চট্টগ্রামে পোলট্রি শিল্পের আছে অপার সম্ভাবনা

প্রকাশ:| শনিবার, ২০ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১০:০২ অপরাহ্ণ

রুখন ভাইপুঁজির নিরাপত্তা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে চট্টগ্রামে পোলট্রি শিল্পে তিনগুণ বিনিয়োগ সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা। এই বিনিয়োগ আনতে পারলে চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে ব্রয়লার মুরগি আশপাশের জেলায়ও পাঠানো যাবে বলে তথ্য দিয়েছেন তারা।

শনিবার (২০ আগস্ট) চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি হোটেলে পোল্ট্রি রিপোর্টিং বিষয়ক মিডিয়া কর্মশালায় গণমাধ্যম ও পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী এবং সরকারি কর্মকর্তারা এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটির (বিপিআইসিসি) সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা ওয়াচডগ বাংলাদেশ এ কর্মশালার আয়োজন করে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মোট ৩০ জন সাংবাদিক এ কর্মশালায় অংশ নেন।

কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ড. আলাউদ্দিন মজুমদার বলেন, প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম ও মুরগির মাংসের তুলনা হয়না। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্রয়লার মুরগি খুবই জনপ্রিয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, চট্টগ্রামের মেজবানের মাধ্যমেই ব্রয়লার মুরগির জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিল। চট্টগ্রামে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৬শ খামার আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ব্রয়লার এবং ১৬০০ লেয়ার খামার। ২০০৫ সালে বার্ড-ফ্লু বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় ঘটিয়েছিল। কিন্তু প্রকারান্তরে বার্ড-ফ্লুই এ শিল্পের জন্য আশির্বাদ হয়েছে। কারণ খামারিরা এখন বায়োসিকিউরিটি এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বিষয়ে অনেক বেশি সজাগ হয়েছে। আর এ কারণেই ডিম ও মাংসের মান অনেক বেড়েছে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভিএএসইউ) প্রফেসর ড. একেএম সাইফুদ্দিন বলেন, পোল্ট্রি ডিম ও মুরগির মাংস সম্পর্কে সাধারণের মাঝে অনেক ভুল ধারনা আছে। চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে যেখানে খামারিদের জন্য নিবিড় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। পাশ্ববর্তী দেশ এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও গবেষণা কাজে ছাত্রছাত্রীরা সিভিএএসইউতে আসে আবার বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরাও সেখানে নিয়মিত যাচ্ছে। এতে অভিজ্ঞতার বিনিময় ঘটছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক রাকিবুর রহমান টুটুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান আলী আর রাজী, যমুনা টেলিভিশনের বিজনেস এডিটর সাযযাদ আলম খান তপু এতে বক্তব্য রাখেন। কর্মশালার স্থানীয় সমন্বয়কারির দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক আমাদের সময়ের ব্যুরো প্রধান হামিদ উল্লাহ।