শিরোনাম
You are here: প্রচ্ছদ / পর্যটন

বিভাগ: পর্যটন

Feed Subscription

পদ্ম বিলে …

বিশ্বজিৎ পাল বাবু:

প্রকৃতিতে এই রোদ, এই বৃষ্টি। সকালে মাথায় রোদ নিয়ে বের হলেও পদ্ম বিলে পৌঁছতে না-পৌঁছতেই বৃষ্টির আগমন। এর মধ্যে চারদিকে শোনা গেল সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো এক আওয়াজ। এই বিলের মধ্যে এই আওয়াজ কোথা থেকে এলো? কৌতূহল মনের প্রশ্নের জবাব মিলল খানিক পরেই।

পদ্মের পাতায় মুষলধারে বৃষ্টি পড়ায় এমন শব্দের সৃষ্টি। বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে বিলপারে থাকা একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলাম। অপেক্ষাকৃত উঁচু ওই বাড়ি থেকে পদ্ম বিলে চোখ পড়তেই যেন মন ভরে ওঠে। আহা! প্রকৃতির কী অপরূপ সাজ! বিলে যেন আসন পেতেছে শত শত পদ্ম ফুল। শত একর বিলজুড়ে জলে ভাসছে পদ্ম। কেউ কেউ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছে, কেউ বা ছবি তুলছে।

কেউ আবার ডিঙি নৌকায় চড়ে গিয়ে তুলে আনছে পদ্ম। এ যেন এক অন্য রকম উন্মাদনা পেয়ে বসেছে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষকে। হওয়ারই তো কথা। অনেকের মতে, পদ্মের এত বড় বিলের যে দেখা  মেলা ভার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম ঘাগুটিয়া। আর ওপারেই ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরার আমতলী থানার মাধবপুর গ্রাম। বাংলাদেশ-ভারতের এই দুটি গ্রামের মাঝখানেই এই বিশাল পদ্ম বিলের অবস্থান। তবে বিলটার একটা বড় অংশই পড়েছে বাংলাদেশের ঘাগুটিয়া গ্রামে। হিন্দু ধর্মালম্বীদের দুর্গা দেবীর পূজায় কাজে লাগে এই পদ্ম ফুল। সে জন্য আশ্বিন মাসে এ বিল থেকে বাংলাদেশ-ভারতের মানুষ প্রচুরসংখ্যক পদ্ম ফুল সংগ্রহ করে থাকে। ভারতের স্থানীয় বাজারে এসব পদ্ম বিক্রিও হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কাগজে-কলমে বিলটির নাম ‘বিল ঘাগুটিয়া’। প্রতিবছর আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত এ বিলে পদ্ম ফুল ফোটে। বিল থেকে পানি নেমে গেলে ধীরে ধীরে পদ্মও এই বিল থেকে উধাও হয়ে যায়। বাকি সময়টুকুতে এখানে বোরো ধানের চাষ হয়।

স্থানীয়দের মতে, গত ৪০-৪৫ বছরের মধ্যে নাকি এ বছরই সবচেয়ে বেশি পদ্ম ফুটেছে বিলটিতে। ওই গ্রামের পাশের মিনারকুটেও রয়েছে আরেকটি ছোট্ট পদ্ম বিল। কার্তিক মাস পর্যন্ত এখানেও ফুল ফুটে থাকে। তবে বিলের আসল সৌন্দর্য দেখতে চাইলে শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে আসাই ভালো।

কথা হলো, ঘাগুটিয়া বিলের পাশের এক বাসিন্দা মো. ইউনুস মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানালেন, পদ্ম বিলের টানে এখানে প্রতিবছর প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসে। তাঁর বাড়িতে বাঁশ দিয়ে তৈরি বসার জায়গায় গা এলিয়ে অনেকে পদ্ম বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করে। দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন পূজার সময়, বিশেষ করে ভারতের লোকজন এসে ওই বিল থেকে পদ্ম ফুল নিয়ে যায়। ইউনুস মিয়া বলেন, পদ্ম বিলটি সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ করলে ভালো হতো।

পাশেই ছিলেন মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মো. আব্দুল্লাহ। তিনি দিলেন একটা মজার তথ্য, ‘২০১৪ সালের দিকে দেশি-বিদেশি একটি গবেষকদল এখানে এসে পদ্মের শিকড় নিয়ে যায়। তবে পরে জানা যায়, ওই শিকড় নিয়ে তারা পদ্ম চাষের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। ’

এত কথা শুনে মন চাইছিল পদ্ম ফুলের ছবি তোলার জন্য বিলের ভেতরে যেতে। কিন্তু যাবই বা কিভাবে? এ সময় চোখে পড়ল এক ছোট্ট ছেলে ডিঙি নৌকা চালিয়ে আমাদেরই দিকে আসছে। কাছে আসতেই জিজ্ঞেস করলাম ওর নাম। বলল, ‘জুনায়েদ। বিলের কাছেই আমাদের বাড়ি। ’ নৌকা নিয়ে বিলে ঘুরতে বেড়িয়েছে ও। আমাদের ইচ্ছার কথা বলতেই এক কথায় রাজি হয়ে গেল। এত ছোট ‘মাঝি’র নৌকায় উঠতে খানিকটা দ্বিধা থাকলেও শেষমেশ জুনায়েদের নৌকাতেই ভেসে পড়লাম। কিছুক্ষণ পরই বুঝলাম ছোট হলেও মাঝি হিসেবে জুনায়েদ বেশ পাকা। বিলের মধ্যে গিয়ে দেখা মিলল আরো দুই কিশোর সাদেক ও রাসেলের সঙ্গে। ওরা এসেছে পদ্ম ফুল তুলতে। এগুলো দিয়ে নাকি ঘর সাজাবে। চাইলে বিল দেখতে আসা লোকজনকেও তারা ফুল তুলে দেয়। ওদের দেখাদেখি আমরাও কয়েকটা পদ্ম সংগ্রহ করি স্মারক হিসেবে। পদ্ম বিলে এসেছি, দু-একটা ফুল বাসায় না নিয়ে গেলে কি হয়!

ছবি: লেখক

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে ট্রেনে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন। ভাড়া ট্রেন ও শ্রেণিভেদে ৬৫ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। স্টেশনে নেমেই সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ নিলে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় পৌঁছা যাবে বিল ঘাগুটিয়ায়। অটোরিকশা রিজার্ভ নিয়ে নিলেই ভালো। কেননা ঘাগুটিয়া এলাকায় অটোরিকশা নিয়মিত পাওয়া যায় না

বান্দরবানে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবাসিক হোটেলগুলোতে ৪০% ছাড় ঘোষণা

বান্দরবান প্রতিনিধি॥
বিশ্ব পর্যটন দিবস’কে সামনে রেখে বান্দরবানের আবাসিক হোটেল-রিসোর্টগুলোতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪০% ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সম্মেলনকক্ষে পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিকের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ডিএম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমীন আক্তার, বান্দরবান আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম’সহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট, গেষ্টহাউজের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বান্দরবান আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ বলেন, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। পর্যটন দিবসকে সামনে রেখে বান্দরবানের সবগুলো আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট, মোটেল, গেষ্টহাউজে প্রতিটি রুম ভাড়ায় ৪০% পর্যন্ত ছাড় দেয়া হবে। আগামী ১৮ সেপেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ছাড় কার্যকর থাকবে। পর্যটকদের ভ্রমনের স্বার্থে এ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক দিলী কুমার বণিক বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। পুরনো দর্শণীয় স্থানগুলোর সৌন্দর্য বর্ধন’সহ আরো নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপদ এবং আরামদায়ক ভ্রমন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আবাসিক হোটেল মালিকরা পর্যটন দিবস’কে কেন্দ্র দশদিনের জন্য ৪০% ছাড় ঘোষণা পর্যটকদের জন্য বাড়তি প্রাপ্তি। এ ধরণের উদ্যোগ পর্যটকদের আরো বেশি আকৃষ্ট করবে।

আগামী অক্টোবরে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায় না

অসংখ্য কোরালের দেশ সেন্টমার্টিন যাওয়া যায় না সারা বছর। সেন্টমার্টিন মানেই সমুদ্রের নীল জলরাশি। দিগন্তে সেই নীল মেশে আকাশের নীলের সাথে। দূরে যেখানে আকাশ আর সমুদ্রের এই আলিঙ্গন সেখান থেকে ভেসে আসে মাছ ধরা জেলে নৌকারা। তাই বন্ধের সময়টা যেন হাহাকার চলে সমুদ্রপ্রেমীদের মাঝে! সুখবর হলো হাহাকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে!…

প্রতি বছর মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমুদ্র উত্তাল থাকায় বন্ধ থাকে সমুদ্রে জাহাজ যাত্রা। এসময় শুধু মাছ ধরা নৌকা আর ট্রলার চলাচল করে। সমুদ্রের ঢেউ কয়েক ফুট উপর পর্যন্ত উঠে। সে এক ভয়ঙ্গর ব্যাপার। রোমাঞ্চপ্রিয় অনেকেই এসময় সেন্ট মার্টিন যান বটে, তবে নিরাপত্তার কথা ভেবে পর্যটকদের যেতে নিষেধ করা হয় সাধারণত। স্থানীয়রাও কাজ ছাড়া সমুদ্র পাড়ি দেন না এসময়।

আবার যে নীল জলরাশির জন্য আপনি পাড়ি দেবেন এতটা পথ তা এই সময়টায় সে নীল রঙ এর দেখা পাওয়া যায় না বলতে গেলে। তাই অক্টোবর থেকে এপ্রিলের সময়টাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আবহাওয়ার অবস্থা অনুযায়ী সময় কিছুটা হেরফের হয় অবশ্য।

অক্টোবর চলে এসেছে। আর সাথে সাথে ঘোষণা এসেছে কেয়ারী সিন্দবাদের। আগামী অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে আবার সমুদ্রে ভাসবে জাহাজটি। কেয়ারীর মাধ্যমে শুধু সমুদ্রের ওপারে না আপনি ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন বেড়িয়ে আবার ঢাকা ফেরার প্যাকেজ নিতে পারবেন।

যে কোনো তথ্যের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন এই নম্বরে:

ঢাকা অফিস – ০১৮১৭১৪৮৭৩৫, ০১৮১৭০৪৮৫৯৭, ০১৮৪১০৯৪১৭৯

কক্সবাজার অফিস – ০১৮১৭২১০৪২১-৫

টেকনাফ অফিস – ০১৮১৯৩৭৯০৮৩

চট্টগ্রাম অফিস – ০১৮১১৪৮০৩৩৯।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গর্জনের দেশে

প্রকৃতির সান্নিধ্য ঘুরে আসতে পারেন প্রাকৃতিক রহস্যেঘেরা সুন্দরবন। উপভোগ করে আসতে পারেন বানরের চিৎকার-চেঁচামেচি, হরেক পাখির দল, ময়ূরের কেকা ধ্বনি, অপরূপ চিত্রল হরিণের দল, বন মোরগের ডাক, কুমির, হরিয়াল, গাছের সঙ্গে পেঁচিয়ে থাকা অজগর, মৌমাছির গুঞ্জন ও বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন।

 

এছাড়াও সেখানে রয়েছে ৩শ’ ৩০ প্রজাতির গাছ, ২শ’ ৭০ প্রজাতির পাখি, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪২ প্রজাতির বন্য প্রাণী ও ৩২ প্রজাতির চিংড়িসহ ২শ’ ১০ প্রজাতির মাছ।

 

সুন্দরবনের এসব নয়নকারা দৃশ্যের কারণেই বর্তমানে পর্যটকরা আকৃষ্ট হচ্ছে সেখানে যেতে। আগের তুলনায় বর্তমানে সুন্দরবনে পর্যটকদের সংখ্যাও বেড়ে গেছে বহুগুণে।এখন আর টেলিভিশনের পর্দায় নয় চাইলে বাস্তবেই ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন থেকে। কিন্তু অনেকে মনে করে সুন্দরবন ঘুরতে যাওয়া বেশ বিপদজনক। কিন্তু এখন আপনি চাইলেই নিরাপদে ঘুরে আসতে পারেন সুন্দরবন। এক্ষেত্রে আপনি কোনো ট্যুর কোম্পানি অথবা অভিজ্ঞ ট্যুর গাইডের সাহায্য নিতে পারেন।

 

সুন্দরবনে রয়েছে বেশ কিছু মনোমুগ্ধকর জায়গা। এর মধ্যে রয়েছে হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, শরণখোলা, ছালকাটা, টাইগার পয়েন্ট টাওয়ার, টাইগার পয়েন্ট সি বিচ, জামতলা সি বিচ, সাত নদীর মুখ, কালীরচর উল্লেখযোগ্য।

 

হিরনপয়েন্ট যার প্রকৃত নাম নীলকমল। এখানে রয়েছে বন বিভাগের সুন্দর অফিস, মিঠাপানির পুকুর ও পুকুরপাড়ের পাশেই ওয়াচ টাওয়ার। বনবিভাগের অফিসটি ঘুরে ফিরে দেখার জন্য বেশ ভালো। এছাড়া ঘুরে দেখতে পারেন সুন্দরবনের ভেতরটি। যেখানে দেখতে পাবেন ম্যানগ্রোভের সারি। এ সময় আপনার সঙ্গে অবশ্যই ট্যুর গাইড বা গাদাবন্দুকধারী বনরক্ষী নিয়ে যেতে হবে। এ পথ কাদামাটিযুক্ত পিচ্ছিল, তাই সবাইকে দল বেঁধে চলতে হবে। তা না হলে পথ হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এছাড়া ট্যুর গাইড বা বনরক্ষীরা পথ চলতে চলতে পাতা ছিড়ে ফেলে রেখে যায় যাতে পথ হারিয়ে না যায়। এসব ট্যুর গাইড বা বনরক্ষীদের কাছ থেকে সুন্দরবনের ভেতরের জগত সম্পর্কে নানা বিস্মকর তথ্য পেতে পারেন।

 

 

সুন্দরবনে যাবেন আর বাঘ দেখবেন না তা কি করে হয়। সুন্দরবনের মূল আকর্ষণ হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কিন্তু সুন্দরবনে গিয়ে বাঘ দেখেন আর নাই দেখেন বাঘের পায়ের ছাপ অবশ্যই দেখবেন। এ পায়ের ছাপ দেখে মনে হবে যেন বাঘ এই কিছুক্ষণ আগেই এ পথ পাড়ি দিয়েছে। এ সদ্য ছেড়ে যাওয়া বাঘের পায়ের ছাপের ছবিও তুলে আনতে পারেন। তবে সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়ে বাঘের দেখা না পেলেও আফসোস করার কিছুই নেই কারণ আপনার মনের আর হাতের ক্যামেরার মেমোরি কার্ড কিন্তু বোঝাই হয়ে যাবে বিশেষ মুহূর্তগুলোর ছবিতে।

 

এছাড়াও ঘুরে আসতে পারেন দুবলার চরে। বঙ্গোপসাগরের এ দ্বীপটি পরিচিত শুটকিপিল্লি হিসেবে। প্রতি বছরই বিভিন্ন স্থান থেকে জেলেরা মাছ ধরার মৌসুমে এ দ্বীপে অস্থায়ী ঘরবাড়ি তৈরি করে সাগর থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে এবং তা থেকে শুটকি বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে।

 

তবে সুন্দরবন ভ্রমণকালে আপনাকে যেসব জিনিস অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে তা হলো, বিশুদ্ধ পানির বোতল, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ফাস্ট এইড বক্স, এক জোড়া কেডস, ক্যামেরা, রেডিও।

 

যেভাবে যাবেন : সুন্দরবন যেতে হলে ঢাকা থেকে সরাসরি চেয়ার কোচে মংলা বন্দরের পর্যটন ঘাটে পৌঁছে যেতে পারেন।সেখান থেকে চেয়ার কোচ বা ট্রেনে খুলনা গিয়ে কোন আবাসিক হোটেলে রাত কাটাতে পারেন। পর দিন খুলনা জেলখানাঘাট থেকে লঞ্চে চলে যেতে পারেন সুন্দরবনে।সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে প্রবেশ চাইলে খুলনা কিংবা মংলা থেকে নৌপথে যেতে হবে।মংলার কাছাকাছিই ঢাইনমারীতে রয়েছে বনবিভাগের কার্যালয়। সেখানেই সুন্দরবনে প্রবেশের আনুষ্ঠানিকতা বা বিধিমালা শেষ করতে হবে।সাধারণ পর্যটকদের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা, বিদেশি পর্যটকদের জন্য ৭শ’ টাকা।এছাড়া লঞ্চ ভারা ২৫শ’টাকা কিন্তু ছোট লঞ্চের জন্য প্রবেশ ফি কিছুটা কম।পর্যটকদের সাঙ্গে ভিডিও বা ক্যামেরা থাকলে অতিরিক্ত ১শ’ টাকা দিতে হবে বন বিভাগকে। তবে এসব ঝামেলাপূর্ণ কাজ পর্যটকদের করতে হয় না। ট্যুরিজমলিমিটেডের লোকজনই আনুষঙ্গিকতা সেরে নেবে।

ফটিকছড়ির হাজারীখিলে পরিবেশ বান্ধব পর্যটন কেন্দ্র চালু


শওকত হোসেন করিম:
ফটিকছড়ির হাজারীখিল সহ-ব্যবস্থাপনা সংগঠন কার্যালয়, বন্য অভয়ারণ্যে ও বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানের খৈয়াছড়া ঝর্ণা এলাকার পরিবেশ বান্ধব পর্যটন কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার উপজেলার হাজারীখিল রেঞ্জ অফিসে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ, হাজারীখিল সহ-ব্যবস্থাপনা সংগঠন ও বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্ক সিএমসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান বন সংরক্ষক মুহাম্মদ সফিউল চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোঃ জগলুল হোসেন, কোডেক এর উপ-নির্বাহী পরিচালক কমল সেন গুপ্ত। অনুষ্ঠানের চট্টগ্রাম উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অ.ন.ম. আব্দুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে ও রেঞ্জ অফিসের অরুণ ভরুণ চৌধুরী’র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী, তানজিবুল আলম আরিফ, মো জসিম উদ্দীন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি মুহাম্মদ সফিউল চৌধুরী ফিতা কেটে পর্যটন কেন্দ্র ডুকে। এর পর ওই পর্যটন কেন্দ্র দর্শনীয় স্থান গুলো এককের পর পরিদর্শন করেন। শেষে চারা রোপন ও কটেজ গুলির উদ্বোধন শেষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনি বলেন, বনের উন্নয়নের জন্য আমি সকল প্রকারে সহয়োগতা করবো। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের আনাগোনা শুরু হবে এখানে, শুরু হবে নানান ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য। এ ঐতিহ্যবাহী হাজারীখির হবে পর্যটকদের নবরূপ, নতুন সাজে সবার সামনে একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে যাচ্ছে।

ইতিহাস আর বাস্তবতার আধার রেলওয়ে জাদুঘর

এক সময়ের অবহেলিত চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে জাদুঘর এলাকায় ফিরছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। ডিসি হিল কিংবা সিআরবির আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন এক সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে। প্রীতিলতার স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক এই জায়গাটিতে রয়েছে দারুণ পর্যটন সম্ভাবনা।

 

এখানে নেই কোন যান্ত্রিক কোলাহল, নেই যানবাহনের কালো ধোঁয়া কিংবা শব্দদূষণ। সুবিস্তৃত সমতলের সাথে পাহাড়ি মনোরম পরিবেশ। আছে গাছগাছালি আর পাখিদের মনমাতানো কলরব। এখানে রয়েছে দেশের একমাত্র রেলওয়ে জাদুঘর। সেখানেই এবার প্রায় চার একর জায়গা নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নান্দনিক এই অবকাশযাপন কেন্দ্র। যেখানে রেলওয়ে জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সাথে থাকবে শহীদ মিনার, মুক্তমঞ্চ, গ্যালারি, শিশুদের বিনোদনকেন্দ্রসহ অবসর উপভোগের দারুণ সব আয়োজন। ইতিমধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে।

 

নগরীর ৬০ লক্ষাধিক মানুষের অবসর-বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল ডিসি হিল এবং সিআরবি’র শিরীষতলা। এবার বড় পরিসরে তৃতীয় কোন উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র হতে যাচ্ছে পাহাড়তলির রেলওয়ে জাদুঘর এলাকা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা ও অর্থায়নে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

 

 

জানা যায়, পাহাড়তলীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্মৃতি বিজড়িত এই জায়গাটিকে সংরক্ষণের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আফসারুল আমীন ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হোসেন হিরণের প্রচেষ্টায় পাহাড়তলি এলাকায় এই কার্যক্রমের শুরু হয়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শহুরে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে এখানে বড় পরিসরে একটি বিনোদনকেন্দ্র তৈরির দাবি তাদের দীর্ঘদিনের।

 

তাছাড়া অযত্ন-অবহেলায় প্রীতিলতার ঐতিহাসিক সব স্মৃতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। যে কারণে এ নিয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় আন্দোলনও করেছে। আর এবার শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে তাদের স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে বলে এলাকাবাসীও দারুণ খুশি।

 

এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর মো. হোসেন হিরণ বলেন, বন্দর নগরীর ৬০ লাখ মানুষের জন্য উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ডিসি হিল কিংবা সিআরবি যথেষ্ট ছিল না। তাছাড়া নগরীর পশ্চিমাঞ্চলের মানুষেরা অতদূরে গিয়ে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাও দূরুহ। আর এতবড় শহরের মানুষের পক্ষে বিভিন্ন দিবস ও উৎসবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল প্রদান করা কিংবা অনুষ্ঠান আয়োজন করা ছিল খুবই কষ্টকর। কেননা জায়গাটা খুব সংকীর্ণ ও আঁটসাঁট। তাই আমাদের মাননীয় সাংসদের তত্ত্বাবধানে শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে পাহাড়াতলী ওয়ার্ডকে নান্দনিকভাবে সাজানোর কাজে হাত দিয়েছি।

 

তিনি বলেন,রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রাস্তার দু’পাশে বাউন্ডারি নির্মাণসহ পুরনো রাস্তার সংস্কার করে দিবে। আর সিটি কর্পোরেশনের যাবতীয় সৌন্দর্য্যবর্ধনের কাজের পাশাপাশি পুরো জায়গাটিকে বিনোদনের উপযোগী করে তুলতে আর্থিক সহায়তা করবে। অন্যদিকে রেলওয়ে জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে আরেকটু ঢেলে সাজানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কাছে পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে।

নৈসর্গিক বৈচিত্র্যের বান্দরবান

পাহাড়িকন্যা বান্দরবান প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা । যার মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে আছে সে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন। বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত। এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্তর্গত। চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান জেলার দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার। বান্দরবান জেলার আয়তন ৪৪৭৯ বর্গ কিলোমিটার। মারমা রাজা বোমাংগ্রী উ চ প্রু বান্দরবান সার্কেলের, বোমাং রাজা। এই অঞ্চলের অন্য দুইটি জেলা হল রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি। বান্দরবান জেলা এর নৈসর্গিক বৈচিত্র্যের জন্য বাংলাদেশের একটি গুরূত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

লোককথা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে বানররা একে অপরের হাত ধরে, লম্বা শিকল বানিয়ে নদী পারাপার করতো। বানরের বাঁধ থেকে বান্দরবান শব্দের উৎপত্তি। চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশন ১৯০০ দ্বারা এই অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে আরাকান রাজ্যের অংশ থেকে তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আওতায় আসে।এই অঞ্চলের রাজা, তথা সার্কেল চিফ এখনো কর (নামমাত্র) আদায় করেন। প্রতিবছর ঘটা করে ৩ দিন ব্যাপী বোমাং রাজ পুণ্যাহ এর মাধ্যমে এই কর বা খাজনা আদায় করা হয়।

কি কি দেখবেন

নীলগিরি: বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৪৭ কিমি দক্ষিণ পূর্বদিকে লামা উপজেলার অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ ফুট উপরে বাংলাদেশের নতুন পর্যটন কেন্দ্র নীলগিরির অবস্থান। যাকে বাংলাদেশের দার্জিলিং হিসেবে অবহিত করা যায়। যেখানে পাহাড় আর মেঘের মিতালি চলে দিনরাত। আপনিও ঘুরে আসতে পারেন ওই মেঘের দেশে। তবে যারা মেঘ ভালোবাসেন তারা জুন-জুলাইতে অর্থাৎ বর্ষাকালে ভ্রমণে গেলে বেশি মজা পাবেন। কারণ মেঘ তখন মেঘের আনাগোনা বেশি।

নীলগিরি যেতে হলে আগে থেকে ল্যান্ডক্রুজার জিপ ভাড়া করতে হবে। সময় লাগবে আসা-যাওয়ায় সাড়ে চার ঘণ্টা। ভাড়া সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্ধারিত আসা-যাওয়া-ছোট জিপ- ৫ সিট ২৩০০ টাকা এবং বড় জিপ-৮ সিট- ২৮০০ টাকা। কিন্তু এখানে ড্রাইভাররা আপনার কাছে আরো অনেক বেশি চাইতে পারে যা।

স্বর্ণমন্দির: বর্তমানে স্বর্ণমন্দির উপাসনালয়টি বান্দরবান জেলার একটি অন্যতম পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এই ‘বৌদ্ধ ধাতু জাদী’ কে স্বর্ণমন্দির নামকরণ করা হয়। এটি বৌদ্ধ ধর্মাম্বলীদের একটি উল্লেখযোগ্য উপাসনালয়। যা বান্দরবান শহর থেকে ৪ কিমি উত্তরে বালাঘাট নামক এলাকায় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত।

এটির নির্মাণশৈলী মিয়ানমার, চীন ও থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ টেম্পলগুলোর আদলে তৈরি করা হয়। বান্দরবান ভ্রমণে আপনিও এই জাদী বা স্বর্ণমন্দিরটি একবার স্বচক্ষে দেখে আসতে পারেন।

মেঘলা: নাম মেঘলা হলেও মেঘের সাথে মেঘলা পর্যটন স্পটের কোন সর্ম্পক নেই। বান্দরবান জেলা শহরে প্রবেশের ৭ কিমি আগে মেঘলা পর্যটন এলাকাটি অবস্থিত। এটি সুন্দর কিছু উঁচু নিচু পাহাড়বেষ্টিত একটি লেককে ঘিরে গড়ে উঠে। ঘন সবুজ গাছ আর লেকের স্বচ্ছ পানি পর্যটককে প্রকৃতির কাছাকাছি টেনে নেয় প্রতিনিয়ত। পানিতে যেমন রয়েছে হাঁসের প্যাডেল বোট, তেমনি ডাঙ্গায় রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা। আর আকাশে ঝুলে আছে রোপওয়ে কার। এখানে সবুজ প্রকৃতি, লেকের স্বচ্ছ পানি আর পাহাড়ের চূড়ায় চড়ে দেখতে পাবেন ঢেউ খেলানো পাহাড়ি বান্দরবানের নয়নাভিরাম দৃশ্য। মেঘলা পর্যটন স্পটের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের বান্দরবান পর্যটন হোটেলটি।

শৈলপ্রপাত: শৈলপ্রপাত বান্দরবান শহর হতে ৭ কিমি দক্ষিণ পূর্বে চিম্বুক বা নীলগিরি যাওয়ার পথে দেখা যাবে।

নীলাচল: নীলাচল বান্দরবান শহর হতে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে ১৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত একটি পর্বত শীর্ষ। যেখান থেকে নীলআকাশ যেন তার নীল আঁচল বিছিয়ে দিয়েছে ভূমির সবুজ জমিনে। যে দিকে দুচোখ যায় অবারিত সবুজ ও নীল আকাশের হাতছানি। মুগ্ধতায় ভরে উঠে মন প্রাণ।

মিলনছড়ি: মিলনছড়ি বান্দরবান শহর হতে ৩ কিমি দক্ষিণ পূর্বে শৈলপ্রপাত বা চিম্বুক যাওয়ার পথে পড়ে। এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি আছে। পাহাড়ের অতি উচ্চতায় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে পূর্ব প্রান্তে অবারিত সবুজের খেলা এবং সবুজ প্রকৃতির বুক ছিড়ে সর্পিল গতিতে বয়ে সাঙ্গু নামক মোহনীয় নদীটি।

চিম্বুক: চিম্বুক বান্দরবনের অনেক পুরনো পর্যটন স্পট। বান্দরবান শহর হতে ২১ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে মিলনছড়ি এবং শৈল প্রপাত ফেলে চিম্বুক যেতে হয়। এখানে পাহাড়ের চূড়ায় রেস্টুরেন্ট এবং একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারদিকের সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য্য অবগাহন এখানে প্রকৃতিপ্রেমীদের টেনে আনে।

সাঙ্গু নদী: পূর্বের অতিউচ্চ পর্বত শীর্ষ থেকে সাঙ্গু নদী নেমে এসে বান্দরবান শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশে গেছে। বান্দরবান শহরের পূর্বে পাশে পাহাড়ি ঢালে বয়ে চলা সাঙ্গু নদী দেখতে দারুণ দৃষ্টিনন্দন।

কিভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে বান্দরবান যেতে আপনি ২/৩ টি রুট ব্যবহার করতে পারেন। ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে প্রথমে চট্টগ্রাম তারপর চট্টগ্রাম থেকে সোজা বান্দরবান।

চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান: বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে পূরবী এবং পূর্বাণী নামক দুটি ডাইরেক্ট নন এসি বাস আছে ৩০ মিনিট পর পর বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি-৭০ টাকা।

ঢাকা থেকে বান্দরবান গেলে: ঢাকা থেকে বান্দরবান পযর্ন্ত ডাইরেক্ট একটি গাড়ি চলে এস.আলম (নন এসি)। ভাড়া জনপ্রতি-৩৫০ টাকা। ছাড়ে এসআলমের কমলাপুর রেল স্টেশনের বিপরীত কাউন্টার থেকে।

খাবার: বান্দরবান শহরে খাবার হোটলের মান তেমন ভাল নয়। তবে যে হোটেলে আপনি থাকবেন সে গুলোতে রেস্টুরেন্ট আছে। এছাড়া আরো দুটি মোটামুটি মানের ভাল হোটেল হচ্ছে জেলা সদর বিল্ডিং এর কাছে ‘ফিয়েস্তা’ হোটেল এবং বান্দরবান বাজারের কাছে ‘তাজিংডং’ হোটেল। বান্দরবানে সব হোটেলে খাবারের মানের চেয়ে দামটা বেশি। রান্নায় মসল্লা ব্যবহার এবং হলুদের আধিক্য বেশি।

কোথায় থাকবেন:

বান্দরবান থাকার জন‍্য হোটেল বুকিং করতে পারেন জোভাগো ডটকম থেকে।

যা যা মেনে চলবেন:

১)  ভালো, মজবুত ব্যকপ্যাক নেবেন। হাতব্যাগ/ লাগেজ এসব চলবে না।

২) পুরো ট্যুরে নিজের ব্যাগ নিজের কাধে রাখতে হবে। পাহাড়ে ওঠার সময় মেকাপবক্স/ পারফিউম ইত্যাদি ফেলে দিতে হবে ওজন কমাতে। অতএব, কাপড় মাত্র ২ সেট নেবেন। অন্যান্য জিনিস যাই নেবেন ভেবে নেবেন। অযথা ব্যাগ ভারী করলে পরে কাঁদতে হবে।

৩)  ভালো, মজবুত স্যান্ডেল নিবেন। মাটিতে ভালো গ্রিপ করে, পিছলে যায় না এমন স্যান্ডেল নেয়া থেকে বিরত থাকুন।

৪)  সঙ্গে সবসময় আধা/এক লিটার পানি, সামান্য কিছু হাল্কা খাবার রাখবেন।

৫)  কলার পটাশিয়াম পেশির জন্য উপকারী। পাহাড়ে উঠলে পেশির উপর অনেক চাপ পরে। অতএব, বান্দরবন গেলে কলা খাবেন।

৬)  বেশি স্যালাইন খেলে রক্তচাপ বাড়ে, ঘাম বাড়ে ফলে আরও বেশি পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়। অতএব, সারাদিন চলার পথে বেশি স্যালাইন খাবেন না। পানি খাবেন। অনেক তৃষ্ণা পেলেও একবারে বেশি পানি খাবেন না। হটাৎ পেট ভারী হয়ে গেলে হাঁটতে পারবেন না।

৭)  মশা প্রতিরোধের জন্য অবশ্যই ওডোমস লোশন নেবেন।

৮)  হাঁটার সময় ফুটবলারদের মত আংলেট, নি-ক্যাপ পড়বেন।

৯)  টর্চ নেবেন। কম কম জ্বালাবেন। চার্জ শেষ হলে চার্জ দেয়া ঝামেলা।

১০)  প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন। অবশ্যই, অবশ্যই। যত দেরিতে রওনা হবেন, রোদে তত বেশি কষ্ট হবে। অলস কেউ থাকলে তাঁকে কক্সবাজার পাঠিয়ে দিন। বান্দরবন তার জন্য না।

১১)  জোঁকের জন্য সবার সঙ্গে সামান্য লবণ রাখবেন। জোঁক লাগলেই অযথা চেঁচামেচি না করে আপনার পাশের জনকে লবণ দিতে বলুন। জোঁক মরে যাবে।

১২)  দল ১০ জনের হলে ৫ জনের ২ টা দলে হাঁটবেন। কেউ যেন দল ছাড়া না হয়ে যায়।

১৩)  ক্যাপ পড়বেন সবাই।

১৪)  ছাতা/ রেইনকোট নেবেন।

১৫)  ব্যাকপ্যাক কাভার নিবেন সবাই। বা সকল জিনিস বড় পলিথিনে ভরে তারপর ব্যাকপ্যাকে ভরবেন।

১৬)  জ্বর, পেই কিলার, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিক, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ইত্যাদি নেবেন।

আপনার ভ্রমণ হোক আনন্দময়।

রেযুখাল তীরে নির্জন দ্বীপে

রাস্তার ওপর থেকে তাকালে গাছপালার আড়ালে চোখে পড়ে ছোট-বড় অনেক কুটির। বড় রাস্তার ঢাল বেয়ে নিচে নামতেই কানে আসে কলরব। দুই পাশের জলাধারে ঝিকমিক করে ভরদুপুরের রোদ্দুর। রাস্তার ওপর থেকে তাকালে গাছপালার আড়ালে চোখে পড়ে ছোট-বড় অনেক কুটির। বড় রাস্তার ঢাল বেয়ে নিচে নামতেই কানে আসে কলরব। দুই পাশের জলাধারে ঝিকমিক করে ভরদুপুরের রোদ্দুর।

জলপরীরা কোথায় থাকে? জলে যে থাকে; এ ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। হয়তো আস্তানা বানায় সুনীল সাগরের কোন নির্জন দ্বীপে। এমন দ্বীপে কে কে যেতে চান?

হিমছড়ি আর ইনানী সমুদ্র সৈকতের মাঝামাঝিতে রেযুখাল নদীর তীরে প্রকৃতির এক অপূর্ব লীলাভূমি জেলে পল্লী প্যাচার দ্বীপ। এখানে অবস্থিত মারমেইড ইকো রিসোর্টে রয়েছে থ্রি স্টার হোটেলের সুবিধা।

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে মারমেইড ইকো রিসোর্ট। রাস্তার ওপর থেকে তাকালে গাছপালার আড়ালে চোখে পড়ে ছোট-বড় অনেক কুটির। বড় রাস্তার ঢাল বেয়ে নিচে নামতেই কানে আসে কলরব। দুই পাশের জলাধারে ঝিকমিক করে ভরদুপুরের রোদ্দুর। গোটা তিরিশেক ভিলা আর বাংলোর নামেরও একই হাল। কিন্তু ঘরগুলো সত্যিই মন ভালো করে দেওয়ার মতো। বাইরে স্রেফ কুটিরের মতো দেখালেও ভেতরে মোটামুটি আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা মজুদ। স্নানঘরটায় ঢুকলে মুহূর্তেই মন ভালো হয়ে যায়। প্লাস্টিকের বোতলে ভর্তি বাজারি শ্যাম্পুর বদলে কাচের পাত্রে ভেষজ উপায়ে বানানো শ্যাম্পু। সেটা আবার সবুজ গাছের পাতা দিয়ে কায়দা করে ঢাকা। দুই পাশে দুটো কাঠগোলাপ ফুল গুঁজে দেওয়া। সাবান, শ্যাম্পু রাখা হয়েছে নারকেলের লম্বা একটা খোলের মধ্যে।

মারমেইড ইকো রিসোর্টে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন সব জিনিসপত্র যথাসম্ভব কম ব্যবহার করা হয়েছে। পেঁচার দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ বহাল রেখেই সব বাংলো তৈরি করা হয়েছে। ইয়োগা সেন্টার, স্পা, নৌকা ভ্রমণ, সম্মেলন কক্ষ, প্রেক্ষাগৃহ সব কিছুরই এখন ব্যবস্থা আছে এই পরিবেশবান্ধব অবকাশ যাপন কেন্দ্রে। মারমেইড রিসোর্টের মূল নকশা করেছেন স্থপতি জিয়াউদ্দিন খান।

নাগরিক কোলাহল নেই। হাঁকডাক নেই। দুপুরের রোদ মরে এলে কুটিরের সামনের বাঁশের বেঞ্চে গা এলিয়ে দিয়ে বসতে ভারি আরাম। এ সময়টা নৌকা ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ার জন্যও অতি উত্তম। বাংলোর সারি আর নারকেল গাছ পেরিয়ে হেঁটে গেলে রেজু খালের পাড়। দেখবেন, নীলচে রং ধরতে শুরু করেছে সবে সাগরের শাখা রেজু খালের পানিতে। পাশ দিয়ে ভেসে যাবে বাহারি সাম্পান। দূরে আদিগন্ত বিছিয়ে থাকা সমুদ্র। নৌকা থামবে ওপারের কোনো এক অজানা চরে। বালুকাবেলায় পা রাখতেই হুটোপুটি করে ছুটে পালাবে লাল কাঁকড়ার দল। দখিনা বাতাসের দোলায় মাথা নেড়ে যেন অভিবাদন জানাবে ঝাউবন। তারপর ইচ্ছেমতো নির্জন সাগরতীরে ছুটোছুটি। কোন ফাঁকে বেলা পেরিয়ে যাবে! ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও ক্ষতি নেই।

যত তাড়াই থাকুক, বোট ক্লাবের পাটাতনে পেতে রাখা ঢাউস কেদারায় একবার বসে যেতে ভুলবেন না যেন। আকাশে পূর্ণচন্দ্র। সামনে সাগরের জল। আশ্চর্য মৌনতায় ডুবে আছে সমস্ত চরাচর। মন চাইলে গা এলিয়ে বসে থাকুন গভীর রাত অবধি। একদম কাকপক্ষীটিও জ্বালাতন করতে আসবে না আপনাকে।

যাওয়া ও থাকা খরচ

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চেপে যেতে পারেন পেঁচার দ্বীপে। ভাড়া ২০০ টাকার মতো।

এ রিসোর্টে কটেজ আছে ৩০টি। এখানকার কটেজে বিভিন্ন ক্যাটাগরির রুম রয়েছে। প্রথম ক্যাটাগরির কটেজের রুম ভাড়া ২ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা আর দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ৮ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা। থ্রি স্টার হোটেলের যাবতীয় সুবিধা আছে এ রিসোর্টটিতে। এখানে দুপুর ও রাতের খাবার সি ফুড, ইউরোপীয়, ক্যারিবীয় ও দেশি ডিশ পাবেন।

নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থান

ইনানী বীচ

হিমছড়ি

ডুলাহাজরা সাফারী পার্ক

যোগাযোগ

মারমেইড রিসোর্ট, প্যাচার দ্বীপ, কক্সবাজার। মোবাইল : ০১৮৪১-৪৬৪৬৪

ঈদের ছুটি: খাগড়াছড়িতে পর্যটক কম এসেছে

পাহাড় ধসের আশাংকায় খাগড়াছড়িতে এবার পর্যটক কম এসেছে। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে আশানুরূপ পর্যটক আসেনি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। প্রতিবছর পাহাড়, অরণ্য, ঝরনা কিংবা আলুটিলা গুহার আকর্ষণে বিপুল পর্যটক আসলেও এই বছরে পাহাড় ধস এবং ছুটি কম হওয়ায় আশানুরূপ পর্যটক আসেনি বলে দাবি করেছে পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত হোটেল,মোটেল এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। এই মৌসুমে টানা বর্ষণ, রাঙামাটি, খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য জেলাগুলোতে পাহাড় ধসের কারণে টানা বন্ধেও পর্যটক আসছে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করছে গত বছরের তুলনায় এই বছর পর্যটকের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ইউনিট।

তবে ঈদের দিন ও পরের দিন পর্যটক কম থাকলেও তৃতীয়দিন থেকে পর্যটকদের ভিড় কিছুটা বেড়েছে। খাগড়াছড়ির আলুটিলা, রিছাং ঝরনা ও ঝুলন্ত ব্রীজ এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছে। খাগড়াছড়িতে সবচেয়ে বেশী ভিড় লক্ষ্য করা গেছে জেলা সদর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে আলুটিলা রহস্যময় সুড়ঙ্গে। ঢাকা থেকে আগত পর্যটক ইয়াসিন আজিজ বলেন, ‘পাহাড় ধস ও বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভয় নিয়ে খাগড়াছড়ি এসেছি। এখানে আরো দুই দিন থাকব। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশেষ করে আলুটিলা গুহা এবং রিছাং ঝরনার সবচেয়ে বেশী দৃষ্টিনন্দন।

পর্যটক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নেচার ট্র্যাভেলস বাংলাদেশের পরিচালক মঈনুল হাসান বলেন, এই মৌসুমে ঈদের ছুটিতে বেশ কিছু বুকিং হয়েছিল, কিন্তু পাহাড় ধসের আতংকে অনেকে বুকিং বাতিল করেছে। যারা বুকিং বাতিল করেনি তাদের নিয়ে বেড়াতে এসেছি। তবে আশা করছি সামনের শীত মৌসুমে পাহাড়ে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে আগত পর্যটকের বাইরে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় পর্যটকদের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। নানা বয়সের বিনোদন প্রিয় মানুষে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখছে।

খাগড়াছড়ি বেসরকারি আবাসিক হোটেল গাইরিং এর কর্মকর্তা মো.নয়ন খান বলেন, গত মৌসুমের তুলনায় এবার পর্যটক কম এসেছে। গত মৌসুমে একমাস আগেই হোটেলের সব রুম বুকিং হলেও এবার ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন আমাদের হোটেলের মাত্র ৫০ শতাংশ রুম বুকিং হয়। তবে চতুর্থ দিন রুম বুকিং কিছুটা বেড়েছে। তিনি বলেন, পর্যটক আসলেও বেশীর ভাগই সাজেক চলে যাওয়ায় আমাদের বুকিং কম থাকে।’ খাগড়াছড়ি জীপ মালিক সমিতির লাইন সম্পাদক (লাইন কট্রোলার) অরুন কান্তি দে বলেন, ঈদের পর থেকে খাগড়াছড়িতে পর্যটক সংখ্যা বেড়েছে। তবে এবারে বর্ষণ এবং পাহাড় ধসে খাগড়াছড়ি সাজেকে প্রায় ৫ দিন যান চলাচল বন্ধ ছিল। তাছাড়া এবছর সরকারি ছুটি কম হাওয়ায় পর্যটক গত বছরের তুলনায় কম এসেছে।’

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো.আলী আহমদ বলেন, খাগড়াছড়ির ঝুলন্ত ব্রীজ, রিছাং ঝরনা, আলুটিলাসহ পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে নিরাপত্তার জন্য আমাদের নিয়মিত টহল টিম থাকে। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে আসা বাড়তি পর্যটকের নিরাপত্তার জন্য বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে দর্শনার্থীর উপছে পড়া ভিড়

হোসেন বাবলা:
নগরীর পতেঙ্গায় কোরবানীর ঈদে শেষ সময়ের ছুটি কাটাতে ও বিনোদনে নাগরিক সভ্যতায় কিছুটা স্বস্তির নিঃস্বাশ ফেলতে চট্রলার পর্যটন কেন্দ্র সমুদ্র সৈকত(সী-বিচ) পাড়ে লাখ দর্শনার্থীর মিলন মেলায় লোকে লোকারন্য ছিল দেখার মতো।ঈদের ছুটি শেষ বিকেলে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বষসীর মানুষ খানিকটা মনের প্রশান্তি দূর করতে বিচে আসে দল বেধেঁ।
মঙ্গলবার বেলা বাড়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন যান বাহন যোগে সৈকত তীরে রঙচঙ্গা জমাপড়ে পাথরের বক্লে বসে কিছু সময় কাটান ব্যস্ত নাগরিকগণ। মানুসের এই বিশার জনস্রোত দেখে বিখ্যাত ভ্রমন লেখক সৈয়দ মোস্তফা আলী’র পথে প্রবাসে বইটির কথা বারবার মনে পড়ে গেল।
সেই জন্য তো বিচের আশ –পাশে বিভিন্নি স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফসরা সাজানো দোকানগুলোর দিকে চোখ যেতেই দেখা যাই মজার মজার রসালো খাবার ডিস তরে তরে সাজানো। এক একটি দোকানে এক এক রকম দাম-দর,আবার সৈকতের নিচেই নানা রঙের মুখরোচক খাদ্য ।বেশ বেশ মিলনের হাট যেন সাগরের ভিজে বালুকে পায়ের গর্জনে শুকিয়ে কুড়মুড়ে মুড়ির মতো করে তোলে।
পিছনে ভাদ্রের শেষ বিকেলের লাল সূর্য্যি মামা নানাবাড়ী থেকে বিদায় নিতেই আকাশ পানে কালো মেঘের ছায়া কে ঢেকে দিয়ে সন্ধ্যা কে আগামী দেন।এর মাঝে বিচ বেপারীরা সাময়িক বিনোদনের জন্য সী-বোট,স্প্রীটবোট,বৈঠা বোট,বিজ বাইক,অচল ঘোড়া,ইচ্ছে ঘুঁড়ি এবং ক্লিক-ক্লিক ফ্ল্যাস(ফটোম্যান)। যারা আগত দর্শনার্থীদের কিছুটা আনন্দ দিয়ে ভুলিয়ে দেন লুকিয়ে থাকা মনের যন্ত্রনা টুকু।
পতেঙ্গা বীচ কে ঘিরে আরো বেশ কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সেগুলো হল-নেভাল পার্ক (গলপক্লাব),বাটারফ্লাই পার্ক,নেভাল এভিনিউ(১৫নংঘাট থেকে )সী-বিচ রোড পর্যন্ত,বিমান বন্দর পার্ক,কাটগর মুসলিমাবাদ-দক্ষিণ হালিশহর আনন্ন্দপাড়া(আকমল আলী সৈকতপাড়),হালিশহর আনন্দ বাজার থেকে কাট্রলী সী বিচ(সাঙ্গু গ্যাস)এরিয়ায় ব্যাপক ভাবে বিনোদন কেন্দ্র সৃষ্টি হয়েছে । যেখানে গিয়ে প্রাকৃতিক সুনিবিড় বিনোদন পিপাসা মিঠানোই নাগরিক সভ্যতার অনেক সৌখিন লোকদের স্ব-পরিবারে সময় কাঠাতে দেখা যাই।তাই তো এই অফুরন্ত ছুটিতে দল বেধেঁঘুরে বেড়াতে অনেকেই এসেছে তাদের মনের ইচ্ছে ঘুড়িটিকে উড়িয়ে অবস্বাধ গ্রহনে।
তবে দীর্ঘতর এই ভ্রমনে স্থানে অনেকেই আবার পর্যটনের অব্যবস্থাপনা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।সৈকতে নামার সিড়ি না থাকায় এবং রুচিশীল খাবার স্টোর,বসারস্থান ও পর্যাপ্ত নারী-পুরুষের টয়লেট ,বিশুদ্ধপানীয়-জলের তীব্র অভাব,টুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব না থাকা সহ নানা ব্যবস্থা।আর রাত্রে পুলিশ চেকপোস্টের নামে হযরানী সহ উল্টা-পাল্টা কথা বলে টাকা আদায়।এগুলো দূর করে পর্যটনের আসু সুবিধা বাড়ালে এই খাতে রাজস্ব পাবে দেশের সরকার।

Scroll To Top