যে রাত হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই , ২০১৫ সময় ১১:৪০ অপরাহ্ণ

যে রাত হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যে রাতে সর্ব সক্তিমান আল্লাহ নেমে আসেন প্রথম আসমানে, যে রাতে জিবরাঈল (আ.) নেতৃত্বে সমগ্র পৃথিবী জুরে রহমতের ফেরেশতাদের আগমন হয় এবং যে রাতে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয় সেই রাত হচ্ছে ‘ক্বদর’ রাত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বলেছন-
إِنَّا َأنْزَْلنَاهُ فِي َليَْلةِ الَْقدْرِ ﴿ ١﴾ وَمَا َأدْرَاكَ مَا َليَْلةُ الَْقدْرِ ﴿ ٢﴾ َليَْلةُ الَْقدْرِ خَيْرٌ مِنْ َألْفِ شَهْرٍ ﴿ ٣﴾ تَنَزَّلُ الْمَلَائِ َ كةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ ُ كلِّ َأمْرٍ ﴿ ٤﴾ سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطَْلعِ اْلَفجْرِ ﴿ ٥﴾ القدر

“নিশ্চয় আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এক মহিমান্বিত রজনীতে। আর মহিমান্বিত রজনী সম্পর্কে তুমি কী জান ? মহিমান্বিত রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতেই ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। সে রাত শুধু শান্তি আর শান্তি ফজর পর্যন্ত। (সূরা আল-কদর)

অধিক সম্ভাবনার ভিত্তিতে ২৬ রমজান দিবাগত রাতটি মুসলিম উম্মাহর নিকট সেই প্রত্যাশিত মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর হিসেবেই পরিচিত। তবে রাসূল পাক (সাঃ) রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতে এই মর্যাদাবান রজনীকে খুঁজতে বলেছেন।

হযরত আয়েশা রা: বর্ণনা করেছেন, যখন (রমাদানের) শেষ দশদিন এসে যেতো, তখন নবী করীম সা: তাঁর পরনের কাপড় শক্ত করে বেঁধে নিতেন (অর্থাৎ দৃঢ়তার সাথে প্রস্তুতি নিতেন), রাত জাগতেন এবং পরিবারের লোকদেরকেও জাগিয়ে দিতেন। (আল-বুখারী)

এই রজনীতে মহান আল্লাহ্তায়ালা পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ করেন। হেরা গুহায় ধ্যানরত রাসূলে পাক (সাঃ)-এর কাছে প্রথম পৌঁছান মুক্তির বাণী ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক’। এই রাতের মহিমা বর্ণনা করতে গিয়ে কোরান শরীফে সূরা কদরে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, হাজার মাসের চেয়ে সর্বোত্তম এই রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, শবে কদরে হজরত জিবরাঈল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট একদল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ এবাদতে মশগুল থাকে তাঁদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এ রাতে শেষ আসমানে এসে আল্লাহ্পাক তার বান্দাদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, তোমাদের মাঝে এমন কে আছো, যে আমার কাছে নাজাত চাও? কল্যাণ চাও? তোমাদের মধ্যে কে আছো, যে মুক্তি চাও? আল্লাহ এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে রহমত, বরকত ও মাগফিরাত লাভের আশায় মুসলমানরা আজ সারা রাত ইবাদত-বন্দেগির মধ্যমে লাইলাতুল কদরে উদযাপন করবেন।

প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, এই রাতের যথাযথভাবে হক আদায় করে মহান আল্লাহর পক্ষথেকে কল্যাণ, ফযীলত, বরকত ও আশাতীত সওয়াব লাভে ধন্য হওয়া।

লাইলাতুল কদর বা কদরের রাতে আমাদের কি কি করণীয় ? :
কুরআন ও হাদীসের আলোকে এ রাতে আমাদের করণীয় হলো :- (১) মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের ভিত্তিতে প্রত্যেক অভিভাবক নিজে রাত জাগবেন এবং পরিবার-পরিজনকে জাগরণে উদ্বুদ্ধ করবেন। (২) সাধ্যানুপাতে তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ নামায লম্বা কিরাআত ও লম্বা রুকু সিজদা দ্বারা দীর্ঘক্ষণ যাবৎ আদায় করবেন। সিজদায় তিন বা ততোধিক বার সিজদার তাসবীহ পাঠ করে কুরআন ও হাদীসে উল্লেখিত দু’আসমূহ পাঠ করবেন। (৩) অতীতের কবীরা গুনাহ বা বড় পাপের জন্য একনিষ্ঠভাবে তাওবা করবেন ও অধিকরূপে ইস্তেগফার করবেন। (৪) কুরআন মাজীদ পাঠ করবেন। শরীয়াত সম্মত পদ্ধতিতে তথা চুপিসারে, একাকী, রিয়ামুক্ত অবস্থায় যিকির-আযকার করবেন। (৫) পাপ মোচনসহ পার্থিব ও পরকালীন সার্বিক মুক্তি ও কল্যাণের জন্যে বিনয়ী ভাবে একাগ্রচিত্তে দু’আ কবুলের প্রত্যাশা নিয়ে দু’আ করবেন। নিম্নের দু’আ বিশেষভাবে পাঠ করবেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী ” অর্থ: হে আল্লাহ তুমি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমাকে পছন্দ কর, আমাকে ক্ষমা করে দাও।

অনেকে খুব পেরেশান থাকেন যে, কদরের নামাযের নিয়্যাত কি? কোন-কোন সূরা দিয়ে নামায পড়তে হবে? আমাদের ভালভাবে জানা থাকা প্রয়োজন যে, ইশার নামাযের পর থেকে নিয়ে ফযর পর্যন্ত যে নফল নামায পড়া হয়, তাকে বলা হয় কিয়ামুল-লাইল বা তাহাজ্জুদ। অতএব কদরের রাতে ইশার পর থেকে ফযর পর্যন্ত যত নামায পড়া হবে সে গুলোকে নফলও বলা যাবে অথবা তাহাজ্জুদও বলা যাবে। লাইলাতুল কদর উপলক্ষে নামাযের জন্য বিশেষ কোন নিয়্যাত নেই এবং নির্ধারিত কোনও সূরা দিয়ে পড়তে হবে এমনও কোন নিয়ম নেই।

আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে বেশি-বেশি করে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে লাইলাতুল কদরের ফযীলত অর্জন করে তার নৈকট্য লাভের তাওফীক দান করুন। আমীন


আরোও সংবাদ