প্রধানমন্ত্রীকে কওমি মাদ্রাসায় ‘হাত’ না দিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আহমদ শফী

প্রকাশ:| শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৯:৪৬ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি। যাতে তিনি হেদায়েত হন।
আল্লামা শফী Allama Sah Ahmed Shafi
হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কওমি মাদ্রাসায় ‘হাত’ না দিতে বলেছেন।
আজ শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে আহমদ শফী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ দেন।
৫ মে এর বিপর্যয়ের অন্যতম দুই শীর্ষ নেতাকে পূর্বের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ দিয়ে ২০১ সদস্য বিশিষ্ট শুরা কমিটি পূর্ণ গঠন করল হেফাজতে ইসলাম এর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার আল জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রসায় হেফাজত নেতাদের শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলনে এ কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া গঠন করা হয়েছে ২৫ সদস্যের একটি নীতি নিধারক কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
আল্লামা শফী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসায় হাত দিলে ক্ষতি হবে। গুলি করলে প্রয়োজনে শহীদ হব। স্কুল-কলেজ নিয়ে থাকেন। ব্রিটিশ সরকারও কওমি মাদ্রাসাকে ধ্বংস করতে চেয়ে পারেনি।’হেফাজতের কর্মীরা জঙ্গি নন, দাবি করে আহমদ শফী বলেন, ‘আমরা সরল মানুষ। দ্বীনের জন্য ইসলামের জন্য কাজ করছি। আমাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই। হাতিয়ার আছে শুধু দোয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি। যাতে তিনি হেদায়েত হন।’

সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি আদায় এবং কওমি মাদ্রাসার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষাদানের লক্ষ্যে সরকার গঠিত ‘কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩’ বাস্তবায়ন প্রচেষ্টার প্রতিবাদে চার মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।কর্মসূচির মধ্যে আছে কওমি শিক্ষা আইন পাসের চেষ্টার প্রতিবাদে ২৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান, ৩০ অক্টোবরে মধ্যে হেফাজতের সব জেলা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন, ১৩ দফা দাবিতে ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বর বিভাগীয় শহরে সুধী সমাবেশ, ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে মহাসম্মেলন। ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি সব জেলায় রেসালত সম্মেলন। এর মধ্যে দাবি না মানলে সচিবালয় ঘেরাও করে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। এ ছাড়া ৫ মের ঘটনায় ‘শহীদদের কবর জিয়ারত’ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে প্রয়োজনীয় তথ্য কেন্দ্রে পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে।

হেফাজতের ১৩ দফার উল্লেখ করে আহমদ শফী বলেন, ‘কাউকে ক্ষমতায় বসাতে কিংবা নামাতে আমাদের এ আন্দোলন নয়। ক্ষমতায় এলে খালেদা জিয়াকেও এ দাবি মানতে হবে।’

হেফাজতকে অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করে শফী বলেন, ‘ভোট স্বাধীন মত। আওয়ামী লীগ, বিএনপি যাকে ইচ্ছা ভোট দিতে কোনো অপরাধ নেই। তবে ধর্মের ওপর কোনো জুলুম করা যাবে না। অনেকেই বলেন, হাসিনা-খালেদা হেফাজতকে ৭০ সিট দেবেন। সব মিথ্যা কথা।’ ‘স্কুল-কলেজে দুই পক্ষে মারামারি করে। মাদ্রাসায় এ রকম কোন ঘটনা নেই। এখানে আদব শিক্ষা দেওয়া হয়। এতিম মিসকিনদের এনে এদিক ওদিক থেকে অর্থ সংগ্রহ করে খাওয়ানো, পরানো ও শিক্ষা দেওয়া হয়। সরকারের এসব কাজ আমরা করি। তার পরও সরকার কওমি শিক্ষা নিয়ে লেগে আছে।’

এদিকে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন পাসের পদক্ষেপ বন্ধ, শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার বিভাগীয় সুষ্ঠুু তদন্ত, মুফতি ওয়াক্কাসসহ গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার, ১৩ দফা বাস্তবায়ন, সজীব ওয়াজেদের বক্তব্য প্রত্যাহার, কোরআন-সুন্নাহবিরোধী নারী নীতিমালার ধারাসমূহ বাতিলসহ আট দফা দাবি তুলে ধরে হেফাজতে ইসলাম।