠিকভাবে উদযাপনের জন্য সকল বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাহাড় ধসের তিন মাসেও ৪০ পরিবারের ঠিকানা হয়নি

কাপ্তাইয়ে ৪০ পরিবারের আশ্রয় আজও নিশ্চিত হয়নি
নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই
পাহাড় ধসের ৩ মাস অতিবাহিত হলেও কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন সরকারী পরিত্যাক্ত ভবনে আশ্রয় নেওয়া ৪০ পরিবারের ঠিকানা আজও নিশ্চিত হয়নি। এসব পরিবারের প্রায় ২ শতাধিক সদস্য বর্তমানে মানবেতর দিন যাপন করছে। কবে নাগাদ তাদের পূর্নবাসিত করা হবে, নাকি আদৌ এদের পূর্নবাসিত করা হবে না। অথবা কখন তাদরে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় , তা নিয়ে তারা চিন্তিত। গত ১৩ জুন টানা বর্ষন ও পাহাড় ধসে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন স্থানে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সে সময় ক্ষতিগ্রস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত পরিবার গুলোকে রাখার জন্য উপজেলায় ৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে অধিকাংশ পরিবার নিজ নিজ বসতঘরে চলে গেলেও অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত ৪০টি পরিবার কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে থেকে যায়। পরবর্তীতে গত ২ জুলাই এসব পরিবারকে স্থায়ীভাবে পূর্ণবাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সরকারী দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি সহ গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সে সময় বিদ্যালয়ে পরীক্ষার কারনে ওই পরিবার গুলোকে কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র থেকে সরিয়ে কাপ্তাই ১০ শয্যা হাসপাতালের পরিত্যাক্ত ঘর, বনবিভাগের পরিত্যাক্ত ভবন, জাকির হোসেন স’মিলের পিছনের পরিত্যাক্ত ঘর, বিএফআইডিসি ক্লাবে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তিন’ মাস হলেও ওই ৪০পরিবারকে স্থায়ীভাবে পূর্নবাসনের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে পরিবার গুলো নানা দুশ্চিন্তায় দিন যাপন করছে।
গতকাল মঙ্গলবার কাপ্তাই বিএফআইডিসি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে বৃদ্ধা মনজু বেগম (৫০) কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমরা কোন সাহায্যে চাই না আমরা শুধু একটু মাথা গোঁজার ঠাই চাই’। বৃদ্ধ স্বামী ওসমান গণি (৬০) কে নিয়ে গত ২ মাস ধরে তিনি অস্থায়ী এ আশ্রয় কেন্দ্রে খেয়ে না খেয়ে কোন মতে বসবাস করছেন। তার মত আরোও ১১টি পরিবার মিলে মোট ১২ পরিবার বিএফআইডিসি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস করছে। মনজু বেগমের মত আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাসকারী মোহম্মদ নাছির(৫০) সুমি বেগম (২২)বলেন, পাহাড় ধসের পর এক মাস আশ্রয় কেন্দ্রে থাকাকালীন প্রশাসন থেকে খাবার সরবারহ করা হয়েছে। সেখান থেকে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে আসার পর থেকে কোন খাবার দেওয়া হচ্ছে না । তারা আরও বলেন, এ পর্যন্ত আমাদেরকে মাথা পিছু ৬টি টিন, ২২শ’৪০ টাকা উপজেলা ইউএনও অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেনা,নৌ,বিজিবি ও বিভিন্ন এনজিও থেকে কিছু নগদ অর্থ ও নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ছাড়া আর কোন সাহায্যে আমরা পাইনি। বর্ষার কারনে তেমন কাজকর্ম না থাকায় আয় রোজগারও নেই। তাই আমরা কোনমতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। অনেক কষ্টে আমাদের দিন-যাপন করতে হচ্ছে। এত কষ্ট স্বীকার করার পরও পরিবার গুলো কোন সাহায্যে চায় না, শুধু একটু মাথা গোঁজার ঠাই চায়।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ জানান, পরিবার গুলোকে পূর্ণবাসনের জন্য অনেক লেখালেখির পর উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের আশ্বাস পেলেও তেমন অগ্রগতি হয়নি । তারা এভাবে কতদিন অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সেটা আমার জানা নেই । উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলম বলেন, খাস জায়গার অভাবে এদের পূর্ণবাসন সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ দিলদার হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোকে স্থায়ীভাবে পূর্নবাসনের জন্য আশ্বাস দেওয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, কাপ্তাই বাসীর প্রাণের দাবী, ক্ষতিগ্রস্থ এসব পরিবার গুলোকে স্থায়ীভাবে পূর্ণবাসন করা হউক। উল্লেখ্য, কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসের ঘটনায় ১৮ জনের প্রাণহানি, ৬৪জন আহত ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়

কর্ণফুলী নদীতে নিখোঁজ কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

রাঙামাটি প্রতিনিধি::

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মাঝিপাড়া ঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে নিখোঁজ কলেজ ছাত্রী সুইচিমু মার্মার (২২) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার রাতে রাইখালী ফেরিঘাটের পল্টুনের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

সুইচিমু মার্মা কাপ্তাই উপজেলার পূর্বকোদালার বড্ডর পাড়া এলাকার মং থোয়াই চিং মারমার মেয়ে এবং চট্টগ্রাম হেলথ টেকনোলজি কলেজের অনার্সে অধ্যায়নরত ছাত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী বাজারের খালার বাড়িতে বেড়াতে এসে শনিবার দুপুর ১টার দিকে রাইখালী কালি মন্দির এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নামে কলেজ সুইচিমু মার্মা।

একপর্যায়ে সে পানিতে ডুবে যায়। পরে তার ডুবে যাওয়ার খবরে এলাকাবাসীরা এগিয়ে আসেন এবং তাৎক্ষনিক খুঁজাখুঁজি শুরু করেন।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন কাপ্তাই নৌবাহিনী ডুবুরি দল। কিন্তু তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ প্রায় ৪০ ঘন্টা পর রবিবার রাতে স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় রাইখালী ফেরীঘাটের পল্টুনের পাশ থেকে নিখোঁজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

বজ্রপাতে নারীর মৃত্যু

কাউখালীর ঘিলাছড়িতে বজ্রপাতে ফাতেমা খাতুন (৪০) নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকালে নিজ বাড়ীর সামনে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মজিুবল হক জানান, শনিবার বিকেলে ভারী বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হলে ঘরের দরজায় বসে থাকা ফাতেমা বজ্রপাতের শিকার হন। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

 

নিহত ফাতেমা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘিলাছড়ি মিয়াপাড়া গ্রামের তোতা মিয়ার স্ত্রী।

 

কাউখালী থানার ওসি আব্দুল করিম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দীর্ঘদিন পর আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ বাড়ি

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা দীর্ঘদিন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের পর আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ বাড়ি কিংবা ভাড়া বাসায় চলে গেছেন।

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার পর বৃহস্পতিবার আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। তার পরিপেক্ষিতে শুক্রবার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সবক’টি আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে চলে গেছে পাহাড় ধসের ক্ষতিগ্রস্তরা। শুধু জিমনেশিয়াম আশ্রয়কেন্দ্রে ১৮টি পরিবার, হাসপাতাল ছাত্রাবাসের আশ্রয়কেন্দ্রে দু’টি পরিবার রয়েছে।

 

আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে চলে যাওয়া সুলতান আহম্মেদ বলেন, পাহাড় ধসের পর প্রশাসন আমাদেরকে দীর্ঘদিন আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে সহায়তা করেছিল। এখন আমাদেরকে কিছু ত্রাণসামগ্রী দিয়ে নিজেদের বাড়ি-ঘর কিংবা অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে ফিরে যেতে বলেছে। তাই আমরা বাসা ভাড়া করে চলে যাচ্ছি।

 

রুপনগর এলাকার সুমি আক্তার বলেন, প্রশাসন দীর্ঘ দিন আমাদেরকে দেখাশোনা করেছে। কিন্তু বিদায় বেলায় শুধু ছয় হাজার টাকা, দুই বান ঢেউটিন আর ৩০ কেজি চাল দিয়েছে। আমার সম্পূর্ণ ঘর বিধ্বস্ত, এ ত্রাণ দিয়ে আমার কি হবে? এমন মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

এখনো যারা আশ্রকেন্দ্র ছেড়ে যাননি, তাদের মধ্যে ভেদভেদী এলাকার হিরো বড়ুয়া বলেন, আমরা ঘরবাড়ি সব বিধ্বস্ত। আমার যাওয়ার কোনো স্থান নেই। প্রশাসন যা দিয়েছে তাতে আমার তেমন কোনো উপকারই হবে না। আমি আমার বিষয় পুনঃবিবেচনার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি।

 

তিনি আরো বলেন, আমি বাইরে ঘর ভাড়া চেয়েছি। কিন্তু ভাড়া বেশি হওয়ায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবুও চেষ্টা করছি ভাড়া বাসায় চলে যেতে।

 

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১২০ জন নিহত হয়। এছাড়া, হাজারো ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এতে গৃহহীন হয়ে পড়ে বহু মানুষ। পাহাড় ধসের পর ক্ষতিগ্রস্তরা প্রায় তিন মাস ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করে আসছিল।

Scroll To Top