২ শিক্ষক ১ পরীক্ষার্থীর কারাদণ্ড

প্রকাশ:| রবিবার, ২৪ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

এক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে দেয়ানোর অভিযোগে দুই শিক্ষক ও ওই পরীক্ষার্থীকে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী সানোয়ারা ফার্ম ননরেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।পিএসসি প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেটপি

জানা যায়, রোববার প্রাথমিক সমাপনীর ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত রেজা দিয়াকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে মোহাম্মদ কাইছার নামে এক ছাত্রকে চ্যালেঞ্জ করেন। পরীক্ষায় জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও ইশরাত রেজার ভ্রাম্যমাণ আদালত উত্তর ধোপাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও হল সুপার দিদারুল ইসলাম, দোহাজারী সানোয়ারা ফার্ম ননরেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম হেলালী এবং কাইছারকে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

এদিকে এ ঘটনায় কেন্দ্রসচিব টিংকু দাশকেও প্রত্যাহার করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ চিরান জানান, ধোপাছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ধোপাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিদারুল আলম তার বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ কাইছারকে নিজের বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে দোহাজারী সানোয়ারা র্ফাম নন রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুপস্থিত পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ আলীর স্থলে পরীক্ষা দিতে দেন।

তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম হেলালীর সঙ্গে আঁতাত করে এ কাজ করেন বলে জানা যায়।

পরীক্ষা শুরুর পর কাইছার মোহাম্মদ আলী পরিচয়ে বাংলা ও গণিত দুই বিষয়ে পরীক্ষাও দেয়। রোববার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার তৃতীয়দিন ইংরেজি পরীক্ষা দিতে গেলে জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে।

এ খবর জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত রেজা পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পান এবং পরীক্ষারত কাইছারকে আটক করে তার দপ্তরে নিয়ে যান। ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দুই প্রধান শিক্ষক ও পরীক্ষা দেয়া শিক্ষার্থীকে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চন্দনাইশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউএনও ইশরাত রেজা বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে এটি একটি বড় ধরনের প্রতারণা। শিক্ষকদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করা যায় না।’


আরোও সংবাদ