৪ তলা আধুনিক ও বিলাসবহুল সুন্দরবন-১০ লঞ্চ এ প্লে-গ্রাউন্ড

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

দেশে প্রথমবারের মতো লিফটযুক্ত অত্যাধুনিক বিলাস বহুল সুন্দরবন-১০ লঞ্চ চালু হচ্ছে। বরিশাল-ঢাকা নদী পথে যাত্রীদের যাত্রা আরো আরামদায়ক করতে দেশের অন্যতম আধুনিক ও বিলাসবহুল নৌযান প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানি সমুদ্রগামী বড় জাহাজের আদলে তৈরি করছে এ লঞ্চটি।

সুন্দরবন-১০ লঞ্চচলাফেরায় অক্ষম শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সুবিধার জন্য প্রায় ৪ তলা এ লঞ্চটিতে থাকছে লিফটের ব্যবস্থা। এ ছাড়া যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে প্লে-গ্রাউন্ড, ফুড কোড এড়িয়া এবং ওয়াইফাই সুবিধাসহ রাখা হচ্ছে বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা।

দেশের সবচেয়ে বেশি যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ও আকারে বড় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বিলাসবহুল এই লঞ্চটি বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরে বেলতলা ফেরিঘাট এলাকায় সুন্দরবন নেভিগেশন ডক ইয়ার্ডে নির্মাণ করা হচ্ছে।

দেশি ও বিদেশি প্রযুক্তি নির্ভর এই লঞ্চটি বর্তমানে ডকইয়ার্ড থেকে পানিতে ভাসাতে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে।

লঞ্চ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে সুন্দরবন-১০ লঞ্চের  সিংহ ভাগ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে বরিশাল-ঢাকা নদী পথে যাত্রী পরিবহন শুরু করতে পারবে। বিশেষজ্ঞ নৌ স্থপতির নকশায় সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের প্যানেল প্রকৌশলীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে প্রায় ২৪ মাস ধরে সুন্দরবন-১০ লঞ্চ নির্মাণ কাজ চলছে। ৩৩২ ফুট দৈর্ঘ্য এ নৌযানটির প্রস্থ ৫২ ফুট। এর লোয়ার ডেক, আপার ডেক ও দু’শতাধিক প্রথম শ্রেণির কক্ষ (কেবিন) ছাড়াও ১৫টি ভিআইপি কক্ষে অনুমোদিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৪০০ জন। নৌযানটিতে ৪০টি সোফা বা বিলাস আসন রয়েছে।

সুন্দরবন-১০ লঞ্চ র
এছাড়াও প্রায় দুইশ টন পণ্য পরিবহনের সুবিধাও রয়েছে নৌযানটিতে। জার্মানের একটি কোম্পানির তৈরি ২ হাজার ৭৫০ অশ্ব শক্তির ২টি মূল ইঞ্জিন ছাড়াও নৌযানটির বাতানুকূল প্রথম শ্রেণি ও ভিআইপি কক্ষসহ ডেক যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস নিশ্চিতকরণে ৩টি জেনারেটরসহ আরো একটি স্ট্যান্ডবাই জেনারেটরও সংযোজন করা হয়েছে। পুরো নৌযানটির পরিচালন ব্যবস্থা সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। পুরো লঞ্চে যাত্রীদের ওয়াইফাই সুবিধা প্রদান করবে নৌযান কর্তৃপক্ষ।

সুন্দরবন-১০ লঞ্চ এর হুইল হাউজে (চালকের কক্ষ) সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নির্ভর যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হয়েছে। এর রাডার সুকান ‘ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক’ ও ম্যানুয়াল দ্বৈত পদ্ধতির। পাশাপাশি নৌযানটিতে আধুনিক রাডার ছাড়াও জিপিএস পদ্ধতি সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে লঞ্চটি চলাচলরত নৌপথের ১ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে গভীরতা ছাড়াও এর আশপাশের অন্য যেকোনো নৌযানের উপস্থিতি চিহ্নিত করতে পারবে। এমনকি ঘন কুয়াশার মধ্যেও নৌযানটি নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। সুন্দরবন-১০ লঞ্চ পরিচালনার জন্য দক্ষ মাস্টার অফিসার ও ইঞ্জিন অফিসার ছাড়াও মোট ৪০ জন বিভিন্ন শ্রেণির ক্রু থাকছে। তবে অত্যাধুনিক এ নৌযানটির সব শ্রেণির যাত্রী ভাড়া অন্যসব নৌযানের মতোই থাকছে বলে জানায় নৌযান কর্তৃপক্ষ।

সুন্দরবন-১০ লঞ্চের স্বত্ত্বাধিকারী বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, সমুদ্রগামী বড় জাহাজের আদলে তৈরি হচ্ছে এ লঞ্চটি। আমরা প্রচলিত ভাষায় লঞ্চ বলে অভিহিত করলেও বাস্তবে এটি পরিপূর্ণ জাহাজ। তৈরির সময়ই যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির কেবিনগুলো বানানো হয়েছে বিলাসবহুল আবাসিক তিন তারকা হোটেলের আদলে। ব্যয়বহুল ও দৃষ্টিনন্দন আসবাবপত্রে সাজানো প্রতিটি কক্ষ। প্রতিটি কেবিনের সঙ্গে রয়েছে সুবিশাল বারান্দা। এখানে বসে নদী, পানি, আকাশ আর আশপাশের মনোরম প্রকৃতি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। কক্ষের ভেতরে রয়েছে টেলিভিশন। রিভার সাইটের কেবিনের ভেতর থেকেও সহজেই দেখা যায় বাইরের নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলি।

ঐতিহ্য আর আধুনিকতার সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে নিরাপদ ও বিলাসবহুল এই লঞ্চটি। আকার, নকশা, নান্দনিকতা এমনকি নিরাপত্তার দিক থেকেও অন্য যেকোনো লঞ্চের তুলনায় আরামদায়ক হবে বলে জানান সুন্দরবন-১০ লঞ্চের স্বত্ত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু ।