৩ হাজার মার্কিন ডলার বৈদেশিক সাহায্য ছাড় হয়েছে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৯:১৫ অপরাহ্ণ

গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে মোট তিন হাজার আট দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় (ডিসবার্সমেন্ট) করা হয়েছে। এটি এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
দশম জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে মঙ্গলবার বিকেলে সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন সহযোগী দেশ/সংস্থার সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বৈদেশিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি এবং অর্থ ছাড়ের পরিমাণ প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১১-১২ হতে ২০১৩-১৪ এই তিন অর্থবছরে সর্বমোট প্রতিশ্রুত (কমিটমেন্ট) বৈদেশিক সহযোগিতার পরিমাণ ১৬ হাজার ৪৬৪ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ডিসবার্সমেন্ট (ছাড়) হয়েছে সাত হাজার ৯৪৬ দশমিক ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ প্রতি অর্থবছরে গড়ে কমিটমেন্ট হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৮৮ দশমিক শূন্য আট মিলিয়ন ডলার এবং ডিসবার্সমেন্ট হয়েছে দুই হাজার ৬৪৮ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।’
তাহজীব আলম সিদ্দিকীর এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী মুহিত বলেন, ‘কোনো অর্থবছরে প্রতিশ্রুত বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ সাধারণত ওই অর্থবছরেই ব্যবহৃত হয় না। প্রকল্পের বাস্তবায়নকালে এ অর্থ ব্যবহৃত হয়। কোন প্রকল্পের কাজ প্রতিশ্রুত অর্থ অপেক্ষা কম অর্থে বাস্তবায়িত হলে বা প্রকল্পের কার্যপরিধি কমে গেলেও কখনো কখনো অর্থ অব্যবহৃত থাকে। এ অব্যবহৃত অর্থ প্রকৃত অর্থে ফেরত যায় না। প্রতিশ্রুত অর্থ থেকে কমে যায়। উল্লেখ্য, বিভিন্ন দাতাদেশ/সংস্থার সাথে করা কোনো ঋণ/অনুদানের চুক্তি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাতিল হয়নি।’
সেলিম উদ্দিনের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৫ ডিসেম্বর মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও চাকরি কমিশন-২০১৩ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। কমিশনে প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর যত দ্রুত সম্ভব পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।’
হাজী মো. সেলিমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে ব্যাংক রেট কমে যাওয়ার কারণে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের যৌক্তিকতা সরকার পরীক্ষা করে দেখছে।’
মো. ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সার্বক্ষণিকভাবে কার্যকর রয়েছে। তবে বাংলাদেশ হতে এ পর্যন্ত কি পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে তার তথ্য বিএফআইইউতে নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সাথে সমঝোতা স্মারক সম্পাদনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সমঝোতা স্মরক সম্পাদিত হলে অর্থ পাচার সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।’