পুকুরে বৈর্জ্য ফেলা বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

প্রকাশ:| শনিবার, ৮ মার্চ , ২০১৪ সময় ০৮:৪৮ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজান প্রতিনিধিঃচট্টগ্রামের রাউজানে শত শত মুসল্লীরা অজুর জন্য ব্যবহার করেন এমন একটি মসজিদের পুকুরে ময়লা অবর্জনা ফেলে ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে এমন সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে কয়েক ব্যবসায়ীকে আর্বজনা ফেলার দায়ে জরিমানা করেছে। এছাড়াও একই সময় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে খাবার হোটেলে ভেজাল পণ্য ব্যবহার ও অবৈধ পারিমিট বিহীন ৩ টি অটোরিক্সা আটক এবং প্রকাশ্যে ধুমপান করার দায়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
আজ শনিবার দুুপুরে উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাট বাজারে এ অভিযান চালানো হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কুল প্রদীপ চাকমার নের্তৃত্বে এক ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় তার সাথে ছিলেন, নোয়াপাড়া পুলিশ ফাড়িঁর এসআই টুটন মজুমদারসহ পুলিশের বিশেষ টিম। ভ্রাম্যমান আদালত নোয়াপাড়া পথেরহাট বাজারের সিএনজি ষ্টেশন মার্কেটের ইরফান হোটেল থেকে ভেজাল পণ্য দিয়ে খাবার তৈরীর দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
এদিকে পুকুরে সেলুনের কাটা চুল ফেলে পরিবেশ দুষণ করার দায়ে নোয়াপাড়া পথেরহাট বাজারের আমির মার্কেটের জিলেট ও বিপ্লব সেলুন থেকে দুজনকে আটক করে জরিমানা আদায় করেন। প্শাাপাশি আর বৈর্জ্য না ফেলার মুসলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এছাড়া রোড পারমিট বিহিন গাড়ী নামানোর দায়ে সমিরণ, মিতু ও মামুন নামের তিন সিএনজি অটোরিক্সা মালিক ও চালক থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা ও প্রকাশ্যে জন সম্মুখে ধুমপান করার দায়ে আশিষ বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় নোয়াপাড়া পথেরহাট বাজারে শত শত উৎসুক জনতা ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযা দেখে ভীড় জমান। পাশাপাশি জনস্বার্থে এই অভিযান পরিচালনা করায় নোয়াপাড়া ভুমি অফিস মসজিদের মুসল্লি, পরিচালনা কমিটি ও সচেতন ব্যবসায়ীরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কুল প্রদীপ চাকমা বলেন, মুসল্লিদের ব্যবহারের পুকুরে বৈর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে এ অভিযান। এই পুকুরের পাড়ে বৈজ্য ফেলা রোধে কাটা তারের বেড়া দেওয়া হবে এবং নোয়াপাড়া পথেরহাট বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের ডেকে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য রাউজানের নোয়াপাড়া পথেরহাটের ভুমি অফিস জামে মসজিদের মুসল্লীরা অজুর জন্য ব্যবহার করেন এমন একটি পুকুরে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে কয়েক মন পঁচা ময়লা আবর্জনা। এমনকি মসজিদের এই পুকুরে ফেলা হচ্ছে বাজারের সেলুনের দোকানের কাটা চুল, ফার্মেসী ও ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে ব্যবহৃত ইনজেশনের সুইসহ নানা প্রকার পরিবশে দুষিত বর্জ্য। দীর্ঘদিন যাবত এই পুকুরে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে পানি দুষিত হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দেখা গেছে পুকুরটিতে ছোট বড় মাছ মরেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পুকুরটির পানি।
বাজারের লোকজন ও মুসল্লিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাট বাজারের ভূমি অফিস জামে মসজিদের পুকুরটি পথের হাট বিশাল বানিজ্য কেন্দ্রের মুসল্লিদের ব্যবহারের এই পুকুরটি এখন পরিণত হয়েছে ডাস্টবিনে। গত ১১ ফেব্র“য়ারী এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয় অনলাইনসহ কয়েকটি দৈনিকে। এর কিছু দিন পর এ অভিযানে নামেন উপজেলা প্রশাসন।