৫০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অপেক্ষায়

প্রকাশ:| শনিবার, ২৬ আগস্ট , ২০১৭ সময় ০৫:০১ অপরাহ্ণ

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তের ঘুমধুম, তুমব্র“, নোয়া পাড়া, উখিয়ার পালংখালীর ধামনখালী, রহমতের বিলের নাফ নদীর মিয়ানমারের ওপারে কাঁটাতারের পাশে এবং পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছেন রোহিঙ্গারা। তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ঘুমধুমের তুমব্র“ কোনার পাড়ার উত্তর -পুর্বে মিয়ানমারের অভ্যান্তরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার চক্কর দেয় এবং সেনাবাহিনী এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। ফলে এপারের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতংক লক্ষ্য করা গেছে। গুলিবর্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, মিয়ানমার অভ্যন্তরে গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে, একটি হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখা যায়। একই কথা বলেন কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক মনজুরুল হাসান খান। তিনি আরো বলেন, ওপারে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এপারের লোকজনকে আতংকিত হওয়ার বিষয়ে ভয় নেই। বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক সর্তক প্রহরায় রয়েছে। কোন অবস্থাতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ করত দেওয়া হবেনা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৩০ টির বেশী চৌকিঘরে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা হামলা চালায়। এরপর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ায় বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা কাঁটাতারের বেড়ার কাছে এবং আশপাশের পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছেন। তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এদিকে রাখাইনে পরিস্থিতি অবনতির পর বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি সতর্কতা জারি করেছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজার সীমান্তের উখিয়া -টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি। বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল আহসান খান জানিয়েছেন, ‘ভোর থেকে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা অবস্থান নিয়েছেন অনুপ্রবেশের জন্য। তবে বিজিবির কড়া প্রহরার কারণে তারা অনুপ্রবেশ করতে পারছে না।’ওপারে আটকে পড়া রোহিঙ্গারা সীমান্তের আশপাশের পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছে। কোন অবস্থাতে যাতে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জরুরী বৈঠক করা হয়। সীমান্তের নিরাপত্তায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানান বিজিবির এই অধিনায়ক। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, ‘সীমান্তের ওপারে বৃহস্পতিবার গভীররাত থেকে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।’বিজিবি সকাল থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি। বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, ‘গভীর রাতে গোলযোগের পর থেকে আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশেরে চেষ্টা করছে। তারা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিজিবির টহল জোরদার করায় তারা অনুপ্রবেশ করতে পারছেন না। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ পোস্টে হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫৯ রোহিঙ্গা বিদ্রেুাহী নিহত হয়েছেন। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যও নিহত হন।

 


আরোও সংবাদ