৩০ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে উধাও এনজিও

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩০ জুন , ২০১৫ সময় ০৯:৩৯ অপরাহ্ণ

রাউজান-১

শফিউল আলম, রাউজানঃ চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া পটিয়া পাড়া এলাকায় লাগানো বাড়ী ভাড়া নিয়ে টাঙ্গানো হয় পল্লী নারী উন্নয়ন জাগরণ সংস্থার সাইনবোর্ড। গত শনিবার থেকে লোকজনকে নানাভাবে ভাগ্য পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে সংস্থার সদস্য হওয়ার লোভে ফেলে ঋণ দেয়ার কথা বলে মাত্র ২ দিনের মধ্যে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর উধাও হয়ে গেছে সংস্থার নামে প্রতারক দল।
গত ২৯ জুন সোমবার সদস্যদের সংস্থা থেকে ঋণ দেয়ার কথা বলে সঞ্চয় ও আমানতের নামে টাকা নেয় সংস্থার ম্যানেজার পরিচয়দানকারী কামরুল ও রাসেল নামের আরেকজনা। কিন্তু গত ২৮ জুন রবিবার বিকেল থেকে তারা উধাও হয়ে যায়। তবে প্রতারকদের ঠিকানা জানানো হয়নি গ্রাহকদের।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পটিয়া পাড়া এলাকার প্রবাসী খোরশেদ আলমের বাড়িতে গত শনিবার ৫ লাখ টাকা সেলামি মূল্যে এবং মাসে ১৫ হাজার টাকা ভাড়ায় দু’টি কক্ষ ভাড়া নেয় ওই সংস্থা। নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সহজ সরল পুরুষ ও মহিলাদেরকে সদস্য ফরম পুরণ করেন এবং জনপ্রতি ৫ হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার, ৩০ হাজার টাকা করে সঞ্চয়ের নামে টাকা নেয়। তাদের কথা দিয়েছিল ১ লাখ, ২ লাখ করে সবার মাঝে গত ২৯ জুন সোমবার দুপুরে ঋণের টাকা বিতরণ করা হবে। কিন্তু রবিবার দুপুর থেকেই প্রতারক চক্রের লোকজন পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী নোয়াপাড়া পথেরহাট বাজারের ন্যাশনাল ভিডিওর পারভেজ, নোয়াপাড়া পাড়া অটোরিক্সা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ ও অপর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কাঞ্চন জানিয়েছেন, ৫ হাজার টাকা অগ্রীম প্রদান করলে ৫০ হাজার টাকা, ১০ হাজার দিলে ১ লাখ টাকা, আর ৫০ হাজার দিলে একটি ৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি সিএনজি অটোরিক্সা ঋণ দেয়া হবে বলে জানান। একই ভাবে কথা বলেন এরকম অসংখ্য শত শত সহজ সরল লোকজনের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।
এদিকে আরেক সিএনজি অটোরিক্সা চালক বাবু বলেন, আমাদের এলাকা সাদার পাড়ার জসিম ড্রাইভারের স্ত্রীর কাছ থেকে তারা ঋণ দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার, আবু তাহেরের স্ত্রী থেকে ৫ হাজার, জোহরা বেগম নামের আরেকজনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তারা এখন ঋণ ও ঋণদাতা সংস্থার উধাও হওয়ার খবর পেয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছেন।
এ নিয়ে উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার গরীব মহিলা পুরুষদের কাছ থেকে ১০/১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
ওই ঘটনার পর নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দিদারুল আলমকে ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ জানান। পরে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা পুলিশ কোর্টে ও দুদকে অভিযোগ করার পরার্মশ প্রদান করেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দিদারুল আলম ও সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, লাখ লাখ টাকা নিয়ে এনজিও সংস্থার লোকজন পালিয়ে যাওয়া খবর শুনেছি।
রাউজান থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, এধরনের অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। তাছাড়া এসব অভিযোগ কোর্টে ও দুদকে করতে হয়।


আরোও সংবাদ