শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / খাগড়াছড়ি

বিভাগ: খাগড়াছড়ি

Feed Subscription

কৃষি সমাবেশে সরকারি কৃষি উপকরণ না পাওয়ার অভিযোগ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়িতে কৃষক সমাবেশে সরকারি কৃষি উপকরণ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সেখানকার কৃষকরা। সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কৃষক সমাবেশে তারা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

 

তারা অভিযোগ করে বলেন, বিগত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এ জেলার জন্য সরকার লাখ লাখ টাকার প্রদর্শনীর জন্য বরাদ্দ প্রদান করেছে। অথচ এসব বরাদ্দের আমরা কিছুই পায়নি। কৃষকরা আরো বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকদের জন্য সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি সেবাসহ আউশ প্রনোদনা, প্রদর্শনীর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। অথচ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কতিপয় উপজেলা কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে সরকারের কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তারা আরো অভিযোগ করেন, ইতিমধ্যে মানিকছড়ি উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। কৃষকরা অচিরেই কৃষকদের জন্য সরকার কতৃক বরাদ্দকৃত অর্থ উপকরণ যথাযথভাবে পেয়েছে কিনা তা তদন্তের দাবি জানান।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি আসনের এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। এসময় তিনি কৃষকদের অভিযোগ শুনেন। তিনি বলেন, কৃষকরা যাতে কোনোভাবেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয় এ জন্য কর্মকর্তাদের সজাগ থাকতে হবে।

এ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও কৃষি বিভাগের আহ্বায়ক এড.আশুতোষ চাকমা, এনডিসি আশরাফুল হাসান, সিনিয়র সহকারী পুলিম সুপার মোঃ তৈফিকুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি সৌরভ তালুকদার।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নীতি ভূষণ চাকমা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন কৃষক ক্যজপ্রু মারমা ও কৃষক শাহ আলম। এতে মানিকছড়ি উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও বঙ্গবন্ধু কৃষি ডিপ্লোমা পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলার সভাপতি উমা প্রসাদ বড়ুয়া, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন খাগড়াছড়ি জেলার সভাপতি জ্যোতি কিশোর ত্রিপুরা বক্তব্য রাখেন। এসময় কৃষিবিদরা তাদের সংগঠনের দাবিও তুলে ধরেন।

খাগড়াছড়িতে অবরোধকারীদের হামলায় ১১ আ’লীগ কর্মী আহত,সাংবাদিক লাঞ্ছিত

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম,দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে হরতাল শেষে ৩ দিনের অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবরোধ আহ্বানকারী ও প্রশাসনের বৈঠকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধের সব অভিযোগ তদন্ত করার আশ্বাসের ভিত্তিতে অবরোধ প্রত্যাহার করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা সুষম উন্নয়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি।

অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এএসএম শাহেন রেজা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তদন্ত কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মানিক লাল বণিককে আহ্বায়ক করে উপসচিব কাজী মো: আনোয়ারুল হাকিম ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মকিমা বেগমকে সদস্য করে দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্টিত বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এটিএম কাউছার হোসেন, খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান, পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মংক্যচিং চৌধুরী, নির্মলেন্দু চৌধুরী, এম এম জাব্বার, অবরোধ আহ্বানকারী পৌর মেয়র রফিকুল আলম, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, পানছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমাসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, অবরোধের প্রথম দিনে অবরোধ চলাকালে ১০ টায় শহরের চেঙ্গী স্কোয়ারে মহালছড়ি ও পানছড়ি থেকে গাড়ি যোগে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের সাথে পিকেটারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার হয়ে আওয়ামীলীগের ১১ জন নেতাকর্মী আহত হয়। সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহণ করতে গিয়ে পিকেটারদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন পার্বত্য নিউজ ডটকমের খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি মো: শাহজাহান। এসময় তার ব্যবহৃত ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করে পিকেটাররা। অবরোধ চলাকালে পিকেটারদের হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছনাসহ সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের লাঞ্ছনার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খাগড়াছড়িতে কর্মরত সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা। মঙ্গলবার দুপুর ১.৩০টায় খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাব হলরুমে প্রেস ক্লারেব সভাপতি জীতেন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি নুরুল আজম, সাধারণ সম্পাদক কানন আচার্য, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মুহাম্মদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু দাউদ, বাংলাভিশন ও পার্বত্য নিউজের ব্যুরো চীফ এইচ এম প্রফুল্ল বক্তব্য রাখেন। এসময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, চেঙ্গী স্কোয়ার এলাকায় পিকেটারদের হামলায় আ’লীগের ১১ জন নেতাকর্মী আহত হওয়ার প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টায় জেলা সদরের কদমতলীস্থ জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শাপলা চত্বরের দিকে যেতে চাইলে ভাঙ্গাব্রীজ এলাকায় পুলিশ বাধা দেয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শাপলা অভিমুখে যেতে চাইলে মাস্টারপাড়া মুখ এলাকায় পুলিশ দ্বিতীয় ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভকারীদের ঘুরিয়ে দেয়। বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্বে ছিল জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান হেলাল ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি টিকো চাকমা।

অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের দুর্নীতি, অনিয়ম ও শিক্ষক নিয়োগে পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করায় পূর্ব ঘোষিত টানা তিনদিনের অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আজ দুপুরে জেলা প্রশাসকের সাথে সুষম উন্নয়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির বৈঠকের পর অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

কমিটির সদস্য সচিব পৌর মেয়র মো: রফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খাগড়াছড়িতে হরতাল-অবরোধ ডিঙিয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়িতে পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনস্থ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় নিজেদের যোগ্যতার লড়ায়ে হরতাল-অবরোধ ডিঙিয়ে পরীক্ষাস্থলে পরীক্ষার্থীরা।
ভাড়ায় মটরসাইকেল চালক খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রবিউল আওয়ালকে সন্ত্রাসীরা যাত্রীবেশে নিয়ে গিয়ে তার হাত-পা ও মুখ বেধে হত্যা করে ধান ক্ষেতে ফেলে যাওয়ার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে খাগড়াছড়ি গুইমারা উপজেলার সিন্ধুকছড়ি ইউনিয়ন তৈকর্মা নামক স্থানে মটরসাইকেলসহ তার লাশ পাওয়া যায়। এর পর পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ (পিবিসিপি) ও নাগরিক পরিষদ রবিউলকে নিজেদের কর্মি দাবী করে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে ১৮ সেপ্টেম্বর সোমবার খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষনা দেয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ শনিবার ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে গুইমারা উপজেলার তৈকর্মা পাড়া এলাকা থেকে নিপ্র“ মারমা (৩৫) ও উশিং মারমা (১৯) কে আটক করা হলেও, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে একই দিন ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধা হরতাল দেয় জনপ্রতিনিধিদের সংগঠন জেলা সুষম উন্নয়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি।

গত ২৫ আগস্ট জেলা পরিষদের অধীনস্থ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেয় জনপ্রতিনিধিদের সংগঠন জেলা সুষম উন্নয়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি। সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট ও জননিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কায় ওইদিন পৌর শহরে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড হওয়ায় ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধা হরতাল ও ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৩ দিন পর্যন্ত সড়ক অবরোধের ডাক দেয় সংগঠনটি।

সোমবার ভোর ৬টা থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানের সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে হরতাল শুরু করে জেলা সুষম উন্নয়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি। অন্যদিকে, হরতাল উপেক্ষা করে বেলা সাড়ে ১০টা থেকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর কক্ষে নিয়োগ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দদের নিয়ে শুরু হয় নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা। সোমবার থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে মৌখিক পরীক্ষা। প্রথম দিনে লক্ষ্মীছড়ি, মানিকছড়ি ও রামগড় উপজেলার সিংহ ভাগ পরীক্ষার্থীই উপস্থিত ছিলেন বলে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানানো হয়েছে।

রামগড় থেকে আসা পরীক্ষার্থী সুরিয়া মারমা,মানিকছড়ি থেকে আসা ইয়াসমিন আফরোজা ও আথুই মানমা জানান, হরতালের কারনে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সোমবার ভোর ৪টায় মোটরসাইকেলে করে খাগড়াছড়ি এসেছি। খাগড়াছড়ি আসার পর পিকেটিংয়ের ভয়ে জিরোমাইল থেকে পায়ে হেঁটে পরিক্ষাস্থলে আসতে হয়েছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, নিজেদের স্বার্থে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে জনপ্রতিনিধিরা হরতাল দিয়েছে। কিন্তু জনগণ তাদের ডাকে সাড়া না দিয়ে স্বত:স্ফূর্তভাবে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। উপস্থিতির হার আনুমানিক ৯০ শতাংশ। তবে,যে সব পরীক্ষার্থী হরতাল-অবরোধোর কারনে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। পরবর্তীতে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

খাগড়াছড়িতে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে

খাগড়াছড়িতে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। ছাত্রদল নেতা রবিউল হত্যার প্রতিবাদে ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও জেলা সুষম উন্নয়ন কমিটি আলাদা আলাদাভাবে এ হরতাল আহ্বান করে।

 

হরতালের কারণে দূরপাল্লার সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের দোকানপাটও খোলেনি। এদিকে, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্পর্শকাতর স্থানসমূহে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

তবে হরতালের সমর্থনে সকালে শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় পিকেটিং করে হরতাল আহ্বানকারীরা। শহরের আরামবাগ এলাকায় টায়ারে আগুন দেয় বাঙালি ছাত্র পরিষদ কর্মীরা।

 

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে জেলার গুইমারা উপজেলার তৈকর্মা এলাকায় ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলামের লাশ পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে চলমান প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে হরতাল আহ্বান করে জেলা সুসম উন্নয়ন কমিটি নামে একটি সংগঠন।

তিন পার্বত্য জেলায় চলছে টার্গেট কিলিং

তিন পার্বত্য জেলায় চলছে টার্গেট কিলিং। বাঙালি মোটরসাইকেল চালকরা ওই কিলিংয়ের শিকার। পরিকল্পিতভাবে একের পর এক খুন ও গুম করা হচ্ছে তাদের। এতে অশান্ত হয়ে উঠছে পাহাড়। সৃষ্টি হচ্ছে নানা সংঘাতের। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজাতি সন্ত্রাসীরা। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে এ ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে খাগড়াছড়িতে। সেখানে যাত্রীবেশী সন্ত্রাসীদের হাতে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক খুন, অপহরণ, গুম ও হামলা করে মোটরসাইকেল ছিনতাই এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সাড়ে ৬ বছরে খাগড়াছড়িতে অন্তত ৮জন মোটরসাইকেল চালক যাত্রীবেশীদের হাতে খুন হয়েছে। গুম হয়েছেন ৮ জন। এদের মধ্যে একজন ছাড়া সকলেই খাগড়াছড়ির বাসিন্দা। অপহরণ হয়েছে অন্তত এক ডজন। এছাড়া অস্ত্রের মুখে মোটরসাইকেল ছিনতাই ও চুরি হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তারা এসব ঘটনাকে টার্গেট কিলিং হিসেবে দেখছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এসব ঘটনার কূলকিনারা পেতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে পার্বত্য জেলাগুলোতে তৎপর একটি গোয়েন্দা সংস্থা। একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, দুটি কারণে পাহাড়ে এ ধরনের টার্গেট কিলিং হচ্ছে। প্রথমত-পার্বত্য জেলাগুলোকে অশান্ত করার পাঁয়তারা। এতে লাভবান হচ্ছে উপজাতি সন্ত্রাসীরা। গণ্ডগোল হলেই তারা চাঁদার হার বাড়িয়ে দেয়। কর্মসূচির নামে সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালিদের কাছ থেকে আদায় করে কোটি কোটি টাকা। দ্বিতীয়ত- মোটরসাইকেল চালকরা খুব সহজে মিশে যেতে পারেন পাহাড়িদের সঙ্গে। পেশাগত কারণে তারা প্রবেশ করে দুর্গম জায়গাগুলোতে। সেখানে উপজাতি সন্ত্রাসীদের তৎপরতা অনেক সময় দেখে ফেলে তারা। এরপরই টার্গেটে পরিণত হতে হয় তাদের। যার শেষ পরিণতি খুন অথবা গুম। সর্বশেষ ১২ই সেপ্টেম্বর  খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা সিন্দুকছড়ির দুর্গম তৈকর্মা পাড়া এলাকা থেকে দু’হাত পিছমোড়া বাধা অবস্থায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলামের (২৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। সে গুইমারা উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। গুইমারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, রবিউল ১১ই সেপ্টেম্বর দুপুরে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়। এদিকে রবিউল ইসলাম নিহত হওয়ায় পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরাজী শাহাদাত হোসেন সাকিব এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার যেমন বিচার পায়নি, তেমনি নিখোঁজ ব্যক্তিরা হয়তো ফিরে আসবে সে প্রতীক্ষায় আছে তাদের পরিবার- স্বজনরা। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে অভাব-অনটনে দিন পার করছে তাদের পরিবার। এ সকল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জেলায় দফায় দফায় হরতাল-অবরোধে উত্তাল হয়েছে। এ ছাড়াও মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং প্রশাসনের কাছ থেকে বিচারের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে একটিরও বিচার হয়নি। এদিকে একের পর এক মোটরসাইকেল চালকদের খুন, অপহরণ ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, খাগড়াছড়িতে যাত্রী পরিবহনের মোটরসাইকেল একটি জনপ্রিয় বাহন। ভূ-প্রকৃতি এই জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ। জেলায় অন্তত দুই হাজার বেকার যুবক ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু একের পর এক যাত্রীবেশী সন্ত্রাসীদের হাতে মোটরসাইকেল চালক খুন, গুম ও অস্ত্রের মুখে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় এখন চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত প্রায় ছয় বছরে ১৬ জন মোটরসাইকেল চালক খুন ও গুম হয়েছে। জেলার মহালছড়ি ছাদিকুল ইসলাম, মাটিরাঙার আজিজুল হাকিম শান্ত, আব্দুর রহিম, গুইমারা নিজাম উদ্দিন সোহাগ, দীঘিনালার শাহ আলম, আব্দুস সাত্তার, চান মিয়া ও সর্বশেষ পার্শ্ববর্তী লংগদু উপজেলার নুরুল ইসলাম নয়ন খুন হন খাগড়াছড়ি জেলা সদরের যৌথ খামার এলাকায়। নয়ন হত্যাকাণ্ডটি দেশব্যাপী আলোচনায় আসলেও অন্য হত্যাকাণ্ডগুলো তেমন কোনো আলোচনায় আসেনি। একই সময় দীঘিনালার মোটরসাইকেল চালক আবুল কাশেম, মো. আলী, পানছড়ির হোসেন আলী, মানিকছড়ির মো. মোরশেদ, রাজিব কান্তি দে, গুইমারার রেজাউল করিম, আল আমীন ও শংকর দীর্ঘ দিন ধরে মোটরসাইকেলসহ নিখোঁজ রয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে খাগড়াছড়িতে অন্তত অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু উদ্ধার হয়েছে মাত্র কয়েকটি। প্রতিটি খুন, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের জন্য দায়ী করা হচ্ছে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে। এর আগে গত ১লা  জুন খাগড়াছড়ির যৌথ খামার এলাকায় খুন হন লংগদু উপজেলার যুবলীগের নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন। তার এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পরের দিন সেখানে প্রায় দুই শতাধিক পাহাড়িদের বাড়ি ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। গত ১০ই এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক ছাদিকুল ইসলামকে (২৩) দুই উপজাতি মহালছড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে রাঙ্গামাটির ঘিলাছড়ির উদ্দেশ্যে ভাড়া করে নিয়ে যাওয়ার পর ছাদিকুল ইসলাম নিখোঁজ হন। তিনদিন পর ১৩ই এপ্রিল বিকালে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলার ঘিলাছড়ি এলাকায় ছাদিকুল ইসলামের ক্ষতবিক্ষত লাশ মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর চলতি বছরের ২১শে ফেব্রুয়ারি দুপুরে খাগড়াছড়ি আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের রিছাং ঝর্না এলাকার দুর্গম পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয় মাটিরাঙ্গার মেটরসাইকেল চালক আজিজুল হাকিম শান্ত’র লাশ। নিখোঁজের একদিন পর ২০১৪ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের হাজীপাড়া কবরস্থান এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে মোটরসাইকেল চালক মো. আবদুর রহিমের (২৫) লাশ উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। নিহত আবদুর রহিম বেলছড়ির ২নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানপাড়ার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম এর ছেলে। একই বছরের ৭ই মে সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালার ভৈরফা পাড়া এলাকায় শাহ আলম নামে এক মোটরসাইকেল চালককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহ আলমের লাশ উদ্ধার করে। ২০১৬ সালের ২৭শে জুন নিখোঁজ হন মানিকছড়ির মোটরসাইকেল চালক রাজিব কান্তি দে। স্থানীয় সমীর পালের ছেলে রাজিব দুপুরে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পর আর ফিরেনি। ২০১৪ সালের ২রা জুন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মোটরসাইকেল চালককে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে মোটরসাইকেল ছিনতাই করে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। ঘটনার চার ঘণ্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার মোটরসাইকল চালক চরপাড়ার মো. ধনা ময়িার ছেলে মো. খলিলুর রহমান (২৭) কে উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই বছরের ৩০শে জুলাই খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি থেকে চন্দন ত্রিপুরা (২৪) নামে ভাড়ায় চালিত এক মোটরসাইকেল চালককে অপহরণ করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। উপজেলার গামারীঢালা এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। ২০১১ সালের ১০ই জুন খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার জালিয়াপাড়ার মাহবুব নগর এলাকায় মোটরসাইকেল চালক নিজাম উদ্দিন সোহাগকে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায়  সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া ২০১১ সালে যাত্রীবেশী সন্ত্রাসীদের হাতে জেলার দীঘিনালার কবাখালীর বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার ও চান মিয়া। এদিকে চলতি বছরের ৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে দীঘিনালায় মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলী নিখোঁজ রয়েছেন। ২০১০ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন দীঘিনালার রশিকনগরে বাসিন্দা আবুল কাশেম পিসি। ২০১৬ সালের ২৬শে এপ্রিল থেকে নিখোঁজ আছেন, জেলার পানছড়ি উপজেলার নিখোঁজ মোটরসাইকেল চালক হোসেন আলী। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি মাটিরাঙ্গা সদর ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের ব্রজেন্দ্র কার্বারী পাড়ার নির্জন এলাকা থেকে পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করলেও হোসেন আলীর সন্ধান মেলেনি। ২০১৬ সালের ২৭ জুন যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন মানিকছড়ির মোটরসাইকেল চালক রাজিব কান্তি দে। ২০১৬ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ আছেন মানিকছড়ির মোটরসাইকেল চালক মো. মোরশেদ আলম। ২০১২ সালে গুইমারা উপজেলার রেজাউল করিম, আল-আমীন ও শংকর যাত্রী নিয়ে রামগড় যাওয়ার পর নিখোঁজ হন।

ইউপিডিএফ’র সাথে আতাঁত করেষড়যন্ত্র

সংবাদ সম্মেলনে পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী
খাগড়াছড়ি,প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমসহ জনপ্রতিনিধিরা মিলে পরিষদ ঘেরাও এর যে কর্মসূচি দিয়েছে তাতে করে তাদের শপথ ভঙ্গ হয়েছে। নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থে তারা যে কর্মসূচি দিয়েছে তাতে করে তারা সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী। রোববার বেলা সাড়ে ১০টায় জেলা পরিষদের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

এসময় তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফর সাথে আতাঁত করে আওয়ামীলীগ দাবি করা মেয়র রফিকুল আলম সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। যে ইউপিডিএফ ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে পণ্ড করতে কর্মসূচি দিয়েছিল সে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের সাথে মেয়র রফিকুল আলমের মিলে যাওয়ায় প্রমাণ করে সে কোন ঘরনার আওয়ামীলীগ।

রফিকুল আলমদের কর্মসূচি অযৌক্তিক দাবি করে চেয়ারম্যান আরো বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ সমূহ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে এবং পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ সমূহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ। কিন্তু রফিকুল আলম ও চঞ্চুমনিরা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকে ভাগভাটোয়ারা এবং শিক্ষক নিয়োগ কমিটিতে তাদের রাখার যে দাবি উত্থাপন করেছে তা জেলা পরিষদ আইন পরিপন্থী। জেলা পরিষদ সরকারি আইন মেনেই শিক্ষক নিয়োগ সহ সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাই তাদের অন্যায় অবদারের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ নেয়াকে স্বাগত জানান তিনি।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩ অনুসরণ করে উপজেলা ভিত্তিক ফলাফল প্রকাশ করেছে নিয়োগ কর্তৃপক্ষ। প্রতি পদের বিপরীতে ৪ জনকে প্রার্থী রাখা হলেও কোন কোন উপজেলায় লিখিত পরীক্ষায় উর্ত্তীণ না থাকায় তার সংখ্যা কম হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য নির্মলেন্দু চৌধুরী, খগেশ্বর ত্রিপুরা, সতীশ চাকমা, শতরূপা চাকমা, নিগার সুলতানা, আব্দুল জাব্বার উপস্থিত ছিলেন।

খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে প্রতিবাদ সমাবেশ

হরতাল ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবরোধ
শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি॥ খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে পূর্বঘোষিত ঘেরাও কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘিœতের আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও তা লঙ্ঘন করে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা সুষম উন্নয়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি। রোববার ১৭ সপ্টেম্বর সকাল থেকে সদর উপজেলা পরিষদ এলাকায় জড়ো হয়ে বেলা সাড়ে ১০টায় প্রতিবাদ সমাবেশ করে (আগামীকাল) সোমবার খাগড়াছড়ি জেলায় সকাল সন্ধ্যা হরতাল ও মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা তিন দিন জেলা সদরে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা সুষম উন্নয়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, সদস্য সচিব ও খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম বক্তব্য রাখেন।
এসময় পানছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কমিটির সদস্য সর্বোত্তম চাকমা, জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদক বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। খাগড়াছড়ির ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এটিএম কাউছার হোসেন জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। কেউ যদি তা লঙ্ঘন করে থাকে তাহলে পুলিশ তার ব্যবস্থা নিবে বলেও জানান তিনি।

 

 

তুচ্ছ ঘটনায় পাহাড়ী নারীকে হত্যা, ঘাতক আটক ১

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলার মধ্য বোয়ালখালী এলাকায় পরিত্যক্ত ধান ক্ষেতে গরু ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে এক পাহাড়ী নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম ইন্দ্রা দেবী চাকমা (৫০) সে বোয়ালখালী গোপাল মেম্বার পাড়ার মৃত সুরতী রঞ্জন চামকার স্ত্রী। এসময় এলাকাবাসী ঘাতক মোঃ আলাউদ্দিন (৬৫) কে আটক করে পুলিশের হাতে সোর্পদ করে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সনিবার ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে ইন্দ্রা চাকমা নিজের বর্গা দেয়া পরিত্যক্ত ধান ক্ষেতে গরু বাঁধতে গেলে বর্গা চাষী আলাউদ্দিন তাকে বাঁধা দেয়। এসময় গরুটিকে খোয়ারে নিতে চাইলে ইন্দ্রা চাকমার সাথে বাকবিতন্ডা হয়, এক পর্যায়ে ঘাতক আলাউদ্দিন রাগানিত্ব হয়ে ইন্দ্রা দেবীকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই সেই মারা যায়। পরে, আশ পাশের লোকজন ইন্দ্রা দেবী চাকমার লাশ উদ্ধার করে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পর হত্যা কান্ডের প্রতিবাদে দীঘিনালা কলেজ মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সন্তু লার্মা গ্র“প।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.সামসুউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন,গরুর ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে আলাউদ্দিন ইন্দ্রা দেবীকে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এঘটনায় খুনি আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আইন শৃংখলা শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী সতর্কবস্থায় রয়েছে বলেও জানান ওসি।

এদিকে, ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক আবু তালেব’র স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি’র সভাপতি, সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান (সাবেক) ওয়াদুদ ভুইয়া। এই হত্যাকান্ডসহ পাহাড়ে সকল হত্যাকান্ডের নিন্দা ও সুষ্ঠুভাবে বিচারের দাবি জানিয়ে জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রাখার জন্য পাহাড়ি-বাঙালি সবাইকে উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।

দু’পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত রবিউল হত্যার বিচার দাবিতে দু’পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচী ঘোষণা করেছে, স্থানীয় বাঙালী সংগঠনগুলো।

শনিবার পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূইঁয়া স্বাক্ষরিত্ব গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।

এ কর্মসূচীর একমত প্রকাশ করেন- পার্বত্য নাগরিক পরিষদের মহাসচিব এ্যাডভোকেট এয়াকুবআলী চৌধুরী, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাহাদাৎ ফরাজি সাকিব।

পার্বত্য নাগরিক পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, রাঙামাটি লংগদু উপজেলার নয়নকে ও খাগড়াছড়িতে হত্যা করেছিল উপজাতি সন্ত্রাসীরা। পরে পুলিশ সে হত্যাকারীদের গ্রেফতারও করেছিল। কিন্তু তারপরও সন্ত্রাসীদের শিক্ষা হয়নি। তারা একইভাবে মোটরসাইকেল চালক রবিউলকে হত্যা করে হাত ও মুখ বেঁধে ধান খেতে ফেলে মোটরসাকেল ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এসব ঘটনা বিশেষ করে খাগড়াছড়ি জেলা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই একটা সুস্থ সমাধান হওয়া উচিত। যাতে অসহায় সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরা সন্ত্রাসীদের থেকে নিরাপদে থাকতে পারে।
পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলা শাখার আহবায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, রবিউল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক কঠিন শাস্তির দাবীতে মূলত এ হরতাল কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে হরতালের মাধ্যমে আমরা অপহৃত ফাতেমাকে উদ্ধার ও খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল এবং পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের ৮ দফা বাস্তবায়নের দাবীও জানিয়েছি। এসব দাবি পুরোনের জন্য ৪৮ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

Scroll To Top