৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারক মানিক উধাও!

প্রকাশ:| সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১০:২৭ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শ্রমিক ও স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে ১৫ যুবকের কাছ থেকে ৩০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারক মানিক উধাও হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিপুল পরিমান টাকা খোঁয়া যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে ওই ১৫ যুবক। প্রতারক ও মানব পাচারকারী মানিক পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ছনখোলার জুম গ্রামের কবির আহাম্মদ প্রকাশ গুইট্টা কবিরার পুত্র বলে জানা গেছে। ১৫ ফেব্রে“য়ারী সন্ধ্যায় মানিকের খোঁজে তার বাড়ীতে সরেজমিনে পরিদর্শণ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার প্রতিবেশিরাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেনা মানব পাচারকারী মানিকের অবস্থান সম্পর্কে। তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে মানিক বর্তমানে কক্সবাজারের রামু অথবা কক্সবাজার শহরে অবস্থান করছে।

এদিকে গত কয়েক দিন পূর্বে মানব পাচারকারী মানিকের এহেন প্রতারনার খবর এলাকায় চাউর হলে সর্বত্রে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী একটি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও মানব পাচারকারী মানিকের খুঁজে মাঠে নেমেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস পূর্বে টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা গ্রামের আবদুল্লাহ পাড়া গ্রামের ছমিদুল হকের পুত্র খলিল, ছাবের আহমদের পুত্র আবদুর রশিদ, মো. হোছাইনের পুত্র মো. ফারুক, রাসেল, হোছাইন, রাজাখালী ও পেকুয়া, টইটংয়ের বিভিন্ন গ্রামের আরো ১০ জনের কাছ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক ও স্টুডেন্ট ভিসার নামে পাঠানোর নামে সর্বমোট ৩০ লক্ষাধিক টাকা আদায় করেন। তাদের ১৫ জনকে গত মাসের শুরুতে ঢাকা নিয়ে যান বিমানযোগে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে। সেখানে হোটেলে এক সপ্তাহ থাকার পর প্রতারক মানিক ওই ১৫ জনকে জানান, মালয়েশিয়ায় বিমান ফ্লাইটে সমস্যা হয়েছে। ফেব্রে“য়ারী মাসে শুরুতে ফ্লাইট হবে। এই আশায় প্রতারক মানিকের আশ্বাসে ওই ১৫ জন যুবক বাড়ীতে চলে আসেন। কিন্তু প্রতারক মানিক গত কয়েকদিন পূর্বে এলাকা থেকে উধাও হয়ে গেছে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটিও বন্ধ করে দিয়েছে।

মানিকের কাছে প্রতারণার শিকার যুবক খলিল জানান, তারা ১৫ জনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে প্রতারক মানিক প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গত কয়েক দিন পূর্বে মানিক উধাও হয়ে গেছে। তার খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছেনা। খলিল আরো জানান, তারা ১৫ জন বাড়ি-ভিটা বিক্রি করে সোনার হরিণের আশায় মালয়েশিয়ায় গিয়ে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে তার কাছে ভিসার টাকা দিয়েছিলেন। এখন মানব পাচারকারী মানিকের দূর্দান্ত প্রতারণায় তারা পথে বসেছেন।
এদিকে প্রতারণার শিকার মানিককে খোঁজে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রতারণার শিকার যুবকরা সরাসরি পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।

১৫ ফেব্রে“য়ারী সন্ধ্যায় পেকুয়ার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ছনখোলার জুম গ্রামে মানিকের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এসময় স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন বছর পূর্বে প্রতারক মানিক সাগর পথে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। গত এক বছর পূর্বে সেখানকার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে দেশে ফেরৎ পাঠায়। এরপর দেশে এসেই মালয়েশিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা ও শ্রমিক ভিসায় লোক পাঠানোর নামে শুরু করে মহা প্রতারণা। তার প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে বহু যুবক সর্বশান্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মানিকের চাক্যচিক্যময় ও বিলাসবহুল চলাফেরায় প্রথমে এলাকাবাসীদের গভীর সন্দেহ হয়। গ্রামে থাকাকালে মানব পাচারকারী মানিক এলাকার টাউট-বাটপারদের সমন্বয়ে চলাফেরা করতেন।

প্রতারণার শিকার কয়েকজন যুবক জানান, তারা কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতারক ও মানব পাচারকারী মানিকের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।