২ সহোদরের লাশঁ দাফন, ঘাতক আবুল কালাম ধরা পড়েনি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৫:২২ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম ,নিউজচিটাগাং২৪.কম।।
রাউজানের সুলতানপুর এলাকায় বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত দুই সহোদর আবু সুফিয়ান আজাদ ও আবু মোরশেদ আজাদ janajacomএর লাশ ঘটনার দিন দিবাগত রাত দশটার সময় ময়না তদন্ত শেষে রাউজানের সুলতান পুর কাজী বাড়ীতে নিয়ে আসলে স্বজনদের আহাজারীতে এলাকায় হৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের অবতারণা হয় । দুই সহোদরের লাশ দেখতে এলাকার হাজার হাজার মানুষ সুলতান পরি কাজী বাড়ীতে ভীড় জমায় । মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর রাউজান কলেজ মাঠে দুই সহোদরের লাশঁ এর জানাজার নামাজ পৃথক পৃথক ভাবে অনুষ্টিত হয় । জানাজার নামাজে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ্ব সহ এলাকার কয়েক হাজার লোক অংশ করেন । জানাজার নামাজ শেষে দুই সহোদরের লাশ তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় । যে কবরস্থানের যাতায়াতের রাস্তার জায়গার জন্য বিরোধ সৃষ্টি হয় সেই কবরস্তানে দুই সহোদরের লাশঁ দাফন করা হয় । নিহত আবু সুফিয়ান আজাদের স্ত্রী নাসরিন আক্তার তার স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র ছয় বৎসর বয়সের কন্যা সন্তান নুসরাত তার পিতাকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান্য হয়ে পড়েছে । নিহত মোরশেদের স্ত্রী কমলা ও একমাত্র পুত্র সন্তান মঈনু (৮) মোরশেদেও হত্যাকান্ডের ঘটনার পর তারা কাকে নিয়ে বেচেঁ থাকবে বিলাপ ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন । ঘটনার পর আবুল কালাম পলাতক রয়েছে । দুই সহোদও হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহ দের পরিবার থেকে রিপোর্ট লেখা সময়ে পর্যন্ত সময়ে কোন মামলা করা হয়নি । রাউজান থানার ওসি এনামুল হক নিউজচিটাগাং২৪.কমকে জানান দুই সহোদর হত্যাকারী তাদের আপন বড়ভাই ঘাতক আবুল কালামকে গ্রেফতার করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে । নিহতদের পরিবার এর সদস্যরা লাঁশ দাফন করা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান ওসি এনামুল হক । এলাকার লোকজন ঘাতক আবুল কালামকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান । নিহত দুই সহোদরের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা আবু মাসুদ আজাদ নিউজচিটাগাং২৪.কমকে বলেন, এই ঘটনায় অমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা র্মমাহত। আমার আপন ভাই হয়ে আমার আপন দুইভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করলো বড়ভাই আবুল কালাম সেই ঘাতক ভাইকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদানের দাবী জানান, আওয়ামী লীগ নেতা আবু মাসুদ আজাদ ।রাউজানে উপজেলার সুলতানপুরে কবরস্থানের চলাচলের রাস্তার জায়গার বিরোধ নিয়ে বড়ভাই আবুল কালামের ছুরিকাঘাতে দুইভাই মোরশেদ ও সুফিয়ান নিহত হয় । গত ২২জুলাই সোমবার সকাল এগারটার সময় রাউজানের সুলতান পুর দারুল ইসলাম মাদ্রার্সার পার্শ্বে কাজী বাড়ীতে এই ঘটনা সংগঠিত হয় । এই ঘটনা চলাকালে এলাকার শত শত নারী পুরুষ দৌড়ে এসে জমায়েত হয় । তবে কেউ হামলাকারী আবুল কালামকে ধরার চেষ্টা করেনি । ছুরিকাঘাতে নিহত আবু সুফিয়ান আজাদ ও আবু মোরশেদ আজাদের মেঝ ভাই আবু তৈয়ব আজাদ জানান, গতকাল সোমবার সকাল ১১ টার সময় আবুল কালাম ধারালো ছুরি দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ছোটভাই আবু সুফিয়ান (৪৮) ও আবু মোরশেদ (৩৬) কে প্রকাশ্যে দিবালোকে ছুরিকাঘাত করে । মারাত্বক আহত অবস্থায় দুই সহোদরকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর দুই সহোদর আবু সুফিয়ান ও মোরশেদ কে দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষনা করেন । এই ঘটনার পর এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের স্ঞ্চার হয়েছে । নিহত দই সহোদর আবু সুফিয়ান, আবু মোরশেদ রাউজানের সুলতান পুর ্কাজী বাড়ী এলাকার মৃত আবদুল মালেক পোষ্টমাষ্টারের পুত্র । ঘটনার সুত্রপাত এলাকার লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পারিবিারিক কবরস্থানের যাওয়ার জন্য বাড়ীর মধ্যে রাস্তা নির্মান করতে চাইলে ঘাতক ভাই আবুল কালাম বাধা দিলে আবুল কালাম এর বাধা উপেক্ষো করে আবু সুফিয়ান আজাদ রাস্তার কাজ করার সময়ে গতকাল সকালে আবুল কালাম ক্ষুদ্ব হয়ে নিজ মাতা ফাতেমা জোহরার সামনে মাকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ঘরের বাইরে ছোট ভাই আবু সুফিয়ান আজাদকে ছুরিকাঘাত করে। শোর চিৎকার শুনে ঘর থেকে অপর ভাই আবু মোরশেদ আজাদ দৌড়ে আসলে তাকে ও বড়ভাই আবুল কালাম ছুরিকাঘাত করে । গতকাল সোমবার দুই ভাইয়ের নিহত হওয়ার সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মানুষ এসে সুলতান পুর কাজী বাড়ীস্থ নিহতদের বাড়ীতে এসে জগণ্য খুনের ঘটনার নিন্দ জ্ঞাপন করেন ।