৬ বিশিষ্টজনকে ফেলোশিপ দিয়েছে বাংলা একাডেমি

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজের মাধ্যমে বাংলা ভাষার উন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরুপ দেশের ৬ বিশিষ্টজনকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ দিয়েছে বাংলা একাডেমি।

শুক্রবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত একাডেমির সাঁইত্রিশতম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ ফেলোশিপ দেয়া হয়।

ফেলোশিপপ্রাপ্তরা হলেন: সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক (আইন ও বাংলায় রায় প্রদানে অবদানের জন্য), ড. মোহাম্মদ জমির (কূটনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিকতায় অবদানের জন্য), আতাউর রহমান (নাট্য প্রযোজনা ও অভিনয় শিল্পে অবদানের জন্য), ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী (স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য), ফাতেমাতুজজোহরা (সংগীতশিল্পে অবদানের জন্য) এবং শিমূল ইউসুফ (অভিনয়শিল্পে অবদানের জন্য)।

এছাড়া বাংলা একাডেমি পরিচালিত তিনটি পুরস্কারও দেয়া হয়েছে এ বার্ষিক সাধারণ সভা থেকে। এ পুরস্কার তিনটি পেয়েছেন- বাংলা কবিতায় অবদানের জন্য কবি আসাদ চৌধুরীকে দেয়া হয়েছে মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার ২০১৪, শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য শিশুসাহিত্যিক মাহমুদউল্লাহকে দেয়া হয়েছে কবীর চৌধুরী শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০১৪ এবং গবেষণাকর্মে অবদানের জন্য ড. ফজলুল আলমকে দেয়া হয়েছে সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩।

ফেলোশিপ এবং পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র, সম্মাননা-স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এবং মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ২০১৩-২০১৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, ‘সাধারণ সভায় সদস্যদের মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যমে একাডেমি জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক মূলবোধের প্রতি তার দায়বদ্ধতা প্রকাশ করে চলেছে।’

সভাপতির বক্তব্যে উপস্থিত সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলা একাডেমির সভাপতি আনিসুজ্জামান বলেন, ‘সদস্যদের অংশগ্রহণে বাংলা একাডেমির বার্ষিক সাধারণ সভার আলোচনা অধিবেশন প্রানবন্ত হয়ে উঠেছে। একাডেমির কাছে সবার প্রত্যাশা অনেক। এই প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরো সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।’

এ সভায় সারাদেশ থেকে প্রায় দুই হাজার কবি-লেখক-শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীর সমাবেশ ঘটে। সমবেত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন- সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস, জনপ্রশাসন সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, বাণিজ্য সচিব হেদায়েতউল্লাহ আল মামুন, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক, ভাষাসংগ্রামী রওশন আরা বাচ্চু, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, শিশুসাহিত্যিক সুকুমার বড়ুয়া, ড. জামিল চৌধুরী, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মমতাজউদ্দীন আহমদ, রামেন্দু মজুমদার, মোনায়েম সরকার, নুহ-উল-আলম লেলিন, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মনসুর মুসা, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, কবি রফিক আজাদ, কবি আসাদ চৌধুরী, সেলিনা হোসেন, সুব্রত বড়ুয়া, বিপ্রদাশ বড়ুয়া, ড. গোলাম মুরশিদ।


আরোও সংবাদ