৬ষ্ঠ দিনেও অচল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ:| সোমবার, ১২ মে , ২০১৪ সময় ১০:১৪ অপরাহ্ণ

ছাত্রলীগের অবরোধে উভয় সংকটে প্রশাসন

শহিদুল সুমন,চবি
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার অবরোধের ৬ষ্ঠ দিনেও মত শাটল ট্রেনও শিক্ষক বাস চলাচল না করায় কোন বিভাগে ক্লাশ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। একদিকে অবরোধকারীদের আন্দোলন অন্যদিকে অবরোধ প্রতিহত কারীরা দু’পক্ষকে নিয়ে উভয় সংকটে পড়েছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় উপচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন,ছাত্রলীগের অন্তকোন্দলের কারনে এ অচলাবস্থা সহজে নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না।
উপচার্য বলেন,ছাত্রলীগ একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন। প্রশাসনিকভাবে কোন রাজনৈতিক সংগঠনের অন্তকোন্দল নিরসন করা সম্ভব নয়। আমি প্রথমে কেন্দ্রকে এ ব্যাপারে অবহিত করায় তারা একটি পদক্ষেপ নিয়েছে।কিন্তু উভয় পক্ষই তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
জুতার মালা দেওয়ার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক বলে দাবি করে উপচার্য বলেন,সভ্য সমাজে এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থ আদায়ের লক্ষ্যে একটি চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি বলেছিলাম অন্যায় স্বীকার করে নাছিরের কাছে ক্ষমা চাইতে। কিন্তু তা না করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার রাতে অবরোধকারীদের সাথে দীর্ঘক্ষন বৈঠক হয়েছে। অবরোধকারীরা তাদের দাবি দাওয়া আমাদেরকে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। আমরা বলেছি লিখিত আকারে দেওয়ার জন্য। আমি তাদেরকে অনুরোধ করেছি অবরোধ বন্ধ করার জন্য। কিন্তু তারা বলছে দাবি আদায় না হওয়া পর্য ন্ত আন্দোলন চলবে।
রেল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ব্যাপারে উপচার্য বলেন,রেল কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে নিরাপত্তা চাইছে। আমরা ২২ কিলোমিটার পথে কিভাবে নিরাপত্তা দিব। তবে তাদের সাথে আলোচনা করা হবে। কবে নাগাত আলোচনা হবে এ ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদক সুমন মামুন বলেন,প্রশাসনকে আমরা অনাষ্ঠানিকভাবে আমাদের দাবি পেশ করেছি। দাবির ব্যাপারে প্রশাসনের সাথে আলোচনা চলছে। তবে দাবি পূরন না হওয়া পর্যন্ত। আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন,আন্দোলন ও আলোচনা একসাথে চলবে।

এদিকে দুপুরে অবরোধকারীদের শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে ছাত্রলীগের অপর অংশ। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট থেকে শূরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিন করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে তারা উপচার্যের সাথে দেখা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের গন শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রুপম বিশ্বাস বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে অছাত্রত্বরা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করছে। আমরা উপচার্যের সাথে দেখা করে বলেছি যেন শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। তা না হলে সাধারন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আন্দোলন করতে বাধ্য হব।

প্রসঙ্গত গত ৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীর হাতে লাঞ্ছিত হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির হায়দার বাবুল। এ ঘটনার পর থেকে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে তার অনুসারীরা আন্দোলন করে আসছেন। জড়িত ছাত্রদের সনদ বাতিল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারসহ আট দফা দাবিতে গত ৫ মে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়। এ সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ৭ মে বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধের ডাক দেয় ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।


আরোও সংবাদ