শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / জাতীয়

বিভাগ: জাতীয়

Feed Subscription

নিষ্কাষণের ব্যবস্থা নেই রাজধানীতে

ঝুম বৃষ্টি থামার লক্ষণ নেই। থেমে নেই জলের ভোগান্তিও। যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে তা নিষ্কাষণের ব্যবস্থা নেই রাজধানীতে। এর ফল জলজট। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি নিয়ে এসেছে দুর্যোগ। রাজধানীর উঁচু-নিচু এলাকা বলে কোনো পার্থক্য নেই আর। এই পানি মানে না কোনো বাধা। সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে রাজপথ, ঘর বাড়ি সব ডুবিয়ে দিয়েছে রাত থেকে চলা টানা বৃষ্টি।

পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে রীতিমত সচিবালয়ে কাজ করতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকে। তারা সেচে পানি সরিয়েছে প্রশাসনের কার্যক্রমের প্রাণবিন্দু থেকে।

নতুন ঢাকা-পুরান ঢাকার কোনো পার্থক্য নেই এখন। সব এলাকা ডুবিয়ে দিয়েছে বৃষ্টি। ধানমন্ডি ২৭, পুরান ঢাকার আর কে মিশন রোড,খিলগাঁও, রাজারবাগ, মালিবাগ, রামপুরা, বংশাল, দনিয়া, ধোলাইখাল, খিলক্ষেত এলাকার কোথাও হাঁটু, কোথাও বা তার চেয়ে বেশি পানি জমে আছে। ভিআইপি রোড হিসেবে পরিচিত কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়েরও সড়কের এক প্রান্তে জমেছে পানি।

এই অবস্থায় সকালে অফিসগামী মানুষ পড়েছে ভোগান্তিতে। স্কুলগামী শিশুদের ভোগান্তির তো কোনো শেষই নেই। কাকভেজা হয়ে কেউ কেউ গিয়েছে গন্তব্যে।

এই পরিস্থিতিতে সকাল থেকে কোথাও রাজপথ একেবারে ফাঁকা, কোথাও বা দীর্ঘ যানজট। কোনো কোনো সড়ক ডুবে গেছে পুরোপুরি, কোনো কোনো সড়কের একাংশে জমে থাকা পানির জন্য সেটুকু রাস্তা এগিয়ে চলছে যানবাহন। কারণ, কোথাও গর্ত থাকলে ফেঁসে যেতে পারে চাকা। ফলে সড়কের বাকি অংশে তৈরি হয়েছে গাড়ির দীর্ঘ সারি।

এমনিতেই নগরীতে প্রয়োজনের তুলনায় গণপরিবহন কম। তার ওপর বের হতে না পারায় অনেক যানবাহন আছে বসে। ফলে গন্তব্যে যেতে দীর্ঘ সময়েও বাহন পাচ্ছেন না নগরবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা পরিচিতজনদের কাছে জানতে চাইছেন কোন এলাকার পরিস্থিতি কেমন। আর ফেসবুক জুড়ে কেবল বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি জমে থাকার ছবি। পাশাপাশি নগর কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ জানাচ্ছে তারা।

স্বাভাবিক কর্মদিবসেও অনেক স্কুলে ক্লাস চলছে না। সরকারি-বেসরকারি অফিসেও উপস্থিতি কম। সেবা গ্রহণে আসা মানুষও কম আসছে বহুলাংশে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন ঢাকাটাইমসকে জানান, আজ সকাল থেকে ঢাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বেশি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৫৬ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের থেকে বুধবার সকাল নয়টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, আগামী ৭২ ঘন্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।

কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি অর্থমন্ত্রীর আহ্বান

রাজস্ব দিলে সেবা পাওয়া যায়। নিজ নিজ জেলার নাগরিকদের এই বার্তা পৌঁছে দিয়ে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো রাজস্ব আদায় করা। আদায় করলেই সেবা দেয়া যায়। আদায়টা না বাড়লে সেবা বাড়ে না। এখন সেবা দর্শনীয়ভাবে দেয়া হয় দেশে। সুতরাং আপনাদের বেশ জোর হয়েছে, আপনারা রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করবেন। লোকদের বলবেন, এটা দিলে তার ফলটা পাওয়া যায়। সুতরাং রাজস্ব দেন।’

শাহজালালের চোখ গেল কোথায়

‘বাবা, পুলিশ দুই লাখ টাকা না পেয়ে নিষ্ঠুরভাবে আমার ছেলের দুই চোখ চাকু দিয়ে তুলে ফেলে। তাকে চিরতরে অন্ধ করে দিয়েছে। আমরা তার চোখ আর কোনো দিন ফেরত পাব না। কিন্তু, যে পুলিশরা তার দুই চোখ উপড়ে ফেলে তাকে চিরতরে অন্ধ করে দিয়েছে আমি তাদের বিচার চাই, শাস্তি চাই। গরিব মানুষ বলে কি আমরা বিচার পাব না?’

গত ১৮ জুলাই রাতে খুলনা মহানগরীর গোয়ালখালী মোড়ে ছিনতাই করার অভিযোগে দুই চোখ উপড়ে ফেলা শাহজালাল ওরফে জীবনের পিতা জাকির হোসেন কাঁদতে কাঁদতে গতকাল মঙ্গলবার এসব কথা বলেন। তিনি তার ছেলের দুই চোখ উপড়ে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, তার পরিবারের সদস্যরা ওইদিন থানায় গিয়ে শাহজালালকে স্বাভাবিক অবস্থায় দেখেছিল। তার দুই চোখ স্বাভাবিক ছিল। অথচ এর কয়েক ঘণ্টা পর শাহজালালকে দুই চোখ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

 

খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খান পুলিশের বিরুদ্ধে শাহজালালের চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ১৮ জুলাই রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে নগরীর খালিশপুর গোয়ালখালী বাসস্ট্যান্ডে মোটরসাইকেলে ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওইখানে থাকা ক্ষিপ্ত জনতা শাহজালালকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে তার চোখ তুলে নেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। শাহজালালের চোখ তুলে ফেলার সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ।

 

গতকাল দুপুরে নগরীর খালিশপুরের নয়াবাটিতে রেল লাইনের পাশে শাহজালালের শ্বশুর             বাড়িতে গেলে দেখা যায়, টিনের ছাপড়া দেওয়া দু’রুমের ওই বাড়িটিতে শাহজালালের শ্যালকের স্ত্রী কারিমা, নানী শাশুড়ি রিজিয়া বেগম ও তাদের কাছে শাহজালালের ১০ মাসের শিশু কন্যা আঁখি রয়েছে। বাড়িটিতে ঢুকতেই তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে আশ্বস্ত হন তারা।

 

কারিমা জানান, তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রায় সবাই এখন ঢাকায় রয়েছেন। তারা শাহজালালের চিকিত্সা নিয়ে ব্যস্ত। তিনি বলেন, পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সুবিদপুর গ্রাম থেকে ঘটনার দুই দিন আগে (১৬ জুলাই) শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসেন শাহজালাল (৩০)। স্ত্রী রাহেলার সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় সে আগে থেকেই বাবার বাড়িতে ছিলেন। গত ১৮ জুলাই তার ১০ মাসের মেয়ে আঁখির খাবারের গুঁড়ো দুধ শেষ হয়ে যায়। ওই দিন বিকাল সাড়ে চারটার দিকে শাহজালাল আমার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়ে বাসা থেকে গোয়ালখালী মোড়ের উদ্দেশ্যে বের হন। রাত ৯টার দিকে তিনজন যুবক তাদের বাসায় আসে। তারা জানায়, শাহজালালকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ছিনতাই করার অভিযোগে গোয়ালখালী বাসস্ট্যান্ডের কাছে আটকে রেখে মারধর করেছে। তারা খালিশপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে গেছে। খবর দেওয়া ওই তিন যুবকের মধ্যে একজনের নাম নয়ন। তিনি তাকে দেখলে চিনতে পারবেন বলে জানান কারিমা।

 

কারিমা আরো জানান, তিনি, তার ননদ (শাহজালালের স্ত্রী রাহেলা) ও তার নানী শাশুড়ি রিজিয়া বেগম রাত সাড়ে ৯টার দিকে খালিশপুর থানায় গিয়ে শাহজালালকে সেখানে দেখতে পান। এ সময় তারা তার সঙ্গে কথাও বলেন। তাদের দেখে পুলিশের একজন ‘দালাল’ বলেন, দুই লাখ টাকা থানায় নিয়ে আসো, ওকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করে দিবানে। তখন আমরা তাকে বলি ‘আমরা গরিব মানুষ ওতো টাকা পাব কই, ২০ হাজার টাকা দিবানে।’ তখন তিনি তাদের বলেন, ওই টাকায় কাজ হবে না।

 

রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালালের জন্য খাবার নিয়ে গেলে থানা থেকে তাদের জানানো হয়, ‘তার খাবার লাগবে না। পুলিশই তার খাবার দেবে।’

 

তিনি বলেন, ‘পরে পুলিশ তাকে একটি গাড়িতে করে থানার বাইরে নিয়ে যায়। ওই সময় ওই গাড়িতে ৪-৫জন পুলিশ ও দুটি মোটরসাইকেলে আরো চারজন পুলিশ ছিল। ভোরে থানায় গেলে তাদের বলা হয়, এখানে শাহজালাল নেই। খুলনা মেডিক্যাল কলেজে যাও। আমরা সেখানে গিয়ে দেখি শাহজালাল হাসপাতালের প্রিজন সেলের বারান্দায় পড়ে আছে। তার চোখ সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা। রক্তে ভেসে যাচ্ছে।’

 

শাহজালালের শ্বশুরবাড়ির আশপাশের কয়েকজন জানান, তারা শাহজালালকে তেমন একটা চেনেন না। দু’-একবার তারা তাকে দেখলেও তার সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। এ ব্যাপারে গতকাল দুপুরে গোয়ালখালী মোড়ে কয়েকজন দোকানদারের সঙ্গে কথা বললে তারা ঘটনার কথা শোনার কথা জানালেও কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

 

শাহজালাল বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩০১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর বেডে চিকিত্সাধীন। গতকাল তার বাবা জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, ‘ দুই লাখ টাকা না পেয়ে ওসি নাসিম খান, এসআই মামুন ও দারোগা রাসেল তার ছেলের দু’চোখ তুলে ফেলেছে। আমি তাদের বিচার দাবি করছি। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তার ছেলে আর কোনো দিন চোখ দিয়ে দেখতে পারবে না।

 

শাহজালালের দুই চোখের অপারেশন করেন অধ্যাপক ডা. ফরিদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘চোখে অপারেশন করা হয়েছে। তবে তার চোখের আলো ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম।’

২৩ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা প্রশাসকদের করণীয় হিসেবে ২৩ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে- সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে কোনভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় মঞ্চে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো: আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। মানুষ যেন শহরমুখী না হয়। শহরের উপর জনসংখ্যার চাপ যাতে না বাড়ে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে আপনাদের ব্রতী হতে হবে।

ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমাতে উন্নয়ন কর্মসূচি এমনভাবে গ্রহণ করতে হবে যাতে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ উপকৃত হয়। বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, গ্রামের মুরুব্বি, নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী, নারী সংগঠক, আনসার-ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ, এনজিও কর্মীসহ সমাজের সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার প্রদান ও আদালতে মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে কার্যকর করতে হবে।

জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে।

শিক্ষার সর্বস্তরে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভূমি রক্ষায় আরও সচেষ্ট হতে হবে।

কৃষি-উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনাকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী হতে হবে।

ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করে এসব অনৈতিক কর্মকা- কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও এসডিজির সফল বাস্তবায়নে মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই সংক্রান্ত আইন ও বিধি বিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রফতানি নির্বিঘ্ন করা এবং পেশিশক্তি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাস নিমূর্ল করতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভোক্তা অধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরহস্তে দমন করতে হবে।

নারী উন্নয়ন নীতি সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ এবং নারী ও শিশু পাচার রোধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে ইতিহাস চেতনা, জ্ঞানস্পৃহা ও বিজ্ঞানমনষ্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে।

কঠোরভাবে মাদক ব্যবসা, মাদক চোরাচালান এবং এর অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে সরকারি ভূমি রক্ষায় সজাগ থাকতে হবে।

পার্বত্য জেলাসমূহের উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণের পাশাপাশি এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দয্য ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ করতে হবে। পর্যটন শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।

এসবের বাইরে নিজস্ব জেলাভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে এগুলো সমাধানের উদ্যোগ এবং নদী ভাঙ্গনের শিকার ও গৃহহীনদের ঘর-বাড়ি তৈরি করে দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান করেন।

নতুন চার হাজার বাস নামাছে ঢাকায়

বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় নতুন চার হাজার বাস নামানোর বিষয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা সায় দিয়েছেন। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, নতুন ব্যবস্থা চালু হলে বাসে উঠতে মারামারি, টানাটানি, ধাক্কাধাক্কি থাকবে না। বিদ্যমান পরিবহন মালিকেরাও বঞ্চিত হবেন না।

গতকাল সোমবার মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি আয়োজিত বিশেষ সাধারণ সভায় এসব আলোচনা হয়। সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক। উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় চলাচলকারী বাসের মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র বলেন, ঢাকায় বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয় হাজার বাস চলাচল করে। মালিক আছেন প্রায় দুই হাজার। প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে রাস্তায় পাল্টাপাল্টি চলে হরদম। ফলে বাস দ্রুতই লক্কড়ঝক্কড়, রংচটা হয়ে পড়ে। তিনি এর অবসান চান। এ জন্যই দুই বছর আগে নতুন বাস নামানোর পরিকল্পনা করেন। এরপর সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের সঙ্গে ২৫-২৬টি বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, ‘কাল বা পরশুই হয়তো নতুন বাস নেমে যাবে না। তবে যত দ্রুত নামানো যায়, সেই কাজে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা-শ্রম নিয়োগ করব।’

সরকার ঢাকার পরিবহন-ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০০৪ সালে ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) তৈরি করে। এর আলোকে বিভিন্ন উড়ালসড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ও চলমান আছে। মেট্রোরেল প্রকল্প চলমান। ওই পরিকল্পনাতেই গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে বিশেষ বাসসেবা চালুর কথা বলা হয়। আনিসুল হক ডিএনসিসির মেয়র হওয়ার পর একটি বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে এর একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন।

সিটি করপোরেশন সূত্র বলেছে, এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কিছু সুপারিশ করেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো হচ্ছে পুরো ঢাকার বাসব্যবস্থা পাঁচ-ছয়টি কোম্পানির অধীনে নিয়ে আসতে হবে। এতে প্রত্যেক মালিক তাঁর বিনিয়োগের হার অনুসারে লভ্যাংশ পাবেন। আর প্রতি কোম্পানির বাসের রং হবে আলাদা। একটার পর একটা বাস সময় মেনে চলবে। পথে কেউ কারও আগে যাওয়ার চেষ্টা করবে না। পাঁচ বছরের পুরোনো বাস তুলে দিতে হবে। এর কম পুরোনো বাস মেরামত করে বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়ে আসতে হবে।

এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করতে মেয়র ও পরিবহননেতারা অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সর্বশেষ গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

অবশ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের এক সভায় এই পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন।

গতকাল ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছেন। যাঁকে প্রয়োজন হবে, তাঁকেই সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা একমত। এ সময় তিনি একমত কি না তা হাত উঠিয়ে দেখাতে বললে উপস্থিত মালিক-শ্রমিকেরা হাত উঠিয়ে দেখান। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি রেখে বাসে চড়বে। তবে কিছু দাবির কথাও বলেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ হারে বাস কেনার জন্য ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করা, পুরোনো বাসগুলো সরকারের পক্ষ থেকে কিনে নেওয়া, ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা এবং ঢাকায় পাঁচটি বাস ডিপো নির্মাণ করা।

জবাবে মেয়র আনিসুল হক বলেন, সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে আজ পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নজির নেই। তবে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। বর্তমানে পরিবহন মালিকেরা ২৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদে বাস কিনছেন। রাজধানীতে বাস ডিপো করার জন্যও জায়গা চিহ্নিত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব পথে বাস চলছে, এর সব পথেই বাস থাকবে। মালিকেরাও সবাই বিনিয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু ব্যবস্থাপনা হবে ভিন্ন। ইলেকট্রনিক টিকিট-ব্যবস্থা চালু করা হবে। নারীদের জন্য বিশেষ সেবা রাখা হবে। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসও চালু করা হবে। সড়ক যেখানে চওড়া বা পাশে জায়গা রয়েছে, সেখানে বাসের জন্য বিশেষ লেনেরও ব্যবস্থা করা হতে পারে।

সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালামসহ পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএনপি লাইসেন্স দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

বহু প্রতীক্ষিত এই এমএনপি সেবা শিগগিরই শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ।

সোমবার বিকেলে তিনি বলেন, লাইসেন্সের জন্য দামভিত্তিক কোনো নিলাম হবে না, ১০ কোটি টাকা লাইসেন্স ফিতে একটি প্রতিষ্ঠান ১৫ বছরের জন্য এই লাইসেন্স পাবে। আর সেই প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হবে আবেদনকারীদের মধ্যে ‘বিউটি কনটেস্ট’ এর মাধ্যমে।

বিউটি কনটেস্ট প্রক্রিয়ায় একটি কমিটি থাকবে, যারা আবেদনকারীদের আর্থিক সামর্থ্য, কারিগরি দক্ষতা, অভিজ্ঞতার মত বিষয়গুলো নির্দিষ্ট মানদণ্ডে যাচাই-বাছাই করে একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের জন্য নির্বাচিত করবে।

এমএনপির সংশোধিত নীতিমালায় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হল বলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান।

আবেদনের শর্ত

# যে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এ লাইসেন্সের আবেদন করতে পারবে। এককভাবে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে না।

# বাংলাদেশি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানির মালিকানা ৫১ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) ক্ষেত্রে এ নিয়েম প্রযোজ্য হবে না।

# কোনো মোবাইল ফোন অপারেটর বা তাদের পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার বা শরিকরা এ লাইসেন্স আবেদন করতে পারবে না।

# আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের এক বা একাধিক দেশে কমপক্ষে এক কোটি গ্রাহককে তিন বছর এমএনপি সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

# ২৩ অগাস্টের মধ্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন পাঠাতে হবে।

আবেদন পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে জানিয়ে বিটিআরসি প্রধান বলেন, “শিগগিরই এ কাজ শেষে করা হবে।”

নম্বর পরিবর্তনের ঝক্কিতে যেতে চান না বলে সেবায় সন্তুষ্ট না হওয়ার পরও অনেকে অপারেটর বদলান না। এমএনপি চালু হলে তারা নম্বর ঠিক রেখেই অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী এমএনপি সুবিধা দিতে অপারেটরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ টাকা নিতে পারবে। একবার এমএনপি সুবিধা নেওয়ার পর গ্রাহক আবার নতুন কোনো অপারেটরে যেতে চাইলে তাকে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

বহু প্রতীক্ষিত এই সুযোগ তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম দফা এমএনপি নীতিমালা অনুমোদন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাতে লাইসেন্স প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে কি না- সেই প্রশ্ন উঠলে নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কয়েকটি মূল্যায়ন মানদণ্ড যুক্ত করে পরের বছর জানুয়ারিতে এমএনপি নীতিমালার সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করে বিটিআরসি। জুন মাসে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

এরপর নিলামের উদ্যোগ নিয়ে আবেদনকারী ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটিকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিলামের তারিখও ঠিক করা হয়। কিন্তু তার সপ্তাহখানেক আগে নিলাম স্থগিতের ঘোষণা দেয় বিটিআরসি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সে সময় জানান, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ‘গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তা ছাড়পত্র’ পাওয়ার পরই অপারেটর নিয়োগে নিলাম হবে।

এরপর গতবছর নভেম্বরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, নিলামের আগে নীতিমালার ‘প্রকিউরমেন্ট প্রসেস’ এ আরও কিছু পরিবর্তন আনা হবে।

আগের নীতিমালায় বলা হয়েছিল, লাইসেন্স দেওয়া হবে নিলামের মাধ্যমে। নিলাম প্রক্রিয়ায় আবেদন ফি এক লাখ টাকা, বিড আর্নেস্ট মানি ১০ লাখ টাকা এবং নিলামের ভিত্তি মূল্য হবে এক কোটি টাকা।

ওই পদ্ধতি পরিবর্তন করে ‘বিউটি কনটেস্ট’ এর মাধ্যমে ‘যোগ্য’ একটি কোম্পানিকে চূড়ান্ত করার নিয়ম যুক্ত করার পর সোমবার লাইসেন্স আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল বিটিআরসি।

বহু প্রতীক্ষিত এই এমএনপি সেবা শিগগিরই শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ।

সোমবার বিকেলে তিনি বলেন, লাইসেন্সের জন্য দামভিত্তিক কোনো নিলাম হবে না, ১০ কোটি টাকা লাইসেন্স ফিতে একটি প্রতিষ্ঠান ১৫ বছরের জন্য এই লাইসেন্স পাবে। আর সেই প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হবে আবেদনকারীদের মধ্যে ‘বিউটি কনটেস্ট’ এর মাধ্যমে।

বিউটি কনটেস্ট প্রক্রিয়ায় একটি কমিটি থাকবে, যারা আবেদনকারীদের আর্থিক সামর্থ্য, কারিগরি দক্ষতা, অভিজ্ঞতার মত বিষয়গুলো নির্দিষ্ট মানদণ্ডে যাচাই-বাছাই করে একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের জন্য নির্বাচিত করবে।

এমএনপির সংশোধিত নীতিমালায় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হল বলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান।

আবেদনের শর্ত

# যে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এ লাইসেন্সের আবেদন করতে পারবে। এককভাবে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে না।

# বাংলাদেশি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানির মালিকানা ৫১ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) ক্ষেত্রে এ নিয়েম প্রযোজ্য হবে না।

# কোনো মোবাইল ফোন অপারেটর বা তাদের পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার বা শরিকরা এ লাইসেন্স আবেদন করতে পারবে না।

# আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের এক বা একাধিক দেশে কমপক্ষে এক কোটি গ্রাহককে তিন বছর এমএনপি সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

# ২৩ অগাস্টের মধ্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন পাঠাতে হবে।

আবেদন পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে জানিয়ে বিটিআরসি প্রধান বলেন, “শিগগিরই এ কাজ শেষে করা হবে।”

নম্বর পরিবর্তনের ঝক্কিতে যেতে চান না বলে সেবায় সন্তুষ্ট না হওয়ার পরও অনেকে অপারেটর বদলান না। এমএনপি চালু হলে তারা নম্বর ঠিক রেখেই অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী এমএনপি সুবিধা দিতে অপারেটরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ টাকা নিতে পারবে। একবার এমএনপি সুবিধা নেওয়ার পর গ্রাহক আবার নতুন কোনো অপারেটরে যেতে চাইলে তাকে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

বহু প্রতীক্ষিত এই সুযোগ তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম দফা এমএনপি নীতিমালা অনুমোদন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাতে লাইসেন্স প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে কি না- সেই প্রশ্ন উঠলে নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কয়েকটি মূল্যায়ন মানদণ্ড যুক্ত করে পরের বছর জানুয়ারিতে এমএনপি নীতিমালার সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করে বিটিআরসি। জুন মাসে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

এরপর নিলামের উদ্যোগ নিয়ে আবেদনকারী ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটিকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিলামের তারিখও ঠিক করা হয়। কিন্তু তার সপ্তাহখানেক আগে নিলাম স্থগিতের ঘোষণা দেয় বিটিআরসি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সে সময় জানান, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ‘গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তা ছাড়পত্র’ পাওয়ার পরই অপারেটর নিয়োগে নিলাম হবে।

এরপর গতবছর নভেম্বরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, নিলামের আগে নীতিমালার ‘প্রকিউরমেন্ট প্রসেস’ এ আরও কিছু পরিবর্তন আনা হবে।

আগের নীতিমালায় বলা হয়েছিল, লাইসেন্স দেওয়া হবে নিলামের মাধ্যমে। নিলাম প্রক্রিয়ায় আবেদন ফি এক লাখ টাকা, বিড আর্নেস্ট মানি ১০ লাখ টাকা এবং নিলামের ভিত্তি মূল্য হবে এক কোটি টাকা।

ওই পদ্ধতি পরিবর্তন করে ‘বিউটি কনটেস্ট’ এর মাধ্যমে ‘যোগ্য’ একটি কোম্পানিকে চূড়ান্ত করার নিয়ম যুক্ত করার পর সোমবার লাইসেন্স আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল বিটিআরসি।

সিদ্দিকুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত নেওয়া হচ্ছে

পুলিশের টিয়ার শেলের আঘাতে অন্ধ হতে চলা ঢাকার তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নেওয়া হচ্ছে।
সিদ্দিকুরের চিকিৎসার ব্যয়ভার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার নিয়েছে বলেও সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

দুপুরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে সিদ্দিকুরকে দেখার পর তাকে বিদেশ পাঠানোর ইঙ্গিত মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি আসে।

এতে বলা হয়, “সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।”

নিম্নবিত্ত পরিবারের এই কলেজছাত্রের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারকে নিতে দাবি জানিয়ে আসছিলেন তার সহপাঠীরা। একই দাবি জানিয়ে সোমবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র জোট।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, “সিদ্দিকের চোখ ভালো করতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।”

সিদ্দিকুর বর্তমানে ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সিদ্দিকের চিকিৎসার আর্থিক খরচ বহনসহ সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, তার চোখ ভালো করতে যা যা করণীয় চিকিৎসকরা যেন সেই পদক্ষেপগুলো নেন।”

দুপুরে হাসপাতালে সিদ্দিকুরকে দেখার পর ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “তার চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে কেবিনেটে আমরা আলোচনা করেছি। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি খরচে প্রয়োজনে দেশের বাইরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

“সিদ্দিকুরের বিষয়টি নিয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে আলাপ করেছি। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আগারগাঁওয়ে চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে যান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “সিদ্দিকুরের সঙ্গে আমারা দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছি, হাসপাতালের পরিচালকও আমার সাথে ছিলেন। সিদ্দিকুরের একটি চোখে আলো না ফিরলেও আরেকটি চোখে আলো ফেরানোর জন্য ডাক্তাররা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমরা আশা রাখছি, তার চোখের আলো ফিরবে।”

পরীক্ষার সময়সূচির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে লাটিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। তখন সিদ্দিকুরের চোখে টিয়ার শেলের আঘাত লাগে।

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আগে সিদ্দিকুরকে দেখতে হাসপাতালে যান ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

টিয়ার শেলই সিদ্দিকুরের চোখে আঘাত হেনেছে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান হলেও বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রথম হজ ফ্লাইট ছেড়েছে ৪১৮ হাজী নিয়ে

প্রথম হজ ফ্লাইট চার শতাধিক হাজী নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে। সোমবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের হজ ফ্লাইট যাত্রা শুরু করে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানান।

মন্ত্রণালয় ও বিমান সূত্রে জানা গেছে, আজ হজ ফ্লাইট বিজি-৩০১১ দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ৪১৮জন, বিজি-৭০১১ সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে ৪১৮ জন এবং সিডিউল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত ৮টা ৪০ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে।

হজযাত্রীদের বিমানের টিকিটে আবগারি শুল্ক এবং সৌদি আরবে বিমানবন্দরে বর্ধিত টার্মিনাল ভাড়া বাবদ মাথাপিছু বাড়তি ৩ হাজার টাকাকে পরিশোধ করবে, তা নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। হজযাত্রীদের কোনো বাড়তি টাকা পরিশোধ করতে হবে না।

এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস হজ ফ্লাইট ও নিয়মিত ফ্লাইটে মোট ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে।

চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও এ বছর যথারীতি প্রয়োজনীয় সংখ্যক হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। গত শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশকোনায় হজক্যাম্পে হজ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

সুশীল সমাজের ৬০ জনকে সংলাপের জন্য আমন্ত্রণ

সুশীল সমাজের (বুদ্ধিজীবী) ৬০ জনকে সংলাপের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার তাদের কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছানো শুরু হবে। রবিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এ তথ্য জানান।

ইসি সচিব বলেন, একাদশ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৩১ জুলাই থেকে সংলাপ শুরু হবে। ওইদিন সকাল ১১টায় সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসি বৈঠক করবে।

এ জন্য এ পর্যন্ত ৬০ জনের একটি তালিকা তৈরি করে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এই সংখ্যা আরও দুই/চার জন বাড়তেও পারে। আমন্ত্রিত অতিথিদের নামে চিঠি আজ না হলেও আগামীকাল (সোমবার) পাঠানো শুরু হবে। দুই দিনের মধ্যে তাদের কাছে চিঠি পৌঁছে যাবে।

কে কে চিঠি পাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, এই মুহূর্তে কারো নাম বলতে পারব না। তবে দেশের শীর্ষ স্থানীয় সুশীল সেবক হিসেবে রয়েছেন, তাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। এখানে সাবেক আমলা, কূটনীতিক, বিচারপতি, আইনজ্ঞ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, কলামিস্টসহ সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে যারা নিয়োজিত হয়েছেন, যাদের আমরা বুদ্ধিজীবী হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি, তাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

সংলাপের বিষয়বস্তু কী হবে, জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, আলোচনার বিষয়বস্তু এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। আমাদের সংলাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা। এ জন্য প্রয়োজনীয় দিক নিয়ে আলোচনা করব, সুশীল সমাজের অভিমত নেব। তবে, আমরা কর্মপরিকল্পনায় যে ৭ দফা করণীয় নির্ধারণ করেছি, তার মধ্যে এই সংলাপ বাদে বাকি ৬টি নিয়েই আলোচনা হবে। আমরা আলোচনার আগে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যেন হোমওয়ার্ক করতে পারেন, সে জন্য দশম সংসদ নির্বাচনের ম্যানুয়াল, নির্বাচনি আইনের কপিসহ অনান্য প্রিন্টেড ডকুমেন্ট সরবরাহ করছি, যেন তারা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে সংলাপে আসতে পারেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, সংলাপের জন্য তো সংলাপ করে লাভ নেই। আমরা সংলাপের রেকর্ড সংগ্রহ করব। সব পর্যায়ের সংলাপ শেষ হলে একটি প্রতিবেদন তৈরি করব। আর এই প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ আসবে, তার মধ্যে যেগুলো গ্রহণ করার মতো হবে, আমরা তা গ্রহণ করব।

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের এখনো তারিখ ঠিক হয়নি। এটা আগামী সপ্তাহে হতে পারে।

আগের একাধিক নির্বাচনে ইভিএম-এর ত্রুটির পরও রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এর ব্যবহার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘আগে যেগুলো ব্যবহার হয়েছে সেটা ছিল ইভিএম। কিন্তু আমরা ব্যবহার করব ডিভিএম-ডিজিটাল ভোটিং মেশিন। এটি আরও উন্নতমানের।

পাস কম করায় আমরা বিস্মিত হইনি-শিক্ষামন্ত্রী

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এবারের পরীক্ষার ফলাফল গতবারের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এবার পাস কম করায় আমরা বিস্মিত হইনি। পরীক্ষার খাতা ভালোভাবে মূল্যায়ন করার কারণেই এ ফল হয়েছে। ”

আজ রবিবার সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলের অনুলিপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় এ বছরের পরীক্ষাক্র ফলাফল কেন খারাপ হয়েছে, সেই কারণের ব্যাখ্যা দেন মন্ত্রী।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘গত মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায়ও একই ঘটনা ঘটেছিল। এসএসসিতে গতবারের চেয়ে ৮ শতাংশ পাস করেছে। সে ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে এইচএসসিতে কম খারাপ হয়েছে। এটাকে আমি সাফল্য বলে মনে করি। ’

তিনি বলেন, ‘খাতা দেখার বিশেষ মূল্যায়নের কারণেই ফলের এই পার্থক্য হচ্ছে। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই, এটা আমাদের সাফল্য। ভবিষ্যতে এটা ধীরে ধীরে একটা স্থির অবস্থায় এসে পড়বে। ’

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘খাতা দেখার এই পদ্ধতিতে সবাই একমত হয়েছে। সংবাদও এ ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করেছে। এবার ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো করেছে। ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এবার ২ দশমিক ৮২ ভাগ বেশি পাস করেছে।

মাদ্রাসা, কারিগরিসহ ১০টি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় আট হাজার ৮৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৯৪২ জন। এবার মোট জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৪২ জন। এবার গতবারের চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী কম পাস করেছে।

Scroll To Top