৬৫ কোটি টাকার কর্ম পরিকল্পনা সম্পন্ন হলে কেপিএম ফিরে পাবে হৃত গৌরব

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই , ২০১৪ সময় ০৩:১৯ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিনিধি,কাপ্তাই,নিউজচিটাগাং২৪.কম>> কেপিএমদীর্ঘ ৬০ বছরের পুরনো এক সময়ের এশিয়ার বিখ্যাত কর্ণফুলী পেপার মিল নানা কারনে আজ তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কারখানার জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতির কারনে উৎপাদন হ্রাস সহ আর্থিক অনটনের কারনে কেপিএমের ঐতিহ্য অনেকটা ¤¬ান হয়ে পড়েছে। হারানো গৌরব ফিরে পেতে কর্তৃপক্ষ শিল্প মন্ত্রনালয় ও বিসিআইসির সহযোগিতায় স্বল্প, মধ্য ও ধীর্ঘ মেয়াদী কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ কাজে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ইতিমধ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্ত্রনালয় ও সংস্থার সহযোগিতায় নতুন বি¬চিং প¬ান্ট নির্মাণ সহ অন্যান্য কাজে বিএমআর প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব কাজে ১৮২ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা মোতাবেক এসব কাজ সম্পন্ন হলে কেপিএম অচিরেই তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে দায়িত্বশীল সুত্র জানায়।

সংশি¬ষ্ট সুত্রে জানা গেছে, স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেপিএমে বার্ষিক রক্ষনা-বেক্ষন কাজ অচিরেই শুরু হবে। এ ধরনের শিল্প কারখানায় প্রতি বছরেই রক্ষনা-বেক্ষন করার নিয়ম থাকলেও গত ২০০৫ সালের পর থেকে দীর্ঘ ৯ বছরে কেপিএমে একবারও শার্ট ডাউনের কাজ করা হয়নি। এতে মিলে যান্ত্রিক ত্র“টিগুলো আরো বৃদ্ধি পায়। স্বল্প মেয়াদী এ কাজে প্রায় ১১.১৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়।

মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিলে টারবাইন জেনারেটর, কসটিক ক্লোরিং প¬ান্ট, কেমিকেল রিকভারী প¬ান্টের গুরুত্বপুর্ণ কাজগুলোর সংষ্কার পরিবর্তন, পরিবর্ধন করা হবে। প্রতি ১০ বছর অন্তর মিলের টারবাইন জেনারেটর ওভারহলিং করার নিয়ম থাকলেও ১৯৯৯ সালের পর হতে টারবাইনের ওভারহলিংয়ের কাজ করা হয়নি। ফলে এসব মেশিনারিজে নানামুখী সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ কাজে ৫৩.৬৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিটস্যুবিসি হেভী ইন্ডাস্ট্রিজের সহায়তায় এ সমস্ত কাজ করা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া কেমিকেল রিকভারী প¬ান্ট সহ অন্যান্য পা¬ন্টের কাজ মুল মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলস্ট্রম ইন্ডিয়ার সাথে কর্তৃপক্ষের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় কেপিএমে স্ট্রার্ট অব আর্ট পেপার মেশিন স্থাপন, ড্রিকিং প¬ান্ট ও ইাটিপি স্থাপন করা সহ বিভিন্ প¬ান্ট ও ইকুইপম্ন্টেসের আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে ডিপিপি প্রস্ততির কাজ চলছে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞগন কাজের সাথে সংশি¬ষ্ট রয়েছেন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মিলটি একটি আধুনিক মিলে পরিনত হবে। কাগজ শিল্পের পথিকৃত কেপিএম তার অতীত ঐতিহ্য নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হবে বলে মিলের এমডি প্রকৌশলী মোঃ মোসাব্বেরুল হক জানান।