সঙ্কট নিরসনে খালেদার ৭ দফা প্রস্তাব

প্রকাশ:| বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ০৭:৩৬ অপরাহ্ণ

চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে ৭টি প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বুধবার সন্ধ্যায় পূর্ব নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

খালেদা জিয়ার প্রস্তাবগুলো হলো-

১. নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নির্বাচন হতে হবে
২. নির্বাচরেন তারিখ ঘোষণার আগে সকল পক্ষের মতৈক্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। যাতে আরপিও সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায় থেকে দলীয় লোকজনকে সরিয়ে দিতে হবে। ভোটার তালিকার ত্রুটি বিচ্যুতি দূর করতে হবে।
৩. নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সাথে সাথে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
৪. নির্বাচনের অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামাতে হবে।
৫. নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে সারা দেশ থেকে অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পক্ষপাত দুষ্ট ও চিহ্নিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও অথবা দায়িত্ব থেকে সরাতে হবে।
৬. রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে, সব রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৭. বন্ধ সকল সংবাদপত্র ও স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল খুলে দিতে হবে। মাহমুদুর রহমানসহ সব সাংবাতিদককে মুক্তি দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাবিত এইসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সঙ্কট নিরসনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

এইসব প্রস্তাবের পক্ষে জনমত গঠনের লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া।

বক্তব্যের শুরুর দিকে খালেদা জিয়া বলেন, গত ৫ জানুয়ারি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষার অজুহাতে এককভাবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ। সেসময় সমঝোতার মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়ার কথা বলেছিল তারা। কিন্তু এখন তারা নিজেদের অঙ্গীকার মানছে না।
সঙ্কট নিরসনে খালেদার ৭ দফা প্রস্তাব
ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে সরকার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নিজেদের কব্জায় রাখতেই গণমাধ্যম নীতিমালা করেছে। একইভাবে বিচারবিভাগকে নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সংবিধান সংশোধন করেছে আওয়ামী লীগ।

তিনি বকশীবাজারে বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার পরিকল্পনা হচ্ছে। কিন্তু আমাকে মাইনাস করার সিদ্ধান্ত কেবল জনগণই নিতে পারেন।’

তিনি আরো বলেন, জাতীয় সংসদ কার্যত বিরোধী দলশূন্য হয়ে পড়েছে। কোনো বিরোধী দল ৫ জানুয়ারিরর নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ৯৫ শতাংশ লোক নির্বাচন বর্জন করেছে।’ ভোটবিহীন নির্বাচনের এ সরকার জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।