৪৬ প্রকল্পের অনিয়ম তদন্তে প্রশাসন

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:২৫ অপরাহ্ণ

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ৬

ফটিকছড়ি সংবাদদাতা:
ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রানালয়ের (টিআর) বিশেষ বরাদ্ধের ৪৬টি প্রকল্পের কাজ না করেই ফটিকছড়ির ভূজপুর থানাধীন দাঁতমারা ইউপিতে আত্মসাৎ করার অভিযোগের পর তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. খোরশেদ আলম অভিযোগ তদন্তের জন্য ফটিকছড়ির ইউএনও কার্যালয়ে ও ঘটনাস্থল দাঁতমারায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
তিনি প্রথমে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক হলে অভিযোগের বাদী দুই ইউপি সদস্য, অভিযুক্ত চেয়ারম্যান, সচিব ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে মুখোমুখি আলোচনা করেন।
এরপর তিনি দাঁতমারা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে প্রকল্প গুলো সরেজমিনে তদন্ত করতে যান। এ সময় ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে ফিরে আসার পর তদন্ত চলাকালীন প্রকল্পের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ইউপি সদস্য সুব্রত কুমার দে, শাহিদুল আলম ও চেয়ারম্যান সর্মথকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে এসে পুলিশি টহল জোরদার করেছে।
সুব্রত কুমার দে ও শাহিদুল আলম এর কয়েকজন সর্মথকরা জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তরা প্রকল্পের পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পর চেয়ারম্যানের লোকজন নাহিদের উপর হামলা চালিয়েছে। এসময় নাহিদ ও জুয়েল আহত হন।
চেয়ারম্যান সর্মথকরা বলেন, পরিদর্শন শেষে ফিরে আসার পর স্থানীয় রাসেল ও হেয়াঁকো এলাকার জুয়েলের মধ্যে বাকবিতান্ডা হয়। এর জের ধরে বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে দাঁতমারা ইউনিযন পরিষদে হামলা করে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এ ঘটনায় কামরুজ্জামান কমল, শিপন, আবু তৈয়ব, কামাল ও মজিব আহত হয়।
দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই মুহাম্মদ ফজলুল করিম বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স সহ দ্রুত ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসা হয়েছে ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা পরিদর্শন করে ফিরে আসার পর এ ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।
এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. খোরশেদ আলম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্প গুলোতে অনিয়ম হয়েছে। যে পরিমান কাজ হয়েছে তা নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে ও অভিযোগ হওয়ার পরে। তৎমধ্যে ৫টি প্রকল্প সম্পূর্ণ ভূয়া। এসব নামের কোন প্রতিষ্ঠান দাঁতমারা ইউনিয়নে নেই। এই ভূয়া প্রকল্প ৫টির টাকা ইতোমধ্যে সরকারী কোষাগারে ফেরত দিয়েছে। প্রকল্প গুলো যারা দেখভাল করেছে তাদের উদ্দেশ্য নিশ্চই খারাপ ছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষনাবেক্ষন (টিআর) কর্মসুচীর আওতায় ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নে ৪৬ প্রকল্পের ২৩টি হচ্ছে ইউনিয়নে বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প। এবাবৎ বাবদ ৭৯ হাজার ৭৮২টাকা করে প্রত্যেকটির জন্য বরাদ্দ প্রদান করে। এ ছাড়া বাকী প্রকল্প গুলো ফোরকানিয়া মাদরাসা, রাস্তা, ব্রিজ বা কবরস্থানের উন্নয়ন। প্রকল্প গুলো ২৮ জুন ২০১৬ এর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে মাস্টাররুল জমা দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে কোন কাজ না থাকায় দাঁতমারা ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, ইউপি সচিব এমরান হোসেনকে অভিযুক্ত করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছে দুই ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও সুব্রত দাশ।


আরোও সংবাদ