২৬ ব্যাংক মানছে না স্প্রেড নীতিমালা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:৪১ অপরাহ্ণ

সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকখাতে আমানত ও ঋণের সুদের ব্যবধান (স্প্রেড) দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ১০ শতাংশ। এ হার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি। তবে এর আগের মাস আগস্টের তুলনায় কিছুটা কম। আগস্ট মাসে ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড ছিল ৫ দশমিক ১২ শতাংশীয় পয়েন্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্প্রেড সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, সুদ হারের ক্ষেত্রে ২৬টি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে কম সুদে আমানত সংগ্রহ করে বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করেছে। এর ফলে বাড়ছে গড় স্প্রেড।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক ঋণের ঊর্ধ্বমুখি সুদহারের কারণে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাদের মতে, ঋণের সুদহার বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তারা ব্যাংকবিমুখ হয়ে পড়ছেন। ফলে দেশে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। সেইসঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে না। এর ফলে ব্যাংকের মুনাফায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে ব্যাংকারদের মতে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কম থাকায় ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থ পড়ে থাকলেও আমানতকারীদের নিয়মিতভাবে সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের পরিচালনা ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে তারা আমানতে সুদের হার কমালেও ঋণে কমাতে পারছেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর শেষে ঋণ ও আমানত উভয় ক্ষেত্রেই কিছুটা সুদহার কমিয়েছে ব্যাংকগুলো। ফলে দেশের ৫৬টি ব্যাংকের ঋণের গড় সুদহার কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৫৮ শতাংশে। আর আমানতে গড় সুদহারও কিছুটা কমে ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্প্রেড রয়েছে বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংকের। ব্যাংকটির স্প্রেড রয়েছে ৫ দশমিক ৪৪ শত্ংশীয় পয়েন্ট। এছাড়া, বেসরকারি ও বিদেশি মালিকানার আরও ২৫টি ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান ৫ শতাংশীয় পয়েন্টর উপরে রয়েছে।

সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণে গড় সুদ হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর আমানতের গড় সুদহার কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশে। এতে তাদের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশীয় পয়েন্টে।

বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের স্প্রেড সবচেয়ে বেশি। এ ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। এরপরে ডাচ বাংলার ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ ও ওয়ান ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান ৭ দশমিক ১৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।

এছাড়া বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, দি সিটি ব্যাংকে ৬ দশমিক ৫৪, আইএফআইসি ব্যাংকের ৬ দশমিক ৩৬, পূবালীর ৫ দশমিক ৩৫, উত্তরা ব্যাংকের ৬ দশমিক ০৫, ইস্টার্ন ব্যাংকের ৫ দশমিক ২৪, প্রাইম ব্যাংকের ৫ দশমিক ০৭, সাউথইস্ট ব্যাংকের ৫ দশমিক ৬৬, ঢাকা ব্যাংকের ৫ দশমিক ৭২, স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকে ৫ দশমিক ৫১, এক্সিম ব্যাংকের ৫ দশমিক ২৯, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ৫ দশমিক ৫৬, প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৬ দশমিক ৫৪, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়ায় ৫ দশমিক ৩৮ ও যমুনা ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের ব্যবধান ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশীয় পয়েন্ট।

এদিকে, বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানতের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকের গড় স্প্রেড ৮ দশমিক ০৪ শতাংশীয় পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহার কমে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ঋণের সুদহার কিছুটা কমে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ রয়েছে।

এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের স্প্রেড ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, সিটি ব্যাংক এনএ’র ৮ দশমিক ৪৪, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ৬ দশমিক ৮৮, ওরি ব্যাংকের ৭, এইচএসবিসি ব্যাংকের স্প্রেড ৬ দশমিক ৮৮, ব্যাংক আল-ফালাহ্’র স্প্রেড ৫ দশমিক ২৯ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপরে রয়েছে।

এদিকে, রাষ্ট্রীয় মালিকানার চার ব্যাংকের ঋণে গড় সুদ হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশে। আমানতে সুদ হার ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। এতে তাদের স্প্রেডের ব্যবধান ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো গড়ে ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়েছে। আমানতে সুদ দিয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ। এতে তাদের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৭০ শতাংশীয় পয়েন্ট।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমানত ও ব্যাংক ঋণের সুদের হারের মধ্যে ব্যবধান (স্প্রেড) কোনো অবস্থাতেই ৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না বলে নির্দেশ দিয়েছিল। তবে গত অর্থবছরের বেশিরভাগ সময় অধিকাংশ ব্যাংক এ নির্দেশনা অমান্য করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।