৩৮নং ওয়ার্ডেসুধি সমাবেশ

প্রকাশ:| সোমবার, ১৭ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৯:১২ অপরাহ্ণ

মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের ৪ বছর পূর্তিতে ভিডিও ডকুমেন্ট প্রদর্শনী

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলম বলেছেন, ২০১৩ থেকে ২০১৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রায় ৯ শত কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তিনি বলেন, ৩৮নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে বিগত ৪ বছরে ১৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। মেয়র বলেন, থোক বরাদ্দ, রাজস্ব, এডিপি, জাইকা, সিডিএমপি, ইউপিপিআর সহ বিবিধ প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সিটি কর্পোরেশন এলাকায় উন্নয়ন কাজ চলছে। তিনি বলেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, ৬০ লক্ষ নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ নগরবাসী দিয়েছিলেন। তাদের দেয়া দায়িত্বকে আমানত মনে করে নগরবাসী প্রদত্ত করের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মেয়র ও মেয়র পরিষদের সম্মিলিত প্রয়াসে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মেয়র বলেন, বহুবিধ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সুনাম দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে গেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে নগরীর ৩৮নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের লিলি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সুধি সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে সিটি মেয়র এসব কথা বলেন। সুধি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ৩৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী। সুধি সমাবেশের শুরুতে বিগত ৪ বছরের উন্নয়ন কার্যক্রম ভিডিও ডকুমেন্টের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে অবহিত করা হয়। সুধি সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিসেস আফরোজা কালাম। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমেদ, মেয়রের একান্ত সচিব মো. মনজুরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এয়াকুব নবী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আহমদুল হক। ৩৮নং ওয়ার্ডের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতামত তুলে ধরেন আলহাজ্ব এম এ আজিজ ও শাহনেওয়াজ চৌধুরী। পবিত্র কোরান থেকে তেলোয়াত করেন হাফেজ মো. জাহেদ। প্রধান অতিথির ভাষণে সিটি মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের দেশে দেশে জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্পের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে সচেতন আছেন। মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে ১৯৯৫ সনে প্রণীত ড্রেনেজ মাষ্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন না হওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রয়োজনীয় পরিমাপের পর্যাপ্ত সø্যুইচ গেইট না থাকা, বৃষ্টির পানির সাথে পাহাড়ের মাটি নেমে আসা, বৃষ্টির পানির সাথে জোয়ারের পানি প্রবেশ, খাল, নালা, ডোবা, জলাধার অবৈধ দখল, পাইলিংয়ের মাটি নালা-নর্দমায় ছেড়ে দেয়া, ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে না ফেলা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাশয়, খাল-বিল, ঝিল, পুকুর, ডোবা ইত্যাদি ক্রমাগতভাবে বিলুপ্ত হওয়ার কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, নগরীতে নতুন খাল খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অনুমোদন ও অর্থ পাওয়া গেলে পরিকল্পিতভাবে নতুন খাল খনন ও বিদ্যমান খালসমূহ সংস্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, নাগরিকদের সচেতনতা অপরিহার্য। নাগরিকগণ সচেতন হলে জলাবদ্ধতা ৪০ ভাগ কমে যাবে। মেয়র শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা সহ নাগরিক সেবায় সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত কার্যক্রমের সহযোগিতা কামনা করেন।