সরকার ভারতের বন্ধুত্ব দিন দিন আরও সুদৃঢ়

প্রকাশ:| বুধবার, ৩১ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১১:৪০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ভারত আলোকচিত্র প্রদর্শনীশুরুর দিনই জমজমাট হয়ে উঠলো বাংলাদেশ-ভারতের ৪১ আলোকচিত্র সাংবাদিকের অনন্য প্রদর্শনী ‘মৈত্রী’। নগরীর শিল্পকলা একাডেমির শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আর্ট গ্যালারিতে বুধবার সন্ধ্যায় তিন দিনের এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিজেএ) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিপিজেএ এবং আগরতলা প্রেসক্লাবের যৌথ উদ্যোগে এ চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিজেএর সভাপতি মসিউর রহমান বাদল। স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিজেএর সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ ও উপদেষ্টা মো. ফারুক। সঞ্চলনায় ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান।

প্রদর্শনীতে চট্টগ্রামের ২২ জন এবং ভারতের ১৯ জন আলোকচিত্র সাংবাদিকের ছবি স্থান পেয়েছে। এতে যেমন বাংলাদেশের আদিবাসী জীবন ঠাঁই পেয়েছে, তেমনি ঠাঁই পেয়েছে আগরতলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যের স্থিরচিত্র। রয়েছে বিভিন্ন উৎসব পালনের ছবিও।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ভারত আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। আমাদের এখানে কয়েকটি দল ভারত বিরোধিতা করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায়। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব দিন দিন আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে। দুদেশের মধ্যে এই সম্পর্ক উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ভাষার দিক থেকে ত্রিপুরা ও আমাদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এক ভাষায় কথা বলি। তাই এ ধরনের সাংস্কৃতিক আদান প্রদান যত বাড়বে ততই আমাদের দুদেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটবে।

মুক্তিযুদ্ধে ভারত তথা ত্রিপুরার অবদানের কথা স্বীকার করে মেয়র বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারত বন্ধু হয়ে যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন আমরা সেটা স্বীকার করব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, নিজেদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে আমরা দুই দেশ পরস্পরকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। সম্পর্ক উন্নয়ন করে যাচ্ছি। সব ভালো কাজে আমরা ভারতকে কাছে পাই। তেমনি ভাবে সংকটের সময়ও দেশটি আমাদের পাশে দাঁড়ায়। যেমন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ত্রিপুরাতে যখন খাদ্যসংকট দেখা দিল তখন আমাদের দেশের ওপর দিয়ে তারা চাল নিয়ে গেছে। তেল নিয়ে গেছে। এভাবেই আমাদের সম্পর্ক দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

আগরতলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি চিত্রা রায় বলেন, আসা-যাওয়ার মধ্যেই সম্পর্ক ভালো হয়। আমাদের দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের উদ্যোগও জরুরি। তাহলে দুই দেশের মানুষ পরস্পরের আরও কাছে আসতে পারবে।

আগরতলা প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রণব চক্রবর্তী বলেন, ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু হচ্ছে। সাবরুম সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগগুলো দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।

মসিউর রহমান বাদল বলেন, ভারতের বন্ধুদের চট্টগ্রামে পেয়ে আমরা আনন্দিত। এই চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে দুই দেশের কৃষ্টি সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন চিত্র ফুটে উঠবে।

চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন ও শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।