৬ মাস ধরে বিদ্যুৎ নেই চরম দূর্ভোগে কুতুবদিয়ার ৫’শ গ্রাহক

প্রকাশ:| সোমবার, ৯ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:৪৪ অপরাহ্ণ

মুহাম্ম্দ গিয়াস উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কুতুবদিয়াবাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবির) আওতায় পরিচালিত কুতুবদিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় কুতুবদিয়া দ্বীপের ৫’শ গ্রাহক বিগত ৬ মাস ধরে বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। এতে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকরা।
দীর্ঘ ৬ মাস ধরে বিদ্যুৎ না পেয়ে চরম দূভোর্গে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পিডিবির কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জেনারেটর মেশিন দিয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা সদরের বড়ঘোপ বাজার, উপজেলা সদর, উপজেলা গেইট, হাসপাতাল গেইট, মগডেইল, লামার বাজার, বিদ্যুৎ মাকের্ট, ষ্টীমার ঘাট, খাদ্যগুদাম এলাকাসহ প্রায় এক হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। তন্মধ্যে বিদ্যুৎ মার্কেট, জেলেপাড়া, ষ্টীমারঘাট, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস, রেজ্ঞ অফিস, উপজেলা গেইট, হাসপাতাল গেইট, মগডেইল, লামার বাজার, খাদ্যগুদাম অফিসসহ প্রায় ৫শ গ্রাহক গত জুন/১৩ মাসের প্রথম সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না পেয়ে গ্রাহকরা ৬ মাস ধরে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। এ সব এলাকার গ্রাহকরা সরকারি বিদ্যুতের ওপর ভরসা ছেড়ে দিয়ে নিজেরাই ব্যাক্তিগত ভাবে ৬/৭ কিলোওয়ার্ড জেনারেটর মেশিন ব্যবহার করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে বাতি জালাচ্ছে। বর্তমানে উপজেলা পরিষদ, থানায় পিড়িবির কর্তৃপক্ষ কেবল মাত্র সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছেন। জাতীয় গ্রীড লাইনের বিদ্যুতে যে হিসেবে লোড়শেডিং চলে তা কুতুবদিয়ায় স্থাপিত পিড়িবির জেনারেটর মেশিন দ্বারা সরবরাহকৃত বিদ্যুতের লোড়শেডিং নয় একেবারেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তখন থেকেই কোন ঘোষনা ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কুতুবদিয়ার বিদ্যুৎ মার্কেটের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জানান, কুতুবদিয়ায় পিডিবির কর্তৃপক্ষ বিগত ৬ মাস ধরে বিদ্যুৎ মার্কেট বাজারে কোন ঘোষনা ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। তবে গত জুন মাসের গড় রিড়িং বিল দেখিয়ে ৩৬৫ টাকার একটি বিল (টাকা আদয়ের রশিদ) দিয়েছিল। প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্র“তি কি কারণে পিডিবির কর্তৃপক্ষ ভঙ্গ করছে তা গ্রাহকদের মাঝে প্রশ্ন বিদ্ধ। একই অভিযোগ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের। কুতুবদিয়া উপজেলা রেজ্ঞ কর্মকর্তা অশোক কুমার রায় ও উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক কর্মকর্তা আবদুল খালেক বলেন, কুতুবদিয়া দ্বীপে কেবলই সন্ধ্যা ৬টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতো। ঐ সময় অফিস বন্ধ থাকে। তখনই বিদ্যুৎ ও ব্যবহার হয় না। এরপরও গত ৬ মাস ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে পিডিবি কর্তৃপক্ষের আবাসিক প্রকৌশলী গত জুন/জুলাই মাসের বিল গ্রাহকদের নিকট দিয়েছে যথারীতি পূর্বের নিয়মই।
বড়ঘোপ ইউনিয়নের ষ্টীমারঘাট এলাকার ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, ষ্টীমারঘাট এলাকাটি বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র এলাকার নিকটবর্তী হওয়ায় পরও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না গ্রাহকরা।
দ্বীপের ষ্টীমার ঘাট এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহক আমান উল্লাহ জানান, কুতুবদিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ জেনারেটর মেশিনের যান্ত্রিক ক্রুটি দেখিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। এ ফাঁেক কর্তৃপক্ষ কুতুবদিয়ার জন্য বরাদ্দকৃত ডিজেল ব্যবহার দেখিয়ে কালো বাজারে বিক্রি করে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এমন অভিযোগও রয়েছে।
কুতুবদিয়ার পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ইলিয়াছ মাহমুদ জানান, গত ২৭ মার্চ থেকে ড্যানিস ২ শত কেবি ক্ষমতা সম্পন্ন জেনারেটর মেশিনটি যান্ত্রিক ক্রটর কারণে জেনারেটর মেশিনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে কামিন্স ৫ শত কেবি ক্ষমতা সম্পন্ন জেনারেটর মেশিনটি দিয়ে কোন প্রকারে উপজেলা পরিষদ, থানা, হাসপাতাল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বিকল জেনারেটর মেশিন মেরামত করা হলে বিদ্যুৎ বঞ্চিত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।


আরোও সংবাদ