শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / কৃষি ও কৃষিজ

বিভাগ: কৃষি ও কৃষিজ

Feed Subscription

ঝালকাঠিতে কৃষক হত্যা: ৩ জনের ফাঁসি

ঝালকাঠির নলছিটিতে কৃষক মুনছুর আলী খান হত্যা মামলায় তিনজনকে ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ বজলুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নলছিটি পৌর এলাকার নাঙ্গুলী গ্রামের জামাল খান, খলিলুর রহমান ও সোহরাব হোসেন।

এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নাঙ্গুলী গ্রামের রুস্তুম খান ও জাকির হোসেনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২০০০ সালের ২২ অক্টোবর রাত দুইটার দিকে ঝালকাঠির নলছিটি পৌর এলাকার নাঙ্গুলী গ্রামের কৃষক মুনছুর আলী খানের বাড়িতে হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা।

এ সময় তারা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে কৃষক মুনছুর আলী খানকে গলাকেটে হত্যা করে। পাশাপাশি মুনছুর আলীর ছেলে আবদুল মজিদ খান ও মেয়ে নিলুফা বেগমকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।

ঘটনার পর দিন নিহতের ছেলে আবদুল মজিদ খান বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে নলছিটি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সিআইডির পরিদর্শক আবুল খায়ের মামলাটি তদন্ত করে ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এরপর ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট আদালত ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। আদালত ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এ রায় ঘোষণা করলেন। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

টমেটো পাহারা দিতে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী

ভারতের মধ্যপ্রদেশে টমেটো পাহারা দেওয়ার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী। কাঁধে বন্দুক নিয়ে টমেটো পাহারা দিচ্ছেন তারা। কেউ যেন টমেটো চুরি করতে না পারে সেজন্যই অদ্ভুত এই ব্যবস্থাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, মধ্যপ্রদেশে এ বছর টমেটোর বাম্পার ফলন হলেও টমেটোর মৌসুম এখন নয়। সেই সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কয়েকটি এলাকায় ফসলের উৎপাদন কম হওয়ায় শাক-সবজি ও ফলমূলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টমেটোর দামও অনেক বেশি বেড়ে গেছে। কিন্তু এখন টমেটো চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় ভারতের অনেক জায়গাতেই এর দাম বেড়ে গেছে দ্বিগুণেরও বেশি। আগে যেখানে প্রতি কেজি টমেটোর দাম ছিল ৩০ থেকে ৪০ রুপি, এখন সেখানে প্রতি কেজি টমেটোর দাম ধরা হচ্ছে প্রায় ১০০ রুপি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তাদের প্রতিবেদনে বলছে এই দামে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষেরা।

এরপর থেকে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় টমেটো চুরি হবার খবর পাওয়া গেছে। চলতি মাসেই হাজার হাজার মূল্যের কয়েক টন টমেটো চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। আর তাই টমেটো পাহারা দেওয়ার জন্য নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের প্রয়োজন মনে করেছে কর্তৃপক্ষ।

মধ্যপ্রদেশের দেবি আহিল্য বাই হোলকার মার্কেটের কর্তৃপক্ষ ছয়-সাতজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ দিয়েছে টমেটো পাহারা দেয়ার জন্য। বিশেষ করে ট্রাক থেকে যখন সেগুলো নামানো হয় তখন যেন সেসব কেউ চুরি না করতে পারে সেদিকেই দৃষ্টি রাখছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র বিবিসি

অধিক লাভের জন্য টার্কি পালন

বেকারত্ব নিরসনে নতুন দিক উন্মোচন করতে যাচ্ছে টার্কি পালন। যেখানে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার  ৪৬% সেখানে অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করেই এক বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ লাভের মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা। বাংলাদেশে টার্কি পালন নতুন হলেও অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে ব্যাপক হারে পালন করা হচ্ছে টার্কি। নতুন জন্ম নেয়া বাচ্চা কম সময়ের মধ্যে লালন পালন করেই মাত্র তিন মাসের মাথায় টার্কিগুলো দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে বেশ ভালো মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা।

অংশীদারির ভিত্তিতে ২০১৬ সালের মে মাসে রাজধানীর দক্ষিণ মাণ্ডা এলাকায় ১৩৩টি টার্কি মুরগি নিয়ে খামার গড়ে তুলেন সেলিম মিয়া। খামারের নাম দেন কাঁশবন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড। সেলিমের পাশাপাশি আছেন আরও তিনজন অংশীদার। জমি নির্ধারণ, টার্কি বাচ্চা কেনাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সর্বমোট বিনিয়োগ করছেন প্রায় ৮০ লাখ টাকা। তিলে তিলে গড়ে উঠা এই খামারে এখন টার্কি মুরগির সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর সপ্তাহজুড়ে বিক্রি করা হচ্ছে টার্কি।

কথা হয় কাঁশবন অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. আকরাম হোসেনের সাথে। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা গত বছর ভারত থেকে মাত্র ১৩৩টি টার্কি মুরগি নিয়ে টার্কি খামার গড়ে তুলি। এরপর এই বাচ্চার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫০টি। তবে এখন পর্যন্ত ফার্মের মুরগির মতো একসঙ্গে দুই হাজার বা তার থেকেও বেশি বাচ্চা ফুটানোর মতো অবস্থা হয়নি টার্কির। আমি মনে করি টার্কি এখনো রাজখানার মধ্যে আছে। এটি এমন একটি মুরগি এটি কখনো ব্রয়লার কিংবা লেয়ার মুরগির মতো হবে না। তবে টার্কি যদি নিচের লেয়ারেও আসে তা একটা মানের মধ্যে থাকবে।’

টার্কির দরদাম

দামের ব্যাপারে আকরাম হোসেন  বলেন, ‘আমরা যখন গত বছর কিনে এনেছিলাম তখন এর আরও অনেক দাম ছিল। তবে এখন খামারের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে এর দাম কিছুটা হলেও কমছে। তবে এই মুহূর্তে দাম কিছুটা বেশি। বছরে বেশ কয়েকবার এর দাম উঠানামা করে। এটি মূলত হয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী। এখন ১৫ দিন বয়সের একজোড়া্ টার্কির দাম এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। ৩০ দিনের বাচ্চার দাম তিন হাজার টাকা জোড়া। সাড়ে তিন মাস বয়সী জোড়া প্রতি টার্কি এখন পর্যন্ত নয় হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। তবে এখন পূর্ণ বয়স্ক এক জোড়া টার্কি বিক্রি হচ্ছে ১৪ হাজার টাকায়। আর যেগুলো এখন ডিম পাড়ছে তাদের একটির দামই এখন ১০ হাজার টাকা।’

এই টার্কি তিনি রাজধানীর বিভিন্ন চেইনশপ যেমন স্বপ্ন, অ্যাগোরা ও মিনা বাজারে বিক্রি করে দেন। সেখানে পূর্ণবয়স্ক প্রতি জোড়া টার্কি বিক্রি হয় ১৫ হাজার টাকারও বেশি দামে। সেখানে প্রতি টার্কির ওজন হয় সাড়ে ছয় থেকে সাড়ে আট কেজি পর্যন্ত। সেখানে প্রতিকেজি টার্কির মাংস পাওয়া যায় মানভেদে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়।’ তবে চাহিদার বাড়ার পাশাপাশি যোগান কম থাকায় চাইলেও বেশি টার্কি সরবরাহ করতে পারছেন না তারা।

টার্কির খাবার

খাদ্যের ব্যাপারে খামারের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বরত আশরাফ হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘যেসব টার্কির বয়স ৪০ দিনের উপরে, তাদেরকে আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন শাক সবজি খাওয়ানো শুরু করি। এই খাদ্যের তালিকায় থাকে কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক আমাদের তালিকায় থাকে। এই শাক সবজি খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও আমরা মান রক্ষা করি। একটি নির্দিষ্ট কোয়ালিটি ছাড়া আমরা আমরা টার্কিকে কিছুই খাওয়াই না। ফলে খাদ্যে কোয়ালিটি থাকায় আমাদের খামারের টার্কিগুলোতে রোগ আঘাত আনতে পারে না। টার্কির যাতে রোগ বালাই আঘাত না করতে পারে সেই জন্য আমরা আড়াই মাস বয়সী টার্কিকে চারটি ভ্যাকসিন দিয়ে থাকি।’

‘আমাদের খামারে ঢুকতে হলে প্রত্যেকের ডেটল স্যাভলন দিয়ে রোগ জীবাণু মুক্ত হয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। পরতে হবে খামারের রোগ জীবাণুমুক্ত নিজস্ব জুতা। তবে টার্কির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য মুরগির চাইতে অনেক বেশি। দেখা যায়, বার্ড ফ্লু আঘাত হানলেই মুরগি সব মারা যায়। কিন্তু টার্কির কিছু হয় না। আমাদের দেশে অন্যান্য মহামারি রোগ যেমন রাণিক্ষেত হলে দেশের সব হাস মুরগি মারা যায়। কিন্তু টার্কির প্রতিরোধ ক্ষমতা এত বেশি যে এদের জ্বর-ঠান্ডা ছাড়া আর কোনো রোগ আক্রান্ত করতে পারে না।’

টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি

অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় টার্কির উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি। প্রতি ২০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম পাড়া শুরু করে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ১০০টি ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া শুরু করে। এই ব্যাপারে ব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে সাধারণত ২৬ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কিগুলো ডিম দেয়া শুরু করে। প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকায় বছরে একেকটি টার্কি ৯০টিরও বেশি ডিম দিয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ টার্কি বিকাল থেকে সন্ধ্যায় ডিম দেয়।’

আকরাম জানান, তার খামারে প্রায় সব জাতের টার্কি রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ব্ল্যাক, রাঙ্গিন সেট, স্লেট, ব্রোঞ্জ, রয়েল পাম্প ইত্যাদি। এর মধ্যে রয়েল পাম্পের দাম সবচেয়ে বেশি। যা বিক্রি হচ্ছে জোড়াপ্রতি ২০ হাজার টাকা। এগুলো আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে।

বাসায় পালনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপক জানান, ‘টার্কি এখনো ঘরে পালার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বাসার বাইরে কিংবা ছাদে পালনের ক্ষেত্রে প্রথমে একটি শেড বানাতে হবে। শেডের ভেতরে নরম ফোম দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে এদের আদি জন্ম থাকায় এরা সহজে গরম সহ্য করতে পারে না। তাই ফোম দিলে গরম কিছুটা কম লাগবে। আর যে কাজটি বেশি গুরত্বের সাহায্যে করতে হবে তা হলো জীবাণুমুক্ত রাখা। এর পাশাপাশি খাদ্যের জন্য রাখতে হবে কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক। আর বাৎসরিকভাবে রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রথম আড়াই মাসে চারটি ভ্যাকসিন দিয়ে রাখতে হবে। ভ্যাকসিন না দিলেও এর রোগ বালাই সহজে আক্রান্ত করতে পারে না। অর্থাৎ এই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করলেই বাসার বাইরে কিংবা ছাদে সহজেই টার্কি পালন করা যাবে।

বেকারত্ব ঘোচাতে টার্কি পালন

এই ব্যবসায় আসার ব্যাপারে খামারের একাংশের মালিক সেলিম মিয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমার এই খামারের ব্যবসার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি ব্যবসা রয়েছে। মূলত এই ব্যবসায় আসার পেছনে আমার শখ সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে। আর যখন শুনতে পারলাম টার্কি পালনে অন্যান্য হাস মুরগি পালনের মতো কোনো ঝামেলা নেই তখন এই ব্যবসায় করার প্রতি আমার আগ্রহ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। আর এই ব্যবসায় অনেক মুনাফা পাওয়া যায়। পূর্ণবয়সী একটা টার্কি আমাদের খামার থেকে বিক্রি হয় গড়ে আট হাজার টাকায়। যা আমাদের কেনা পড়েছিল মাত্র বারো’শ টাকা জোড়ায়। আর এগুলো খুব বাড়ন্ত স্বভাবের।

তিনি বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি দুই একটি কথা বলতে চাই। আপনারা অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করে এই টার্কি ব্যবসা গড়ে তুলুন। কারণ এইগুলোর রোগ, খাদ্য, বাসস্থানের জন্য বেশি অর্থ খাটানোর প্রয়োজন পড়ে না। অল্প কিছু জায়গায় টার্কি খামার দিলে আপনি বছর শেষে কয়েকগুণ বেশি লাভ করতে পারবেন।’

মরুর বুকে সবুজ-সোনা ফলাচ্ছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা

সম্প্রতি বাহার উদ্দিন বকুলের ক্যামেরায় উঠে এসেছে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা পরিচালিত এমনি একটি কৃষি খামারের চিত্র।মরুভূমির দেশ সৌদি আরব। ঊষর মরুর ধূসর বুকে গড়ে উঠেছে একেকটি শহর ও নগর। পাশাপাশি মরুভূমির ধুলার সাগরের মধ্যে গড়ে উঠছে কৃষি খামার, এক চিলতে মরূদ্যান, সবুজের জয়গান। আর এমনি কৃষি খামারে সবুজ-সোনা ফলাচ্ছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা। তাঁদের হাত ধরে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা।

জেদ্দা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণে একটি শহর লিথ। সেখান থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বিরান মরুভূমি মধ্যে একটি কৃষি খামার, আরবি ভাষায় ‘মাজরা’। ৮০ বিঘা জমির এই কৃষি খামার বার্ষিক ৭০ হাজার রিয়ালে ৬০ বিঘা জায়গা লিজ নিয়েছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা চট্টগ্রামের আবুল কালাম এবং কুমিল্লার কুদ্দুস মিয়া। তাঁরা জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে খামারটি চালাচ্ছেন।
শুরুতে বার্ষিক লিজ ছিল ২০-২৫ হাজার রিয়াল। বছরে বছরে বেড়ে হয়েছে ৭০ হাজার রিয়াল।

সম্প্রতি বাহার উদ্দিন বকুলের ক্যামেরায় উঠে এসেছে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা পরিচালিত এমনি একটি কৃষি খামারের চিত্র।ধু ধু মরুভূমির মধ্যেই এই খামারটি চলছে মূলত জেনারেটর ও গভীর নলকূপের সহায়তায়। ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে ওখানে তাপমাত্রা ৩০-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গ্রীষ্মে যা ৪৫-৫০ ছাড়িয়ে যায়। প্রখর এই সূর্যালোকের তাপে গনগনে বালু-সাগরের মধ্যে এক টুকরো সবুজের সমারোহ, এক সাগর প্রশান্তি। ঘন সবুজ খামারটি মন ভরে দেয়, চোখ জুড়িয়ে দেয়।

উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমানে এই কৃষি খামারে ৩০ জন নিয়মিত শ্রমিক কাজ করছেন। তাঁরা সবাই বাংলাদেশি। খামারটিতে মূলত করলা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, শিম, মরিচ, শিমলা মরিচ, কচু, ধনেপাতা এবং নানা রকম শাক উৎপাদন হয়। সেই সঙ্গে আছে মুরগি পালন, জলাশয় বানিয়ে হাঁস পালন। এ ছাড়া কিছু আমগাছ রয়েছে, যেগুলোতে প্রচুর আম হয়।
উদ্যোক্তারা আরও জানান, এখানে ফসল উৎপাদন ভালো হয়, তবে বীজ উৎপাদন সম্ভব হয় না। বীজ আনতে হয় বাংলাদেশ থেকে। প্রতি কেজি বীজ আনতে বাংলাদেশে ১৫-২০ হাজার টাকা ট্যাক্স দিতে হয়, যা খুবই ব্যয়বহুল বলে অভিযোগের সুরে বলেন তাঁরা।

সম্প্রতি বাহার উদ্দিন বকুলের ক্যামেরায় উঠে এসেছে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা পরিচালিত এমনি একটি কৃষি খামারের চিত্র।খামারশ্রমিকেরা মাসিক বেতনে নয়, আধা-আধি ভাগে বর্গাচাষি হিসেবে কাজ করেন। জমি, পানি, বিদ্যুৎ, সার—এসব সরবরাহ করেন উদ্যোক্তা। শ্রমিকেরা জমি তৈরি করা থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এতে লাভ-লোকসানের ঝুঁকি দুই পক্ষেরই সমান। শ্রমিকেরা জানান, গড়ে তাঁদের আয় থাকে দুই থেকে তিন হাজার রিয়াল। উদ্যোক্তারা পান মাসে ৫০-৬০ হাজার রিয়াল। এর থেকে লিজ, সার, জ্বালানি, যন্ত্রপাতির খরচ বাদ দিয়ে থাকে লাভ। মোটের ওপর উদ্যোক্তা ও শ্রমিকেরা যা আয় করছেন, তাতে সন্তুষ্ট।
কষ্টের মধ্যে মরুভূমির খরতাপ, রাতের নিঃসঙ্গতা আর মশার জ্বালা। বেওয়ারিশ জংলি কুকুর আর সাপের ভয়ও আছে কিছুটা। অবশ্য ইন্টারনেট আর ইমুর কল্যাণে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে মন ভরে কথা বলার সুযোগ পেয়ে তাঁরা কিছুটা স্বস্তিতেই থাকেন।

খামারে উৎপন্ন শাকসবজি স্থানীয় শহরে নিয়ে পাইকারি বেচতে হয়। তা ছাড়া ট্রাক নিয়ে পাইকার আসেন খামারে। বাংলাদেশি পাইকারও রয়েছেন। এমনি একজন পাইকার রতন মিয়ার সঙ্গে আলাপ হয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সবজির পাইকারি ব্যবসা করছেন। বিভিন্ন খামার থেকে শাকসবজি কিনে বড় শহর জেদ্দা, মক্কা বা রিয়াদে সরবরাহ করেন তিনি। ভালো লাভ থাকে, আবার লোকসানও হয় মাঝেমধ্যে।

প্রবাসজীবনের একঘেয়েমি কাটাতে অনেকে বেড়াতে যান এসব কৃষি খামারে। বন্ধুবান্ধবসহ সপরিবারে বনভোজনের আয়োজন হয় কখনো। খেতের আলপথে হেঁটে, মরিচ-শিম-করলা আর ঝুলে থাকা লাউয়ের গায়ে আলতো পরশ বুলিয়ে, মোরগের লড়াই আর হাঁসের জলকেলি দেখে, সর্বোপরি চোখজুড়ানো সবুজের অরণ্যে ঘুরে দেহ-মন চনমন করে বেড়ানো চলে খামারে। গাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে খাওয়ার শৈশব স্মৃতি তাড়া করে অনেককে। এমনি অনুভূতি প্রকাশ করেন স্কুলশিক্ষিকা কাকলি আক্তার, সামাজিক ব্যক্তিত্ব শাহজাহান, কবি ফজলুল কবির ভিক্ষু। তাঁরা দলবল নিয়ে এসেছিলেন বনভোজনে—সুদূর জেদ্দা থেকে ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে। তাঁরা বললেন ভালো লাগা আর পরিতৃপ্তির কথা, সময়-সুযোগ পেলেই আবারও আসার উচ্ছ্বাস তাঁদের মধ্যে।

একসময়ে খামারশ্রমিক হিসেবে প্রবাসে কাজ করে আজ নিজেরাই উদ্যোক্তা হিসেবে খামার পরিচালনা করছেন আবুল কালাম ও কুদ্দুস মিয়া। তাঁদের অভিজ্ঞতা, সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথায় স্পষ্ট যে সৌদি আরবে কৃষি খামার লাভজনক। কেবল শাকসবজি উৎপাদন নয়, আম চাষ, ফুল চাষ, মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন বাঙালিদের পরীক্ষিত অর্জন। তবে এসব হচ্ছে এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে, সৌদি আর্থিক সহায়তার অধীনে। জি-টু-জি পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সরকার এ দেশে দীর্ঘ মেয়াদে জমি লিজ নিয়ে ব্যাপক আকারে কৃষি খামার স্থাপন করা হলে যেমনি কর্মসংস্থান বাড়বে, তেমনি স্ফীত হবে বৈদেশিক মুদ্রার ভার। মূলত উপরিউক্ত দ্রব্যসামগ্রীর বিশাল বাজার সৌদি আরবে। এর বেশির ভাগই আসছে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে, এমনকি দূরের দেশ থেকেও। তাই এসব এখানে উৎপাদন অবশ্যই লাভজনক হবে।

বাহার উদ্দিন বকুল, জেদ্দা, সৌদি আরব

রাউজানে ২লাখ ফলজ গাছের চারা বিতরন

শফিউল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ঃ রাউজানে ৪ লাখ ৫০ হাজার ফলদ গাছের চারা রোপন করার জন্য দক্ষিন রাউজানের ৭টি ইউনিয়নে ২লাখ ফলদ গাছের চারা বিতরন করেন রেলপথ মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি । ২২ জুলাই শনিবার সকালে রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকায় ২লাখ ট্রাক ভর্তি ফলদ গাছের চারা দক্ষিন রাউজানের নোয়াপাড়া, উরকিরচর, পশ্চিম গুজরা, পুর্ব গুজরা,বাগোয়ান, পাহাড়তলী, বিনাজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের হাতে এই চারা বিতরন করা হয় । ফলদ বৃক্ষের চারা বিতরন উপলক্ষে নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সভায় রেলপথ মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, মাস্টার দা সুর্যসেনের রাউজান এক সময়ে সন্ত্রাসের জনপদ হিসাবে পরিচিত ছিল । বর্তমান সরকারের শাসন আমলে এক সময়ের সন্ত্রাসের জনপদ রাউজানকে সন্ত্রাসমুক্ত করা হয়েছে । রাউজানে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে । রাউজানে উন্নয়নের পাশাপাশি সবুজের রাউজান গড়ে তোলতে পুর্বে আড়াই লাখ গাছের চারা রোপন করা হয়েছে । আগামী ২৫ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে দুপুর বারটার মধ্যে একঘন্টার মধ্যে রাউজানের ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সাড়ে চার লাখ ফলদ গাছের চারা রোপন করে রাউজানবাসী বীরের জাতি হিসাবে দেশ ও বিশ্বের মধ্যে রেকর্ড সুষ্টি করতে চাই । রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন রেজার সভাপতিত্বে উপজেলা কৃষি অফিসার বেলায়েত হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্টিত ফলদ গাছের চারা বিতরন অনুষ্টানে আরো বক্তব্য রাখেন রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি জোনায়েদ কবির সোহাগ, বাংলাদেশ পুজঁ উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক শ্যামল পালিত, রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্ল্যাহ, অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন, চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন আহম্মদ, সাহাবুউদ্দিন আরিফ, ভুপেশ বড়–য়া, রোকন উদ্দন, আবদুল জব্বার সোহেল, বিনাজুরী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাচ্চু, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া প্রমুখ । আগামীকাল ২৩ জুলাই রবিবার সকালে রাউজানের রাউজান পৌরসভা, হলদিয়া, ডাবুয়া, চিকদাইর, গহিরা, নোয়াজিশপুর,কদলপুর, ৭ নং রাউজান ইউনিয়নে আড়াই লাখ ফলদ গাছের চারা বিতরন করবেন এবি, এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি । আগামী ২৫ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে দুপুর বারটার মধ্যে রাউজান উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পার্শ্বে শিক্ষা প্রতিষ্টান, মসজিদ, মন্দির বিহার, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্টান, সরকারী অফিস, আদালতের আঙ্গিনায় ফলদ গাছের চারা রোপন করা হবে ৪ লাখ ৫০ হাজার । রাউজানের ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সাড়ে চার লাখ ফলদ গাছের চারা রোপন করার জন্য গর্ত খনন করার হিরিক পড়েছে ।

প্রতিদিন গড়ে ১০০ কেজি পনির উৎপাদন হয়

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নোয়াখালীর স্বর্ণদ্বীপকে ঘিরে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। প্রতিকূল এই স্বর্ণদ্বীপে শুধুই যে সামরিক প্রশিক্ষণই চলছে তা নয়, এর পাশাপাশি এখানে বেশ কিছু আর্থসামাজিক কাজও চলছে। একদিকে যেমন জমিতে ধানচাষ চলছে, তেমন এই মিলিটারি ফার্মগুলোতে পশুপালনও চলছে, যেখানে সম্পৃক্ত হচ্ছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

বঙ্গোপসাগরের জাহাইজ্জার চরের নাম বদলে স্বর্ণদ্বীপ রাখার পর সেখানে সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন খামার, পরিকল্পিত গ্রাম।

নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের কাটাখাল থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার ভেতরে বঙ্গোপসাগরের এ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও কুমিল্লা এরিয়ার হাতে।


এখানকার বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা মেজর মোরশেদুল আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, দ্বীপের পাঁচটি বৃহদাকার লেক ও অসংখ্য ছোট-বড় পুকুরে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ চাষ করা হচ্ছে।

“ভিয়েতনাম থেকে সিয়াম জাতের ১৫০০ নারকেল চারা আমদানি করে বাগান তৈরি করা হয়েছে। একই বাগানে শাকসবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় মৃত পশুপাখি ও কৃত্রিম আবর্জনা মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।”

এখানকার ডেইরি ফার্ম সম্পর্কে মেজর ছাইদুর রহমান বলেন, এখানে দুই শতাধিক মোষ, ৩০০ ভেড়া, ১২০০ বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস, মুরগি ও কবুতর রয়েছে।

“মোষের দুধ থেকে পনির তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ১০০ কেজি পনির উৎপাদন হয়।”

তিনি জানান, বিশেষ পদ্ধতিতে তিন-চারবার সেচ দিয়ে লোনা পানি সরিয়ে গভীর নলকূপের পানি দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ একর জমিতে ৬০ জন বর্গাচাষীর মাধ্যমে হাইব্রিড হীরা ধান-২ চাষ করা হয়েছে।
“বৈরী আবহাওয়ায়ও ৩০২ মণ ধান উৎপন্ন হয়েছে। অনুরূপ পদ্ধতিতে ১০০ একর জমিতে ধান চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।”

প্রায় ৩৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপের দায়িত্ব ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি সেনাবাহিনী গ্রহণ করে বলে তিনি জানান।

“বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ দ্বীপে দুটি মাল্টিপারপাস সাইক্লোন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এখানে এ ধরনের আরও তিনটি সেন্টার নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

মেজর মোরশেদুল আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় ১৬ লাখ টাকায় ১১৬ হেক্টর জায়গায় বনায়ন করা হয়েছে।

“দ্বীপের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাংশে দুই হাজার কেজি কেওড়াবীজ হেলিকপ্টারে করে ছিটানো হয়েছে। ৬০ হাজার পবন-ঝাউয়ের চারা লাগানো হয়েছে। ৩৫টি গ্রাম তৈরি করা হয়েছে।”

সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে দ্বীপের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানে শিকারি ও গাছচোরদের উৎপাত নেই বরে তিনি জানান।

দ্বীপ ঘুরে বক, সারস, ফিঙ্গা, ঘুঘু, পানকৌড়ি, কাঁকড়া, শালিক, কোরা, ডাহুক, বাবুইসহ নাম না জানা পাখির অবাধ বিচরণ দেখা গেছে। এখানকার বনে বিপুলসংখ্যক মোষ নির্বিঘ্নে চড়ে বেড়ায়।

সেনা কর্মকর্তারা জানান, স্বর্ণদ্বীপের মিলিটারি ডেইরি ফার্ম থেকে উৎপাদিত মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, পনিরসহ উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী এখানকার চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা সেনানিবাসে সরবরাহ করা হবে। বেশি হলে অন্য জায়গায়ও সরবরাহ করা হবে।

ইতোমধ্যেই এখান থেকে বর্গাচাষ, পশুপালন, মাছ চাষসহ বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত হয়ে ৪৩৭৯ পরিবারের ১৬ হাজার ৩৭০ মানুষ প্রত্যক্ষ সুবিধা পাচ্ছে বলে সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার স্বর্ণদ্বীপ পরিদর্শনে এসে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন, স্বর্ণদ্বীপ শেখ হাসিনার স্বপ্নের দ্বীপ।

“স্বর্ণদ্বীপের প্রকল্পগুলো প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত প্রিয়। তিনি সব সময় এ দ্বীপের খোঁজখবর রাখছেন। তাঁর আন্তরিক সহায়তায় ও সেনাবাহিনীর চেষ্টায় স্বর্ণদ্বীপ একসময় আরেকটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হবে।”

ফুরিয়ে আসছে রাজশাহীর আম

মৌসুম শেষ হওয়ায় ফুরিয়ে আসছে রাজশাহীর আম। প্রতি বছর মধু মাস জৈষ্ঠ্য থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত চলে আমের ব্যবসা। শেষ সময়ে ঝুড়িতে উঠছে ফজলি, আম্রপালি ও আশ্বিনা জাতের আম। বাগান মালিক ,পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বাগানের আম শেষ হওয়ায় কমেছে আমের আমদানি। ফলে বাজারে দ্রুত বাড়ছে দাম। ফলে আম কিনতে এসে নারাজ হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

রাজশাহীতে আমের বাজার থেকে ইতোমধ্যে গোপালভোগ, মোহনভোগ, কালিভোগ, লক্ষণভোগ, হিমসাগর ও ল্যাংড়া বিদায় নিয়েছে। বাগানের আম শেষ হওয়ায় আড়ৎগুলোতে আমদানি কমেছে। ক’দিন আগেও আমকে ঘিরে যে নির্ঘুম ব্যস্ততা ছিল, তা এখন আর নেই। কমে গেছে বেচাকেনাও। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে এখন শুধু পাওয়া যাচ্ছে আশ্বিনা, আম্রপালি, সুরমা ও মহারাজ জাতের ফজলি আম। তবে দাম বেশি।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ফজলি আম ৬০, আম্রপালি ৮০ ও আশ্বিনা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে। মৌসুম শেষ হয়ে আসায় আমের দাম চড়া বলে দাবি বিক্রেতাদের। ফলে আমের স্বাদ নেয়ার সাধ্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তাই সাধারণ ক্রেতাও কম।

জেলায় চলতি মৌসুমে আমকে ঘিরে প্রায় ৫’শ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। জুলাই মাস পর্যন্ত বাজারে মিলবে সুস্বাদু মৌসুমী এ ফলটি।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছে কৃষিপণ্যের

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছে বেশ কয়েকটি কৃষিপণ্যের। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) সোমবার গম, ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম ছিল নিম্নমুখী। এর মধ্যে গমের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডারের।

 

সিবিওটিতে সোমবার সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি বুশেল (১ বুশেল= ৬০ পাউন্ড) সফট রেড উইন্টার হুইট বিক্রি হয় ৫ ডলার ৬ সেন্টে, যা আগের লেনদেনের তুলনায় ৪ সেন্ট কম। ৩০ জুনের পরে এদিন কৃষিপণ্যটি সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে হার্ড রেড উইন্টার হুইট বিক্রি হয় প্রতি বুশেল ৫ ডলার ৬ সেন্টে, যা আগের লেনদেনের তুলনায় ৭ সেন্ট কম।

 

তবে মিনিয়াপোলিশ গ্রেইন এক্সচেঞ্জে (এমজিইএস) সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে বসন্তকালীন গমের দাম কিছুটা বেড়েছে। এখানে পণ্যটি প্রতি বুশেল ৭ ডলার ৬৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে, যা আগের লেনদেনের তুলনায় ৯ সেন্ট বেশি। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের গম উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় ছড়িয়ে পড়া খরার প্রভাবে এসব অঞ্চল থেকে পণ্যটির সরবরাহ কমার সম্ভাবনার খবরে দামের এ ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে।

 

এদিকে সিবিওটিতে এদিন নিম্নমুখী ছিল ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম। দুটো পণ্যের দামই আগের লেনদেনের তুলনায় ১ শতাংশ হারে কমেছে। এদিন সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি বুশেল (১ বুশেল= ৫৬ পাউন্ড) ভুট্টা বিক্রি হয়েছে ৩ ডলার ৭৫ সেন্টে, যা আগের লেনদেনের তুলনায় ১ সেন্ট কম। অন্যদিকে আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি বুশেল সয়াবিনের (১ বুশেল = ৬০ পাউন্ড) দাম ছিল ৯ ডলার ৮৫ সেন্ট, যা আগের লেনদেনের তুলনায় ৪ সেন্ট কম।

 

বাজারবিশ্লেষক মার্ক গোল্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি উৎপাদন মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করছে। আগের মৌসুমের তুলনায় এবার বৃষ্টি কম হয়েছে। ফলে বাজার বিশ্লেষকরা আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন পণ্যের সম্ভাব্য বাজারদর নিয়ে পূর্বাভাস দিচ্ছেন। এর জের ধরে বাজারে কৃষিপণ্যের দামের ওঠানামা লক্ষ করা যাচ্ছে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর তাপমাত্রা আগামী ৬ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে বলে এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে কমোডিটি ওয়েদার গ্রুপ। এর ফলে এসব অঞ্চলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনায় চলতি ২০১৭-১৮ মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম রপ্তানির পরিমাণ আগের পূর্বাভাসের চেয়ে ৬ লাখ ৮০ হাজার টন কম হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। উল্লেখ্য, দেশটি গত মৌসুমে গম রপ্তানিতে শীর্ষে ছিল। এবারের মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে কৃষিপণ্যটির শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় রাশিয়া নাম লেখাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

লবণ চাষ করে স্বাবলম্বী আনসার


মো: ফারুক,পেকুয়া

পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বামুলা পাড়া এলাকার আহমদ ছফার পুত্র আনসার উদ্দিন। পিতার তেমন সহায় সম্পদ না থাকায় জীবন যুদ্ধে সংগ্রাম করে বড় হতে হয়েছে তার ও ভাই বোনদের। এক সময় খারাপ বন্ধুদের পাল্লায় ও পারিবারিক সমস্যায় মামলার আসামীও হন তিনি। তারপর জীবনের মোড় ঘুরাতে কাজ শুরু করেন লবণ পরিবহনের শ্রমিক হিসাবে। সেই শুরু, আজ তিনি প্রতিষ্টিত লবণ ব্যবসায়ী। তার চাষকৃত লাখ লাখ টাকার লবণ পেকুয়ার রাজাখালী থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের কাছে বিক্রি করে থাকে। যার কারণে সরকার যেমন পাচ্ছে রাজস্ব তেমনি তার কারণে অনেক পরিবার এর সন্তানের কর্মসংস্থান হওয়ায় তাদের পরিবারও স্বাবলম্বী হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আনসার উদ্দিন জানান, পিতার পরিবারে আমরা সাত ভাই বোন। তার মধ্যে আমি ১ম সন্তান। পিতার এক সময় বিভিন্ন জনের ব্যবসা প্রতিষ্টানে কাজ করতো। তারপরও ছোটখাট ব্যবসা করেন। এরপর আমি ১ম সন্তান হওয়ায় সংসারের হাল ধরতে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর শ্রমিক হিসাবে কাজ শুরু করি। এক পর্যায়ে সংসারের খরচের লাগাম টেনে ধরতে লবণ চাষ শুরু করি। রাজাখালীর ওয়াকফ ষ্টেটের লবণ বর্গা নিতে থাকি। লবণের দাম তখন অনেক কম ছিল। তারপরও লবণ চাষ ছাড়িনি।

সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় বর্তমান সরকারের আমলে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা লবণ চাষীদের জন্য আলিদা নীতিমালা ঘোষনা করেন। বিদেশ থেকে লবণ আমদানীও বন্ধ করে দেন। তারপর তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। মণ প্রতি লবণের দাম দেড়শত টাকা থেকে ৬শ টাকা হয়ে যায়। ঠিক একই ভাবে শ্রমিকের দামও তাদের চাহিদা মতো হয়ে পড়ে। তাদের ভাগ্যের চাকাও ঘুরে যায়। এখন আমি লবণ বর্গা নেওয়ার পাশাপাশি কয়েক খানি লবণ মাঠের মালিক হয়। ইতিমধ্যে আমি সন্তানের জনক। তারাও লেখাপড়া করছে। আর আমার কাজের সততা পরিশ্রম দেখে এরশাদ আলী ওয়াকফ ষ্টেটের ইজারাদার আমাকে তাদের কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ দেন। সেখানেও আমি সততার পরিচয় দেওয়ায় ইজারাদার হানিফ চৌধুরীও মাসে মাসে সততার পুরুস্কার দেন। যার কারণে আমার আর্থিক অবস্থা অনেক ভাল। আর আমার সাথে কাজ করা শ্রমিকদেরও প্রাপ্য মজুরী সাথে সাথে দিয়ে দিই। যার কারণে তারা আমার সাথে কাজ করতে কার্পন্য করে না।
তিনি এ সময় দুঃখ করে বলেন, আমার সফলতায় ইর্ষান্বিত হয়ে রাজাখালী এলাকার কিছু চিহিৃত সন্ত্রাসী অপপ্রচারে নেমেছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাধ্যমে ঘায়েল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইনশাল্লাহ আমি সততার সাথে কাজ করলে কেউ ক্ষতি করতে পারবেনা।

তার সাথে থাকা লবণ শ্রমিকের মাঝি মো: রশিদ, জহির, শ্রমিক ওসমাণ ও নেজাম উদ্দিন বলেন, আমাদের দেখা আনসার উদ্দিন একজন সফল ব্যবসায়ী। তার সাথে আমরা কাজ করে থাকি। কখনো অন্যায় আবদার সে আমাদের সাথে করেনা। তার লবণ পরিবহণ করে ইতিমধ্যে আমরা স্বাবলম্বী হয়েছি।

ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর আনসার উদ্দিনের ব্যাপারে বলেন, তিনি অতিতে কেমন ছিলেন তা আমি বলতে পারব না। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি লবণ চাষে ব্যাপক সফলতা অর্জন করায় দৃষ্টান্ত হয়ে এলাকার অনেকে খারাপ অবস্থা থেকে ফিরে এসে লবণ চাষ করছে। আর বর্তমান আ’লীগ সরকার লবণের দাম বৃদ্ধি করে দেওয়ায় তারা অনেক লাভবান হচ্ছে।

১ হাজার কোটি টাকার পাট কিনবে বিজেএমসি

শুরু হয়েছে পাট কাটার মৌসুম। আর মৌসুমের শুরুতেই পাট কিনতে মাঠে নেমেছে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলগুলোর পরিচালনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। কৃষক যাতে পাটের নায্যমূল্য পায় সেজন্য আগেভাগেই পাট কেনা শুরু করেছে সরকারের এ সংস্থাটি। চলতি মৌসুমে ১ হাজার কোটি টাকার পাট কিনবে বিজেএমসি। ইতোমধ্যে সরকার ২০০ কোটি টাকা পাট কেনার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া মিলগুলো ও বিজেএমসি গতবারের মতো এবারও প্রায় ৬০০ কোটি টাকা যোগান দেবে। বাকি টাকা সরকারের কাছ থেকে নেয়া হবে।

বিজেএমসি সূত্র জানিয়েছে, এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর কৃষক পাটের নায্যমূল্য পাওয়ায় পাট চাষে উত্সাহিত হয়েছে। আর সরকারও চাচ্ছে চাষীদের এ আগ্রহ ধরে রাখতে। তাই গত মৌসুমে ৮০৫ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকার পাট কিনলেও এবার ১ হাজার কোটি টাকার পাট কেনা হবে। এছাড়া এবার পাট কেনার লক্ষমাত্রাও পূরণ করা হবে।

পাট অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে সারাদেশে ৭ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে ৭৭ লাখ বেল পাট উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ধান, চাল, গম, ভূট্টাসহ ১৭টি পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় পাটের ব্যবহার বেড়েছে। তবে পাট চাষ করে কৃষকের ভাগ্য এখনো ফেরেনি।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থাপনা এবং এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে চাষীরা পাটের নায্যমূল্য পান না। এতে বেশিরভাগ সময় তাদের লোকসান গুনতে হয়। এরইমধ্যে অনেক কৃষক পাট চাষের বদলে ধানসহ অন্য লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকেছেন। তবে আশার কথা হলো, সরকার এ খাতে নজর দেয়ায় চাষীরা আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে পাট নিয়ে।

Scroll To Top