২ অক্টোবর থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:১৬ অপরাহ্ণ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে আগামী ২ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত অগ্রিম টিকেট বিক্রি করবে। এবং ঘরমুখী যাত্রীদের জন্য ৯টি বিশেষ ট্রেন চালু করা হবে। এছাড়া সকল আন্তঃনগর, মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনে অতিরিক্ত বগি (কোচ) সংযোজন করবে রেলওয়ে।

আজ মঙ্গলবার নগরীর রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক এ কথা জানান।

রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী যাত্রীদের নিরাপদে যাতায়াতের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, টিকেট কালোবাজারী রোধ, যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন, বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু, আন্তঃনগর ট্রেনের অফ ডে প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন রুটে ৯টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এগুলো হচ্ছে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম। পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর এবং ঢাকা-খুলনা-ঢাকা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আবু তাহের এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) শাহ জহিরুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রেলওয়ের পাহাড়তলী ও সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ থেকে মেরামত ও সংস্কার করে ১২২টি কোচ আন্তঃনগর, মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনে সংযোজন করা হবে ও বিশেষ ট্রেন চালানোর জন্য ব্যবহার করা হবে। এছাড়া রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে ২টি কোচ সংযোজন করা হবে।

এছাড়া যাত্রী সাধারণের ভ্রমণের সুবিধার্থে ঈদের আগে ৫টি আন্তঃনগর ট্রেনের কোন অফ ডে থাকবে না। অর্থাৎ সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদের পূর্বের ৫ দিনের আন্তঃনগর ও বিশেষ ট্রেনের টিকেট ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এবং ঈদ পরবর্তী সময়ে ফেরত যাত্রীদের সুবিধার্থে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি করা হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঈদের অগ্রিম টিকেট কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে বিক্রি করা হবে।

আগামী ২ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের জন্য এবং ১১ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সকল শ্রেণীর অগ্রিম টিকেট বিক্রি করা হবে। একজন যাত্রীকে সর্বোচ্চ ৪টি আসনের টিকেট দেয়া হবে।
রেলওয়ের টিকেট
রেলওয়ের টিকেট কালোবাজারী প্রতিরোধ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জিআরপি, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, স্থানীয় পুলিশ ও র‌্যাবের সহযোগিতায় টিকেট কালোবাজারী প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হবে। ঈদের সময় ঢাকা স্টেশনের চারিদিকে এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে টিকেট কালোবাজারী বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে সিসি টিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, কোন ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য রেলওয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রস্তুত রাখা হবে। ট্রেন পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

চলন্ত ট্রেনে, স্টেশনে বা রেললাইনে কোথাও কোন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে নিরাপদ যাত্রী চলাচল ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ঢাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা স্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে রেলওয়ে কর্মকর্তাগণ নিয়োজিত থাকবেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৫ দিন মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।