শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / কক্সবাজার

বিভাগ: কক্সবাজার

Feed Subscription

ঈদগাঁওর শামশু হত্যা মামলার ২ আসামী গ্রেফতার

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও জালালাবাদের আলোচিত শামশু হত্যার এজাহার নামীয় ও সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২১ সেপ্টেম্বর পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হল জালালাবাদ বাহার ছড়া এলাকার মৃত আবদুর রহমানের পুত্র নুরুল হক(৪০),ঈদগাঁও ইউনিয়েনর শিয়াপাড়া এলাকার মোজাফ্ফর আহমদের পুত্র ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত মাহমুদুল হক।
পুলিশ সুত্র জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই জাহাঙ্গীরর আলম সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে রামু রশিদ নগর নতুন বাজার এলাকার থেকে তাকে গ্রেফতার করে। অপরদিকে এএসআই লিটনুর রহমান জয়, অভিযান চালিয়ে বাসষ্টেশন এলাকা থেকে বন মামলার ছয় মাসের সাজাসহ আরও একটি মামলার আসামী মাহমুদুল হককে গ্রেফতার করে।
এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানায়,জালালাবাদের চাঞ্চল্যকর শামশুল আলম হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামী নুরুল হক ঘটনার সাথে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ খাইরুজ্জামান গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হবে বলে জানান।

চার রোহিঙ্গা অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এক নারীসহ চার রোহিঙ্গা অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

এদের মধ্যে একজন জন্ডিসে এবং একজন জ্বরে আক্রান্ত বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে।

বুধবার রাতে মাথা ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন মো. হোসেন (৫০)। তিনি মিয়ানমারের মংডু থানার হাসুয়াথা গ্রামের মৃত মিয়া হোসেনের ছেলে।

একই সময়ে আসা আরেক রোহিঙ্গা নজির হোসেন (৫০) মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার থাম বাজারের বাসিন্দা।

ফাঁড়ি পুলিশের এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, নজির হোসেন জন্ডিসে আক্রান্ত। তাকে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করানো হয়েছে।

মাথায় আঘাত নিয়ে চমেকে ভর্তি হয়েছেন মো. জকির (২৮)। তিনি মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদের ছেলে। তাকে হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে চমেকে ভর্তি হয়েছেন রোহিঙ্গা নারী মোসাম্মৎ রাজিয়া। তার স্বামীর নাম ফয়সাল।

এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, মোসাম্মৎ রাজিয়া জ্বর এবং অন্য শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

অগাস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গুলি-বোমা হামলা, বাড়িতে আগুন দেয়া এবং সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতরা চমেক হাসপাতালে আসতে শুরু করে।

শুরুতে গুলিবিদ্ধ, বোমায় দগ্ধ এবং হাত-পা ভাঙ্গা আহত মানুষের সংখ্যা ছিল বেশি। পরে মাইনে দগ্ধ দুজনও এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে।

সব শেষ বুধ ও বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ কেউ নেই।

পেকুয়ায় গৃহবধুকে কুপিয়ে জখম

পেকুয়া প্রতিনিধি::

পেকুয়া উপজেলার শীলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া সেগুন বাগিছা এলাকার হাছিনা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধুকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দূর্বৃত্তরা। সে ওই এলাকার নুরুল কবিরের স্ত্রী। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনাটি ঘটেছে, বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায়।

আহত গৃহবধুর ভাই নাসির উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার আবুল হোসেন গং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার বোন ও স্বামী সন্তানদের সীমানার রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে দিচ্ছেনা। এমনকি ছেলে মেয়েদের স্কুলে আসা যাওয়ায়ও বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর বিকল্প একটি চলাচল রাস্তা তৈরি করে। বৃহস্পতিবার বিকালে আবুল হোসেন ও তার স্ত্রী ওই সীমানায় রোপিত গাছ কাটা শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের বাধা দিতে গেলে তার বোনকে কুপিয়ে জখম করে। এ বিষয়ে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

 

রাস্তা নির্মাণে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে ব্যাপক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকার কক্সবাজারের ১২টি অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে রাস্তা নির্মাণে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানায়, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয় কক্সবাজারের ১২টি শরণার্থী শিবিরে রাস্তা নির্মাণে এই অর্থ বরাদ্দ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন বলেন, ‘রাস্তা ছাড়াও সরকার ১২টি শরণার্থী শিবিরে ১২শ স্যানিটারি ল্যাট্রিন তৈরি করছে ও ১২শ নলকূপ বসাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক শরণার্থী শিবিরে একশটি করে টয়লেট নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ৬০টি নারী ও ৪০টি পুরুষদের জন্য।এরই মধ্যে ১২টি শরণার্থী শিবিরে প্রায় দুইশ টয়লেট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বাকি টয়লেট নির্মাণের কাজও শেষ হবে।’ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গঠিত সমন্বয় কমিটি প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকে বসছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানান তিনি।আশরাফুল আলম খোকন আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সমন্বয় কমিটি বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো ৭২তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক থেকেই এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং সেখান থেকে ই-ফাইলিংয়ে স্বাক্ষর করছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই কর্মকর্তা।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী: ওবায়দুল

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের অবস্থান এখনো পরিস্কার নয়। এ কারণে সীমান্ত পেরিয়ে রোহিঙ্গাদের এখনো বাংলাদেশে আসা অব্যাহত রয়েছে। তাই, রোহিঙ্গা শরণাথীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার থেকে সেনা বাহিনী পুরোদমে কাজ শুরু করবে। রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ঘিরে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সজাগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। দ্বিতীয় দফায় ১০৭ মেট্রিক টন ভারতীয় ত্রাণ বিতরণের সময় এসব তথ্য জানান ওবায়দুল কাদের। এসময় ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।এসময় ভারতীয় হাইকমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অরুনন্ধতি রায়, আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম সহ কেন্দ্রিয়, কক্সবাজার জেলা ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, গত তিন ধরে আওয়ামীলীগের পক্ষে ওবায়দুল কাদের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ করছেন।

রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে বাংলাদেশ: এরশাদ

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহামদ এরশাদ বলেছেন যেখানে মানুষের বিপদ, সেখানে জাতীয় পার্টি। যেখানে সমস্যা, সেখানে সমাধান জাতীয় পার্টির। ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩ টায় কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী বস্তিতে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কালে উপরোক্ত কথা বলেন। জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ আরো বলেন, মানুষের দুঃখ দুর্দশায় আমি বসে থাকতে পারিনা। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা চেয়ে থাকতে পারেনা। তাই মিয়ানমার সরকার বাহিনীর দমন -নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দেখতে আবারো ছুটে এলাম। রোহিঙ্গাদের পাশে আছি, থাকবো। এসময় তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। অমানবিক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি চাইনা। এ হত্যা বন্ধ করুন। সভ্যতার পরিচয় দিন। জাপা চেয়ারম্যানের সাথে এসময় দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু এমপি, মৌলভী ইলিয়াস এমপি, মাহজাবিন মোর্শেদ এমপি, যুবসংহতির সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটন, কক্সবাজার জেলা জাপা সাধারণ সম্পাদক এড.মোঃ তারেক, কেন্দ্রীয় সদস্য মুফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় যুবসংহতির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল বশর ভুইয়া সুজন, জাপা কেন্দ্রীয় সদস্য ও উখিয়া উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন শিকদার ভুট্টো, জেলা নেতা মোশাররফ হোসেন দুলাল, নাজিম উদ্দিন সহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জাপা ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে জাপা চেয়ারম্যানেন ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা ও অংশ নেন। একইদিন দুপুর ১টায় এরশাদ টেকনাফের শামলাপুরে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

৫ হাজার ৫৭৫ রোহিঙ্গা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত : মায়া

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জানিয়েছেন, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অভিযানে গত ২৫ দিনে ৪ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এদের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৫৭৫ জন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘২৫ আগস্টের পর থেকে নতুন করে বিপুল সংখ্যক মিয়ানমার নাগরিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী ও সাগর পথে বাংলাদেশে আসছে। নারী-শিশু ও অসহায় অনুপ্রবেশকারীদের করুন চিত্র বিশ্ববাসীর নজরে এসেছে এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসী এ নিয়ে বিশেষ উদ্বিগ্ন। অসহায় এসব মানুষগুলোর দুঃখ-দুর্দশা মানবিক সংকট তৈরি করেছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করছি। বাংলাদেশের জন্য কষ্টকর হলেও এমন মানবিক সংকটে রোহিঙ্গাদের সাময়িক সময়ের জন্য সীমান্তবর্তী কুতুপালং ক্যাম্পের পাশে নতুন ক্যাম্প করে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব সব ধরনের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

 

তবে এ সংকটের সমাধান হয়ে যাবে এবং অতিদ্রুত মিয়ানমার তার নাগরিকদের ফেরত নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন এ মন্ত্রী।

 

মায়া বলেন, গত ২৫ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪ লাখ ২৪ হাজার। তবে তারা প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করায় এবং বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করায় প্রকৃত সংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে। এখন পর্যন্ত সম্পাদিত বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৭৫ জনের।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, ‘পুরোটা শেষ করতে ২ মাস লাগবে। দশটি পয়েন্টে নিবন্ধন কাজ হলেও আজ (২১ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার) থেকে তা বাড়িয়ে ৩০টি করা হয়েছে।’

 

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, ইউএনএইচসিআর, আইওএম, বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি, ইউএনএফপিএ, ইউনিসেফ, এসিএফসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। রোহিঙ্গাদের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

বিদেশিদের ত্রাণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি সংস্থা থেকে প্রায় ২৫০ মেট্রিক টন চাল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২০ টন আটাসহ অন্যান্য ত্রাণ সমগ্রী পাওয়া গেছে। ডব্লিউএফপি (বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি) আগামী ৪ মাস ৪ লাখ পরিবারকে খাবার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’

 

মন্ত্রী বলেন, ‘কুতুপালং এলাকায় প্রায় ২ হাজার একর জায়গায় ১৪ হাজার শেড নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে করা হচ্ছে। ত্রাণ বিতরণ সুষ্ঠু করতে ১৩টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিক্ষিপ্তভাবে কেউ যাতে ত্রাণ বিতরণ করতে না পারে সে জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

 

সব রোহিঙ্গাদের নির্মাণাধীন ক্যাম্পে নিয়ে আসার আগ পর্যন্ত খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ৮টি স্থানে প্রতিদিন এক বেলা রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা দিতে ৩৬টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর প্রতিদিন ১৪ হাজার ইউনিট খাবার পানি সরবরাহ করছে। একই সঙ্গে ১০০ টিউবওয়েল স্থাপন ও ৫০০ অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করছে।’

 

ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ১৩ জন সিনিয়র সহকারী সচিব ও ৮ জন উপ-সচিবের শরণার্থী কার্যক্রমের জন্য মাঠ পর্যায়ে ন্যস্ত করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।

 

সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

রাখাইনে রেড ক্রসের ত্রাণবহরে পেট্রোল বোমা

রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ত্রাণ পরিবহনে বাধা দিয়েছে শত শত বৌদ্ধ। রেড ক্রসের ওই ত্রাণবহরে ৫০ টন খাবার ছিল।

মিয়ানমার সরকারের উদ্ধৃতি দিয়ে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আট ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা লাঠি, রড নিয়ে আসে এবং ত্রাণবহর লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছুড়ে। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে সহিংসতায় চার লাখ ২০ হারের বেশি রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো অনেকে মিয়ানমারে ধরা পড়ার ভয় নিয়েই লুকিয়ে আছে। সাহায্যকর্মীরা জানায়, সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে লুকিয়ে থাকা এসব রোহিঙ্গাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার-পানীয় নেই।

ব্যর্থ প্রেমের শোকেই রোহিঙ্গা নির্যাতন সু চির!

রোহিঙ্গাদের ওপরে মিয়ানমানের শাসক অং সান সু চির ‘আক্রোশ’–এর কারণ কি পুরনো ভেঙে যাওয়া প্রেম?‌ এই জল্পনাই এখন উত্তাল পুরো বিশ্বে। কেউ কেউ দাবি করছেন, ১৯৬৪ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তারেক হায়দার নামে এক পাকিস্তানী ছাত্রের প্রেমে পড়েছিলেন সু চি।

কিন্তু পরিণতি পায়নি সেই প্রেম। তারপর থেকেই নাকি ইসলামবিদ্বেষী হয়ে পড়েন সু চি। ইংরেজি এবং পরিবেশবিদ্যা নিয়ে পড়ার ইচ্ছায় অক্সফোর্ডে এসেছিলেন সু চি। কিন্তু সুযোগ পাননি। অবশেষে ভর্তি হন দর্শন নিয়ে। সেখানে তাঁর আলাপ হয় তারেকের সঙ্গে। তিনি আবার তখন পাকিস্তানের কূটনীতিক। বিশেষ অনুমতি নিয়ে অক্সফোর্ডে পড়তে এসেছিলেন তারেক। সু চির মা–ও ছিলেন কূটনীতিক। তাই একই পেশার তারেকের প্রেমে পড়তে সু চির সময় লাগেনি।

সু চির জীবনীকার বিখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক পিটার পপহ্যাম–ও বলেছেন, ‘‌ সংস্কৃতিগতভাবে অনেক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সু চি  এবং তারেক গভীর প্রেমে পড়েছিলেন। ’‌  ১৯৬৫ সালে ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তারেককে খুশি করতে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীর কথা বলাও বন্ধ করেছিলেন। প্রেম নিয়ে সু কি এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে তৃতীয় বিভাগে কোনও রকমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন সু চি। অক্সফোর্ডের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে তারেক পাকিস্তানে ফিরে যান। সু চি চাইলেও নাকি তারেক তাঁকে বিয়ে করেননি। এরপরে শোকে বিমর্ষ হয়ে পড়েন সু চি। সেই সময় থেকেই নাকি তিনি ধীরে ধীরে মুসলিমবিদ্বেষী হয়ে ওঠেন। পপহ্যাম লিখেছেন, ‘‌সু চি প্রায় বছরখানেক বিরহে বিমর্ষ ছিলেন। এই সময়ে ইংল্যান্ডে সু চি–র পুরনো পারিবারিক বন্ধু স্যার পল গর বুথ ও মিসেস বুথের পুত্র ক্রিস্টোফার সু চি–র প্রয়াত স্বামী মাইকেল অ্যারিসের সঙ্গে সু চির পরিচয় করিয়ে দেন এবং ১৯৭২ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। ’‌
পপহ্যাম ‘দ্য লেডি অ্যান্ড পিক’–এ লিখেছেন, সু চি–র ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছুই না কি জটিলতায় পূর্ণ ও বৈপরীত্যে ভরা। তাই রোহিঙ্গা নির্যাতনের পিছনে সু চি–র ব্যর্থ প্রেমের কাহিনীকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে। আজকাল।

রোহিঙ্গাদের ত্রাণবাহী ট্রাক খাদে, নিহত ৯

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণবাহী ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নয়জন নিহত হন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে আটটার দিকে উপজেলার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ছাখদালা সীমান্ত চৌকির কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আটজন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রেড ক্রিসেন্টের জেলা সেক্রেটারি এ কে এন জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ট্রাকটি ছাখদালা সীমান্তের বড় শনখোলায় রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বিতরণের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিল। ত্রাণ কাজ পরিচালনার জন্য মালবাহী ট্রাকটিতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক ছিলেন। পথে ছাখদালা সীমান্ত চৌকির কাছে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। তখন ট্রাকটি রাস্তা থেকে উল্টে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নয় জন নিহত হন। এ ছাড়া আহত আটজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে নিহত ব্যক্তিদের লাশ এখনো রয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।

Scroll To Top