শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / কৃষি ও কৃষিজ

বিভাগ: কৃষি ও কৃষিজ

Feed Subscription

লাউ/কদু চাষ করে চমক

বর্ষায় শীতকালীন সবজি লাউ (কদু) চাষ করে চমক দেখিয়েছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার অনেক কৃষক। ব্রহ্মপুত্র নদসহ বিভিন্ন নদী, খাল, বিলের তীরবর্তী এলাকায় শীতকালীন এ সবজি ফলিয়ে অধিক লাভবান হচ্ছেন তারা। তাদের উৎপাদিত লাউ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা ও বিভাগীয় শহরে পাইকারিভাবে বিক্রি হচ্ছে। অনেক পাইকার নিজে এসে সরাসরি ক্ষেত থেকে লাউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলার উত্তর চরবসন্তির আজিজুল, মহাজ্জল, সিরাজুল, চাঁন মিয়া ও সুহেলের মতো অনেক চাষির ভাগ্য খুলে গেছে লাউ চাষে। তাদের সফলতায় অন্য এলাকার কৃষকরাও লাউ চাষে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
উত্তর চরবসন্তি গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম গত বছর ৫ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শীতলাউ চাষ করে লাভবান হয়েছিলেন। এ বছর বর্ষা মৌসুমে তিনি ৩৫ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ২ বছর আগে বর্ষাকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে শীতের সবজি লাউ বিক্রি করতে দেখে সিরাজ ওই জাতের লাউ চাষে আগ্রহী হন। তার আগ্রহের সফলতার অংশ হিসেবে তিনি বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ শুরু করেন। বাড়ির আঙ্গিনায় নার্সারিতে বীজ বপন করে চারা উৎপাদন করেছেন। ১৫ থেকে ১৬ দিনের চারা অন্যত্র তৈরি করা ৩৫ শতাংশ জমিতে মাচা পদ্ধতিতে চাষ করেছেন। বৈরী আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও দেড় মাসের মাথায় প্রতিটি গাছ ফুলেফলে ভরে ওঠে। তার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি লাউ দৈর্ঘ্যে দেড় থেকে আড়াই ফুট এবং ওজন ৩ কেজি থেকে ৫ কেজি হয়। অসময়ের এ সবজিতে ভালো দাম পাচ্ছেন সিরাজসহ অন্য কৃষকরা। লাউ চাষি মহাজ্জল জানান, প্রতিটি লাউ পাইকারি ২৫ থেকে ৪০ টাকা এবং খুচরা প্রতিটি ৪০ থেকে ৬০ টাকা করে বিক্রি করছেন তারা। স্থানীয় বাজারে নিজেরা বসে খুচরা বিক্রি করলেও  অধিকাংশ লাউ পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। পাইকাররা নিজে লাউ তুলে নিয়ে যান, কৃষকদের শুধু টাকা দিয়ে যান। ফলে চাষিদের কোনো জামেলা পোহাতে হয় না। অন্য এক চাষি সিরাজুল ইসলাম জানান, তার ৩০ শতাংশ জমির লাউ ক্ষেতে সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। দেড় মাস ধরে লাউ বিক্রি করছেন, তাতে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আরও দুই থেকে আড়াই মাসে অন্তত ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। সে হিসাবে ৩০ শতাংশ জমিতে ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে শীতলাউ ফলিয়ে ৪ থেকে ৫ মাসে লাখোপতি হওয়া সম্ভব।

গিনিপিগে লাখ পতি

গিনিপিগ খরগোশ ev Bu`yi জাতীয় ছোট্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী। ল্যাটিন ভাষায় ক্যাভিয়া পোর্সেলাস শব্দের অর্থ হচ্ছে ছোট্ট শূকরশাবক । অর্থাত খুব ছোট শুকর। কিন্তু গিনিপিগের সাথে শূকরছানার কোনও সম্পর্ক আদতে আছে বলে আমার জানা নেই। তবে গিনি পিকের মধ্যে একটি জাত আছে যেটা গায়ে লোম থাকে না শুধু সেই জাতটা কিছুটা শুকরের মত দেখতে । এমনকি এটি গিনি থেকেও উদ্ভূত নয় বলে বিভিন্ন গভেষকের ব্লক থেকে জেনেছি। পশু ও জৈবরসায়নবিদগণ বিস্তর গবেষণা করে দেখিয়েছেন যে, গিনিপিগের আদি বাসস্থান হচ্ছে আন্দেস পর্বতমালা । ক্যাভি প্রজাতির প্রাণীদের সঙ্গে সাথে এদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বনে এদের খুব একটা দেখা যায় না । গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে এদের পরিচিতি রয়েছে। মূলতঃ এ কারণেই গিনিপিগকে বন্য পরিবেশে দেখা যায় না।[

একটি ব্রগে পড়েছি যে জীববিজ্ঞানীগণ সপ্তদশ শতক থেকে গিনিপিগের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। ঊনবিংশ এবং বিংশ শতকেও আদর্শ প্রাণী হিসেবে এর উপর ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতে থাকে। পরবর্তীকালে ইঁদুরের উপরও পরীক্ষাকর্ম চালানো হয়। এখনও গিনিপিগের উপর ব্যাপকভাবে গবেষণা করা হয় যা মানব চিকিৎসার লক্ষ্যে ডায়াবেটিস, যক্ষা, স্কার্ভি ও গর্ভধারণ বিষয়ক জটিলতা নিরসন জনিত।

 

Mf© I cÖme:
‡g‡q wMwbwcM AvovB gvm Ges †Q‡j wMwbwcM 3 gv‡m cÖvß eq¯‹ nq| †g‡q wMwbwcM AvovB gv‡mi Av‡M Ges 9 gv‡mi c‡i cÖ_g Me©eZx n‡j gi‡bi fq †_‡K qvq| Me©eZx nIqvi 69 w`b c‡i ev”Pv cÖme nq |

G mgq gv‡K cÖPzi Lvevi I cv‡Î Rj w`‡Z nq| cÖ_gevi GK m‡½ 1-4 Ges wØZxh evi †_‡K 4 n‡Z10wU ch©šÍ ev”Pv n‡Z cv‡i | ‡c‡U hZ †ewk ev”Pv gv‡qi IRb ZZ ev‡i| ev”Pv Rb¥v‡bvi cieZx w`‡b Giv cybyivq Me©avib n‡Z cv‡e | ZvB ev”Pvi eqm 20/25 w`b bv nIqv ch©šÍ gv‡K ev”Pv mn Avjv`v ivL‡j ev”Pv givi fq _v‡K bv| cyiæl wMwbwcK n‡Z Avjv`v ivL‡Z n‡e| gv‡qi givi m¤^vebv _v‡K bv|

Lvevi : Nvm , cvZv, kmvi †Lvmv, †h †Kvb d‡ji †Lvmv , evav Kwc , Pv‡ji Ly iæP (Ly`) Kzov BZ¨vw`
GQviv †Qvjv wfRv , MvRi KvcwmKvg, gv‡m GKevi wbgcvZv ev D‡”Q cvZv w`‡j I`‡I ¯^v‡¯’I Rb¨ LyeB DcKvwi|

 

_vPv| LvPv eW n‡Z n‡e hv‡Z Giv jvdvjvwd Ki‡Z cv‡i|

প্রশ্ন: গিনিপিগ কোন রোগ বহন না?
àতীক্ষ্ণদন্ত প্রাণী এবং সরীসৃপ মানুষের সালমোনেলা রোগের
জন্য পরিচিত হয়। গিনিপিগ তাদের মল মাধ্যমে মানুষের
ব্যাকটেরিয়া প্রেরণ করতে পারেন. সালমোনেলা সাধারণত
গুরুতর নয় কিন্তু ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা এবং জ্বর হতে পারে।
গিনিপিগ অসুস্থ হতে পারে? হলে কি করবেন?
অসুস্থ গিনিপিগ অলস হয়, প্রায় সম্ভব সামান্য চলাফেরা করে. আপনার
স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় পোষা একটি দীর্ঘ সময় জন্য এক জায়গায় থাকে,
নিস্তেজ হয়, তাকে পশুচিকিত্সকের কাছে নিতে হবে। যখন গিনিপিগ
অসুস্থ হয়, তারা খুব দ্রুত সেরে যেতে পারেন, যাতে নিষ্কর্ষ সময় হল যদি
আপনি মনে করেন কিছু আপনার পোষায় ভুল হচ্ছে তবে আপনি নিজেই তা
পরিবর্তন করবেন। শুকনা খাবার দিবেন।

কখন ভিঁজা ঘাস দিবেন না

পদ্ম ফুলের চাষ

গ্রামবাংলার বুকে এখনও প্রচুর পুকুর দেখতে পাওয়া যায়। আর এই পুকুরে পদ্ম ফুল চাষ করে ভালো লাভ করা সম্ভব। বর্তমানে জয়নগরের হোগলা, সূর্যপুর এলাকার নয়ানজুলিতেও প্রচুর হারে পদ্ম ফুলের চাষ করা হচ্ছে। এরকম বিনা খরচে এই চাষ করা যেতে পারে। সামনে দুর্গাপুজো। এই সময় এই পদ্মফুলের প্রচুর দাম পাওয়া যায়। এমন কী চাহিদা মতো তা জোগান দেওয়া যায় না। তাছাড়া পুজোর সময়ে ফুল কম ফোটে। সে সময় প্রচণ্ড কুয়াশায় গাছ মারাও যায়। তাই পুজোর বেশ কয়েকদিন আগে পদ্ম ফুল তুলে হিমঘরে সংরক্ষণ করলে ভালো লাভ পাওয়া যায়।
কৃষিবিদদের মতে, যে কোনও পুকুর বা নয়নজুলিতে পদ্মফুল চাষ করা যায়। যে কোন পুকুরে বা নয়নজুলিতে দু’একটা গাছের মূল ফেলে দিলেই পুকুরে নয়ানজুলি পদ্মে ঢেকে যাবে। তবে বড় আকারের পদ্মফুল পেতে হলে পুকুর বা নয়নজুলি পরিষ্কার রাখতে হবে। শুধু পদ্মফুল নয়, পদ্মপাতাও বিক্রি করে লাভ করতে পারেন চাষিরা। পুজোর সময় ভালো আয়ের দিশা দেখাতে পারে এই পদ্মফুল চাষ।

রামবুটান ফলের চাষ করে সফলতা

নেত্রকোনায় রামবুটান ফলের চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন কৃষক উসমান গনি (৬৩)। তিনি বহু দিন আগে বিদেশ থেকে ফেরার পথে সঙ্গে করে এই ফল নিয়ে আসেন। তা থেকে চারা করে দুটি গাছ থেকে বছরে দেড় লাখ টাকার ওপরে ফল বিক্রি করছেন। এ ছাড়া ছোট চারাও বিক্রি করে আরও পাচ্ছেন প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

এই রামবুটানের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার কয়েক ইউনিয়নজুড়ে। তাঁর বাড়িটিকে এখন রামবুটানের বাড়ি বলেই সবাই চেনে। উসমান গনির বাগানে এই ফল ছাড়াও ডুরিয়ান, পিস ফল, লঙ্গাম, মাংগোস্টিন, টিসা ফল, জাবটিকাবা, অস্ট্রেলিয়ান আপেল, স্টার আপেল, ড্রাগন ফল, টক ও মিষ্টি করমচা, মিষ্টি তেঁতুলসহ দেশ-বিদেশের আরও শতাধিক ফল, বিভিন্ন জাতের গোলাপ, উন্নত জাতের রঙ্গনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। তবে তাঁর প্রধান আয়ের উৎস রামবুটান ফল। পেশায় তিনি পল্লি চিকিৎসক। গ্রামের বাজারে তাঁর একটি ছোট ওষুধের দোকান আছে।

কলমাকান্দা বাজার থেকে হরিপুরে উসমান গনির বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আধা পাকা দুটি ও টিনশেড দুটি ঘর নিয়ে ছিমছাম বাড়ি। সামনে বিভিন্ন ফল ও ফুলের বাগান। পাশে একটি ছোট পুকুর।

কাজের সন্ধানে ১৯৯২ সালের জুন মাসে মালয়েশিয়ায় যান উসমান গনি। ১৩ মাস পর শ্রমিকের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন। আসার পথে অন্য জিনিসের সঙ্গে ৪ রিঙ্গিত কেজি (বাংলাদেশে ৬০ টাকা) দরে দুই কেজি রামবুটান ফল আনেন। আপনজনদের বিলিয়ে শেষে ওই ফলের ১০টি বীজ বাড়ির আঙিনায় মাটিতে পুঁতে রাখলে তা থেকে জন্ম নেওয়া চারটি চারার মধ্যে একটি টিকে যায়। ছয় বছর পর গাছে ফুল আসে। বর্তমানে এই একটি গাছ থেকে বহু গাছ হয়েছে। তবে ফল পাচ্ছেন দুটি গাছ থেকে। বছরে অন্তত ৪৫০ কেজি ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি কেজি ফল তিনি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। আর একটি চারা গাছ ১ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। প্রতিবছর চারা উৎপাদন আর ফল বিক্রি করে প্রায় ২ লাখ টাকার ওপরে পান তিনি। ছেলে আমিনুল হক বাবার কাজে সহযোগিতা করেন আর ওষুধের দোকানটি চালান। আষাঢ়ের মাঝামাঝি থেকে শ্রাবণের শেষ পর্যন্ত গাছে ফল থাকে। উসমানের এই সাফল্যের কথা এখন ছড়িয়ে গেছে দূর-দূরান্তে।

নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছ বলেন, ‘শুধু আমাদের ইউনিয়ন নয়, পাশের কয়েকটি ইউনিয়নে রামবুটানের বাড়ি যাব বললেই উসমান গনির বাড়ির পথ চিনিয়ে দেবে। তিনি একজন সফল চাষি। নিজে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদেরও রামবুটান চাষে উৎসাহিত করছেন।’

রামবুটান ফলটি লিচু পরিবারের। আদি নিবাস মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। ফলটির খোসা হালকা চুলের মতো আবরণে ঢাকা। মালয় ভাষায় ‘রামবুট’ শব্দের অর্থ চুল।

তাই অনেকে একে হেয়ারি লিচু, কেউ কেউ ফলের রানিও বলেন। এই ফল চাষের জন্য বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুকূল।

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘রামবুটান দেখতে অনেকটা আমাদের দেশীয় কদম ফুলের মতো। কাঁচা অবস্থায় এই বিদেশি ফলটি সবুজ বর্ণের হলেও পাকার পর টকটকে লাল রং ধারণ করে। ফলটির ভেতরে লিচুর মতো শাঁস থাকে। খেতে খুব সুস্বাদু ও মুখরোচক। রয়েছে ঔষধি ও পুষ্টিগুণ।’

মহিলা কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাব

দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক পুরুষ, অর্ধেক নারী। নারীদের মধ্যে যারা গ্রামে বসবাস করেন তাদের অধিকাংশের সময় কাটে ঘর গৃহস্থালি নিয়ে। সেসব নারীকে কৃষিতে সম্পৃক্ত করতে কুষ্টিয়ায় কাজ করছে মহিলা কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাব। এরই মধ্যে মিলেছে সুফল। প্রায় তিন হাজার নারী ক্লাবের সদস্য হয়ে বাড়িতে গড়েছেন নিরাপদ ফল ও সবজি খামার। উৎপাদিত সবজি ও ফল বিক্রি করে হয়েছেন স্বাবলম্বী।

খাদিজা খাতুন, বাড়ির আঙ্গিনায় ব্যস্ত বীজে জীবাণু সার মেশাতে। সাথে সহযোগিতা করছেন স্বামী নুর আলম। জানালেন, জীবাণু সার মেশানোর ফলে আবাদকালীন সময়ে জমিতে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। খাদিজা জীবাণু সারের ব্যবহার শিখেছেন মহিলা কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাব থেকে। নিজে শিখে থেমে থাকেননি, শিখিয়েছেন স্বামীকেও।

শুধু খাদিজা নন, তার মতো প্রায় তিন হাজার নারী দেশের প্রথম মহিলা কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাবের সদস্য হয়ে হাতে-কলমে শিখছেন কৃষির আদ্যোপান্ত। বাড়ির আঙিনায় চাষ করছেন সবজি, ফলমূলসহ নানা জাতের ফসল। গড়ছেন কৃষি খামার। কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করছেন ভার্মি কম্পোস্ট ও জৈব কীটনাশক। উৎপাদিত শতভাগ নিরাপদ সবজি ও ফল নিজেদের পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করছেন বাজারে। হয়ে উঠছেন স্বাবলম্বী।

কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাবের সদস্য শিল্পী খাতুন ঢাকাটাইমসকে বলেন, তাদের উৎপাদিত সবজি বা ফলে কোনো রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। মাটির ঊর্বরতা রক্ষায় জৈব সার আর পোকা মাকড় দমনে বালাই নাশক ব্যবস্থা নেয়া হয়।

কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাবের আরেক সদস্য হালিমা খাতুন ঢাকাটাইমসকে জানান, সংসারের চাহিদা মিটিয়ে এ মৌসুমে তিনি দুই হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। সেই টাকা দিয়ে সংসারের খুঁটিনাটি জিনিসপাতি কিনেছেন, মাঝে মাঝে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দেন।

বছরখানেক আগে কুমারখালীর সাঁওতা, পাইকপাড়া, ইছাখালী, কাঞ্চনপুর, শিংদহ ও শ্যামপুর গ্রামে হাতেগোনা কয়েকজন নারীকে নিয়ে এ ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। এখন সদস্য তিন হাজার ছুঁইছুঁই। তারা সপ্তাহে দুইদিন বসতবাড়ির আঙিনায় চাষাবাদ পদ্ধতি, জৈব সার তৈরিসহ কৃষির খুঁটিনাটি শিখছেন।

মহিলা কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাবের উদ্বভাবক ও কুমারখালীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বকুল হোসেন ঢাকাটাইমসকে জানান, নারী কৃষিপ্রযুক্তি বদলে দিয়েছে গ্রামের নারীদের জীবনযাত্রা, তারা হয়ে উঠছে আত্মনির্ভরশীল। এ পদ্ধতি সারা দেশে চালু হলে কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন এই কৃষিবিদ।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শাহাবুদ্দিন ঢাকাটাইমসকে জানান, মহিলা কৃষিপ্রযুক্তি ক্লাব এর উদ্যোগে কুমারখালীর ছয় গ্রামে খামারজাত সার ও ভার্মি কমপোস্ট সার তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়িতে সবজি খামার, অন্যান্য ফল গাছের পাশাপাশি কলা, পেঁপে ও সফেদা গাছ লাগানো হয়েছে।

আগাম শিম চাষ

আগাম শিম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। ফলে স্থানীয় চাষিরা অন্যান্য সবজির পাশাপাশি গুরুত্ব সহকারে শিম চাষে মনোনিবেশ করেছেন।

 

চৌগাছা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রুপভান ও ইফশা দুটি জাতের শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪’শ হেক্টর জমি। গত বছর শিম চাষে কৃষক লাভবান হওয়ায় চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জিত হয়েছে ৪৭০ হেক্টর।

 

চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী, মান্দারতলা গ্রামের শুকুর আলী ও খড়িঞ্চা গ্রামের হায়দার আলী জানিয়েছেন, শিম শীতকালীন ফসল হলেও এলাকার কৃষক গত বৃষ্টিতে সবজিসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ঝুঁকি নিয়ে আগাম শিম চাষ শুরু করেছে। এখানকার চাষিরা প্রথমে নিজেদের অভিজ্ঞতায় শিম চাষ শুরু করে। পরবর্তীতে কৃষি অফিসের লোকজনের পরামর্শে শিম অত্যন্ত লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। প্রথমদিকে এক কেজি শিম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমান ৫৫/৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

উপজেলার হিজলি গ্রামের শিম চাষি জুলফিকার আলী জানান, এক বিঘা জমি শিম চাষ করতে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। মৌসুমে এক বিঘা জমিতে শিম উত্পাদন হয় ৪০ থেকে ৪৫ মণ। ভরা মৌসুমে গড় ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলে খরচ বাদে এক বিঘা জমিতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করা সম্ভব। বিশেষ করে উপজেলার হাজরাখানা, খড়িঞ্চা, পেটভরা, হিজলি, চাঁদপাড়া. বুন্দেলীতলা, বাদেখানপুর, বড়খানপুর, হোগলডাঙ্গা, সিংহঝুলি, জগদীশপুর, মির্জাপুর, ইছাপুর, কান্দি, আড়কান্দি, আন্দারকোঠা ও পাতিবিলা গ্রামে ব্যাপকভাবে শিম চাষ করছে চাষিরা।

 

চৌগাছা কৃষি অফিসার সহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, এখানকার উত্পাদিত শিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলাসহ ঢাকা সরবরাহ হচ্ছে। এছাড়া শিম চাষ শেষে একই জমিতে আলুর চাষ করতে পারছে চাষিরা। এতে জমির ব্যবহার বাড়ছে এবং চাষিরা লাভবান হওয়ায় আগাম শিম চাষে ঝুঁকে পড়েছে।

কলা চাষে অন্য ফসলের তুলনায় বেশি লাভ

উর্বর মাটি আর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কয়েক বছর ধরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কলার বাম্পার ফলন হচ্ছে। অন্য ফসলের তুলনায় বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন কলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন এখানকার কৃষক। এবার রেকর্ড পরিমাণ ১৫০ একর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান হয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্র্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বালিয়াকান্দির নবাবপুর, নারুয়া, বহরপুর, ইসলামপুর, জামালপুর, জঙ্গল ও সদর ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হচ্ছে। প্রতি একরে ১ হাজার ২০০ চারা রোপণ করা যায়। চারা রোপণের ৯ থেকে ১১ মাসের মধ্যে কলা বিক্রির উপযোগী হয়। পরিচর্যা ও কীটনাশক বাবদ একর প্রতি খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। আর আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে তা বিক্রি হয় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। একবার কলার চারা রোপণ করলে কমপক্ষে ৫ বার ফলন পাওয়া যায়।
পাইককান্দি গ্রামের কলা চাষি আকমাল হোসেন জানান, কলা চাষে খরচ কম এবং অধিক লাভ হওয়ায় আমরা কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছি। গেল বছর ৩০০ কলাগাছ রোপণ করেছিলাম। খরচ বাদে প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। আশা করছি চলতি মৌসুমে ৫০ শতাংশ জমিতে কলার আবাদ করব। ভিমনগর গ্রামের কলা চাষি হাসিব মোল্যা জানান, শুধু দুইবার সার ও একবার সেচ দিলেই কলার ফলন পাওয়া যায়। তাই এ এলাকায় কলার চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পাইককান্দি গ্রামের কলা চাষি কালাম মিয়া জানান, তিনি কলার বাগান করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এক সময় তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। পরে স্থানীয় এক চাষির পরামর্শে কলা চাষ শুরু করেন তিনি। তারপর থেকেই তার অবস্থা বদলাতে থাকে। এখন থেকে প্রায় ২ একর জমিতে কলা চাষ করছেন। এখন তিনি বেশ সুখেই আছেন। নবাবপুর পদমদী বাজারে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কৃষক ক্ষেত থেকে কলা কেটে এনে জড়ো করছেন রাস্তায়। সেখান থেকেই বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এসে কলা কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন। পাইকারি কলা ব্যবসায়ী আসলাম মোল্যা জানান, এ অঞ্চলের কলার খুব চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া এ উপজেলায় কলার দামও বেশ হাতের নাগালে। তাই আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে কলা কিনতে আসি। এখান থেকে কলা ক্রয় করে ঢাকার কারওয়ানবাজারে বিক্রি করি। এতে আমাদের লাভ বেশি হয়। এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, এ অঞ্চলের    কলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে। এ এলাকার মাটি ও আবহাওয়া কলা চাষের উপযোগী। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষক কলা চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা ও উৎসাহিত করা হচ্ছে।

কৃষকদের জন্য গ্রামে বসছে এটিএম বুথ

টাকা ওঠাতে কৃষকদের বিড়ম্বনা কমাতে এবার গ্রামে এটিএম বুথ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক লেনদেন সহজতর করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন রাকাব চেয়ারম্যান মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শুধু কৃষকদের স্বার্থ চিন্তা করে গ্রামে কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথ বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যেই প্রান্তিক কৃষকরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বাড়ির পাশের এটিএম বুথ থেকে অনায়াসে টাকা তুলতে পারবেন। এ জন্য এরই মধ্যে এটিএম প্রযুক্তি স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এই সেবা বাস্তবায়িত হবে।
রাকাব চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষের কাছে রাকাব যেভাবে পৌঁছে গেছে, তা অন্য কোনো ব্যাংক পারেনি। ব্যাংকের ৩৭৯টি শাখার ৮০ ভাগই ইউনিয়ন পর্যায়ে একেবারে গ্রামের ভেতরে। আর তাদের গ্রাহকদের প্রায় সবাই প্রান্তিক কৃষক। তাই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে এবং কৃষকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে গ্রামে এটিএম বুথ বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে রাকাবের সব শাখাকে কম্পিউটারাইজ করা হয়েছে। অনলাইন ব্যাংকিংও চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য সব শাখায় জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন এটিএম বুথ বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর কৃষক তার পাওয়া সরকারি সব ভর্তুকির টাকাও এটিএম বুথ থেকে তুলতে পারবেন।

টবে ক্যাপসিকাম

ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ সারা বিশ্বেই একটি জনপ্রিয় সবজি। বাংলাদেশে খুব একটা পরিচিত না হলেও সম্প্রতি এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। প্রসারিত হচ্ছে মিষ্টি মরিচের চাষ। জমি ছাড়া মিষ্টি মরিচ চাষ করা যাবে না এমন নয়। বাড়ির ছাদে বা বারান্দার টবে মিষ্টি মরিচের চাষ করে নিজের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব।
জাত
আমাদের দেশে ইয়োলো ওয়ান্ডার্স, ক্যালিফোর্নিয়া ওয়ান্ডার্স ইত্যাদি জাতের মরিচ চাষ করতে দেখা যায়।
মাটি ও জলবায়ু
বেলে দোআঁশ বা দোআঁশ মাটি মিষ্টি মরিচ চাষের জন্য ভালো। মিষ্টি মরিচ গাছের সহ্যশক্তি কম থাকায় মাটি ঝুরঝুর করে ব্যবহার করা উচিত। মিষ্টি মরিচের গাছ গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত সব মৌসুমে চাষ করা যায়।
চারা রোপণ ও সার প্রয়োগ
টবে গাছ লাগানো ক্ষেত্রে উপযুক্ত মাটি ও ৩০-৪০দিন বয়সের চারা প্রয়োজন। যে কোনো সাইজের টবে এই গাছ রোপণ করা যায়। তবে একটি টবে একটি গাছ রোপণ করাই উত্তম। মাটি বাছাই করা হলে তার সঙ্গে ১/৩ অংশ গোবর, ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম এবং জিংক অক্সাইড ভালো করে মেশানোর পর টবে প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণের পর ইউরিয়া ও এমওপি দু’ভাগে ২০ ও ৩০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে। সূর্যের তাপে চারা রোপণ করলে চারার ক্ষতি হয়। তাই বিকালে চারা রোপণ করাই ভালো।
পরিচর্যা
গাছের গোড়ায় আগাছা জন্মাতে দেয়া যাবে না। আগাছা দেখলেই নিড়ানি দিয়ে ফেলে দিতে হবে। মিষ্টি মরিচ গাছের সহ্যশক্তি কম থাকায় খরা বা জলাবদ্ধতা কোনোটাই সহ্য করতে পারে না। তাই প্রয়োজন মতো পানি দিতে হবে এবং জলাবদ্ধতা রোধে সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থা করতে হবে। গাছ হেলে পড়া রোধে খুঁটির ব্যবস্থা করতে হবে।
বালাই ব্যবস্থাপনা
মিষ্টি মরিচ গাছে সাধারণত কিছু পোকামাকড়, ছত্রাক ও ভাইরাসজনিত রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। পোকার মধ্যে জাবপোকা, এফিড, থ্রিপস, লালমাকড় ও মাইট আক্রমণ করে। ছত্রাকজনিত সাধারণত এনথ্রাকনোজ, উইল্কল্ট রোগে আক্রান্ত হয়। ভাইরাসজনিত রোগে পাতায় হলদে দাগ পড়ে এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। এ রোগে গাছ তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলা বা পুড়িয়ে ফেলা ছাড়া উপায় নেই। ভাইরাসজনিত রোগের জন্য তেমন কোনো কীটনাশক পাওয়া যায় না। এছাড়া পোকা বা ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ হলে কৃষিকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
ফসল সংগ্রহ
মিষ্টি মরিচ সাধারণত সবুজ অবস্থায় খাওয়া হয়। তাই মরিচের রঙ লালচে হওয়ার আগে পরিপক্ক সবুজ অবস্থা সংগ্রহ করতে হবে। সপ্তাহে একবার মরিচ সংগ্রহই উত্তম।

বারি বিটি জাতের বেগুন চাষে সফলতা

বিষমুক্ত বারি বিটি জাতের বেগুন চাষে সফলতা পেয়েছে চাষিরা। ফলন ভালো এবং কীটনাশক না লাগায় বারি বিটি জাতের বেগুন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন তারা।

প্রচলিত বেগুন চাষে ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা দমনে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় চাষিদের। কীটনাশক প্রয়োগের কারণে কৃষকদের শারীরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশেরও ভারসাম্য নষ্ট হয়। কিন্তু জিন প্রকৌশল পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত বারি বিটি জাতের বেগুন ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ প্রতিরোধী হওয়ায় কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না।

এই মৌসুমে নরসিংদীতে বারি বিটি জাতের বেগুন চাষে সফলতা পেয়েছে চাষিরা। গবেষণাগারে পরীক্ষার পর মাঠ পর্যায়ে দেশে এই প্রথম এ জাতের আবাদ শুরু হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় ও কীটনাশকের খরচ না হওয়ায় বারি বিটি জাতের বেগুন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা।

নরসিংদীর শিবপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে উপজেলার চারটি প্লটে বারি বিটি জাতের বেগুনের আবাদ করেছে চাষিরা। প্লটগুলোতে বারি বিটি বেগুন-৩ নয়নতারা ও বারি বিটি বেগুন-৪ কাজলা আবাদ করা হয়।

বৈলাব গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম মিয়া ১০ শতাংশ জমিতে বারি বিটি জাতের বেগুন চাষ করেছেন। জমিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে গাছে ঝুলছে বেগুন। গাছের সরু ডালে বেশি বেগুন ধরায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে গাছগুলোকে বেঁধে রাখা হয়েছে।

কৃষক ইব্রাহিম জানান, তিন বছর ধরে তিনি বেগুন চাষ করছেন। অন্যান্য বছর ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা এবং সাদা পোকার জন্য সপ্তাহে পাঁচ দিন কীটনাশক প্রয়োগ করতেন। এ বছর বারি বিটি জাতের বেগুন চাষ করার পর ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকার জন্য কোনো কীটনাশকের প্রয়োজন হয়নি। এমনকি সাদা পোকা দমনে মাত্র তিনবার কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন।

তিনি বলেন, `গত বছর বেগুন চাষ কইর্যা বিষের পিছনে লাইগ্যা থাকতে হইছে কিন্তু এবার জমিতে বিষ না লাগায় সময় বেঁচেছে। তিন মাসে জমি থেকে প্রায় ৮০ মণ বেগুন ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করছি। আশা করছি সব মিলাইয়্যা পুরো মৌসুমে ৬০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হবে।`

এদিকে ফলন ভালো হওয়ায় ও কীটনাশকের খরচ বাঁচায় বারি বিটি জাতের বেগুন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে স্থানীয় কৃষকরা। কৃষক কাদির মিয়া বলেন, গত বছর এককানি জমিতে বেগুন চাষ করে শুধু বিষই দিয়েছি ৭০ হাজার টাকার। তাই তেমন লাভ না হওয়ায় এ বছর বেগুন চাষ করিনি। বিষের টাকা বাঁচাতে আগামী বছর বারি বিটি বেগুনের আবাদ করবেন বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, বেগুন চাষে ৩০ থেকে ৭০ ভাগ ক্ষতি হয় শুধু ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার কারণে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকা দমন না হওয়ায় কৃষকরা আশানুরূপ ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০০৫ সালে আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় বিটি বেগুন আবিষ্কার করেন, যা ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ প্রতিরোধী। ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা বেগুন গাছে ও ফলে আক্রমণ করলে পোকার শ্বাসনালি আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তবে এই সবজি মানবদেহের ক্ষতি করে না, যা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষায়ও প্রমাণিত হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিবপুর সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর গবেষণার পর জিন প্রকৌশল পদ্ধতির মাধ্যমে এ পর্যন্ত বিটি বেগুনের চারটি জাত অবমুক্ত করা হয়েছে। আরো পাঁচটি অবমুক্তের অপেক্ষায়। ইতিমধ্যে কৃষকরা বারি বিটি জাতের বেগুন চাষে সফলতা পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ জাতের বেগুন চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

Scroll To Top