৫৭ মাঝি-মাল্লা ফেরতের দাবি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:০০ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার
বি,এম হাবিব উল্লাহ, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি- সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে গতিপথ হারিয়ে ভারতের জলসীমায় অনুপ্রবেশের দায়ে গত মঙ্গলবার সেই দেশের কোষ্টগার্ড কর্তৃক আটক করা দুটি বোট কক্সবাজারের চকরিয়া ও কুতুবদিয়ার। বোট দুটিতে থাকা ৫৭জন মাঝি-মাল্লার বাড়িও এই দুই উপজেলায়। গত ৭ নভেম্বর থেকে বোট দুটিসহ এসব মাঝি-মাল্লা নিখোঁজ রয়েছে খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইতিমধ্যে ভারতের কোষ্টগার্ড কর্তৃক দুটি বোটসহ এসব মাঝি-মাল্লা আটকের খবরে কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও কবে নাগাদ তারা দেশে ফিরতে পারবেন তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ভর করছে স্বজনদের মাঝে।

বোট মালিক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়ার ‘এফ.বি সাঈদ হোসেন’ ও কুতুবদিয়ার ‘এফ.বি জেড রহমান’ নামক দুটি বোট গত ৫ নভেম্বর গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এই বোট দুটির একটিতে ৩০জন ও অপরটিতে ২৭জনসহ মোট ৫৭ জন মাঝি-মাল্লা ছিল। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় গণমাধ্যমের বদৌলতে নিখোঁজ হওয়া এসব মাঝি-মাল্লাসহ বোট দুটি ভারতের কোষ্টগার্ডের হাতে আটক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হন গত মঙ্গলবার রাতে। এর পর বোট দুটির মালিক চকরিয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ভারতীয় কোষ্টগার্ডের হাতে আটক হওয়া মাঝি-মাল্লাসহ বোট দুটি ফেরত আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছে গত বুধবার। এর আগে ‘এফ.বি সাঈদ হোসেন’’র মালিক চকরিয়ার ব্যবসায়ী মো. সেলিমের পক্ষে বোটের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নং-৪৭২) রুজু করেন। অপরদিকে ‘এফ.বি জেড রহমান’র মালিক জিয়াউর রহমান (বাবুল) বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী (নং-২৭১) রুজু করেন। ফিশিং বোট ‘এফ.বি সাঈদ হোসেন’র মালিক ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছি, আমার মালিকানাধীন ‘এফ.বি সাঈদ হোসেন’ গতিপথ হারিয়ে ৩০ জন মাঝি-মাল্লাসহ বাংলাদেশ জলসীমা অতিক্রম ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়ায় সেখানকার কোষ্টগার্ডের কাছে আটক হয়েছে। তাই মাঝি-মাল্লাসহ বোটটি ফিরিয়ে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। বিষয়টি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককেও লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। অপরদিকে জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার ‘এফ.বি জেড রহমান’র মালিক জিয়াউর রহমান প্রকাশ বাবুল জানান, গত ৫ নভেম্বর কুতুবদিয়া উপকূল থেকে ২৭জন মাঝি-মাল্ল­া নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে বোটের মাঝি মোহাম্মদ ছাবের গতিপথ হারিয়ে ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়ে। জিয়াউর রহমান বাবুল বলেন, ‘এ কারণে গত মঙ্গলবার সেখানকার কোষ্টগার্ড এসব মাঝি-মাল্লাসহ বোটটি আটক করে। এর পর অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে মাঝি-মাল্লাসহ বোটটি ভারতের প্যাজারগঞ্জ কোষ্টাল থানায় সোপর্দ করে ভারতীয় কোষ্টগার্ড। বিষয়টি কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এসব মাঝি-মাল্লাসহ বোটটি ফেরত আনতে সরকারের কাছে আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি। কোষ্টগার্ড মহেশখালী পূর্বজোনের (বদরখালী) কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. জহিরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারতীয় জলসীমায় অনুপ্রবেশের দায়ে বাংলাদেশী দুটি ফিশিং বোট ৫৭জন মাঝি-মাল্লাসহ সেখানকার কোষ্টগার্ডের কাছে আটক হয়েছে মর্মে সংবাদ রয়েছে। হয়তো চকরিয়া ও কুতুবদিয়ার নিখোঁজ থাকা বোট এবং মাঝি-মাল্লারাই সেখানে ধরা পড়েছে। তবে এখনো বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ভারতীয় কোষ্টগার্ডের সঙ্গে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করছেন।’

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘চকরিয়ার একটি ফিশিং বোট ও ৩০জন মাঝি-মাল্লা নিখোঁজ থাকার পর ভারতীয় কোষ্টগার্ডের হাতে ধরা পড়েছে বলে বোট মালিক লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। ভারতীয় কোষ্টগার্ডের হাতে ধরা পড়া বোট ও মাঝি-মাল্লারা আদৌ চকরিয়ার কি-না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে মাঝি-মাল্লাদের আইনগত প্রক্রিয়ায় ফেরত আনতে সহযোগীতা দেওয়া হবে।