৭ অক্টোবর থেকে দাবি আদায়ে ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিল ক্রেন অপারেটর

প্রকাশ:| সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৪:০৫ অপরাহ্ণ

press-meet--সিড়িশ্রম শাখায় তালিকাভূক্ত করে পরিচয় পত্র ও কল্যাণমুলক সুযোগ সুবিধার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত ক্রেন অপারেটররা।

অন্যথায় আগামী ৭ অক্টোবর থেকে কাজ বন্ধ করে দাবি আদায়ে ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এতে চট্টগ্রাম বন্দর অচলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ অপারেটরস,শীপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস এন্ড টার্মিনাল অপারটরসদের অধীনে কর্মরত উইন্সম্যান (ক্রেন অপারেটর) সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল মতিন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে বার্থ অপারেটরস শীপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস এন্ড টার্মিনাল অপারেটরসদের অধীনে অন্যান্য শ্রমিক-কর্মচারীর মতো আমরাও কাজ করে আসছি। কিন্তু ক্রেন অপারেটর গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হলেও আমাদের সুযোগ সুবিধা সবচেয়ে কম।

চট্টগ্রাম বন্দরে শিপ হ্যান্ডলিং, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সহ ৩৪টি বার্থে ৪০০ ক্রেন অপারেটর কাজ করে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দৈনিক বেতন ছাড়া আর কোন সুযোগ সুবিধা নেই। অথচ একই জাহাজে কম গুরুত্বপূর্ণ পদের শ্রমিক কর্মচারীরা সব ধরণের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় একটি জাহাজে পণ্য ওঠানো নামানোর কাজে পাঁচ ক্যাটাগরিতে কাজ করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্রেন অপারেটর। তারা কন্টেইনার নামালেই বাকিরা কাজ করতে পারেন।

আব্দুল মতিন বলেন,‘অথচ তারা গ্রাচ্যুইটি, অবসর ভাতা, ঝুঁকি ভাতা, চিকিৎসাভাতাসহ সব ধরণের সুবিধা পেয়ে থাকেন। আর আমরা কেবল দৈনিক ভিত্তিতে কেবল বেতন পাই।’

কর্মক্ষেত্রে কোন দুর্ঘটনা ঘটলেও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ থেকে কোন ধরণের সহযোগিতা পাননা অভিযোগ করে তিনি বলেন,‘আমরা যখন চাকরি থেকে অবসর নেই তখন কোন সহযোগিতা পাই না। কেউ মারা গেলে তার লাশ বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থাও আমাদের করতে হয়।‘

একই মালিকের একই জাহাজে কাজ করে বাকিরা সব সুবিধা পেলে আমরা পাব না কেন? প্রশ্ন রাখেন মতিন।

দৈনিক ভিত্তিতে জেলারেল কার্গোতে ৮০০ টাকা এবং আউটারে ১ হাজার ৮০ টাকা বেতন পান ক্রেন অপারেটররা।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, বার্থ অপারেটর মালিকদের পক্ষে ফজলে একরাম চৌধুরী কর্মরত ক্রেন অপারেটরদের বন্দর শ্রম শাখায় তালিকাভূক্ত করে পরিচয় পত্র দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হলেও এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

আগামী সাত দিনের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ৭ অক্টোবর থেকে কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে আব্দুল মতিন বলেন,‘আমরা চাইনা চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাস্থার সৃষ্টি হোক। কিন্তু দাবি আদায় না হলে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হবো আমরা।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উইন্সম্যান(ক্রেন অপারেটর) সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব আলী আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো.নাছির উল্লাহ, সদস্য মোহাম্মদ মিজান, মোহাম্মদ হুমায়ুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরোও সংবাদ