ভালোবাসার উপহার

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১০:০৩ অপরাহ্ণ

ভালোবাসা দিবস আসছে। ফাগুন রাঙা আগুনের দিনে প্রিয় মানুষের সানি্নধ্য সবাই পেতে চান। আর এইসব বিশেষ দিনগুলোতে প্রিয় মুহূর্তকে আরো বেশি সজীব, রঙিন করে রাখতেই একজন বন্ধু, ভালোবাসার, ভালো লাগার মানুষকে দেয় উপহার। পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এই উপহারের ছড়াছড়ি নিয়ে আজকের লেখা

ফ্যাশন হাউসগুলো ইতোমধ্যেই বাজারে আনতে শুরু করছে ভালোবাসা দিবসের উপহার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অর্ণব বলছিল তামান্নার জন্য কি কিনবে, ‘উপহার তেমন কিছু না হলেও, পেতে কার না ভালো লাগে! ওর জন্য কয়েক ডজন চুড়ি কিনে একটি ঝুড়িতে দেব বলেই ভাবছি। ওর চুড়ি খুব পছন্দের’ কথা হচ্ছিল নাতাশার সাথে, এখনো কিছু কেনেনি ক’দিন পরই আরো অনেক উপহার থেকে বেছে দেবেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তানিম বলছিলেন অন্য কথা, ভালো তো প্রতিদিনই বাসি। একটা বিশেষ দিন স্মরণ করে সেই ভালোবাসা উদযাপনে ক্ষতির কিছু দেখি না। তবে তার জন্য যে ভালোবাসার মানুষই লাগবে, তা কেন? ছোট বোনেরা এবং কাজিনদের জন্য মেয়েদের হল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে পায়েল কিনবেন তিনি সবার জন্য। ভালোবাসা দিবসে যাকেই যা দিন না কেন, একটু অন্যরকম করে দিতে চাইলে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন এই ফিচারটিতে।
যেকোনো মানুষই তার নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভালোবাসে। তার সম্পর্কে অন্য মানুষের যে মূল্যায়ন সেটিও জানবার আগ্রহ থাকে অনেকের মনে। কাজেই আপনার প্রিয় মানুষটির অজান্তে এবং তাকে বুঝতে না দিয়ে তার কাছের মানুষদের মন্তব্য বা জন্মদিন হলে জন্মদিনের শুভেচ্ছা একটি সুদৃশ্য ডায়রিতে লিখে নিন। তারপর সুন্দরভাবে প্যাক করে তার সাথে নিজের মন্তব্যটি আলাদা করে জুড়ে দিন। দেখবেন আপনার প্রিয় মানুষ কি ভীষণ রকম চমকে যাবে আপনার এই উপহারে। এটা হতে পারে এবারের পহেলা ফাল্গুনে। এর পরের দিন তো ভালোবাসার দিনই। উপহার দিতে পারেন সেদিনও।
আপনি যাকে গিফট দিচ্ছেন সে যদি আপনার খুব পরিচিত কেউ যেমন ভাই- বোন, মা-বাবা, বন্ধু বা প্রিয় কেউ হয় তাহলে তার কি প্রয়োজন সে বিষয়টিও আপনার জানা থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে আগে থেকে জানা অথচ প্রয়োজনীয় কিছু গিফট করেও বাহবা কুড়ানো যেতে পারে।
উপহার দেয়ার মানে দামী কিছু দিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা নয়। বরং আপনার উপহার আপনার আন্তরিকতা কতটা প্রকাশ করে সেটিই মুখ্য বিষয়। কাজেই বাজার থেকে কেনা উপহারই হোক কিংবা নিজের বানানো কোনো উপহার তাতে যেনো আন্তরিকতার ছোঁয়া থাকে সেটি নিশ্চিত করুন। উদাহরণস্বরূপ কেনা কোনো উপহারের সাথে যোগ করে দিন আপনার নিজের লেখা চিঠি বা হাতে বানানো ছোট একটা কিছু। অন্যদিকে যারা রান্না-বান্নায় সিদ্ধহস্ত তারা প্রিয় মানুষের জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীতে তার প্রিয় কোনো খাবার রান্না করে দিতে পারেন।
ভালোবাসার উপহার১বইমেলার সময় এখন, বই কিনে দিতে পারেন : চমক দেয়া গিফটের জন্য যারা খানিকটা ঝুঁকি নিতে রাজি তারা চাইলে প্রিয় মানুষটিকে না জানিয়ে তার জন্য বিশেষ কোনো আয়োজন করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে না জানিয়েই আপনাদের নিকটজনকে একটি রেস্তোরাঁয় দাওয়াত করতে পারেন। তারপর আপনি শুধু আপনার প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে খেতে যাচ্ছেন এমন একটি ভাব করে সেই রেস্তোরাঁয় যান। নিজের অজান্তে এতো বড় একটা আয়োজন দেখে প্রিয় মানুষটি অবশ্যই চমকাবেন।
এবারের ফাল্গুনে বা ভালোবাসার দিনে প্রথাগত গিফট না দিয়ে প্রিয় মানুষটির পছন্দের প্রতি লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করুন। উদাহরণস্বরূপ সে যদি বই পড়তে বা মুভি দেখতে ভালোবাসে তাহলে তাকে ভালো কিছু বই বা মুভি’র ডিভিডি উপহার দেয়া যেতে পারে।
যাকে উপহার দেয়া হচ্ছে সে যদি এ বিষয়ে ভীষণরকম খুঁতখুঁতে স্বভাবের হয় তাহলে তার হাতে সরাসরি টাকা দেয়ার চাইতে কোনো একটা নামী দোকানে গিফট্ ভাউচার ধরিয়ে দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ভালোবাসার উপহার২এবার জেনে নিন ভালোবাসার মানুষ বা প্রিয়জনকে তাদের বিশেষ দিনে উপহার দেয়ার খবরাখবর। বন্ধুর জন্মদিনে যদি সম্ভব হয় তাহলে রাত ১২টা ১ মিনিটে তার বাসায় কেক ও গিফটসহ উপস্থিত হয়েও তাকে চমকে দেয়া যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা এবং বন্ধুর সুবিধা-অসুবিধার কথাও মাথায় রাখতে হবে।
নানা সময়ে তোলা প্রিয় মানুষের ছবিগুলো যদি তার কাছে দুর্লভ হয় তাহলে অন্য উপহারের সাথে এই ছবিগুলোর প্রিন্টও গিফট করতে পারেন।
প্রিয় মানুষটির পেশা বা নেশা সম্পর্কিত কিছু দিতে পারেন। কবি মানুষ হলে ডায়েরি আর খুব ভালো কলম দিন। ফটোগ্রাফার হলে ক্যামেরার খাপ, স্ট্যান্ড বা ভালো লেন্স দিতে পারেন। আর যদি শখের
ফটোগ্রাফার হয়। তার ছবিগুলো ফেসবুক বা ফ্লিকার থেকে নিয়ে প্রিন্ট করিয়ে নিন! পুরনো বইয়ের মলাট ছিঁড়ে তাতে খবরের কাগজ মুড়ে আর নানান রঙ্গীন কাগজের পৃষ্ঠা জুড়ে তাতে একটি-দুটি ছবি লাগিয়ে দিন! লেমিনেটিং করে নিতে ভুলবেন না! নয়তো কিন্তু ছবির বারোটা বেজে যাবে! এবার প্রতি পৃষ্ঠায় প্রিয় মানুষদের লেখা, পঙ্ক্তি বসিয়ে নিতে পারেন।
গিফট যাই হোক তাতে কোনো সমস্যা নেই তবে আপনার উপস্থাপনাটি আকর্ষণীয় হতে হবে। আর সুন্দর উপস্থাপনে মোড়কের কোনো বিকল্প নেই। কথায় আছে না প্রথমে দর্শনদারি আর তারপর গুণবিচারি। আপনার উপস্থাপনাটি আকর্ষণীয় করে তুলতে নিচে সামান্য কিছু টিপস্ দেয়া হলো। দেখুন চেষ্টা করে যতটুকু পারা যায় সুন্দর করতে আপনার উপস্থাপনাটি
র‌্যাপিং পেপার : সমান্য টাকার জন্য র‌্যাপিং পেপারে মুড়ে উপহার দিতে একুটও কার্পণ্য করবেন না।
বড়দের জন্য স্ট্রাইপড কিংবা এক রঙা কাগজ কিনুন। শিশুদের উপহার দেয়ার সময় মিকি মাউস, টেডিবিয়ার বা তাদের পছন্দের কার্টুন ক্যারেক্টারের ছবি অাঁকা কাগজ কিনুন এতে বাচ্চারা খুশি হবে।
পরিপাটি করে মুড়বেন, ভাঁজের কোণগুলো যেন নিখুঁত হয়। সেলো টেপ, কাঁচি হাতের নাগালে রাখুন।
গিফট ট্যাগ : নানা রকম গিফট ট্যাগ কিনতে পাওয়া যায় বাজারে। কাগজ কেনা থাকলে নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন পছন্দসই গিফট ট্যাগ।
রিবন : উপহারের মোড়কটিকে রিবন দিয়ে আরও আকর্ষণীয় করা যায়। র‌্যাপিং পেপারের সঙ্গে রঙ মিলিয়েও বেঁধে দিতে পারেন। ফুল করা ফিতাও কিনতে পাওয়া যায়। বেশ কয়েকটি রঙের কিনে রাখলে প্রয়োজন মতো মোড়কের ওপর লাগিয়ে দিতে পারেন। কি জাতীয় উপহার, তার ওপর নির্ভর করবে রিবন ফ্লাওয়ারের সাজসজ্জা। নিজেও বানিয়ে উপহারের মোড়কে লাগাতে পারেন।
রঙ বেরঙের ব্যাগ : হাতে তৈরি কাগজের ব্যাগ কিনে রাখুন। আপনি যদি ক্রিয়েটিভ হন তাহলে নিজেও বানিয়ে নিতে পারেন কাগজের ব্যাগ। আজকাল অনেক দোকানে বিভিন্ন রঙের সুন্দর সুন্দর গিফটব্যাগ পাওয়া যায়।
নানা রকম মোড়ক : বাজারে বিভিন্ন ধরনের একরঙা কাগজ পাওয়া যায়। হাতের তৈরি এসব কাগজ দিয়ে মোড়ক বানিয়ে উপহারটি ভরে দিন। প্লাস্টিক ব্যাগ বানিয়ে ভরে দিন একমুঠো চকলেট।
ভালোবাসার উপহারলাল টুকটুকে হ্যান্ডসেড পেপারে তিনকোণা মোড়ক বানিয়ে ভরে দিন ছোট পারফিউমের শিশি। বন্ধুকে একটি শাড়ি দিতে চান, তাহলে শাড়ির দোকানের বাক্স ফেলে লেমিনেটেড কাগজে প্যাকেটের ভাঁজের আকারে মোড়ক বানান। তাতে উপহারের আবেদন বেড়ে যাবে। দৈনিক পত্রিকার কাগজ দিয়ে সুন্দর করে উপহারটা মুড়ে দিন। রঙিন ছোট কাগজের টুকরো লাগিয়ে নিতে পারেন। তার উপর গাঢ় রঙ দিয়ে দুটি ফুল এঁকে দিতে পারেন। মিষ্টির জন্য রকমারি হাডড়ি ও বাক্স পাওয়া যায়। কুলোয় সাজিয়ে দিতে পারেন রকমারি শৌখিন জিনিস।

প্রাপ্তিস্থান : সবকটি মার্কেটের বিভিন্ন শো-রুমে র‌্যাপিং পেপার ও নানা ধরনের ব্যাগ পাবেন।


আরোও সংবাদ