৫ বছরের কর অবকাশ চেয়েছে ডিএসই

প্রকাশ:| বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:১০ অপরাহ্ণ

দেশের শেয়ারবাজার লাভজনক করে তুলতে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)
সংস্থাটির পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র ক্লিয়ারিং কোম্পানি গঠন ও শেয়ার ট্রান্সফারের স্ট্যাম্পের ওপর আরোপিত কর কমানোর দাবি জানানো হয়।

এছাড়াও সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে ছাড়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া ব্রোকারেজ হাউজের শাখা বাড়ানোরও দাবি জানানো হয়।

বুধবার সচিবালয়ে ডিএসই প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনধিদল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করে দেশের শেয়ারবাজারের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে। এ সময় তারা এসব দাবিও তুলে ধরে।

প্রতিনিধিদল শেয়ারবাজার স্থিতিশীল রাখতে অর্থমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. আসলামুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, “শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল পুঁজিবাজারকে ‘মেজর সোর্স অব বিজনেস’ হিসেবে রূপান্তর করা। পুঁজিবাজারের স্বার্থে ও বাজারকে স্থিতিশীল করতে অনেক আইনগত পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং কিছু সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।”

শেয়ারবাজারে ধস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তখন অনেক শেয়ারই অতি মূল্যায়িত হয়ে পড়েছিল। যথাসময়ে রাশ টেনে ধরা সম্ভব হয়নি। এ দায় আমাদের সবার। যাহোক একটা টাল-মাটাল পরিস্থিতি আমরা অতিক্রম করতে পেরেছি। তবে পুঁজিবাজারে উঠা-নামা হবে এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে পুঁজিবাজারে আগের তুলনায় বিনিয়োগ অনেক বেড়েছে।”

সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ার ছাড়া প্রসঙ্গ অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বাজারে ছড়ার বিষয়ে বেশ ক’বার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শেয়ারবাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে এ বিষয়ে ধীরগতিতে চলার জন্য এসইসি’কে তখন বলা হয়েছিল। এখন এ বিষয়ে পুনরায় অগ্রসর হওয়ার জন্য এসইসি’কে বলা হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “ফিন্যান্সশিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট (এফআর) প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কারণে সেটা কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকারের সময়ই আইনের খসড়াটিতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে রাখা হবে। পরবর্তী যে সরকার আসবে তারা সংসদে আইনটি অনুমোদন দেবে।”

অর্থমন্ত্রী ডিএসই’র দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “ডিমিউচুয়ালাইজেশনের আগে অনেক দেশের স্টক এক্সচেঞ্জে সংঘাতমূলক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। কিন্তু আপনারা যেভাবে ডিমিউচুয়ালাইজেশন করেছেন তা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।”

ডিএসই সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, “আগের সরকারের সময় এ বাজার থেকে ৩-৪ হাজার কোটি টাকার পুঁজি সংগ্রহ করা হয়েছিল। আর বর্তমান সরকারের সময় সেটা ১০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। সরকরের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে এ বাজার আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। বর্তমানে আমাদের বাজার কেবল ইক্যুইটিনির্ভর। এ কারণে সমস্ত স্পেকুলেশন ইক্যুইটির ওপর পড়ে।”

তাই এখানে বন্ডকে জনপ্রিয় করা ও ডেরিভেটিভস চালুর ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন তিনি।


আরোও সংবাদ