৭’শ মন লবণ লুট: ২ চাষী অপহৃত

প্রকাশ:| সোমবার, ২৭ মার্চ , ২০১৭ সময় ১১:২০ অপরাহ্ণ

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও প্রতিনিধি: চকরিয়ার খুটাখালীর লবণ উৎপাদন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ বহলতলী ঘোনায় ডাকাত পড়েছে। ২০/২৫ সদস্যের ভয়ংকর, সশস্ত্র এই লবণ ডাকাত দল গত ২৬ ও ২৭ মার্চ দু’দিনে লবণ মাঠে হানা দিয়ে চাষীদের উৎপাদিত প্রায় ৭’শ মন লবণ লুট করেছে। যার বাজার মূল্য অন্তত তিন লাখ টাকা। এছাড়া ডাকাত দল অপহরণ করেছে দুই লবণ চাষীকে। অপহৃত লবণ চাষী হলেন খুটাখালীর সাইফুল ইসলামের পুত্র মেজবাহ (৩৬) ও নাছির উদ্দিন (৫০) ।
স্থানীয় লবণ চাষী সূত্রে জানা যায়- ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের বিকেলে ২০/২৫ সদস্যের একদল অস্ত্রধারী ডাকাত নৌ-পথে ট্রলার যোগে এসে বহলতলী মৌজার ৫৮২ ধ্র“ন আয়তনের দক্ষিণ বহলতলী ঘোনায় অবস্থান নেয়। অস্ত্রধারী ডাকাতদল লবণ চাষীদের মাঝে ত্রাস সৃষ্টি করতে প্রথমে ২০-২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এসময় লবণ চাষীরা ভয়ে দ্বিগবিদিগ পালীয়ে গেলে ডাকাতরা অন্তত অর্ধশত লবণ চাষীর প্রায় ৭’শ মন লবণ নিজেদের দখলে নেয়।
স্থানীয় লবণ চাষী এফাজ উল্লাহ জানান- ২৬ মার্চ সারা রাত ডাকাতরা থেমে থেমে ভারী অস্ত্রের গুলি বর্ষণ করে। গতকাল ২৭ মার্চ সকালে ডাকাতরা লবণ চাষী মেজবাহ (৩৬) ও নাছির (৫০) কে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘন্টা তিনেক পর ডাকাতদল অপহৃত মেজবাকে প্রচন্ড মারধর ছেড়ে দিলেও আরেক অপহৃত লবণ চাষী নাছিরের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
খুটাখালীর চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রহমান জানান, দক্ষিণ বহলতলী ঘোনা থেকে লবণ লুটের খবর পেয়ে বিষয়টি আমি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করি। পরে চকরিয়া থানা পুলিশের এসআই সুব্রত দেব ও এসআই জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাত দল কিছুক্ষণ গা ঢাকা দিয়ে ফের লবণ ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নেয়। বহলতলীর লবণচাষী নেতা আব্দুর রহিম জানান, দুু’দফা বৃষ্টির পর ভর লবণ উৎপাদন সময়ে সশস্ত্র ডাকাতদলের উপদ্রব সহ্য করার মতো নয়। প্রত্যেক ডাকাতের হাতে ভারি অস্ত্র-শস্ত্র রয়েছে।
লবণচাষীরা জানান, ডাকাতদের বাড়ি চকরিয়া থানা ও আদালতের আশেপাশে হওয়ায় মারধর ও অপহরণের ভয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের ও মামলা করার সাহস পাচ্ছিনা।
জানতে চাইলে চকরিয়া সার্কেলের এএসপি কাজী মতিউল ইসলাম জানান, আমি দাপ্তরিক কাজে মহেশখালী এসেছি। চকরিয়ায় ফিরে বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
চকরিয়ার ওসি জহিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত আমি বহলতলী লবণ ক্ষেত্রে পুলিশ পাঠিয়েছি। ফলে ডাকাতেরা লবণ ডাকাতিতে সুবিধা করতে পারেনি।