২৯ বছরেও অনিরাপত্তায় কুতুবদিয়ার দুই লক্ষ মানুষ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ২৯ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

লিটন কুতুবী, কুতুবদিয়া-কক্সবাজার:
২৯ এপ্রিল’৯১ সনের এ দিনে বাংলাদেশের ১৯ জেলার উপর বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের কথা ভূলতে পারছে না উপকূলের মানুষ। প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আড়াই যুগ অতিবাহিত হয়ে গেলেও ভয়ের দাগ কাটছে না স্বজনহারা পরিবারগুলোর। দিনের পর মাস, বছরের পর বছর গুনতে গুনতে ২৮ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও জীবন নিবাপত্তার ঠিকানা খোজে পাচ্ছে না উপকূলের বাসিন্দারা। ১৯৯১ সনের ২৯ এপ্রিল কালোরাতে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলের উপর বয়ে যাওয়া ঘূর্নিঝড়ে একই প্রায় ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্নিঝড়ে প্রভাবে প্রথমে লন্ডভন্ড হয়ে যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৫ কিলোমিটার বেড়িঁবাধ। হাজার হাজার ঘরবাড়ি। ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অপরুপ প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র। ঐ সময়ের সরকারিভাবে মানব ও পশু পাখির প্রাণ হানির সংখ্যা নিরুপন করতে পারেনি পরিবেশগত কারনে। প্রতি বছরের ন্যয় এ বছরও কুতুবদিয়া দ্বীপসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বজনহারা মানুষেরা স্বরণে স্বরণসভা, ,মসজিদ,মন্দির,গীর্জায় আতœার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনা আয়োজন করা হয় বলে ইউএনও সুজন চৌধূরী নিশ্চিত করেন। কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধূরী বলেন, গেল শতাব্দির ১৯৯১ সনের ২৯শে এপ্রিল সোমবার দিন কক্সবাজারের উপকূল তথা কুতুবদিয়া দ্বীপের উপর বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঠিক এ তারিখেই স্বরণ করে থাকে দ্বীপের মানুষ। ঐদিন কালোরাতে চোখের সামনে আপনজন জোয়ারের ¯্রােতে ভেসে যায় মা,বাবা,দাদা,দাদি,ছেলে,মেয়ে,স্ত্রী আতœীয়স্বজন। শত চেষ্টার পরও বাচাঁতে পারেনি চোখের সামনে চলে যাওয়া আপনজনদের। নিজে বাঁচা এমনই কষ্টকর হয়ে পড়েছিল তা বুঝানো কঠিন। কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর জানান, ঠিক এদিনটির স্বরণে পৃথক পৃথকভাবে কুুতবদিয়া উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন,কুতুবদিয়া উপজেলা প্রেসক্লাব,রাজনৈতিক দলগুলো ১৯৯১ সনের ২৯ এপ্রিল রাতে একই সময়ে ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনার স্বরণে দোয়া মাহফিল ও আতœার মাগফিরাত কামনা ও আলোচনা সভা করেন। আলোচনা সভায় প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে পড়ে একই সাথে ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটনায় মৃত্যুবরণকারীদের স্বরণে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের আহবান করেন সরকারের নিকট। কুতুবদিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের তথ্য প্রকাশে ঐ ক্লাবের সভাপতি এস,কে,লিটন কুতুবী বলেন, ১৯৯১ সনের ঘূর্ণিঝড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার পর তৎ সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুদিয়ারটেক ও রাজাখালী নামক দুটি মৌজা বাদ দিলে ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সাগরে বিলীন হয়ে যায়। সৌদি সরকারের আর্থিক অনুদানে ১৯৯৪ সনে কুতুবদিয়া দ্বীপের ৬ ইউনিয়নের ৪০কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তখন থেকেই এ পর্যন্ত কুতুবদিয়া দ্বীপের উপর পরপর বয়ে যায় ৮/১০টি ঘূর্ণিঝড়। বিগত ঘূর্ণিঝড়গুলোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাঁধ মেরামত না করায় বিগত ৬ বছর ধরে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে ৬ ইউনিয়নের ৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মানের জন্য ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও চলতি বর্ষা মৌসুমে ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ বিধ্বস্ত বাঁধ মেরামত না করায় চলমান বর্ষা মৌসুমে লোকালয়ে জোয়ারভাটা বসবে। শত শত একর ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ১৯৯১ সনের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে এ পর্যন্ত কুতুবদিয়া দ্বীপ ছেড়ে অন্যত্রে পাহাড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় এক লক্ষের অধিক মানুষ। কক্সবাজার,বান্দরবান,চট্টগ্রাম এই তিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা,নগর,মহানগরে আশ্রয়স্থল করে নিয়েছে কুতুবদিয়া দ্বীপের আশ্রয়হীন মানুষ। এমনকি বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেয়া লোকজন আবাসন গড়ে তোলে ঐ এলাকায় কুতুবদিয়া পাড়া নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে কুতুবদিয়া দ্বীপে অবস্থানরত দুই লক্ষ মানুষের জীবন ও যানমাল রক্ষার অনিরাপত্তায় ভোগছেন।