৫২ রানের ব্যবধানে জয় পেল টাইগাররা

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

মুশফিক-সাকিবে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়৫২ রানের ব্যবধানে জয়টা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঘরেই পৌঁছলো। আরব আমিরাত ৮২ রানে অল আউট হল। হবে কি হবে না, পারবো কি পারবা না, এই আশঙ্কা ছিল অধিকাংশ সময় জুড়ে। তবে জয়ের বন্দরে নোঙ্গর ভেড়ালো আমাদের টাইগাররা। সব আতঙ্ক, আশঙ্কা দূর করে বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ২য় ম্যাচে কোনো আপসেট ঘটতে না দিয়ে জয়ের ফোয়ারায় ফিরে এল। বসন্তের হালকা ভাবটা গাঢ় হলো, জোয়ার ফিরে এল সবার মনে।

এবার শুরু করা যাক দ্বিতীয় পর্বের ধারাবিবরণী। সেটা না হলে কি চলে? চলুন তাহলে ঘুরে আসি পুরো ম্যাচের উত্থান-পতনের ইতিহাসে।

সৌম্য সরকারের স্লিপে ক্যাচ মিস! দেখে মনে হল উনি খেয়াল করতে পারেনি বলটা। এরপর রান ২ উইকেট ১। উইকেট শিকারী আল আমিন। এখন পর্যন্ত আরব আমিরাতের ব্যাটসম্যানদের বেশ চাপের মধ্যেই রেখেছে। কিন্তু সেটা কতক্ষণ থাকবে তার ওপর নির্ভর করছে ম্যাচের জয়-পরাজয়। মোস্তাফিজকে মনে হচ্ছে এখন আর কেউ ভয় পায় না। আর সেও কতটুকু প্র্যাকটিস করে তা বোঝা যাচ্ছে না। নাকি এসব কিছু নয়; আসল কথা নজরের দোষ!! তাকে নিয়ে এত কথা এত খবর।

তার ফলাফল এই!! তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ভালোর জন্য আর প্রশংসা করা যাবে না। তাহলে যদি তারা ভালো খেলে; তাও ভালো। ওরা হাসলে আমরা হাসি। ওরা কাঁদলে আমরা? থাক আর নাহয় বললাম না। বাকিটা আপনারা জানেন। যাক ফারা মনে হয় কিছুটা কাটল আমার কথায়। অবশেষে এশিয়া কাপের ২য় ম্যাচে অধরা উইকেটটি পেল। না এখনও পায়নি। কারণ ক্যাচটা উনি নিজের হাতে ধরেছিলেন। তবে এখনও পেন্ডিং হয়ে আছে ৩য় আম্পায়ারদের হাতে।

শেষ পর্যন্ত তারা না বললেন মাটিতে বল লেগেছে বলে অভিযোগ তাদের। আমাদের দু:খের আর শেষ রইল না। উড়িয়ে চার মেরে ষোলকণা পূর্ণ করল আমিরাত ব্যাটসম্যান। ওভার শেষ; ৪ ওভার ১ উইকেট ২১ রান। মুস্তাফিজের ওপর লাগা বদনজরটা সত্যিই কাটলো না। খেলা এ মুহূর্তে যেভাবে চলছে তাতে আরব আমিরাতের জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে। হুমমম তাই। আমাদের মাশরাফি এই দু:সময়ে একটা উইকেটের ব্যভস্থা করে দিলেন অবশেষে। ক্যাচের শিকার হল আমিরাতের ব্যাটসম্যান।

ধারাভাষ্যকারদের মুখে ছক্কার প্রশংসা। হ্যাঁ, ৬ রান যোগ হল দারুণভাবে আমিরাতের পক্ষে। আল আমিন ভালোই বল করছে। তবে টি-২০ ফরম্যাটের কথাতো আর ভোলা যাবে না। তাই চার-ছক্কা হবেই। মেনে নিন, তাতে নিজের জন্য ভালো । আউট!! এবার সত্যি সত্যি। আম্পায়ারের আর কিছুই বলার জো নেই। মাশরাফির বলে দুর্দান্ত ক্যাচ। ৩ উইকেট ৩৩ রান ৭ ওভারের ১ম বল। বিশাল ওয়াইড ম্যাশের। উইকেটে আছে উসমান-শাহজাদ। শেষ পর্যন্ত নোঙ্গরের দেখা পাবে কিনা কে জানে?

হোহো। সাজ্জাদের প্রস্থান ঘটালো মুস্তাফিজ। সত্যিই তাই। আউট। যাক অবশেষে একটা উইকেট। না, একটা নয় দুইটা। পাতিলও গেল গোল্লায়। এবার মুস্তাফিজ নিজে ক্যাচ ধরেছে। মাটি থেকে বেশ ওপরে। তাই সন্দেহের কোনো সুযোগ ছিল না। নিশ্চিত আউট। বুঝিয়ে বলছি। পরপর দুই উইকেট মুস্তাফিজের!! ৩য়টা হোক না হোক তবুও শান্তি। অবশেষে উইকেটতো পেল। ঠিক তাই, বলতে বলতে তাই হল। ভালো বল হয়েছে কিন্তু আপাতত তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।

৫ উইকেট ৪৩ রান ১০ম ওভার শেষ হল সাকিবের হাত ধরে। বোলার মাহমুদুল্লাহর ১১তম ওভারে ৬ষ্ঠ উইকেটের পতন। ১২তম ওভারে সাকিব এসে ২য় বলে শিকার করলেন আরেকটি উইকেট। সব মিলিয়ে ৭ উইকেট ৪৬ রান। বিশ্বাস হতে চাইছে না। কিন্তু নিজের চোখে দেখা; বিশ্বাসতো করেতেই হবে। স্টাম্পিং হয়ে ৭ম ব্যাটসম্যান আউট হলেন। অবাক হলাম আউট হওয়ার আগে সে ক্রিজ ছেড়ে সামনে গেল কিন্ত ফেরার কথা ফুলে গেলেন বোধয়। কোনো চেষ্টাই দেখলাম না উইকেট বাঁচানোর। মাঝে মাঝে এমন অবাক করা ঘটনা ঘটে; যার কোনো ব্যাখ্যা হয়তো তার নিজের কাছেও থাকে না। যা হয় এমনিতেই হয়।

মাহমুদুল্লাহ এক ওভারে দুই উইকেট পেলেন। বাহ, এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। এবার মনে হচ্ছে জয়ের সূর্যটা একটু একটু উঁকি দিচ্ছে বাংলাদেশের আকাশে। ৫৭ রান ৮ উইকেট; আরব আমিরাতের বর্তমান ঘরের হিসাব। নবম উইকেট চলে যাওয়ার পর এবার সত্যিই মনে হচ্ছে বাংলাদেশ অবশেষে এশিয়া কাপের টি-২০ ফরমেটে প্রথম জয় পেতে যাচ্ছে। একটু অপেক্ষা করুন। আবারও সেই মাশরাফি তাসকিনের বুক মিলানো লাফ নৃত্য। সে নৃত্য সফলতার দিকেই গেল। জয় বায়লাদেশের জয়।