বেগম জিয়ার সংগ্রামী জীবন থেকে সকল নেতাকর্মীকে শিক্ষা নিতে হবে

প্রকাশ:| বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:৪১ অপরাহ্ণ

bnp 11.9_nবেগম খালেদা জিয়ার ষষ্ঠ কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন আপোষহীন সংগ্রামী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন থেকে সকল নেতাকর্মীকে শিক্ষা নিতে হবে,দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সকল নেতাকর্মীকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। দেশকে মুক্ত করতে হবে ফ্যাসিস্ট জুলুমবাজ সরকারের কবল থেকে।
দলে যাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে তা ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।

তিনি বলেন, আগামীতে সরকার বিরোধী আন্দোলন সফল করতে হলে নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিভেদ থাকলে এ সরকার আমাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে। তাই ঐক্য বদ্ধ হওয়া জরুরি।

বুধবার বিকেলে নগরীর লালদিঘী মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করে জাতায়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা(জাসাস)।

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ছাত্রদল, যুবদলে যাদের মধ্যে বিভেদ আছে তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দলের মধ্যে ব্যক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে। তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

‘যুবদলের আবুল হাসেম বক্কর, কাজী বেলাল আমাকে কথা দিয়েছে, ছাত্রদলের রাশেদ ও গাজী সিরাজ আমাকে কথা দিয়েছে বিবেধ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার।’

সরকারের অনিয়ম-অত্যাচার দুর্নীতির কথা তুলে ধরে নোমান বলেন, সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ লুটেরা এই সরকার সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের টাকা বিদেশে পাঠিয়েছে। বিএনপি নেতাদের গুম করেছে খুন করেছে।‘

‘তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবে। আর তাই তারা দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় যেতে চায়। কারণ ক্ষমতায় যেতে না পারলে জনগণ তাদের বিচার করবে।’

তিনি বলেন,‘এজন্য হয়তো আবার আমাকে জেলে যেতে হবে। জেল আমাকে ডাকছে। আমাদের নেতা-কর্মী রক্তাক্ত হবে। কিন্তু এর মধ্য দিয়েই মুক্তি আসবে।‘

এ কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সরকার গণতন্ত্রের কথা বললেও মূলত গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে অভিযোগ করে নোমান বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু গণতন্ত্র এখনো প্রতিষ্ঠা হয়নি।

তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি ছাড়া বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হতে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ২৪ অক্টোবর থেকে এ সরকারের কথা আর মানব না।

গোলাম আকবর খন্দকার বলেন,‘জাতীয় নিরাপত্তাসহ সব ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ। আর তাই দলীয় নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়। কিন্তু মানুষ তা মানবে না।

‘অক্টোবরের ২৪ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এরমধ্যে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হলে তত্ত্বাবধায়কের দাবি মেনে নির্বাচন দেবেন। আর না হলে লাগাতার আন্দোলন শুরু হবে।’

জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মুনির খান বলেন, বাংলাদেশেল সংস্কৃতিতে অপসংস্কৃতি ঢুকে পড়েছে। আর তাই মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছি। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক আন্দোলনকে বেগবান করতে এ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

জাসাসের সভাপতি এমএ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি সাংসদ জাফরুল ইসলাম, বিএনপির সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক গাজী মাযহারুল আনোয়ার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক বেগম রোজি কবির, সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দিন, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাত হোসেন, জাসাসের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মনির খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।