৪৩টি খালি কনটেইনার আনায় লাকী ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ:| শনিবার, ৮ অক্টোবর , ২০১৬ সময় ০৮:৪৪ অপরাহ্ণ

সরিষা আমদানির ঘোষণা দিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে ৪৩টি খালি কনটেইনার নিয়ে আসা লাকী ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের মামলা করছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে কাস্টমস মামলা দায়ের করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সরিষা আমদানির নামে অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়াতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কাস্টমস মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির তিন বছরের আমদানি তথ্য পুনর্নিরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস। তিন বছরে ৪৭২টি চালানের বিপরীতে ৮৭১ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব চালানে পণ্য আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার করা হয়েছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।  কাস্টমসের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, পণ্য আমদানির আড়ালে এসব চালানের অধীনে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তে গত আগস্টে এক হাজার টন সরিষা বীজ আমদানির ঘোষণা দিয়ে ৪৩টি খালি কনটেইনার নিয়ে আসে লাকী ট্রেডিং। এতে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা পাচারের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়ার লাকী ট্রেডিং এর বিরুদ্ধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করতে যাচ্ছে জানিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার রেজাউল হক বাংলানিউজকে বলেন, গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে সিঙ্গাপুরের এগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা মূল্যের সরিষা বীজের একটি চালান আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি। পণ্য চালানটির চারটি কন্টেইনার বেসরকারি ডিপোতে নিয়ে যাওয়ার সময় বন্দর গেটে স্ক্যানিং করা হয়। এতে দেখা যায় কন্টেইনারের ভেতরে পণ্য নেই। পরে বাকি ৩৯টি কন্টেইনার খুলে একই অবস্থায় দেখতে পায় কাস্টমস কর্মকর্তারা।

রেজাউল হক জানান, চালানটি আটকের পর পণ্য আমদানির নামে অর্থ পাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। পরে প্রাথমিক তদন্তে অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। ফলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চলতি সপ্তাহে নগরীর বন্দর থানায় মামলা দায়ের হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, মামলা দায়ের করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যে কোন দিন মামলা দায়ের করতে পারেন।

কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, ৪৩টি কনটেইনারের প্রতিটিতে প্রায় সাড়ে ২২ টন করে পণ্য থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ১০০ কেজি করে। সূত্র জানায়, গত তিন বছরে লাকী ট্রেডিং বিভিন্ন দেশ থেকে ৮৭১ কোটি টাকার (ট্যাক্স ও ভ্যাট ব্যতীত) পণ্য আমদানি করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৪৭২টি চালানের মাধ্যমে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ৩৬টি চালানে ৫৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সরিষা বীজ আমদানি করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমদানিকারকের পক্ষে পণ্য খালাসের দায়িত্বে থাকায় সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বাংলানিউজকে জানান, লাকী ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের এগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড’র কাছ থেকে ১ হাজার টন সরিষা বীজ আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি পণ্যটি রফতানির জন্য ইউক্রেনের বিগ অ্যালাইন্স নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়।

আমদানিকারকের বরাত দিয়ে শহিদুল্লাহ বলেন, ইউক্রেন বন্দরে একটি মাফিয়া চক্র এ ধরনের কাজটি করেছে বলে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে। এরপর আমদানিকারকের দেওয়া টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে পণ্য আমদানির নামে বিদেশে অর্থ পাচারে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লাকী ট্রেডিং এর সঙ্গে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এইচকে এন্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড মালিক পক্ষ জড়িত রয়েছে কিনা সে বিষয়টিও যাচাই করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।