শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় অল সোলস ডে

প্রকাশ:| সোমবার, ২ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:০০ অপরাহ্ণ

হেমন্তের হিমেল হাওয়া। সন্ধ্যা নামতেই ঘিরে ধরে একাকিত্ব। মনে পড়ে ছেড়ে চলে যাওয়া প্রিয়জনদের। চোখে জল আসে। দেখার জন্য মন ছটফট করে। তাদের দেখা অসম্ভব হলেও তাদের কবরখানিতো আছে। এমনি দিনে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া প্রিয়জনদের কবরে জড়ো হয়  সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর পাথরঘাটার ক্যাথলিক গির্জা সংলগ্ন সমাধিস্থলে হাজির হয়েছিলেন প্রায় সহস্রাধিক ক্যাথলিক। যেখানে ‘অল সোলস ডে’ উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের হাজারো নারী-পুরুষ সমবেত হয়েছিলেন মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায়। প্রতিবছর ২ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় দিবসটি পালন করে আসছে।

খ্রিটান২
চট্টগ্রাম ধর্ম প্রদেশের বিশপ মজেস এম কস্তার পৌরহিত্যে অল সোলস ডে’র প্রার্থনা পরিচালনা করেন ফাদার টেরেন্স রড্রিকস, রিগান ও জুলিয়াস। এ উপলক্ষে ২ সপ্তাহ ধরে কবরগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন স্বজনরা। যাদের কেউ নেই এ পৃথিবীতে তাদের কবরগুলো পরিষ্কার করে গির্জা কর্তৃপক্ষ।

বিকাল পাঁচটায় শুরু হয় দিবসের কর্মসূচি। যাতে ছিল বাংলা ও ইংরেজি কয়্যার দলের গান, বিশেষ প্রার্থনা, খ্রিষ্ট জাগ ও খ্রিষ্ট প্রসাদ বিতরণ, কবরে পবিত্র জল ছিটানো, ফুল ও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রয়াতদের স্মরণ ইত্যাদি।

বাবা ও বড় জেঠার কবরের সামনে প্রার্থনা করছিলেন খ্রিষ্টিনা রিভেরো। কথা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, প্রিয়জনদের স্মরণ করতেই প্রতিবছর এ দিনে আমরা কবরস্থানে আসি। কবরকে আলোকিত করি। প্রার্থনা করি। সুন্দরভাবে যাতে চলতে পারি সেজন্য যিশুর অনুগ্রহ কামনা করি। দেশ ও জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করি।খ্রিটান
পবিত্র জল নিয়ে ছোটাছুটি করছিলেন ১২ বছরে ‘সেবক’ গ্রেগরি। তার বাড়ি বরিশালে। থাকে আশরাফ আলী রোডের একটি ভাড়া বাসায়। সে জানায়, আমরা ফাদারদের কাজে সহযোগিতা করছি। শৃঙ্খলা রক্ষায়ও কাজ করছি। আজ অনেক বেশি লোকসমাগম হয়েছে। সবার সেবা করতে পেরে আমি খুশি।

প্রার্থনা শেষে সুজন বলেন, আমরা প্রয়াত যিশুভক্তদের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছি। এ কবরস্থানে শায়িতদের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করতে বিপুলসংখ্যক স্বজন যোগ দিয়েছেন। অনেকে মা-বাবার কবরের সামনে দাঁড়ানোর জন্য বিদেশ থেকে এসেছেন। এর বাইরে এ কবরস্থানে আমার আগের তিনজন বিশপ শুয়ে আছেন, চার শতাধিক বছর আগে স্পেন, পর্তুগিজ থেকে যারা ধর্ম প্রচার করতে এসেছিলেন তারাসহ যারা বিভিন্নভাবে প্রভুর বাণী প্রচারে সহায়তা করেছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেছি। দেশের কল্যাণের জন্য, শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছি।খ্রিটান১
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অল সোলস ডে’র আর্থসামাজিক গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশেষ করে সন্তান যখন বাবা-মায়ের কবরের সামনে আসে তখন তার মধ্যে চেতনা জাগ্রত হয়। সে ভাবে তাকেও একদিন কবরে শায়িত করা হবে। তাই সে খারাপ কাজ থেকে বিরত থেকে ভালো কাজে ব্রতী হয়। এর ফলে সমাজ সুন্দর হয়। এ ছাড়া আর্থিকভাবে সামর্থ্যবানরা প্রয়াতদের উদ্দেশে দয়ার কাজ, দানের কাজও করেন। এ বিষয়টি আমরা উদ্বুদ্ধ করি।

নিউজচিটাগাং২৪,কম/আনিস


আরোও সংবাদ