অধ্যক্ষকে ছাত্রলীগ নেতা রনি’র কিল-ঘুষি

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ১১:৩২ অপরাহ্ণ

বাংলা ট্রিবিউন:: বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. জাহেদ খানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বাড়তি ফি না দিয়ে চলে যেতে চাইলে অধ্যক্ষকে অফিসে বসিয়ে রেখে টাকা আদায় করা হয়। তবে কলেজের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, অধ্যক্ষকে কিল-ঘুষি দেওয়া হয়েছে। আর অধ্যক্ষ বলছেন, ওই ছাত্রলীগ নেতার চাপের মুখেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

সোমবার (২ এপ্রিল) নুরুল আজিম রনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কলেজের অধ্যক্ষ ২৯ মার্চ আমাদের প্রতিবাদের মুখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি হিসেবে আদায় করা বাড়তি ৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা দিয়েছিলেন। ৩১ মার্চ তার ওই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।’

.

রনি বলেন, ‘সেদিন (৩১ মার্চ) অভিভাবকরা সকাল ১০টায় কলেজে গিয়েও টাকা ফেরত না পাওয়ায় আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের কল পেয়ে আমি কলেজে যাই। আমাকে দেখেই অধ্যক্ষ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আমরা তাকে অফিস কক্ষে বসিয়ে কথা বলি। আদায় করা বাড়তি ফি ফেরত দিতে বাধ্য করি।’

নুরুল আজিম রনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনড় অবস্থানের কারণে ৩১ মার্চ কলেজ কর্তৃপক্ষ ১১০ থেকে ১২০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া বাড়তি ফি ফেরত দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ যে অন্যায়ভাবে টাকাগুলো নিয়েছিল, ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে সেটাই প্রমাণিত হয়। আমরা বাকি আরও প্রায় সাড়ে আটশ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিও জানিয়েছিলাম।’

সিসিটিভি ফুটেজে অধ্যক্ষকে মারধর করতেও দেখা গেছে ছাত্রলীগ নেতা রনিকে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, ‘একজন শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ আচরণের প্রশ্নই আসে না। তবে কোনও অধ্যক্ষও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারেন না। কোনও অধ্যক্ষ পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রাখতে পারেন না। কোনও অধ্যক্ষ ৯৭৩ জন পরীক্ষার্থীর অভিভাবককে ককটেল মারতে সন্ত্রাসী ভাড়া করতে পারেন না।’ শিক্ষক নামধারী অর্থলোভী ও শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করা এক ব্যক্তিকে জিম্মি রেখে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

.

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ফি আদায় বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. জাহেদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভর্তির সময় আমাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, মাসিক টিউশন ফি ও পরীক্ষার ফি ছাড়া আমরা বছরে আড়াই হাজার টাকা করে দুই বছরে পাঁচ হাজার টাকা উন্নয়ন ও বিবিধ ফি দেবে শিক্ষার্থীরা। এই শর্ত মেনেই শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে। আমরা তাদের কাছ থেকে ওই টাকাই নিয়েছি।’

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমাদের সবগুলো শ্রেণিকক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। আমরা শিক্ষার্থীদের কলেজে আসা-যাওয়ার তথ্য এসএমএস পাঠিয়ে অভিভাবকদেরকে জানিয়ে থাকি। এছাড়া আমাদের এখানকার পাঠদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এসব খাতের জন্যই ওই বাড়তি টাকা নেওয়া হয়। এর বাইরে আর কোনও টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় না।’

বৈধভাবে টাকা নিয়ে থাকলে টাকা ফেরত দিয়েছেন কেন— জানতে চাইলে ড. জাহেদ খান বলেন, ‘তারা আমাকে ভয় দেখিয়েছে। মূলত, রাজনৈতিক ভয় ও নুরুল আজিম রনির চাপে আমি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছি। ফেরত দেওয়া টাকাগুলো শিক্ষাবোর্ডের মাধ্যমে আপিল করে ফেরত নেওয়া হবে।’

.

ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া ছবি৩১ মার্চের ঘটনার বিষয়ে ড. জাহেদ খান বলেন, ‘আমি পালিয়ে যাবো কেন? ওই দিন আমাদের কলেজ বন্ধ ছিল। আমি এমনিতে ওই দিন কলেজে গিয়েছিলাম। এ সময় আগে থেকে কলেজের সামনে অবস্থান করা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে কল করে নুরুল আজিম রনিকে কলেজে ডেকে আনেন। পরে সে এসে আমাকে মারতে মারতে আমার কক্ষে নিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে এর প্রমাণ আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই দিন রনি আমাকে শুধু মারধরই করেনি, আমার মায়ের কথা তুলেও গালাগালি করেছে।’

সেই ভিডিও-

 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই দিন নুরুল আজিম রনি দুই হাত জড়িয়ে ধরে কলেজের অধ্যক্ষ ড. জাহেদ খানকে একটি কক্ষে নিয়ে আসেন। এ সময় নুরুল আজিম রনিকে ড. জাহেদ খানের মুখে কিল-ঘুষি মারতেও দেখা যায়। নুরুল আজিম রনির সঙ্গে ছাত্রলীগের ২০/২৫ জন নেতাকর্মীও ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় কিছু পুলিশ সদস্যকেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ফি নেওয়ার যে দাবি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, সেটা যৌক্তিক।’

ছাত্রলীগ নেতার অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি নুরুল হুদা বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার কথা আমাদের জানা নেই। অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত বা মারধর করার কোনও অভিযোগও কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়ের করেনি।’ সুত্রঃ 


আরোও সংবাদ