‘সকল প্রকার শিশুশ্রম নিরসনে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে’

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ২৮ জুলাই , ২০১৮ সময় ১০:০৩ অপরাহ্ণ

ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুদের প্রত্যাহারে সমাজের সকল স্তরের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরি।জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পসহ সকল ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

শনিবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রাম ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম নিরসন এবং গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫ বাস্তবায়ন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে সকল প্রকার শিশুশ্রম নিরসনে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে এক লাখ শিশুকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম নিরসন প্রকল্পের আওতায় এসকল শিশুকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বি হতে সহায়তা করা হবে।

তিনি জেলা প্রশাসকদেরকে নিজ নিজ জেলায় কোন খাতে কি পরিমাণ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে তার একটি তালিকা শ্রম মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সংসদ সদস্য মাহজাবীন মোরশেদ বলেন, গৃহকর্মীরা গৃহকর্তার আমানত। নিজের আমানতকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করবেন না।

মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান শিল্প কারখানা মালিকদের উদ্দেশে বলেন, শ্রমিককে নিরাপদে কাজ করার সুযোগ দিন। শিপ ব্রেকিং শিল্পকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করুন।

তিনি বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে তিন বছর মেয়াদী প্রায় তিন’শ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের ডাটাবেস করা হবে। একই সঙ্গে শিশুদের উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠার সুযোগ করে দিতে বাবা-মাকে সহায়তা করা হবে।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহার সভাপতিত্বে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. শামসুজ্জামান ভুঁইয়া, অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার মোস্তাইন হোসেন কর্মশালায় বক্তব্য দেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ।

কর্মশালা শেষে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে পাঁচ জন অসুস্থ, দুর্ঘটনায় নিহত, পঙ্গু শ্রমিক এবং নারী শ্রমিকের মাতৃত্বকালীন সহায়তা হিসেবে দুই লাখ ষাট হাজার টাকার চেক প্রদান করেন।