৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে-সিইসি

প্রকাশ:| রবিবার, ২৯ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ০৮:৫৭ অপরাহ্ণ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে আইন ভঙ্গ হবে। আজ রোববার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সিইসি।

সিইসি বলেন, অনেক দিন আগে থেকে আমরা বলে যাচ্ছিলাম ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচন হবে। আপনারা প্রচার করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে আইন পরিবর্তন হলো। এর ফলে বিধিমালা পরিবর্তন করতে হলো। এসব করতে গিয়ে হাতে খুব বেশি সময় ছিল না। এখন আমাদের কিছু বাধ্যবাধকতা আছে, যা আমি একাধিকবার বলেছি। শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।
সিইসি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে। যে কারণে জানুয়ারিতে নির্বাচন সম্ভব নয়। ওই সময়ে হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ হবে। এরপর এ সংক্রান্ত দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সময়ে বিশ্ব ইজতেমা হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষা চলবে। যথেষ্ট সময় রেখে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, তাই সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবুও তাঁদের আবেদন আমরা কমিশনে আলোচনা করব এবং সিদ্ধান্ত জানাব।

এর আগে আজ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দল পৌরসভা নির্বাচন ১৫ দিন পেছানোর দাবি করেছে। এ ছাড়া বিএনপির যেসব নেতা-কর্মী আটক রয়েছেন, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া এবং বাইরে থাকা নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় বন্ধের ব্যবস্থা নিয়ে সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করার দাবি জানানো হয়। বিএনপির নির্বাচন পেছানোর এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিইসি এ কথা বলেন।

বিএনপি আটক নেতা-কর্মীদের ছেড়ে দেওয়া বা হয়রানি না করা প্রসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতি ইসি আহ্বান জানাবে কি না?—এই প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, কাউকে যদি হয়রানি করা হয়ে থাকে সে জন্য আদালত রয়েছে। এক আদালতে না হলে তার ওপরে আদালত রয়েছেন। বিএনপির দাবির উত্তর সেখানে আছে। আমি আশা করব তারা সেভাবে চেষ্টা করবে। তবুও আমি মনে করি কাউকে অযথা হয়রানি করা উচিত নয়। আশা করব এ বিষয়ে সবাই সজাগ থাকবে।

পৌরসভা নির্বাচনের আচরণবিধিতে পরিবর্তন এনে নির্বাচনী প্রচারে সাংসদদের অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে দাবি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ১০ দিন পেছানোরও দাবি জানিয়েছে জাপা।

সাংসদের নির্বাচনী প্রচারে নামার সুযোগ দেওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দল আমাদের মূল অংশীদার। তারা কোনো কিছু দাবি করলে আমাদের বিবেচনা করতে হবে। আমরা যদি আইনের মধ্যে থেকে কিছু করতে না পারি, সেটা আমরা তাদের জানিয়ে দেব। সেটাও আমরা কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেব।